৮:২৭ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১ ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
চাঁদপুরে আজ রাত থেকে ২ মাস ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে
প্রাণিসম্পদ

ইলিশ রক্ষায় আজ রোববার রাত ১২টা থেকে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনায় দুই মাস (মার্চ ও এপ্রিল) মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। অভয়াশ্রম ও জাটকা রক্ষা কার্যক্রম উপলক্ষে জেলেদের জন্য ওই দুই মাস ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী বলেন, আগামী দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধসহ জাটকা ধরা, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুত নিষিদ্ধ থাকবে। এই আইন অমান্য করলে নৌ পুলিশ, জেলা পুলিশ, কোস্টগার্ড ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। ইতিমধ্যে এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, পোস্টারিং ও ব্যানার লাগানো হয়েছে।

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা প্রথম কিস্তিতে ৪০ হাজার ৫টি মৎস্যজীবী পরিবারের জন্য দুই মাসের প্রতি মাসে ৪০ কেজি হিসাবে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছি। গত বছর এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৩৮ হাজার ৫টি মৎস্যজীবী পরিবারের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪০ মেট্রিক টন। এই চাল চাঁদপুর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় প্রশাসনের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছে।’

প্রথম আলো

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১ ৬:১৩ অপরাহ্ন
মেঘনায় দুই মাস সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ
মৎস্য

১ মার্চ থেকে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় দুই মাস সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সময় মাছ ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহনেও জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী মৎস্য অধিদপ্তর ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ইতোমধ্যেই দুই উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে প্রচার-প্রচারণা শুরু করা হয়েছে।

রামগতি উপজেলা মৎস্য দপ্তর জানায়, জাটকা রক্ষায় ও ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধিতে চাঁদপুরের ষাটনল হতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার নৌসীমাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে ওই অভয়াশ্রম এলাকায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস সকল প্রকার জাল ফেলা নিষিদ্ধের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

কমলনগর উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য জেলেপল্লিসহ মাছঘাট এলাকা এবং উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নানান ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। লিফলেট, পোস্টার ও মাইকের মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া মাছধরা প্রতিরোধের জন্য মোবাইলকোর্টও পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল কুদ্দুস জানান, নিষিদ্ধ সময় জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ওই সময় পুনর্বাসনের আওতায় জেলেরা খাদ্য সহায়তা পাবেন।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মৎস্য সংরক্ষণ বিষয়ক উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল মোমিন জানান, মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময়ে জেলে পরিবারের মধ্যে চার মাসের জন্য ৪০ কেজি করে চাল সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

কোস্টগার্ডের কমলনগর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার পেটি অফিসার খায়রুল বাসার জানান, সরকারি এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১ ১০:৪৬ অপরাহ্ন
মণিরামপুরে অস্ত্রের মুখে ঘেরে ৫ লাখ টাকার মাছ ছিনতাই
মৎস্য

যশোরের মণিরামপুরে ৩০ জনের একটি দল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি ঘের থেকে পাঁচটি নৌকাসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। একই সময়ে ঘেরে মালিক বলরাম রায় ও কর্মচারী সঞ্জিত কুমারকে মারধর করে। তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান স্থানীয়রা।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ঘের মালিক বলরাম রায়। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় চেয়ারম্যান বিপদ ভঞ্জন পাঁড়েসহ ঘেরের জমি মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলরাম রায় জানান, ৪৭২ জন জমি মালিকের কাছ থেকে জমি লীজ নিয়ে ১০ বছরের চুক্তিতে কেশবপুরের আব্দুস সামাদের সঙ্গে তিনি অংশীদার ভিত্তিতে বিলবোকড়ে মাছের ঘের করেন। কিন্তু চুক্তি মোতাবেক গত ৭ বছর ঘেরে মাছের চাষ করে কোন ভাগ দেয়নি তাকে। বিষয়টি জমি মালিকরা জানতে পেরে আব্দুস সামাদের উপর ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে গত বছর বাকি ৩ বছরের জন্য বলরাম রায়ের নামে ঘেরের চুক্তিনামা (ডিট) করে দেয় আব্দুস সামাদ।

তিনি আরো জানান, সে মোতাবেক জমিদাতাদের লীজের বকেয়া পাওনা বুঝে দেয় বলরাম। আগামী মাসের ৫ তারিখে চলতি বছরের লীজের টাকা দেয়ার কথা রয়েছে। এজন্য তিনি বৃহস্পতিবার ঘের মাছ ধরান। বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পোড়াডাঙ্গা গ্রামের মানিক দত্তের ছেলে বৈদ্যনাথ, কুচলিয়া গ্রামের গৌর মল্লিকের ছেলে গোবিন্দ মল্লিক, বালিদাহ গ্রামের আনিছুর রহমান, ও অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী গ্রামের মৃত হরেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের ছেলে অশোক বিশ্বাসসহ প্রায় ৩০ জন দুর্বৃত্ত ঘেরে আসেন এবং বলরাম রায় ও তার কর্মচারী সঞ্জিত কুমারকে মারপিট করে অস্ত্রের মুখে পাঁচটি নৌকাসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

বলরাম রায় জানান, এ ঘটনায় তিনি মণিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। তিনি জড়িতদের আটকের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মণিরামপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সোয়েব হোসেন জানান, ঘের নিয়ে দ্বন্দ্বে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি প্রশমন করা হয়েছে। আগামী ২ মার্চ উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে ডাকা হয়েছে।

এছাড়া খবর পেয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ জাকির হাসান পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তিনি জানান, ঘের নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরমে উঠায় খবর পেয়ে বিকেল ৩টার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে যান। এরপর তিনি উভয়পক্ষকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অনুরোধ করেন এবং বিবাদমান দুই পক্ষের কথা শোনার জন্য আগামী ২ মার্চ সকাল ১০ টায় ঘেরের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা পরিষদ হল রুমে আসতে বলেছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান বিপদ ভঞ্জন পাঁড়ে বলেন, আমি ঘেরের জমি মালিকদের লীজের টাকার জামিন্দার হই। ইতিমধ্যে বকেয়া পাওনা তার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি বছরের টাকা দেওয়ার আগেই প্রভাবশালী মহলের কুচক্রে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনিও জড়িতদের আটকের পাশাপাশি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ সময় রামপদ রায়, অনিমেষ মল্লিক, উজ্জ্বল বিশ্বাস, উপেন্দ্র নাথ রায়সহ একাধিক ঘেরের জমি মালিক জানান, তারা বলরামকে দেখেই জমি লীজ দিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে বিগত বছরের বকেয়া টাকাও তারা বুঝে পেয়েছেন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল মাছ ছিনতাই করে তাকে পথে বসানোর চেষ্টায় লিপ্ত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১ ৩:৩২ অপরাহ্ন
‘মাছ কপালে’ ওয়ালিউর, এবার শিকার ১৪ কেজির বোয়াল
মৎস্য

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুরের কালিদাসখালি গ্রামের জেলে ওয়ালিউর রহমান। তার ভাগ্য সুপ্রসন্নই বলতে হবে। একের পর এক বড় বড় মাছ ধরা দিচ্ছে এই জেলের জালে। গত রবিবার ৪০ কেজি বাঘাইড়, পরের দিন সোমবার ৯ কেজি রুই পাওয়ার পরে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ফের পদ্মা নদী থেকে ১৪ কেজি ওজনের বোয়াল মাছ তুলেছেন তিনি।

পদ্মাপাড়ের এই জেলে জানান, বুধবার রাতে জাল পেতে আসেন। পরের দিন সকাল ৮টার দিকে জাল তুলে দেখতে পেলেন ১৪ কেজি ওজনের বোয়াল। বোয়ালটি সাড়ে ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি।

এবারো তার মাছ কিনেছেন চকরাজাপুর চরের মাছ ব্যবসায়ী করম আলী। তিনি বলেন, ওয়ালিউরের মাছটি আমি কিনেছি। ১৪ কেজি ওজনের বোয়াল। দাম পড়েছে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। বড় বড় মাছ কিনে সেগুলো ঈশ্বরদী, লালপুর, রাজশাহীর বড় বাজারগুলোতে বিক্রি করি। ভালো দাম পাওয়া যায়। এর আগে আমি ওয়ালিউরের ৪০ কেজি বাঘাইড়সহ বেশ কয়েকটি বড় মাছ কিনেছিলাম।

বিগত ১০ দিনে ৪০ কেজির বাঘাইড়, ৯ কেজি রুই, ৭৪ কেজি ওজনের ৫ টি বাঘাইড়, ২৬ কেজি ওজনের বাঘাইড়সহ প্রায় দেড়শো কেজির মত বড় মাছ উঠেছে ওয়ালিউরের জালে। এ ব্যাপারটি নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে কৌতূহল জাগ্রত হয়েছে। সেই মাছগুলো দেখতে ভিড় জমিয়েছেন এলাকার কৌতূহলী মানুষ।

সর্বশেষ ১৪ কেজির বোয়াল তুলে কৌতূহল যেন বাড়িয়ে দিলেন তিনি। এর আগে ওয়ালিউরের জালে ওঠা মাছগুলো বিক্রি করে প্রায় সোয়া লাখ টাকা আয় করেছেন। হিসেবের খাতায় এবার আরও সাড়ে ১৩ হাজার টাকা যোগ হলো।

ওয়ালিউর বলেন, ‘এটা আমার জন্য আনন্দের। আল্লাহ মুখ তুলে চাইছেন।’ চর এলাকা কালিদাশখালি গ্রামের ইউসুফ আলী দেওয়ানের ছেলে ওয়ালিউর রহমান মৌসুমে পদ্মা নদীতে মাছ শিকার ও দুর্গম পদ্মার চরে মোটরবাইকে যাত্রী বহন করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১ ২:৩৬ অপরাহ্ন
লাকসাম ডাকাতিয়া নদীতে মাছ শিকারের মহোৎসব
মৎস্য

পানি কমার সাথে সাথে কুমিল্লার লাকসাম অঞ্চলে ডাকাতিয়া নদীতে মাছ শিকারের চলছে মহোৎসব।নদীটির লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট অংশে দলে দলে মানুষ মাছ ধরছে। মৎস্য শিকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার তারাপাইয়া, সাতবাড়িয়া ও ইছাপুরা এলাকায় ডাকাতিয়া নদীতে শতাধিক মানুষ মাছ ধরার মহোৎসবে অংশগ্রহণ করে। মাছ ধরার এমন দৃশ্য সকলের নজর কেঁড়েছে। কারও হাতে পলো, কারও হাতে চাবিজাল, খেয়াজাল, টানাজাল বা ছেঁকাজাল।

নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা জানায়, ‘একসময় ডাকাতিয়া নদীতে পুরো বছর বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় সুস্বাদু মাছ পাওয়া যেত। কালের বিবর্তনে নদীটি সংকুচিত হওয়ায় এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায়না।’ চলতি শীত মৌসুমেই নদীটির বিভিন্ন স্থান শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটু বা কোমর সমান পানি। তেমনি লাকসামের তারাপাইয়া, সাতবাড়িয়া ও ইছাপুরা এলাকাতেও একই অবস্থা বিরাজমান।

‘মাছ পাওয়া থেকেও উৎসবে অংশ নেয়াটাই ছিল বেশি আনন্দের,’ জানালেন কয়েকজন মৎস্য শিকারী। যাদের মাছ ধরার সরঞ্জাম ছিলনা তারাও নদীতে নেমে উৎসবে অংশ নেয়। তাদেরকে খালি হাত দিয়েই কাদার মধ্যে মাছ খুঁজতে দেখা যায়। মাছ ধরা শেষে মৎস্য শিকারীদের উল্লসিত দেখা গেছে।

লাকসাম পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক মো. আবুল খায়ের বলেন, ‘বৃহত্তর লাকসামের ঐতিহ্য ডাকাতিয়া নদী। ডাকাতিয়ার পানি সেচ কাজে ব্যবহৃত হয়। এ নদীতে যে মাছ পাওয়া যায় তা খুবই সুস্বাদু।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২১ ৯:৫২ পূর্বাহ্ন
এক জালে চার লাখ টাকার মাছ, লাখপতি জেলে
মৎস্য

বন বিভাগের পাস নিয়ে বনের ভেতর গয়সা নৌকা নিয়ে জাল পেতে মাছ ধরা জেলে আব্দুর রহিমের বহু বছরের পেশা। বাড়ি সাতক্ষীরা ঝেরার শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নে। তিনি মাছ ধরেন সুন্দরবনের ভেতরের বিভিন্ন নদীতে। ভাগ্যের চাকা ঘুরতে যে জায়গামতো একবার জাল ফেলাই যথেষ্ট! সেই ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার বিকেলে। মালঞ্চ নদীতে একবার জাল ফেলে লাখপতি হয়ে গেছেন তিনি।

আব্দুর রহিম বলেন, আমি বহুদিন ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে জাল পেতে মাছ ধরে আসছি। এবারও বনবিভাগের কাছ থেকে পাস নিয়ে কয়েকবার সুন্দরবন গিয়েছি। কিন্তু, সেইভাবে মাছ পাইনি। তবে এবার আল্লাহ আমার কপাল খুলে দিয়েছেন। আমার জালে এত মাছ কোনোদিন আটকা পড়েনি। আমি ৮ থেকে ৯ কেজি ওজনের শখানেক মাছ একবারে পেয়েছি।

বুধবার সকালে আব্দুর রহিম তার মাছগুলো নিয়ে আসেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ী মৎস্য বাজারে। এখানে গাবুরা ফিশ আড়তের মালিক মাছগুলো কিনে নেন।

আড়তের ম্যানেজার জানান, এগুলো ছিল বড় সাইজের মেদ মাছ। প্রতিটি মাছের ওজন ছিল ৮ থেকে ৯ কেজি। মাছগুলো ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে।চার লাখ সাত হাজার টাকা জেলে আব্দুর রহিম মাছগুলোর দাম হিসেবে পেয়েছেন বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২১ ৭:২২ অপরাহ্ন
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার!
মৎস্য

সুন্দরবন থেকে হারিয়ে গেছে ১ প্রজাতির বন্যমহিষ, ২ প্রজাতির হরিণ, ২ প্রজাতির গণ্ডার এবং ১ প্রজাতির পানির কুমির। অথচ সুন্দরবনের ভেতরে দিয়ে প্রবাহিত ছোট বড় ৪৫০টি নদ-নদী ও খালে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির ইরাবতীসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন,২১০ প্রজাতির সাদা মাছ,২৪ প্রজাতির চিংড়ি,১৪ প্রজাতির কাঁকড়া,৪৩ প্রজাতির মলাস্কা ও ১ প্রজাতির লবস্টার।

করোনাকালে গতবছর ২৬ মার্চ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত গোটা সুন্দরবনে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করে পর্যটক,জেলে-বনজীবীদের সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বন বিভাগ।

এ নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যেও একশ্রেণির জেলে বৈধ-অবৈধ পথে সুন্দরবনে ঢুকে অল্প সময়ের মধ্যে বেশি পরিমাণ মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে খালের পানিতে বিষ দিয়ে মাছ আহরণ করে আসছে। এরকম একজন জেলে জানিয়েছে, একটি খালের মাছ মারার জন্য প্রশাসনকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা দিতে হয়।

ওদিকে,গত ছয় মাসে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে বিষ দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ করার সময় ১০ ‘বিষসন্ত্রাসী’কে গ্রেফতারও করেছে বন বিভাগ। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি তারা বনের খাল ও নদীতে পাহারা বৃদ্ধি ছাড়াও স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছেন।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে চারটি রেঞ্জের ১৮টি রাজস্ব অফিস এবং টহল ফাঁড়িগুলোয় জনবলের সংখ্যা মাত্র ৮৮৯। এর মধ্যে কেবল পূর্ব বিভাগেই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। এরকম অপ্রতুল জনবল দিয়ে সুন্দরবন রক্ষায় বন বিভাগকে তৎপরতা চালাতে হচ্ছে। ফলে সকল নদী-খালে সার্বক্ষণিক নজরদারি করাও সম্ভব হচ্ছে না।

পরিবেশবাদিরা বলছেন, খালে বিষ দিয়ে মাছ আহরণের ফলে সুন্দরবনের ছোট বড় সব প্রজাতির মাছ মারা যাওয়ার পাশাপাশি মারা পড়ছে রপ্তানিপণ্য বিশ্বখ্যাত শিলা কাঁকড়াসহ অন্যসব জলজপ্রাণী। খালের পানিতে মিশ্রিত বিষ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার কারণে সেসব এলাকার জীববৈচিত্র্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২১ ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
সারা বিশ্বে এক-তৃতীয়াংশ প্রজাতির মাছ বিপন্ন হওয়ার মুখে !
মৎস্য

সারা বিশ্বে মাছের সংখ্যায় বিপর্যয় ঘটেছে এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রজাতির মাছ এখন বিপন্ন হওয়ার মুখে। বিশ্বে মিঠা পানির মাছের ওপর এক রিপোর্ট বলছে এই তথ্য। পরিবেশবাদী গ্রুপগুলো বলছে, ৮০টি প্রজাতি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে গত এক বছরের মধ্যে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ৫০ বছরে মাছের সংখ্যাও কমেছে এক তৃতীয়াংশ। আর একই সময়ে ‘মেগা ফিশ’ নামে পরিচিত বড় জাতের মাছের সংখ্যা কমেছে শতকরা ৯৪ ভাগ।

বিশ্বে কোটি কোটি মানুষের খাদ্য মিঠা পানির মাছ এবং এই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন আরও বহু লোক। এখন পরিবেশ দূষণ, নির্বিচার শিকার, নদীতে বাঁধ নির্মাণ এবং জলাভূমি বিনষ্ট হওয়ার ফলে মাছের প্রজাতিতে ধস নেমেছে।

ডাব্লিউডাব্লিউএফ, লন্ডন জুলজিক্যাল সোসাইটি, গ্লোবাল ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশনসহ ১৬টি পরিবেশবাদী সংগঠন মিলে ‘দ্যা ওয়ার্ল্ডস ফরগটেন ফিশ’ নামে এই রিপোর্টটি তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের কৃষি তথ্য সার্ভিস এইআইএস-এর হিসাব অনুযায়ী, দেশে বিলুপ্ত প্রায় মিঠা পানির মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৬৪টি। ট্যাংরা, মহাশোল, সরপুঁটি, টাটকিনি, বাগাড়, রিঠা, পাঙাশ আর চিতল মাছের প্রজাতিগুলো চরম হুমকিতে রয়েছে।

গত কয়েক দশক ধরে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলাশয়গুলোর আয়তনে সংকোচন, নদী বা জলাশয়ের পানির অপরিমিত ব্যবহার, কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশকের দ্বারা পানির দূষণ এবং মাত্রাতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের সংখ্যা কমছে।

তবে গত এক দশকে কৃষিপণ্য হিসেবে মাছের উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ‘প্রায় বিলুপ্তি’র মুখ থেকে ফিরে এসেছে এমন দেশি মাছের সংখ্যাও এখন বাড়ছে বলে কৃষি বিভাগ দাবি করছে।

পরিবেশ গ্রুপগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপেও মিঠা পানির মাছ কমছে উদ্বেগজনক হারে। স্টার্জন, বার্বট ইত্যাদি মাছ ব্রিটেনের মিঠাপানি থেকে একেবারে হারিয়ে গেছে। ইউরোপিয়ান ঈল বিলুপ্ত হওয়ার মুখে রয়েছে।

পরিবেশবাদী সংস্থা ডাব্লিউডাব্লিউএফ মিঠা পানির মাছের সংখ্যা কমার পেছনে নদীর বেহাল দশা, দূষণ, বাঁধ নির্মাণ এবং পয়োনিষ্কাশনকে দায়ী করেছে।

বাংলাদেশে মিঠা পানির মোট প্রজাতি সংখ্যা ২৬০টি। এর মধ্যে ছোট মাছ রয়েছে ১৪৩টি। দেশে যে পরিমাণ মৎস্য উৎপাদিত হয় তার মধ্যে ছোট মাছের অবদান শতকরা ৩০ ভাগ।

ডাব্লিউডাব্লিউএফ বিশ্বের সরকারগুলোকে পরামর্শ দিচ্ছে, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ ও পরিবেশ-রক্ষা আইনকে জোরদার করে মাছের সংখ্যাবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে।

এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ডেভ টিকনার বলছেন, সারা বিশ্বে মিঠা পানির আবাসস্থলে বহু প্রজাতির মাছ থাকে। কিন্তু এই রিপোর্টে দেখা গেছে যে, তাদের সংখ্যা বিপজ্জনক হারে কমছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা দা নেচার কনসারভেন্সির কর্মকর্তা কারমেন রেভেঙ্গা বলেন, বহু বৈচিত্র্যের মিঠা পানির মাছ শুধু নদী কিংবা জলাশয়ের জন্যই প্রয়োজনীয় নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষ, বিশেষভাবে যারা দরিদ্র, খাদ্য ও জীবিকার জন্য এই মাছের ওপর নির্ভরশীল। এখন যা জরুরি তা হলো আমাদের একসাথে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রকাশ দেখাতে হবে এবং সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং সাধারণ মানুষকে নিয়ে মিঠা পানির মাছ রক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। -বিবিসি বাংলা

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২১ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
পুকুরে কীটনাশক প্রয়োগে মাছের মৃত্যু!
মৎস্য

গাজীপুরের কালীগঞ্জে পুকুরে কীটনাশক প্রয়োগে লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গভীর রাতে দেড়টার দিকে ২টি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জেলেদের খবর দিয়ে মাছগুলো এক সঙ্গে করে মাটির পুঁতে রাখেন তারা।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ দুই পুকুর মালিক।

দুই পুকুর মালিক সহোদর হলেন— শুক্কুর আলী (৯৫) ও আমিনুল ইসলাম পালোয়ান (৫৫)। তারা কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের মৃত বদরুজ্জামান পালোয়ানের ছেলে।

ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে তাদের বাড়ির পাশের দুটি পুকুরে কে বা কারা কীটনাশক প্রয়োগ করে। সকালে পুকুরে মাছ ভাসতে দেখে প্রথমে মাছের রোগ হয়েছে ভেবে বিষয়টি আমলে নেননি তারা। পরে একে একে ভেসে ওঠে পুকুরে চাষ করা রুই, কাতল, মৃগেল সিলভার কার্প, তেলাপিয়া, শরপুঁটিসহ সকল প্রকার দেশি মাছ। তবে এ ব্যাপারে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে আইনের আশ্রয় নেননি তারা।

তারা বলেন, ‘আসলে বিষ প্রয়োগ করতে আমরা কাউকে দেখিনি। এখন যদি কাউকে সন্দেহ করে অভিযোগ করি তাহলে হয়তো কিছু মানুষ শুধু শুধু ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাই এই কাজের বিচার আল্লাহ করবে। মানুষের সঙ্গে মানুষের শত্রুতা থাকতে পারে ঠিক আছে। কিন্তু পুকুরের মাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা?’

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এককেএম মিজানুল হক জানান, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের মৃত বদরুজ্জামান পালোয়ানের ছেলে পুকুর মালিক শুক্কুর আলী ও আমিনুল ইসলাম তাদের বাড়ির পাশের পশ্চিম ও উত্তরের দুটি পুকুরের প্রায় দেড় বিঘার নিজস্ব জমিতে ১ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করে আসছেন। মাছগুলো কিছু দিন পরেই তিনি বিক্রি করতেন। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে কে বা কারা পুকুরে কীটনাশক প্রয়োগ করে চলে যায়। পরে সকাল থেকে দিনব্যাপী সব মাছ মরে ভেসে ওঠে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২১ ১২:১২ পূর্বাহ্ন
মানিকগঞ্জে গাজর চাষে বাম্পার ফলন
এগ্রিবিজনেস

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় গাজর চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন মানিকগঞ্জের গাজর চাষিরা। এছাড়া বাজারে পাচ্ছেন গাজরের ভালো দাম।

উপজেলার কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবারের মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে গাজরের চাষ করেছেন চাষিরা। মাটি ও জলবায়ু গাজর চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলন ভালো পেয়েছেন কৃষকরা। কৃষি অফিস থেকে চাষিদের সকল ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

উপজেলার কৃষি অফিসার টিপু সুলতান বলেন, লাভজনক হওয়ায় এ উপজেলার কৃষকরা গাজর চাষে ঝুঁকছেন। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের সকল ধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

কৃষক আবুল কালাম বলেন, একই জমিতে অন্য সবজির জায়গায় গাজর চাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যায়। এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া গাজর চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এবারও ফলন ভালো হওয়ায় পাশাপাশি দামও ভালো পেয়েছি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop