১১:০৮ পূর্বাহ্ন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ৩১, ২০২২ ১২:৩১ অপরাহ্ন
রোজায় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিং করা হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

তিনি বলেন, সরকারের সময়োপযোগী ও ত্বরিত পদক্ষেপের ফলে ইতোমধ্যে তেল, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। এদিকে কয়েকদিন পরেই রোজা শুরু হচ্ছে। রোজার মাসে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করা হবে। দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ে কাউকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। বরং যারা দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও ফায়দা লুটার কথা ভাবছে ও অপচেষ্টা করছে, তারা চরম হতাশ হবে।

বুধবার বিকালে কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলেই দেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার আগে দেশে ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। আওয়ামীলীগ পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশকে প্রথম খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিল ও ২৬ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যে ২০০২ সালে দেশে ০৬ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়।

জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি আর কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না মন্তব্য করে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে বিএনপি বিশ্বাস করে না।  যাকে দিয়েই নির্বাচন কমিশন গঠন করা হোক, তারা তা মানবে না ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। নির্বাচনে জিতবে – এ নিশ্চয়তা দিলেই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ  থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শাহীন আহমেদ ও সঞ্চালনা করেন যুগ্ম আহ্বায়ক মই মামুন ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩০, ২০২২ ১০:১১ অপরাহ্ন
বরিশালে ডিএই কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ নগরীর খামারবাড়ির কৃষি তথ্য সার্ভিসের সম্মেলনকক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ডিএই বরিশালের উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ( মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) বাদল চন্দ্র বিশ্বাস।

প্রধান অতিথি বলেন, জনসংখ্যার আধিক্য, কৃষি জমি কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এখনকার কৃষি আগের তুলানায় অনেক চ্যালেঞ্জিং। এর মধ্য দিয়ে ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন আর ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আর তা বাস্তবায়ন হলেই দেশের খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কাজের গুণগতমান বজায়ের পাশাপাশি সংখ্যাগত বিষয়ের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই আমরা সফলকাম হব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ, গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের (ডিএই অংগ) উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস।

পটুয়াখালী সদরের উপজেলা কৃষি অফিসার মার্জিন আরা মুক্তার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালীর উপ-পরিচালক একেএম মহিউদ্দিন, বরগুনার উপ-পরিচালক আবু সৈয়দ মো. জোবায়দুল আলম, পিরোজপুরের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার, ঝালকাঠির উপ-পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম, ভোলার উপ-পরিচালক মো. হাসান ওয়ারীসুল কবীর, পটুয়াখালীর জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন তালুকদার, উজিরপুরের উপজেলা কৃষি অফিসার মো. তৌহিদ প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় ৭০ জন কর্মকর্তাবৃন্দ  অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩০, ২০২২ ৩:২৮ অপরাহ্ন
আপাতত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের পরিকল্পনা নেই: কৃষিসচিব
কৃষি বিভাগ

আপাতত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন কৃষিসচিব মোঃ সায়েদুল ইসলাম। মঙ্গলবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি আলোচনা পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিসচিব বলেন, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে থাকি। এখন পর্যন্ত কৃষক পেঁয়াজের ভাল দাম পাচ্ছে।

অন্যদিকে, সামনে পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে। এই সময়ে পেঁয়াজের দাম যাতে না বাড়ে, সেটিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। তাই, আপাতত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের পরিকল্পনা কৃষি মন্ত্রণালয়ের নেই। তবে আমরা নিবিড়ভাবে বাজার মনিটর করছি, কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের সংখ্যা ৭৭টি। মোট বরাদ্দ ৩ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ৪০%, যা জাতীয় গড় অগ্রগতিরে চেয়ে ৫% বেশি। এ সময়ে জাতীয় গড় অগ্রগতি হয়েছে ৩৫%।

সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থাপ্রধান ও  প্রকল্প পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৯, ২০২২ ৪:৫৪ অপরাহ্ন
বরিশালের কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ভাসমান বেডচাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণ
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালের কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ভাসমান বেডচাষিরা উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণ করেছেন। আজ ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ, গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের (ডিএই অংগ) উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রকল্প পরিচালক (বারি অংগ) ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস।

প্রকল্পের মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন অফিসার বিবেকানন্দ হীরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নলছিটির উপজেলা কৃষি অফিসার ইসরাত জাহান মিলি, মুকসুদপুরের উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, নেছারাবাদের উপজেলা কৃষি অফিসার চপল কৃষ্ণ নাথ, নলছিটির কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আলী আহমেদ, মুকসুদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার চৈতন্য পাল, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক, নলছিটির কৃষক মুহাম্মদ রাব্বি প্রমুখ।

কৃষকদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি বলেন, দেশের নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণে ভাসমান কৃষির রয়েছে বিরাট ভূমিকা। তবে এর বাস্তবায়ন আপনাদের মাধ্যমেই সম্ভব। তাই গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে এসে যেসব আধুনিক প্রযুক্তিগুলো দেখলেন, তা মাঠে প্রয়োগ করলে ভাসমান কৃষি অনেক এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি আপনারাও হবেন লাভবান।

উদ্বুদ্ধকরণ সফরে আগত চাষিরা আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে স্থাপিত ভাসমান কৃষির বিভিন্ন প্রযুক্তি ঘুরে দেখেন। এতে বরিশালের নলছিটি, পিরোজপুরের নেছারাবাদ এবং গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ৯০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৯, ২০২২ ৪:৩৫ অপরাহ্ন
বিষপানে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন- কৃষিসচিব
কৃষি বিভাগ

রাজশাহীতে সেচের পানি না পেয়ে কৃষকের আত্মহত্যা ঘটনায় কারো গাফিলতি পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিসচিব মোঃ সায়েদুল ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

রাজশাহীতে সেচের পানির না পেয়ে কৃষকের আত্মহত্যার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য রবিবার (২৭ মার্চ) যুগ্ম সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং) আবু জুবাইর হোসেন বাবুলকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক, বিএডিসি’র (নাটোর) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন ও বিএমডিএর (নওঁগা) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শমসের আলী। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তদন্ত কমিটিকে। চার সদস্যের কমিটি বর্তমানে রাজশাহীতে ঘটনাস্থলে তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

কৃষিসচিব বলেন, খবরটি জানার সঙ্গে সঙ্গে খোঁজখবর নিয়েছি।বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ),জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহি অফিসার সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেচের পানি সময়মতো না পাওয়ার কারণ ও কৃষকের বিষপানের বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা ও দোষীদের চিহ্নিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারো গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পুলিশও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে,তারা ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সেচের পানি না পেয়ে কীটনাশকপানে আত্মহত্যা করেন রবি মার্ডি ও অভিনাথ মার্ডি নামে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর দুই কৃষক। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৯, ২০২২ ১:১১ অপরাহ্ন
বান্দরবানে আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে সবুজ পাহাড়
কৃষি বিভাগ

পাহাড়ের আমগাছগুলো মুকুলে ছেয়ে গেছে। পাহাড় জুড়ে শোভা পাচ্ছে চোখ জুড়ানো আম চাষ। গাছে ডাল মুকুলে টুইটুম্বর। পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সবুজ পাহাড় জুড়ে শুধু আমের সোনালী মুকুল। আম্রপালী, রাংগোয়াই সহ বিভিন্ন প্রজাতির আমের চাষ হয় এই জেলায়। বিভিন্ন জাতের দেশি বিদেশি আম চাষ হয় পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে। তবে পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় সবচেয়ে বেশি আম্রপালি’ আমের চাষ হয়।

কৃষকেরা জানালেন, মিষ্টি ও আকারে বড় হওয়ায় এখানকার আমের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় বিগত বছরে আম বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন তারা। এবারও আমের ফলন ভাল হবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

বান্দরবান সদর উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা দীপঙ্কর দাস জানান, কৃষকরা ঠিকমতো আম গাছের পরিচর্যা করছে কিনা, সে বিষয়ে তারা নজর রাখছেন। এছাড়া আম চাষের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ি মাটিতে উৎপাদিত আম্রপালি আম খেতে বেশ সুস্বাদু পুষ্টিগুণসম্পন্ন তাই রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, আম চাষীরা প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। আমের ফুল ঝরে পড়েনি তাই আশা করছি এ বছরও আমের বাম্পার ফলন হবে।

চলতি বছর বান্দরবান জেলায় ৭ হাজার হেক্টর জায়গায় আমের চাষ হয়েছে। তার মধ্যে শুধু আম্রপালী চাষ হয়েছে ১ হাজার ৬৬৯ হেক্টর জমিতে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৮, ২০২২ ২:৪৫ অপরাহ্ন
নাটোরের লালপুরে পদ্মার চরে মাল্টা চাষ
কৃষি বিভাগ

নাটোরের লালপুরে পদ্মার চরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাল্টার চাষ। সুস্বাদু ও রসালো এই ফলের বাম্পার ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। নাটোরের লালপুরের পদ্মার চরাঞ্চলসহ প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টার চাষ শুরু হয়েছে। এতে কৃষকরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি কাজের সুযোগ হয়েছে স্থানীয় অনেক বেকার যুবকের।

লালপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, মাল্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তোলার জন্য প্রণোদনাসহ সকল ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

নওপাড়া গ্রামের মাল্টাচাষি নাহিদ হোসেন বলেন, তিন বছর আগে যশোর থেকে চারা এনে মাল্টার চাষ শুরু করেন। পদ্মার চরে অন্য ফসলের সাথে এক একর জমিতে লাগান মাল্টার চারা। তিন বছরেই সাফল্য ধরা দিয়েছে নাহিদের হাতে। গতবছর নিজের বাগানের মাল্টা বিক্রি করেছেন তিনি। এবারও ভালো ফলন হবে বলে তার আশা। তার সাফল্যে পদ্মার চরে অন্য চাষীরাও করছেন মাল্টার বাগান।

পানসিপাড়ার কৃষক মজনু বলেন, নাটোর হর্টিকালচার থেকে বারী-১ জাতের মাল্টার চারা এনে ২০ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেন। বিঘাপ্রতি বছরে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তেমন রোগবালাইহীন মাল্টাগাছে দুই বছরে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। এ পর্যন্ত লাখ টাকার ওপরে মাল্টা বিক্রি করেছেন।

পদ্মা চরের চাষীদের সাফল্য দেখে সমতলের অনেকেই শুরু করেছেন মাল্টার আবাদ। ভালো পারিশ্রমিক পাওয়ায়, মাল্টা বাগানে কাজ করছেন অনেকেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকতা রফিকুল ইসলাম জানান, মাল্টা চাষে উৎসাহিত করতে চাষীদের বিনামূল্যে চারা বিতরণ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। পাশাপাশি মাঠ পরিদর্শন ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৮, ২০২২ ১:৪৮ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে সেচকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে সোলার পাম্প
কৃষি বিভাগ

রবি মৌসুমে বোরো ফসল উৎপাদনে সেচ একটি অন্যতম বিষয়। আর এই সেচ প্রদানের জন্য ডিজেল বা বিদ্যুৎ ব্যবহারে বোরো উৎপাদন খরচ পড়ে অনেক বেশি। তাই ডিজেলের বিকল্প হিসেবে, সৌরশক্তিচালিত পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা। এতে কমে গেছে বোরো ধান উৎপাদনের খরচ। ডিজেল চালিত পাম্পের তুলনায় বিঘাপ্রতি ১৫০০-২০০০ টাকা কমে সেচ দিতে পাড়ছেন কৃষকরা।

সময়ের বিবর্তনে আধুনিক হয়েছে সবকিছু। পাশাপাশি আধুনিক হয়েছে ফসল উৎপাদন পদ্ধতি ও ব্যবহার বেড়েছে সোলার সেচ পাম্পের। বাড়তি খরচ বা ঝামেলা না থাকায় এই পাম্পের দিকে ঝুঁকছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরাও। ডিজেল চালিত যন্ত্রের সাহায্যে ধান উৎপাদনে যে খরচ হয়, সোলার সেচ পদ্ধতিতে ব্যয় হয় তার অর্ধেক। ফলে এই পাম্প ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও জেলায় বোরো আবাদ হয়েছে ৬০ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯শ হেক্টর জমিতে ১শত ৪১ টি সোলার সেচ পাম্পের সুবিধা নিচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষক মামুন মিয়া জানান, আমরা সোলারের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিচ্ছি। এতে আমাদের বেরো উৎপাদন খরচ অনেক কমে গিয়েছে। বর্তমানে ১ বিঘা জমিতে সোলার পাম্প দিয়ে সেচ দিতে খরচ হচ্ছে ২ হাজার টাকা। আবার এই টাকা পরিশোধ করতে হবে ধান কেটেঁ বিক্রয় করার পরে।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, বাজারে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে জেলার প্রায় সাত হাজার কৃষক এখন সোলার পাম্পের মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে বোরো ধানের চাষ হয়েছে ৬০ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯’শ হেক্টর জমিতে ১’শ ৪১টি সৌরশক্তিচালিত সেচ পাম্পের সুবিধা নিচ্ছেন কৃষকরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৮, ২০২২ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
বিষ ছাড়া শাকসবজির পোকা দমনের টিপস
কৃষি বিভাগ

শাকসবজি ও ফসলে বহু রকমের পোকামাকড় আক্রমণ করে। আবার এক এক সবজিতে এক এক পোকার আক্রমণ দেখা যায়। যেমন বেগুনের ডগা ও ফলছিদ্রকারী পোকা শুধু বেগুনই আক্রমণ করে। আবার একই পোকা একই সাথে অনেক সবজিতে আক্রমণ করে। যেমন জাব পোকা, জ্যাসিড, মাকড়, লেদা পোকা ইত্যাদি। তাই শাক সবজির পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে কৌশলী না হলে সেসব শত্রু পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না।

সাধারণত এ দেশের সবজি চাষিরা শাক সবজির পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে বিষাক্ত কীটনাশকের উপর বেশি নির্ভর করেন। এখনো এ দেশে বিভিন্ন ফসলের মধ্যে সবজিতে সবথেকে বেশি কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। সবচেয়ে বেশি কীটনাশক দেয়া হয় বেগুন, শিম, বরবটি ইত্যাদি ফসলে। তাতে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ হয় বটে, কিন্তু তার ক্ষতিকর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ ও মানুষের উপর। যত্রতত্র কীটনাশক ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন পোকামাকড়ও সেসব কীটনাশকের প্রতি ধীরে ধীরে প্রতিরোধী হয়ে ওঠে অন্যদিকে তেমনই চাষি ও সবজি ভোক্তারা কীটনাশকের বিষাক্ততায় আক্রান্ত হয়ে নানারকম অসুখ-বিসুখে ভোগে। এ অবস্থা কাম্য নয়। তাই বিষের হাত থেকে ফসল, পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যকে রক্ষা করতে বসতবাড়িতে এখন প্রাকৃতিক উপায়ে শাক সব্জির পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে জোর দেয়া উচিত।

প্রকৃতিতেই এসব শত্রু পোকাদের শায়েস্তা করার নিদান লুকিয়ে আছে। আছে বিভিন্ন বন্ধু পোকা ও মাকড়সা, উপকারী রোগজীবাণু। ক্ষেতে কোনও বিষ না দিলে এরা বেঁচে থাকে এবং প্রাকৃতিক নিয়মেই শত্রু পোকাদের মেরে ফেলে। এছাড়া আছে বিভিন্ন কীটবিনাশী গাছপালা। এসব গাছপালা থেকে উদ্ভিদজাত কীটনাশক তৈরি করে আক্রান্ত ক্ষেতে প্রয়োগ করলে তাতে শত্রু পোকা নিয়ন্ত্রণ হয় অথচ সেসব প্রাকৃতিক কীটনাশক বন্ধু পোকাদের কোনও ক্ষতি করে না। বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষার ফলাফলে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিচে শাক সবজির ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পোকামাকড়ের প্রাকৃতিক উপায়ে নিয়ন্ত্রনের পদ্ধতি বর্ণনা করা হল। আশা করি ক্ষেত জরিপ করে পোকামাকড়ের অবস্থা বুঝে এসব পদ্ধতি প্রয়োগ করে বিনা বিষে সবজির পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

সবজির জাব পোকা:
জাব পোকা সবজি ফসলের একটি মহা শত্রু পোকা । শিম, বরবটি, মটরশুটি, মরিচ, টমেটো, ঢেঁড়শ, বেগুন, কুমড়া, কপিসহ প্রায় সব সবজিতেই এ পোকা আক্রমণ করে থাকে । এমনকি লেবু ও পেয়ারা গাছেরও জাব পোকা ক্ষতি করে । জাব পোকারা দলবদ্ধভাবে সাধারণতঃ পাতার নিচের পিঠে থাকে । পোকাগুলো দেখতে খুব ছোট ছোট, রঙ সবুজ থেকে কালচে সবুজ । জাব পোকা যেখানে থাকে সেখানে পিঁপড়াও ঘুরে বেড়ায় । তবে শুধু পাতা নয়, এরা কচি ফল ও ফুলেও আক্রমণ করে। সেখান থেকে রস চুষে খায় । ফলে পাতা, ফুল, ফল বিকৃত হয়ে যায়, বৃদ্ধি থেমে যায় । পূর্ণাঙ্গ ও বাচ্চা দু অবস্থাতেই এরা ক্ষতি করে । এ ছাড়া জাব পোকা সবজির ভাইরাস রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে । বিনা বিষে এ পোকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাদি নেয়া যেতে পারে-

শুকনো গোবর গুঁড়ো করে সবজি গাছের জাব পোকা আক্রান্ত অংশে ছিটিয়ে দিতে হবে। একইভাবে কাঠের ছাই ছিটিয়েও উপকার পাওয়া যায় ।

একটি মাটির পাত্রে গো মূত্র রেখে ১৪ থেকে ১৫ দিন পচাতে হবে । পরে তার সাথে ১০ গুণ বেশি পানি মিশিয়ে ক্ষেতে স্প্রে করতে হবে ।

সমপরিমাণ রসুন ও কাঁচা মরিচ বেটে তা ২০০ গুণ পানির সাথে মিশিয়ে জাব পোকা আক্রান্ত ক্ষেতে ছিটালে ভাল উপকার পাওয়া যায় ।
সেচ দেয়ার সময় সেচের পানির সাথে সেচ নালায় সামান্য পরিমাণ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায় ।

আতা, শরিফা, রসুন, নিম, তামাক ইত্যাদি গাছ গাছড়া থেকে বালাইনাশক তৈরি করে জাব পোকা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা যায় ।এসব গাছের কাঁচা পাতা বেটে রস করে পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করা যায় । শুকনো তামাকপাতা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি ছেঁকে তার সাথে দশগুণ পানি মিশিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করা যায় । ১০০ থেকে ২৫০ গ্রাম রসুনের কোয়া বেটে রস করে তা ১০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করা যায়।

হলদে রঙের আঠা ফাঁদ পেতেও পাখাযুক্ত জাব পোকাদের আকৃষ্ট করা যায়। একটা ছোট স্বচ্ছ প্লাস্টিকের বয়মের ভেতরে হলুদ রঙ করে সেটা একটি কাঠির মাথায় উপর করে আক্রান্ত ক্ষেতে টাঙ্গিয়ে দেয়া যায়। এর ভেতরে গ্রীজ বা আঠালো পদার্থ লেপে দিলে পাখাওয়ালা জাব পোকারা হলুদ রঙে আকৃষ্ট হয়ে বয়ামের ভেতরে ঢুকে আঠায় আটকে মারা পড়বে । এতে ক্ষেতে জাব পোকার সংখ্যা ও বিস্তার কমে যাবে ।

সবজির জ্যাসিড পোকা:
জ্যাসিড পোকা দেখতে খুব ছোট এবং হালকা সবুজ রঙের। পূর্ণাঙ্গ পোকা প্রায় ২.৫ মিলি মিটার লম্বা। পোকা সাধারণত পাতার নিচে লুকিয়ে থাকে গাছ ধরে ঝাঁকালে জ্যাসিড চারদিকে লাফিয়ে উড়ে যায়। এরা বেশ স্পর্শকাতর। ছোঁয়া লাগলেই দ্রুত অন্যত্র সরে যায়। জ্যাসিড বাংলাদেশে ঢেঁড়স ও বেগুন এর একটি অন্যতম প্রধান ক্ষতিকর পোকা। এ ছাড়া জ্যাসিড আলু, মরিচ, কুমড়াজাতীয় সবজি, টমেটো, তুলা, বরবটি ইত্যাদি ফসলেরও ক্ষতি করে থাকে। এ দেশে প্রায় ১০ প্রকার ফসলে জ্যাসিড ক্ষতি করে। শুষ্ক আবহাওয়ায়, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ক্ষেতে জ্যাসিডের আক্রমণ বেশি দেখা যায়। কোনো কোনো ক্ষেতে এ সময়ে জ্যাসিডের ব্যাপক আক্রমণে প্রায় সব বেগুন গাছই নষ্ট হয়ে যায়। বছরের অন্য সময় এদের দেখা গেলেও মূলত বসন্তকালে এদের আক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করে। পর্যায়ক্রমে এসব গাছে উপর্যুপরি বংশবিস্তার করে, ফলে সারা বছরই এদের দেখা যায়। প্রবল বর্ষায় এদের আক্রমণ কমে যায়। একটি প্রজাতির জ্যাসিড বেগুনে ক্ষুদে পাতা রোগের জীবাণু ছাড়ায় বলে জানা গেছে।

পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণাঙ্গ, দুই অবস্থাতেই জ্যাসিড সবজি গাছে আক্রমণ করে। চারা রোপনের পর পাতায় থাকে ও পাতা থেকে রস চুষে খায়। এর ফলে আক্রান্ত পাতা বিবর্ণ হয়ে যায় এবং কচি পাতা কুঁচকে যায়। আক্রমণ বেশি হলে পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়ে । পাতা থেকে রস চুষে খাওয়ার সময় জ্যাসিড পাতায় এক রকম বিষাক্ত পদার্থ গাছের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়। এতে আক্রান্ত পাতা প্রথমে নিচের দিকে কুঁকড়ে যায়। পরে পাতার কিনারা হলুদ হয়ে যায় এবং শেষে পাতায় মরিচা রঙ হয়। একটি গাছের সমস্ত পাতা এমনকি আক্রমণ অত্যধিক হলে সম্পূর্ণ ক্ষেত ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে করনীয় হচ্ছে-

বর্ষাকালে চারা রোপণ করতে হবে ।

বিএআরআই-এর কীটতত্ত্ব বিভাগ এক গবেষণা করে দেখেছে যে ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলিলিটার নিমতেল অথবা নিমবিসিডিন মিশিয়ে তিন বার ক্ষেতে স্প্রে করতে পারলে জ্যাসিড দমনে সুফল পাওয়া যায় । নিম তেল ব্যবহার করলে নিম তেল ও পানির সাথে ১ মিলিলিটার তরল সাবান যেমন ট্রিক্স মেশাতে হবে ।

নিমতেল ছাড়া ১লিটার পানিতে ৫০টি নিম বীজের শাঁস ছেঁচে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে তারপর সে পানি ছেঁকে স্প্রে করলেও উপকার পাওয়া যায়।

প্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম ডিটারজেন্ট বা গুড়া সাবান গুলে ছেঁকে সে পানি পাতার নিচের দিকে স্প্রে করেও জ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

চারা অবস্থায় আক্রান্ত গাছে ছাই ছিটানো যেতে পারে । চারা অবস্থায় জ্যাসিড দেখা গেলে মসলিন বা মসৃণ কাপড়ের তৈরি হাতজাল দ্বারা জ্যাসিড ধরে সংখ্যা কমাতে হবে ।

তামাক পাতা ১কেজি পরিমাণ নিয়ে ১৫ লিটার পানিতে এক রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে । এর সাথে সামান্য সাবান যোগ দিতে হবে। ছেঁকে সেই দ্রবণ স্প্রে করতে হবে ।

থ্রিপস:
থ্রিপস সবজির একটি প্রধান ক্ষতিকর পোকা। শিম, বরবটি, টমেটো, বেগুন ইত্যাদি সবজিতে এরা আক্রমণ করে থাকে। এমনকি ধান ফসলেও চারা অবস্থায় থ্রিপস ক্ষতি করে । ধানের থ্রিপস দেখতে কালচে রঙের, সবজির থ্রিপস বাদামি বা কালচে বাদামি। তবে শিমের থ্রিপস আবার কালো। থ্রিপস খুব ছোট, কাল পিঁপড়ার মত, পাখাযুক্ত । পাখাগুলো নারিকেল পাতার মত সূক্ষ্ম পশমে চেরা। পূর্ণবয়স্ক থ্রিপস কচি পাতা ও ফুলের রস চুষে খেয়ে ক্ষতি করে। এতে কচি পাতা কুঁকড়ে যায় এবং আক্রমণ অধিক হলে পাতা বিবর্ণ হয়ে যায় ও ফুল ঝরে পড়ে। এজন্য ফলন কমে যায়। প্রত্যক্ষ ক্ষতির পাশাপাশি থ্রিপস পরোক্ষ ক্ষতিও করে। যেমন এরা টমেটোর দাগযুক্ত নেতিয়ে পড়া রোগের ভাইরাস ছড়ায়।

বিনা বিষে এ পোকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাদি নেয়া যেতে পারে।
রসুন কোয়া ১০০ গ্রাম বেটে আধা লিটার পানিতে ২৪ ঘণ্টা ভেজাতে হবে। এর সাথে ১০ গ্রাম গুড়া সাবান মেসাতে হবে। এর পর ছাঁকতে হবে। এর সাথে ২০ গুণ অর্থাৎ ১০ লিটার পানি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

সাবান পানি স্প্রে করলেও থ্রিপস পোকা দমন করা যায়। পরিমাণ হল প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৪০ গ্রাম গুড়া সাবান।

তামাক পাতা ১ কেজি পরিমাণ নিয়ে ১৫ লিটার পানিতে এক রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে । এর সাথে সামান্য সাবান যোগ করতে হবে । ছেঁকে সেই দ্রবণ স্প্রে করতে হবে।

গুড়া সাবান ৩০ গ্রাম বা শ্যাম্পু ৩০ মিলিলিটার পরিমাণ ৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। একটি মাটির পাত্রে গো মূত্র রেখে ১৪-১৫ দিন পচাতে হবে। পরে তার সাথে ১০ গুণ পানি মিশিয়ে ক্ষেতে স্প্রে করতে হবে।

সবজির মাকড়:
সবজি ফসলে সাধারণত লাল মাকড়ের আক্রমণ দেখা যায়। লাল মাকড় একটি বহুভোজী শত্রু। বেগুন, কুমড়া, ঢেড়শসহ প্রায় ১৮৩টি ফসলে এদের আক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। মাকড় অত্যন্ত ক্ষুদ্র। ভাল করে লক্ষ্য না করলে চোখে পড়েনা । এদের নিম্ফ বা বাচ্চা দেখতে হলে শক্তিশালী মাগনিফায়িং কাঁচ বা অণুবীক্ষণ যন্ত্র লাগে। দৈর্ঘ্যে একটি মাকড় মাত্র ০.৩৫ মিলিমিটার। রং হালকা বাদামী থেকে লাল। তবে স্ত্রী মাকড় বাদামী লাল অথবা সবুজ ও হলুদ বা গাঢ় বাদামী সবুজ।

পূর্ণবয়স্ক মাকড় ও নিম্ফ বা বাচ্চা উভয়ই সবজির ক্ষতি করে। এরা দলবদ্ধভাবে পাতার তলার পাশে থেকে পাতা থেকে রস চুষে খেতে থাকে। ফলে পাতার নিচের পিঠে লোহার মরিচা পরার মত রং দেখা যায়। মাকড়ের সূক্ষ্ম জাল, গোলাকৃতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডিম এবং মাকড়ও সেখানে দেখা যায়। অধিক রস চুষে খেলে পাতা ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়। এদের বোনা জালে গাছের বৃদ্ধি ব্যহত হয় ও ফলন কমে যায়। সেক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারে-

প্রতি ৩ দিন পর পর সবজির জমিতে জরিপ করে মাকড়ের উপস্থিতি নিরুপন করতে হবে। এ সময় মাকড় আক্রান্ত পাতা তুলে পলিব্যাগে নিয়ে তা মাঠের বাইরে এনে ধ্বংস করতে হবে।

রসুন ১০০ গ্রাম পরিমাণ বেটে, পানি ১ লিটার, ১০ গ্রাম সাবান ও ২ চা চামুচ কেরসিন তেল একত্রে মিশিয়ে আক্রান্ত ক্ষেতে স্প্রে করতে হবে।

পাটায় পিষে নেয়া নিম বীজ ৫০০ গ্রাম পরিমাণ ৪০০ লিটার পানিতে মিশিয়ে এক রাত রেখে দিতে হবে। তারপর তা ছেঁকে এক একর জমিতে স্প্রে করতে হবে। একবার স্প্রে করলে তা ২ সপ্তাহ পর্যন্ত মাকড়ের আক্রমণ মুক্ত থাকতে পারে।

গুড়া সাবান ৩০ গ্রাম বা শ্যাম্পু ৩০ মিলিলিটার পরিমাণ ৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

সবজি পাতার ম্যাপ পোকা:
শিম, বরবটি, কুমড়ো, টমেটোর ছোট গাছ বা চারা পাতায় অনেক সময় হালকা বা সাদা রঙের আঁকাবাঁকা সুরঙ্গের মত অনেক দাগ দেখা যায়। পাতা সুরঙ্গকারী এক ধরনের মাছির বাচ্চারা এ ধরনের দাগ সৃষ্টি করে থাকে। দাগগুলো দেখতে ম্যাপের মত বলে এ পোকাকে ম্যাপপোকা ও বলে। এসব সজীব দাগ বা আক্রান্ত স্থানে পাতার উপর ও নিচের পর্দার মধ্যে দাগ ফাটালে এ পোকার হলদেটে ম্যাগোট বা কীড়া দেখা যায়। অধিক আক্রমণে পুরো পাতাই শুকিয়ে যায়। এর ফলে চারা গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি আক্রান্ত চারা মারাও যায়। আক্রান্ত গাছে ফলন কম আসে ও ফল হয় ছোট। বিনা বিষে এ পোকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাদি নেয়া যেতে পারে-

আক্রান্ত পাতা তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে ।

তামাক পাতা ১ কেজি পরিমাণ নিয়ে ১৫ লিটার পানিতে ১ রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে । এর সাথে সামান্য সাবান যোগ করতে হবে । ছেঁকে সেই দ্রবন স্প্রে করতে হবে ।

প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলিলিটার নিমতেল মিশিয়ে তিনবার ক্ষেতে স্প্রে করতে পারলে সুফল পাওয়া যায়। নিম তেল ব্যাবহার করলে নিম তেল ও পানির সাথে ১ মিলিলিটার তরল সাবান যেমন ট্রিক্স মেশাতে হবে ।

সূত্রঃ কৃষি বাংলা

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৭, ২০২২ ১০:৫৪ অপরাহ্ন
সৎ, নিষ্ঠাবান ও মেধাবীদের নেতৃত্বে আনতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

সৎ, নিষ্ঠাবান ও মেধাবীদেরকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক।

আজ রোববার খিলগাঁওয়ের শেখ রাসেল খেলার মাঠ প্রাঙ্গণে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের খিলগাঁও থানার অধীন ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৎ ও নিষ্ঠাবান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃত। এটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য যেমন অত্যন্ত গর্বের ও অহংকারের, তেমনি এ দেশের জন্যও গর্বের অহংকারের। বিগত ১৩ বছর ধরে একটানা তার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশে সকল ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। উন্নয়নের এ ধারাকে অব্যাহত রাখা ও তা আরও গতিশীল করতে দলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। এজন্য সৎ, নিষ্ঠাবান ও মেধাবীদেরকে দলের নেতৃত্বে আনতে হবে।

তিনি আরো বলেন, নিত্যপণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সরকারের নানা রকম পদক্ষেপের ফলে এরই মধ্যে তেলসহ অনেক পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের দামকে পুঁজি করে বিএনপি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা অহেতুক আন্দোলন করে আবার গাড়িতে আগুন দেওয়া, মানুষকে পুড়িয়ে মারা, রেললাইন তুলে নেয়ার পায়তারা করছে। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সচেতন থাকতে হবে।

সম্মেলনে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতারা ও খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দীন মজুমদার।

পরে বিকালে কৃষিমন্ত্রী রাজধানীর পূর্ব জুরাইনে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop