১০:৪৬ অপরাহ্ন

শনিবার, ২ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ২৮, ২০২১ ৩:২৯ অপরাহ্ন
পিকেএসএফ এর নতুন এমডি বাকৃবির সাবেক শিক্ষার্থী ড. নমিতা হালদার
কৃষি বিভাগ

সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর ১১তম ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বিসিএস ১৯৮৫ (৭ম) ব্যাচের প্রশাসন কাডারের কর্মকর্তা ড. নমিতা হালদার । তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ছিলেন।

বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার বাসিন্দা ড. নমিতা হালদার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৮ সালে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করে তিনি মাঠ পর্যায়ে জামালপুর জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর সিনিয়র সহকারী কমিশনার, রাজস্ব (আরডিসি) হিসেবে তিনি গাজীপুর জেলা প্রশাসনে কাজ করেন। মাঠপ্রশাসনে অতিবাহিত দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবেও কাজ করেন ড. নমিতা হালদার।

তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব ও যুগ্ম সচিব হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুভাবে ও সফলতার সাথে পালন করেন।পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিচালক পদে এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. নমিতা হালদার এশিয়ান ডিভেল্যাপম্যান্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর বৃত্তি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এএনইউ), ক্যানবেরা থেকে ডেভেলপম্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এ ডিস্টিংকশনসহ মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ২০০৩ সালে তিনি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের ইউনিভার্সিটি অব ক্যান্টারবেরী প্যালিটিক্যাল সায়েন্স-এ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০১৭ সালের ২৩ জুলাই তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পদোন্নতি পেয়ে একই মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে যোগদান করেন।

এদিকে, সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ১ জুলাই ২০১৯ তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তিনি চলতি মাসেই দুদকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিলে পিকেএসেফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদটি খালি হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৭, ২০২১ ৭:৩৭ অপরাহ্ন
গবেষণায় উন্নয়নশীল দেশসমূহকে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
কৃষি বিভাগ

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরের জন্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশসমূহকে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

মন্ত্রী মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে অফিস কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ইটালির রোমে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী জাতিসংঘের ফুড সিস্টেম প্রিসামিটের ‘খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরে বিজ্ঞানের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো’ শীর্ষক সেশনে এ আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক কৃষিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহের সম্মিলিত সংগঠন-সিজিআইএআর ও আন্তর্জাতিক কৃষক সংগঠন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিজ্ঞানের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে। ইতোমধ্যে দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহ ধান, গম, ভুট্টা, ফল ও শাকসবজির অনেকগুলো উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

ধানের জাত উদ্ভাবনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-ব্রি ১০০টিরও বেশি ধানের উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। যার মধ্যে ২৬টি জাত বন্যা, খরা, লবণাক্ততাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতসহিষ্ণু। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বিনা ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারিও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতসহিষ্ণু ধান ও অন্যান্য ফসলের বেশ কিছুজাত উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া, দেশের বিজ্ঞানীরা বিশ্বে প্রথম জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে।

ইরি, সিমিট, ওয়ার্ল্ডফিশ, ইফরি, সিআইপিসহ সিজিআইএআরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ গত ৫০ বছর ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে ড. রাজ্জাক আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, চলমান কোভিডসহ নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মিলিত সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশসমূহকে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

জাতিসংঘের ফুড সিস্টেম সামিটে সিজিআইএআরের বিশেষ প্রতিনিধি কানায়ো এনওয়ানজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইথিওপিয়ার কৃষি প্রতিমন্ত্রী ফিকরু রিগাসা, মেক্সিকোর কৃষিমন্ত্রী ভিক্টর ভিল্লালোবোস, সিজিআইএআরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্লদিয়া সাদোফ, আন্তর্জাতিক কৃষক সংগঠনের মহাসচিব অ্যারিয়ানা জিওলিওদোরি, ২০২১ সালের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ বিজয়ী শকুন্তলা থিলস্টেড প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ‘ফুড সামিট ২০২১’ কে সামনে রেখে এ প্রাক-সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৪৫টির বেশি দেশ এতে অংশগ্রহণ করছে। সম্মেলনটি শেষ হবে ২৮ জুলাই।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৭, ২০২১ ১:৩৩ অপরাহ্ন
মালচিং পদ্ধতিতে বর্ষাকালে সবজি চাষে বিপ্লব
কৃষি বিভাগ

বর্ষা মৌসুমে মিনি গ্রীন হাউস ও মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন কৃষক জাকির হোসেন ও ওমর ফারুক। বদলেছে তাদের ভাগ্যের চাকাও। বাহারি রঙের তরমুজ, লাউ, শসা, করলা, বোম্বাই মরিচ, পেপে, কাঁচা মরিচ,লাফা, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, টমেটোসহ নানা প্রজাতীর সবজি চাষ করেন তারা। তাদের সফলতায় স্থানীয় অনেক কৃষক মিনি গ্রীন হাউস ও মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেছেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রাম এখন সবজি গ্রাম হিসাবেই পরিচিত।

কৃষক জাকির হোসেন গাজী জানান, ‘আমি এক সময় রাজমিস্ত্রী ছিলাম। সেখান থেকে এসে গত পাঁচ বছর ধরে কৃষি কাজ করে আসছি। এবছর আমি ৬ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ করি। যাতে খরচ হয় পাঁচ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা।

উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে দ্বিগুণ লাভ হয়। এতে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়ে আমার। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবছরও ভাল লাভের আশা করি।’

কৃষক মো. ওমর ফারুক জানান, ‘কলাপাড়া উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন হাট বাজারে আমাদের সবজি বিক্রি হয়। বাজার জাত করার জন্য যাতায়াত ব্যাবস্থা ভালো না থাকার কারণে সবজির ন্যায্য মূল্য পাইনা। সরকারি ভাবে কৃষি কাজে সহায়তা পেলে ব্যাপক আকারে সবজি চাষ করতে পারবো বলে আশা করি।’

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ্ জানান, শুধু কুমিরমারা নয়, কলাপাড়া উপজেলার সকল ইউনিয়নে আমরা কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে প্রশিক্ষণ দিয়ে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করবো বলে জানান এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৭, ২০২১ ১২:৫৭ অপরাহ্ন
ত্রিশ হাজার সবজির চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ!
কৃষি বিভাগ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন কৃষকদের অন্তত ত্রিশ হাজার সবজির চারা গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ভাটিরচরনওপাড়া জিগাতলা গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দিন, কাজিম উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন তিন ভাই মিলে ৬০শতক জমিতে শশা, শিম ও ঝিঙা চাষ করেছিলেন। চাষ করতে এতে ৮০হাজার টাকা খরচ হয় কৃষক তিন ভাইয়ের। গত রোববার রাতে দুর্বৃত্তরা ৬০ শতক জমির মধ্যে ৫০শতক জমির ১২ হাজার শশা গাছের চারা, ১০হাজার শিম গাছের চারা ও ৮হাজার ঝিঙার চারা উপরে ফেলে। সোমবার সকালে সবজি চারা গুলো নেতিয়ে পড়ায় কৃষকরা জমিতে গিয়ে দেখেন সব চারা উপরে ফেলা হয়েছে। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কাজিম উদ্দিন জানান, যে জমিতে গাছের চারা উপরে ফেলা হয়েছে সেই জমিটি প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক দখলে ছিলো। কিন্তু সালিশ দরবার হবার পর তারা জমিটি ফেরত পান। চাচাতো ভাইদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় সবজির গাছগুলো উপরে ফেলা হয়েছে।

প্রতিপক্ষ আবুল কালাম জানান, সবজি বাগানের জমিতে তাদের অংশ না থাকায় জমি ছেড়ে দেন। কিন্তু তারা অন্য দিকে জমি পাবেন। এ নিয়ে মামলাও করেছেন। তাদের হয়রানি করতে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল কাদের মিয়া জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৭, ২০২১ ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
বাড়ির আঙিনায় মিশ্র ফল চাষে লাখোপতি বাবুল
কৃষি বিভাগ

কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়া জৈব সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করে বাড়ির আঙিনাতে বিভিন্ন জাতের ফল এবং শাক-সবজি বাজারজাত করে লাখোপতি হয়েছেন নড়াইলের কৃষক বাবুল হোসেন (৪৮)। পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন নার্সারি ও সবজি ক্ষেত। বাবুলের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দনগর এলাকায়।

খরচ বাদে বাবুল বছরে আয় করেন লক্ষাধিক টাকা। বসত বাড়ির আঙিনাসহ পাশের এক একর জমিতে ব্যতিক্রমী এ বাগানটি ২০১০ সালে গড়ে তোলেন তিনি। বাবুল হোসেনের এ ব্যতিক্রমী বাগান দেখে অনুপ্রাণিত এলাকাবাসী।

জানা যায়, বাবুল হোসেনের মিশ্র ফল বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন জাতের মাল্টা, কমলা লেবু, আনারস, ড্রাগন, ডালিম, আম, পেয়ারা, আমড়া, কলা, পেঁপেসহ হরেক রকম দেশি-বিদেশি ফলমূল। সেই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজিসহ নার্সারি ক্ষেত রয়েছে। এছাড়া রয়েছে দুর্লভ ট্যাং ও স্ট্রবেরি ফলের চাষাবাদ।

বাবুল হোসেন জানান, প্রথমদিকে বসতবাড়ির আঙিনায় ৬০ শতক জমিতে নার্সারির আবাদ শুরু করেন তিনি। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দুই বছর পর ২০১০ নার্সারির মধ্যেই শুরু করেন মিশ্র ফলবাগান।

এদিকে প্রায় আট মাস আগে আরো ৪০ শতক জমিতে আরেকটি মিশ্র ফলবাগান শুরু করেন তিনি। মোট এক একর জমিতে ১৩০ প্রজাতির ফলজ ও নার্সারির চারা রয়েছে এখানে। বাগান পরিচর্যায় তাকে সহযোগিতা করেন স্ত্রী ও দুই সন্তান। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নার্সারিসহ মিশ্র ফলবাগানের পরিধি আরো বাড়াবেন বলে জানিয়েছেন বাবুল হোসেন

কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবীর কুমার বিশ্বাস জানান, বসতবাড়ির আঙিনায় বাবুল হোসেনের মিশ্র ফলবাগানটি যেমন ব্যতিক্রম, তেমনি তাকে এনে দিয়েছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। ব্যতিক্রমী এ বাগান দেখে অনুপ্রাণিত অন্যরাও। তার বাগানের পরিধি ও সমৃদ্ধি অর্জনে আমাদের সুদৃষ্টি রয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৬, ২০২১ ৯:৪১ অপরাহ্ন
জাতিসংঘের ফুড সিস্টেম প্রিসামিটে কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি বিরূপ প্রভাব পড়বে উন্নয়নশীল দেশের ফুড সিস্টেমে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৃষি ও খাদ্য খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ, গবেষণা ও উদ্ভাবন করতে হবে। সেজন্য, আরও শক্তিশালী ও জলবায়ু পরিবর্তনসহনশীল ফুড সিস্টেম গড়তে সদস্য দেশসমূহের সম্মিলিত উদ্যোগ ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
মন্ত্রী সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি ইটালির রোমে অনুষ্ঠিত ৩দিন ব্যাপী ‘জাতিসংঘের ফুড সিস্টেম প্রিসামিটের’ উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
কৃষি ও ফুড সিস্টেম ট্রান্সফর্মেশনের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ কীভাবে কাজ করছে এবং এক্ষেত্রে আরও কী কী প্রয়োজন হবে- এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী প্রিসামিটে বক্তৃতা প্রদান করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গত ৫০ বছরে চালের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা দুটোই চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্তি/ জিরো হাঙ্গার অর্জনে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তাসত্ত্বেও ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি জমি হ্রাস, শ্রমিক সংকট, খাদ্য নষ্ট ও অপচয়সহ অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইটালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক কিউ দোংয়ু, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে, জাতিসংঘের ডেপুটি মহাসচিব আমিনা মোহাম্মদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ড. রাজ্জাক আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ক্ষুধামুক্তি/ জিরো হাঙ্গার অর্জনে বাংলাদেশ কাজ করছে। একই সাথে অপুষ্টি নিরসনেও কাজ করছে। যা সরাসরি কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতার সাথে জড়িত। এ লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা প্রদান ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করত হবে।
আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ‘ফুড সামিট ২০২১’ কে সামনে রেখে এ প্রাক-সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৪৫ টির বেশি দেশ এতে অংশগ্রহণ করছে।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৬, ২০২১ ১০:২১ পূর্বাহ্ন
এক জমিতে ১০ প্রজাতির ফসল করে তাক লাগিয়েছেন তিনি
কৃষি বিভাগ

৫ শতাংশ জমিতে ১৯৯০ সালে সবজি চাষ শুরু করেন, সেই থেকে পথ চলা আমির হোসেনের। এক জমিতে এক সাথে ১০ প্রজাতির ফসল উৎপাদন করে জেলায় কৃষকদের কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছেন কৃষক তিনি। মাল্টা চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন গাইবান্ধার সাঘাটার পুটিমারী গ্রামের এই বাসিন্দা।

জানা যায়, বর্তমানের আমির হোসেরন তার নিজের বসতবাড়ির চারপার্শ্বে বর্গাসহ মোট চার একর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। এসব জমিতে একই সাথে পেঁপে, আঁদা, মরিচ, মাল্টা, কমলাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছেন এখন। প্রতি বছর তার আয় হয় ১২ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা। একই সাথে একাধিক ফসল উৎপাদন করে সফলতা পাওয়ায় অন্যন্য কৃষকরাও এগিয়ে আসছেন এ পদ্ধিতে চাষাবাদ করতে।

কৃষি অফিস জানায়, তার এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। একই জমিতে ১০টি ফসল চাষে সফলতা অর্জন করে জেলায় মডেল কৃষক হয়েছেন আমির হোসেন। স্বীকৃতি সরুপ ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকসহ বিভিন্ন সময় পেয়েছেন পুরস্কার ও সম্মাননা।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাদেকুজ্জামান জানান, আমাদের পক্ষ থেকে কৃষক আমির হোসেনকে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। আরও যারা কৃষি কাজ করতে আগ্রহী আমরা তাদেরকেও সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৫, ২০২১ ৯:২০ পূর্বাহ্ন
জমি না থাকলেও সেচ প্রকল্পে নাম!
কৃষি বিভাগ

কুড়িগ্রামের সরকারি সেচ প্রকল্পে বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) কর্মকর্তাদের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী কৃষকদের দলগঠন করে সেচ দেয়ার কথা, কিন্তু দেয়া হচ্ছে ব্যক্তিকে। যাদের জমিও নেই এমন লোকরা পাচ্ছেন সেচ নেয়ার অনুমতি।

সেখানকার উলিপুরের বাসিন্দারা আরো অভিযোগ করেন, নানা কারণে সেচ নেয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন, এমন কৃষকদেরও সেচ নেয়ার তালিকাভুক্ত করছে বিএডিসি।

২০১৮ সালে সেচ লাইসেন্স নেন কুড়িগ্রামের উলিপুরের কিশোরপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম। আর ২০১৯ সালে লাইসেন্স নম্বর দিয়ে সেচ লাইসেন্স নেন আঠারো পাইকা গ্রামের সাব মিয়া, নিয়ম অনুযায়ী যা হওয়ার কথা নয়।

কৃষকদের অভিযোগ, সেচ নেয়ার তালিকায় এমন কৃষকও আছেন যার জমিই নেই। অনেকে আবেদন করেও সেচ নেয়ার অনুমতি পাচ্ছেন না।

আবার কেউ কেউ দুই গ্রুপের অনুমতি সংগ্রহ করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, এসব অনিয়ম করে অবৈধভাবে সেচের অনুমতি দিয়ে বহু টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিএডিসির একটি চক্র। যারা অবৈধভাবে এই অনুমতি নেন তাদের অনেকেই এসব তথ্য স্বীকারও করেছেন। আর এনিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন খোদ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, এই ধরনের অনিয়মের ফলে বহু কৃষক সরকারি সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে।

বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় চলতি বছর সেচ লাইসেন্সের জন্য আবেদন পড়েছে প্রায় তিনশ’র বেশি। এরমধ্যে ৭৬টিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৭, ২০২১ ৬:৩৬ অপরাহ্ন
১ কোটির বেশি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

দেশে খাদ্য নিয়ে কোন হাহাকার নেই বলে জানালেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এই ঈদুল আজহাতে ১ কোটির বেশি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী শনিবার তার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় গরিব অসহায় ব্যক্তি, দু:স্থ পরিবার ও উপকারভোগীদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, করোনাকালে অসহায়, গরীব-দু:স্থ, খেটে খাওয়া ও কর্মহীন মানুষকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে খাদ্য ও নগদ অর্থসহ মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন তা সারা বিশ্বে এক অনন্য নজির।

মন্ত্রী বলেন, ঈদ পরম আনন্দের ও খুশির দিন। প্রধানমন্ত্রী চান, এই দিনে কোনভাবেই যাতে দেশের একটি মানুষকেও না খেয়ে থাকতে না হয়। খাদ্যের অভাবে একটি মানুষেরও ঈদ আনন্দ যাতে ম্লান না হয়। তাই, প্রধানমন্ত্রী প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের আগে অসহায় ব্যক্তি ও দু:স্থ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন।

করোনাকালে অসহায়, গরিব-দু:স্থ, খেটে খাওয়া ও কর্মহীন মানুষকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে খাদ্য ও নগদ অর্থসহ মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন তা সারা বিশ্বে এক অনন্য নজির বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, করোনার সংক্রমণরোধে আরোপিত লকডাউনে শ্রমজীবী ও স্বল্প আয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয়ের পথ সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনার শুরু থেকেই খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে অব্যাহতভাবে এসব মানুষের পাশে আছেন।

যদুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মীর ফিরোজ আহমেদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে ধনবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-অর রশিদ হীরা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সামিউল হক, উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৭, ২০২১ ১০:০০ পূর্বাহ্ন
ব্ল্যাক রাইস চাষে তাক লাগিয়েছেন কুমিল্লার কৃষক মনজুর
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলায় অভাবনীয় সাফল্য লাভ করেছে ব্ল্যাক রাইস (কালো রঙের চালের ধান) চাষে। মনজুর নামের এক কৃষক ২০১৮ সালে প্রথম বারের মত কুমিল্লায় মাত্র ৫ শতক জমিতে ব্ল্যাক রাইস চাষ করেন। এতে তিনি সাফল্য পান। পরের বছর ১০ শতক জমিতে ব্ল্যাক রাইস চাষ করে দ্বিগুণ সফলতা অর্জন দেখে এবার এগিয়ে এসেছেন আরো ১৫ জন কৃষক। এবার বেশী চাষ হয়েছে ১৪শ’ ৯৫ শতক জমি। অর্থাৎ গেলোবার যেখানে চাষ হয়েছে ১০ শতক এবার সেখানে হয়েছে ১৫শ’ শতক জমি।

বছর বছর এই চাষে সফলতা পাওয়ায় মনজুর ব্ল্যাক রাইস চাষ করে পেয়েছেন কৃষি পদকও। চলতি বছরের ২৭ জুন ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনজুরকে এই পদক দেন।

মনজুর জানান, প্রতি বছরের জুলাই মাস থেকে ব্ল্যাক রাইসের চারা রোপনের কাজ শুরু হয়। এখন জমি প্রস্তুতির কাজ চলছে। জুলাই ৩০ তারিখ থেকে জমিতে চারা রোপনের কাজ শুরু করে নভেম্বরে প্রথম সপ্তাহে ফসল গড়ে তোলা হবে। মনজুর চলতি মৌসুমে ৫০ শতক জমিতে এই ব্ল্যাক রাইস চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার মনাগ্রাম মাঠে এই ধানের চাষ করা হচ্ছে। কৃষক মনজুর হোসেন জানান, কৃষি গবেষক ড. আখতার হামিদ খান ধান উৎপাদনে কুমিল্লার চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। ড. খানের কাজ দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। কালো চাল ডায়াবেটিস, স্নায়ুরো ও বার্ধক্য প্রতিরোধক। এতে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল রয়েছে। তাই কালো চাল উৎপাদনে মনোযোগী হয়েছেন। অনেকে বিদেশ থেকে উচ্চ দামে চাল কিনে খায়। ঢাকায়ও বিদেশি কোম্পানিগুলো এই চাল হাজার টাকায় কেজি বিক্রি করলেও স্থানীয় কৃষকরা তা তিনশত টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান। এ চালের উৎপাদন সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভুমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করছেন।

এ বিষয়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও কুমিল্লা ময়নামতি মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. তৃপ্তিশ চন্দ্র ঘোষ জানান, কালো চালে অ্যাস্থসায়ানিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি থাকে। হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখা, মস্তিস্কের কার্যকারিতা বাড়ানো ও শারীরিক ব্যথা নিরাময়ে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিশেষ কার্যকর বলে জানান।

মনজুর বিভিন্ন দেশের সাত প্রকার কালো চালের ধান সংগ্রহ করে চাষ করছেন। কালো চাল উৎপাদন বাড়লে কৃষিতে নতুন গতি আসবে বলে তিনি মনে করেন। মাঠে ভারতের আসাম, ইন্দোনেশিয়া, চায়না, জাপান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের সাত প্রকার কালো চালের ধান লাগানো হবে। চাল কালো হলেও সব গুলো ধানের পাতার রঙ বেগুনি নয়। অনেক গুলো সবুজ রঙের। কৃষক মনজুর হোসেন জেলার আদর্শ সদর উপজেলার মনাগ্রাম এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

সরেজমিনে মনাগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক মনজুর তার বাড়িসংলগ্ন নিজের জমিতে এবার আমন মৌসুমে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, জাপান, চীন ও ভিয়েতনাম- এ সাতটি দেশ থেকে সংগ্রহ করা কালো চালের বেগুনী ও সবুজ পাতার ধানের চাষ করার জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। চলতি মাসের ৩০ তারিখ থেকে চারা রেপন কাজ শুরু করবেন। কৃষক মনজুর বলেন, সাত জাতের ধান ছাড়াও লাল চালের (রেড রাইস) ধান, ভারতের বেগুনী স্বর্ণা ধান, ফিলিপাইনের ব্ল্যাক বাঁশমতি ধানসহ দুর্লভ নানা জাতের ধানের চাষ করেছেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও গবেষকরা বলছেন, কালো চাল দেখতে যেমন কালো, এ চালের ভাতও কালো এবং পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। সুগন্ধিযুক্ত দামি ও স্বাস্থ্যকর এ কালো চাল সারা পৃথিবীতে খুবই সমাদৃত।

মনাগ্রমের কৃষক রফিক উল্লাহ ভূঁইয়া, গৌতম দাস, বিল্লাল হোসেন বাসসকে বলেন, কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের পথ দেখাচ্ছেন কৃষক মনজুর। জমিতে চারা রোপণের পর থেকে সবসময় তারা কৃষক মনজুরের ব্ল্যাক রাইসের জমি দেখে আসছেন। তারা বলেন, বাজারে দেশিয় জাতের প্রতিমণ ধানের মূল্য সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে মোটামোটি লাভ হয়। তাই আগামীতে আমরা কালো চালের ধানের চাষ করবেন বলে জানান।

স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) মো. ছালেকুর রহমান জানান, কৃষক মনজুর হোসেন সাতটি দেশে উৎপাদিত ব্ল্যাক রাইস-এর বীজ সংগ্রহ করে জমিতে চাষ করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) থেকে সর্বশেষ অবমুক্ত করা নতুন জাতের ধানও তার জমিতে চাষ হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমন মৌসুমে স্বল্প পরিসরে পাঁচটি দেশের ব্ল্যাক রাইস চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মেহেদী মাসুদ জানান, কৃষক মনজুর যা করেছেন তা ব্যতিক্রম, তিনি বিজ্ঞানীদের কাজ করছেন। কালো চাল কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) সম্পন্ন, যা গম ও অন্যান্য ফলের জিআই হতে অনেক কম। ব্ল্যাক রাইসে অ্যান্থোসায়ানিন নামক একটি উপাদান আছে, এ কারণে এই ব্ল্যাক রাইস পুরোটাই কালো। আর অ্যান্থোসায়ানিন এমন একটি এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। আমরা প্রতিনিয়ত যে খাবার খাই তা থেকে রক্তের মধ্যে যে ধরনের ফ্রি রেডিকেল তৈরি হয় তা এই এন্টিঅক্সিডেন্ট ধ্বংস করে দেয়। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ কালো চালের উৎপাদন ভালো হলে এবং তা দেশব্যাপী কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে মানুষের রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয় কুমিল্লার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল মোতালেব জানান, ব্ল্যাক রাইসের এ জাতগুলো ব্রি-গাজীপুরে প্রেরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এ জাতগুলোর বিভিন্ন গুণাবলি ও রোগ-পোকার প্রতিক্রিয়া নির্ণয়ের পর কাঙ্খিত গুণাবলিসম্পন্ন প্রতীয়মান হলে অবমুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে এবং ব্ল্যাক রাইসের উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, ব্ল্যাক রাইসের বীজ কুমিল্লাসহ সারাদেশে আমরা ছড়িয়ে দিতে চাই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর একই সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
কৃষক মনজুর হোসেন আরও বলেন, ব্ল্যাক রাইস এর ধানের পাতার রঙ সবুজ, কোনটির বেগুনী।

জাপান ও অন্যান্য দেশ থেকে আমাদের দেশে আমদানি করা এক কেজি কালো চালের (ব্ল্যাক রাইস) মূল্য এক হাজার টাকা। তাই বিভিন্নভাবে মোট সাতটি দেশ থেকে ব্ল্যাক রাইসের বীজ সংগ্রহ করে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে চারা উৎপাদন করা হয়েছে চলতি মাসের শেষের দিকে চারা রোপন কাজ শুরু হবে।

তিনি সকল জাতের ব্ল্যাক রাইসের ভালো ফলনের আশা প্রকাশ করে বাসসকে বলেন, পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ দুর্লভ ও দামী ব্ল্যাক রাইসের বীজ দেশের কৃষকদের মাঝে স্বল্প মূল্যে ছড়িয়ে দিতে চাই। উদ্ভাবনী এ কৃষক ব্যক্তিগত উদ্যোগে ধান, চাল, গমের বীজ এবং সরিষা ও পামওয়েলের গুণগতমান পরীক্ষার জন্য একটি গবেষণাগার (ল্যাব) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে সরকারের নিকট সহায়তা চেয়েছেন।

এবিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বছরব্যাপী ফল প্রকল্পের পরিচালক ও ধান গবেষণায় বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী মাসুদ জানান, কালো চালের ভাত সাধারণ ভাতের অর্ধেক খেলে পেট ভরে যাবে। ফাইবার বেশি থাকায় তা সময় নিয়ে হজম হবে। যা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপকারী। এদিকে যাদের পেটে চর্বি রয়েছে তাদেরও উপকার হবে। কৃষক মনজুর হোসেনের কালো জাতের ধানের চাষ সারা দেশের মধ্যে ব্যতিক্রম। আমি ইন্দোনেশিয়া থেকে কালো ধান এনে তাকে ২৭টি দিয়েছিলাম। সে সেখান থেকে বীজ তৈরি করে ধানের পরিমাণ বাড়িয়েছে। কালো চালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) অনেক কম। জিআই যত কম হয় সেই খাবার শরীরে জন্য তত উপকারী। গ্লকোজের জিআই ১০০ ভাগ, চিনির ৮০ভাগ, সাদা চালের ভাতের ৭২ ভাগ, গমের আটার রুটিতে ৬৫ ভাগ আর কালো চালের জিআই মাত্র ৪২ ভাগ। কালো চালের বিষয়টি দেশে গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষিমন্ত্রী মহোদয়ও এই চাল উৎপাদনে তাগিদ দিয়েছেন। কালো চাল ভালো উৎপাদন হলে রোগ প্রতিরোধের সাথে তা কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে জানান। বাসস

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop