১০:৫০ অপরাহ্ন

শনিবার, ২ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ৮:২৭ অপরাহ্ন
করোনায় মারা গেলেন ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ এর সাংগঠনিক সম্পাদক
কৃষি বিভাগ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফ্রন্ট লাইন যোদ্ধা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সভাপতি রংপুর জেলা কমিটি এবং রংপুর সদরে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শেখ শহীদ মোঃ আব্বাস অদ্য বুধবার বিকাল ৩.৪৫ মিনিটে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।  ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। উনার মৃত্যুতে সংগঠনটি একটি দক্ষ সংগ্রামী নেতাকে হারালো।

ডিপ্লোমা কৃষিবিদ এই নেতার  মৃত্যুতে সংগঠনের সভাপতি স্বাক্ষরিত শোক বার্তা প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে শোক ও সমবেদনা জানানো হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ৬:২৮ অপরাহ্ন
একসময়ের খাদ্য ঘাটতির দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ও দূরদর্শিতায় সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে দেশে কৃষিখাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। একসময়ের খাদ্য ঘাটতির দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক।

মন্ত্রী বুধবার বিকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) আয়োজিত ‘কোভিড পরিস্থিতিতে জলবায়ুসহনশীল কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে গত ৫০ বছরে চালের উৎপাদন বেড়েছে চার গুণেরও বেশি। ১৯৭১-৭২ সালে যেখানে চাল উৎপাদন ছিল মাত্র ১ কোটি মেট্রিক টন, সেখানে ২০২০ সালে তা বেড়ে প্রায় ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

‘শুধু চালের মোট উৎপাদন নয়, চালের উৎপাদনশীলতায়ও দেশ অনেক এগিয়ে গেছে’ উল্লেখ করেন মন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে হেক্টরপ্রতি চালের গড় উৎপাদন ছিল ১.৭১ টন। আর ২০২০ সালে হেক্টরপ্রতি চাল উৎপাদন হয়েছে গড়ে চার টনেরও বেশি। কৃষি গবেষণার মাধ্যমে ফসলের উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কৃষি উপকরণে ভর্তুকি প্রদান ও সহজলভ্যকরণ, সারের সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, সেচসুবিধা সম্প্রসারণ, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য লাগসই কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

ড. রাজ্জাক আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি বিরূপ প্রভাব পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিতে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য ব্যবস্থা দুর্বল হবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সম্মিলিতভাবে জলবায়ুসহনশীল কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রতিকূলসহিষ্ণু উন্নতমানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম জোরালভাবে চলছে বলে আজকের সংলাপে জানান মন্ত্রী।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো: রুহুল আমিন তালুকদার, ইরির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক প্রতিনিধি ড. নাফিস মিয়া ও গবেষণা পরিচালক ড. অজয় কোলিসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ এ সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ৫:৩৮ অপরাহ্ন
আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত জয়পুরহাটের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে চলতি ২০২১-২০২২ মৌসুমে ৬৯ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বোরো’র বাম্পার ফলনের পর এবার জেলার কৃষকরা মহা ধুমধামে আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় চলতি ২০২১-২২ মৌসুমে ৬৯ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের ৬৩ হাজার ৬০০ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ৫ হাজার ৩৬০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের রয়েছে এক হাজার ৭০০ হেক্টর। এতে চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ মেট্রিক টন চাল।

চলতি আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে ফলে রোপা আমন চাষে এবার কোন সমস্যা হবেনা। চলতি জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলার কৃষকরা আমনের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে ৩৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স ম মেফতাহুল বারি।

কৃষি বিভাগ জানায়, জয়পুরহাটে চলতি ২০২১-২২ মৌসুমে রোপা আমন চাষ সফল করতে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে মতে জেলায় এবার বোরো চাল উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন। বরো’র বাম্পার ফলনের পরে কৃষকরা বর্তমানে রোপা আমন ধানের চারা রোপণে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১১, ২০২১ ১২:৪৩ অপরাহ্ন
যুবলীগনেতার উদ্যোগে অসহায়দের সবজি বিতরণ
কৃষি বিভাগ

করোনা সংক্রমণে থমকে গেছে পুরো দেশ। এর সংক্রমণ ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাওয়াতে চলছে কঠোর লকডাউন। আর এই লকডাউনে কর্মহীন অভাবগ্রস্থ মানুষের পাশে এসে দাড়িঁয়েছেন চট্টগ্রাম যুবলীগ নেতা দেবাশিষ পাল দেবু। নগরের ফিরেঙ্গী বাজার এলাকায় ৩০০ অসহায় মানুষের মধ্যে সবজি বিতরণ করেছেন তিনি।

শনিবার (১০ জুলাই) বিকেলে ফিরেঙ্গী বাজারের জাকির হোসেন হোমিওপ্যাথি কলেজ মাঠে নগরীর ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৪ ওয়ার্ডের অসহায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে এ মৌসুমী সবজি বিতরণ করা হয়।

এসময় দেবাশীষ পাল দেবু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনায় করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মধ্যে মৌসুমি সবজি বিতরণ করা হয়েছে। করোনা শুরু থেকে চট্টলার মানুষের পাশে আছি। যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে এমন কার্যক্রমে সবসময় মানুষের পাশে থাকবো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বন্দর সিবিএর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিক, মহানগর যুবলীগ নেতা আনিফুর রহমান লিটু, সাজ্জাদ চৌধুরী পাবেল, রায়হান নেওয়াজ সজিব, মারুফ আহমেদ সিদ্দিকী, ইমতিয়াজ বাবলা, মো. ইকবাল হোসেন, মো. ইসমাইল, মো. আমিনুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, আবু নাছের জুয়েল, মো. সোয়েব, বিভূ দেবনাথ, মো. রাসেল খান প্রমুখ।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১০, ২০২১ ৯:১২ অপরাহ্ন
কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাধা দূর করতে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, ইউরোপসহ উন্নত দেশে ফলমূল ও শাকসবজি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর করতে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, ইউরোপ,জাপানসহ উন্নতদেশ সমূহের মূল বাজারে আমরা কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে চাই। সেজন্য, রপ্তানি বাধা দূর করতে ইতোমধ্যে দেশে উত্তম কৃষি চর্চা নীতিমালা (গ্যাপ) বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। দেশে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব ছিল না, আমরা সেটি স্থাপন করেছি। সেখান থেকে থেকে সনদ দেয়া শুরু হয়েছে। আম রপ্তানির জন্য ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে।
কৃষিমন্ত্রী শনিবার সকালে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কৃষিপণ্যের রপ্তানি সহায়ক বিএডিসির হিমাগার পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের রপ্তানি মূলত গার্মেন্টসনির্ভর। শুধু গার্মেন্টসনির্ভর থাকলে হবে না; বরং রপ্তানিকে বহুমুখী করতে হবে। সেটি করতে হলে কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে। কৃষিপণ্যের রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। এ সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে কৃষিপণ্য মাঠে উৎপাদন থেকে শুরু করে শিপমেন্ট পর্যন্ত নিরাপদ রাখতে কাজ চলছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব সহকারে কাজ চলছে।
কৃষিপণ্যের রপ্তানির জন্য বিমানবন্দরে বিএডিসির হিমাগারের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে বলে এসময় জানান মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ফলমূল ও শাকসবজি রপ্তানির সময় বিমান বন্দরে কার্গো হ্যান্ডেলিং, স্পেস ও কার্গো ভাড়া প্রভৃতি বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং ফলমূল ও শাকসবজি রপ্তানিকারক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়গুলোকে কৃষিপণ্যের জন্য আরও রপ্তানিবান্ধব ও সহজতর করতে কাজ চলমান আছে।
আজকের সভায় বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকারের সভাপতিত্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো: মাহবুব আলী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোকাম্মেল হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মফিদুর রহমান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. আবু সালেহ্‌ মোস্তফা কামাল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৯, ২০২১ ৬:০৩ অপরাহ্ন
বৃষ্টি ও বন্যায় কুড়িগ্রামের সবজি চাষীদের ক্ষতি!
কৃষি বিভাগ

গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও মাঝারি বন্যায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন কুড়িগ্রামের সবজি চাষীরা। প্রায় ৮০ভাগ ফসল কৃষকরা ঘরে তুললেও জুনের শেষে বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে আটকে পড়ে সবজির গোড়া। ফলে বাড়তি লাভ করার স্বপ্ন তাদের ধুলিস্যাত হয়ে গেছে।

উত্তর নওয়াবশ, দক্ষিণ নওয়াবশ,কদমতলা ও ছড়ার পাড়ের কৃষকরা জানান, গত বছর জুনের প্রথম সপ্তাহে বন্যার পানি এসে সব খেতের ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। এবার বন্যা না হলেও বৃষ্টির জলাবদ্ধতায় নীচু জমির খেতগুলো তলিয়ে গেছে। এতে শেষের দিকের ফসলগুলো প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে। শুলকুর বাজারের কৃষক জব্বার আলী জানান, ৩০শতক জমির পটল খেত তলিয়ে গেছে। বেশ কিছু পটল আগে তুলে বিক্রি করে ভালো দাম পেয়েছি।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হক জানান, বন্যায় ক্ষতির কথা ভেবে জেলায় প্রায় ১শ হেক্টর পাট আগাম কাটা হয়েছে। সদর উপজেলার ধরলা নদী তীরবর্তী পৌরসভা, হালোখানা, ভোগডাঙ্গা ও পাঁছগাছী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে কৃষকরা পাট কাটেন।এসব এলাকার কৃষকদের পটল,ঝিঙে,চিচিঙা,করলা,শশা,কাকরোলসহ লাল শাক,ধনেপাতা,পুঁই শাক,মুলা শাক পানিতে আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৮, ২০২১ ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
সার্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে ভোলার চাষিদের
কৃষি বিভাগ

পতিত জমি ব্যবহার করে ভোলা জেলায় সার্জর পদ্ধতিতে সবজি চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরে ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে এ পদ্ধতিতে সবজি ও মাছ চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে দুই হাজার ৭’শ ৪৩ হেক্টর জমি বেশি। ফলে সবজির পাশাপাশি মাছ চাষ করে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছেন কৃষকরা।

জানা যায়, এ পদ্ধতিতে রাসয়নিক সারমুক্ত নিরাপদ প্রচুর সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে লাউ, শসা, বরবটি, করোল্লা, মিষ্টি কুমর রেখা, দুন্দল ইত্যাদি। এছাড়া মাছের মধ্যে স্বল্প সময়ে বড় হওয়া গ্লাস কার্প, রুই, মৃগেল, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, চাইনিজ পুটি, স্বরপুটি রয়েছে।

প্রতি খণ্ডকালীন ৩-৪ মাস পর পর এখানে সবজির মৌসুম হিসেবে চাষ হয়। একেকটি মৌসুমে প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিকটন সবজি উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

এছাড়া বেশ কিছু ফল বাগান সার্জন পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। এতে করে বর্ষার প্রায় ৬ মাস পতিত জমিতে মাছ চাষে করে কৃষকরা বাড়তি লাভবান হচ্ছে। তাই অনেকেই এ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

চরফ্যাসন উপজেলার হাজারিগঞ্জ ইউনিয়নের চর ফকিরা গ্রামে ৪০ জন কৃষকের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল ৭০ একর জমিতে সম্মিলিতভাবে সার্জন পদ্ধতিতে সবজির চাষ করছেন। এ দলের কৃষক মো: সোলায়মান, মো: কামাল, আইয়ুব আলী, লোকমান, মফিজুল ইসলাম জানান, তারা ২০১৬ সালে মাত্র ৯ একর জমিতে সার্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেন। যা বর্তমানে ৭০ একর জমিতে পৌঁছেছে। তাদের একর প্রতি সবজি চাষে খরচ হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। আর লাভ হয় ২ লাখ ৩০ থেকে আড়াই লাখ টাকা। আর মাছ চাষে একর প্রতি আয় হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

এ দলের অপর কৃষক মো: জসিম উদ্দিন জানান, বর্ষাকালের এ ৬ মাসে ৫০ গ্রাম ওজনের গ্লাস কার্প মাছ ছাড়লে তা ২ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। রুই ও মৃগেল ৫০ গ্রাম ছাড়লে সাড়ে ৪’শ গ্রাম হয়। এছাড়া তেলাপিয়া ও পুটি মাছ বিক্রির উপযোগী হয় ৬ মাসে। এসব জলাশয়ে মাছের সাধারণত খাবার দিতে হয়না। বিশেষ সবজি বা ঘাসের পচা অংশ, শামুক, ছোট পোকা ইত্যাদি প্রাকৃতিক খাবারই এরা বেশি খায়। বৃষ্টির নতুন পানিও মাছকে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার ৭ উপজেলার মধ্যে সবচে বেশি সার্জন পদ্ধতি অনুসরণ হচ্ছে চরফ্যাসন উপজেলায়। এ উপজেলায় ৬ হাজার হেক্টর জমি এ পদ্ধতির আওতায় এসেছে। একইভাবে সদর উপজেলায় ১৪৩ হেক্টর, দৌলতখানে ১৫০, বোরহানউদ্দিনে ৩৫০, লালমোহনে ৫০০, তজুমদ্দিনে ৭৫ ও মনপুরায় ২৫ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রিয়াজউদ্দিন জানান, ভোলায় সাধারণত জোয়ারে পানি উঠে এবং ভাটায় নেমে যায়। যাকে বলে জোয়ার ভাটার এলাকা। আর সবজি ফসল স্থায়ীভাবে পানি সহ্য করতে পারেনা। এজন্য সার্জনের মাধ্যমে সবজি লাগানোর স্থান উঁচু করে নেওয়া হয়। পানি বেশি বা বৃষ্টি হলেও গাছের গোড়ায় পানি জমেনা। সার্জনে ১২ মাস সবজি আবাদ করতে কোন সমস্যা হয়না। ধান বা অনান্য ফসলের চেয়ে সবজিতে লাভ বেশি। সদর উপজেলার মধ্যে শীবপুর ইউনিয়ন, রাজাপুর, চরসামাইয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়নে এ পদ্ধতি বেশি হয় বলে জানান তিনি।

লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এফ এম শাহাবুদ্দিন জানান, তার উপজেলায় সার্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহী করা হচ্ছে। চলতি বছর বেশ কিছু আম ও মাল্টা বাগান সার্জনের আওতায় আনা হয়েছে। ্এতে করে ফলের পাশাপাশি মাছ ও সবজি বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবু মো: এনায়েতউল্লাহ জানান, সার্জন পদ্ধতি কৃষি জমির অসাধারণ ব্যবহার। বিশেষ করে শীতের সময় সবজির বেশি দাম না পাওয়া গেলেও বর্ষার সময়টাতে সবজির ভালো দাম পাওয়া যায়। সামনের কোরবানীর ঈদে প্রচুর শসার চাহিদা থাকবে। মাছকে তেমন খাবার দিতে হয়না, সবজিতেও রাসয়নিক সার দিতে হয়না। তাই খরচ কম হয়। প্রায় ১০ হাজার পরিবার সার্জনের সাথে জড়িত বলে তিনি জানান।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৭, ২০২১ ৯:১৭ অপরাহ্ন
আউশ আমনে ধান উৎপাদনসহ কৃষি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে সাত কর্মকর্তা
কৃষি বিভাগ

করোনা পরিস্থিতিতে চলমান আউশ ও আসন্ন আমন মৌসুমে ধান উৎপাদন ও প্রণোদনা বিতরণসহ সার্বিক কৃষি কার্যক্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের সাতজন অতিরিক্ত সচিবকে। এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দের প্রত্যেকে ২ টি করে সারা দেশের মোট ১৪টি কৃষি অঞ্চলের কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি করবেন।
কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাকের নির্দেশে কৃষি উৎপাদন আরও বেগবান করতে কর্মকর্তাদেরকে তদারকি ও সমন্বয়ের এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম সকল অঞ্চলের সার্বিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন। সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল।
করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর বোরো ধান আবাদ ও উৎপাদনে যে রেকর্ড সাফল্য এসেছে, তেমনি চলমান আউশ ও আসন্ন আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন; এবং বীজ, সারসহ বিভিন্ন প্রণোদনা- ভর্তুকি বিতরণ,কৃষি যন্ত্রের যথাযথ ব্যবহার, পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপন, সমলয়ে চাষের অগ্রগতি প্রভৃতি বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবেন এবং এসব বিষয়ে সমন্বয় ও তদারকি করবেন।
এছাড়া, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিতভাবে অনলাইন মিটিং ও সুবিধাজনক সময়ে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে মাঠের সকল কার্যক্রমের তদারকি করবেন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৪, ২০২১ ৮:৪৩ অপরাহ্ন
প্রতিবন্ধী হয়েও সবজি চাষে লাখপতি আলাউদ্দিন
কৃষি বিভাগ

যদি থাকেন মনোবল তবে, লাগেনা সব সময় দেহবল। তেমনি একজন সফল চাষি প্রতিবন্ধী আলাউদ্দিন। নিজেতো সফল বটেই তবে, আরও ১০জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন এই প্রতিবন্ধী।

জানা যায়, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের পশ্চিম বাইশারী গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। জন্মস্থান ফেনীর ছাগলনাইয়ায় হলেও স্বপরিবারে থাকেন বাইশারীতে। অন্য অনেক প্রতিবন্ধীদের মতো কারো কাছে হাত পাতেন না তিনি। বাইশারী বাজারে রয়েছে তার বিশাল হোটেল। রান্না-বান্নাসহ বিভিন্ন আইটেমের নাস্তা তৈরিতে পারদর্শী আলাউদ্দিন। তারপরও বসে থাকেন না তিনি, চলতি বছর শুকনো মৌসুমে দুই একর জমিতে সবজি চাষ করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।

আলাউদ্দিন জানান, ‘দুই একর জমি বর্গা নিয়ে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ শুরু করেছি। মাত্র টমেটো বিক্রি করলাম। বলতে পারেন ভালোই লাভ করেছি।’

এখন পর্যন্ত আলাউদ্দিন তার খেতের টমেটো বিক্রি করেছেন ৯ হাজার কেজির মতো। আরও অনেক টমেটো খেতে মজুদ আছে। টমেটোর পাশাপাশি বর্তমানে তিনি চাষ করছেন মরিচ, করলা, বেগুন, ক্ষিরা, লালশাক, কচুসহ নানা জাতের সবজি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।

আলাউদ্দিন জানান, এসব নিজস্ব পদ্ধতিতে বিবেকবুদ্ধি খাটিয়ে, সময়মত কিটনাশক ছিটিয়ে, শ্রমিক দিয়ে করিয়েছেন তিনি। জন্ম থেকে একটি পা না থাকলেও তিনি কোনোদিন মনোবল হারাননি। সরকারিভাবে তদারকি ও পরামর্শ পেলে তিনি আরও লাভবান হতেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমেই আরও লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

উপ-সহকারী কৃষি অফিসার রফিকুল আলম জানান, প্রতিবন্ধী আলাউদ্দিন একজন সফল চাষি। অনেক সময় তাকে বিভিন্ন সবজি চাষের সফলতার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে সরকারিভাবে সার, কিটনাশক ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে আরও লাভবান হবেন আলাউদ্দিন।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৪, ২০২১ ৩:০৩ অপরাহ্ন
বর্ষাকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত ঝালকাঠির চাষিরা
কৃষি বিভাগ

কাঁকরোল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, তিতা করলা, শসা, বরবটি, ঢেঁড়শ, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, পাটশাক, শসা, কাঁচকলা, বেগুন, পেঁপে, পানিকচু, কচুশাক, কচুর লতি, পটল, চালকুমড়া ইত্যাদি চাষ করে অধিক ফলনের আশা নিয়ে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন ঝালকাঠি জেলার ৩৬ গ্রামের কৃষক-কৃষাণীরা। সবজি চাষিদের অনেকে এক ফসলী জমিতে তিন ফসল চাষ করে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন।

জানা যায়, অনেক চাষি সবজি চাষ করে সাংসারিক খরচ মিটিয়ে বাড়তি কিছু সঞ্চয়ও করছেন। উৎপাদন খরচ ও শ্রম কম হওয়ায় এ ধরনের সবজি চাষ চাষিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। কয়েক বছর আগেও যাদের সংসার চলতো ধার-দেনা করে। আজ আগাম সবজি চাষ করে তারা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলার উপ-সহকারী কর্মকর্তার পরামর্শে এক ফসলি জমি বর্তমানে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। যে জমিতে আগে মাত্র একবার ফসলের চাষ করা হত এখন সে জমিতে ১২ মাস রবি মৌসুমে (শীতকালীন), খরিপ-০১ (গ্রীষ্মকালীন) ও খরিপ-০২ (বর্ষাকালীন) উৎপাদিত হচ্ছে নানা জাতের শাক-সবজি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফজলুল হক জানান, ঝালকাঠির সবজি চাষে মডেল গ্রামগুলোয় প্রণোদনা ও পরামর্শ দেয়াসহ নানাভাবে কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করে আসছে। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে আমরা যতদূর সম্ভব মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। যে সমস্ত সবজি চাষি ক্ষেতের রোগ বালাই এর ব্যাপারে আমাদের নিকট আসেন তাদেরকে সাধ্যমত পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে থাকি। সবজি চাষিরা প্রতিবছরই ৩টি মৌসুমে ভালোমানের সবজি উৎপাদন করে থাকে বলে জানান তিনি।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop