পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর
প্রাণিসম্পদ
১:৫২ পূর্বাহ্ন
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের মৎস্য খাত যাতে বিপন্ন অবস্থায় না পড়ে সেজন্য যৌক্তিক, বাস্তবতাপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত প্রস্তুতি নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে মৎস্য অধিদপ্তর এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘কমিউনিটি বেজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফিসারিজ এন্ড অ্যাকোয়াকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা জানান।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “ভৌগলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নানা কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। প্রচলিত ও অপ্রচলিত সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণ করে খাবারের সমৃদ্ধিসহ বিদেশে রফতানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার জন্য গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ আহরণ প্রকল্পসহ একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রকৃতির প্রতিকূলতা যাতে আমাদের ধ্বংস করে দিতে না পারে সেজন্য প্রস্তুতি থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।”
মন্ত্রী আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার জন্য মৎস্য খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এ খাতের সম্প্রসারণ ও গুণগত মানে বিকাশ শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বের জন্য প্রয়োজন। কারণ বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গোটা বিশ্বকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে। সে জায়গা থেকে সমগ্র বিশ্বের প্রয়োজনেই মৎস্য খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।”
তিনি আরো যোগ করেন, “জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোন দায় না থাকলেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য ছোট ছোট রাষ্ট্র এর কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সে জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ভার্চুয়াল লিডার সামিটে বিশ্বকে সমন্বিত ও সমভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য একটি তহবিলের রাখার কথা বলেছেন। বিশ্বপরিমন্ডলে একটি সুচিন্তিত ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত পদক্ষেপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তিনি বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা, সাহস ও বিচক্ষণতা দেখিয়ে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সুপারিশ দিয়েছেন।
এসময় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক সংস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সম্প্রসারণ করার জন্য কারিগরী সহযোগিতাসহ অন্যান্য বিষয়ে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান মন্ত্রী।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ তৌফিকুল আরিফ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ এবং এফএও-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন। মন্ত্রণালয়ের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাবৃন্দ, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থা প্রধানগণ, মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকার ৪টি উপজেলায় এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার ৫টি উপজেলায় উল্লিখিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে অভিযোজন ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মকর্তা ও চাষি প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময়, জলবায়ু সহিষ্ণু মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, কাঁকড়া ও গলদা হ্যাচারি পরিচালনায় পরামর্শ সেবা প্রদান, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় জনসাধারণের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
আসন্ন কোরবানিকে সামনে নিয়ে চলছে খামারিদের এবং প্রান্তিক কৃষকদের গরু নিয়ে নানা আয়োজন। এবছর গত বছরের তুলনায় ১ লাখের বেশি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদের এ সফলতা ধরে রাখতে সরকার কিছু উদ্যোগ না নিলে খামারিরা মুখ ফিরিয়ে নিবে বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু প্রজনন ও জেনেটিক্স বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন জানান, খামারিরা ৩-৪ মাস ভালো খাবার ও যত্ন দিয়ে পশু লালন-পালন করে কোরবানির সময় বিক্রির জন্য। ভারত থেকে গরু আনা বন্ধ না হলে দেশের খামারিদের এ সফলতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না।
আরো পড়ুন: গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরুর দাম নিয়ে হতাশ খামারিরা
প্রণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর কোরবানির জন্য সারাদেশে প্রস্তুত করা হচ্ছে ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি পশু। গতবছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিলো ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি পশু।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা গেছে, এ বছর হৃষ্টপুষ্টকরণের মাধ্যমে দেশে পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে ৬২ লাখ ৩৬ হাজার ৩১টি। গবাদিপশুর সংখ্যা রয়েছে ৩৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০টি। ষাঁড় রয়েছে ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৭২৩টি, বলদ ছয় লাখ ৪৭ হাজার ৬১৬টি, গাভী ছয় লাখ ২৭ হাজার ৫৪৭টি, মহিষ এক লাখ ৩০ হাজার ৯১৪টি।
অপরদিকে, ছাগল রয়েছে ২০ লাখ ৪২ হাজার ৭৮৬টি ও ভেড়া তিন লাখ ২৯ হাজার ৯৬২টি। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৭৬৫টি। গৃহপালিত গরু ও মহিষের সংখ্যা ছয় লাখ ৮৮ হাজার ২০০টি। ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯২ হাজার ২৫২টি। সবমিলিয়ে মোট সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. শেখ আজিজুর রহমান জানান, কোরবানির পশুর জন্য বছর তিনেক আগেও আমাদের অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। এখন আর আমাদের অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে না।
কোরবানি ঈদের বাজার ধরতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করণের কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ঝিনাইদহের খামারিরা। ঈদকে সামনে রেখে গো-খাদ্যের দাম বেশি ও গরুর দাম ঠিকমত না পাওয়ার হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেকেই। অন্যদিকে বাজারে ভারতীয় গরুর আমদানি হবে এমন দুশ্চিন্তায়ও রয়েছেন তারা।
গমের ভুষি, খৈল, খড়, কাঁচা ঘাস সহ অন্যান্য খাবার খাওয়ানো হচ্ছে গরুকে। কেউ খড় কাটছেন কেউবা গরু পরিষ্কার করছেন পানি দিয়ে। এভাবেই দেশীয় পদ্ধতিতে খুব যত্নের সাথে চলছে ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের খামারিদের গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া। সকলেরই আশা আসছে কোরবানির ঈদে ভাল দাম পাওয়া যাবে।
কিন্তু গো-খাবারের দাম বেশী হওয়ায় খরচ হয়েছে অনেক বেশী। আর ঈদ ঘনিয়ে আসলেও খুব একটা দেখা মিলছে না ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ বাইরের গরুর ব্যাপারীদের। স্থানীয় বাজারেও নেই তেমন গরুর দাম। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে বাজারে আসবে ভারতীয় গরু এমন শঙ্কায়ও রয়েছেন খামারিরা। সীমান্ত দিয়ে গরু আসা বন্ধ হলে কিছুটা লাভের মুখ দেখবে বলেও আশা করেন ব্যাপারীরা।
খামারিরা জানান, এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে গরু রপ্তানি করা হয়ে থাকে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, এবার কোরবানীর ঈদকে ঘিরে ৫৩ হাজার গরু ও ৪২ হাজার ছাগল ও ৫ শত ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।এ জেলায় ২২হাজার খামারি তাদের গরু বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত করেছে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, আমাদের পালিত গরুই চাহিদা পূরণ করতে পারবে। ফলে বাইরের গরু আমদানির প্রয়োজন নেই।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, এবারে গো-খাদ্যর দাম বেশি। খামারিদের এখন কিছুটা লোকসান হলেও শেষ মুহূর্তে তারা ভাল দাম পাবেন। দেশীয় গরুই দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। এ কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন নেই।
কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমারসহ ২৬টি নদ-নদীর প্রায় ৪৫০টি চরাঞ্চলে ছাগল পালনের পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু, গরু পালনের পরিমাণ আগের তুলনায় কমেছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, গরু পালনে পর্যাপ্ত গোখাদ্যের প্রয়োজন হয়। কিন্তু, গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু পালনে চরবাসীদের মধ্যে অনীহা দেখো যাচ্ছে। তবে ছাগল পালনে কোন খাদ্য কিনতে হয় না।
কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট প্রাণীসম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে দুই জেলায় গরুর সংখ্যা আছে ১৪,৫৫,৮৩০টি আর ছাগল ৬,৫৭,০২৫টি। দুইবছর আগে গরু ছিলো ১৬,১২,০০০টি এবং ছাগল ছিলো ৫,৮০,০০০টি।
কুড়িগ্রাম প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল হাই সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গরু ও ছাগলের সংখ্যায় যে পরিবর্তন এসেছে তার অধিকাংশই চরাঞ্চলে। ছাগল পালন লাভজনক হওয়ায় চরবাসী সেদিকে ঝুঁকছেন। তাছাড়া, ছাগল পালন করতে খাদ্য কিনতে হয় না। চরাঞ্চলে প্রাকৃতিক ঘাস, লতা-পাতা খাইয়ে ছাগল পালন করা যায়।’
‘গত দেড় বছর ধরে গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ধানের খড়ের দাম এতোই বেড়েছে তাতে চরের সাধারণ কৃষক গোখাদ্য কিনে গরু পালন করতে হিমশিম খাচ্ছেন,’ যোগ করেন তিনি।
লালমনিরহাট প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ছাগলের তেমন রোগ-ব্যাধি হয় না। শুধু, বছরে একবার পিপিআর টিকা দিলে পারলে নিরাপদে ছাগল পালন করা যায়। চরাঞ্চলের প্রত্যেক বাড়িতে ৫-২০টি ছাগল রয়েছে। এসব ছাগল পালন করে বছরে তারা আশানুরূপ লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি তারা গরুও পালন করছেন। কিন্তু, গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে গরু পালনের চেয়ে ছাগল পালনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।’
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে চর পার্বতীর কৃষক তাহের আলী (৫৬) জানান, তার তিনটি গরু ছিলো, কিন্তু দুটি বিক্রি করে দিয়েছেন। দু’বছর আগে ছাগল ছিলো ৬টি কিন্তু বৃদ্ধি করে ১৫টি ছাগল পালন করছেন এখন। বেশি দামে গোখাদ্য কিনে গরু পালন করে লাভবান হওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু ছাগল পালনে কোন খাদ্য কিনতে হয় না। চরের বুকে এসব ছাগল খোলামেলা পালন করা যায়।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তিস্তা নদীর বুকে চর গোবর্ধানের কৃষক শামসুল ইসলাম (৫০) জানান, তিনি চারটি গরু বিক্রি করে ছাগল পালন শুরু করেছেন। তার ১৮টি ছাগল রয়েছে। তার ছেলে প্রতিদিন এসব ছাগল চরে নিয়ে যায়। ছাগল পালন করতে তাকে কোনো অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে না। কিন্তু, গরু পালন করতে গিয়ে তাকে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়েছিল।
তবে, গোখাদ্যের দাম বিশেষ করে ধানের খড়ের দাম না বাড়লে তিনি গরু পালন অব্যাহত রাখতেন বলে জানান।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর যাত্রাপুর হাটের খড় ব্যবসায়ী মতিন মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি আঁটি ধানের খড় ৭-৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু, বর্ষাকালে এর দাম বেড়ে ১৩-১৫ টাকা হয়। একটি গরুকে প্রতিদিন ৭-১০টি আঁটির খড় খেতে দিতে হয়।’ সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
প্রাণ ডেইরি লিমিটেড এবং ফিনিক্স ইনস্যুরেন্সের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরায় দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে জড়িত খামারিদের বিনিয়োগ সুরক্ষায় গরুর জীবন বিমা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্রের আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা এসিডিআই/ভোকা। সংস্থাটির অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির নাম, ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ লাইভস্টক প্রডাকশন ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন।
প্রাথমিকভাবে কার্যক্রমটি সাতক্ষীরায় পরিচালনা করা হচ্ছে। পরে খুলনায় চালু হবে। খামারিদের বিনিয়োগ সুরক্ষার চিন্তা মাথায় রেখে এ কার্যক্রম শুরু করায় উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলা এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।
এসিডিআই ও ভোকার মাঠ সমন্বয়কারী ডা. মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম সাতক্ষীরাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে জড়িত খামারিদের গরুর বিনিয়োগ সুরক্ষায় গরুর জীবন বীমা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিমা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা সদর, ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুর; তালা উপজেলার খলিষখালী, ইসলামীকাটি ও খলিলনগর ইউনিয়নে এ কার্যক্রম চলেছে।
আরো পড়ুন: চিলমারীতে ২০৪ সুবিধাভোগীর মাঝে আরডিএ প্রকল্পের গরু বিতরণ
তিনি আরও জানান, গরুর দাম এক লাখ টাকা হলে সেই গরুর জন্য তিন হাজার ৪৫০ টাকায় বিমা করা কথা থাকলেও তিনটি সংস্থার পক্ষ থেকে ৮০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ৬৯০ টাকায় বিমা খুলে ৩৩৯ জন খামারি সহায়তা পেয়েছেন। আমাদের পাইলট প্রজেক্ট শেষ হয়েছে। খুব দ্রুত দ্বিতীয় ফেজে কার্যক্রম শুরু হবে।
জানা যায়, ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৩৩৯ জন খামারি তাদের গরুর আকস্মিক মৃত্যুতে ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে এই গরু বিমার আওতায় আসেন। খুরা রোগসহ বিভিন্ন কারণে গরুর আকস্মিক মৃত্যু হলে, ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড বিমাকারী গরুর আর্থিক দায়ভার বহন করবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে গরুর ৯০ শতাংশ মূল্য খামারিকে পরিশোধ করবে।
কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার হতদরিদ্রদের মাঝে ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক উপকারভোগীর মাধ্যে প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি করে বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার জোড়গাছ বাজারে রাণিগঞ্জ ইউনিয়নের ২০৪ সুবিধাভোগীর মাঝে এসব গরু বিতরণ করা হয়। এসময় সুবিধাভোগীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদ চেয়ারমম্যান শওকত আলী সরকার (বীরবিক্রম), প্রকল্প পরিচালক (উপসচিব) জাহেদুল হক চৌধুরী, প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (গবেষণা) ড. শেখ মেহেদী মোহাম্মদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশিদুল হক প্রমুখ।
এ প্রকল্পের আওতায় থাকবে জেলার উলিপুর, নাগেশ্বরী, রাজারহাট ও চিলমারী উপজেলা। এতে প্রায় ১২ হাজার ৪১০ জন সুবিধাভোগী গরু পাবেন।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় প্রেসক্রিপশন (ব্যবস্থাপত্র) ছাড়া গবাদিপশুর ওষুধ বিক্রির অভিযোগে মো. জাহিদুল ইসলাম নামে এক দোকানিকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
কাপাসিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. ইসমত আরা এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। জাহিদুল সাফাই শ্রী এলাকার ঔষধ বিক্রেতা।
ইউএনও মোসা. ইসমত আরা জানান, বিধি মোতাবেক রেজিস্ট্রার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া গবাদিপশুর ওষুধ বিক্রি না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তা উপেক্ষা করে সোমবার সাইশ্রী এলাকার দোকানি মো. জাহিদুল ইসলাম তার ওষুধের দোকানে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ও গরু মোটাতাজাকরণের জন্য ব্যবহৃত স্টেরয়েড বিক্রি করেছেন। তার প্রমাণও পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ওষুধ আইন ১৯৪০ এর ১৮ ধারা লঙ্ঘন করায় তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া প্রত্যেক খামারি ও ফার্মেসিকে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া ওষুধ বিক্রি না করার জন্য পত্র দেয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের মোংলায় সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয় থেকে একটি অজগর উদ্ধার করেছে বনরক্ষী ও ওয়াইল্ডটিমের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) সকালে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিধান হালদারের বাড়ির খোপ থেকে অজগরটি উদ্ধার করেন।
বিধান হাওলাদার জানান, অজগরটি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসেছিল। হয়তো রাতের কোনো এক সময় অজগরটি আমাদের হাঁস-মুরগির খোপে ঢুকেছিল।
তিনি জানান, সকালে মুরগি ছাড়তে গিয়ে দেখা যায় খোপের মধ্যে একটি বড় সাপ। তখন আমরা কাটাখালী টহল ফাঁড়ির ও ওয়াইল্ডটিম ও ভিটিআরটিকে খবর দিলে তারা এসে অজগরটিকে উদ্ধার করে। এতক্ষণে সাপটি আমাদের খোপের অন্তত ৫টি হাঁস মেরে ফেলেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের কাটাখালী ফাঁড়ির ওসি মেগনাথ জানান, ওয়াইল্ডটিমের সহযোগিতায় আমরা সাপটি উদ্ধার করেছি। পরবর্তীতে আমরা সাপটিকে বনে অবমুক্ত করেছি। উদ্ধার হওয়া সাপটির ওজন ৬ কেজি এবং লম্বায় প্রায় ৮ ফুট।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি গণমাধ্যমবান্ধব সরকার প্রধান। তিনি যতটা গণমাধ্যমবান্ধব ততটা আর কেউ নন।
মঙ্গলবার (১৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর পল্টনে নোয়াখালী জেলা সমিতি মিলনায়তনে দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিন পত্রিকার নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তাঁর সময়ে দেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম বেসরকারি খাতে টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়। তাঁর সময়ে সবচেয়ে বেশি বেসরকারি টেলিভিশন এবং সবচেয়ে বেশি সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টাল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাঁর সময়ে তথ্য অধিকার আইন হয়েছে। এ আইন করে তিনি জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে দিয়েছেন। শেখ হাসিনা তথ্য অধিকার আইন করে দিয়ে প্রমাণ করেছেন, কোনো তথ্য নাগরিক চাইলে তাকে দিতে হবে। তার অধিকার আছে, তিনি এ দেশের মালিক। এভাবে শেখ হাসিনা তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করেছেন। অতীতে কেউ বিপর্যস্ত সাংবাদিকদের কল্যাণে এভাবে এগিয়ে আসেন নি, যেভাবে তিনি করোনাকালে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন।
সম্প্রতি তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে দশ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। কোনো সাংবাদিকের বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তিনি পাশে দাঁড়ান। কোনো সাংবাদিকের পরিবার অসহায় অবস্থায় পড়লে তিনি পাশে দাঁড়ান।”
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, “গণমাধ্যমকে বিকশিত হতে হবে সমাজ, রাষ্ট্র, দেশ ও মানুষের কল্যাণে। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের বিকাশের পক্ষে। যত বেশি মত, তত বেশি পথ হবে। গণমাধ্যম যত মুক্তিচিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে তত বেশি আমাদের চিন্তার জগৎ উন্মোচিত হবে।”
শ ম রেজাউল করিম আরো যোগ করেন, “রাষ্ট্রের জন্য গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। কারণ গণমাধ্যম ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরিয়ে দেয়। ফলে আমরা যারা সরকারের থাকি, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকি তারা সঠিক কাজটি করার সুযোগ পাই। গণমাধ্যমে সমালোচনা যেমন থাকবে, পাশাপাাশি সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র সামনে নিয়ে আসতে হবে। তাহলে মানুষ বুঝবে কিছু ভুল থাকলেও সরকার মূলত ভালো কাজ করে।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “সংবাদমাধ্যমে সম্পৃক্ত হওয়া মানে কঠিনকে ভালোবাসা। সাংবাদিকদের জন্য একটা কথা প্রযোজ্য সেটা হলো, ‘কঠিনেরে ভালোবাসিলাম’।
দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক, দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিনের সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফিরোজ আলম রিগান, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি জাফর সেলিম প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন।