৮:১৪ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : নভেম্বর ২, ২০২১ ২:৪০ অপরাহ্ন
সাতক্ষীরায় আমন ধান চাষে বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

সাতক্ষীরায় আমন ধান চাষে লাভবান হয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ও জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় আমন ধানের চাষ করে বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা। মাত্র ১১০ দিনের ব্যবধানে বিঘাপ্রতি ২৫ মন ধান পেয়ে বেশ খুশি সাতক্ষীরার চাষিরা। ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে আরও বেশি আমনের চাষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আমন ধানের চাষ করতে আমাদের সময় লাগে ১৫০-১৬০ দিন। আর মাত্র ১১০ দিনে বিনা-১৭ জাতের ধান পেয়েও আমরা সরিষা ও মুগ, খেসারি আলু চাষের সময় ও সুযোগ পেয়েছি। এরপর একই জমিতে আউশ ধান লাগিয়ে আমরা লাভবান হয়েছি।

কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উচ্চ ফলনশীল এই জাতের ধান গাছের প্রতিটি ছড়ায় গড়ে ২৫০ থেকে ২৬০টি ধান থাকে এবং তা ঝরে যায় না। বিনা-১৭ জাতের ধান চাষে ৪০ শতাংশ পানি কম লাগে। একইভাবে ইউরিয়া সারও লাগে ৩০ শতাংশ কম। একইসঙ্গে ধানগাছ গুলো সব সময় খাড়া থাকে।

আরেক কৃষক সাঈদ জানান, এই জাতের ধান অন্যান্য জাতের ধানের তুলনায় বিনা-১৭ জাতে অনেক বেশি ফলন পেয়েছি। জলাবদ্ধতার শিকার সাতক্ষীরায় পাটচাষের পরই বিনা ধানসহ মোট চারটি ফসল ঘরে তুলবার সময় পেয়েছি আমরা। আগামীতে আরও বেশি জমিতে এই জাতের ধান চাষ করার ইচ্ছা আছে তার।

সাতক্ষীরার পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বাবুল আক্তার বলেন, এবারের মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলার ১৫০ জন চাষি বিনা ১৭ জাতের ধান চাষ করেছেন দেড় হাজার একর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার কৃষকরা এই জাতের ধানের ভালো ফলন পেয়েছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২, ২০২১ ২:২২ অপরাহ্ন
কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন কৃষিমন্ত্রী-শীর্ষ ব্যবসায়ীগণ
কৃষি বিভাগ

ইউরোপের বাজারে কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য (ইউকে) ও নেদারল্যান্ড সফরে যাচ্ছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীসহ ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত বরার্ট চ্যাটারসন ডিকশনের সঙ্গে বৈঠকের পর কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এক সময় খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। এখন আমাদের প্রধান খাদ্য ভাতে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের শাক-সবজি ফলমূল, তেল-ডাল, পেঁয়াজ সব কিছুরই উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা এখন চিন্তা করছি কৃষকের আয় কিভাবে বাড়ানো যায়। সেটি করতে হলে আমাদের বাণিজ্যিক কৃষিতে যেতে হবে। বাণিজ্যিক কৃষিতে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় তুলনামূলকভাবে কম।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শাক-সবজি ও ফলমূলের উৎপাদন বেড়েছে তাই এগুলো রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। আমরা কিছু কিছু রপ্তানি করি যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে, সেখানে বাঙালি যারা কাজ করে তাদের জন্য। আমরা চাচ্ছি ইউরোপীয় দেশে উন্নত দেশের মূল মার্কেটে যাওয়ার জন্য।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এজন্য আমার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে (ইউকে) যাচ্ছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, ফ্রেস গ্রুপের মোস্তফা কামাল, এসিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এফ এইচ আনসারী এবং বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবল অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রতিনিধিদলে থাকছেন। লিডিং বিজনেস হাউজগুলোর প্রায় সবাই যাচ্ছেন।’

এছাড়া প্রতিনিধিদলে সরকারি কর্মকর্তারা থাকবেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি আগামী ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত দুটি দেশ সফর করবে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এই সফরের বিষয়ে…ইউকেতে আমরা কোন ধরনের কর্মসূচি করবো, কাদের সঙ্গে দেখা করবো… আমরা চাচ্ছি বড় বড় কোম্পানির সিওদের সঙ্গে, পরিবেশ ও কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এবং তাদের সঙ্গে একটা লিংকেজ সৃষ্টি করতে। যাতে আমরা রপ্তানি বাড়াতে পারবো।’

‘এটা নিয়ে আলোচনা (রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে) করেছি, উনি আমাদের সহযোগিতা করবেন। যাতে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে রপ্তানি করতে পারি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি রপ্তানি বাড়াতে পারি, তবে আমাদের কৃষকদের আয়ও বাড়বে। স্থানীয় বাজারেও মানুষের কেনার ক্ষমতা বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘পোল্ট্রি বা দুধ একটু বেশি উপাদন হলেই আর বেচতে পারে না। ডিমেও এই রকম। মানুষের আয় বাড়া দরকার। এটা কোনভাবেই স্থানীয় মার্কেটে হবে না। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড যেভাবে…ভিয়েতনাম ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় করে শুধু কৃষিপণ্য রপ্তানি করে।’

‘মানের বিষয়েও আমরা যাচ্ছি। ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ডের ক্ষেত্রে কী কী রিকয়ারমেন্ট, গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিসেস, অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবের সার্টিফিকেট। মানুষের নিরাপদ খাদ্য খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। আমরা কিভাবে নিরাপদ খাদ্য দিতে পারি, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’

বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের কারিগরি সহযোগিতা চায় জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা চাই। ফান্ডিং সাপোর্ট এখন চাচ্ছি না। ইনশাআল্লাহ আমাদের ফান্ড আছে। এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিও আমরা সেটআপ করতে পারবো। কিন্তু কারিগরি সহযোগিতা দরকার। এই ব্যাপারেই সহযোগিতা চেয়েছি। সে আমাদের বলেছে, কারিগরি ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা তারা দেবেন।’

‘পূর্বাচলে একটি প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ২ একর জমি দিয়েছেন। সেখানে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব করবো, যেখান থেকে আমাদের কৃষিপণ্য সার্টিফাইড করা হবে। সেখানে প্যাকেজিং করে বিভিন্ন পণ্যের জন্য আলাদা আলাদা কোল্ড স্টোরেজ থাকবে। সেখানে থেকে পণ্য এয়াপোর্টে চলে যাবে। এজন্য তাদের ল্যাবগুলো দেখার জন্য যাচ্ছি এবং লিংকেজ করা, আমরাও কিভাবে করতে পারি।’

জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী গতকাল তাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। সেগুলো নিয়েও কিছু বলেছেন যে, বাংলাদেশের একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে। ৪৯টি দেশের লিডার হিসেবে বাংলাদেশ কাজ করছে। আমরা প্রশংসা করি, এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য যেভাবে কপ২৬ আয়োজন করেছে। গ্লোবাল লেভেল পার্টিসিপেশন ভালো। ভালো আলোচনা হচ্ছে। আমরা আশা করি, একটা ভালো ফলাফল  পাবো।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২, ২০২১ ৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
সবজি চাষে ব্যস্ত সুনামগঞ্জের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

সুনামগঞ্জের সদর উপজেলা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাজারের চাহিদা বিবেচনায় রেখে একটু বেশি লাভের আশায় সবজিতে স্বপ্ন বুনছেন দুই উপজেলার কৃষকরা।

এরই মধ্যে কৃষকরা লাল শাক, লাউ, বেগুন, শিম, মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও শসাসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ শুরু করেছেন। আর তিন থেকে চার সপ্তাহ পর এসব সবজি বাজারজাত করবেন এমনটাই আশা এখানকার কৃষকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষেত থেকে উঠবে শীতকালীন শাক-সবজি। বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে এমনটাই স্বপ্ন কৃষকদের।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে সুনামগঞ্জে ১১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে সকল ধরনের সবজি চাষ করছেন কৃষকরা।

এছাড়াও সুনামগঞ্জে সবজি এলাকা হিসেবে বিখ্যাত দুটি উপজেলায় বেশি সবজি চাষ করা হয়। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর, বাঘমাড়া, কুনারগাঁও, নলুয়া, বেরীগাঁও, ঝরঝরিয়া, মঙ্গলকাটা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সুলেকাবাদ, পলাশ, জিনারপুর, মাজাইগাও গ্রামে বেশি শীতকালীন সবজি আবাদ করা হয়।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মাজাইরগাঁও গ্রামের কৃষক শাহ আলম জানান, আমি প্রতি বছর শীতকালীন শসা, টমেটো সবজি চাষ করি এবং বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারি। এই বছর ৮ একর জমিতে শসা ও টমেটোর ক্ষেত করেছি যদি ফলন ভালো হয় তাহলে আশা করি গত বছরের তুলনায় এই বছর বেশি লাভবান হবো।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষক আলাউর মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে লাউ শাক চাষ করেছি। শাকের ফলন খুব ভালো হয়েছে। কিছুদিন পর এই লাউ শাক বিক্রি করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হবে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলর কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক হেলাল মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, শীতের শুরুতে শীতকালীন সবজি বাজারে তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যায়। পাশাপাশি বাজারে চাহিদা থাকার কারণে তিনি এবছর শীতকালীন সবজি হিসেবে লাউ, শিম ও বেগুনের চাষ করেছেন। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহরে মধ্যে এসব আগাম সবজি বাজারে বিক্রি করতে পারবেন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাঘমাড়া গ্রামের কৃষক আলী হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, প্রতি বছর শীতের শুরুতে বাজারে নতুন সবজি তুলে আমি বিক্রি করি। এই বছর বেগুন আর শিম চাষ করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে ও বাজারে সবজির চাহিদা থাকলে আশা করি এই সবজি থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফরিদুল হাসান  বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হবে। পাশাপাশি শীতের শুরুতে শীতকালীন সবজি বাজারে এলে কৃষকরা ভালো দাম ভালো পাবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ১, ২০২১ ৭:৩১ অপরাহ্ন
বরিশালে অমৌসুমি ফলের আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে অমৌসুমি ফলের আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রহমতপুরে আরএআরএস’র হলরুমে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বাবুল চন্দ্র সরকার।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (আরএআরএস) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়া।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইকবাল ফারুক, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রফিকুল ইসলাম, এসএসও ড. মো. কফিল উদ্দিন, এসএসও ড. মো. আনওয়ারুল মোনিম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমান, এসও অঞ্জন কুমার দাস, এসও মো. মাহবুবুর রহমান, এসও স্মৃতি হাসনা প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৫২ লাখ টন ফল উৎপন্ন হয়। এর শতকরা ৫৪ ভাগ বছরের ৪ মাসে এবং বাকি ৪৬ ভাগ আবাদ হয় বাকি ৮ মাসে। এই উৎপাদিত ফল আমাদের চাহিদা পূরণে সক্ষম নয়। তাই বিদেশী ফল রফতানি করতে হচ্ছে। অথচ মৌসুমি ফলের পাশাপাশি অমৌসুমি ফলের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ সম্ভব। প্রশিক্ষণে ৩০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ১, ২০২১ ১:০৭ অপরাহ্ন
ভোলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাক-সবজির আবাদ
কৃষি বিভাগ

ভোলা জেলায় চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাক-সবজির আবাদ হচ্ছে। চলতি মাসের ১৫ অক্টোবর থেকে আবাদ শুরু হয়ে আগামী বছরের মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। ইতোমধ্যে ৩ হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত জমি থেকে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৪৫ মেট্রিকটন শাক-সবজির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে।

এছাড়া নিরাপদ ও পুষ্টিকর সবজি উৎপাদনে ভার্মি কম্পোস্ট ও জৈব সার ব্যবহারের জন্য বলা হচ্ছে কৃষকদের। ফলে রাসয়নিক সারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে সবজি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো: হুমায়ুন কবির জানান, গতছর শীতকালীন শাক-সবজির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে ১৮ মেট্রিকটন করে। আর এবছর ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ২১ মেট্রিকটন করে। অনেক কৃষক আগাম শাক-সবজি চাষ করছেন, যা ইতোমধ্যে ফলন চলে এসেছে। কেউ কেউ বাজারে বিক্রিও করছেন। প্রথম দিকের সবজি হওয়াতে দামও ভালো পাচ্ছেন তারা।

এসব সবজির মধ্যে লাল শাক, টমেটো, মূলা, ক্যাপসিক্যাম, ফুল কপি, বাঁধা কপি, বেগুন, লাউ, শিম, ধনে পাতা, পালং শাক ইত্যাদি রয়েছে। বিশেষ করে জেলার বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন চরাঞ্চলে প্রতিবছরই প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়ে আসছে। এসব চরে ক্যাপসিক্যম, স্টবেরি, করলা, রেখা চিচিঙ্গার আবাদ বেশি হচ্ছে।

উপজেলা সদরের শীবপুর ইউনিয়নের চালতাতুলী এলাকার কৃষক মনিরুল ইসলাম, জোবায়ের হাসান ও ফজলে করিম বলেন, তারা ৪ একর জমিতে লাউ, করলা, ফুল কপি ও লাল শাকের চাষ করছেন। মাঠে ফসলের অবস্থা বেশ ভালো। পোকা মাকড়ের তেমন উপদ্রব নেই। স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের পরামর্শ পাচ্ছেন বলে জানান তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মো: এনায়েতউল্লাহ বলেন, এ জেলায় প্রতিবছরই ব্যাপক পরিমান জমিতে শীতকালীন শাক-সবজির চাষ করা হয়। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে গত কয়েকবছর ধরে ক্যাপসিক্যাম চাষ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এবছর বিভিন্ন প্রর্দশনীর আওতায় এক বিঘা জমির অনুকূলে ২ শাতাধিক প্রর্দশনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা কৃষকদের বিষমুক্ত ও নিরাপদ সবজি উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি সব ধরনের পরামর্শ সেবা প্রদান অব্যাহত রখেছি। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুক’লে থাকলে এখানে সবজির বাম্পার ফলনের আশা প্রকাশ করেন জেলার কৃষি বিভাগের প্রধান এ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ১, ২০২১ ৯:২৪ পূর্বাহ্ন
সুপারী উৎপাদনে উপযোগী লক্ষ্মীপুর
কৃষি বিভাগ

সুপারী উৎপাদনের উপযোগী ভূমি উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর। জেলার প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতে বিস্তৃত ভূমি জুড়ে রয়েছে সুপারী বাগান।

প্রতি মৌসুমে সুপারী বিক্রীর আয়ে এখানকার এক একটি পরিবার ব্যাপক লাভবান হয়ে থাকে। পরিবারের বাৎসরিক খরচের উল্লেখযোগ্য অংশের যোগান আসে সুপারী বিক্রীর টাকায়। তিন রকমভাবে এখানে সুপারী বেচা-বিক্রী হয়ে থাকে।

মৌসুমের শুরুতে গাছের লাল সুপারী প্রথমবার রাঙিয়ে তোলে গৃহস্থের মন। রঙিন সুপারীতে একরকম দাম পাওয়া যায়। এরপর জাগ দিয়ে ভেজানো সুপারী মৌসুম শেষে আরেকটু চড়া দামে বিক্রী করা যায়।

এছাড়া সুপারী শুকিয়ে মজুদ রেখে কয়েকমাস পরে ছোবড়া ছিলেও বিক্রী করা হয়। বলতে গেলে এক মৌসুমের সুপারী ধাপে ধাপে বিভিন্ন পদ্ধতিতে সারাবছরই সুযোগমতো বিক্রী করে বাগান মালিকরা বাড়তি উপার্জন করে থাকে।

এ জেলার মানুষ পান এর সাথে সুপারী খেয়ে থাকে। পান ছাড়া আর কোন ভাবে সুপারীর ব্যবহার হয়না এখানে। পরিবারগুলোতে বছরজুড়ে পানের রসদ হিসেবে সুপারী আন্দাজমত মজুদ রেখে উৎপাদিত আর সব সুপারী বিক্রী করে নগদ টাকা আয় করে থাকে। সুপারীতে ভাল আয় থাকায় বাগানের উপযুক্ত পরিচর্যাও করে থাকে বাগান মালিকরা।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে চাষের বিপরীতে চলতি বছর সুপারি উৎপাদন হবে ১৭ হাজার মেট্রিকটন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা।

এখানকার উৎপাদিত সুপারি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে যাবার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও যাচ্ছে। করোনার এই ক্রান্তিকালে সুপারির বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে সুপারির বাগান মালিকদের মুখে।

সুপারীর উন্নয়নে সুষ্ঠু পরিকল্পনা নেয়া গেলে আগামীতে ফলন আরো বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৩১, ২০২১ ১১:৩৭ অপরাহ্ন
৫০০ টাকার লোভে সেজেছে কৃষক!
কৃষি বিভাগ

প্রতি কৃষককে ২শ গ্রাম করে পাটবীজ দেওয়া হয়েছে প্রায় দেড় মাস আগে। আর দেড় মাস পর সেই পাট বীজ জমিতে ফেলে কীভাবে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন করা যাবে সেই কায়দা শেখানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো আজ রবিবার সকাল ১০টার দিকে। এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে উপজেলা পাঠ উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়।

আজ সকাল ১১টার দিকে প্রশিক্ষণস্থল উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেখানে কৃষকের বেশে অনেকেই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। প্রশিক্ষণ গ্রহীতার তালিকায় উপজেলার সরকারি কার্যালয়ের অফিস সহায়কের নামও রয়েছেন।

উপজেলা পর্যায়ের একটি সরকারি কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো.জামাল উদ্দিন ও আবু বক্কর সিদ্দিকের নামও প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের তালিকায় রয়েছে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জামাল উদ্দিন জানান, তিনি ময়মনসিংহ সদরের দাপুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। নান্দাইলে চাকরি করেন। তিনি পাট বীজ পাননি। তবে তার নামটি একদিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

দেড় মাস আগে বীজ প্রদান করার পর এখন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে বীজ উৎপাদনকারীদের কী লাভ হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বৃষ্টির জন্য কৃষকরা জমিতে বীজ ফেলতে পারেননি। তাছাড়া যথাসময়ে অর্থ বরাদ্দ না আসায় প্রশিক্ষণ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। কৃষক পরিচয়ে অন্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই চাইলে আগামীতে আপনাদেরও রাখা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোট প্রশিক্ষণার্থী ১০০ জন। প্রতিজনকে ৫শ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়েছে। এই টাকা পেতে কৃষক ছাড়াও সাধারণ লোকজনেরও নাম ওঠানো হয় তালিকায়। আনেছা বেগম নামে এক নারী এসেছেন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের তারাপাশা থেকে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সদরে আইছলাম। এক নেকা কইলো এইনো থাকলে ৫শ টেহা পাওয়া যাইবো, তাই…। এখানে কি হবে জানতে চাইলে বলেন, মনে অয় গরুরে কিবায় খাওয়াইবো এইডা শিহাইবো।’ -কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৩১, ২০২১ ৮:২০ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামে প্রতিটি ওয়ার্ডে বাগান স্থাপন করা হবে: চসিক মেয়র
কৃষি বিভাগ

চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সম্পর্কে পরিপূর্ণ হলেও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে মুক্ত নয়। মানব সৃষ্ট ও প্রকৃতি সৃষ্ট বিপর্যয়ের অন্যতম ঝুঁকিতে আছে। যার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের দিক দিয়ে চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষের অন্যতম পেশা কৃষি হলেও চট্টগ্রাম খাদ্যঘাটতি এলাকা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খাদ্য আমদানি করতে ঘাটতি পূরণ করতে হয়। সরকারের নানামুখী কর্মকাণ্ডে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও খাদ্য-পুষ্টির জোগান এখনো নিশ্চিত হয়নি।

রোববার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নগরে খাদ্য নিরাপত্তা ও নগর-কৃষি’ শীর্ষক এক বিভাগীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী এ কথা বলেন।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে আধুনিক পরিচ্ছন্ন, সবুজ নগরীতে পরিণত করতে নগরবাসী, বিশেষ করে সচেতন নাগরিকদের আরও বেশি এগিয়ে আসতে হবে। নগরীর প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিত্যক্ত এলাকায় বাগান, ছাদবাগান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার জন্য মাঠ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

যারা ছাদবাগান ও নগর কৃষিতে জড়িত হবে তাদেরকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে আইএসডিই বাংলাদেশ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম, পার্টিসিপেটরি অ্যাকশন রিসার্চ নেটওয়ার্ক(প্রাণ) ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি)-বাংলাদেশ আয়োজিত এ বিভাগীয় পরামর্শ সভা সঞ্চালনা করেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন প্যানেল মেয়র আফরোজা কালাম, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ রেয়াজুল হক, কৃষি সম্প্রসরাণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হুদা, কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম হারুনর রশিদ, চট্টগ্রাম ডায়বেটিক জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক পুস্টিবিদ হাসিনা আকতার লিপি, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক, সাবেক সরকারী কর্মকর্তা কৃষিবিদ সরওয়ার কামাল, পরিবেশবিদ মুক্তিযোদ্ধা ডঃ অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব খালেদ মাহমুদ ও অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের ডেপুটি ব্যবস্থাপক অমিত রঞ্জন দে বিশেষ অতিথি ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নেন দক্ষিন জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রেহেনা বেগম রানু, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য রেহেনা আকতার, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকতা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর অধ্যাপক নেছার আহমদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রোমানা আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক একরাম উদ্দীন, জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরী, এডাব চট্টগ্রামের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, বনফুলের নির্বাহী পরিচালক রেজিয়া বেগম, নারী নেত্রী ঝর্না বড়ুয়া, বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সভাপতি জন্নাতুল ফেরদৌস, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব নেতা মোহাম্মদ জানে আলম, সেলিম জাহাঙ্গীর, হারুন গফুর ভুইয়া, সুচিত্রা গুহ টুম্পা প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রশিকার সহকারী পরিচালক অজয় মিত্র শংকু।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ সবুজায়ন ও বন থাকার কথা থাকলেও ইট-পাথরের ঢেকে যাচ্ছে পুরো দেশ। সেকারণে পুরো দেশজুেড় উত্তপ্ততা বাড়ছে। এছাড়াও প্রতিনিয়তই খাদ্যের দাম সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, দাম বৃদ্ধি নিয়ে সীমিত আয়ের মানুষের উৎকন্ঠা বাড়ছে। এছাড়াও নিরাপদ খাবার নিয়ে মানুষের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার শেষ নেই। করোনার কারনে একটি শ্রেণীর মানুষের আয় কমায় নিত্যখাদ্য পণ্য নিয়ে মানুষ দুশ্চিন্তায় থাকেন এবং অনেক মানুষকে একবেলা না খেয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

এছাড়া দেশ খাদ্য নিরাপত্তায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও চট্টগ্রামে খাদ্য ঘাটতি লেগেই আছে। নগর-কৃষির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা গেলে এই খাদ্য ঘাটতি কমনো ও একই সাথে নিরাপদ খাদ্যের যোগান ও নিশ্চিত করা সম্ভব হতো বলে মত প্রকাশ করা হয়।

বিভাগীয় পরামর্শ সভায় বক্তারা নগর-কৃষি প্রবর্তন ও উন্নয়নে নীতিমালা, কর্মপরিকল্পনা ও গাইডলাইন তৈরি, নগর-কৃষিকে উৎসাহিত করার জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স রেয়াতসহ অন্যান্য প্রণোদনা প্রদান, নতুন ভবন তৈরির নীতিমালায় ছাদ কৃষি বাধ্যতামূলক করা, সিটি করপোরেশনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নগর কৃষির জন্য সিটি করপোরেশনের পৃথক বাজেট বরাদ্দ করা, মহানগরীতে নগরকৃষি নার্সারি স্থাপন করা, নাগরিকদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে ব্যাপক প্রচারাভিযান পরিচালনা এবং নগর-কৃষির সম্প্রসারণে পৃথক নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে পৃথক তদারকি সেল গঠন করার দাবি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৩১, ২০২১ ১২:০৩ অপরাহ্ন
২৫০ উপজেলার কৃষকের আমন ধান কেনা হবে অ্যাপে
কৃষি বিভাগ

চলতি আমন মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ২৫০টি উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবে সরকার।

এ জন্য কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন ও ধান বিক্রির আবেদন নিতে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তর থেকে ঢাকা, খুলনা, রংপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন আমন, ২০২১-২২, মৌসুমে দেশব্যাপী ২৫০টি নির্বাচিত উপজেলায় পাইলট আকারে ‘কৃষকের অ্যাপ’ বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন ও ধান বিক্রয়ের আবেদন গ্রহণের সময়সীমা আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন ও ধান বিক্রয়ের আবেদন ও নিবন্ধনের সময়সীমা সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বহুল প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। এ জন্য মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

নির্দেশনাগুলো হলো-
১. নির্বাচিত উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ধান ক্রয় কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে।

২. প্রশিক্ষণ সিডিউল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব ইউএনও/উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ খাদ্য অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট মনোনীত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জুমের মাধ্যমে ভার্চুয়াল কর্মশালায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

৩. খাদ্য অধিদপ্তরের ওয়েবেসাইটের নিচের অংশে সংযোজিত ‘ফটো এবং ভিডিও বক্স’ থেকে ‘গাইড লাইন কৃষকের অ্যাপ’ থেকে ভিডিও টিউটোরিয়াল ডাউনলোড করে অ্যাপ ব্যবহার সম্পর্কে ইউএনও/উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করতে হবে।

৪. কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুতকৃত লিফলেট ও তৈরিকৃত অডিও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এবং টিভিসি (ভিডিও) ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় প্রচার করতে হবে।

৫. প্রস্তুতকৃত পোস্টার উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থান, বাজার, মসজিদের প্রধান ফটকের বিপরীতে এবং দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে সেঁটে দিতে হবে।

৬. প্রস্তুতকৃত লিফলেট জনসমাগম হয় এমন স্থানে, যেমন- মসজিদ, স্থানীয় বাজারের দিন, চায়ের দোকানে বিতরণ করতে হবে।

৭. প্রস্তুতকৃত লিফলেট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

৮. উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার উঠান বৈঠকে উপস্থিত হয়ে প্রস্তুতকৃত লিফলেট বিতরণ করতে হবে।

৯. কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের জন্য তৈরিকৃত অডিও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসমাগম স্থানে প্রচার করা করতে হবে।

১০. প্রস্তুতকৃত লিফলেট জেলা/উপজেলার ওয়েব পোর্টালে প্রকাশ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১১. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টার/লিফলেট প্রকাশ করে প্রচার করতে হবে।

১২. স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সভা করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার, মহিলা মেম্বার, ইউডিসি উদ্যোক্তাদের অবহিত করতে হবে।

১৩. ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তার মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন উৎসাহিত করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৩১, ২০২১ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
বিঘা প্রতি পাট চাষে কৃষকের দ্বিগুণ লাভ
কৃষি বিভাগ

মৌসুমের শুরুতেই সোনালি আঁশ পাটের ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কুমিল্লার কৃষক পরিবার। সব শঙ্কা কাটিয়ে এবার হাসি ফুটেছে পাট চাষিদের মুখে। এ কারণে তারা রয়েছেন খোশমেজাজে।

জেলা কৃষি বিপণন অফিস সূত্র জানা যায়, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছরে পাটে সর্বোচ্চ মুনাফা ঘরে তুলতে পেরেছেন চাষিরা। বিঘা প্রতি পাট চাষে এবার কৃষকের দ্বিগুণ লাভ হয়েছে।

পাটের উৎপাদন খরচ নির্ণয়ে দেখা গেছে, এক বিঘা বা ৩৩ শতক জমিতে পাট উৎপাদন করতে কৃষকের ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। গড় উৎপাদন বিঘাপ্রতি ১২ মণ হওয়ায় এবং মূল্য বেশি পাওয়ায় গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাভ হয়েছে চাষিদের। বর্তমানে বাজারে ২ হাজার ৩শ’ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে। কুমিল্লার বেশ ক’য়েকজন চাষির সাথে কথা বলে জানা যায়, পাট চাষে দাম ভালো হওয়ায় লাভের দেখা মিলছে বিধায় আবার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে পাঠ চাষে।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর পাটের ফলন হয়েছে আশানারুপ। দামও ভালো মিলছে। কুমিল্লার পাটচাষি শাহজাহান বাসসকে জানান, এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। সেখান থেকে ১০ মণ পাটের ফলন পেয়েছেন।

তিনি জানান, বাজারে তুলে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৫শ’ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এছাড়াও পাটকাঠি বিক্রি করেছেন ৬ হাজার টাকা। শাহজাহান বলেন, সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্ভাবনাময় ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম মাধ্যম কৃষির এ খাতটির দিকে সরকার বিশেষ নজর দেয়ায় হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসছে। পাট উৎপাদন বেশী হওয়ায় পাটকলগুলো সহজে পর্যাপ্ত পাট হাতে পাচ্ছে। জুট মিলের উৎপাদিত চট, সুতা, কার্পেট ও বস্তা রফতানী করে যথেষ্ট সুগম হয়েছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop