৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

বুধবার, ২৪ জুন , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ১২:১১ অপরাহ্ন
রাজধানীতে আসছে কোরবানির গরু
প্রাণিসম্পদ

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঈদুল আজহা। আর এই ঈদুল আজহার অন্যতম আনন্দ হলো গরু কোরবানি। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউান। এর মধ্যেই কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলীসহ অন্যান্য হাটগুলোতে।

জানা যায়, অনেক ব্যবসায়ী গরু-ছাগল নিয়ে বসে আছেন। তবে, আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না। ক্রেতার উপস্থিতি কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দামও উঠছে না কোরবানির পশুর। বিক্রিও তেমন হচ্ছে না।’

মাহাতাব হোসেন নামের একজন জানান ‘আমি চারটি গরু নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে একটি গরু আকারে অনেক বড়। অনেকেই সেটা দেখতে আসছেন।’

তিনি বলেন, ‘এ গরুর বয়স এখন প্রায় তিন বছর। এ গরুর খাবারের জন্য প্রতি মাসে ২ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।’‘এখনো দাম নির্ধারণ করিনি। তাছাড়া, অনেক বেশি দাম দিয়ে গরু কেনার মতো ক্রেতা এখনও হাটে আসেননি। তাই, অপেক্ষায় আছি বলে জানান তিনি।

গাবতলীতে গরু কিনতে আসা একজন ক্রেতা জানান, ‘হাট এখনও পুরোপুরি জমেনি। করোনার মধ্যেও এসেছি, কারণ কোরবানি তো দিতেই হবে। তাই, হাট পুরোপুরি জমে ওঠার আগেই যদি সম্ভব হয়, তাহলে গরু কিনে ফেলব। কারণ, শেষদিকে মানুষ অনেক বেশি হবে। তখন করোনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। এখানে এসে দেখি বিক্রেতারা অনেক বেশি দাম চাইছেন। এখনও হাটে বেশি গরু আসেনি।’

গাবতলী পশুর হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন জানান, ‘গাবতলীতে বছরের প্রায় পুরোটা সময়ই গরু পাওয়া যায়। তবে, ঈদকে ঘিরে চলে ভিন্ন রকম আয়োজন। ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ক্রেতা ততই বাড়বে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
কোরবানির পশু সুস্থ ও স্টেরয়েড মুক্ত কিনা বুঝবেন যেভাবে
প্রাণিসম্পদ

ডা. আব্দুর রহমান রাফি, শেকৃবিঃ যিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। যিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আযহা পালিত হয়ে থাকে। সে অনুযায়ী এ বছর জুলাই মাসের ২১ তারিখ বাংলাদেশের মানুষ ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন। ঈদুল আযহার অন্যতম একটি আনুষ্ঠানিকতা হলো পছন্দের পশুকে কোরবানি করা।

মুসলিমদের এই উৎসবে সামর্থ্যবানরা পছন্দমতো পশু কোরবানি দিয়ে আল্লাহর কাছে তার তাকওয়া প্রদর্শন করে সামর্থ্যবানদের কোরবানি গরুর মাংসের একটি অংশ থাকে গরিবদের জন্য। আর এই কোরবানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সুস্থ ও সবল পশু নির্বাচন করা।

সারাদেশে ১ কোটিরও বেশি পশু কোরবানিতে জবেহ করা হয়। সবাই ভালো গরুটিই পছন্দ করতে চায়, এজন্যে সবার নজর থাকে গরুর স্বাস্থ্যের প্রতি। এই উৎসবকে পুঁজি করে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করে দ্রুত গরু মোটাতাজাকরণের দিকে ঝুঁকছে।

কোরবানির গরু সুস্থ ও রোগমুক্ত কিনা তা চেনার উপায়:

১) স্টেরয়েড দিয়ে মোটাতাজা করা গরু স্বাস্থ্যবান দেখাবে কিন্তু এরা তেমন চটপটে হবে না। খুব বেশি নাড়াচাড়া করতে দেখা যাবে না। গরুর শরীরে আঙ্গুল দিয়ে হালকা চাপ দিলে ঢেবে যাবে। কিন্তু সুস্থ গরুর শরীরে আঙ্গুলের চাপ দিয়ে আঙ্গুল সরিয়ে নিলে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্বের অবস্থায় ফেরত আসবে।

২) পশুর চোখ উজ্জ্বল ও তুলনামূলক বড় আকৃতির হবে। অবসরে জাবর কাটবে (পান চিবানোর মতো), কান নাড়াবে, লেজ দিয়ে মাছি তাড়াবে। বিরক্ত করলে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সহজেই রেগে যাবে।

৩) সুস্থ গরুর নাকের সামনের কালো অংশ ভেজা থাকবে, অসুস্থ গরুর ক্ষেত্রে শুকনো থাকবে। এছাড়া অসুস্থ গরুর শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকে।

৪) সুস্থ গরুর গোবর স্বাভাবিক থাকবে, পাতলা পায়খানার মতো হবে না।

৫) সুস্থ গরুর সামনে খাবার এগিয়ে ধরলে জিহ্বা দিয়ে তাড়াতাড়ি টেনে নিতে চাইবে। অপরদিকে অসুস্থ পশু ভালোমতো খেতে চাইবে না।

৬) অসুস্থ গরু ঝিমায়, নিরব থাকে। খুব বেশি আশেপাশের কোলাহলে সাড়া দেয় না।

কোরবানির জন্য দেশে গরু,মহিষ, ছাগল প্রভৃতি পশু বা প্রাণীর চাহিদা ব্যাপক। পূর্বে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেও অনেক পশু আমদানি করা হত। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, কোরবানির চাহিদা মোতাবেক দেশে এখন পর্যাপ্ত সংখ্যক পশু বা প্রাণী রয়েছে। পশু ক্রয় থেকে শুরু করে মাংস ভক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে সর্বক্ষেত্রে। রোগব্যাধির প্রকোপ বেশি হলে প্রাণী চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।

কোরবানির পশু কেনার পর আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষই পশুর প্রতি বেশি দরদ দেখাতে গিয়ে জবাইয়ের পূর্বে বেশি করে খাবার খাওয়ায়, যা বিজ্ঞানসম্মত নয়। এতে করে মাংসের গুণগত মান কমে যেতে পারে৷ পশু জবাইয়ের ১২ ঘণ্টা পূর্ব থেকে পশুকে কোনো খাবার না দেওয়াই ভালো এবং বেশি করে পানি খাওয়াতে হবে৷ এতে করে চামড়া ছাড়ানো সহজ হবে৷

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
পঞ্চগড়ে চোরাকারবারির বাড়ি থেকে ভারতীয় গরু উদ্ধার
প্রাণিসম্পদ

পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধপথে দেদারছে আসছে গরু। জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশে কড়াকড়ি না থাকায় উভয় দেশের চোরাকারবারিরা নিয়ে ভারতীয় গরু নিয়ে আসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ দুই চোরাকারবারির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ভারতীয় গরু উদ্ধার করেন।

গতকাল সোমবার (১২ জুলাই) পুলিশ অভিযান করে ভারতীয় গরু উদ্ধর করেন।

পুলিশ জানায়, জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী মালকাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে নিয়ে আসা এই পাঁচটি ভারতীয় গরু উদ্ধার করা হয়। মালকাডাঙ্গা এলাকার গরু চোরাকারবারী ডালিমের (৩৬) বাড়ি থেকে দুটি মাঝারি এবং তার ছোট ভাই মামুনের (৩২) বাড়ি থেকে তিনটি বড় আকৃতির ভারতীয় গরু উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। উদ্ধার গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা। বর্তমানে গরুগুলো বোদা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী পাঁচটি ভারতীয় গরু উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওসি আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর মামুন ও ডালিমসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। পরে গরুগুলোকে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৩, ২০২১ ১০:১১ অপরাহ্ন
চামড়াখাত নিয়ে এবারও শঙ্কা
প্রাণিসম্পদ

গত বছর একেকটি গরুর চামড়া মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনেছেন মৌসুমি কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। বেশিরভাগ এলাকায় ছাগলের চামড়া বিক্রিই হয়নি। এরপর আবার সেই চামড়া আড়তে নিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বড় বিপদে পড়েছিলেন। প্রতিটি গরুর চামড়া ১০০ টাকা, এমনকি ছাগলের চামড়া ১০ টাকায়ও বিক্রি করতে হয়েছিল অনেককে।

ওই সময় চামড়া নিতে আড়তদারদের অনেক অনুরোধ করেন লোকসানে থাকা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তাতে তেমন কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত রাগে-দুঃখে কেউ কেউ সড়কের ওপর চামড়া ফেলে বাড়ি ফিরে যান। এসব ঘটনা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন চামড়া আড়তেই ঘটেছে।

আসন্ন কোরবানি ঈদ নিয়ে চামড়া শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ঈদেও এমন পরিস্থিতির শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। বরং এবার সেই আশঙ্কা আরও বেশি রয়ে গেছে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।

এর কারণ হিসেবে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে করোনার কারণে চাহিদা না থাকায় ট্যানারিগুলোতে এখনও ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার চামড়া জমে রয়েছে। যদিও রফতানি বাজার কিছুটা বেড়েছে। তারপরও পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যেতে আরও সময় লাগবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রচুর চামড়া আমাদের গুদামে রয়ে গেছে। ২০১৯ সাল থেকে করোনার কারণে চায়নায় একই সময়ে একশ কন্টেইনারের বেশি অর্ডার বাতিল হয়েছিল। সে চামড়া বিভিন্ন উপায়ে বিক্রির চেষ্টা করা হয়েছে পরে। কিন্তু এর পরপরই ইউরোপের বাজারেও করোনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন অনেক চামড়া কম দামে বিক্রি হয়েছে। লোকসান দিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।’

তিনি বলেন, ‘যদিও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রফতানির বাজার কিছুটা ভালো। ইউরোপ মার্কেট খুলেছে। বিক্রি ধীরে ধীরে বাড়ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।’

আসন্ন ঈদে কি পরিস্থিতি দাঁড়াতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘আগামী বছর ভালো যাবে। এবারের ঈদ কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেই আসছে। চামড়া সংগ্রহ হবে, কিন্তু বিক্রি না করতে পারলে এত চামড়া কী করব? রফতানি এতটা বাড়েনি এখনও, যত চামড়া এখন ঈদে কেনা দরকার। নিজেদের অবিক্রীত চামড়াই বিক্রি হচ্ছে না।’

এদিকে যারা আড়তে কাঁচা চামড়া কেনেন, তাদের সংগঠনের অভিযোগ ট্যানারি মালিকদের বিরুদ্ধে। ওই সংগঠনের ভাষ্য, বাড়তি চামড়া মজুতের অজুহাতে তারা বাজারে বিপর্যয় তৈরি করছেন।

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ট্যানারি বলছে তাদের চামড়া মজুত রয়েছে। কিন্তু সত্যি কথা হলো তাদের যথেষ্ট বিক্রি রয়েছে, অর্ডার হচ্ছে। ট্যানারি মালিকরা ২০ হাজার মজুত থাকলে বলে ৮০ হাজার আছে। কারণ কেউ তো দেখতে যায় না। এরা এসব বলে চামড়া কেনার টাকা আটকে রাখেন। বাজার ওঠে না।’

আসন্ন ঈদের পরে চামড়ার বাজার কেমন হবে এ প্রশ্নের জবাবে এ ব্যবসায়ীরাও শঙ্কার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা গত চার বছরের চামড়ার দাম বাবদ ১১০ কোটি টাকা বকেয়া রেখেছেন আড়তদারদের কাছে। এ টাকা পরিশোধ করলে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক দামে চামড়া কিনতে পারবেন। বাজার ঠিক হবে।’

এদিকে গত বছর চামড়ার দাম খুব কমিয়ে নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৫-৪০ টাকা। ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দর ২৮ থেকে ৩২ টাকা। যেখানে তার আগের বছর (২০১৯) এই দাম ছিল ৪৫-৫০ টাকা। অর্থাৎ গত বছর দাম কমানো হয়েছিল তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ। এ বছরও দাম বাড়ছে না বলে আভাস দিয়েছে একাধিক সূত্র।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহায় সম্ভাব্য কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা এক কোটি ১৮ লাখ। এর মধ্যে গরু ও মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া ৭২ লাখ ৫৬ হাজার।

গত বছর দাম নির্ধারণের পর তা নিয়ে অসন্তোষ ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে ঈদের পরে সেই দামও পায়নি মানুষ। চামড়া নিয়ে শুরু হয়েছিল বিপত্তি। অনেকে বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিয়েছে। চামড়ার এমন সংকট শুধু গত বছর নয়, ২০১৭ সালের পর থেকেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি সপ্তাহেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠকে চামড়ার দাম নির্ধারণ করবে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা চামড়ার দাম এবং সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এ বছর দাম নির্ধারণ হবে। ব্যবসায়ীরা দাম কমিয়ে নির্ধারণ করতে চাচ্ছে। ট্যানারি মালিকরা নির্ধারিত দামে কাঁচা চামড়া কেনার ঘোষণা দিয়েছেন।

মন্ত্রণালয় বলছে, চামড়ার দাম ঠিক রাখতে ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দেয়া হয়েছে প্রায় ৩০ বছর পর। যদিও সেটা সীমিত পরিসরে শর্তসাপেক্ষে। গত ১০ জুলাই এক কোটি বর্গফুট চামড়া রফতানির অনুমতি পেয়েছে পাঁচটি ট্যানারি। প্রয়োজনে আরও কাঁচা চামড়া ও ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানি করা হবে।

এছাড়া ঈদের দিন থেকে দেশব্যাপী কঠোরভাবে বিষয়গুলো মনিটরিং করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত মনিটরিং টিম। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বছর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জেলা পর্যায়ে চামড়ার দাম মনিটরিং করবে।

চামড়া রফতানি বেড়েছে

এদিকে চার বছর পর সদ্য সমাপ্ত অর্থবছর প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে চামড়াজাত পণ্যের রফতানি। বাংলাদেশে করোনার প্রভাব থাকলেও এর প্রধান বাজার ইউরোপের দেশগুলোতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এ কারণে রফতানি আদেশও বেড়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, গত অর্থবছর (২০২০-২১) চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে ৯৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে আয় হয়েছিল ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। ফলে বছরের ব্যবধানে রফতানি বেড়েছে ৩১ শতাংশ।

তথ্য বলছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে ১১৩ কোটি ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ১১৬ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ আয় আরও বেড়ে হয় ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে চামড়াশিল্প থেকে সবচেয়ে বেশি রফতানি আয়।

এরপর থেকেই ধস নামে এ খাতের রফতানিতে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা ১০৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলারে নেমে আসে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা আরও কমে ১০২ কোটি ডলারে নামে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা আরও কমে ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলারে নেমে আসে।

বড় সংকট ট্যানারি স্থানান্তরে

কয়েক বছর ধরে চামড়ার দামে এ বিপর্যয়ের আরেকটি বড় কারণ রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সে সমস্যা চামড়া শিল্পনগরী সাভারে স্থানান্তরে প্রকল্পের ধীরগতি। আবার শিল্পনগরীর কাজ অসম্পূর্ণ রেখে হাজারীবাগের ট্যানারি উচ্ছেদ।

সাভারে বিসিকের চামড়া শিল্পনগরীর যে প্রকল্প তিন বছরের মধ্যে শেষের কথা ছিল, তা ১৯ বছর পার হলেও শেষ হয়নি।

কিন্তু ২০১৭ সালে উচ্চ আদালত হাজারীবাগের চামড়া কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেন। ফলে সব কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে বেশকিছু চামড়া কারখানার বৈশ্বিক প্লাটফর্ম লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ ছিল। এ সনদের সুবাদে তারা জাপান, কোরিয়াসহ ইউরোপ-আমেরিকায় চামড়া রফতানি করতে পারত। হাজারীবাগে কারখানা বন্ধ হওয়ায় সেই সনদ ও বায়ার (বিদেশি ক্রেতা) হারায় চামড়া শিল্প।

অন্যদিকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরী পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত না থাকায় এখনও এলডব্লিউজির সনদ লাভ ও নতুন বাজার সৃষ্টি হয়নি। ফলে সনদ না থাকায় চীন ছাড়া জাপান, কোরিয়াসহ ইউরোপ-আমেরিকায় এলডব্লিউজির ভিত্তিতে চামড়া রফতানি বন্ধ রয়েছে ২০১৭ সাল থেকে। মূলত তখন থেকেই চামড়া শিল্পে ধস নামে।

এ বিষয়ে সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘২০১৭ সালের আগ পর্যন্ত চামড়া রফতানিতে অগ্রগতি ছিল। এ শিল্পের কোনো মালিক উল্লেখযোগ্য ঋণ খেলাপি ছিলেন না। আসলে চামড়া শিল্পনগরীর স্থানান্তর যেভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি। এ কারণে অসম্পূর্ণ রেখে একদিনে হাজারীবাগ থেকে ২২২টি ট্যানারি বন্ধ করা হয়। ফলে যাদের সঙ্গে নিয়মিত ব্যবসা ছিল, সেসব বায়ার চলে যায়। এখনও সে বাজার ফেরেনি।’

তিনি বলেন, ইতালি, স্পেন, কোরিয়া বা জাপান সীমিত আকারে নিলেও এলডব্লিউজির সার্টিফিকেট না থাকায় বড় বড় বায়ার আসেনি। এটাই মূল কারণ।

বড় পরিসরে চামড়া রফতানি প্রয়োজন

কয়েক দিন আগে স্বল্প পরিসরে চামড়া রফতানির সুযোগ দেয়া হয়েছে। চামড়া খাতের দীর্ঘ জটিলতা কাটাতে বড় পরিসরে রফতানি প্রয়োজন বলে মনে করে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।

গত বছরের চামড়া পরিস্থিতির পরে এ সংস্থাটি ঈদুল আজহায় পশুর কাঁচা চামড়া নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করে রফতানির সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করে।

সংস্থাটি বলছে, ঈদে চামড়া নষ্ট হচ্ছে যার বড় কারণ ছিল চামড়া কিনতে অনীহা। এছাড়া দেশের চামড়া প্রক্রিয়াকারী ট্যানারি মালিকেরা চামড়া কেনার জন্য বাজারে পর্যাপ্ত টাকা ছাড়েননি। এ জন্য তারা ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়াকে দায়ী করেছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে ট্যারিফ কমিশন তাদের সুপারিশে বলেছে, চামড়ার ন্যূনতম দাম ঠিক করে রফতানির সুযোগ দেয়া যেতে পারে। এতে দেশের মানুষ ও খামারিরা উপকৃত হবে। চামড়ার চাহিদা তৈরি হবে।

সুত্র – জাগো নিউজ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৩, ২০২১ ৬:০৭ অপরাহ্ন
ডিজিটাল হাট সময়োপযোগী উদ্যোগ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

করোনা সংক্রমণে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ডিজিটাল হাট সময়োপযোগী উদ্যোগ মন্তব্য করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও ই কমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ই-ক্যাব)-এর যৌথ উদ্যোগে এবং এটুআই এর কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে কোরবানির এ অনলাইন হাটের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “করোনা সংক্রমণ রোধে আমাদের জনসমাগম থেকে দূরে থাকেতে হবে। এজন্য ডিজিটাল ব্যবস্থাকে রপ্ত করতে হবে এবং সেটা কাজে লাগাতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশ ডিজিটাল ব্যবস্থায় এগিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষও এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় ‍যুক্ত হতে পারছে। এ বাস্তবতায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ডিজিটাল হাট সময়োপযোগী উদ্যোগ। এবছর মোট কেরবানির পশুর ২৫ শতাংশ ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিপণনে আমাদের লক্ষ্য রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা মূল্যের ১ লক্ষ ৫৭ হাজার গবাদিপশু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‍বিক্রয় হয়েছে। এটি খুবই আশাব্যঞ্জক।”

তিনি আরো বলেন, “সমৃদ্ধ আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা সবাই ভোগ করছে, এমনকি একসময় এটা নিযে যারা বিদ্রুপ করতো তারাও এ সুবিধা ভোগ করছে। শেখ হাসিনার অনবদ্য সৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। সেই বাংলাদেশে করোনাকালে যদি ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না হতো তাহলে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হতো। এ বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরাধ্য সাধনা এবং প্রচেষ্টার বাস্তবায়ন হওয়া বাংলাদেশ।”

মন্ত্রী এসময় আরো যোগ করেন, “প্রাণিসম্পদ খাতে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩১ জন খামারিকে দুই ধাপে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। খামারিরা যাতে বিপর্যস্ত অবস্থায় না পড়ে সেজন্য খামারিদের সংগঠিত করে উৎপাদিত দুধ, ডিম, মাংস ভ্রাম্যমান বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থা অনেক সহায়তা করেছে।”

অনুষ্ঠানে সংযুক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী যোগ করেন, “কোরবানি সামনে রেখে কোনভাবেই যেন করোনার সংক্রমণ বাড়তে না পারে। সে জন্য অধিক জনসমাগমে মানুষ যাতে না যায়, সেজন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। খামারিদের সহায়তা করতে হবে। তাদের পাশে দাড়াতে হবে।”

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংযুক্ত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ এবং এটুআই-এর প্রকল্প প্ররিচালক ড. মোঃ আব্দুল মান্নান। এটুআই এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন। ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার অনুষ্ঠানে ডিজিটাল হাটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন, ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল ভিডিও উপস্থাপনের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন এবং এটুআই এর ই-কমার্স প্রধান রেজোয়ানুল হক জেমি ডিজিটাল হাটের বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী সকল জেলা-উপজেলার কোরবানির পশু ক্রেতা-বিক্রেতাদের একই প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী ডিজিটাল হাট চালু করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও ই-ক্যাবের যৌথ উদ্যোগে এবং এটুআই এর কারিগরি সহায়তায় এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর আওতায় www.digitalhaat.net প্ল্যাটফর্মে সারাদেশের ২৪১টি ডিজিটাল হাট যুক্ত করা হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৩, ২০২১ ৩:৪৮ অপরাহ্ন
কাঁটাবন মার্কেটের মাছ ও পশু-পাখির জীবন রক্ষার দায়িত্বে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
প্রাণিসম্পদ

কাঁটাবন মার্কেটের মাছ ও পশু-পাখির জীবন রক্ষার দায়িত্ব নিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। চলমান বিধি-নিষেধের মধ্যে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যা অন্তত ২ ঘণ্টা মার্কেট খোলা রাখার ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশনা প্রদানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে চিঠি দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের তাৎক্ষণিক নির্দেশে সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করে মন্ত্রণালয়। কাঁটাবন মার্কেটের অ্যাকুয়া ও পেটস অ্যাসোসিয়েশন এ বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে সরকার ঘোষিত চলমান বিধি-নিষেধে রাজধানীর কাটাবন মার্কেটে বিদ্যমান জীবন্ত শোভাবর্ধক মাছ ও পশু-পাখির জীবন রক্ষার এই উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধকল্পে চলমান বিধি-নিষেধে মার্কেটের পশু-পাখি ও মাছের দোকানগুলো সংকটে পড়েছে। দোকানগুলোর মাছ ও পশু-পাখিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিয়মিত খাদ্য, পানি ও রোগ প্রতিরোধক টিকা ও ঔষধ সরবরাহ করতে হয়। পাশাপাশি পরিচর্যা এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাও আবশ্যক। চলমান বিধি-নিষেধের মধ্যে এসকল কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পশু-পাখি ও মাছ মারা যাচ্ছে। এ কারণে মাছ ও পশু-পাখির জীবন বাঁচাতে মার্কেটের দোকানগুলো দিনের নির্দিষ্ট সময় খোলা দরকার।

এ বিষয়ে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘কাটাবন মার্কেটের বিভিন্ন পোষা প্রাণি ও মাছের জীবন রক্ষার্থে আমরা চলমান বিধি-নিষেধের মধ্যেও দোকানগুলো প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময়ের জন্য খোলা রাখার উদ্যোগ নিয়েছি। এতে পশু-পাখি ও মাছের খাবার, জীবন রক্ষাকারী টিকা ও ঔষধ, আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সুযোগ করে দেয়া সম্ভব হবে। তাহলে পশু-পাখি বা মাছ মারা যাবে না। এ বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন।’

উল্লেখ্য, গতবছরও লকডাউনের মধ্যে কাটাবন মার্কেট সরেজমিনে পরিদর্শন করে মাছ ও পশু-পাখির জীবন বাঁচাতে নির্ধারিত সময় দোকান খোলা রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৩, ২০২১ ২:৩৩ অপরাহ্ন
একনজরে রাজধানীর ২১টি হাট
প্রাণিসম্পদ

আর কয়েকদিন পরেই আসছে কোরবানির ঈদ। আর এই কোরবারিন ঈদকে ঘিরে ৪৬টি শর্ত মোতাবেক এবার রাজধানীতে পশুর হাট বসবে ২১টি। তম্মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১১টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের ১০টি হাট রয়েছে। ২৪টি হাট বসার কথা  থাকলেও ইজারার কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়ায় তিনটি হাট বাতিল করেছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।  দুই সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায় এসব তথ্য।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের হাটগুলোর হচ্ছে ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকলোনজি কলেজ সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত জায়গা, আফতাবনগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক-ই, এফ, জি, এইচ সেকশন ১ ও ২-এর খালি জায়গা, গোলাপবাগে ডিএসসিসি মার্কেটের পেছনের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজার মৈত্রী সঙ্ঘের ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, ধুপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা ও লালবাগের রহমতগঞ্জ ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা। আর স্থায়ী হাটটি হচ্ছে সারুলিয়া পশুর হাট।

অপরদিকে উত্তর সিটির ৯টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট হচ্ছে, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাবনগর) ব্লক-ই সেকশন ৩-এর খালি জায়গা, কাওলা শিয়ালডাঙ্গা সংলগ্ন খালি জায়গা, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাচল ব্রিজসংলগ্ন মস্তুল ডুমনী বাজারমুখী রাস্তার উভয় পাশের খালি জায়গা, উত্তরখান মৈনারটেক শহীদনগর হাউজিং প্রকল্পের খালি জায়গা, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমের অংশ, ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের ফাঁকা জায়গা, মিরপুর সেকশন ৬, ওয়ার্ড নম্বর ৬ (ইস্টার্ন হাউজিং)-এর খালি জায়গা, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর থেকে উত্তর দিকে বিজিএমইএ পর্যন্ত খালি জায়গা, ভাটারা (সাইদনগর) পশুর হাট, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট সংলগ্ন রাজধানী হাউজিং, স্বপ্নধারা হাউজিং ও বসিলা গার্ডেন সিটির খালি জায়গা ও ডিএনসিসির ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন ৩০০ ফুট সড়ক সংলগ্ন উত্তর পাশের সালাম স্টিল লিমিটেডে ও যমুনা হাউজিং কোম্পানির ব্যক্তিগত মালিকানাধীন খালি জায়গা। এ ছাড়া স্থায়ী হাটটি হচ্ছে গাবতলী পশুর হাট।

উত্তর সিটির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো: মোজাম্মেল হক জানান, আমাদের একটি স্থায়ী হাটসহ মোট ১০টি কোরবানি পশুর হাট বসবে। এই হাটগুলো ঈদের দিনসহ তার আগের পাঁচ দিন বসবে। অর্থাৎ ১৭ জুলাই থেকে হাটে বেচাকেনা শুরু হবে। এ জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি পালন করতে হবে। এ ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতারা চাইলে অনলাইনেও পশু বেচাবিক্রি করতে পারবেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন জানান, আমাদের দক্ষিণ সিটি এলাকায় এ বছর একটি স্থায়ী হাটসহ ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। আমরা ইজারাদারদের পশু বিক্রি করার জন্য পাঁচ দিন সময় দিয়েছি। যেহেতু আগামী ২১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে, সেহেতু ১৭ জুলাই থেকে তারা পশু বেচাবিক্রি করতে পারবেন। আর ১৫ জুলাই থেকে পশুর হাটের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৩, ২০২১ ২:১১ অপরাহ্ন
প্রতিদিন গড়ে এক‘শ কোটি টাকার উপরে গবাদিপশু বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে
প্রাণিসম্পদ

করোনা সংক্রমণ দিন দিন বাড়তে থাকায় সরকারের কঠোর বিধিনিষেধে কোরবানির হাট নিয়ে শুরু থেকেই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সংক্রমণ এবং লকডাউনেও গরু বিক্রির জন্য বিকল্পভাবে গত ২জুলাই থেকেই শুরু হয়েছে অনলাইনে গরুর হাট। কেনাবেচাও চলছে বেশ। গতকাল সোমবার পর্যন্ত ১১ দিনে অনলাইন প্লাটফরমে গরু-মহিষ ও ছাগল বিক্রি হয়েছে এক লাখ ৫৭ হাজার ২৮৮টি। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ২৯৯টি গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য এক হাজার ১১৬ কোটি ৮৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে এক‘শ কোটি টাকার উপরে গবাদিপশু বিক্রি হচ্ছে। 

গতকাল গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা: শেখ আজিজুর রহমান।

তিনি জানান, অনলাইনে গতকাল পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক তথা এক লাখ ৫৭ হাজার ২৮৮টি গবাদিপশু  বিক্রি হয়েছে। যার মধ্যে গরুর সংখ্যাই বেশি। দিনের পর দিন তা বাড়ছে। যার আর্থিক মূল্য ১১ শ’ কোটি টাকার ওপরে।

শেখ আজিজুর রহমান জানান, গত বছর ৫০ হাজারের মতো গবাদিপশু বিক্রি হয়েছিল। এবারের চিত্রটা ভিন্ন। করোনা প্রকোপের কারণে খামারিরা অনলাইন ছাড়া বিকল্প চিন্তা করতে পারছে না। খামারিদের টার্গেট থাকে গ্রামের হাটে পশু বিক্রি করবে। আরেকটা হলো ব্যাপারী বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি। এবার মধ্যস্বত্বভোগীরাও চিন্তিত যে আদৌ পশুর হাট বসবে কি না। বিক্রি করতে পারবে কি না। ঠিকমতো পরিবহন করতে পারবে কি না। যদিও পশু পরিবহনের জন্য রেলওয়ের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের বগি দেয়ার কথা জানিয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে অনলাইনে গবাদিপশু বেচাকেনা। আজ মঙ্গলবার ন্যাশনালওয়াইড ডিজিটাল হাট ২০২১-এর যাত্রা শুরু হচ্ছে। এটুআই এবং আইসিটি অধিদফতরের সহযোগিতায় তৈরি এই অনলাইন পশুরহাটে কোরবানি উপলক্ষে বেচাকেনা চলবে এই প্লাটফরমে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক শেখ আজিজুর রহমান জানান, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স ম রেজাউল করীম এই প্লাটফরমের উদ্বোধন করবেন।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৩, ২০২১ ১২:৪৪ অপরাহ্ন
শখের কবুতরে হচ্ছে আয়, মিটছে প্রোটিন চাহিদা
প্রাণিসম্পদ

মো. বিপ্লব হোসেন। কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পানজোরা গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশেই দোতলা বাড়ি। এলাকায় তাকে বিপ্লব মাস্টার বলেই জানেন। শিক্ষকতা করেন উপজেলার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ সেন্ট নিকোলাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। তিনি এখানকার শিক্ষার্থীও ছিলেন। আজ থেকে প্রায় ২১ বছর আগে নিতান্তই শখের বসে কবুতর পালন শুরু করেন শিক্ষক বিপ্লব।

তিনি তখন ৮ম শ্রেণির ছাত্র। বাবা-মায়ের দেওয়া টিফিনের খরচের টাকা থেকে বাঁচিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে মাত্র চার জোড়া কবুতর কেনেন। সেই কবুতর আস্তে আস্তে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে। কিন্তু একদিন রাতে তার শখের কবুতরগুলো বাঘডাসে খেয়ে ফেলে। ভেঙে যায় কিশোর বিপ্লবের স্বপ্ন।

ছাত্র থাকায় অতিরিক্ত কোনো পয়সা ছিল না তার হাতে। তাই হঠাৎ করেই থেমে যায় শখের কবুতর পালন। কিন্তু সহজে থেমে যাওয়ার পাত্র নন বিপ্লব। বেশ কয়েক বছর বন্ধ রেখে ২০১৮ সালে নতুন করে নিজের বাড়ি তৈরির পর ছাদের ওপর ঢেউটিনের ছাউনিতে ৬ জোড়া কবুতর দিয়ে গড়ে তোলেন বর্তমান কবুতর খামারটি। এখন তার শেডে শোভা পাচ্ছে প্রায় ১০০ জোড়া কবুতর। সেই শখের কবুতর পালনে এখন আয় করার পাশাপাশি পরিবারের প্রেটিন চাহিদাও মিটছে বেশ।

শিক্ষক বিপ্লব হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা বাড়ির ছাদে একটি কাঠ ও ডেউটিন দিয়ে তৈরি কবুতরের ঘর। ভেতরে বসানো হয়েছে প্রায় শতাধিক খোপ। আকারে বড় বিদেশি কবুতরগুলোর জন্য রয়েছে আলাদা লোহার খাচা। নিচে দেওয়া আছে খাবার ও স্বচ্ছ পানি। কবুতরগুলো প্রয়োজন মতো যে যার মতো করে খাবার খাচ্ছে আবার উড়ে গিয়ে বসছে নিজের কামরাতে। সেখানে বসে কেউ ডিম তা দিচ্ছে। কেউ নিজের বাচ্চাকে খাইয়ে দিচ্ছে। আবার কেউ অপরের সাথে হট্টগোলে ব্যস্ত। কেউ বা আবার দল বলে সাঁতার কাটছে।

একটি সাধারণ কবুতর ১২ মাসে ১৩ জোড়া বাচ্চা দিলেও উন্নত জাতের কবুতর সাধারণত বছরে ৩ জোড়ার অধিক বাচ্চা দিতে পারে না। তবে শিক্ষক বিপ্লব তার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১ জোড়া উন্নত জাতের কবুুতরের পাশে ৫ জোড়া ফোস্টার কবুতরের সঙ্গে একটি নির্ধারিত সময়ে ডিম পরিবর্তনের মাধ্যমে বছরে কমপক্ষে ৮/১০ জোড়া উন্নত জাতের কবুতরের বাচ্চা উৎপাদন করছেন। কবুতর পালনের শুরুতে শিক্ষক বিপ্লব মাত্র ৩৪ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলেও এখন তার শখের কবুতর ফার্মে মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখেরও বেশি টাকা। বর্তমানে ১০০ জোড়া কবুতরের পেছনে মাসে ৬/৭ হাজার টাকা ব্যয় করে তিনি মাসিক নিট মুনাফা পাচ্ছেন কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা। ওই ফার্মের প্রতি জোড়া কবুতরের সর্বনিম্ন মূল্য ২ হাজার টাকা। তবে সেখানে প্রতি জোড়া ৭/৮ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের উন্নত জাতের কবুতরও রয়েছে। কবুতর পালন, খাদ্য, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও বাসস্থানের ব্যাপারে বিপ্লব তার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

বিপ্লব বলেন, কবুতরের বাসস্থান তৈরি করতে হলে বাড়ির ছাদে অথবা কোনো খোলা জায়গায় তাপ নিয়ন্ত্রণ উপযোগী একটি শেড নির্মাণ করতে হবে। সেখানে ছোট কবুতরের জন্য আড়াই ফুট স্কয়ার সাইজের এবং বড় কবুতরের জন্য সাড়ে তিন ফুট স্কয়ার সাইজের লোহার খাঁচায় কবুতর পালন করতে হবে। ওই খাঁচায় নিয়মিত পানি ও খাদ্য সরবরাহ করতে হবে এবং নিয়মিত শেডের ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।

কবুতরের খাদ্য তৈরির ক্ষেত্রে সাদা সরিষা, গম, ভুট্টা ভাঙা, কুসুম ফুলের বিচি, মসুর কালাই, খেসারি কালাই, মুগ কালাই, মাস কালাই, রেইঙ্কল ও বুট কালাইসহ ১১টি শস্যের সমপরিমাণ মিশ্রণে সুষম খাদ্য তৈরি করেন। তবে শীতকালে শীতজনিত রোগবালাই থেকে রক্ষার্থে কবুতরের খাদ্য তৈরির ক্ষেত্রে রেইঙ্কল, বুট ও মাস কালাই মিশ্রণ বাদ রাখেন। এ সুষম খাদ্যে কবুতরের স্বাস্থ্য সর্বদাই ভালো থাকে এবং নিয়মিত ডিম দিতে ও বাচ্চা ফোটাতে সহায়ক হয় বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তার কবুতর পোষার স্বপ্ন ছিল প্রবল। উড়ন্ত কবুতর দেখতে তার খুব ভালো লাগত। তাই শখের বশে এ খামার গড়ে তুলেন। খামারে প্রায় ১০ প্রজাতির কবুতর রয়েছে। তার খামারে বর্তমানে কবুতরের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তিনি এসব কবুতর সংগ্রহ করেছেন। কখনো বিনিময় পদ্ধতি অর্থাৎ এক জাতের কবুতর দিয়ে অন্য জাতের নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে তার সংগ্রহশালা বাড়িয়েছেন। একজোড়া কিং কবুতরের বর্তমান বাজারমূল্য ৮ হাজার টাকা। আর একজোড়া মুক্ষী কবুতরের দাম ৩ হাজার টাকা। তবে কবুতরের ওড়ার ক্ষমতার ওপর এর দাম নির্ধারণ হয় বলে জানান শখের এ খামারি। তবে তার এই খামার কোনো বাণিজ্যিক খামার নয়। এখান থেকে তিনি কোনো রোজগারের আশাও করেন না। এটা নিতান্তই তার শখের খামার। তার মতে, কেউ চাইলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এমন কবুতরের খামার করতে পারেন। এর মাধ্যমে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, তার ফার্মের কবুতর খুব একটা অসুস্থ্য হয় না। তারপরও কবুতরের ঠান্ডা লাগা, সর্দি, কাশি, আমাশয় ও কৃমি প্রতিরোধে মানুষের জন্য তৈরি ওষুধের ৮ ভাগের ১ ভাগ প্রয়োগে এবং অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে হাঁস-মুরগির জন্য তৈরি ওষুধের ৪ ভাগের ১ ভাগ প্রয়োগ করে কবুতরের রোগ-বালাই প্রতিরোধে কার্যকর সুফল পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়াও শিক্ষক বিপ্লব কবুতরের চিকিৎসায় কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সহযোগিতা নিয়ে নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে শখের কবুতর পালন করতে পারছেন।

বিপ্লবের কাছ থেকে কবুতর ও পরামর্শ নিয়ে কবুতর পালন করছেন স্থানীয় তামজিম খান, তাসকিন খান, সজল, সোহেল।  শখের এই কবুতর প্রেমীদের ঘরে ঘরে এখন শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন রঙয়ের কিং, মুক্ষী, বুম্বে, গিরিবাজ, গিয়ারছলী, মুসলদ্যম, গোল্লাসহ প্রায় ১০ জাতের কবুতর।

মাঝেমধ্যে তিনি সব কবুতর খোপ থেকে বের করে উড়িয়ে দেন। ২০০ কবুতর যখন এক সঙ্গে আকাশে ওড়ে, কোনো কোনোটি ডিগবাজি দেয়, তখন তিনি কবুতর পোষার সার্থকতা খুঁজে পান। দৃষ্টিনন্দন এ দৃশ্য দেখে তার প্রাণ ভরে যায়। প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টায় উঠে কবুতর পরিচর্যায় হাত দেন, আর একটানা সকাল ৯টা অবধি চলে এ কাজ। এ কাজে স্ত্রী সিলভীয়া হোসেন সুমি এবং সাড়ে তিন বছরের একমাত্র ছেলে মো. সায়াদ হোসেন ছোয়াদ তাকে নানাভাবে সাহায্য করেন। তিনি বলেন, এ দু’জন না থাকলে একা এমন খামার সামলানো যেত না।

স্ত্রী সিলভীয়া হোসেন সুমি বলেন, খামারের কবুতর বিপ্লব নিজ সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। এই খামার তার ধ্যান-জ্ঞান। অবসরের পুরোটা সময় আমার স্বামী এ খামার ও ছাদ বাগানে ব্যয় করেন। ছোটবেলা থেকে বিপ্লব কবুতর পালন করে আসছেন। এজন্য অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের কাছে গালমন্দও শুনতে হয়েছে তাকে। কিন্তু তার সখের কাজ কখনো বন্ধ করেননি। আজ বাড়িতে কবুতরের খামার করেছেন। সেখান থেকে এখন বেশ পয়সাও রোজগার হচ্ছে। পাশাপাশি শখের সেই কবুতর পালনে পরিবারের পুষ্টি চাহিদাও মিটছে বেশ। বাড়ির সবাই এখন তার কাজে সহযোগিতা করছেন।

খামারের পাশে থরে থরে সাজানো রয়েছে গম, ভুট্টা, ধান, গম ও ভুট্টার ছাল, সরিষা, ডিমের খোসা, ইটের সুরকি, চুনসহ নানা জাতের খাবার। এছাড়া কবুতররা সবুজ শাকসবজি খেতেও ভালোবাসে। এ কারণে বিপ্লব খামারের পাশে ছাদে নানা জাতের গাছপালা ও শাকসবজির চাষ করেছেন। কবুতর ইচ্ছেমতো উড়ে এসব গাছের পাতা খায়। এদের খুব বেশি রোগবালাই না হলেও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থাকেন তিনি।

মজার বিষয় তিনি কবুতর বিক্রি করেন না। মাঝে মধ্যে খুব পরিচিত জন কেউ অনুরোধ করলে তাদের তিনি বিনামূল্যে দিয়ে দেন। বাচ্চা বিক্রি করেন। পাশাপাশি পরিবার ও স্বজনদের পুষ্টির চাহিদা মেটান। তবে তিনি স্থানীয় বেকার যুবকদের এই কবুতর পালনের মাধ্যমে বেকারত্ব ঘোচাতে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ তিনি মনে করেন, কবুতর পালন খুব লাভজনক। এতে সময় ও শ্রম দিয়ে যথাযথ পরিচর্চা করলে খুব দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।  চাষিদের মধ্যে বিপণনে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করে এবং সরকারি অথবা বেসরকারি উদ্যোগে চাষিদের মাঝে পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নত জাতের কবুতর পালনে উৎসাহিত করে দেশের হাজার হাজার যুবকের বেকারত্ব দূর করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, সাধারণত রানীক্ষেত ও বসন্ত রোগে কবুতর বেশি আক্রান্ত হয়। তবে এ রোগের টিকা আমাদের প্রাণিসম্পদ অফিসে পর্যাপ্ত রয়েছে। পিজন ম্যালেরিয়া রোগেও কবুতর আক্রান্ত হয়। এই রোগের জন্য মানুষের চিকিৎসায় যে ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তা কবুতরের ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে ফল পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় দেখা যায় হাস-মুরগি বা কবুতর আক্রান্ত হলে প্রাণিসম্পদ অফিসে খামারিরা আসেন। কিন্তু নিয়মানুযায়ী হাস-মুরগি বা কবুতরকে প্রতি ৩/৪ মাস অন্তর অন্তর টিকা দিতে হয়। সেক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার আগেই যোগাযোগ করতে হয়।

– রাইজিংবিডি.কম

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৩, ২০২১ ১২:০৮ অপরাহ্ন
এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামারের দিকে আগ্রহ বাড়ছে খামারিদের
পোলট্রি

যত্রতত্র এন্টিবায়োটিকের ব্যবহারকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ পোল্ট্রির জন্য অপ্রয়োজনীয় মনে করেন। তথাপি আমাদের খামারির কিছু অংশ এখনও সেকালের মত এন্টিবায়োটিক নির্ভর খামার গড়ে তোলার দিকেই ঝুঁকছেন। তারা মনে করছেন এন্টিবায়োটিক মানেই হলো খামার আর খামার মানেই হলো এন্টিবায়োটিক।

অথচ এই এন্টিবায়োটিক কেবল মুরগির জন্য ক্ষতিকর না। এটি মানুষের জন্যও মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনে। মানুষ শরীরের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে ধাবিত হচ্ছেন এই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করার মাধ্যমে। এছাড়া খামারীরা অহেতুক এন্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছে অর্থনৈতিকভাবে।

এতকিছুর পরও আমাদের খামারিরা মনে করছেন এন্টিবায়োটিকহীন খামার করতে বলা মানেই হলো তাদেরকে লসের দিলে ঠেলে দেয়া। অথচ এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করে খামার করাতেই যেন ক্ষতি আর লসের অংকটা খুব বেশি এটা মানতে নারাজ তারা।

তবে সুসংবাদ হলো ইতোমধ্যে বর্তমানের অনেক শিক্ষিত এবং দক্ষ আর যোগ্য খামারীরা এখন এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করার দিকে ঝুঁকছেন। আর তারা আশে-পাশে অন্য আট-দশজনের তুলনায় লাভও করছেন বেশ।

এগ্রিভিউ২৪.কম এর একান্ত সাক্ষাৎকারে এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করে সফল হওয়া কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানার মো. মাসুদ জানান, তিনি ২০১৮-১৯ সাল পর্যন্ত খামার করেছেন এন্টিবায়োটিক দিয়ে। আর ২০২০ সালে এসে তিনি এন্টিবায়োটিক মুক্ত খামার করার সাহসি কাজে হাত দেন। আর তাতে তিনি সফলও হয়েছেন। আগে মুরগির খাবারও লাগতো বেশি এবং ওজনও হতো কম। আর মারাও যেতো বেশি। আর এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করার পর থেকে তার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান শুরু হয়। তার খামারে এখন মুরগির মৃত্যুহার একেবারেই কম। হাজারে বিশটার মত মারা যায় সর্বোচ্চ। আর খাদ্যও লাগে কম। আবার ওজনও হয় বেশি। গড়ে ২কেজি করে মাসে ওজন হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

ঢাকার ডেমরা এলাকার পোল্ট্রি খামারি আব্দুর রাজ্জাক সাইফ একজন পোল্ট্রি খামারী। এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে জানিয়েছেন তার এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করে সফলতার কথা। তিনি টানা ৯ বছর ধরে এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করছেন। তিনি খামার শুরুর প্রথম দু‘বছর নিয়ম করে এন্টিবায়োটিক দিয়েই খামার পরিচর্চা করতে থাকেন। আর তাতে তিনি দু‘দিকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। একদিকে অর্থ অন্যদিকে খামাররের মুরগীর মৃত্যু বৃদ্ধি। পরে বন্ধুর মাধ্যমে এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করা যায় শুনে ইন্টারন্টে ঘেঁটে জানতে পারেন ইউরোপের দেশগুলো এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করে লাভবান হচ্ছে। তারপর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সহায়তায় এন্টিবায়োটিক মুক্ত খামার শুরু করেন তিনি।

আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার পর থেকে মুরগির গ্রোথ ও মাংস উৎপাদন আগের থেকে অনেক ভালো পেয়েছেন। ৩০ দিনে গড়ে ১.৭ – ২.০ কেজি পর্যন্ত ওজন পাচ্ছেন এখন নিয়মিত। তাছাড়া অহেতুক এন্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ ব্যবহার না করায় এখন প্রতি হাজার মুরগিতে ৫ হাজার টাকার ওষুধ খরচ বেঁচে যাচ্ছে তার।

আরো পড়ুন: নানাকে দেখে খামার শুরু, এন্টিবায়োটিক মুক্ত ব্রয়লার উৎপাদন করছে দশম শ্রেণির ছাত্র

তিনি আরো জানান, প্রতি মাসে ৭০০০ মুরগির জন্য অনেক টাকার ওষুধ কিনতে হচ্ছে না , যার ফলে আমার উৎপাদন খরচ কমে এসেছে।আমাদের লাভ হচ্ছে, খরচও কমেছে, স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ মাংস ও উৎপাদন করতে পারছি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বরিশাল, ডা. মো. নূরুল আলম বলেন, এন্টিবায়োটিক ছাড়া ব্রয়লার উৎপাদন করা যাবে না এটা ভুল ধারণা। এন্টিবোয়োটিক শুধু সুনির্দিষ্ট কিছু রোগের জন্য ব্যবহার করা হয়। ব্রয়লারের শরীরে কোন রোগ না থাকলে এর অযাচিত ব্যবহার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন মাইকোপ্লাজমা রোগ, করাইজা এবং ই কেলাই রোগের সংক্রমণ।

তিনি বলেন, এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি চিকিৎসক কর্তৃক রোগটি নির্ণয় হওয়া উচিৎ। আমাদের দেশে পোল্ট্রি ফিড বিক্রেতারা খামারীদের একদিনের বাচ্চা বিক্রির সময় অকারণে এক গাদা এন্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন শুধু ব্যবসার জন্য।এন্টিবায়োটিক অপ্রয়োজন এবং অতিমাত্রায় ব্যবহার করলে ব্রয়লার কিংবা লেয়ারের শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। যার ফলে উৎপাদন ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি ব্রয়লারের ওজন বৃদ্ধি কমে যায়।

আরো পড়ুন: এন্টিবায়োটিক মুক্ত মুরগি উৎপাদনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আব্দুর রাজ্জাক সাইফ

তিনি আরো বলেন, এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে মানুষের ক্ষতি হয়ে থাকে। কারণ এই এন্টিবায়োটিক অনেক সময় মুরগির বিষ্টার সাথে পানিতে আর মাটিতে গেলে সেখান থেকে মানুষের দেহেও প্রবেশ করে। তাই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা মুরগির ক্ষেত্রে অনুৎসাহিত।

আমাদের দেশের খামারিরা খামার শুরুতে এক গাদা এন্টিবায়োটিক নিয়ে তারপর খামার শুরু করে। যা তার খামার এবং মানুষের পুষ্টির জন্য বড়ই ক্ষতিকর। এই জন্য দরকার অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে খামার পরিচালন করা। যাতে করে লাভবান হয় খামারিরা এবং সুস্থ থাকে মানবজাতি।

আরো জানতে  ক্লিক করুন এখানে(ভিডিও)- ব্রয়লার মুরগি খেলে কি হয়

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop