১:৫৪ অপরাহ্ন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অগাস্ট ২৯, ২০২১ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
গরুর খামার পরিদর্শনে ৩ দেশের রাষ্ট্রদূত
প্রাণিসম্পদ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ গরুর খামার ‘ডাচ ডেইরি ফার্ম’ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিল, কসোভো ও মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত। খামারটিতে বর্তমানে দেশি-বিদেশি ১২ শতাধিক গরু পালন করা হচ্ছে।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে খামারটি পরিদর্শন করেন তারা।

পরিদর্শন শেষ ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত জোয়াও তাবাজারা ডি ওলিভেইরা জুনিয়র বলেন, বাংলাদেশ এখনো দুগ্ধ উৎপাদনে শতভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তবুও যত বেশি দুগ্ধ উৎপাদন করতে পারবে তত কম আমদানি করবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ শক্তিশালী হবে।

তিনি আরো বলেন, ডাচ ডেইরি ফার্ম খুবই উৎপাদনশীল। এখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একটি আদর্শ ও মডেল খামার। ব্রাজিলের আবহাওয়া বাংলাদেশের চেয়েও বেশ গরম। আমি বিশ্বাস করি ব্রাজিলের গবাদিপশু এখানে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে এবং তারা বেশ উৎপাদনশীল হবে।

পরিদর্শনে আরো ছিলেন, কসোভোর রাষ্ট্রদূত গুনার ইউরিয়ার ও মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত শিরুজিমাত সামির ও ডাচ ডেইরি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ও পরিচালক গিয়াসউদ্দিন।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় ১২৫ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক মডেলের খামার ডাচ ডেইরি ফার্ম। খামারটিতে বর্তমানে দেশি-বিদেশি ১২ শতাধিক গরু পালন করা হচ্ছে। খামারটিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি। খামারটিতে প্রতিদিন দুই হাজার ২০০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৮, ২০২১ ৯:৪১ অপরাহ্ন
বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছ ফিরিয়ে আনা হয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং মাছগুলো সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

আজ শনিবার রাজধানীর মৎস্য ভবনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা হচ্ছে ভাতে-মাছে বাঙালির চিরন্তন বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশের মৎস্য খাতকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বিকশিত করছেন এ ধারাকে অব্যাহত রেখে মৎস্য সম্পদে বিশ্বে আমরা অনন্য জায়গায় পৌঁছে যাব। এ লক্ষ্য নিয়ে মৎস্য খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এবারের মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন হতে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ভাতে-মাছে বাঙালির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জায়গাতে আমরা শুধু পরিপূর্ণতাই আনব না, বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

‘করোনার কারণে অনেক প্রবাসী বেকার হয়ে দেশে ফিরেছেন’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘করোনায় সৃষ্ট বেকারদের পুনর্বাসনে আমাদের মৎস্য খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাছ চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব লাঘব হচ্ছে, আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ছে ও উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। আবার মাছ রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আমরা দেশে আনতে সক্ষম হচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে ইলিশের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে, জাটকা নিধন বন্ধ হয়েছে, দেশের মানুষের কাছে যে মাছগুলো দুর্লভ ছিল, সেগুলো ফিরে এসেছে। বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমরা ফিরিয়ে এনেছি এবং সেটা আমরা সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছি।’

তিনি জানান, বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ ৩য়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম, ইলিশ উৎপাদনে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে বিশ্বে ৪র্থ।

বিগত এক দশকে আমাদের মৎস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির ধারা নয় দশমিক এক শতাংশ, যা বিশ্বের মূল উৎপদানকারী দেশসমূহের মধ্যে ২য় বলেও জানান তিনি।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বিএফআরআই এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৮, ২০২১ ৪:০১ অপরাহ্ন
হাঁস পালনে ঘুরে দাঁড়ালেন তালেব
প্রাণিসম্পদ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বৈরিহরিণমাড়ী গ্রামের গ্রামের বাসিন্দা আবু তালেব মিয়া। দরিদ্রের কষাঘাত থেকে রেহাই পেতে শুরু করে হাঁসের খামার। বাড়ির পাশে উন্মুক্ত জলাশয়ে দলবেঁধে ভাসছে তার হাঁস।

জানা যায়, বৈরিহরিণমাড়ী গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান আবু তালেব মিয়া। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী-সন্তান রয়েছে তার। এই সংসার চালাতে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছিল। এমনি এক পর্যায়ে স্থানীয় কয়েকটি হাঁসের খামার অনুসরণ করেন তিনি। প্রায় ৬ মাস আগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে ক্যাম্বেল জাতের ৫০০ পিস হাঁসের বাচ্ছা কিনে বাড়িতে শুরু করে খামার। এসব হাঁস বর্তমানে প্রতিদিন ২০০টি করে করে ডিম দিচ্ছে। এরপর থেকে আর কখনো পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। উৎপাদিত ডিম ও হাঁস বিক্রির লাভের টাকা দিয়েই সুখে চলছে তার সংসার।

উদ্যোক্তা আবু তালেব মিয়া জানান, প্রশিক্ষণ ছাড়াই হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে খামারটি পরিচালনা করে চলেছেন। বর্তমানে হাঁসের খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য খরচ বাদে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা লাভ থাকছে তার। তবে কিছুদিন আগে টানা লকডাউনের কবল ক্ষতির শিকার হয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এক সময়ে স্ত্রী-সন্তানের মুখে তেমন অন্ন যোগাতে পারিনি। এখন হাঁসের খামার করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। পরিবার নিয়ে প্রতিদিন খাওয়া হয় মাছ-মাংস-ডিম।

পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, যে কোন কাজ পরিকল্পিভাবে করলে অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব। উদ্যোক্তা আবু তালেব মিয়ার খামারে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তাকে আরও লাভবান করতে সর্বাত্নক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৮, ২০২১ ১০:১২ পূর্বাহ্ন
টিফিনের টাকা জমিয়ে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মুরগির খামার
পোলট্রি

করোনা সংক্রমণের কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কাল চলছে অনলাইনে। আর এই অনলাইনে ক্লাসের পাশাপাশি ৫ বছর ধরে স্কুলের টিফিনের জমানো টাকা দিয়ে নিজের বাড়ির ছাদে বিভিন্ন জাতের মুরগি ও কবুতরের ক্ষুদ্র খামার করলেন উপজেলার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন তাহসিন (১৫)।

তাহসিন বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাগির হোসেনের পুত্র। তাহসিন স্হানীয় শাকপুরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থী তাহসিন জানান, ছোটবেলা থেকে আমি এলাকায় বড়দের দেখেছি বিভিন্ন প্রকার হাঁস-মুরগি, কবুতরের খামার করতে। সেগুলো দেখে আমার খুব ইচ্ছে হতো আমিও যদি একটা খামার করতে পারতাম।

সেই থেকে আমি পরিকল্পনা শুরু করি। আমার আম্মু-আব্বু, ভাইয়া স্কুলে যাওয়ার সময় টিফিন করার জন্য যে টাকা দিত এবং প্রতি ঈদে আমাকে বড়রা ঈদ সালামি হিসেবে যে টাকা দিত সেগুলোও আমি জমিয়ে রাখতাম। এভাবে ৫ বছর পর্যন্ত টাকা জমিয়ে এক পর্যায়ে দেখলাম আমার ৩০ হাজার টাকা হয়েছে।

তারপর কোন প্রকারের মুরগি-কবুতর কিনবো এবং কীভাবে মুরগী-কবুতর লালন-পালন করবো বিস্তারিত জেনে নিলাম মোবাইলের ইউটিউবে। এরপর গত ৬ মাস আগে আমি ৩০ হাজার টাকায় মুরগির ঘর তৈরিসহ ফাউমি জাতের ৫০টি ডিমের মুরগী ও বিভিন্ন জাতের কবুতর ক্রয় করি। আমার খামারের মুরগীগুলো এখন দিনে ৩০ টারও বেশি ডিম দিচ্ছে।মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই আমার লাভ এবং মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার টাকা। আগামী সপ্তাহে নতুন করে আরও ৫০টি ডিমের মুরগী কিনবো। সেই সাথে আমার মুরগী-কবুতরের খামার ধীরে ধীরে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা করেছি।

খামার করলে তো পড়াশোনার সমস্যা হয়? এই প্রশ্নে তাহসিন জানান, আমার পড়াশোনার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। নিয়মিত বিদ্যালয়ের এসাইনমেন্ট ও অনলাইন ক্লাস ও টিউটোরিয়াল চালিয়ে নিচ্ছি। পড়ালেখার যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সেভাবে আমি সময় করে রুটিন করেছি।

তাহসিনের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, তাহসিনের খামারের ইচ্ছে শিশুকাল থেকে। পড়া-লেখার পাশাশাশি সে নিজে নিজেই মুরগীর খামার গড়ে তুলেছে। এটি করতে গিয়ে লেখাপড়ায় তার মনোযোগ কমেছে বলে মনে হচ্ছে না। আমরা চাই পড়ালেখার পাশাপাশি এখন থেকেই সে নিজেকে গড়ুক।

বোয়ালখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেতু ভূষণ দাশ জানান, তাহসিন আসলে সমাজের জন্য একটা মডেল। সত্যিই আমি আনন্দিত। এত ছোট্ট ছেলে নিজের প্রতিভা ও চেষ্টায় খামার করছে। এ বয়সী খামারি আমি আগে আর দেখিনি। ‘এমন খামারিদের আমরা সহযোগিতার জন্য খুঁজছি। তাকে সরকারি যত ধরনের সহযোগিতা রয়েছে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা করবো। আমার তরফ থেকে এবং প্রাণী-সম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তার তাহসিনের জন্য শুভ কামনা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৭, ২০২১ ৫:৫৭ অপরাহ্ন
গরু খাদ্য ঠিকমতো না খেলে যা করবেন
প্রাণিসম্পদ

অনেক সময় পালন করা গরু ঠিকমতো খাদ্য খেতে চায় না। তখন খামারিরা বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।গরু খাদ্য ঠিকমতো না খেলে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সেগুলো ডেইরি খামারিদের ভালোভাবে জেনে রাখতে হবে।

খাদ্য না খাওয়ার কারণ:
হজম করা কঠিন এরূপ খাবার খেলে। পশু যে খাদ্য খেয়ে অভ্যস্ত হঠাৎ তার ব্যতিক্রম হলে।
নিম্নমানের খাদ্য, বিনষ্ট খাদ্য এবং শস্য জাতীয় খাদ্য অধিক গ্রহণে পশুর এমন হতে পারে।
অত্যধিক খাবার খেলে।

লক্ষণসমূহ:
দেহের ওজন কমে যায় ও পশু দুর্বল হয়ে পড়ে। খাদ্যের প্রতি পশুর আকষ্মিক অরুচি হয়।রক্ত স্বল্পতা উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

প্রাকৃতিক উপায়ে চিকিৎসা:
গরুকে আদা বাঁটা, বিট লবণ, খাওয়ার সোডা ইত্যাদি একসাথে মিশিয়ে একটি কলাপাতায় মুড়ে দিনে দুইবার খাইয়ে দেয়া যেতে পারে।এভাবে ৩/৪ দিন খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।এ ক্ষেত্রে প্রতি ১০০-১৮০ কেজি দৈহিক ওজনের একটি গরুকে আদা বাটা দিতে হবে ৫০ গ্রাম, সোডা গুড়া ২০ গ্রাম, বিট লবণের গুড়া ২০ গ্রাম।

প্রতিরোধ করণীয়ঃ
গরুকে খারাপ মানের, হজম করা কঠিন এরূপ খাবার বা নষ্ট খাদ্য খাওয়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে।নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ প্রদান করতে হবে। এছাড়াও গরুর খাদ্যে বিভিন্ন এনজাইমের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৭, ২০২১ ৪:০০ অপরাহ্ন
পাখি পালন করে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় আরিফুলের
প্রাণিসম্পদ

রংপুর জেলার তারাগঞ্জের সয়ার ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম(৩২) ছোট ভাইয়ের পরামর্শ আর শখের বসে শুরু করেন পাখি পালন। শুরুতে শখের খাঁচায় পাখি ছিল মাত্র তিন জোড়া। ৬ মাস পর নতুন করে যোগ হয় আরও দুই জোড়া। এরপরই শুরু হয় ডিম দেওয়া। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পাখির জোড়া দাঁড়ায় ত্রিশে। এখন বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন ও বিক্রি করছেন এই তরুণ। বর্তমানে প্রতি মাসে পাখি বিক্রি করে তার আয় হচ্ছে ২৫-৩০ হাজার টাকা।

জানা যায়, আরিফুল চার বছর ধরে নিজের গ্রামের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন পাখির খামার। শখের বসে খাঁচায় পাখি পালন শুরু হলেও এখন আরিফুল পুরোদমই বাণিজ্যিক। প্রতিদিন তার খামারে পাখি দেখতে ও কিনতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসেন। বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন করে নিজে সফল হওয়ায় অন্যদেরও স্বপ্ন দেখাচ্ছেন আরিফুল।

আরিফুল জানান, তার খামারে বর্তমানে বাজরিকা, ফিঞ্চ, মুনিয়া, ডায়মন্ড ডোভ জাতের ৫০-৬০ জোড়া পাখি রয়েছে। এসব পাখির অনবরত কিচিরমিচির শব্দে চারপাশ মুখরিত থাকে। সঠিক পরিচর্চা ও রক্ষণাবেক্ষণে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর পর তা বড় করা হয়। এরপর বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হয়।

তার খামারে বাজরিকা পাখির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই পাখি প্রাথমিক অবস্থায় ৪-৫টি ডিম দেয়। পরে সংখ্যা বেড়ে ১০-১২টি পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। ডিম থেকে বাচ্চা হতে ১৭-১৮ দিন সময় লাগে। বাচ্চাগুলো উড়তে সক্ষম হয় ৩০-৩৫ দিন বয়সে। প্রজনন উপযোগী হতে সময় লাগে ৪ মাস। তবে ৪-৮ মাস বয়সে প্রজনন ক্ষমতা অনেক বেশি হয়। অন্যান্য জাতের পাখিগুলোও কাছাকাছি সময় নেয়।

বাজরিকা পাইকারি ৮০০ টাকা, খুচরা ১২০০-১৬০০ টাকা জোড়া বিক্রি করছেন। ফিঞ্চ পাইকারি ৬০০ টাকা ও খুচরা ৭০০-৮০০ টাকা জোড়া। মুনিয়া জোড়া ৪০০-৪৫০ টাকা পাইকারি ও খুচরা বিক্রি ৫০০-৬০০ টাকা। ডায়মন্ড ডোভ জোড়া প্রতি পাইকারি ১৫০০-১৬০০ ও খুচরা ২০০০-২২০০ টাকা বিক্রি করছেন।

এসব পাখিকে খাবার হিসেবে চিকন ধান, কাউন, চিনা ও সূর্যমুখী ফুলের বীজ দেওয়া হয়। প্রতি মাসে একেক জোড়া পাখির জন্য তার ৭০-৮০ টাকা খরচ হয়। বর্তমানে খরচ বাদে আরিফুল মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করছেন। তবে করোনা মহামারির কারণে ঠিক মতো পাখি সংগ্রহ করতে পারছেন না জানিয়ে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগে স্বাভাবিক সময়ে তার ব্যবসা ভালো ছিল। মাসে চল্লিশ হাজারের কাছাকাছি আয় হতো। কিন্তু করোনাকালে পাখি বিক্রি কমে এসেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় করা সম্ভব।

কিভাবে পাখি পালন শুরু করলেন, জানতে চাইলে আরিফুল সেই গল্প শোনান। তার ভাষ্য মতে, লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে ছোট ভাই হাফেজ আসিফের পরামর্শে মাত্র তিন জোড়া পাখি দিয়ে শুরু করি। ছয় মাস পর নতুন করে আরও দুই জোড়া পাখি আনি। এরপর তিন জোড়া পাখি ডিম দিয়েছিল ৬-৭টি করে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ৩০ জোড়া পাখির পরিবার হয়ে যায়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

পশু-পাখি পালনে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানালেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম ফরহাদ নোমান। ঢাকা পোস্টকে তিনি জানান, বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন করার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। অল্প পুঁজি ও স্বল্প জায়গাতেই পালন করা যায়। আরিফুলের মতো অনেক বেকার যুবক বাড়িতে কবুতর ও পাখি পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৬, ২০২১ ৬:১৪ অপরাহ্ন
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের অসম্পূর্ণ বিচার সম্পন্ন করতে হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যার সম্পূর্ণ বিচার হয় নি। আংশিক বিচার হয়েছে। সে দিন যারা ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল এবং ষড়যন্ত্র যারা জেনেছিল কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড প্রতিরোধের জন্য কোন পদক্ষেপ নেন নি, আমাদের দেশের দন্ডবিধি অনুসারে তারাও অপরাধী। সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিরাপত্তা দেওয়া যাদের দায়িত্ব ছিল, যারা রাজনৈতিক দায়িত্বে ছিলেন তাদের গাফিলতির কারণে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ঘটেছিল। গাফিলতির দায়ে তাদেরও বিচার হওয়া দরকার ছিল। কিন্তু হয় নি। যারা খন্দকার মোশতাকের আনুগত্য প্রকাশ করে নিজে লাভবান হয়েছিলেন, তারাও অপরাধী। কমিশন গঠন করে অথবা ফৌজধারী কার্যবিধি অনুসারে নতুন চার্জশীট দিয়ে অসম্পূর্ণ বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব। বঙ্গবন্ধুর খুনি বা ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার করতে আইনে কোথাও কোন বাধা নেই। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের অসম্পূর্ণ বিচার সম্পন্ন করতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, “শেখ হাসিনা না আসলে কোনদিন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হতো না। শেখ হাসিনা দৃঢ়তা ধারণ করে যা করবেন এটা অনেকে করবেন না। তাই নতুন করে সূচনা করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে, ষড়যন্ত্রের সাথে, দায়িত্বে গাফিলতির সাথে যারা জড়িত ছিল তাদের বিচার করতে হবে। যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, যারা ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত, যারা ষড়যন্ত্র জানার পরও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয় নি এবং বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা যারা গাফিলতির কারণে বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে নি আমি আজ তাদের বিচার চাই। বঙ্গবন্ধু শুধু একজন ব্যক্তি নন, বঙ্গবন্ধু একটা বিশ্বাস, একটা প্রেরণা, বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতীয় জীবনের সবকিছুতে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত থাকা একটি সত্তা। বঙ্গবন্ধু একটি দৃপ্ত প্রত্যয়।

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “বঙ্গবন্ধু যেখানে সূচনা করেছেন, সেটাই সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে বঙ্গবন্ধু প্রথম সমুদ্র আইন করেছিলেন। এ ধারাবাহিকতায় আমরা তাঁর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশর প্রায় সমপরিমাণ জায়গায় আমাদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। বঙ্গবন্ধু মাছ আহরণের জন্য প্রথম ট্রলার নিয়ে এসেছেন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে। বঙ্গবন্ধু যা শুরু করেছিলেন সেটা সুপ্রতিষ্ঠিত ও সম্প্রসারিত করেছেন করেছেন তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।”

মন্ত্রী আরো বলেন, “বিশ্বাসঘাতকরা কখনো বিলীন হয় না। একেকসময় একেকভাবে আবির্ভূত হয়। ১৭৫৭ সালের মীর জাফর, ১৯৭৫ সালের খন্দকার মোশতাক, ১৯৭৯ সালের বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষার বিলে স্বাক্ষরকারী জিয়াউর রহমানরা একেক সময় একেক রূপে আবির্ভুত হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় যারা বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তারা কী ভূমিকা পালন করেছেন, যারা রাজনৈতিক দায়িত্বে ছিলেন তাদের কী ভূমিকা ছিল, কেনো তারা সবাই স্পর্শের বাইরে থাকলেন, চলে যেতে হলো জাতির পিতাকে, সে অধ্যায় আজ বিবেচনার সময় হয়েছে। তাদের সকলকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। না হলে অনন্তকাল অপরাধীদের জায়গায় আমাদের স্থান থাকবে।”

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশেনের চেয়ারম্যান কাজী হাসান আহমেদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ শেখ আজিজুর রহমান, বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুল জলিল, বিএফআরআই-এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের উপপরিচালক শেফাউল করিম আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, সুবোল বোস মনি ও মোঃ তৌফিকুল আরিফসহ মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন্।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৬, ২০২১ ৪:৩৬ অপরাহ্ন
গাভীর খামার করে মাসিক আয় ৭০ হাজার টাকা
প্রাণিসম্পদ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ফরিদাবাদ গ্রামের মাহামুদুল হক মাস্টার্স পাস করে গ্রামে গড়ে তুললেন গাভির খামার। ১০ বছরের মাথায় এখন তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

জানা যায়, ২০১০ সালে তিনি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার জাদুলস্কর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে বড় বড় গাভির খামার দেখে এসে গাভি পালনের পরিকল্পনা করেন। বিষয়টি নিয়ে মাহামুদুল তাঁর বাবা মোজাহারুল ইসলামের সঙ্গে পরামর্শ করেন। একই বছরের জুনে নিজের জমানো ২০ হাজার এবং বাবার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে দুটি শংকর জাতের বকনা বাছুর কেনেন।

বছর তিনেক পর বাছুর দুটি গাভিতে পরিণত হয়। প্রতিদিন ৩০ লিটার দুধ দিতে শুরু করে। এ দুধ বিক্রি করে খরচ বাদে দিনে প্রায় ৪০০ টাকা আয় হয়। এভাবে ২ বছরে আরও চারটি শংকর জাতের গাভি কেনেন। ছয়টি গাভি দিয়ে শুরু করেন ডেইরি খামার। বর্তমানে মাহামুদুলের খামারে দেশি-বিদেশি গাভি মিলে মোট গাভির সংখ্যা ২৬টি। প্রতিদিন খামার থেকে গড়ে ১৪০-১৫০ লিটার দুধ পান। প্রতি লিটার দুধ ৪০ টাকায় বিক্রি করে খরচ বাদে দৈনিক দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পান। বছরে ২ লাখ টাকার গাভিও বিক্রি করেন তিনি।

মাহামুদুল জানান, খামারের আয়ের টাকায় আবাদি জমি কিনেছেন। মাছ চাষের জন্য খনন করেছেন পুকুর। গাভির খামারও করেছেন পাকা। বাড়িতে বসিয়েছেন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। আম, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপেগাছ ও শাকসবজি লাগিয়েছেন বাড়ির চারদিকে।

স্থানীয় লোকজন জানান, গাভি পালন করে মাহামুদুল শুধু নিজের ভাগ্যই বদল করেননি। অন্যে যুবকদেরও পরামর্শ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। গ্রামের মাহাবুব রহমান, একরামুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, দেলওয়ার হোসেন, মিনহাজুল ইসলাম, আবু বক্করসহ অনেকে ছয়-সাত বছর ধরে গাভি পালন করে এখন অনেকেই ডেইরি খামারের মালিক।

২০০টি গাভির খামার করারও স্বপ্ন আছে মাহামুদুলের। বেকার তরুণেরা চাকরির পেছনে না ছুটে খামার করে নিজেরা স্বাবলম্বী হবেন, এমন স্বপ্নও দেখেন তিনি।

রাজুর স্ত্রী ফারিয়া খাতুন বলেন, এসব পরিশ্রমের ফল। গ্রামের অন্যদেরও তাই, আগের মতো গ্রামে বেকার কেউ নেই। সবাই এখন দুধে–ভাতে সুখি। এ কৃতিত্ব মাহামুদুলের।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফরহাদ নোমান জানান, ‘আমি মনে করি, উদ্যম ও একাগ্রতাই মাহামুদুলের সাফল্যের মূল কারণ। আমি বেশ কয়েকবার তাঁর খামার পরিদর্শন করেছি। যেকোনো সমস্যায় আমরা তাঁর পাশে থাকি। শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতায় তাঁর খামার অন্য খামারিদের কাছে উদাহরণ হতে পারে। তা ছাড়া তাঁর দেখানো পথে খামার করে তারাগঞ্জের অনেক তরুণ এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৬, ২০২১ ১২:১১ অপরাহ্ন
আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করণ প্রকল্পে গ্রামীণ অর্থনীতি বদলে যাবার গল্প (১ম পর্ব)
প্রাণিসম্পদ

গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে খুবই সম্ভাবনাময় একটি খাত হচ্ছে প্রাণিসম্পদ ।পরিসংখ্যান অনুসারে মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি’র) প্রায় ১.৪৪% যোগায় প্রাণিসম্পদ খাত এবং এটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৩.৮০%। কৃষি খাতের মোট জিডিপির ১৩.১০% যোগান দেয় এই খাত এবং প্রত্যক্ষভাবে ২০ শতাংশ এবং পরোক্ষভাবে ৫০ শতাংশ মানুষ এই খাতের সাথে জড়িত ।  ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৮৪.৪০ লাখ মেট্রিক টন মাংসের যোগান দিয়েছে এই খাত ফলে দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত । একটা সময় ছিল যখন কুরবানির সময় ভারতীয় গরু এনে এ দেশের চাহিদা পূরণ করতে হতো কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এই চিত্র পাল্টে গেছে ।  প্রাণিসম্পদের বিপ্লবের ফলেই এখন নিজ দেশের গরুতে কুরবানির হাট পরিপূর্ণ থাকে ।

২০২০-২১ অর্থ বছরের ডিএলএস এর তথ্য মতে দেশে ২৪.৪৫ মিলিয়ন গরু, ১.৫ মিলিয়ন মহিষ, ২৬.৬ মিলিয়ন ছাগল, ৩.৬ মিলিয়ন ভেড়া রয়েছে । জনপ্রতি মাংসের চাহিদা রয়েছে ১২০ গ্রাম/দিন এবং প্রাপ্যতা রয়েছে ১৩৬গ্রাম/দিন যা সম্ভব হয়েছে প্রাণিসম্পদের বিপ্লবের ফলেই ।

“নিরাপদ মাংসের চাহিদা পূরণে, গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে” ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের “আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ” প্রকল্পটি যাত্রা শুরু করে । ২০১৯ সালে তিন বছরের মেয়াদে একনেকে ৪১ কোটি ২২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা বরাদ্দে আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রকল্পটি পাশ হয়। অল্প সময়ের মাঝে দেশের ৪৯১টি উপজেলায় প্রকল্পটির কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে ।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৩৬,৮২৫ জন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে আর সুফলভোগী খামারী ৩৬,৮২৫ জনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে । খামারীদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান, সুফল ভোগীদের মাঝে বিনামূল্যে টিকা সরবরাহ, কৃমিনাশক ও ভিটামিন-মিনারেলস প্রিমিক্স বিতরণ, গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ বিষয়ক প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ । ৩৬, ৮২৫ জন খামারীর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে  ৭৫ টন ভিটামিন ও মিনারেল প্রিমিক্স, ১৭০২০০ মাত্রা কৃমিনাশক এবং এবং ৩০০০০০ মাত্রার টিকা।

 

গত কোরবানির ঈদের জন্য দেশে এক কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫শ টি গবাদিপশু মজুদ ছিল। যার মধ্যে হৃষ্টপুষ্টকৃত গরু-মহিষের সংখ্যা ছিল ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার এবং ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ ৫৫ হাজার। এছাড়াও অন্যান্য প্রাণি ছিল চার হাজার ৫০০টি; যা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত বলে জানিয়েছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। কুরবানি কে কেন্দ্র করে এই প্রকল্পের উপকারভোগী কর্তৃক ৭৪,০০০ গরু স্বাস্থ্যসম্মতভাবে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে । করোনা পরিস্থিতিতে হাটে ভিড় কমানোর জন্য এই প্রকল্প থেকে শুরু করা হয় অনলাইন কোরাবানির হাট যেখান থেকে সরাসরি খামারির নিকট হতে একজন ক্রেতা তার পছন্দের গরু কিনতে সক্ষম হয়েছে যা ডিজিটাল বাংলাদেশের এক অনন্য উদাহরণ । প্রকল্পটির মূল দায়িত্বে আছেন  ডাঃ প্রাণকৃষ্ণ হাওলাদার (প্রকল্প পরিচালক) যার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও দক্ষ নেতৃত্বে এই প্রকল্পটি দারুণভাবে এগিয়ে চলছে ।

প্রকল্পটির মাধ্যমে যেমন গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন হচ্ছে তেমনি নারীর ক্ষমতায়নেও দারুন ভূমিকা রাখছে । সুফলভোগী খামারীদের মাঝে রয়েছে অসংখ্য নারী খামারী যারা প্রকল্প থেকে উপকৃত হয়ে পরিবারকে সাপোর্ট দিচ্ছেন, সমাজে নিজেদের অবস্থান সুসংগত করেছেন । নরসিংদী সদরের নারী উদ্যোক্তা রেহেনা বেগম বলেন, “এই প্রকল্পের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আমার অনেক উপকার হয়েছে, আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছি” । চট্টগ্রামের খামারি শায়লা বেগম বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমি গরুর টিকা, কৃমিনাশক ও ভিটামিন বিনামুল্যে পেয়ে অনেক উপকৃত হয়েছি”।

 

(পরবর্তী অংশ আগামী পর্বে…)

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৫, ২০২১ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
বজ্রপাতে সাড়ে ৫শ’ ভেড়ার মৃত্যু
প্রাণিসম্পদ

জর্জিয়ার গণমাধ্যমে নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক এক ভিডিও ফুটেজ দেখা গেছে। খোলা মাঠে পড়ে আছে শত শত ভেড়া। সবই মৃত। এরই মধ্যে পেট ফুলে ওঠেছে এগুলোর। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর নিনোতমিদা। সেখানকার পাহাড়ি তৃণভূমিতেই ঘটেছে এই দুঃখজনক ঘটনা। সবগুলো ভেড়াই মরেছে মাত্র একটি বজ্রপাতে।

গুনে দেখা গেছে, মৃত ভেড়ার সংখ্যা ৫৫০টি। এলাকার মানুষজন এ ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন। তারা বলছেন, এর আগে এমন বিস্ময়কর ঘটনার মুখোমুখি কখনো হয়নি এলাকাবাসী।

গত ৯ আগস্ট ভেড়ার খামারের মালিক নিকোলাই লেভানভ একটা ফোন কল পান। টাম্বোভকা গ্রাম থেকে ফোনটি এসেছে। তার খামারের রাখাল খুবই দুঃখজনক এক সংবাদ দেন তাকে।

জানায়, তার খামারের শতাধিক ভেড়া বজ্রপাতে মারা গেছে। লেভানোভ তখনও জানতে পারেন নি, তার পালের ছাড়াও, পাশের খামারের আরও চার শতাধিক ভেড়া একই ঘটনায় মারা পড়েছে। ভাগ্য ভালো, বজ্রপাতে ওই খামারের রাখাল অজ্ঞান হয়ে পড়লেও, তিনি বেঁচে গেছেন। এরই মধ্যে ওই রাখাল সেরে ওঠেছেন।

মাউন্ট আবুল পাহাড়ি এলাকাটি ভেড়ার পাল চরানোর জন্য খুব জনপ্রিয়। লেভানোভ ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্থ খামারি এরই মধ্যে দেশটির সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। সরকারের তরফে নিনোতমিদা শহরের মেয়র বলেছেন, অবশ্যই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে এর আগে দেশের বিজ্ঞন বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি সত্য বলে প্রমাণ করিয়ে নিতে হবে। নিশ্চিত হতে হবে, ভেড়াগুলো বজ্রপাতেই মারা পড়েছে।
সূত্র: ভোরের কাগজ

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop