৩:০৮ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুন ২৩, ২০২১ ৩:০৭ অপরাহ্ন
সামনে কোরবানি, বাড়ছে গো-খাদ্যের দাম, দিশেহারা খামারি!
প্রাণিসম্পদ

একদিকে চলছে করোনা মহামারী। যার কারণে অর্থনৈতিকভাবে নাজেহাল সকল স্তরের মানুষ। খামারিদেরও যাচ্ছে দৈন্যদশা। তারউপর দফায় দফায় গো-খাদ্যের দাম বাড়া যেন খামারিদের গলায় ফাঁস। এদিকে বন্ধ রয়েছে উল্লাপাড়ার লাহিড়ী মোহনপুরে মিল্ক ভিটার অর্থায়নে নির্মিত গোখাদ্য উৎপাদন প্লান্টটিও। ​আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে যখন খামারিরা নিচ্ছে লস কাটিয়ে উঠার প্রস্তুতি ঠিক সে সময়টাতেই গো-খাদ্যের দাম বাড়াতে হতাশায় ভুগছেন খামারিরা।

গোখাদ্য বিক্রেতারা জানান, ‘মিল্ক ভিটার গোখাদ্য উৎপাদন প্লান্টটি বন্ধ থাকায় দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। এখানে বিভিন্ন কোম্পানির খাদ্য আসে। সবাই এই খাদ্যের দাম সিন্ডিকেট করে বাড়িয়েছে। তাই আমাদের বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’

খান ডেইরি ফার্মের মালিক শাহিন খান গণমাধ্যমকে জানান, গমের ছাল বস্তাপ্রতি ১১০০ টাকা ছিল। বর্তমানে ১২৫০ টাকা হয়েছে। কাউফিড বস্তাপ্রতি ৯০০ টাকার জায়গায় এখন বেড়ে হয়েছে ১০৫০ টাকা।

শাহিন খান বলেন, ডালের ভুসি ৩৫ কেজির বস্তা কিনতে হচ্ছে ১২০০ টাকায়, অ্যাংকর ডালের ভূষি ৮০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। ধানের খড়ের দামও বেশি। খড় কিনতে হচ্ছে ৬০০ টাকা মণ দরে।

শাহিন খান আরও বলেন, ‘প্রতি শতাংশ জমির জাম্বু ঘাস কিনতে হচ্ছে ৩০০ ও নেপিয়ার ঘাস ৪০০ টাকায়। গোখাদ্যের দাম কমানো না হলে কিংবা খামারিদের ভর্তুকি না দিলে আমাদের পক্ষে খামার চালানো অসম্ভব হয়ে উঠবে।’

প্রায় ১০০ গরু নিয়ে খামার রয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের।

মনিরামপুর বাজারের একজন গোখাদ্য বিক্রেতা জানান, ‘কোরবানির ঈদকে ঘিরে কিছু ব্যবসায়ী গোডাউনে খাদ্য মজুত করছেন। বাজারে সংকট দেখিয়ে বেশি দামেও বিক্রি করছেন তারা। এদের জন্য প্রতিবছর এই মৌসুমে গোখাদ্যের দাম বেড়ে যায়।’ করোনাভাইরাস মহামারির অজুহাতে মিলমালিক ও মজুতদাররা তিন দফা দাম বাড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন এই বিক্রেতা।

মিল্ক ভিটার পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকির জানান, ‘গোখাদ্যের দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। গোখাদ্য না খাওয়ালে তো গরু বাঁচানো যাবে না। দানাদার খাদ্য, খড়ের দাম অনেক বেশি। খামারিরা নিজে না খেয়ে গরু লালনপালন করছে। সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিচ্ছে। একইভাবে যদি খামারিদের অনুদান দিত তাহলে হয়তো খামারিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারত।’

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, ‘খাদ্যের দাম বেড়েছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। ব্যবসায়ীরা এটা করে থাকে। সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।’খামারিরা যাতে লোকসানে না পড়ে এ জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গরুর মালিকদের সরকারিভাবে নগদ টাকা, খাবার, ওষুধ দেয়া হয়েছে। দশ লাখ গরুকে বিনা মূল্যে টিকা দিচ্ছে সরকার।’ কোরবানির ঈদ উপলক্ষে জেলায় ৪ লাখ ১২ হাজার গবাদিপশুকে প্রাকৃতিক ও দানাদার খাবার দিয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৩, ২০২১ ১২:১৯ অপরাহ্ন
ব্রয়লারের ওজন বাড়াতে খামারিরা যা করবেন
পোলট্রি

দেশে মাংসের চাহিদা পূরণে ব্রয়লারের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটি একদিকে যেমন মাংসের চাহিদা পূরণ করছে অন্যদিকে কমাচ্ছে বেকারত্ব।অনেকেই এখন খামার করে হয়েছেন স্বাবলম্বী। তবে এই মুরগির ওজন যত বেশি হয় তত তার চাহিদা থাকে বেশি। তাই ব্রয়লারের ওজন বাড়াতে খামারিদের জানতে হবে কিছু কৌশল।

ব্রয়লার মুরগির ওজন বাড়ানোর কিছু কৌশল:
খামার পরিষ্কার রাখা ব্রয়লারের ওজন বাড়ানোর প্রথম কৌশল।এতে খামারে রোগের প্রকোপ কমে যাবে এবং মুরগির দৈহিক বৃদ্ধি দ্রুত হবে। মুরগির খামারে বাচ্চা আসার ৪৫ মিনিট পূর্বে চিকগার্ডের ভেতরে প্রবা‌য়োটিক স্প্রে করে দিতে হবে। বাচ্চা ব্রুডারে ছাড়ার ৩০ মিনিট আগে পানির ড্রিকার দিয়ে দিতে হবে।

খামারে ব্রয়লার পালনের জন্য ১ দিনের বাচ্চার বয়স ৩৬ গ্রাম হতে হবে। বাচ্চা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।ব্রয়লার খামারে যাতে সবসময়ই আলো প্রবেশ ও বায়ু চলাচল করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

১৫ দিন বয়সের মধ্যে মুরগি গ্রাডিং শেষ করতে হবে। ১৮ দিন বয়সে গ্রথ আসার জন্য গুরের পানি খাওয়াতে হবে। ২০ দিন অতিবাহিত হলে মুরগি ফ্লাসিং করতে হবে। ২৫ দিন পর হইতে মাদি এবং ছোট মুরগি বিক্রি করতে হবে।ব্রুডিং এ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে এবং দুই ব্যাচের মধ্যে ১৫ দিন বিরতি দিতে হবে। খামারের মুরগিগুলোকে যথাসময়ে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে। যে কোনো ঔষধ ব্যবহারকালে সেই ওষুধের মেয়াদ আছে কিনা তা ভালোভাবে দেখে নিতে হবে।

খামারে ব্রয়লার মুরগির লিটার সবসময় শুকনো রাখতে হবে। খামারের লিটার ভালো হলে মুরগি ভালো থাকবে। এজন্য নিয়মিত মুরগির লিটার পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আর প্রয়োজন হলে লিটার পরিবর্তন করে দিতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৩, ২০২১ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
আসন্ন কোরবানিতে তিন কোটি টাকার গরু বিক্রি করতে চান তিনি!
প্রাণিসম্পদ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে তরুণ ‍উদ্যোক্তা এরশাদ উদ্দিন গড়ে তুলেছেন জে.সি এগ্রো ফার্ম। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে সেখানে মোটাতাজা করা হচ্ছে বিশালাকারের ষাঁড়, মহিষ এবং গয়াল। আসন্ন কোরবানিতে তিন কোটি টাকার পশু বিক্রির আশা করছেন এরশাদ।

জানা যায়, গত বছর মহামারির শুরুর দিকে মাত্র ২০টি গরু নিয়ে জে.সি এগ্রো ফার্মের যাত্রা শুরু। মাত্র এক বছরেই লাভের মুখ দেখার পাশাপাশি খামারটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভুট্টার ফল ও গাছ, সবুজ ঘাস, দেশি খাবারের পাশাপাশি সঠিক পরিচর্যায় খামারের পশুগুলো বেড়ে উঠছে দ্রুত। দূর-দূরান্তের লোকজন খামারে আসছে দশাসই আর সবল পশুগুলোকে দেখতে।

খামারে ২৫০টি পশুর মধ্যে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে, ১৫০টি ষাঁড় ও ৪০টি মহিষ ও ৮টি গয়াল। আগামী বছর থেকে খামারে এক হাজার পশু মোটাতাজা করা হবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা গরু কিনতে আসছেন। গত এক সপ্তাহে খামার থেকে ৬০টি ষাঁড় বিক্রি হয়েছে বলে জানা যায়।

এরশাদ জানান, ‘শুধু লাভের আশায় নয়, গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকদের উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যা কমানোর লক্ষ্য নিয়েই প্রত্যন্ত গ্রামে খামারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’‘ব্যবসার সুবাদে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকি। তবে মন পড়ে থাকে গ্রামে। গ্রামের বাড়িতে একটি খামার করার স্বপ্ন ছিল অনেকদিন ধরেই। গত বছর করোনা মহামারির শুরুতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসি। এখানে ২০টি গরু দিয়ে খামার শুরু করি। প্রাকৃতিক খাবার ও মনোরম পরিবেশে খামারের পশুগুলো দ্রুত বেড়ে উঠছে দেখে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। খামারে প্রায় আড়াইশ পশু এক সঙ্গে লালন-পালন করা হচ্ছে।’

খামারের কর্মীরা জানান, পশুগুলোর খাবারে কোনো ধরনের রাসায়নিক না মিশিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। এজন্য হাওরের জমি লিজ নিয়ে ভুট্টা চাষ করা হয়। গাজন পদ্ধতিতে সবুজ ভুট্টা গাছ থেকে পশুর পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা হয়। এছাড়া সবুজ ঘাস ও খৈল দেয়া হয়। এ খামারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে এলাকার ২০ যুবকের।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২২, ২০২১ ১:৫৩ অপরাহ্ন
কোরবানিকে সামনে রেখে দুশ্চিন্তায় দুর্গাপুরের গরুর খামারিরা
প্রাণিসম্পদ

গো-খাদ্যের সংকট, মূল্য বৃদ্ধি, বাজার মন্দা, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় পশুর হাট স্থাপনে বিধিনিষেধসহ ইত্যাদি কারণে রাজশাহীর দুর্গাপুরে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দুচিন্তায় খামারিরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ছোট বড় প্রায় ১শ ২৫টি গরুর খামার রয়েছে। এসব গরুর খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণের প্রতিযোগিতা চলছে। সম্প্রতি প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করণে ১২৫ খামারিকে প্রশিক্ষণ, কৃমি নাশক ওষুধ ও ভিটামিন মিনারেল জাতীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলায় ৫ হাজার পরিবারে ২-৩টি করে গরু প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এসব খামার ও পরিবার থেকে কোরবানির জন্য ২০ হাজার গরু টার্গেট করা হয়েছে। এছাড়াও ৩০ হাজার ছাগল স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এসব সুস্থ গরু ও ছাগল নিজ উপজেলা ও জেলার চাহিদা পূরণ করে ঢাকায় কোরবানির হাটে সরবরাহ করা হবে।

জানা যায়, প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলায় মৌসুমী খামারি ও ব্যবসায়ীরা মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর অবৈধ স্টেরয়েড হরমোন ব্যাবহার করে দ্রুত গরু মোটাতাজা করত। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কিন্তু এবার প্রাণিসম্পদ বিভাগের তৎপরতার কারণে চলতি বছর এই প্রবণতা অনেকটাই কম। এ বছর ব্যাপক হারে প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, ঘাস, বিভিন্ন প্রকারের ভুষি, খৈল এবং ভিটামিন খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে।

খামারি ও চাষিরা জানান, গরুকে প্রাকৃতিক পন্থায় মোটাতাজা ও সুস্থ রাখতে সাধারণত খড়, লালি-গুড়, ভাতের মাড়, তাজা ঘাস, খৈল, গম, ছোলা, খেসারি, মাষকলাই, মটরের ভুসিসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেয়া হয়। গরুর জন্য এটা বিজ্ঞানসম্মত। এ নিয়মে গরু মোটাতাজা করা হলে ক্রেতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন না। এ ধরনের গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। তাই প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা গরুর চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে গো-খাদ্য বস্তা প্রতি দাম বেড়েছে ১শ টাকার ওপরে। ফলে খামারি ও চাষিরা অনেকটাই বেকায়দায় রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদির জানান, করোনা সংকটের মধ্যেও এবার ব্যাপকহারে গরু লালন পালন করছেন চাষিরা। এবার ওষুধ বা ইনজেকশন দিয়ে কোনো গরু মোটা করা হচ্ছে না। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ তৎপর রয়েছেন। চাষি ও খামারিদের প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণে প্রশিক্ষণ ও নানান প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে চাষিদের নানা রকম পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২১, ২০২১ ৭:৪০ অপরাহ্ন
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে উৎপাদক, নিয়ন্ত্রক ও ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নাই
পোলট্রি

অধিকাংশ সময় সরকার ব্যবসায়ী ও সরকারের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। কিন্তু এসমস্ত উদ্যোগ একটা সময়ে দ্বিপাক্ষিক দেনদরবারে পরিনত হয়। ফলে এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয় বড় বড় কর্পোরেট গ্রুপ, আমদানিকরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকে নানাভাবে বঞ্চিত করছে। আমদানিকারক ও বড় ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর দোষ চাপান এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারীদের ওপর দোষ চাপন। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে একটি অসমতা বিরাজ করছে। তাই সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে উৎপাদক বিশেষ করে খামারী, কৃষক, সরকারের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কোন ভাবে সফল হওয়া সম্ভব নয়।

আজ সোমবার (২১ জুন) নগরীর মোটেল সৈকত সাম্পান হলে ক্যাব’র পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রকল্পের উদ্যোগে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে ও ক্যাব বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সংঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ইউমেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র রেখা আলম চৌধুরী, বিশিষ্ঠ নারী নেত্রী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোটে রেহেনা বেগম রানু, দেশ টিভির ব্যুরো চীপ ও কনজ্যুমার রাইটস মিডিয়া ফোরামের সভাপতি আলমগীর সবুজ ও থানা প্র্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জাকিয়া খাতুন। আলোচনায় অংশনেন ক্যাব মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্যাব পাঁচলাইশ থানার সাধারন সম্পাদক সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব নেতা সেলিম সাজ্জাদ, মাজেদ ভাষানী, পোল্ট্রি খামারী মোহাম্মদ রফিক, ক্যাব কর্মকর্তা তাজমুন নাহার হামিদ, শম্পা কে নাহার ও জহুরুল ইসলাম প্রমুখ। পাঁচলাইশ থানা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জাকিয়া খাতুন ও ক্যাব চট্টগ্রামের মনিটরিং কর্মকর্তা কৃিষবিদ আরিফ আহমেদ পোল্ট্রি উৎপাদনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত বিষয়ে করনীয় বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন।

সভায় বলা হয় সরকার ও আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলির উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও নিরাপদ খাদ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, উৎপাদক, বিপননকারী, খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তাদের সমন্বিত ভাবে সক্ষমতা উন্নয়নে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। অনেক সময় ব্যবসায়ী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর মিলে মিশে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ব্যবসায়ীরা তাদের স্বার্থে সরকারি প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যবহার করে তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়ে যান। ফলে ভোক্তাদের স্বার্থগুলি ভূলুণ্ঠিত থেকে যায়।

সভাপতির বক্তব্যে ক্যাব কেন্দ্র্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ক্যাব নিরাপদ খাদ্য নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন করলেও এখনও আশানুরুপ পরিবর্তন আসেনি। পোল্টি সেক্টরে নানা বিভ্রান্তি দূরীকরণে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দেশের ৩টি বিভাগে ৩টি উপজেলায় ক্যাব পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রকল্প পরিচালনা করছে। যেখানে সরকারের প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিদপ্তর, খামারী, ও ভোক্তাদের সমন্বিত কর্মপ্রয়াসে পোল্ট্রিতে অ্যান্টিবায়েটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার, নিরাপদ পোল্ট্রি খাবার নিশ্চিত, সুস্থ ও পরিবেশ সম্মত ভাবে পোল্ট্রি উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষনে খামারী ও ভোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। একই সাথে পোল্ট্রি সম্পর্কে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য দূরীকরণে ভোক্তাদের মাঝে সঠিক তথ্য পৌছানোর মাধ্যমে পুষ্টি ও আশিষের চাহিদা পুরণে ভুমিকা রাখছে। উৎপাদক, সরকার ও ভোক্তাদের সমন্বিত এধরনের উদ্যোগ সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন।

সভায় অতিথিরা বলেন, কৃষকের উৎপাদন থেকে ভোক্তার টেবিলে পরিবেশেন পর্যন্ত নিরাপদ খাবার নিশ্চিতের করনীয় বিষয়গুলি যথাযথ ভাবে অনুসরন করা না হলে নিরাপদ খাদ্য ও অনিরাপদ হতে পারে।

একজন ক্ষুদ্র খামারীকে প্রতিযোগিতামুলক বাজারে টিকে থাকতে হলে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতে মনোযোগী হতে হবে। সরকার কৃষি প্রযুক্তিতে উৎসাহিত করছে এবং এখানে কর রেয়াতসহ নানা সুবিধা প্রদান করছে। আর উৎপাদনের নিত্যনতুন কলাকৌশল উদ্ভাবিত হচ্ছে।

সেকারনে একজন খামারীকে কম খরচে উৎপাদনের বিষয়টি যেভাবে দেখতে হবে। একই সাথে পুষ্টিমান ও নিরাপদ পোল্ট্রি ভোক্তার কাছে যাচ্ছে কি না তাও নিশ্চিত করতে হবে। পোল্টি খাবার ও মুরগিতে আন্টিবায়েটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার রোধে ভোক্তাদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে সনদধারী পশু চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। কর্মশালায় ২৫জন খামারী ও ১৫জন স্থানীয় ক্যাব নেতৃবৃন্দসহ ৪০জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২১, ২০২১ ৫:২৪ অপরাহ্ন
হিমায়িত মৎস্য রফতানি বৃদ্ধিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে
প্রাণিসম্পদ

হিমায়িত মৎস্য রফতানি বৃদ্ধিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
সোমবার (২১ জুন) রাজধানীর সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস্ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাথে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রী এ কথা জানান।
এ বিষয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, “মৎস্য খাতকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য, এ খাতের রফতানি বৃদ্ধিসহ রফতানির সাথে সম্পর্কিত যে কোন সমস্যা দূর করার জন্য সবধরনের পদক্ষেপ নিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। হিমায়িত খাদ্য রফতানির ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা দূর করার বিষয়টি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে সরকার বিবেচনা করবে। তবে এ ব্যাপারে বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ এ খাত সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
এসময় মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “শেখ হাসিনা সরকার মৎস্য খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে। বাংলাদেশে অতীতে যা কোন সরকার নেয়নি। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে এ খাতকে আলাদাভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। করোনাকোলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৎস্য খাতের উন্নয়নে গৃহিত সকল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। এর অর্থ এ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁর আন্তরিকতা ও আগ্রহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমাদের মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ২৯ প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় মাছ নতুন করে বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে ফিরিয়ে এনেছে।”
এসময় তিনি বলেন, “করোনা ক্রান্তিকালে মৎস্য খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যা দূর করা হয়েছে। মাছ উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সরকারিভাবে পোনা বিতরণ করা হয়েছে, মৎস্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং একশ কোটি টাকা নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। উৎপাদিত মাছ বিক্রয়ের জন্য ভ্রমাম্যাণ ও অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এভাবে করোনায় মৎস্য খাতকে সচল রাখার জন্য সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে।”
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, উপসচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, এ জেড এম নূরুল হক ও মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস্ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ আমিন উল্লাহ, সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ খলিলুল্লাহ, সহসভাপতি আশরাফ হোসেন মাসুদ ও হুমায়ুন কবির, পরিচালক শ্যামল দাস, মহাসচিব শেখ সোহেল পারভেজ, সাবেক সহসভাপতি ড. সৈয়দ আবু আসফার, এসিআই এগ্রোবিজনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফা হ আনসারী এবং জেমিনি সী ফুডস্ লিমিটেড, খুলনা-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২০, ২০২১ ১১:২১ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামে ক্যাব’র উদ্যোগে আদর্শ পোল্ট্রি খামারিদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
পোলট্রি

সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করে ও স্বাস্থ্য সম্মতভাবে নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদান বিষয়ে চট্টগ্রামে ক্যাব’র উদ্যোগে পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রকল্পের উদ্যোগে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রবিবার (২০ জুন) নগরীর মোটেল সৈকত সাম্পান হলে অনুষ্ঠিত হয়।

থানা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জাকিয়া খাতুন ও ক্যাব চট্টগ্রামের মনিটরিং কর্মকর্তা কৃিষবিদ আরিফ আহমেদ পোল্ট্রি উৎপাদনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত বিষয়ে করনীয় বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন। প্রশিক্ষণে খামারিরা কিভাবে তা নিশ্চিত করবে সেজন্য চেকলিস্ট, রেকর্ডপত্র কিভাবে সংরক্ষণ করবেন সে বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা দেয়া হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক এম নাছিরুল হকের সভাপতিত্বে ও ক্যাব বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সংঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রেয়াজুল হক জসিম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবেশবিদ প্রফেসর ডঃ ইদ্রিস আলী, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু ও বন গবেষণাগার শারিরীক শিক্ষা কলেজের অধ্যাপক এবিএম হুমায়ুন কবির।

সভায় বক্তারা খামারিদের উৎপাদন থেকে ভোক্তার টেবিলে পরিবেশেন পর্যন্ত নিরাপদ খাবার নিশ্চিতের করনীয় বিষয়গুলো কঠোরভাবে অনুসরনের আহ্বান জানান।

প্রতিযোগিতামুলক বাজারে একজন খামারী যদি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদান নিশ্চিত করতে না পারে তাহলে সে অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতায় ঠিকতে পারবে না। আর উৎপাদনের কলাকৌশল প্রতিনিয়কই পরিবর্তন হচ্ছে। সেকারনে একজন উৎপাদককে কম খরচে উৎপাদনের বিষয়টি যেভাবে দেখতে হবে। একই সাথে পুষ্টিমান ও নিরাপদ পোল্ট্রি ভোক্তার কাছে যাচ্ছে কি না তাও নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এই পোল্ট্রির বাজার অন্যের হাতে চলে যাবে। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ সংক্রান্ত জ্ঞান আহরণ ও কলাকৌশলগুলি জানা আবশ্যক। পোল্টি খাবার ও বাচ্চায় আন্টিবায়েটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার বিষয়ে ভোক্তাদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে সার্টিফাইট পশু চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জসিম আরও বলেন, বায়ো সিকিউরিটি সমৃদ্ধ (কন্ট্রোল শেড) খামারে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন করলে অ্যান্টিবায়োটিকের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আর যত্রতত্র, অপরিস্কার, অপরিছন্ন স্থানে মুরগি জবাই করে ভোক্তার কাছে মুরগি সরবরাহ করার কারনে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ব্রয়লার মুরগি পৌঁছানো অনেকাংশে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাই স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ব্রয়লার মুরগি পেতে হলে ফ্রোজেন (প্রক্রিয়াজাতকৃত) মুরগির বিকল্প নেই।

আবার সুপারশপগুলিও তাদের ভেন্ডরদের মাধ্যমে যে সমস্ত উৎস থেকে মুরগি ক্রয় করে থাকেন, সেখানেও নিরাপদ উপায়ে পোল্ট্রি উৎপাদন হচ্ছে কি না তদারকি দরকার। তাই ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ব্রয়লার মুরগির মাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে উৎস স্থল পোল্ট্রি খামার থেকে গৃহিনীর রান্নায় পরিবেশন পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্যের অনুসরনীয় নিয়মাবলী কঠোর ভাবে মেনে চলার বিকল্প নেই।

এছাড়াও সুপার শপগুলিতে বায়োসিকিউরিটিযুক্ত, প্রাণীসম্পদ অফিসের সনদপ্রাপ্ত, যথাযথ মান পরীক্ষা নিশ্চিত করে বাজারজাতকৃত মুরগি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ড্রেসড(প্রক্রিয়াজাতকৃত) ব্রয়লার মুরগি বাজারজাতকরনে তদারকি জোরদার করতে হবে। কর্মশালায় ২০জন খামারী ও ১০জন স্থানীয় ক্যাব নেতৃবৃন্দসহ ৩৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২১ ৯:২৯ অপরাহ্ন
টাঙ্গাইল ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প
প্রাণিসম্পদ

টাঙ্গাইল ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পেইন  ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।গত শুক্রবার (১৮ জুন) টাঙ্গাইল জেলার আগবিক্রমহাটিতে সারাদিন ব্যাপী এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা  ডাঃ রানা মিয়া। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক কৃষি পদকপ্রাপ্ত বগুড়ার শেরপুরের ভেটেরিনারি সার্জন  ডাঃ রায়হান পিএএ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ভেটেরিনারি সার্জন  ডাঃ সালাউদ্দিন, সাভার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা  ডাঃ সাজেদুল ইসলাম, এনিম্যাল হেলথ কেয়ার এন্ড লিজেন্ড ফিডের সিইও  ডাঃ মোকাদ্দেস আলী ইমন, এস.এফ মেডিসিন এন্ড সার্ভিসেস এর স্বত্বাধিকারী  ডাঃ রেজাউল ইসলাম সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও TVSA সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।

ডাঃ মুহাম্মদ হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায় উক্ত সভার সভাপতিত্ব করেন TVSA এর সম্মানিত সভাপতি  নাঈম আল হাসান।

উক্ত  ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পেইন  মাধ্যমে প্রায় অর্ধশত প্রাণীর চিকিৎসা সেবা এবং প্রায় দুই শতাধিক ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। ভেটেরিনারি সেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ও সচেতনতা তৈরি করা TVSA এর অন্যতম লক্ষ্য।

দেশের বেকারত্বকে দূর করতে গবাদিপশু লালন-পালন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। আর দেশের সিংহভাগ প্রাণিজ আমিষ আসছে তৃণমূল পর্যায়ের গবাদি পশু থেকে। তাই এই বিষয়ে আমরা যদি আরো যত্নবান হই তাহলে আগামীতে আরো লাভবান হবো।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২১ ৭:৫৭ অপরাহ্ন
বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই দেশের মৎস্য খাতে সমৃদ্ধির সূচনা: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই দেশের মৎস্য খাতে সমৃদ্ধির সূচনা হয়েছে। 

শনিবার (১৯ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: ইলিশ উৎপাদনে গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ও জাটকা সুরক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মৎস্য খাতকে দেখেছিলেন দূরদৃষ্টি দিয়ে। স্বাধীনতাত্তোর তিনি বলেছিলেন ‘মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ।’ মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করার জন্য জলাশয়ে মৎস্য অবমুক্ত করা, মৎস্য চাষিদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া, সমুদ্রে মৎস্য আহরণের জন্য তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ১০টি ফিশিং ট্রলার সংগ্রহ, বাণিজ্যিকভাবে বঙ্গোপসাগর হতে মৎস্য আহরণের লক্ষ্যে মেরিন ফিশারিজ ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং মৎস্য জরিপ কাজ শুরু করা ছিল তাঁর অন্যতম দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পদক্ষেপ। তাই তিনি আমাদের পাথেয়, আমাদের আদর্শ, আমাদের দর্শন।”

মন্ত্রী আরো বলেন, “জাটকা সংরক্ষণে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য সরকার ভিজিএফ দিচ্ছে। পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, ভ্যান বিতরণসহ নানা উপকরণ দিয়ে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জাটকা ধরা বেআইনী। তবু শেখ হাসিনা সরকার কেউ অনিয়মের মধ্যে থাকলেও তাকে বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ভালোভাবে পুনর্বাসন করতে চায়। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি সৎ, সাহসী, পরিশ্রমী রাষ্ট্রনায়ক। মানুষের জন্য কল্যাণকর পদক্ষেপ শেখ হাসিনা যা নিতে পেরেছেন, তা অতীতে কেউ করেন নি।”

এসময় তিনি আরো যোগ করেন, “নানাভাবে সরকার মৎস্য খাতের বিকাশে সহযোগিতা করছে। এ খাতের বিকাশের জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। শুধু ঢাকায়ই নয়, দেশের যে যায়গায় প্রয়োজন সেখানে গবেষণা ইনস্টিটিউট করা হচ্ছে। এ খাতে যারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী তাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। যারা ফিড মিল বা অন্যান্য মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন করতে চান, তাদেরকে মেশিনারিজ আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে কর অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। বিদেশে মাছ রফতানির সুযোগ সৃষ্টির জন্য হাইকমিশন সহযোগিতা করছে। তবে এ খাতের বিকাশে সরকারের পাশাপাশি দেশের নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। তাদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, “বিএফআরআই-এর প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও মোহনা অঞ্চলে ইলিশ গবেষণার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন উন্নতমানের ভেসেল কেনা হয়েছে। এতে দেশের নদ-নদী এবং সাগর উপকূলে ইলিশ বিষয়ক গবেষণা পরিচালনা সম্ভব হবে। গবেষণালব্ধ ফলাফল ইলিশের সহনশীল উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে। বিএফআরআই এর গবেষণা থেকে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা ও নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখায় ইলিশের প্রজনন সফলতা এসেছে। সর্বশেষ ২০২০ সালে ২২ দিন নিষিদ্ধকালে ইলিশের প্রজনন হার ৫১ দশমিক ২ শতাংশ নিরূপন করা হয়েছে। গবেষণায় নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনে মৎস্য বিজ্ঞানীদের কাজ করতে হবে। গবেষণা হতে হবে মানুষের কল্যাণে, দেশের স্বার্থে।”

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআই-এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এবং প্রবন্ধের উপর আলোচনায় অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহা. ইয়ামিন হোসেন ও মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ মোঃ ইমদাদুল হক ও শ্যামল চন্দ্র কর্মকারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৎস্য অধিদপ্তরের প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, মৎস্য বিজ্ঞানী এবং মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২১ ৭:৩৩ অপরাহ্ন
১টি ছাগল দিয়ে শুরু করে এখন কোটিপতি রাসেল!
প্রাণিসম্পদ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান মো. রাসেল। একটি ছাগলে ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করে তিনি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। বর্তমানে তার খামারে ৫০টি ছাগল ও ২৭টি গরু রয়েছে। সবমিলিয়ে এখন তিনি কোটি টাকার মালিক।

গরু পালন, দুধ বিক্রি, গোবর, বায়োগ্যাস প্লান্ট, কেঁচো দিয়ে জৈবসার প্রস্তুত করে ১২ বছরে কোটিপতি বনে যান সফল এ উদ্যোক্তা। নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন ‘রাসেল ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বাবা আবদুল হালিম, মা, ভাই ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দেখভাল করেন এ খামার।

জানা যায়, ছোটবেলা থেকে ব্যাংকার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের চাপে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে পড়তে হয়েছে বিজ্ঞান বিভাগে। কিন্তু পড়াশুনা বেশিদূর আর এগোয়নি। ছাত্রজীবন থেকে বাবার কাছ থেকে নেওয়া ১০/২০ করে টাকা জমিয়ে শখের বশে ২০ হাজার টাকায় একটি ছাগল কেনেন তিনি। ওই ছাগল থেকে ৩টি বাচ্চা হয়। বাচ্চাগুলো বড় করে বিক্রি করেন এক লাখ টাকা। ব্যবসার এক লাখ ও জমানো আরও ১ লাখ টাকা দিয়ে একটি শংকর জাতের গাভী ও উন্নত জাতের দুইটি ছাগল কেনেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ১২ বছরেই কোটিপতি বনে যান সফল এই উদ্যোক্তা।

রাসেল ডেইরি ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, ৪০ শতাংশ জমির উপর খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। খামারে লোহার খাঁচায় সারি সারি বাঁধা রয়েছে বকনা গরু ও ছাগল।

সফল খামারি রাসেলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ২০১০ সালে ফিজিয়ান জাতের একটি গাভী থেকেই প্রজনন সম্প্রসারণ শুরু। বর্তমানে খামারে ২টি ষাঁড়, ১৫টি গাভী ও ১০টি বাছুরসহ ২৭টি গরু রয়েছে। বর্তমানে ১৫টি গাভী থেকে প্রতিদিন ১০০ লিটার দুধ পান তিনি। এছাড়া দেশীয় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল, দেশি মোরগ-মুরগি, কবুতর পালনও শুরু করেছেন তিনি।

খামারি রাসেল বলেন, খামারে বাছুর হলো লাভের অংশ। বছর শেষে ৪০টি বাচ্চা হয় সাধারণত। বাছুর থেকে বছরে আয় প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে খামারে তার দেড় কোটি টাকার গরু ও ছাগল রয়েছে। বোয়ার, তোতাপুরি, হারিয়ানা, বিটল, শিরহি ও যমুনাপারি নামের জাতের ছাগল রয়েছে। গরুর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় খরচ কমাতে কাঁচা ঘাসের কোনো বিকল্প নেই। খরচ সাশ্রয় হলে খামারি লাভবান হতে পারবে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন আহাম্মদ জানান, এ এলাকায় রাসেল বেকার যুবকদের একটা উদাহরণ। স্বল্প সময়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি খামারের পরিসর বাড়াতে পেরেছেন। আত্মপ্রত্যয়ী এই যুবকের খামার দেখে বেকারত্ব দূর করতে অন্যরাও এগিয়ে আসবে বলে মনে করেন এই জনপ্রতিনিধি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আইয়ুব মিঞাঁ রানা বলেন, রায়পুরের খামারি রাসেল গরু ও ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী। তার খামারের গবাদি পশুগুলোকে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। পশু লালন-পালনে তাকে নানা পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানালেন এই কর্মকর্তা। সূত্র:রাইজিংবিডি.কম

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop