৫:২৬ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২১ ৭:২৩ অপরাহ্ন
মাত্র সাত মাস বয়সী গরুর বাছুরে দিচ্ছে দুধ!
প্রাণিসম্পদ

মাত্র সাত মাস বয়সী একটি গরুর বাছুরে প্রতিদিন দুধ দিচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে তিন লিটার। ঘটনাটি অবিশ্বাস্য হলেও এমনি ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম রজপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম হাওলাদারের গরুর খামারে।হরমোন জনিত কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা প্রাণীসম্পদ বিভাগের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে নুরুল ইসলাম হাওলাদার গরু পালন করছেন। এলাকায় ছোট খামারী হিসেবে তার বেশ পরিচিতি। দুইটি দেশি গরু নিয়ে পালন শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে রয়েছে দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ১৩ টি গরু।

নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, প্রায় ১০ মাস আগে ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভী বাছুর জন্ম নেয় তার খামারে। ৫ মাস যেতে না যেতেই বাছুরের (স্থানীয় ভাষায়) স্তন অস্বাভাবিক আকার দেখতে পান। পরে বাছুরটির স্তন থেকে দুধ বের হলে অবাক হয়ে যান তিনি। প্রথমে চমকে গেলেও বাছুরটি সকালে দুই লিটার এবং বিকালে এক থেকে দের লিটার করে দুধ দিচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, সাধারণত গাভীন হওয়ার পরেই গরু দুধ দিয়ে থাকে এটাই স্বাভাবিক। আমি এধরণের ঘটনা শুনেছি, নিজ চোখে দেখিনি। এটা হরমোন জনিত কারণে হয়ে থাকতে পারে। তবে এটা একটি বিরল ঘটনা। বাছুরটির খোঁজ নিতে খামারির বাড়িতে যাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৮, ২০২১ ৫:২৬ অপরাহ্ন
দু‘হাজার দিয়ে শুরু করে ৮ হাজার লেয়ারের মালিক হাফেজ সোহেল!
পোলট্রি

দু‘হাজার লেয়ার দিয়ে শরু করে এখন সাড়ে আট হাজার লেয়ার এবং তেরো‘শ ব্রয়লারের মালিক ভোলার লালমোহনের হাফেজ সোহেল। হাফেজী, ক্বওমী এবং ভোকেশনাল পড়া অবস্থায় স্বাবলম্বী এবং পরিবারকে সাপোর্ট দেয়ার নেশায় শুরু করেন মুরগি এবং মাছের খামার। যাতে একজন সফল খামারিও হয়েছেন তিনি। এগ্রিভিউ২৪.কম এর একান্ত সাক্ষাতকারে উঠে আসে তার জীবনের এমন গল্প।

তিনি এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে বলেন, তিনি নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন। বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে পুরো পরিবারের দ্বায়িত্ব চলে আসে তার কাঁধে। আর ঢাকাতে তার অন্য একজন বন্ধুর সাথে কিছু মাস মুরগির খামারে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শুরু করেন খামার।

সোহেল জানান, তিনি ১০ লাখ টাকা চালান দিয়ে এবং ডিলারের কাছে ৯লাখ টাকা বকেয়া রেখে শুরু করেন খামার। তবে তার সেই ব্যাচ শেষ হওয়ার আগেই শোধ করে দেন ডিলারের বকেয়া। তারপর ২০১৭ সালের প্রথম দিকের ১ম ব্যাচ এর লাভ দিয়ে পরে তিন হাজারের একটা পুরো সেট তিনি সম্পূর্ণ করেন। যেখানে তার লাভ হয়েছিলো প্রায় ১৫ লাখ টাকার মত।

তিনি জানান, তখন খামারের রেজাল্ট এবং ডিমের দাম ভালো থাকায় আর খামারে তিনি নিজেই কাজ করাতে তখন খুব ভালো করেছিলেন। লকডাউনের ভিতরে লাভ কিছুটা কম হলেও লস হয়নি বলে জানান এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে।

আজ ৫বছর ধরে করে যাচ্ছি খামার তবে, ২০২১ সালটাতে এসে খুব একটু সুবিধা করতে পারছেন না বলে জানান তিনি। তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে ফিডের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যা খামারিদের নাগালের বাইরে। যে হারে ফিডের দাম বাড়ছে সেই হারে বাড়ছেনা বাজারে মুরগির দাম। এছাড়া ডিমের দামও খুব কম। বেশি টাকা দিয়ে ফিড কিনে যদি চালানও না উঠে তবে সেখানে খামারিদের হতাশ হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।

তিনি বলেন, ফিডের সাথে সাথে বাজারে মুরগি এবং ডিমের দামও বাড়াতে হবে। একদিকে ফিডের দাম বাড়বে আর অন্যদিকে মুরগি আর ডিমের দাম কমবে এতে করে খামারিদের লস ই হবে।

তিনি জানান, এই সেক্টরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরো কিছু করতে চাই। তবে এই চার ধাপে ফিডের বস্তাপ্রতি বেড়েছে প্রায় ৩২৫ টাকা। যা একজন নতুন খামারির জন্য খুবই কষ্টকর। তবে এই সেক্টরে দাম উঠা-নামা করলেও সঠিক পরিচর্যা আর নিয়ম মেনে খামার করতে পারলে লাভের অংকটাই বেশি বলে জানান সোহেল।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৮, ২০২১ ৪:৩৭ অপরাহ্ন
ছাগল ও ভেড়া খামারিদের মিলনমেলা বুধবার
প্রাণিসম্পদ

আগামী ২৩ জুন(বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ছাগল ভেড়া খামারিদের নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ এবং দিনব্যাপি মিলনমেলা। সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ ইনস্টিটিউটের সেমিনার হলে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম ও সচিবগণ এবং বিএলআরআই এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

যেসকল খামারিরা অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক তাদের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নাম্বার ও খামারের নামসহ ০১৯৭৭৯৯৫৫৬২ অথবা ০১৯০২৪৪৪৪২৪ এই নাম্বারে ম্যাসেজের মাধ্যমে জানাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ গোট এন্ড ফিশ ফার্মারস এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সকল ছাগল এবং ভেড়া খামারিদের এই প্রাণের মেলায় অংশগ্রহণ করে আয়োজনকে আরো প্রাণবন্ত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৮, ২০২১ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
বাছুর জন্মানোর আগেই দিনে ৬ লিটার দুধ দিচ্ছে গরু!
প্রাণিসম্পদ

টাঙ্গাইলের কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি গ্রামে ব্যবসায়ী কিসমত আলীর ৮ মাসের প্রথম গর্ভবতী এক বকনা বাছুর দিনে ৬ লিটার করে দুধ দিচ্ছে। এর আগে একই গ্রামের ১০ মাস বয়সী এক বকনা বাছুর দিনে ৩ লিটার দুধ দেওয়ার ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায় এমন ঘটনা আরো ঘটছে তবে, এই দুধ স্বাস্থ্যসম্মত।

জানা যায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) কিসমত আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন ৮ মাসের গর্ভবতী বকনা গরুর ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করছেন। প্রায় ২০-২৫ দিন ধরে তিনি দিনে ৬-৭ লিটার করে দুধ সংগ্রহ করছেন।

কিসমত আলী জানান, বেশ কিছুদিন আগে ৩৫ হাজার টাকায় ১৩ মাস বয়সী ফিজিয়াম জাতের বকনা বাছুরটি তিনি কিনেছেন। এর কিছুদিন পর বকনা বাছুরটির দেহে প্রথম জোয়ার আসে (তাপ)। পরে কৃত্রিম ভাবে প্রজনন দেওয়া হয়। বর্তমানে বকনাটি ৮ মাসের গর্ভবতী। কিছুদিন আগে বকনাটির কাছে গেলে ওলান ফোলা দেখে দুধ জমেছে বুঝতে পারি। তাৎক্ষণিক ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করি। আমরা এই দুধ পান করি এবং বাকি অংশ স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকানে ৬০ টাকা লিটারে বিক্রি করে দেই।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল জলিল জানান, এর আগেও উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম তার ১০ মাস বয়সী এক বকনা বাছুর থেকে দিনে ৩ লিটার করে দুধ সংগ্রহ করছে। এমন ঘটনায় বিস্মিত হওয়ার কিছুই নেই। হরমোনজনিত কারণে এমনটা হয়। তবে এই দুধ স্বাস্থ্যসম্মত বলে জানিয়েছেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৭, ২০২১ ৮:৫০ অপরাহ্ন
পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর
প্রাণিসম্পদ

দেশের মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনারদের অংশগ্রহণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমন্বয় সভায় মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
 এসময় মন্ত্রী বলেন, “দেশের মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তায় আবশ্যিকভাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন করতে হবে। এ খাতের উন্নয়নে সরকার বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। মাছ, মাংস ও দুগ্ধজাতীয় পণ্যের বহুমুখীকরণে আমরা কাজ করছি। এভাবে আমরা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের দিগন্ত সম্প্রসারিত করছি। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের সহযোগিতা একান্তভাবে প্রয়োজন।”
“করোনার প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, কর্মযজ্ঞ যাতে থেমে না যায় সেটা দেখা, অর্থনীতি যাতে স্থবির হয়ে না যায় সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা, বেকারত্ব যাতে দীর্ঘস্থায়ী না হয় সেজন্য তাদের উদ্যোক্তায় পরিণত করা, সাময়িক বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা-এসব কিছু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার কাজ করছে।”-যোগ করেন মন্ত্রী।
প্রজাতন্ত্রের কাজের গতি মাঠ পর্যায়ে স্তিমিত রাখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “গতানুগতিক কর্মকান্ডের বাইরে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা এখন অনেক দায়িত্ব পালন করছেন। সৃজনশীল কাজ করছেন। তাদের ফলপ্রসূ চিন্তা-চেতনা আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে। এটি আজ সরকারকে সহায়তা করছে। কীভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায়, একই সাথে রাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয় করা যায়, কীভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মকান্ড গতিশীল করা যায় সে লক্ষ্যে সবাই মিলে কাজ করতে হবে।”
মন্ত্রী আরো বলেন, “আমরা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদকে সমৃদ্ধ করতে চাই। মাছ, মাংস, দুধ, ডিমের উৎপাদন বাড়াতে চাই। এটি দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটাবে। আবার এর উৎপাদনকারী নিজের বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হবে। মাছ, মাংস, দুধ, ডিমের উৎপাদন, পরিহন ও বিপণন প্রক্রিয়ায় প্রায় এক কোটি মানুষ সম্পৃক্ত রয়েছে।”
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম বিভাগীয় কমিশনারদের অবহিত করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থা প্রধানগণ মাঠ পর্যায়ে চলমান নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম ও বাস্তবায়নজনিত সমস্যাবলী সভায় তুলে ধরেন।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ্ মোঃ ইমদাদুল হক, শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, সুবোল বোস মনি ও মোঃ তৌফিকুল আরিফ, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান কাজী হাসান আহমেদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ শেখ আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুল জলিল, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ খলিলুর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ কামরুল হাসান, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইসমাইল হোসেল, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল ওয়াহাব ভূঞা, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ সাইফুল হাসান বাদল, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ খলিলুর রহমান, ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শফিকুর রেজা বিশ্বাস এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিয়াউল হক সভায় অংশগ্রহণ করেন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৭, ২০২১ ৮:১০ অপরাহ্ন
মৎস্য খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের মৎস্য খাত যাতে বিপন্ন অবস্থায় না পড়ে সেজন্য যৌক্তিক, বাস্তবতাপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত প্রস্তুতি নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে মৎস্য অধিদপ্তর এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘কমিউনিটি বেজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফিসারিজ এন্ড অ্যাকোয়াকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা জানান।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “ভৌগলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নানা কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। প্রচলিত ও অপ্রচলিত সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণ করে খাবারের সমৃদ্ধিসহ বিদেশে রফতানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার জন্য গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ আহরণ প্রকল্পসহ একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রকৃতির প্রতিকূলতা যাতে আমাদের ধ্বংস করে দিতে না পারে সেজন্য প্রস্তুতি থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।”

মন্ত্রী আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার জন্য মৎস্য খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এ খাতের সম্প্রসারণ ও গুণগত মানে বিকাশ শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বের জন্য প্রয়োজন। কারণ বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গোটা বিশ্বকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে। সে জায়গা থেকে সমগ্র বিশ্বের প্রয়োজনেই মৎস্য খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।”

তিনি আরো যোগ করেন, “জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোন দায় না থাকলেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য ছোট ছোট রাষ্ট্র এর কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সে জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ভার্চুয়াল লিডার সামিটে বিশ্বকে সমন্বিত ও সমভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য একটি তহবিলের রাখার কথা বলেছেন। বিশ্বপরিমন্ডলে একটি সুচিন্তিত ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত পদক্ষেপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তিনি বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা, সাহস ও বিচক্ষণতা দেখিয়ে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সুপারিশ দিয়েছেন।

এসময় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক সংস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সম্প্রসারণ করার জন্য কারিগরী সহযোগিতাসহ অন্যান্য বিষয়ে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ তৌফিকুল আরিফ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ এবং এফএও-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন। মন্ত্রণালয়ের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাবৃন্দ, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থা প্রধানগণ, মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকার ৪টি উপজেলায় এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার ৫টি উপজেলায় উল্লিখিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে অভিযোজন ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মকর্তা ও চাষি প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময়, জলবায়ু সহিষ্ণু মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, কাঁকড়া ও গলদা হ্যাচারি পরিচালনায় পরামর্শ সেবা প্রদান, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় জনসাধারণের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৭, ২০২১ ৫:৩৬ অপরাহ্ন
সোয়া কোটি পশু প্রস্তুত কোরবানি জন্য
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানিকে সামনে নিয়ে চলছে খামারিদের এবং প্রান্তিক কৃষকদের গরু নিয়ে নানা আয়োজন। এবছর গত বছরের তুলনায় ১ লাখের বেশি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদের এ সফলতা ধরে রাখতে সরকার কিছু উদ্যোগ না নিলে খামারিরা মুখ ফিরিয়ে নিবে বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু প্রজনন ও জেনেটিক্স বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন জানান, খামারিরা ৩-৪ মাস ভালো খাবার ও যত্ন দিয়ে পশু লালন-পালন করে কোরবানির সময় বিক্রির জন্য। ভারত থেকে গরু আনা বন্ধ না হলে দেশের খামারিদের এ সফলতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

আরো পড়ুন: গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরুর দাম নিয়ে হতাশ খামারিরা

প্রণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর কোরবানির জন্য সারাদেশে প্রস্তুত করা হচ্ছে ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি পশু। গতবছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিলো ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি পশু।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা গেছে, এ বছর হৃষ্টপুষ্টকরণের মাধ্যমে দেশে পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে ৬২ লাখ ৩৬ হাজার ৩১টি। গবাদিপশুর সংখ্যা রয়েছে ৩৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০টি। ষাঁড় রয়েছে ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৭২৩টি, বলদ ছয় লাখ ৪৭ হাজার ৬১৬টি, গাভী ছয় লাখ ২৭ হাজার ৫৪৭টি, মহিষ এক লাখ ৩০ হাজার ৯১৪টি।

অপরদিকে, ছাগল রয়েছে ২০ লাখ ৪২ হাজার ৭৮৬টি ও ভেড়া তিন লাখ ২৯ হাজার ৯৬২টি। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৭৬৫টি। গৃহপালিত গরু ও মহিষের সংখ্যা ছয় লাখ ৮৮ হাজার ২০০টি। ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯২ হাজার ২৫২টি। সবমিলিয়ে মোট সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. শেখ আজিজুর রহমান জানান, কোরবানির পশুর জন্য বছর তিনেক আগেও আমাদের অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। এখন আর আমাদের অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে না।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৭, ২০২১ ৫:২২ অপরাহ্ন
গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরুর দাম নিয়ে হতাশ খামারিরা
প্রাণিসম্পদ

কোরবানি ঈদের বাজার ধরতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করণের কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ঝিনাইদহের খামারিরা। ঈদকে সামনে রেখে গো-খাদ্যের দাম বেশি ও গরুর দাম ঠিকমত না পাওয়ার হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেকেই। অন্যদিকে বাজারে ভারতীয় গরুর আমদানি হবে এমন দুশ্চিন্তায়ও রয়েছেন তারা।

গমের ভুষি, খৈল, খড়, কাঁচা ঘাস সহ অন্যান্য খাবার খাওয়ানো হচ্ছে গরুকে। কেউ খড় কাটছেন কেউবা গরু পরিষ্কার করছেন পানি দিয়ে। এভাবেই দেশীয় পদ্ধতিতে খুব যত্নের সাথে চলছে ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের খামারিদের গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া। সকলেরই আশা আসছে কোরবানির ঈদে ভাল দাম পাওয়া যাবে।

কিন্তু গো-খাবারের দাম বেশী হওয়ায় খরচ হয়েছে অনেক বেশী। আর ঈদ ঘনিয়ে আসলেও খুব একটা দেখা মিলছে না ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ বাইরের গরুর ব্যাপারীদের। স্থানীয় বাজারেও নেই তেমন গরুর দাম। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে বাজারে আসবে ভারতীয় গরু এমন শঙ্কায়ও রয়েছেন খামারিরা। সীমান্ত দিয়ে গরু আসা বন্ধ হলে কিছুটা লাভের মুখ দেখবে বলেও আশা করেন ব্যাপারীরা।

খামারিরা জানান, এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে গরু রপ্তানি করা হয়ে থাকে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, এবার কোরবানীর ঈদকে ঘিরে ৫৩ হাজার গরু ও ৪২ হাজার ছাগল ও ৫ শত ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।এ জেলায় ২২হাজার খামারি তাদের গরু বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত করেছে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, আমাদের পালিত গরুই চাহিদা পূরণ করতে পারবে। ফলে বাইরের গরু আমদানির প্রয়োজন নেই।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, এবারে গো-খাদ্যর দাম বেশি। খামারিদের এখন কিছুটা লোকসান হলেও শেষ মুহূর্তে তারা ভাল দাম পাবেন। দেশীয় গরুই দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। এ কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন নেই।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৭, ২০২১ ২:২০ অপরাহ্ন
গরু কমলেও বেড়েছে ছাগল
প্রাণিসম্পদ

কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমারসহ ২৬টি নদ-নদীর প্রায় ৪৫০টি চরাঞ্চলে ছাগল পালনের পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু, গরু পালনের পরিমাণ আগের তুলনায় কমেছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, গরু পালনে পর্যাপ্ত গোখাদ্যের প্রয়োজন হয়। কিন্তু, গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু পালনে চরবাসীদের মধ্যে অনীহা দেখো যাচ্ছে। তবে ছাগল পালনে কোন খাদ্য কিনতে হয় না।

কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট প্রাণীসম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে দুই জেলায় গরুর সংখ্যা আছে ১৪,৫৫,৮৩০টি আর ছাগল ৬,৫৭,০২৫টি। দুইবছর আগে গরু ছিলো ১৬,১২,০০০টি এবং ছাগল ছিলো ৫,৮০,০০০টি।

কুড়িগ্রাম প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল হাই সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গরু ও ছাগলের সংখ্যায় যে পরিবর্তন এসেছে তার অধিকাংশই চরাঞ্চলে। ছাগল পালন লাভজনক হওয়ায় চরবাসী সেদিকে ঝুঁকছেন। তাছাড়া, ছাগল পালন করতে খাদ্য কিনতে হয় না। চরাঞ্চলে প্রাকৃতিক ঘাস, লতা-পাতা খাইয়ে ছাগল পালন করা যায়।’

‘গত দেড় বছর ধরে গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ধানের খড়ের দাম এতোই বেড়েছে তাতে চরের সাধারণ কৃষক গোখাদ্য কিনে গরু পালন করতে হিমশিম খাচ্ছেন,’ যোগ করেন তিনি।

লালমনিরহাট প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ছাগলের তেমন রোগ-ব্যাধি হয় না। শুধু, বছরে একবার পিপিআর টিকা দিলে পারলে নিরাপদে ছাগল পালন করা যায়। চরাঞ্চলের প্রত্যেক বাড়িতে ৫-২০টি ছাগল রয়েছে। এসব ছাগল পালন করে বছরে তারা আশানুরূপ লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি তারা গরুও পালন করছেন। কিন্তু, গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে গরু পালনের চেয়ে ছাগল পালনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে চর পার্বতীর কৃষক তাহের আলী (৫৬) জানান, তার তিনটি গরু ছিলো, কিন্তু দুটি বিক্রি করে দিয়েছেন। দু’বছর আগে ছাগল ছিলো ৬টি কিন্তু বৃদ্ধি করে ১৫টি ছাগল পালন করছেন এখন। বেশি দামে গোখাদ্য কিনে গরু পালন করে লাভবান হওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু ছাগল পালনে কোন খাদ্য কিনতে হয় না। চরের বুকে এসব ছাগল খোলামেলা পালন করা যায়।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তিস্তা নদীর বুকে চর গোবর্ধানের কৃষক শামসুল ইসলাম (৫০) জানান, তিনি চারটি গরু বিক্রি করে ছাগল পালন শুরু করেছেন। তার ১৮টি ছাগল রয়েছে। তার ছেলে প্রতিদিন এসব ছাগল চরে নিয়ে যায়। ছাগল পালন করতে তাকে কোনো অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে না। কিন্তু, গরু পালন করতে গিয়ে তাকে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়েছিল।

তবে, গোখাদ্যের দাম বিশেষ করে ধানের খড়ের দাম না বাড়লে তিনি গরু পালন অব্যাহত রাখতেন বলে জানান।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর যাত্রাপুর হাটের খড় ব্যবসায়ী মতিন মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি আঁটি ধানের খড় ৭-৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু, বর্ষাকালে এর দাম বেড়ে ১৩-১৫ টাকা হয়। একটি গরুকে প্রতিদিন ৭-১০টি আঁটির খড় খেতে দিতে হয়।’ সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৬, ২০২১ ৬:০৬ অপরাহ্ন
গরুর জীবন বিমা
প্রাণিসম্পদ

প্রাণ ডেইরি লিমিটেড এবং ফিনিক্স ইনস্যুরেন্সের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরায় দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে জড়িত খামারিদের বিনিয়োগ সুরক্ষায় গরুর জীবন বিমা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্রের আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা এসিডিআই/ভোকা। সংস্থাটির অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির নাম, ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ লাইভস্টক প্রডাকশন ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন।

প্রাথমিকভাবে কার্যক্রমটি সাতক্ষীরায় পরিচালনা করা হচ্ছে। পরে খুলনায় চালু হবে। খামারিদের বিনিয়োগ সুরক্ষার চিন্তা মাথায় রেখে এ কার্যক্রম শুরু করায় উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলা এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

এসিডিআই ও ভোকার মাঠ সমন্বয়কারী ডা. মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম সাতক্ষীরাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে জড়িত খামারিদের গরুর বিনিয়োগ সুরক্ষায় গরুর জীবন বীমা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিমা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা সদর, ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুর; তালা উপজেলার খলিষখালী, ইসলামীকাটি ও খলিলনগর ইউনিয়নে এ কার্যক্রম চলেছে।

আরো পড়ুন: চিলমারী‌তে ২০৪ সু‌বিধা‌ভো‌গীর মা‌ঝে আর‌ডিএ প্রক‌ল্পের গরু বিতরণ

তিনি আরও জানান, গরুর দাম এক লাখ টাকা হলে সেই গরুর জন্য তিন হাজার ৪৫০ টাকায় বিমা করা কথা থাকলেও তিনটি সংস্থার পক্ষ থেকে ৮০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ৬৯০ টাকায় বিমা খুলে ৩৩৯ জন খামারি সহায়তা পেয়েছেন। আমাদের পাইলট প্রজেক্ট শেষ হয়েছে। খুব দ্রুত দ্বিতীয় ফেজে কার্যক্রম শুরু হবে।

জানা যায়, ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৩৩৯ জন খামারি তাদের গরুর আকস্মিক মৃত্যুতে ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে এই গরু বিমার আওতায় আসেন। খুরা রোগসহ বিভিন্ন কারণে গরুর আকস্মিক মৃত্যু হলে, ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড বিমাকারী গরুর আর্থিক দায়ভার বহন করবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে গরুর ৯০ শতাংশ মূল্য খামারিকে পরিশোধ করবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop