কাজুবাদাম, কফিসহ অপ্রচলিত ফসল চাষে পাহাড়ের অর্থনৈতিক চেহারা পাল্টে যাবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ
৩:৪৭ অপরাহ্ন
রাসায়নিক সার ও মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক শাক সবজিতে ব্যবহারে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দিনদিন বাড়ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়নে এ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে দেশে প্রথমবারের মতো পরিবেশসম্মত বিষমুক্ত সবজি চাষ হচ্ছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে।
জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আইপিএম প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের মডেল প্রকল্প হিসেবে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ করছে। এ প্রকল্পের আওতায় রবি ও খরিপ মৌসুমে এই ইউনিয়নে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ করেছে ২০টি দল।
সম্প্রতি রবি মৌসুমের আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সারা দেশে ১০টি মডেল ইউনিয়নে আইপিএম প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নকে গ্রহণ করে।
জৈব কৃষি ও জৈবিক বালাই দমন ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ফেরোমন ফাঁদ স্টিকিটাপ বা হলুদ আঠালো ফাঁদ পরিবেশবান্ধব চালু করা হয়। জৈব বালাইনাশক পদ্ধতিতে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পে সুযোগ পেয়ে ৫০০ জন নারী পুরুষ কৃষক প্রশিক্ষণ নিয়ে বিষমুক্ত সবজি চাষে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বিষমুক্ত সবজি ইতোমধ্যে উপজেলা-জেলা ছাড়িয়ে রাজধানী ঢাকায়ও সুনাম কুড়াচ্ছে।
প্রশিক্ষিত কৃষকরা রবি মৌসুমে করলা, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়া ও খরিপ মৌসুমে পটল, ধুন্ধল, লাউ চাষ করছে। বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদনে সারা দেশে ১০টি ইউনিয়নে মডেল হিসেবে কাজ চলছে। ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্ধি ইউনিয়নে মডেল হিসেবে ১০০ একর জমিজুড়ে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি আবাদ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ এশিয়া রিজিয়ন থেকে ২ বছরের (২০২২-২০২৪) জন্য খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ এফএওর ক্রিডেনশিয়াল কমিটিরও সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছে। এফএওর চলমান ৪২তম কনফারেন্সে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এছাড়া, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পানি স্বল্পতা ও পানি সমস্যা নিরসনের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান মন্ত্রী। পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনের জন্য একটি ‘ উচ্চ পর্যায়ের সম্মিলিত সংগঠন/প্ল্যাটফরম গঠনেরও প্রস্তাব করেন তিনি।
০২২-২০২৪ মেয়াদে এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানায়।বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) ১৮৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধির অংশগ্রহণে চলমান ৪২তম এফএও কনফারেন্সে বাংলাদেশ সর্বসম্মতিতে এ সদস্যপদ অর্জন করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অন্যান্য কাউন্সিল সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে নীতি ও নির্বাহী পর্যায়ে এফএও’র কার্যক্রম, বাজেট বাস্তবায়ন, ফলাফল ভিত্তিক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণসহ এর প্রশাসনিক দিকগুলো তদারকিতে নেতৃত্ব দেবে। সমর্থন আদায়ে রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ এমন এক সময় এ সদস্যপদ লাভ করল যখন ঢাকায় ৩৬তম এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এফএও আঞ্চলিক সম্মেলন (এপিআরসি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলন (৮-১১ মার্চ ২০২২) উদ্বোধন করবেন। যেখানে ৪৬টি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
রোমের এফএও সদর দপ্তরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে চলমান এফএও কনফারেন্সে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক আট সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং অন্যান্যদের মধ্যে আছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও এফএও-তে স্থায়ী প্রতিনিধি মো. শামীম আহসান।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা যা বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্র দূরীকরণে প্রচেষ্টা চালায়।
উচ্চ ফলনশীল। সাধারণ ধানের তুলনায় ফলন হয় ৬ গুণ। দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে। মাত্র এক মন ধানের দাম ১২ হাজার টাকা। এমন এক জাতের ধান আবাদ করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার এক মুদি দোকানদার মিলন হোসেন।
মাত্র এক বিঘা জমিতে এই ধানের আবাদ করে তিনি তা ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এই খবর এখন মিরপুর উপজেলার কৃষকদের মুখে মুখে। সর্বত্র চলছে আলোচনা। এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন নতুন এ জাতের ধান চাষের জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনেকেই আসছেন বীজ সংগ্রহ করতে। মূলত বীজ হিসেবেই প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছেন মিলন হোসেন। স্থানীয় কৃষি-বিভাগও এই ধান সংগ্রহ করেছেন। তারা এ ধান নিয়ে গবেষণা করবেন বলে জানা গেছে।
কৃষক মিলন হোসেন মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের চক গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় মুদি দোকানি হলেও দীর্ঘদিন ধরেই আধুনিক চাষাবাদে তার আগ্রহ।
মিলন হোসেন আরটিভি নিউজকে জানান, প্রায় ৩ বছর আগে ব্রি-৫১ জাতের ধান চাষ করেন। সে সময় ওই ধানের জমিতে মাত্র এক গোছা ধান ছিল অন্যরকম তার ভাষায় অস্বাভাবিক। অন্য গাছের তুলনায় ওই গোছা ধানের গাছগুলো বেশ শক্ত, লম্বা এবং মোটা।
তিনি আরও জানান, আলাদা করে গাছগুলোর দিকে নজর রাখা হয়েছিল। পরে ওই ধান গাছের শীষে অস্বাভাবিক পরিমাণে ধান আসে। ধানগুলো ছিল সরু। ধান কাটার সময় ওই গোছার ধান আলাদা করে কেটে বাড়িতে নেন এবং সংগ্রহ করে রাখেন। পরে ওই ধান আলাদা স্থানে চারা দেন তিনি। অল্প জমিতে আলাদা করে ওই ধানের চাষ করেন। সেই ধানও বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। পরের বছরে ওই ধানের চারা এক বিঘা জমিতে রোপণ করেন। বর্তমানে এই ধানে ব্যাপক লাভ হয়েছে তার।
মিলন বলেন, যেহেতু এই জাতের কোন নাম তার জানা নেই। তাই নিজের মেয়ের নামের সাথে মিল রেখে এই ধানের নাম দিয়েছেন ফাতেমা ধান। এই ধান অন্য ধানের মতেই চাষ পদ্ধতি। আউশ, আমন ও বোরো তিন মৌসুমেই এ ধানের চাষ করা যায়। গাছের উচ্চতা অন্য ধানের তুলনায় বড়। গাছের বয়স ১০০-১১০ দিন। গাছগুলো শক্ত হওয়ায় হেলে পড়ে না। আর এক একটি ধানের শীষে ৭শ থেকে সাড়ে ৭শ ধান হয়। যা সাধারণ ধানের তুলনায় ৬ গুণ। যার ফলে এর উৎপাদনও অনেক বেশি। শক্ত ও লম্বা হওয়ায় রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম। এছাড়া চিকন চাল হয় এবং ভাতও খেতে খুব সুস্বাদু।
তিনি আরও বলেন, এই বোরো মৌসুমে এক বিঘা জমিতে ৪৩ মণ ধান পেয়েছেন তিনি। যেহেতু এই ধান ইতোপূর্বে কেউ চাষ করেনি। তাই আশপাশের এলাকার চাষিরা এসে বীজ হিসেবে এই ধান কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমি ৩০০ টাকা কেজি হিসেবে ধান বিক্রি করেছি। যা ৫ লাখ টাকার উপরে হবে। মিলন বলেন, আমি এখন চাই এ ধান ছড়িয়ে পড়ুক। দেশের কৃষকের ধান চাষ সফল হোক। খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হোক দেশ। আমার মেয়ের নামের ধান সবাই চাষ করবে এতেই আমার আনন্দ।
মিরপুরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বলেন, মিলনের ধানের খড়ও গবাদিপশুর জন্য উন্নতমানের খাবার হচ্ছে। সাধারণত প্রতিটি ধানের শীষে দেড়শ’ ধান থাকে। কিন্তু মিলনের ধানের প্রতিটি শীষে ৭শ উপরে ধান হয়েছে। বিঘা প্রতি ৪০-৫০ মণ ফলন হতে পারে।
স্থানীয় কৃষি অফিসের মতে, চলতি বছর বোরো মৌসুমে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, ৭ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন হয়েছে হাইব্রিড ৭ দশমিক ৮ মেট্রিকটন এবং উফশী হেক্টর প্রতি ৫ দশমিক ৮ মেট্রিকটন।
এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ আরটিভি নিউজকে বলেন, কৃষক মিলন হোসেন বুদ্ধি করে ব্রিধান-৫১ জাতের মধ্য থেকে একটা ধানের গোছা সংগ্রহ করে নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের আধুনিক ধান চাষে উদ্বুদ্ধ এবং প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আমরা এ ধান সংগ্রহ করেছি। যা উন্নত গবেষণার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সূত্র: আরটিভি
নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালের উজিরপুরে রাইস গ্রেইন ভ্যালুচেইন এক্টরস শীর্ষক মতবিনিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বরিশালের উজিরপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত।
তিনি বলেন, জিংকসমৃদ্ধ ধান সুপ্ত ক্ষুধা নিবারণে অনন্য। দিন দিন এর আবাদ সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাই দেশে-বিদেশে জিংক ধানকে আলাদাভাবে উপস্থাপনের জন্য এর ব্রান্ডিং জরুরি। সে লক্ষ্যে প্রয়োজন উৎপাদনকারী থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌছানোর এ ধাপগুলোকে আলাদাভাবে বিবেচনায় নেওয়া। এতে চাষি ও ভোক্তা উভয়েই উপকৃত হবেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমাদের অনেক ফসলেই বিশ্বের প্রথম কাতারে। বেশ কিছু ফসল উদ্বৃত্ত। রপ্তানিও হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে আমরা আরো সম্পদশালী হবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণতি বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন এবং এলাহি এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফরহাদ হোসেন।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিবির সমন্বয়কারী সমীরণ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. তৌহিদ, হারভেস্টপ্লাসের বিভাগীয় সমন্বয়কারী জাহিদ হোসেন, হারভেস্ট প্লাসের কর্মকর্তা মো. রহুল কুদ্দুস প্রমুখ। সভায় জিঙ্কধান চাষি, ধানক্রেতা এবং মিল মালিকসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৫০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
ছাদে বাগানের প্রথম ধারণা এসেছিল আজ থেকে প্রায় ৩০০০ বছর আগে। মেসোপটেমিয়ায় রাজা নেবুচাঁদ নেজার তার স্ত্রীর জন্য ইউফ্রেটিস নদীর তীরে প্রথম ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান তৈরি করেন। বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বেশিরভাগ ছাদ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এ সকল অব্যবহৃত ছাদে খুব সহজেই পরিকল্পিতভাবে ফুল, ফল ও শাক-সবজির পারিবারিক বাগান তৈরি করা সম্ভব। এর দ্বারা পারিবারিক ফুল, ফল ও শাক-সবজির চাহিদার মিটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।
ছাদে বাগান করার প্রয়োজনীয় উপকরণ: মাটি বা সিমেন্টের টব, হাফ ড্রাম কিংবা সুবিধামত ছাদে স্থায়ী বেড; আয়তন ৩ ফুট বাই ৩ ফুট বা ছাদের কার্নিশ বাড়িয়ে স্থায়ী বেড করা যায়। এছাড়া সিকেচার, কোঁদাল, কাঁচি, সাবল, ঝরনা, বালতি, চালনি, করাত, ছুরি, খুপরী, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি।
ফুল বা ফলের জন্য কলমের বা গ্রাফটিং চারা ও বিভিন্ন প্রকারের ফুল, ফল ও শাক-সবজি চারা বা বীজ। মাটির মধ্যে বেলে দো-আঁশ মাটি বা পাহাড়িয়া লাল মাটি, গোবর, খৈলসহ বিভিন্ন প্রকার জৈব সার এবং গাছের রোগ-বালাই দমনের জন্য বিভিন্ন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক।
ছাদে বাগান তৈরি করার উপযোগী গাছসমূহ: ছাদের বাগানে বিভিন্ন রকমের গাছ লাগানো যায়। এর মধ্যে রয়েছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা, ক্যনা, গাদা, বেলি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা অন্যান্য মৌসুমী ফুল, অর্কিড, বনসাই ও ক্যাকটাস লাগানো যায়। ফল গাছের মধ্যে রয়েছে আম্রপলি, আতা, আঙুর, লতা বোম্বাই জাতের আম, পেয়ারা, কুল, আমড়া, সফেদা, লেবু, ডালিম, বাতাবি লেবু, করমচা, বিলম্ব, জামরুল, ছোট জাতের কলা, ছোট জাতের আনারস, কমলা, কামরাঙা ইত্যাদি। সবজির মধ্যে রয়েছে বেগুন, টমেটো, শিম, মরিচ, লাউ, কুমড়া, ঢেঁড়শ, পুইশাক, লালশাক, পটল, শসা, বরবটি, করলা ইত্যাদি।
ছাদে বাগান করার বিভিন্ন পদ্ধতি : টব পদ্ধতি : খুব সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানাš-র করা যায় বলে টব ছাদ, আঙিনা ও ব্যালকণীর জন্য সর্বোত্তম বাগান পদ্ধতি বলে বিবেচিত। দিনদিন টব পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে আজকাল প্লাস্টিকের বিভিন্ন ধরনের টব তৈরি করা হচ্ছে এবং এসব টবের ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। টবে চাষ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব সার ব্যবহার করা উচিত। ১৪ ইঞ্চি থেকে ১৮ ইঞ্চি আকারের একটি টবের জন্য জৈব সারের পাশাপাশি ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ৫০ গ্রাম এমওপি সার উত্তমরূপে মিশিয়ে ১০ দিন থেকে ১২ দিন রেখে দিতে হবে। তারপর টব ভরাট করতে হবে।
হাফড্রাম পদ্ধতি : টব পদ্ধতি ও হাফড্রাম পদ্ধতির মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। হাফড্রামের তলদেশে ছিদ্র করতে হবে। ছিদ্রগুলোয় ইটের টুকরো বসাতে হবে; তার উপরে ড্রামের তলদেশে প্রথম ১ ইঞ্চি পরিমাণ খোয়া বা সুড়কি দিতে হবে এবং তার উপরে এক ইঞ্চি পরিমাণ জৈব সার বা পচা গোবর দিতে হবে। এর ফলে অতিরিক্ত পানি সহজেই বের হয়ে যেতে পারবে। জৈব সারের পাশাপাশি প্রতিটি ড্রামে ২০০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গ্রাম এমওপি ব্যবহার করা যেতে পারে। আম ও লেবু জাতীয় গাছের জন্য প্রতিটি ড্রামে উপরোক্ত জৈব ও রাসায়নিক সারের পাশাপাশি ৫০০ গ্রাম হাড়ের গুঁড়া ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্থায়ী বেড পদ্ধতি :
স্থায়ী বেড পদ্ধতি হল স্থায়ীভাবে ছাদে বাগান করা। ছাদে বাগান করার পূর্বে ছাদ বিশেষভাবে ঢালাই দিয়ে নেট ফিনিশ করে নিতে হবে। এর দু’টি পদ্ধতি আছে। যেমনঃ
ছাদের চারদিকে স্থায়ী বেড পদ্ধতি :
ছাদে বাগান করার জন্য স্থায়ী বেড পদ্ধতি একটি আধুনিক পদ্ধতি। স্থায়ী বেড পদ্ধতির বাগান করার জন্য ছাদের চারিদিকে ২ ফুট প্রস্থের দুই পাশে ১.৫ ফুট উঁচু দেয়াল ৩ ইঞ্চি গাঁথুনির নেট ফিনিশিং ঢালাই দিয়ে তৈরি করলে মাঝখানে যে খালি জায়গা তৈরি হয়, সেই খালি জায়গার তলায় প্রথমে এক ইঞ্চি ইটের সুড়কি বা খোয়া, পরের এক ইঞ্চি গোবর সার দেয়ার পর বাকি অংশ ২ ভাগ মাটি ও ১ ভাগ গোবরের মিশ্রণ দিয়ে ভরাট করে স্থায়ী বেড তৈরি করা হয়।
ট্যাংক পদ্ধতি:
ছাদে এক ফুট উঁচু ৪টি পিলারের উপর পানির ট্যাংক আকৃতির ৩ ফুট দৈর্ঘ্য, ২ ফুট প্রস্থ ও ১.৫ ফুট উঁচু ৩ ইঞ্চি গাঁথুনির নেট ফিনিশিং ঢালাই দিয়ে যে ট্যাংক তৈরি করা হয় একেই বলে ট্যাংক বেড পদ্ধতি।
ছাদে গাছ লাগানোর কৌশল :
গাছের ধরন অনুযায়ী ড্রাম/টব নির্বাচন করে সার-মাটি দিয়ে গাছ লাগাতে হবে। ডাইথেন এম-৪৫ অথবা এ জাতীয় ছত্রাকনাশক ছাই এর সাথে মিশিয়ে মাটিতে প্রয়োগ করে মাটি শোধন করা যায়। মাটি শোধন করে আদর্শ নার্সারি থেকে চারা, কলম, কাটিং, বীজ সংগ্রহ করে নিজেই টবে লাগালে খরচ কম হবে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসের মধ্যে ড্রাম বা টবের মাটি বদলাতে হবে। ড্রামে বা টবে ইউরিয়া সার না দেয়াই ভাল।
দূষণমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, অবসর সময় কাটাতে, কর্মসংস্থান ও শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ তৈরি করতে এবং টাটকা ফল ও শাক-সবজি উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা মেটাতে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ছাদে বাগান করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।