১১:৫৪ অপরাহ্ন

রবিবার, ২১ জুন , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুন ২২, ২০২২ ৩:৩৯ অপরাহ্ন
রাজধানীতে “ভেটেরিনারি শিক্ষায় নারীর যাত্রা, সক্ষমতায় নতুন মাত্রা” শীর্ষক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
প্রাণিসম্পদ

ভেটেরিনারি শিক্ষার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে মানুষ ও প্রাণির স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রায় সাড়ে তিন শত বছর ধরে সারা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে ভেটেরিনারি শিক্ষা ব্যবস্থা তথা ভেটেরিনারিয়ানরা। মানুষের প্রয়োজনে আবিষ্কৃত ঔষধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি,  রোগ প্রতিষেধক টিকা এবং প্রতিকারের উপায় বের করতে ভেটেরিনারিয়ানদের অবদান অনস্বীকার্য।  পৃথিবীতে প্রাতিষ্ঠানিক ভেটেরিনারি শিক্ষার ইতিহাস বহু পুরানো। প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে ফ্রান্সের লিযন শহরে ১৭৬৬ সালে পৃথিবীর প্রথম ভেটেরিনারি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। সূচনালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন ও মানব স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে সারা বিশ্বের ভেটেরিনারিয়ানরা। দেশের পুরুষ ভেটেরিনারিয়ানরাদের মত নারী ভেটেরিনারিয়ানরাও যেন যুগের সাথে সমানতালে কাজ করে এগিয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করছে বিভিসি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০শে জুন ২০২২ রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের প্রায় দেড় শতাধিক উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যায়নরত বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীদের নিয়ে  “ভেটেরিনারিতে নারী শিক্ষার প্রসারে অবহিতকরণ” সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল BVC)। মূলত ভেটেরিনারি শিক্ষায় প্রসারে নারীদের উদ্ভুদ্ধকরণ এবং নারীরা যাতে প্রাণিসম্পদ সেক্টরে আরো বেশি  অবদান রাখতে সক্ষম হয় সে লক্ষ্যে নানা বিষয়ক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল। বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের নিবন্ধিনভুক্ত ভেটেরিনারি ডাঃ দের তথ্য থেকে দেখা যায় যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পর নারী ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের শতকরা হার কমে গেছে, ফলে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি ( APA) এর কার্যক্রমে ভেটেরিনারিতে নারী শিক্ষা প্রসারে কার্যক্রম গ্রহন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বিভিসি ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে নারী ভেটেরিনারি প্র্যাকটিশনারদের সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহন করে। ঢাকা মহানগরে অবস্থিত মহিলা কলেজ গুলোতে লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার বিতরন এবং উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহন করেছে। গত জুন-১৪-৬-২০২২ এ  প্রথমে আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের সকল ছাত্রীদের মাঝে ভেটেরিনারি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক সভার আয়োজন করে বিভিসি।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল এর সদস্য ও প্রাক্তন ভিসি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. গোলাম শাহী আলম। মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ভেটেরিনারি কাউন্সিল (BVC) এর ( ভারপ্রাপ্ত) রেজিস্ট্রার ডাঃ গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস। আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের প্রাণি বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, প্রফেসর রেহানা আকতার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের  এক্টোপ্যারাসাইকোলজি অনুবিভাগের ড. বেগম শামছুন্নাহার আহমদ, আরো উপস্থিত ছিলেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যাপক প্রফেসর সাবিকুন নাহার এবং অধ্যাপক শায়লা নাসরিন।

পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এর পর সনাতন ধর্মের গীতা থেকে পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের প্রাণি বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, প্রফেসর রেহানা আকতার, তিনি আগত অতিথি এবং ছাত্রীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি সকল ছাত্রীদের ভেটেরিনারি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক এবং ভেটেরিনারি শিক্ষায় সুন্দর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে চমৎকার দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন।

এর পর বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের মূল আলোচক বাংলাদেশে ভেটেরিনারি কাউন্সিল (BVC) এর ( ভারপ্রাপ্ত) রেজিস্ট্রার ডাঃ গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার মূল আলোচনা  শুরু করেন। তিনি বলেন ভেটেরিনারি শিক্ষায় “নারীর যাত্রা,  সক্ষমতায় নতুন মাত্রা” শীর্ষক শ্লোগানের মাধ্যমে
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের ভেটেরিনারি শিক্ষায় ও পেশায় উদ্বুদ্ধকরণে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের  বলেন ভেটেরিনারি শিক্ষা একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা।  এই শিক্ষা গ্রহন শেষে বিসিএস লাইভস্টোক অফিসার,  ভেটেরিনারি শিক্ষক, বাংলাদেশ আর্মি, বিজিবি, পুলিশ অফিসার,  বন বিভাগ, ঔষধ প্রশাসন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর,  ব্যাংকিং সেক্টরসহ নানামুখী চাকুরির সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি খাতে দুধ, মাংস, ঔষধ,  খাদ্য প্রক্রিয়াযাতকরণ ও প্রসেসিং কারখানাসহ ইত্যাদি গ্রুপ অব প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা ভেটেরিনারি শিক্ষায় যথেষ্ট সচেতন না থাকাতে অনেকেই এই ভেট শিক্ষা গ্রহনে আগ্রহী থাকেনা। তিনি ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ভেটেরিনারি পেশা আপনাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। এই পেশায় রয়েছে দেশে – বিদেশে ব্যাপক চাহিদা সেইসাথে চাকুরির পাশাপাশি প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুবিধা।  ইতোমধ্যে দেশে অনেক ভেটেরিনারি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।  তাছাড়াও এ পেশার পেশাগত জ্ঞান অর্জন করে দক্ষ ভেটেরিনারিয়ানরা ডেইরী, পোল্ট্রি, ল্যাবসহ বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছে। ডাঃ গোপাল পরিশেষে বলেন বিভিসি, ঢাকাস্থ  সকল মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যায়নরত বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীদের ভেটেরিনারি শিক্ষা গ্রহনে আগ্রহী, ভেটেরিনারি শিক্ষায় প্রসারে নারীদের অবহিতকরণ কার্যক্রম নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

এরপর বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল এর সদস্য ও প্রাক্তন ভিসি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. গোলাম শাহী আলম, তিনি তার বক্তব্য অত্যন্ত সুনিপুনভাবে ভেটেরিনারি শিক্ষার অদ্যপান্ত, ভেটেরিনারি শিক্ষা নারীরা কেন গ্রহন করবে, ভেটেরিনারি শিক্ষায় নারীদের কি সুযোগ আছে এবং এই শিক্ষায় কি সম্ভাবনা আছে উক্ত বিষয়ে অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২১, ২০২২ ৪:৪১ অপরাহ্ন
কোরবানির পশুর বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে অপসারণে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আহ্বান
প্রাণ ও প্রকৃতি

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু কোরবানি ও কোরবানিকৃত পশুর উচ্ছিষ্টাংশ সুষ্ঠুভাবে অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধ করার জন্য সকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যত্রতত্র পশু জবাই করা হতে বিরত থাকতে এবং সুনির্দিষ্ট স্থানে গর্ত করে গর্তের মধ্যে রক্ত, গোবর ও পরিত্যক্ত অংশ রেখে মাটি চাপা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কোরবানির বর্জ্য অপসারণ বা কোরবানির গোশত বিতরণে পরিবেশ সম্মত ব্যাগ/পাত্র ব্যবহার এবং জবাইকৃত পশুর উচ্ছিষ্টাংশ ডাস্টবিন অথবা নির্ধারিত স্থানে ফেলার অনুরোধ জানানো হয়।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানিকৃত পশুর উচ্ছিষ্টাংশ সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা ও অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে করণীয় বিষয়ে আজ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ অনুরোধ জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মোঃ মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত সচিব(পরিবেশ) সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর আবদুল হামিদ সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কোরবানিকৃত পশুর উচ্ছিষ্টাংশ সুষ্ঠুভাবে অপসারণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চার লক্ষ কপি প্রচারপত্র সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগ ও জেলা কার্যালয়, জেলা প্রশাসন এবং জেলা তথ্য অফিস-সহ অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে দেশব্যাপী বিতরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও, পরিবেশ অধিদপ্তর মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সারা দেশের মসজিদসমূহে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও মসজিদের ইমামদেরকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে করণীয় সম্পর্কে জুম্মার নামাজে বক্তব্য রাখার আহবান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের পাশাপাশি বেসরকারি চ্যানেলে ও প্রচার মাধ্যমে কোরবানির পশুর বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে অপসারণ সংক্রান্ত বার্তা প্রচারের অনুরোধ করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২১, ২০২২ ২:৫৬ অপরাহ্ন
কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত ভৈরবের খামারিরা
প্রাণিসম্পদ

কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভৈরবে দেশীয় পদ্ধতিতে স্টেরয়েড ইনজেকশনমুক্ত গরু মোটাতাজাকরণ করছেন খামারিরা। তবে গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে গরু খামারিরা নায্য দাম পাওয়া নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

কুরবানি উপলক্ষে উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও পৌর শহরে ৫০টির বেশি ছোট-বড় খামারে গরু, ছাগল, মহিষ মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এসব পশু সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার দিয়ে পালন করেছেন খামারিরা।

২৩ বছর ধরে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি গরু মোটাতাজাকরণ করে আসছেন ভৈরবের রুজেন ডেইরি ফার্মের মালিক আশরাফুল আলম রুজেন।

তিনি জানান, চলতি বছর তার গরুর ফার্মে কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে ১৫টির বেশি গরু মোটাতাজাকরণ করেছেন। তবে তার ২৩ বছর যাবত গরু মোটাতাজাকরণের মধ্য এবছরের মতো গোখাদ্যের দাম আর কখনো বৃদ্ধি পায়নি। এই বছর গোখাদ্যের দাম যে পরিমাণ বেড়েছে তা আসলেই দুশ্চিন্তার বিষয়।

এখন ভাবছি কিভাবে বাড়তি টাকা দিয়ে গোখাদ্য কিনে গরু মোটাতাজাকরণ করে লাভবান হবো সেই চিন্তায় দিন পার করছেন তিনি। যদি গত বছর যে গরু ১ লাখ টাকা বিক্রি করছি সেই গরু যদি ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং দেড় লাখ টাকার গরু যদি দুই লাখ টাকায় বিক্রি করি তাহলে কিছুটা লাভবান হবেন বলে তার দাবি।

তিনি তার খামারের গরুকে কোনো ধরণের মুরগির খাবার খেতে দেন না। গ্রামীণ খাবার যেমন গমের ভূষি, ছোলা বুটের ভুষি, ভুট্টার ভূষি, নেপিয়ার ঘাস ও চিকন খড় খাওয়ান তিনি। তবে বর্তমান বাজারে গোখাদ্যের দাম গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। যে ভুষির এক বস্তার দাম ছিলো এক হাজার পাঁচশ টাকা এখন সেই ভুষির প্রতি বস্তার দাম তিন হাজার টাকা।

ভৈরব উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শিরিনা খাতুন জানান, এই বছর উপজেলায় ৫০টি ছোট-বড় খামারে প্রায় ১১ হাজার গরু, ছাগল মহিষ মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। তা দিয়ে এই বছর উপজেলায় যে পরিমাণ পশুর চাহিদা রয়েছে সেই কুরবানির চাহিদা পূরণ করবে। এসব খামারে পশুদের স্টেরয়েড জাতীয় কোনো ধরণের ইনজেকশন ছাড়াই মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে সব ধরনের পরামর্শ ও সেবা প্রদান করে খামারিদের সহযোগিতা প্রদান করেছেন। তবে এবছর গোখাদ্যের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি থাকায় খামারিরা তাদের পালিত গরু, ছাগল, মহিষ ও ছাগলের নায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২০, ২০২২ ২:৫৭ অপরাহ্ন
দেড় মাসের ব্যবধানে ধানের পর হারালেন গরু, দিশেহারা ফখরুল
কৃষি বিভাগ

মাত্র দেড় থেকে দুই মাস আগেই ফখরুল হারিয়েছেন জমির ধান। সেই ধকল কাটিয়ে উঠতে না–উঠতেই এই দফা বন্যায় এক রাতেই মারা গেছে প্রায় দেড় লাখ টাকা দামের তিনটি গরু।

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাওনপুরের বাসিন্দা ফখরুল মিয়া জানান,গরু লালন–পালন করেই সংসার চলে। কি করব। তকদির মন্দ। বড় অসহায় হয়ে গেলাম।’

শনিবার বিকেলে বিশ্বনাথ সড়কে আরও অনেকের সঙ্গে জাল দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছিলেন ফখরুল। ৫০ পেরোনো একজন মানুষ তিনি।

কিছুক্ষণ পরপর জাল তুলছেন। কিছু ছোট মাছ জালে উঠছে। তা ধরে ঝোলায় রাখছেন। অনেকক্ষণ পানিতে দাঁড়ানো, বৃষ্টি ও বাতাসে ঠান্ডা লেগে কাঁপছিলেন তিনি।

ফখরুল মিয়া জানান, গত শুক্রবার থেকে পানি বাড়ছে। এই দিনই বাড়িতে বন্যার পানি উঠে যায়। তাঁর ১৪টি গরু। চারদিকে পানি থাকায় গরুগুলো সরানোর কোনো সুযোগ পাননি। গরুগুলোও পানিতে ছিল। শুক্রবার রাতেই তিনটি গরু মারা গেছে। তাঁর ধারণা, ঠান্ডা লেগেই গরুগুলো মারা যায়। গরুর শোকে মন ভেঙে যায় ফখরুলের।

মৃত গরুগুলো পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। তিনটি গরুর মূল্য আনুমানিক দেড় লাখ টাকা। এখন ১১টা গরু আছে। এগুলো নিয়েও বিপন্ন অবস্থা।

ফখরুল আরও জানান, ‘চাইছিলাম ঈদে গরু বিক্রি করি বড় মেয়ের বিয়া দিমু (বিয়ে দিব)। কিন্তু কিচ্ছু করার নাই। তকদির মন্দ। গরু মরায় মেয়েরা কান্নাকাটি করছে। কইছি, কান্দিও না। তকদিরে যা আছে, তাই অইব।’

প্রায় ১০-১২ বছর ধরে ফখরুল গরু লালন–পালন করেন। গরু বিক্রি করে যে আয় হয়, তাই দিয়েই সংসার চালান। তিন মেয়ে তাঁর। একজন স্নাতক শ্রেণিতে, একজন উচ্চমাধ্যমিকে এবং একজন এবারের মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী।

ফখরুল বলেন, ‘এ রকম পানি আর কোনো দিন দেখছি না। ঘরও পানি উঠি গেছে। চেষ্টা করছিলাম থাকার। পারতাম নায় (পারব না)। আইজ (শনিবার রাতে) হুরুত্বারে (সন্তানদের) আত্মীয় বাড়ি পাঠাই দিমু। গরু আছে। নিজে থাকমু (থাকবো)। পেনাটেনা (কচুরিপানা), খড়-পানি গরুরে খাওয়াইমু (খাওয়াব)। টিকানির চেষ্টা করা আরকি।’

দেড় থেকে দুই মাস আগের বন্যায় ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন চাল কিনে খেতে হচ্ছে ফখরুল ও তাঁর পরিবারকে। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু বিক্রি করে লাভের যে আশা দেখেছিলেন, এবার তাতেও ভাটা পড়ল।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২২ ৪:৪৭ অপরাহ্ন
ব্রয়লার-লেয়ার মুরগী খাদ্যমূল্য ও বাচ্চার দাম বৃদ্ধি, খামারিদের ৮ দফা দাবি
পোলট্রি

পদ্মা সেতুর জাঁকজমক উৎযাপন না করে প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে  প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

‘বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারীদের দুর্দশা এবং তা থেকে মুক্তির উপায়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করেন বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারী ঐক্য পরিষদ।

পরিষদের সভাপতি মিজান বাশারের সভাপতিত্বে ও শাহিন হাওলাদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতিক, পরিবেশবিদ দৈনিক নিউ নেশন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সংগঠনের মহাসচিব কাজী মোস্তফা কামাল, বক্তব্য রাখেন লেখক ও পরিবেশ সাংবাদিক ইরানি বিশ্বাস,খুলনা পোল্ট্রি ফিড ফিসের এস এম সোহরাব, সভাপতি কিশোরগঞ্জ পোল্ট্রি ডিলার শরীফ উদ্দিন, পোল্ট্রি মার্কেট দাউদকান্দি ফিরোজ খান, নরসিংদী পোল্ট্রি সংগঠনের সাধারন সম্পাদক আবু নাসের সবুজ প্রমূখ।

দেশি পোল্ট্রি চাষিদের বাঁচাতে নীতিমালা প্রয়োজন বলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নীতিমালা না হলে সিন্ডিকেটের পাল্লায় পড়ে শিক্ষিত যুব সমাজকে ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৬ বছর। বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৭৩ বছর । আজকে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পুষ্টি । যেটি জোগাড় করেছেন প্রান্তিক চাষিরা, খামারিরা। এখানে বড়দের কোন অবদান নেই।

  • অনুষ্ঠানের ৮ দফা দাবি জানান, বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি ঐক্য পরিষদের মহাসচিব কাজী মোস্তাফা কামাল।
    কোন হ্যাচারীর মালিক বাণিজ্যিকভাবে রেডি ব্রয়লার মুরগী ও লেয়ার মুরগী পালন করতে পারবে না। তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
  • খাদ্যের দাম কমাতে হবে। খাদ্য ও বাচ্চার মান প্রানীসম্পদ অধিদপ্তর কতৃক সার্বক্ষনিক মনিটরিং করতে হবে।
  • খামারিদের বিদু ্যত বিল, শিল্প হারে নিতে হবে।
    ৪. বিগত ০৭/০৩/২০১০ তারিখে সরকার কতৃক নিধারিত ১ দিনের ব্রয়লার ও লেয়ার বাচ্চার দাম ৩০ ও ৩২ টাকা হারে দিতে হবে।
  • রানীক্ষেত, গাম্বরো ও বার্ডফ্লু জাতীয় জটিল রোগের টিকা ও ঔষধ বিনামূল্যে খামারিদের দিতে হবে।
    ৬. সকল খামারিদের একটি সমিতির আওতায় এনে জামানত ছাড়া ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • প্রাকৃতিক দুর্ভোগে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ভূর্তকি দিতে হবে। অথবা ইন্সুরেন্সের আওতাভুক্ত করে ক্ষতি পূরণ দিতে হবে।
  • প্রত্যেক উপজেলার প্রধান বা বড় বাজারগুলিতে খামারিদেরকে সমিতি’র অনুকূলে ২/৩ শতক জায়গা উপর মুরগী ও ডিম বিক্রির দোকান নির্মাণ কর দিতে হবে।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২২ ৪:২৪ অপরাহ্ন
ঈদুল আজহা: প্রস্তুত ১ কোটি ২১ লাখ পশু
প্রাণিসম্পদ

আগামী মাসে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ১ কোটি ২১ লাখ পশু কোরবানি দেয়া হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, এ সংখ্যা বিগত বছরের থেকে ৩৩ শতাংশ বেশি।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপব্যবস্থাপক জিনাত সুলতানা জানান, ‘গত বছর ৯০ লাখ ৮৩ হাজার পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গরু-মহিষ ছিল ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ও ছাগল-ভেড়া ছিল ৫০ লাখ ২৮ হাজার। মোট ৪৬ হাজার কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হয়েছে।’

তিনি জানান, ‘যেহেতু মহামারির মরণ থাবা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে, আমরা আশা করছি, এ বছর বিক্রি আরও বাড়বে। ধারণা করা যাচ্ছে, এবারের ঈদুল আজহায় ১ কোটির ওপরে পশু বেচাকেনা হবে। ব্যবসা হবে ৫০ হাজার কোটি টাকার।’

গবাদি পশু বিক্রির সবচেয়ে লাভজনক বাজার বিবেচনা করা হয় ঈদুল আজহার মৌসুমকে। এবার কোরবানির উদ্দেশ্যে হাটে উঠবে ১ কোটি ২১ লাখ পশু। এর মধ্যে গরু-মহিষের সংখ্যা ৪৬ লাখ ১১ হাজার ও ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭৫ লাখ ১১ হাজার।

কোরবানির হাট সামনে রেখে ইতোমধ্যে ৪২ লাখ ৪০ হাজার গরু-মহিষ ও ৩৩ লাখ ৪৮ হাজার ছাগল-ভেড়া মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে সিংহভাগ গবাদি পশু সরবরাহ করা হয়ে থাকে। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ‘এ বছর ১ লাখ ৭২ হাজার ৭২৯টি গরুর মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার ৩২৫টি গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।’

এদিকে গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারের কোরবানির বাজারে গবাদি পশুর দামও হবে আকাশচুম্বী। খামারিরা জানান, দেড় লাখ টাকা দামের একটি গরুর পেছনে কম করে হলেও ৭০-৭৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

খাবারের দামের ব্যাপারে খামারিরা জানান, এক বছরের মাথায় গোখাদ্যের দাম বস্তাপ্রতি ২০০-৪০০ টাকা বেড়ে গেছে। এতে স্বভাবতই বাড়বে কোরবানির পশুর দাম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২২ ২:১৫ অপরাহ্ন
আসন্ন ঈদ, খরচ বাড়ছে গরু পালনে!
প্রাণিসম্পদ

কোরবানির বাজার ধরতে প্রস্তুত যশোরের খামারিরা। ভালো দামের আশায় খামারের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি ব্যক্তিপর্যায়েও অনেক গরু লালনপালন করা হচ্ছে।

খামারিরা বলছেন, প্রাকৃতিক ও সুষম খাদ্য দেয়ায় এ বছর খরচ বেশি হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে যশোর গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে বেশ এগিয়ে। বিশেষ করে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হওয়ায় খামার স্থাপনের মাধ্যমে এ জেলায় গরু পালন বেড়েছে।

এ বছর জেলার ৮টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ১১ হাজার ছোট-বড় খামারে দেশি পদ্ধতিতে পালন করা হচ্ছে হাজার হাজার গরু-ছাগল। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি ব্যক্তিপর্যায়েও হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে অনেক গরু। দিন-রাতের অবিরাম পরিচর্যা এবং প্রাকৃতিক ও সুষম খাদ্য দিয়ে মোটাতাজা করা গরু-ছাগল এখন বিক্রির জন্য প্রস্তুত।

তাই আসন্ন ঈদের বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন খামারিরা। তারা বলছেন, খামারে যে গরু রয়েছে, তার সর্বোচ্চ মূল্য তিন লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন মূল্য এক থেকে দেড় লাখ টাকা। এবার করোনার প্রভাব কম থাকায় ভালো মুনাফার আশা করছেন। তারা কোনো ধরনের ইনজেকশন বা ওষুধ খাওয়াননি। গরুকে খুদের ভাত, ফল ও ভুসি খাওয়ান। গরু সুস্থভাবে রাখার চেষ্টা করেন।

খামারিদের দাবি, এ বছর গরু পালনে খরচ বেড়েছে। তবে বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে এবং ভারত থেকে গরু না এলে তারা লাভবান হবেন। এ বিষয়ে খামারিরা জানান, গরুর খাদ্যের দাম অনেক বেশি। তারা আশা করেন, বাজারমূল্য এমন থাকলে এবং ভারত থেকে গরু না এলে লাভবান হবেন।

জেলায় এ বছর চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি গরু ও ছাগল পালন করা হয়েছে। এসব প্রাণীর মাংস শতভাগ নিরাপদ বলে জানান যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের চাহিদা পূরণ করতে পারব। এর মধ্যে ৪ থেকে ৫ হাজার গরু আমাদের উদ্বৃত্ত থাকবে। এই কোরবানির ঈদে আমরা গবাদি পশু নিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হব না।’

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, কোরবানির জন্য জেলায় ৯৬ হাজার গরু-ছাগল প্রস্তুত করা রয়েছে। যার মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি গরু এবং সাড়ে ৬৫ হাজার ছাগল।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২২ ১২:৩৫ অপরাহ্ন
গবাদিপশু বাঁচাতে মরিয়া বানভাসিরা
প্রাণ ও প্রকৃতি

নেই থাকার নিশ্চয়তা। জানা নেই খাবার মিলবে কিনা। এত অনিশ্চয়তার মাঝেও গবাদিপশুকে বাঁচাতে মরিয়া কুড়িগ্রামের বানভাসি মানুষ। জেলায় বেড়েই চলেছে নদ-নদীর পানি, বাড়ছে দুর্ভোগও।

ঘরের ভেতরে বিছানা ছুঁইছুঁই পানি। নতুন আশ্রয়ের খোঁজে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন বাবা-মা। দুদিন ধরে জ্বলেনি চুলাও। তাই কুড়িগ্রাম সদরের পোড়ার চরের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোমা, বিস্কুট খেয়ে মেটাচ্ছেন ক্ষুধার জ্বালা।

প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে এমনই যুদ্ধ চলছে কুড়িগ্রামের হাজারো পরিবারের। কারও ঘরে নেই খাবার, আবার কারও নেই ঘুমের জায়গা। অনেকের নৌকাই একমাত্র ভরসা।

নিজেদের জীবন যখন বিপন্ন, তখনও গবাদিপশু রক্ষায় মরিয়া বানভাসি মানুষ। বলছেন, বন্যার পর গবাদিপশুই হবে বেঁচে থাকার সম্বল।

কুড়িগ্রামে বেড়েই চলেছে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তা নদীর পানি। প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। দুর্ভোগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২২ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
পা হারিয়েও থেমে যাননি রুবিনা, সফল হলেন খামার করে
প্রাণিসম্পদ

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ না হলেও গরুর খামার করে স্থানীয়দের রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী রুবিনা খাতুন।

তার বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের শান্তিনগর জংলিপাড়া গ্রামে। বাবা হারানো রুবিনা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ব্যাপক মেধাবী।

পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেল দুর্ঘটনা। ২০১৮ সালে ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পঞ্চগড়ের বাড়িতে ফেরার পথে হঠাৎই রেল দুর্ঘটনায় পড়ে দুই পা হারিয়ে পুঙ্গত্ব বরণ করেন। মা রহিমা বেগমও শরীরে টিউমার নিয়ে রয়েছেন শঙ্কায়। বড় বোন মানসিক প্রতিবন্ধী। একমাত্র ছোট ভাই রংপুরে পড়াশোনা করছে।

দরিদ্র পরিবারের হাল ধরতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠ থেকে ফেরা রুবিনা জানান, দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এক লাখ, রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে দুই লাখ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে ৯২ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছে।

ত্রাণ হিসেবে পাওয়া টাকা দিয়ে তিনি তার চিকিৎসার ব্যয় মিটিয়ে হাতে কিছু থাকা টাকা দিয়ে দেশীয় গরু ও একটি বড় গরু কিনেছেন। এখন সেই গরু লালন পালন করে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন রুবিনা।

গরুটিকে অনেক যত্ন আর স্নেহে পালন করায় আদর করে নামও রেখেছেন স্বপ্নরাজ। বর্তমানে গরুটির ওজন ১ হাজার ১০০ কেজি। দাম হেঁকেছেন ৯ লাখ টাকা।

রুবিনা খাতুন জানান, ১ হাজার ১০০ কেজি ওজনের স্বপ্নরাজের কাঙ্ক্ষিত দাম পেলে পরিবারে অনেকটাই সচ্ছলতা ফিরে আসবে। তিনি সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে তার চলাচলের জন্য একটি ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার সহায়তা চেয়েছেন।

রুবিনার মা রহিমা বেগম জানান, দরিদ্রতার কারণে নিজের চিকিৎসা করা তো দূরের কথা; পরিবারের চাহিদা মেটানো দায় হয়ে পড়েছে। রুবিনার স্বপ্নপূরণে এবং তার খামার সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

পঞ্চগড় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল হাই জানান, রেলপথ দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করা রুবিনার গরুর খামার সম্প্রসারণে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৮, ২০২২ ৫:৫২ অপরাহ্ন
অধিক লাভ পেতে হাঁস-মুরগির যত্ন নিবেন যেভাবে
প্রাণিসম্পদ

গ্রামীন অর্থনীতির অন্যতম পাথেয় হলো হাঁস-মুরগির পালন।গ্রামের প্রায় সবার ঘরে ঘরে দেখা যায় হাঁস-মুরগি। এবং অনেকেই করছেন বৃহৎ আকারে হাঁস-মুরগির খামারও। আর খামারে লাভবান হওয়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা। সঠিক পরিচর্যা প্রয়োগে আরো লাভবান হওয়া সম্ভব। বর্ষাকালের আগেই প্রাণিসম্পদের যত্ন নিতে রয়েছে প্রস্তুতির প্রয়োজন। আর সেজন্য জানা প্রয়োজন তার সঠিক নিয়ম কানুন।

হাঁস-মুরগির যত্ন যেভাবে নিবেন:

১. বর্ষাকলের আগেই প্রাণিচিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিন দিতে হবে।

২. বাজারে রাণীক্ষেতের জন্য নবিলিস এনডি ল্যাসুটা, এনডিএলএস, সিভেক নিউ এল, আইজোভ্যাক এনডি কিল্ড, নিউক্যাভাক, ইমোপেস্ট, নিউক্যাসেল ল্যাসুটা ওষুধ রয়েছে। এছাড়া গামবোরো রোগে নবিলিস ২২৮, সিভেক গামবো এল, আইজোভ্যাক গামবো-২ রয়েছে। আর বসন্ত রোগে সিভেক এফপিএল, নবিলিস, ওভোড্রিপথেরিন পাওয়া যায়।

৩. হাঁস-মুরগির কৃমির জন্য ওষুধ খাওয়ানো, ককসিডিয়া রোগ হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরুরিভাবে অন্যান্য প্রতিষেধক টিকা দিয়ে দিতে হবে।

৪. মুরগি ও হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর কাজটি ভরা বর্ষার আগেই সেরে ফেলতে হবে।

৫. গবাদি পশুর গলাফোলা, ডায়রিয়া, ক্ষুরারোগ, নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগের টিকা দেওয়াসহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. বর্ষা আসার আগেই গবাদি পশুর আবাসস্থল পরিপাটি করে পুনসংস্কার, আশপাশ পরিষ্কার করা, জমে থাকা পানির দ্রুত নিকাশের ব্যবস্থা, বর্ষার নিয়মিত এবং পরিমিত গো-খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য কাজ সঠিকভাবে করতে হবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop