৮:৫৯ অপরাহ্ন

শনিবার, ২৫ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২৩ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লার সবজি চারা বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে
কৃষি বিভাগ

একপাশে গোমতীনদী অন্য পাশে রানী ময়নামতির প্রাসাদ। তার মাঝেই সমেষপুর গ্রাম। ছায়া সুনিবিড় সমেষপুর গ্রামে এখন নজর কাড়ে চারা চাষিদের ব্যস্ততা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন। কেউবা পানি ছিটাচ্ছেন। কেউবা চারা তুলে আটি করছেন। পাশে দাঁড়িয়ে থেকে পাইকাররা চারা গুনে গাড়িতে তুলছেন। এমন দৃশ্য কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার সমেষপুর গ্রামে। বছরের ভাদ্র থেকে অগ্রহায়ণ এ ৪ মাস চারা উৎপাদন ও বিক্রয় হয়। এ চার মাসে প্রায় চার কোটি টাকারও বেশী রবিশস্যের চারা উৎপাদন ও বিক্রি করেন ওই জনপদের কৃষকরা। এসব রবিশস্যের চারা দেশের সবজি চাষিদের চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে প¦ার্শবর্তী দেশ ভারতেও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট প্লটে গায়ে গায়ে লেগে হাজারো চারা দোল খাচ্ছে। রোদ থেকে বাঁচাতে চারা গাছের উপরে বাঁশ পলিথিন দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চাষিরা নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিস্কার করছেন। কেউবা পানি ছিটিয়ে চারাগুলোকে সতেজ করার চেষ্টা করছেন। প্লটগুলোতে মাথা তুলে আছে মরিচ, টম্যাটো, বেগুন, তাল বেগুন, লাউসহ নানান প্রজাতির চারা। এ চারাগুলোই কিছু দিন পরে বিভিন্ন জমিতে ফুল ফলে ভরিয়ে দেবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর বুড়িচং উপজেলার সমেষপুরসহ পাশের কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৩০ একর জমিতে চারা চাষ করেছেন কৃষকরা। চারটি ব্লকে ৯৪ জন চাষি চারা উৎপাদনের সাথে জড়িত।

সমেষপুর এলাকার চারা চাষি মোঃ আলমগীর হোসেন বাসসকে বলেন, তিনি এ বছর ১০০ শতক জমিতে চারা চাষ করেছেন। তার বাগানে টমেটোসহ নানান জাতের চারা রয়েছে। এ ১০০ শতক জমিতে চারা উৎপাদনে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। আবহাওয়া ঠিক থাকলে খরচ বাদে তার মুনাফা হবে অন্তত ৫ লাখ টাকা।

বুড়িচং উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায় বাসসকে বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চারা উৎপাদনের সময় রোগ ও পোকামাকড় এর আক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পরামর্শ উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগণ দিয়ে থাকেন। তাছাড়া, রবি প্রণোদনা, বোরো হাইব্রিড প্রণোদনা, পারিবারিক সবজি পুষ্টি বাগান, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন প্রদর্শনীসহ কৃষক প্রশিক্ষণে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৃষককে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২৩ ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
কোটালীপাড়ায় কৃষি উপকরণ বিতরণ শুরু
কৃষি বিভাগ

অনাবাদি পতিত জমি ও সমলয়ে চাষাবাদ কার্যক্রমের আওতায় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় গতকাল সকাল ১০টায় ২৭৫ জন কৃষকের মধ্যে বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ও সাবেক সিনিয়র সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এ কার্যক্রমের আওতায় কৃষকের মাঝে ৬ প্রকার ফলের চারা, ১২ রকমের সবজি বীজ, বিভিন্ন প্রকার সার, ফোয়ারাযুক্ত পানির টব, নেটসহ কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। ফলের চারা, সবজি বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ দিয়ে উপজেলার ২৭৫ জন কৃষক বসতবাড়ির আনাবাদি ও পতিত জমিতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন করবেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌস ওয়াহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কৃষক সমাবেশে গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আঃ কাদের সরদার, ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ ড. বিজয় কৃষ্ণ বিশ^াস, অনাবাদি পতিত জমি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আকরাম হোসেন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নিটুল রায়, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লক্ষ্মী সরকার, কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিন্দ্রনাথ রায়, কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুষার মধু, কৃষক জীবন হাজরাসহ অরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ও সাবেক সিনিয়র সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশের এমন কোন স্থান নেই যেখানে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক দিক নির্দেশনায় বর্তমান সরকারের আমলে সমগ্র দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি দেশের কোন নিদিষ্ট অঞ্চলের কথা চিন্তা না করে সমগ্র দেশের সকল সেক্টরের উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু বিগত দিনে যারা দেশের সরকার প্রধান ছিলেন তারা শুধু নিজ নিজ অঞ্চলের উন্নয়ন করেছেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আর এ উন্নয়নের ফলে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না। আমরা তাঁর সেই নির্দেশ মোতাবেক অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

কৃষক জীবন হাজরা বলেন, কান্দি ইউনিয়নের তালপুকুরিয়া বিলে আমার ৩বিঘা জমি রয়েছে। প্রায় শতবর্ষ ধরে এ জমি অনাবাদি ছিল। এ বছরই প্রথম আমার এ জমি আবাদ করা হয়েছে। এ জন্য কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সার, বীজ ও ধান রোপণের জন্য ফ্রি শ্রমিক দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নিটুল রায় বলেন, উপজেলার কান্দি ইউনিয়নে প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমি অনাবাদি রয়েছে। আমরা এ অনাবাদি জমির প্রায় ১ হাজার ৫০০ বিঘা আবাদের আওতায় আনতে পেরেছি। আগামী মৌসুমে আমরা এ ইউনিয়নের সমস্ত অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনতে পারবো বলে আশা করছি। ওই কর্মকর্তা অরো বলেন, আমরা ২৭৫ জন কৃষককে ফলের চারা, সবজি বীজ ও কৃষি উপকরণ দিচ্ছি। এগুলো দিয়ে তারা বসতবাড়ির পতিত ও অনাবাদি জমিতে পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপন করবে। এ বাগানে উৎপাদিত ফল ও সবজি দিয়ে কৃষক পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২৩ ৯:২১ পূর্বাহ্ন
ঝিকরগাছায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বোরো ধান আবাদ
কৃষি বিভাগ

মিঠুন সরকার, যশোরঃ কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নে বদলে যেতে শুরু করেছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষি চিত্র। ১ ফসলী জমি রুপ নিয়েছে ৩ ফসলী বা ৪ ফসলী জমিতে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার আউশ অথবা রোপা আমন ধান চাষের পর স্বল্প জীবনকালের সরিষা চাষের পর আবার বোরো ধানের চাষ করেছেন অনেকে। যেখান থেকে কৃষক পাচ্ছেন সর্বোচ্চ মুনাফা।

খাদ্য সংকটের নানান গুঞ্জন পাশ কাটিয়ে বেড়ে চলেছে বোরো ধান উৎপাদন। বৈরি আবহাওয়া, কৃষি পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধিও থামাতে পারেনি বোরো উৎপাদন । উপজেলা জুড়ে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে ২০২২-২৩ অর্থবছরে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে  বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯,৩৭৫ হেক্টর। যার মধ্য হাইব্রিড ২,০০০ হেক্টর এবং উফশী ১৭,৩৭৫ হেক্টর ।

বিগত ২০২১-২২ অর্থবছরে উপজেলায় মোট ১৮,৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের উৎপাদন হয়েছিলো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, ‘বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষক প্রশিক্ষণ, জলবায়ুর ওপর প্রশিক্ষণ, ধানের বাজার মূল্য বৃদ্ধি, ন্যায্য মূল্য সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ও কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবার বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।‘ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ধানের বাম্পার ফলন হবে বলেও তিনি আশাবাদী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২৩ ১০:৩৬ অপরাহ্ন
গাজর চাষে লাভের মুখ দেখবেন যেভাবে
কৃষি বিভাগ

আমাদের দেশে সাধারণত বিদেশ থেকে বিভিন্ন জাতের গাজরের বীজ আমদানি করে চাষ করা হয়। যেমন, রয়েল ক্রস, কিনকো সানটিনে রয়েল, কোরেল ক্রস ও স্কারলেট নান্টেস। এছাড়া আরও আছে পুষা কেশর, কুরোদা-৩৫, নিউ কোয়ারজা, সানটিনি, ইয়োলো রকেট ইত্যাদি জাতগুলো কৃষকদের নিকট জনপ্রিয়। এসব জাতের মধ্যে পুষা কেশর আমাদের দেশের জলবায়ুতে বীজ উৎপাদনে সক্ষম।

পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আছে এমন বেলে দোঁআশ ও দোআঁশ মাটি গাজর চাষের জন্য ভালো। যেখানে গাজর চাষ হবে সেই জায়গাটি যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাসযুক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আশ্বিন থেকে কার্তিক (মধ্য সেপ্টেম্বর-মধ্য নভেম্বর) মাস বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। প্রতি হেক্টরে ৩ থেকে ৪ কেজি বীজ লাগে। সারি হতে সারির দূরত্ব হবে ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার।গাছ-গাছের দূরত্ব ১০ সেন্টিমিটার।

গাজর চাষের জন্য ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমির মাটি ঝুরঝুরে করে তৈরি করতে হবে। গাজরের বীজ সারিতে বপন করা ভালো। এতে গাজরের যত্ন নেওয়া সহজ হয়।

গাজরের বীজ খুব ছোট বিধায় ছাই বা গুঁড়া মাটির সঙ্গে মিশিয়ে বপন করা ভালো। এজন্য ভালো বীজের সঙ্গে ভালো শুকনা ছাই বা গুঁড়া মাটি মিশিয়ে বপন করা যেতে পারে। গাজর চাষে হেক্টরপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণে সার প্রয়োগ করতে হবে। সারের পরিমাণ প্রতিহেক্টরে গোবর অথবা জৈবসার ১০ টন, ইউরিয়া ১৫০ কেজি, টিএসপি ১২৫ কেজি এবং এসওপি অথবা এমপি ২০০ কেজি হারে প্রয়োগ করতে হবে।

সম্পূর্ণ গোবর ও টিএসপি এবং অর্ধেক ইউরিয়া ও এমপি সার জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া সমান দুই কিস্তিতে চারা গজানোর ১০ থেকে ১২ দিন ও ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর মাটির উপরে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক এমপি সার চারা গজানোর ৩৫-৪০ দিন পর মটির উপরে প্রয়োগ করতে হবে।

বীজ থেকে চারা গজাতে ১০ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে। তবে বপনের আগে বীজ ভিজিয়ে রাখলে (১৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা) ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে চারা বের হয়।

চারা গজানোর ৮ থেকে ১০ দিন পর ৮ থেকে ১০ সেন্টিমিটার পরপর ১টি করে গাছ রেখে বাকি সব উঠিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে আগাছা পরিষ্কার ও মাটির চটা ভেঙে দিতে হবে। প্রয়োজনমতো সেচ দেওয়া ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। মাটির জো দেখে দুসপ্তাহ পরপর ৩ থেকে ৪টি সেচ দেওয়া উৎপাদনের জন্য ভালো।

গাজরে জাব পোকা আক্রমণ করে। এ পোকা ও গাছের কচি অংশের রস শুষে খেয়ে গাছের ব্যাপক ক্ষতি করে। পোকা দমনের জন্য রগোর এল -৪০, ক্লাসিক ২০ ইসি, টিডফেট ৭৫ এসপি, টিডো ২০ এসএল ইত্যাদি কীটনাশকের যে কোনো একটি অনুমোদিত মাত্রায় ব্যবহার করা যেতে পারে। অথবা বাইকাও-১ প্রয়োগ করতে হবে।

গাজরের হলুদ ভাইরাস রোগও দেখা দেয়। লীফ হপার পোকার মাধ্যমে গাজরে অনেক সময় হলুদ ভাইরাস রোগ দেখা যায়। এ পোকার আক্রমণের ফলে গাজরের ছোট বা কচি পাতাগুলো হলুদ হয়ে যায়, পরে কুঁকড়িয়ে যায় এবং লক্ষণীয়ভাবে গাছের পাতার পাশের ডগাগুলো হলুদ ও বিবর্ণ হয়ে যায়।

লীফ হপার পোকার আক্রমণ হলে দ্রুত দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে। আক্রান্ত ডালপালা কেটে ফেলতে হবে এবং চারপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সবিক্রন ৪২৫ ইসি ২ মিলিলিটার পানি অথবা রেলোথ্রিন ১ মিলিলিটার পানিতে স্প্রে করতে হবে।

চারা গজানোর ৭০ থেকে ৮০ দিন পর সবজি হিসেবে গাজর খাওয়ার জন্য ক্ষেত থেকে সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। হেক্টরপ্রতি গাজরের ফলন ২০ থেকে ২৫ টন। সব ধরনের নিয়ম মেনে গাজর চাষ করলে বেশ লাভবান হওয়া যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২৩ ১১:৫৩ অপরাহ্ন
বিষমুক্ত সবজি চাষে আনোয়ারের সাফল্য
কৃষি বিভাগ

বিষমুক্ত নিরাপদ পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন রাজশাহীর চারঘাটের কৃষক আনোয়ার হোসেন। উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের বালুরদিয়া এলাকায় স্ত্রী শাহিদা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ১৫ কাঠা জমিতে লাউ ও লালশাক চাষ শুরু করেন তিনি। বেসরকারি সংস্থা বুরো বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ দুই ফসলে মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ করে তিনি এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার টাকা আয় করেছেন।

জানা গেছে, সবজি চাষের জন্য গত বছর অক্টোবর মাসে আনোয়ারের স্ত্রী শাহিদা বেগম বুরো বাংলাদেশের বানেশ্বর শাখা থেকে জাইকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত (এসএমএপি) প্রকল্পের আওতায় এক লাখ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বুরো বাংলাদেশের আঞ্চলিক কৃষি কর্মসূচি সংগঠক আবদুর রহমান বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষের জন্য এলাকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন। হাতে কলমে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে জৈব বালাইনাশক তৈরির প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বিনামূল্যে ফেরোমেন ফাঁদ, হলুদ আঠালো পেপার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা দেন কৃষকদের। তবে আনোয়ার চাষ শুরু করলে অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হন।

এ বিষয়ে কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, মাত্র ১৫ হাজার টাকা ইনভেস্ট করে ইতোমধ্যে ৬৫ হাজার টাকার শাকসবজি বিক্রি করেছি। আরও ১৫-২০ হাজার টাকার শাক ও লাউ বিক্রি হবে। তবে অর্ধেক জমিতে ঘাষ চাষ করেছি গরুকে খাওয়ানোর জন্য। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বিষমুক্তভাবে সবজি চাষে বেশ সাফল্য পেয়েছি।

এ ব্যাপারে বুরো বাংলাদেশের কৃষি কর্মকর্তা এবিএম তাজুল ইসলাম জানান, আমরা দেশের ১১ জেলায় বিশেষ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। তার অংশ হিসেবে চারঘাটে আমাদের প্রোগ্রাম হয়। আনোয়ারের সাফল্য অবশ্যই ইতিবাচক। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, টেকনিক্যাল সাপোর্ট এবং পরামর্শ দিয়ে ফসলের অবস্থা মনিটর করছি। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচও কমছে, একইসঙ্গে জমির মাটি ও পরিবেশ নিরাপদ থাকছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২৩ ৭:১৩ অপরাহ্ন
কুয়েতে সবজি চাষে এগিয়ে বাংলাদেশিরা
কৃষি বিভাগ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে বিভিন্ন পেশায় প্রায় আড়াই লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী এ দেশের মাজারা বা কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাহিরের বিভিন্ন দেশ হতে আমদানি কমাতে এবং দেশটি সবজি চাহিদা পূরণ লবণাক্ত পানিকে প্রযুক্তির মাধ্যমে মিঠা পানিতে রুপান্তার করে কৃষিকাজে ব্যবহার করেছে বাংলাদেশিরা।

কৃষিপ্রধান অপার সম্ভাবনাময় নিজ দেশ ছেড়ে প্রবাসে এসে শত প্রতিকূলতা নিয়েও সবজি চাষ ও কুয়েতের সবজি চাহিদা মেটাতে কৃষিখাতে এক উজ্জ্বল ও অনবদ্য দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন বাংলার সূর্যসন্তান প্রবাসীরা।

কুয়েতের কৃষিঅঞ্চল বলে খ্যাত দুটি এলাকা। দেশটির এক প্রান্তে ‘ওয়াফরা’ ও অন্য প্রান্তে ‘আবদালি’ এলাকা। এ দুটি এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশটির সিংহভাগ সবজির চাহিদা মেটাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কুয়েত সিটি হতে প্রায় ১২০ কি.মি দূরে সৌদি আরব, ইরাক, ইরান সীমান্তবর্তী দুই মরু অঞ্চলের উর্বর মাটির শাক-সবজি, ফল উৎপাদনে পাশাপাশি গবাদি পশু-পাখির খামারের জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত এই অঞ্চল দুইটি।

ওই এলাকায় বাংলাদেশি কৃষকরা চাষাবাদ করছেন মাসকলাই, ভুট্টা, ফুলকপি, মুলা, লাল শাক, পাট শাক, বাঁধাকপি, টমেটো, ক্যাপসিকাম, বেগুন, শসা, স্ট্রোবেরি, বরই ফলসহ বিভিন্ন সবজি ও আবাদি ফসল। তবে প্রবাসীরা অনেক কষ্ট করে সবজি উৎপাদন করলেও নিয়মিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না অনেকে। জানা যায় শখের বসে যে সকল স্থানীয় নাগরিকরা ফলমূল, শাকসবজির বাগান করে থাকেন ঐ সকল মাজরায়(বাগান) কাজ করা শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা ভালো। দক্ষ ও পরিশ্রম শ্রমিকদের বছর শেষে বেতন বাড়ছে।

বাংলাদেশিদের কুয়েতে আসতে ভিসা প্রক্রিয়ায় লামানা (বিশেষ অনুমোদন) প্রয়োজন হয়। এই জটিলতার কারণে ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রচুর টাকা খরচ করতে হয় দেশটিতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের। কিন্তু বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিশর শ্রমিকদের লামানার প্রয়োজন হয় না। যেখানে নামমাত্র খরচে কুয়েতে আসতে পারেন দেশগুলোর প্রবাসীরা। এদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় কৃষিক্ষেত্রের পেশায় দিনদিন বাড়ছে তাদের আধিপত্য।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৩ ১০:০১ পূর্বাহ্ন
বিষমুক্ত সবজি চাষে লাভবান বগুড়ার কৃষকরা!
কৃষি বিভাগ

পরিবেশবান্ধব জৈব সার ব্যবহার করে সবজি চাষে সফলতা পেয়েছেন শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের কৃষকরা। রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ তেমন না থাকায় কম খরচে অধিক ফসল পাচ্ছেন তারা। বিষমুক্ত সবজি হওয়ায় বাজারেও অধিক দাম পাচ্ছেন কৃষকেরা।

জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের কৃষকরা বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন। একসময় এই এলাকার কৃষকরা বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, মিষ্টিকুমড়া ও শিম চাষ করতে যেখানে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতেন, এখন তারা এসব সবজি উৎপাদন করছেন কোন প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই। মানুষ যেন বিষমুক্ত সবজি বাজার থেকে সহজে কিনতে পারেন, সেজন্য ছোট ফুলবাড়ি বাজারে স্থাপন করা হয়েছে নিরাপদ সবজি কর্ণারও।নিরাপদ সবজি কর্ণারে সবজি নিয়ে যাওয়ার জন্য ২০টি কৃষক গ্রুপের মাঝে বিনামূল্যে ২০টি ভ্যান বিতরণ করা হয়েছে। ১০০ একর জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, করলা, মিষ্টিকুমড়া ও শিম চাষ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার ফারজানা আক্তার জানান, এ বছর ঊপজেলায় সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৭৮০ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে ১৭৩০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এখানে সম্পূর্ণ আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করেই সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। নিরাপদ উপায়ে সবজি চাষের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন আধুনিক জৈব প্রযুক্তি সম্পর্কে জানানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৩ ৭:৪২ অপরাহ্ন
কৃষিকে বাণিজ্যিকিকরণ করা গেলে বহু কৃষিবিদের কর্মসংস্থান হবে: কৃষিমন্ত্রী 
কৃষি বিভাগ

দীন মোহাম্মদ দীনু: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, এম.পি।সেমিনার শুরুর আগে ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক কৃষিবিদ দিবসের র‌্যালি উদ্বোধন করেন ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বরে পুষ্পস্তক অর্পণ করেন।

এসময় তিনি আরোও বলেন, অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। এখানে পৃথিবীর সব ফসল হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আধুনিক প্রযুক্তির অনেক কর্মসূচি নিয়েছেন। কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে বায়োটেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবট, ন্যানো টেকনোলজি, এডিটেড ব্রিডিং ইত্যাদি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন। খাদ্য রপ্তানির লক্ষ্য নিয়েও তিনি কাজ করছেন। আমাদের কৃষিবিজ্ঞানীরা যদি আরো ডেডিকেশন নিয়ে কাজ করেন তবে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে সমৃদ্ধশালী দেশ। যেখানে কৃষিবিদরা অগ্রজ ভুমিকা পালন করবে। বঙ্গবন্ধু আমাদের অনেক দিয়েছেন, তিনি ছিলেন মহামানব।

বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের শান্তির, সমৃদ্ধির দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কৃষিবিদরা স্ব-স্ব অবস্থান ও পেশা থেকে কঠোর পরিশ্রম করবেন, সত্য-নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে কাজ করে ও মিথ্যাচার করে তাদের মূল থেকে উৎপাঠন করে বাংলাদেশকে সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠা করবেন।
এসময় কৃষিবিদরাই গ্রামকে শহরে রূপান্তর করতে সবচাইতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালিদ বাবু, প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান।

গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ আবু হাদী নূর আলী খান এর সভাপতিত্তে¡ সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনাব ইকরামুল হক টিটু, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জনাব এহতেশামুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাকৃবি সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড এম. এ. সাত্তার মন্ডল।

এছাড়াও অনুষ্ঠানের সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি কৃষিবিদ আবুল ফয়েজ কুতুবী, তৎকালীন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি কৃষিবিদ মোঃ ইয়াছিন আলী, বাকৃবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রহমতুল্লাহ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি জনাব মোঃ নজিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ রমিজ উদ্দিন ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি জনাব খন্দকার তায়েফুর রহমান রিয়াদ। এছাড়াও মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ ড. মোঃ সালেহ আহমেদ, কৃষিবিদ ড. হামিদুর রহমান, বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আসলাম আলী, কৃষিবিদ ড. মোঃ আওলাদ হোসেন, কৃষিবিদ আরীফ জাহাঙ্গীর, গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. সুবাস চন্দ্র দাস, কৃষিবিদ মিজবা-উজ-জামান, কৃষিবিদ সারোয়ার মোর্শেদ জাস্টিজসহ অনেক বরেন্য কৃষিবিদ।

উল্লেখ্য সেমিনারে বাংলাদেশের বিভিন্নপ্রান্ত হতে প্রায় চার হাজার কৃষিবিদ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৩ ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
ডোমারে বেড়েছে সরিষা চাষ, আশা বাম্পার ফলনের
কৃষি বিভাগ

স্বল্প চাষ, কম খরচে সাময়িক সময়ে পরিত্যক্ত থাকা চাষের জমিতে সরিষা চাষে ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কৃষকদের। কৃষকরা গত বছরের তুলনায় এবারে আড়াইশ হেক্টর জমিতে বেশি সরিষা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকুল থাকলে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন সরিষা চাষীরা।

উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের কৃষক ইদ্রীস আলী বলেন, এক বিঘা(৩৩শতাংশ) জমিতে বারী-১৪ জাতের সরিষা চাষ করেছি। ক্ষেতে ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তুলতে পারবো।

নয়ানী গ্রামের বাবু অনাথ চন্দ্র রায় জানান, আমন ধান কাটার পর বোরো চাষ পর্যন্ত কৃষকদের জমি প্রায় আড়াই হতে তিন মাস পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। দেড় বিঘা জমিতে বারী-৯ জাতের সরিষা চাষ করেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে সরিষা কেটে ফসল ঘরে তুলবো। ওই জমিতে বোরো ধান চাষ করবো।

একই ইউনিয়নের তরিকুল ইসলাম, চয়ন রায়, মধূসুধন রায় জানান, এবারে তুলনামূলক ভাবে সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। তেমন একটা রোগ বালাই দেখা দেয়নি। ফসল ঘরে তুলতে পারলেই লাভবান হবো।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে এক হাজার চারশত পঞ্চাশ জন কৃষককে কৃষি প্রনোদনা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে জনপ্রতি এক কেজি সরিষা বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফরহাদুল হক বলেন, গত বছর সাতশত ষাট হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ অর্জন হয়েছে। এবারে কৃষি বিভাগের প্রচার প্রচারনা ও কৃষি প্রনোদনা পাওয়ায় সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা সরিষা কাটাই মাড়াই শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে গত বছরের তুলনায় এবারে অধিক ফলন পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২৩ ৯:৫৬ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ সিড কংগ্রেস আগামীকাল
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ সিড কংগ্রেস ২০২৩ শুরু হচ্ছে শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে। তিন দিনব্যাপী এ কংগ্রেস চলবে সোমবার পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিড কংগ্রেসের প্রধান সমন্বয়ক এবং সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক, অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম আনিস উদ্ দৌলা।

এ সময় জানানো হয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে প্রায় এক হাজার দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মী, বীজ ডিলার, বীজ ব্যবসায়ী, বীজ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কৃষিবিদ, ব্যাংকার, শিক্ষক ও কৃষক প্রতিনিধিরা অংশ নেবে। যার মধ্যে ৫০ জন বিদেশি প্রতিনিধিও থাকবেন।

এ মেলায় ১৩টি প্যাভিলিয়ন ও ৬০টি স্টল থাকবে। যার মধ্যে ১০টি বিদেশি স্টল থাকবে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল প্রতিষ্ঠান স্টলসহ মেলায় অংশগ্রহণ করবে।

শনিবার ১০টায় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার শুভ উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার।

অতিথি হিসেবে থাকবেন ইন্টারন্যাশনাল সিড ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল মাইকেল কেলার। এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক সিড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. মানিশ প্যাটেল এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি. সিমসন।

তিন দিনব্যাপী মেলায় ৫টি কারিগরি সেশন থাকবে এবং দেশি-বিদেশি প্রতিথযশা বিজ্ঞানী, বীজ গবেষকদের ১৫টি কারিগরি পেপার উপস্থাপিত হবে যার মধ্যে ৯টি পেপার উপস্থাপনা করবেন বিদেশি, বিজ্ঞানী/সংস্থার প্রধান।

এছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বীজশিল্প বিকাশে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০ জন বীজ ব্যবসায়ী ব্যক্তিদের মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হবে। এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop