১২:৪৪ অপরাহ্ন

রবিবার, ২৬ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ২৩, ২০২২ ৭:০৪ অপরাহ্ন
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে হাতিরঝিলে বর্ণাঢ্য নৌ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত
প্রাণিসম্পদ

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ উপলক্ষ্যে হাতিরঝিলে বর্ণাঢ্য নৌ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর হাতিরঝিলে এ নৌ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। নৌ শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

শোভাযাত্রা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন হচ্ছে। ভাতে-মাছে বাঙালির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা কাজ করছি। যেখানে পানি আছে অর্থাৎ লেক, নদী, পুকুর সর্বত্রই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য নৌ শোভাযাত্রার কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, আগামীকাল (২৪ জুলাই) বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং মৎস্য সেক্টরে যারা ভালো অবদান রেখেছেন তাদের পদক প্রদান করবেন।

তিনি আরও যোগ করেন, সরকার চায় নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড়-বাওড় যেন মুক্ত থাকে এবং মাছ চাষের জন্য উপযোগী অবস্থায় থাকে। পরিবেশ যেন দূষণ না হয়, পানি যেন দূষণ না হয়। মা মাছ ও জাটকা ধরা থেকে সবাই যেন বিরত থাকে। যাতে মাছ বৃদ্ধি পেয়ে আমাদের সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।

মৎস্য খাতের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সংক্রান্ত সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের মাছের চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা আমাদের হয়েছে। ভবিষ্যতে মাছ রপ্তানি করে আমরা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধিতে মৎস্য খাত ভূমিকা রাখবে সেটাই লক্ষ্য।

নৌ শোভাযাত্রায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব এ টি এম মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. হেমায়েৎ হুসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদসহ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, নৌপুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

এদিন সকালে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বণার্ঢ্য সড়ক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৩, ২০২২ ৬:৩৬ অপরাহ্ন
প্রাণিসম্পদ দফতরের জনবল সংকটে বিপাকে খামারিরা
প্রাণিসম্পদ

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। যার ফলে, প্রাণিসম্পদ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খামারি-উদ্যোক্তারা। নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। সমস্যা দেখা দিলে পাচ্ছেন না দ্রুত কোন সমাধান।

তথ্যানুযায়ী, ১১টি পদের মধ্যে ৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শূন্যপদ গুলো যথাক্রমে- ভেটেরিনারি সার্জন (ভিএস) একজন, উপজেলা লাইভ-ষ্টক অফিসার (ইউএলএ) একজন, কৃত্রিম প্রজনন সহকারী (ভিএফএ) দুইজন, কম্পাউন্ডার একজন, এমএলএসএস একজন। এ দিকে গবাদিপশুর প্রাণঘাতী রোগের প্রতিষেধক (পিপিআর) ভ্যাকসিন না থাকায় ঝুঁকির আশংকা করছেন খামারিরা।

কর্তৃপক্ষের দাবি, চাহিদাপত্র পাঠালেও এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে, অন্যান্য ঔষধ ও প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের মজুদ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান স্বাভাবিক রয়েছে। অপর দিকে খামারিদের অভিযোগ, তারা প্রত্যাশিত চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ পাচ্ছে না। সময় মতো ডাক্তার না থাকায় পরামর্শ ও চিকিৎসা পাওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. জি. এম. আব্দুল কুদ্দুস জানান, আন্তরিকতা থাকা স্বত্বেও জনবল, ঔষধ ও প্রতিষেধক প্রয়োজনের তুলনায় প্রাপ্তি অপ্রতুল হওয়ায় সেবা প্রত্যাশী খামারি ও গৃহস্থলী গবাদিপশু পালনকারী সবাইকে খুশি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী উপজেলা গবাদি পশু গরুর সংখ্যা ৯৮ হাজার পাঁচশ বিশটি। এর মধ্যে দেশিগরু ৫৫ হাজার ৩৩০টি ও সংকর জাতের গরু ৪৩ হাজার ১শ’ ৯০টি। গাভী ৪০ হাজার ৬ ৪০টি। এর মধ্যে দেশি গাভী ২৬ হাজার ৪শ ৬০টি ও সংকর জাতের গাভী ১৪ হাজার২২০টি। সক্ষম গাভী ৩৬ হাজার ৫১০টি। এর মধ্যে দেশি ২৩ হাজার ৭২০টি ও সংকর জাতের ১২ হাজার ৭৯৮টি।

ছাগলের সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজারটি। আর ভেড়া ১০৪টি। খামারির সংখ্যা গাভী ৬২টি, হৃষ্টপুষ্ট করণ ১২০টি, ছাগল ১৫৭টি ও ভেড়া ১টি। পোল্ট্রি খামারির সংখ্যা লেয়ার ২০টি, ব্রয়লার ৫৫, হাঁস ২২, কবুতর ১০ ও কোয়ের ৫টি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৩, ২০২২ ৩:০৯ অপরাহ্ন
নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাছ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের লক্ষ্য: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাছ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

শনিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সভা কক্ষে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

মৎস্য খাতে বাংলাদেশ একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী এ সময় বলেন, এখন আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ মাছ উৎপাদন। শুধু মাছের উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, নিরাপদ ও পুষ্টিকর মাছ উৎপাদনে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ভোক্তার কাছে আমরা নিরাপদ মাছ পৌঁছে দিতে চাই। এ লক্ষ্য নিয়ে ২৩ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ উদযাপন হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, মিঠা পানির মাছ, সামুদ্রিক মাছ সব ক্ষেত্রে আমাদের অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। বিগত ১৬ বছরের ব্যবধানে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ মৎস্যখাতের অবদান। বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ ৩য়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম, ইলিশ উৎপাদনে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ স্থানে রয়েছে। এ অর্জন সম্ভব হয়েছে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার কারণে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, একটা সময় মৎস্য খাতে যথাযথ পরিচর্যা না হওয়ায় ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় মাছের আকাল দেখা দিয়েছিল। আমাদের নিজস্ব যেসব মাছ তার একটা বিশাল অংশ হারিয়ে গিয়েছিল। ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ৩৬ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মাছ যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্য ময়মনসিংহে লাইভ জিন ব্যাংক করা হয়েছে, যেখানে শতাধিক প্রকারের মাছ থাকবে। কোথাও কোন মাছ হারিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হলে তার রেণু ও পোনা ছড়িয়ে দেওয়া যাবে। এছাড়া নিজস্ব গবেষণা থেকে সুবর্ণ রুই নামক একটি দ্রুত বর্ধনশীল ও অধিক উৎপাদনশীল মাছ উদ্ভাবন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও বলেন, বন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশাল সমুদ্র জয়ের পর এর অভ্যন্তরে কত প্রকার মাছ আছে, কী সম্পদ আছে, প্রচলিত-অপ্রচলিত মাছ আছে সেগুলো অনুসন্ধান করার জন্য আমাদের মীন সন্ধানী জাহাজ কাজ করছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় প্রচলিত-অপ্রচলিত বিশাল মৎস্য ভান্ডার রয়েছে। এই মৎস্যসম্পদ এক সময় আমাদের বড় ধরনের আয়ের উৎস হতে পারে। সে জায়গায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দপ্তরসমূহ কাজ করছে। সমুদ্রসীমায় আমাদের কূটনৈতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মাছ রপ্তানির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ পূর্বেই আমাদের ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য ছিল। ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নতুন সংযুক্ত হয়েছে আমাদের বাগদা চিংড়ি। বিশ্বপরিমণ্ডলে বাগদা এখন বাংলাদেশের হিসেবে পরিচিত। এটি বিশ্বপরিমন্ডলে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে। পৃথিবীর প্রায় ৫২ টি দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের মাছের চাহিদা রয়েছে। এসব দেশে বিভিন্নভাবে মাছ রপ্তানি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ও তার সরকারের ব্যবস্থাপনায় মাছের মান নিয়ন্ত্রণে দেশে তিনটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরী স্থাপন করা হয়েছে। এখানে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হবে। কোন দেশেই যাতে মাছের সাথে বিষাক্ত উপাদান না যায়, এটা আমরা নিশ্চিত করছি।

করোনায় বিশ্বের অনেক দেশের মৎস্য খাতে বিপর্যস্ত অবস্থা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এ সময় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তিনটি দেশ মৎস্য উৎপাদনে সাফল্য দেখিয়েছে। এ তিনটি দেশের একটি বাংলাদেশ, অপর দুটি দেশ মিশর ও ভিয়েতনাম। করোনার সময় মৎস্য উৎপাদনকারীরা বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়লে তাদের জন্য সরকার ভ্রাম্যমান বিক্রয় ব্যবস্থা চালু করেছে। সে সময় মাছের খাদ্য বিদেশ থেকে আনার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিকূলতা ছিল সেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকাকালে যাতে মৎস্যজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য বিনামূল্যে বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হচ্ছে, প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লক্ষ ৯৯ হাজার মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করতে সরকার কাজ করছে। যাতে দেশের সব প্রান্তিক মানুষ ইলিশের স্বাদ নিতে পারে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার ও মো. আব্দুল কাইয়ূম, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. হেমায়েৎ হুসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদসহ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিন সকালে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বণার্ঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাছ নিশ্চিত করার জন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি। মাছ বাঙালি জাতির কৃষ্টির অন্যতম অংশ। ভাতে-মাছে বাঙালির সে ঐতিহ্য আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই। মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই। মাছ চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর হবে, উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৩, ২০২২ ৯:১৫ পূর্বাহ্ন
ডেপুটি স্পীকার ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর শোক
প্রাণিসম্পদ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মরহুম ফজলে রাব্বী মিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

শোক বার্তায় মন্ত্রী জানান, ফজলে রাব্বী মিয়ার মতো পরিশীলিত রাজনীতিবিদের মৃত্যু এ দেশের রাজনীতিতে গভীর শূন্যতা তৈরি করলো। সংসদীয় ধারার রাজনীতিতে তিনি অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার একনিষ্ঠ ভূমিকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২১, ২০২২ ৬:৫৪ অপরাহ্ন
প্রাণী চিকিৎসা সেবায় চালু হয়েছে ভ্রাম্যমাণ প্রাণী চিকিৎসা ক্লিনিক: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

দ্রুততম সময়ে খামারিদের দোরগোড়ায় জরুরি প্রাণী চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে ভ্রাম্যমাণ প্রাণী চিকিৎসা ক্লিনিক চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৯৯ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ প্রাণী চিকিৎসা ক্লিনিক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার উপহার, প্রাণীর পাশেই ডাক্তার এ প্রতিপাদ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আধুনিকতাকে সামনে নিয়ে আসতে চেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় প্রাণীদের প্রতি মমত্বের জায়গা দায়িত্বের অধীনে নিয়ে আসার জন্য মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মানুষ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স তাকে দ্রুততার সাথে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু বড় আকারের গবাদিপশুকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে তাকে যথাযথভাবে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ এতদিন ছিল না। সে জন্য সরকার পরিকল্পনা নেয় হাসপাতালে প্রাণী নয়, প্রাণীর কাছে চলে যাবে হাসপাতাল। এটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। দেশে এখন পর্যন্ত মানুষের চিকিৎসার জন্য মোবাইল ক্লিনিক হয়নি। কিন্তু পশুপাখি ও প্রাণীর জন্য ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দেশের উন্নয়নের সব জায়গায় শেখ হাসিনার পরশ পাওয়া যাবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, এ দেশ ছিল তলাবিহীন ঝুড়ির তকমাযুক্ত দেশ। এ দেশকে বলা হত প্রাকৃতিক দুর্যোগের রাষ্ট্র। আজ সে দেশ বিশ্বের কাছে বিস্ময়, উন্নয়নের রোল মডেল। এ দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলা হয় দুর্গতদের কণ্ঠস্বর। তাকে বলা হয় মানবতার জননী, উন্নয়নের জাদুকর। তাকে বলা হয় ক্রাউন জুয়েল। তিনি অনেক দূরদৃষ্টি দিয়ে বাংলাদেশকে আজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আমূল পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও যোগ করেন, এ পরিবর্তনের কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার। আমরা সবাই মিলে তার নির্দেশনায় কাজ করেছি বিধায় এখানে আমরা পৌঁছাতে পেরেছি। মাছ, মাংস ও ডিমে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। অদূর ভবিষ্যতে দুধেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা আসবে। মৎস্য ও প্রাণিজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহারেও আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।

তিনি আরও বলেন, খাবারের একটা বড় যোগান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত থেকে আসে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের বেকারত্ব দূর হচ্ছে। এ খাত এগিয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে। খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা, জিডিপির অর্জন, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করা, বেকারত্ব দূর করাসহ নানা ক্ষেত্রে এ খাতের ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে এ খাতে সরকার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতসহ অন্যান্য খাতে যে উন্নয়ন হবে সেটি হবে বিশ্বের বিস্ময়।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, গতানুগতিকতায় নয় বরং প্রাণীদের মায়া-মমতা দিয়ে চিকিৎসা করুন, সহায়তা করুন। প্রাণীর চিকিৎসা করা আপনার দায়িত্ব। রাষ্ট্র আপনাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার আপনাদের ভালো অবস্থানে রেখেছে। বিনিময়ে আপনাদের সেবা দিতে হবে। জরুরী প্রয়োজনে নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে নিজের মেধা খাটিয়ে কাজ করতে হবে। ভেটেরিনারি সার্জনরা ভ্যাকসিন প্রদান, কৃত্রিম প্রজনন ও প্রাণীর চিকিৎসা প্রদানের জন্য অন্যায়ভাবে কারও কাছে অর্থ আদায় করতে পারবেন না।

ভ্রাম্যমান প্রাণী চিকিৎসা ক্লিনিকে ব্যবহৃত গাড়ির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের এ সময় নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. আব্দুর রহিম। ভ্রাম্যমাণ প্রাণী চিকিৎসা ক্লিনিকের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রধান কারিগরী সমন্বয়ক ড. মো. গোলাম রব্বানী। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ৬১ টি উপজেলায় ৬১টি মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক বিতরণ করা হয়েছে। ২য় পর্যায়ে আজ আরও ২৯৯ টি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে একটি করে মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক প্রদান করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২০, ২০২২ ২:২৪ অপরাহ্ন
খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করতে আহ্বান প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর
প্রাণিসম্পদ

খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নিরলসভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বুধবার (২০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে কনসালটিভ গ্রুপ ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (সিজিআইএআর)-বাংলাদেশ রিসার্চ পোর্টফোলিও ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড পার্টনারশিপ ডায়ালগের উদ্বোধন অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা সবসময়ই একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্বের কিছু অংশে সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য ও ক্ষুধা বাড়ছে। বিশ্বের অনেক দেশ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন হওয়ায় খাদ্যের দামও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, বেসরকারি খাত, উৎপাদক এবং ভোক্তাদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন সম্পর্কিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। গবেষণার চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে তা সমাধানে একটি সামগ্রিক পদ্ধতি বের করতে হবে। সিজিআইএআর-এর অংশীদারিত্ব সংলাপ বিশ্ব খাদ্য উৎপাদন ও ভোগের পদ্ধতি রূপান্তরে সাহসী নতুন পদক্ষেপ তৈরি করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন এবং এই খাতের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করতে সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাজ করে যাচ্ছে। মাছের জাত সংরক্ষণ, অধিক উৎপাদনশীল ও দ্রুত বর্ধনশীল মাছের জাত উদ্ভাবন, গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন, পোলট্রির নতুন জাত উদ্ভাবনসহ নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে সরকারের এ মন্ত্রণালয়। এছাড়া দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এ কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা এর মধ্যে অন্যতম। এর লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানুষের মধ্যে সহনশীলতা তৈরি করা।

সিজিআইএআর এর নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে নতুন সুযোগ উন্মোচন করবে। প্রাসঙ্গিক এবং উপযুক্ত যেকোন উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে- যোগ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। সম্মানীয় অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন সিজিআইএআর-এর পরিচালক ড. মোহাম্মদ খান। স্বাগত বক্তব্য ও সিজিআইএআর এর কার্যক্রম সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করেন সিজিআইএআর-এর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক টেমিনা লালানি-শরিফ। এছাড়া উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২০, ২০২২ ৮:২৮ পূর্বাহ্ন
দেশীয় গরু দিয়েই নিয়ন্ত্রণে আসবে মাংসের দাম
প্রাণিসম্পদ

দেশের অভ্যন্তরীণ এমন কিছু বিষয় আছে, যেগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও নজর দিলে গরুর মাংসের দাম ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব। এতে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকায় পাওয়া যাবে।

সেক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর ওপর নজর দিতে হবে
১. গরুর খামারের বিদ্যুৎ বিল আদায় করতে হবে কৃষির সমান হারে, বাণিজ্যিক খাত হিসাবে নয়। কারণ, খামার করা আসলে কৃষিকাজ।

২. সরকারের প্রাণিসম্পদ নীতিমালা খামারিবান্ধব নয়। এ কারণে বড় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যাঁরা বড় বিনিয়োগ করেছেন, তাঁরাও সুবিধা করতে পারছেন না।

বিশ্বে অধিক মাংস উৎপাদনকারী গবাদিপশুর জাত, যেমন: আমেরিকান ব্রাহমা, দক্ষিণ আফ্রিকার বয়ার গোট, দুম্বা দেশে আনার অনুমতি নেই। দেশীয় জাত অথবা সংকর জাতের গরু দিনে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত ওজনে বাড়ে।

অন্যদিকে, ব্রাহমা জাতের গরুর ওজন বাড়ে প্রতিদিন ১ হাজার গ্রামের বেশি। দেশীয় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের ওজন দৈনিক ৩০ থেকে ৫০ গ্রাম করে বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার বয়ার বাড়ে দিনে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম। ফলে মাংস উৎপাদনের ব্যয় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অনেক বেশি।

আমদানি করতে না দেওয়ার কারণ হিসেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে বলা হয়, দেশীয় জাত নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাদের সেই আশঙ্কা রয়েছে। অধিক মাংসের জাত দেশে আনা হলে দুধ উৎপাদন ব্যা…

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৯, ২০২২ ৯:২০ পূর্বাহ্ন
ঈদে অবিক্রিত বড় গরু নিয়ে বিপাকে খামারিরা
প্রাণিসম্পদ

বড় গরু নিয়ে বেশি লাভের আশা থাকলেও গেল ঈদে তেমন বিক্রিও হয়নি। ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল ছোট ও মাঝারি গরুর দিকে। এখন অনেক বিপাকে এবং হতাশায়ও ভুগছেন খামারিরা

গত ঈদে টাঙ্গাইলের ছোট ও মাঝারি আকারের গরুতে খামারিরা লাভবান হয়েছেন অনেকেই। তবে বড় গরু নিয়ে হতাশায় পড়েছেন তারা। এছাড়াও ঈদের আগে ‘লাম্পি স্কিন’ রোগের সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় অনেক খামারি গরু বিক্রি করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন।

দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের ভেঙ্গুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদের মেয়ে কলেজছাত্রী হামিদা আক্তার তার খামারে লালন পালন করা ৪৫ মণ ওজনের ‘মানিক’ বিক্রি করতে পারেননি। ঈদের আগে গাবতলী হাটে তোলা হলেও ষাড়টি দেখে ক্রেতা আকৃষ্ট হয়নি। গত বছর গাবতলীর কোরবানির হাটে মানিকের দাম ৫ লাখ টাকা হলেও এবার কেউ দামই করেননি। তবে তার মাঝারি আকারের ষাড়টি বিক্রি করেছেন।

কালিহাতী উপজেলার মীর হামজানী গ্রামের আল আমীন ঈদকে কেন্দ্র করে ৩২ মণ ওজনের ষাড় প্রস্তুত করেন। নাম রাখেন প্রিয় ফুটবলারের নামে ‘মেসি’। কিন্তু ঈদে সেই মেসির ক্রেতা পাওয়া যায়নি।

টাঙ্গাইল পৌরসভার কাগমারা এলাকার তরুণ খামারি রাকিব মিয়া জানান, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে তিনটি ষাড় প্রস্তুত করেছিলাম। কিন্তু খামারে থাকা পাঁচটি গরুই ‘লাম্পি স্কিন’ রোগে আক্রান্ত হয়। তাই ঈদে প্রস্তুত করা ষাড়গুলো বিক্রি করতে পারিনি।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রানা মিয়া জানান, ঈদে টাঙ্গাইলে পশুর ঘাটতি ছিল না। ১ লাখ ৭৩ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। এর বেশির ভাগই ছিল ছাগল। এ বছর ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশিই ছিল। বিশেষ ব্যক্তি ছাড়া ১০/১২ লাখ টাকা দিয়ে কেউ কোরবানি দেয় না। রোগাক্রান্ত গরুগুলো বিক্রি করতে পারেনি খামারিরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৮, ২০২২ ৮:৩১ অপরাহ্ন
প্রাণিসম্পদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সব ধরনের সহায়তা দেবে রাষ্ট্র: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

প্রাণিসম্পদের মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে রাষ্ট্র সব ধরনের সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

সোমবার (১৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কাজী আলাউদ্দিন রোডে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং ‘বাংলাদেশে ভেটেরিনারি সেবা জোরদারকরণে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের ভবিষ্যত অগ্রাধিকার’ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা।

বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের ‘আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠান ও সেমিনার আয়োজন করা হয়।

এ সময় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের প্রাণিসম্পদে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, এ ধারা উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের টেকসই ও গুণগত উন্নয়ন চান। কাজেই আমাদের মানসম্মত প্রাণিসম্পদের উৎপাদনে জোর দিতে হবে।

রোগাক্রান্ত পশুর মাংস বা দুধ থেকে মানুষের শরীরে রোগের জীবাণু প্রবাহিত হতে পারে। সে জন্য গুণগত মানের প্রাণী উৎপাদন ও প্রাণীর চিকিৎসায় দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে হবে। ওয়ান হেলথের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের নতুন ভবন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা, প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। এ ভবনের উদ্বোধন মূহূর্ত দেশের সব ভেটেরিয়ানদের জন্য অনিন্দ্য সুন্দর মূহূর্ত। এটি তাদের নিজস্ব একটি পরিচয়ের জায়গা।

ভেটেরিনারি কাউন্সিল ভবন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ভেটেরিনারি পেশাজীবীদের দায়িত্ব অর্পণ হলো। সে জন্য একটি শক্তিশালী কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ থাকতে হবে। এ প্রতিষ্ঠানকে প্রকৃতপক্ষে কার্যক্ষম করে তুলতে হবে। এর কাজের পক্রিয়া নির্ধারণ করতে হবে।

সরকারের বিধিসঙ্গতভাবে এ প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতে হবে। নিয়মকানুনের অধীনে ভেটেরিনিয়ানদের রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে। ভেটেরিনারি পেশার মানোন্নয়নে কাজ করতে হবে। এ পেশার অপব্যবহার প্রতিরোধ করতে হবে।

শ ম রেজাউল করিম আরও যোগ করেন, ভেটেরিনারি শিক্ষার মান ও যোগ্যতা অনুযায়ী পেশাগত দায়-দায়িত্বের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

দেশে প্রাণিসম্পদের বিপ্লব ধরে রাখতে হলে এ খাতে কর্মের পরিধি বাড়াতে হবে, জনবল বাড়াতে হবে এবং ভেটেরিনারি পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। ভেটেরিনারি পেশার মর্যাদা ও শ্রী বৃদ্ধিতে ভেটেরিনারিয়ানদের দায়িত্ব নিতে হবে। এক্ষেত্রে ভেটেরিনারি কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সমস্যা সমাধানে সবধরনের পদক্ষেপ নেয়ারও এ সময় আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

এর আগে মন্ত্রী বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সভাপতি ডা. মো. মনজুর কাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক চৌধুরী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৮, ২০২২ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
মাঝারি গরু পালনের দিকে ঝুঁকছেন খামারিরা
প্রাণিসম্পদ

এবার কোরবানির ঈদে মানুষের পছন্দের শীর্ষে ছিলো ছোট ও মাঝারি গরু। তাই এখন খামারিরা এবার গুরুত্ব দিচ্ছেন মাঝারি গুরু পালনের দিকে।

জানা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর খুলনার খামারিরা বেশি দামে গরু বিক্রি করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। আগামীতে খামারে ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু বেশি পালন করবেন বলে খামারিরা জানান।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দৌলতপুর, মিরপুর ও কুমারখালীর কয়েকজন খামারিরা জানায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর গরুর দাম ভালো ছিল। খামারিরা গরু বিক্রি করে লাভ করতে পেরেছেন। এবছর ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু বেশি বিক্রি হওয়ায় আগামীতেও তারা এই সাইজের গরু পালনের কথা বলেন।

মিরপুর উপজেলার সদরপুর গ্রামের শহিদুলের স্ত্রী রাহেলা খাতুন জানান, এবছর ৩ টি গরু বিক্রি করেছি। আশা করিনি এবছর বিক্রি করতে পারবো। ঈদের ৩ দিন আগেই সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে। গত বছরের তুলনায় এবছর ভালো দাম পেয়েছি।

কুষ্টিয়া জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান, এবছর বিক্রির জন্য ১ লাখ গরু, মহিষ ও ৮০ হাজার ছাগল, ভেড়া পালন করা হয়। যার দাম প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এবছর দাম ভালো পাওয়ায় খামারি ও কৃষকরা খুশি। আগামীতে এ জেলায় পশু পালন আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop