৮:২৫ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অগাস্ট ৫, ২০২১ ৩:০০ অপরাহ্ন
কাসাভা চাষে লালমাই পাহাড়ের অর্থনীতি
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লার জেলার লালমাই পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষ হচ্ছে ‘কাসাভা’। প্রথম দিকে সীমিত আকারে চাষ হলেও দিন দিন ব্যাপকহারে এ পাহাড়ে সম্প্রসারণ হচ্ছে কাসাভার চাষ।

পাহাড় এলাকায় এটি ‘কাঠ আলু’ বা ‘ঠেংগা আলু’ নামে বেশ পরিচিত। দীর্ঘ বছর ধরে পাহাড়ে চাষ হয় আলু জাতীয় এ উদ্ভিদটি। এটি বেকারি সামগ্রী এবং ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে কাসাভা চাষে লালমাই পাহাড়ের অর্থনীতি ও চাষিদের জীবনমান বদলে যেতে পারে বলে জানান কৃষিবিদরা।

জানা যায়, লালমাই পাহাড়ের সালমানপুর, কোটবাড়ি, হাজীর খামার, জামমুড়া, লালমাইসহ বিভিন্ন এলাকায় কাসাভা ফসল তোলায় ব্যস্ত কৃষক। কৃষকের হাতের টানে লালমাটি থেকে উঠে আসছে খয়েরি রঙের কাসাভা। তা পরিষ্কার করে তুলে দেয়া হচ্ছে ট্রাকে। মূলত গাছের শিকড়টা কাসাভায় রূপান্তরিত হচ্ছে।

লালমাই পাহাড়ের সদর দক্ষিণ উপজেলার জামমুড়া গ্রামের কৃষক মো. মোকসেদ আলী জানান, তার বংশধররা কয়েক যুগ ধরে এখানে কাসাভা চাষ করে আসছেন। তিনি এ পাহাড়ে ১৩ বছর ধরে কাসাভা চাষ করছেন। এ বছর ৫১ একর জমিতে কাসাভা চাষ করেছেন। প্রতি একরে ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। ভালো ফলন হলে প্রতি একরের ফসল ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারেন।

তিনি আরো জানান, লালমাই পাহাড়ে কাসাভার ভালো ফলন হয়। তবে এর ক্রেতা কম। এক-দুটি কোম্পানি এটি সংগ্রহ করে। কোম্পানি যে দাম দেয় তা নিয়েই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়। কৃষি বিভাগ এগিয়ে এসে বাজারজাত করার বিষয়টি সম্প্রসারণ করলে কৃষকরা ভালো লাভ পেত এবং কাসাভায় বদলে যেত চাষিদের জীবনমান ও পাহাড়ের অর্থনীতি।

কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা যায়, প্রতি একর জমি থেকে ৬-৭ টন কাসাভা পাওয়া যায়। কাসাভা দিয়ে গ্লুকোজ, বার্লি, সুজি, রুটি, নুডলস, ক্র্যাকার্স, কেক, পাউরুটি, বিস্কুট, পাপড়, চিপসসহ নানা খাদ্য তৈরি করা যায়। এছাড়াও কাসাভা থেকে উৎপাদিত স্টাচের (মাড়) ব্যবহার হয় বস্ত্র ও ওষুধ শিল্পে। এর পাতা ও অবশিষ্ট অংশ দিয়ে জৈবসার তৈরি হয়। পোশাক শিল্প, ওষুধ শিল্প এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে প্রতি বছর সাড়ে ৩ লাখ টন স্টার্চ প্রয়োজন। কিন্তু দেশে বছরে উৎপাদন হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টন। বাকিটুকু ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন মজুমদার জানান, লালমাই পাহাড়ে কাসাভার ভালো ফলন হয়। কাসাভা গাছের কান্ড ছোটো ছোটো টুকরো করে রোপণ করা হয়। এর আট-নয় মাস পর মাটি খুঁড়ে তোলা হয় আলু। কাসাভার গাছের মূলই আলু হিসেবে ব্যবহার হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৫, ২০২১ ২:২৬ অপরাহ্ন
অপসংস্কৃতিরোধে শহীদ শেখ কামালের আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, দেশে যুবসমাজের অবক্ষয় ও অপসংস্কৃতিরোধে শহীদ শেখ কামালের আদর্শ ও চেতনাকে তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। শেখ কামাল ছিলেন অনন্য ক্রীড়া সংগঠক, যিনি খেলাধুলায় নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বিভিন্ন খেলাধুলায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারত।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ধানমণ্ডিতে আবাহনী ক্লাব মাঠে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র, ক্রীড়া সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শেখ কামাল ছিলেন অত্যন্ত সৃজনশীল ও সংস্কৃতি অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘স্পন্দন’ গঠন করেছিলেন। একাধারে তিনি ছিলেন রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও দেশপ্রেমিক। তিনি ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর আদর্শ ও চেতনা ধারণের জন্য দেশের তরুণ যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। তাঁর আদর্শে তরুণদেরকে খেলাধুলায়, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করতে হবে। এটি করতে পারলে অবক্ষয় ও অপসংস্কৃতি রোধ করে দেশের তরুণসমাজকে আদর্শবান করে গড়ে তোলা যাবে।
আবাহনী সমর্থকগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসময় আবাহনী সমর্থকগোষ্ঠীর সভাপতি মো: জিল্লুর রহমান, উপদেষ্ঠা কাজী আব্দুল হাকিম, বরকত-ই-খুদা, মির্জা ফজলুল হক, সৈয়দ বেলায়েত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের কিছু তথাকথিত সেলিব্রেটিরা সমাজে অপসংস্কৃতি ছড়াচ্ছে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ড দিয়ে তরুণ সমাজ ও জাতিকে তারা বিভ্রান্ত করছে। তাদের মুখোশ উন্মোচনে কঠোর অভিযান চলছে। অপসংস্কৃতিরোধে এ অভিযান চলমান থাকবে।
‘ভুঁইফোড় সংগঠনের কোন জায়গা আওয়ামী লীগে নেই’ উল্লেখ করে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. রাজ্জাক আরও বলেন, ‘ন্যায় ও সততার পথে থেকে দল করতে হবে। এটিই আওয়ামী লীগের ভিত্তি। যে দল একটি দেশ গঠন করেছে, সারা পৃথিবীর বুকে একটি নতুন জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে; যে দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে সকল আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে- সেই দলে ভুঁইফোড় সংগঠনের কোন জায়গা নেই’।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৪, ২০২১ ২:৪৩ অপরাহ্ন
কৃষিপণ্য কেনাবেচার মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধন
কৃষি বিভাগ

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষিপণ্য কেনাবেচার মোবাইল অ্যাপ ‘সদাই’ এর উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী এ কথা বলেন। অ্যাপ ‘সদাই’ বাস্তবায়ন করছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য কেনাবেচায় ‘সদাই’ অ্যাপটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ অ্যাপটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস, কৃষিপণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতে কাজ করবে। একইসাথে, ভোক্তাররা যাতে না ঠকে, প্রতারণার শিকার না হয় এবং নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত পণ্য পায়-তাতে অ্যাপটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ধান,গম,ভুট্টা, শাকসবজি, ফলমূলসহ সকল কৃষিপণ্যের উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, উৎপাদনে বিস্ময়কর সাফল্য এসেছে। এসব উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বিপণনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকেরা যে পণ্য উৎপাদন করে তা অনেক সময় বাজারজাত করতে পারে না, সঠিক মূল্য পায় না। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের পাশাপাশি ভোক্তার সঠিক মূল্যে, নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত পণ্য কেনার নিশ্চয়তাও দিতে হবে। এ লক্ষ্যে ‘সদাই’ অ্যাপটি কাজ করবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল বক্তব্য রাখেন। এসময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পিপিসি) মো: রুহুল আমিন তালুকদার, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ উপস্থিত ছিলেন। সদাই অ্যাপের পরিচিতি তুলে ধরেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বায়েজীদ বোস্তামী।
‘সদাই’ সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রথম কৃষি বিপণন অ্যাপ। এর ভাষা বাংলা। এটির মাধ্যমে কৃষক ও ভোক্তার সরাসরি যোগাযোগ হবে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ‘সদাই’ প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হওয়া কৃষিপণ্যের গুণগত মান ও ক্রয়বিক্রয় মনিটরিং করবে। পণ্যসমূহের উপযুক্ত দাম নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তার নিবন্ধন বাতিল করবে। অভিযোগ প্রতিকারের ব্যবস্থা ও অধিদপ্তর পরিচালিত কল সেন্টার থাকবে।
কৃষক ও উদ্যোক্তাগণ ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করে কমিশনবিহীন বিক্রির সুযোগ পাবে। মোবাইল ব্যাংকিং পেমেন্ট এবং ক্যাশ অন ডেলিভারি পেমেন্টের সুযোগ পাওয়া যাবে। মূল্য যাচাইয়ের সুযোগ ও অর্ডারকৃত পণ্যের ট্র্যাকিং সুবিধা রয়েছে। অধিদপ্তর কৃষক ও উদ্যোক্তাগণকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। ক্ষেত্র বিশেষে কৃষিপণ্য পরিবহণ সুবিধা পাওয়া যাবে।
ভোক্তা ও উদ্যোক্তাদার জন্য ‘সদাই’ অ্যাপ আলাদা। প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাবে। লিংক: ১) সদাই (ভোক্তা): https://play.google.com/store/apps/details?id=com.dam.sodai

; ২) সদাই (উদ্যোক্তা)-https://play.google.com/store/apps/details?id=com.dam.ku

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৪, ২০২১ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে তাক লাগিয়েছেন জাকির
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সবজিখ্যাত কুমিরমারা গ্রামে গ্রিনহাউস এবং মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে  সাড়া জাগিয়েছেন কৃষক জাকির হোসেন। জাকির সবজি চাষ করে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন এনেছে।

জানা যায়, সবজি চাষ করে সফল হতে জাকিরের দেখানো গ্রিন হাউস ও মালচিং পদ্ধতির সফলতা দেখে আশপাশের চাষিরা আগ্রহী হচ্ছে। কিভাবে আরও উন্নত পদ্ধতিতে সবজির চাষ করা যায় এনিয়ে যেন তার ভাবনার শেষ নেই। শুধু জাকিরই নয় গ্রিন হাউস ও মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে এখানকার কৃষকরা। দেশ বিদেশি বিভিন্ন উন্নতশীল বীজ সংগ্রহ করে এলাকায় মালচিং পদ্ধতিতে রোপণ করে সফলতার ছোয়া পেয়েছেন কৃষকরা।

জাকিরের সফলতা দেখে কুমিরমারা গ্রামের বেশ কিছু কৃষক মালচিং পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করেন। চলতি মৌসুমে এ পদ্ধতিতে লাউ, শসা, করোলা, বোম্বে মরিচ, পেপে, কাঁচা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, টমেটোসহ নানা প্রজাতীর সবজি চাষ করেছেন জাকির হোসেনসহ অনেক কৃষক।

বর্ষা মৌসুমে বাহারি রঙের তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন জাকির। জাকিরের তরমুজ চাষে সফলতা দেখে স্থানীয় কৃষকরা এই বর্ষা মৌসুমে বাহারি রঙের তরমুজ মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সবজিচাষি জাকির জানান, আমি এক সময় রাজমিস্ত্রি ছিলাম। সেখান থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কৃষি কাজ করি। এ বছর আমি ৬ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষে পাঁচ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করি। এই এলাকায় আধুনিক কৃষি আমি সৃষ্টি করি।

এছাড়া স্থানীয় কৃষকদের আধুনিকভাবে কৃষিকাজ করার জন্য উৎসাহ দেই। কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে অনেক ভালো ফসল হবে মনে করেন তিনি। স্থানীয় সবজিচাষি মো. ওমর ফারুক জানান, আমাদের কৃষি পণ্য কলাপাড়া উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হয়। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারণে সবজির ন্যায্য মূল্য পাই না। সরকারিভাবে আমরা আর্থিক সহযোগিতা পেলে আরও ব্যাপক হারে সবজি চাষ করতে পারবো।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ্ জানান, শুধু কুমিরমারা নয়, কলাপাড়া উপজেলার সকল ইউনিয়নে আমরা কৃকদের আধুনিক ট্রেনিং দিয়ে সবজি চাষে উদ্ভুদ্ধ করবো।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৪, ২০২১ ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
রামুতে দরিদ্র কৃষকের ৫ হাজার লেবু গাছ কর্তন
কৃষি বিভাগ

রামুর জোয়ারিয়ানালায় রেঞ্জ কর্মকর্তার দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় কৃষক নজির আহমদের ৫ হাজার লেবু গাছ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে দরিদ্র সেই কৃষকের ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জের আওতাধিন বনাঞ্চলে সোনাইছড়ি খালের তীরে ৫ একর জমিতে ২০ বছর ধরে তিনি চাষাবাদ করে আসছেন।

জানা যায়, ওই এলাকায় একসময় তিনি তরমজু, মরিচ সহ বিভিন্ন সবজি চাষ করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে অপহরণকারি ও ডাকাতদলের উৎপাত বাড়লে তিনি ৮ বছর পূর্বে সেখানে লেবু চাষ শুরু করেন। বর্তমানে সবকটি গাছে লেবুর ফলন আসতে শুরু করেছে। প্রতিটি গাছে ১০০ থেকে ৫০০টি পর্যন্ত লেবু ধরেছে। তার এ সফলতা দেখে বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-হেডম্যান তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতে থাকে।

চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত বৃহষ্পতিবার (২৯ জুলাই) সকালে জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সহ একদল ভাড়াটে লোকজন তার লেবু বাগানে গিয়ে ফলবান এসব গাছ কাটা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা পুরো বাগানের ৫ হাজার লেবু গাছ কেটে দেয়।

নজির আহমদ আরো জানান- জীবনের সব সঞ্চয় ও ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে তিনি তিলে তিলে এ বাগান সৃজন করেছেন। এখন সবকটি গাছ কেটে দেয়ায় তিনি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

এলাকাবাসী জানান-ওই জমিটি খালের তীরে হওয়ায় এলাকার অন্যান্যদের মতো নজির আহমদও চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো। এমনকি সে প্রচুর ব্যাংক ঋন নিয়ে এ বাগান সৃজন করেছেন। কিন্তু বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার অমানবিক আচরণে নজির আহমদ এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এলাকাবাসী এ নির্মমতার বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে লেবু বাগান কেটে সাবাড় করার ঘটনায় অভিযুক্ত জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটু জানিয়েছেন-বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে বাগানটি সৃজন করায় সেটি কেটে দেয়া হয়েছে। আরো যারা এভাবে বন দখল করে বাগান করেছেন তাদের বাগানও উচ্ছেদ করা হবে।

জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স জানিয়েছেন-নজির আহমদের সৃজিত বাগানের বিপুল পরিমান লেবু গাছ কেটে দেয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ ব্যাপারে তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৩, ২০২১ ৯:২৫ অপরাহ্ন
মরু ভূমির সাম্মাম এখন কুমিল্লায়
কৃষি বিভাগ

মরু ভূমির সাম্মাম এখন চাষ হচ্ছে কুমিল্লায়। সাম্মাম দেখতে অনেকটা তরমুজের মত, তবে এর ঘ্রাণ বাঙ্গির মতো। ওপরটা ধূসর ভেতরটা হলুদ। তবে ভালো মিষ্টি।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের মাঠে প্রথমবারের মতো চাষ করা হয়েছে সাম্মাম। বলরামপুর গ্রামের কাজী আনোয়ার হোসেন এ ফল চাষ করেছেন।

জানা যায়,, মালচিং সিটের ভেতরে চারা লাগিয়েছেন। মাচায় গাছ তুলে দেয়া হয়েছে। নেটে বাধা হয়েছে ছোট বড় সাম্মাম। হালকা বাতাসে দুলছে সারি সারি সাম্মাম। কোনটির ওজন তিন কেজির বেশি। ক্ষেত জুড়ে পাকা সাম্মাম ঘ্রাণ ছড়িয়ে আছে। ক্ষেতের পাশে ভিড় করেছেন ক্রেতারা।

সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মনির হোসন জানান, অনলাইনে সাম্মাম দেখেছেন। কখনও এ ফল খাননি। তাই তিনি এ ফলটি কিনতে এসেছেন। পাশর্^বতী বলরামপুর গ্রামের মোজ্জামেল হক বলেন, এ ফল দেখতে সুন্দর এবং খেতেও বেশ মিষ্টি। কৃষক আনোয়ার হোসেন বাসসকে বলেন, ফল আসতে ৯০দিন সময় লাগে।

সাম্মাম দেখতে ধূসর রঙের হলেও এটির ভেতরে হলুদ ও স্বাদে কড়া মিষ্টি। তিনি ৪০ শতক জমিতে সাম্মাম চাষ করেছেন। তার এক লাখ ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। তিনি বিক্রি শুরু করেছেন। আশা করছেন তিন লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারবেন। প্রতিদিন সাম্মাম কিনতে ও দেখতে মানুষ ভিড় করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, এটি মরুর অঞ্চলের ফল। সেখানে এটিকে সাম্মাম বলে। এটিকে কেউ রকমেলন বা সুইটমেলনও বলে। সাম্মামে প্রচুর পরিমাণ বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, কপার ও ম্যাঙ্গানিজ প্রভৃতি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১, ২০২১ ১২:১৩ অপরাহ্ন
বর্ষাকালীন সবজির আবাদে লাভবান জাজিরার কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

জাজিরা উপজেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে আগাম বর্ষাকালীন সবজির আবাদ। অন্য মৌসুমের তুলনায় বর্ষকালে সবজির কম থাকায় কৃষক তুলনামুলক বেশি দাম পেয়ে থাকেন। তাই তুলনামুলক উঁচু জমিতে উপজেলার কৃষকরা বর্ষাকালীন আগাম সবজি আবাদ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন। এ বছর উপজেলায় ৯১০ হেক্টর জমিতে আগাম বর্ষাকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জামাল হোসেন জানিয়েছেন, প্রতি বছরই আগাম বর্ষাকালীন সবজি আবাদ করে অন্য মৌসুমের তুলনায় বেশী লাভবান হয়েছেন জাজিরার সবজি চাষিরা। যে কারণে প্রতি বছরই আগাম বর্ষাকালীন সবজির আবাদ বাড়ছে। গত বছর জাজিরায় ৮৫০ হেক্টরে আগাম বর্ষাকালীন সবজি আবাদ হয়েছিল। এ বছর তা বৃদ্ধি পেয়ে ৯১০ হেক্টর হয়েছে।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই আগাম সবজি আবাদ করেছেন কৃষক। ইতোমধ্যে বাজারে সবজিও আসতে শুরু করেছে। আগাম বর্ষাকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে ধুন্দল, শশা, লাল শাক, লাউ, কাকরল ও বেগুনসহ নানা সবজি। ভালো ফলন পেতে কৃষককে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করতে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা  প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।

উপজেলার মুলনা ইউনিয়নের মিরাশার গ্রামের মো: আব্দুস সালাম খান জানান, প্রতি বছরই আমরা আগাম বর্ষাকালীন সবজি আবাদ করে বেশি লাভবান হই। বর্ষার সময় অধিকাংশ জামিতেই পানি ওঠে বিধায় সবজায়গায় সবজির আবাদ না হওয়ায় বাজারে সংকট থাকে। যে কারণে বর্ষা মৌসুমে সবজির দামও থাকে বেশি। আমাদের এ অঞ্চলটা একটু উঁচু হওয়ায় এ সুযোগটা আমরা কাজে লাগাই। সবজির ভালো ফলন হলে অন্য সময়ের তুলনায় আমরা অধিক লাভবান হই।

এ বছর আমি ৫০ হাজার টাকা খরচ করে এক বিঘা জমিতে শশা আবাদ করেছি। কোন প্রাকৃতিক সংকট না হলে তিন থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারব।

মিরাশার বহুমুখি সমবায় চাষি বাজারের পাইকার মো: আব্দুল জলিল মাদবর জানান, মৌসুমী সবজির যে বাজার দর থাকে তার চেয়ে আগাম বর্ষাকালীন সবজির দাম গড়ে কেজি প্রতি ১০-২০ টাকা বেশি থাকে। বর্ষাকালে বাজারে সবজি কম থাকায় দাম একটু বেশি থাকে। এ সময় যে সকল কৃষকরা সবজি উৎপাদন করতে পারে তারা অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১, ২০২১ ১০:৪০ পূর্বাহ্ন
দারিদ্র্যের নয়, দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, বিশ্বে বাংলাদেশ এখন আর দারিদ্র্যের নয়, বরং উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় পরিকল্পনা কমিশন সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তা বাস্তবায়নের ফলেই এ সাফল্য এসেছে।
মন্ত্রী শনিবার রাতে তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি ‘পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম এর সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ড. শামসুল আলম গত ১২ বছরে পরিকল্পনা প্রণয়নে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন ও সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁর কর্মদক্ষতা, সততা ও পেশাগত জ্ঞান দিয়েই প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এ সাফল্য দেশের কৃষিবিদদের জন্য গৌরবের ও সম্মানের।
সাধারণ অর্থনীতি বিভাগে গত ১২ বছরের কাজ ও সাফল্য তুলে ধরে সংবর্ধিত অতিথি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজের বিস্তৃতি ও ব্যাপ্তি বেড়েছে। এ দায়িত্বকে গৌরবান্বিত করে যেতে চাই। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই। তিনি বলেন, গত ১২ বছরে গৃহীত বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাই দেশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধিতে যাওয়ার পথ দেখিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি ও বিমান বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, সহকর্মী-সহপাঠীবৃন্দ, সমিতির মহাসচিব ড. মিজানুল হক কাজল, সহসভাপতি সারোয়ার মাহমুদ প্রমুখ প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমের কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
প্রতিমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো: জাহাঙ্গীর আলম ও মানপত্র পাঠ করেন আফরোজা রহমান। এসময় দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ৫ শতাধিক নবীন-প্রবীণ কৃষি অর্থনীতিবিদ ও সমিতির সদস্যবৃন্দ ভার্চুয়ালি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১, ২০২১ ১০:০৪ পূর্বাহ্ন
৭৬৬৪ হেক্টর বীজতলা ও সবজি ডুবে গেছে খুলনায়
কৃষি বিভাগ

খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় টানা চার দিনের বৃষ্টিতে সাত হাজার ৬৬৪ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধান ও সবজি ডুবে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে চার হাজার ৮০০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা। চরম ভোগান্তিতে আছেন সেখানকার অধিবাসী এবং ভোগান্তিতে আছেন কৃষকরা। জেলার মধ্যে শরণখোলায় সবচেয়ে বেশি জমি ডুবে গেছে।

শনিবার (৩১ জুলােই) খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, টানা চার দিনের বৃষ্টিতে খুলনায় এক হাজার ৮১৫ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা ডুবে গেছে। এর মধ্যে কয়রায় এক হাজার ১৫ হেক্টর জমি রয়েছে। কয়রার সুইস গেটের কপাট খুলে যাওয়ায় পানি আটকানো মুশকিল হয়ে পড়েছে।

আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি নেমে না গেলে কয়রার বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দাকোপের ৭০০ হেক্টর জমির বীজতলা ডুবে গেছে।

তিনি আরও জানান, খুলনায় এ বছর পাঁচ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ৭৩০ হেক্টর জমি। বৃষ্টির কারণে ৩১৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি জমি ডুবে গেছে। বৃষ্টির সঙ্গে বাতাস থাকায় আউশ ধানের ২২ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার এক হাজার ৭০০ হেক্টর আমন বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে। পাশাপাশি ৮৬০ হেক্টর রোপা আমন জমি ও ৫০০ হেক্টর সবজি ডুবে গেছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বাগেরহাটে এক হাজার ২৮৭ হেক্টর জমির আমন বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এ জেলায় পাঁচ হাজার ৬৪২ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছিল। রোপা আমনের ১৫ হেক্টর জমি ডুবে গেছে।

তিনি আরও জানান, জেলায় ২৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়। আউশ ধানের ৯৫০ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত। আউশ চাষ হয় পাঁচ হাজার ২৯৮ হেক্টর জমিতে। গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ হয় ছয় হাজার ৩০৫ হেক্টর। এর মধ্যে ২০৯ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৩১, ২০২১ ৭:২২ অপরাহ্ন
ভারত থেকে নদী পথে ভেসে আসছে টমেটোর চালান
কৃষি বিভাগ

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা সীমান্তে স্থল পথের পাশাপাশি নদী পথে ভেঁসে আসছে ভারতীয় পণ্য। সংশ্লিষ্ট বাহিনী তৎপরতার কারণে চোরাকারবারীরা নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে।নদী পথ ব্যবহার করে ভারত থেকে নিয়ে আসছে নানা রকমের পণ্য সামগ্রী। নিরাপদ রুট হিসাবে কৌশলে নদী পথ ব্যবহার করা হয়।উপজেলার যে সকল নদীপথ গুলো চোরাকারবারীরা ব্যবহার করছে সেগুলো হল খাঁসি, খোয়াই, রাংপানি, ছাগল খাউরী, কলসী, নয়াগাং, কাটাগাং, বড়নয়াগাং ও সারী নদী।

এ সকল নদীর উৎসমূখ ভারত সীমান্তে থাকায় বর্ষার মৌসুমে চোরাকারবারীরা দিন-রাত ভারত থেকে নদী পথে অভিনব পন্থায় সব্জীসহ গাড়ীর টায়ার টিউব, মাদক সামগ্রী চালি বেঁধে নদীর পানিতে ভাঁসিয়ে আনা হচ্ছে।

চোরাকারবারী দলের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার কঠোর শর্তে ছবি ভিডিও করার সুযোগ দিয়ে বলেন, আমরা পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জল কিংবা স্থল পথে পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছি। এসব পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের পর তেমন কোন সমস্যায় পড়তে হয় না, ব্যবসায়ী কিংবা ক্যারিয়ারদের।

তারা আরোও বলেন, পণ্যের মালিকের সাথে সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সংখ্যক মনোনিত সোর্সম্যান রয়েছে। তাদের সাথে নির্দিষ্ট চুক্তির মাধ্যমে আমরা এসব পণ্য নিয়ে আসছি। পণ্য খালাসে ভারত সীমান্ত অংশে প্রবেশকালে আমাদের ঝুঁকি বেশি। যে কোন সময় বিএসএফ হানা দেয়, তখন জীবন বাজি রেখে এসব পণ্য নিয়ে আসি। অনেক সময় পণ্য ফেলে এলোপাতাড়ী দৌড়ে বাংলায় ফিরে আসি।

বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিতে বেশ কিছু দিন থেকে আমাদের কয়েকটি গ্রুপ নদী পথে ভারত হতে সুপারী, সাতকরা, টমেটো, গাড়ীর টায়ার, কসমেট্রিক্স সামগ্রী,ঔষধ, মেডিকেল সামগ্রী, বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট ও নাছির বিড়ি নিয়ে আসি।বিভিন্ন সময়ে এসব পণ্য স্থল পথে আনা হয়। তবে স্থল পথের তুলনায় নদী (জল) পথ সবচেয়ে নিরাপদ।

১৯ বিজিবি’র এফএস রেজাউল করিম’র সাথে ফোনালাপে তিনি বলেন, বিজিবি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জৈন্তাপুর ক্যাম্পের সদস্যরা রাতে অভিযান চালিয়ে ৮ ক্যারেট ভারতীয় টমেটো আটক করে। সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা এগিয়ে না আসলে শতভাগ সফল হওয়া যাবে না। তবে নদী পথের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখব। সীমান্ত চোরাচালান মুক্ত রাখতে সচেতন মহল এগিয়ে আসার আহবান জানান।জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম দস্তগীর আহমেদ বলেন, চোরাচালান রোধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop