২:২৭ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুন ২০, ২০২১ ৬:৪৫ অপরাহ্ন
সরকারি উদ্যোগেই বাড়বে সবজি ও ফল রপ্তানি
কৃষি গবেষনা

ফল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয়। পণ্য দুটির উৎপাদন বাড়লেও রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে। নানা প্রতিবন্ধকতায় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে ফল ও সবজি রপ্তানি বাড়াতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে সাতটি ফল ও সবজি চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলের মধ্যে রয়েছে আম ও লেবু।

সবজির তালিকায় শিম, বেগুন, শসা, পটোল ও করলা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এ নিয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে।\হপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সবজি ও ফল রপ্তানি কীভাবে বাড়ানো যায়, কোন কোন দেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে, প্রতিবন্ধকতা কীভাবে দূর হবে, উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায় এবং কোন কোন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হবে। পরিকল্পনায় আরও কী কী যোগ করা যায় তা নিয়ে মতামত নিচ্ছে বারি।

শনিবার উদ্যান ফসলের রপ্তানি প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রয়োগবিষয়ক সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের আলাদা একটি প্রকল্প প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।

রাজধানীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহযোগিতায় কর্মশালায় বারির পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. মো. কামরুল হাসান সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পিপিসি উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারির সবজি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফেরদৌসী ইসলাম।

কর্মশালায় উদ্যান ফসলের রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রয়োগবিষয়ক প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বারির আঞ্চলিক কৃষি গবেষণাকেন্দ্র হাটহাজারী, চট্টগ্রামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মশিউর রহমান।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টন ফল এবং ১ কোটি ৬৫ লাখ টন সবজি উৎপাদন হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নানামুখী সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশে এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন ছাড়িয়ে যাবে। অন্যদিকে দেশে আনারস উৎপাদিত হচ্ছে বছরে সাড়ে চার লাখ টন। আর লিচু ফলছে প্রায় তিন লাখ টন। পেয়ারা উৎপাদনেও বিশ্বের অনেক দেশ থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ। এখন প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টন পেয়ারা উৎপাদিত হয়। কোনো কোনো ফল সারা বছরই উৎপাদিত হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত ফল ও সবজি রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু রপ্তানির জন্য উৎপাদিত শস্যের গুণগত মানের অভাব, নিরাপদ শষ্য উৎপাদনের অভাব, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার, চুক্তিভিত্তিক কৃষক না থাকা, অ্যাক্রেডিটেশন ল্যাবরেটরি না থাকা, তদারকি ও মানসনদের দুষ্প্রাপ্যতা, রপ্তানির জন্য বিশেষ অঞ্চল না থাকাসহ ২০ ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব পণ্য রপ্তানি বাড়াতে ১৬টি সুপারিশ করা হয়।\হপ্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সরকারি ও বেসরকারি খাতের কয়েকজন প্রতিনিধি। তারা বলেন, রপ্তানি করার জন্য উৎপাদিত ফল ও সবজির মান ঠিক রাখতে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি চিহ্নিত করতে হবে। এর জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

এছাড়া কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে তদারকি বাড়ানো, দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা এবং বিমানের পরিবর্তে সমুদ্রগামী জাহাজে পণ্য পাঠানোর ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুসারে উল্লিখিত সবজি সংগ্রহ করা হবে নরসিংদী, কুমিল্লা ও টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে। এ ছাড়া লেবু সিলেট থেকে এবং আম রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরা থেকে সংগ্রহ করা হবে। তবে নরসিংদী থেকে লেবু ও মানিকগঞ্জ থেকে সবজি সংগ্রহের পরামর্শও দিয়েছেন অনেকে। এসব সবজি উৎপাদনের জন্য কৃষক নির্দিষ্ট করে চুক্তিভিত্তিক চাষের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনে নির্দিষ্ট জোন তৈরিরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। সূত্র: সমকাল

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২১ ৯:৩২ অপরাহ্ন
কাজুবাদাম, কফিসহ অপ্রচলিত ফসল চাষে পাহাড়ের অর্থনৈতিক চেহারা পাল্টে যাবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এখন কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও লাভজনক করতে নিরলস কাজ করছে। কৃষিকে লাভজনক করতে হলে কাজুবাদাম, কফি, গোলমরিচসহ অপ্রচলিত অর্থকরী ফসল চাষ করতে হবে। শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও এসবের বিশাল চাহিদা রয়েছে, দামও বেশি। সেজন্য এসব ফসলের চাষাবাদ ও প্রক্রিয়াজাত বাড়াতে হবে। পাহাড়ের বৃহৎ অঞ্চলজুড়ে এসব ফসল চাষের সম্ভাবনা অনেক। এছাড়া, আনারস, আম, ড্রাগনসহ অন্যান্য ফল চাষের সম্ভাবনাও প্রচুর। আমরা কাজুবাদাম ও কফির উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এসব ফসলের চাষ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছি। এটি করতে পারলে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটবে। পাহাড়ী এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানের দর্শনীয় উন্নয়ন হবে। একইসাথে, দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে।
কৃষিমন্ত্রী শনিবার সকালে বান্দরবন জেলার রুমা উপজেলায় কাজুবাদাম বাগান, কফি বাগান ও আমসহ অন্যান্য ফলবাগান পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে অল্প পরিসরে কাজুবাদাম এবং কফি উৎপাদন হচ্ছে। শুধু পাহাড়ী অঞ্চল নয়, সারাদেশের যে সব অঞ্চলে কাজুবাদাম এবং কফির চাষাবাদের প্রচুর সম্ভবনা রয়েছে; কিন্তু বর্তমানে চাষাবাদ হচ্ছে না পর্যায়ক্রমে এমন এলাকাও কাজুবাদাম ও কফির চাষের আওতায় আনা হবে। সেলক্ষ্যে সম্প্রতি ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে।
এসব অপ্রচলিত ফসলের চাষাবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রক্রিয়াজাতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, এসব ফসলের চাষ জনপ্রিয় করতে কৃষক ও উদ্যোক্তাদেরকে আমরা বিনামূল্যে উন্নত জাতের চারা, প্রযুক্তি ও পরামর্শসেবা প্রদান করছি। গতবছর কাজুবাদামের ১ লাখ ৫৬ হাজার চারা বিনামূল্যে কৃষকদেরকে দেয়া হয়েছে; আর এ বছর ৩ লাখ চারা দেয়া হবে।
এছাড়া, দেশে কাজুবাদামের প্রক্রিয়াজাতের সমস্যা দূর করা ও প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কাঁচা কাজুবাদাম আমদানির উপর শুল্কহার প্রায় ৯০% থেকে নামিয়ে মাত্র ৫% নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো: বখতিয়ার, বান্দরবনের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি,পুলিশ সুপার জেরিন আখতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বান্দরবনের উপপরিচালক একেএম নাজমুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএইর মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সমতল জমির অভাবে মাঠ ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের সুযোগ খুবই সীমিত। তবে, এ এলাকার মোট ভূমির প্রায় ২২ শত্যাংশ উদ্যান ফসলের আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে। ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় কফি ও কাজুবাদাম, উদ্যান ও মসলা জাতীয় ফসল আবাদের অনেক সুযোগ রয়েছে। এছাড়া, দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলসহ অন্যান্য অঞ্চলের পার্বত্য বৈশিষ্ট্য অনুরূপ জমিও কাজুবাদাম ও কফি চাষের উপযোগী। এসব জমিতে কাজুবাদাম ও কফির আধুনিক জাত ও উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কাজুবাদাম ও কফির উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২১ ৪:৪২ অপরাহ্ন
বিষমুক্ত সবজি চাষে টাঙ্গাইলে বিপ্লব
কৃষি বিভাগ

রাসায়নিক সার ও মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক শাক সবজিতে ব্যবহারে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দিনদিন বাড়ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়নে এ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে দেশে প্রথমবারের মতো পরিবেশসম্মত বিষমুক্ত সবজি চাষ হচ্ছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে।

জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আইপিএম প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের মডেল প্রকল্প হিসেবে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ করছে। এ প্রকল্পের আওতায় রবি ও খরিপ মৌসুমে এই ইউনিয়নে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ করেছে ২০টি দল।

সম্প্রতি রবি মৌসুমের আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সারা দেশে ১০টি মডেল ইউনিয়নে আইপিএম প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নকে গ্রহণ করে।

জৈব কৃষি ও জৈবিক বালাই দমন ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ফেরোমন ফাঁদ স্টিকিটাপ বা হলুদ আঠালো ফাঁদ পরিবেশবান্ধব চালু করা হয়। জৈব বালাইনাশক পদ্ধতিতে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পে সুযোগ পেয়ে ৫০০ জন নারী পুরুষ কৃষক প্রশিক্ষণ নিয়ে বিষমুক্ত সবজি চাষে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বিষমুক্ত সবজি ইতোমধ্যে উপজেলা-জেলা ছাড়িয়ে রাজধানী ঢাকায়ও সুনাম কুড়াচ্ছে।

প্রশিক্ষিত কৃষকরা রবি মৌসুমে করলা, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়া ও খরিপ মৌসুমে পটল, ধুন্ধল, লাউ চাষ করছে। বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদনে সারা দেশে ১০টি ইউনিয়নে মডেল হিসেবে কাজ চলছে। ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্ধি ইউনিয়নে মডেল হিসেবে ১০০ একর জমিজুড়ে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি আবাদ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২১ ১:২৭ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির উন্নয়নে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ এশিয়া রিজিয়ন থেকে ২ বছরের (২০২২-২০২৪) জন্য খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ এফএওর ক্রিডেনশিয়াল কমিটিরও সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছে। এফএওর চলমান ৪২তম কনফারেন্সে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ও রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ প্রচেষ্টায় এ সম্মান অর্জন সম্ভব হয়েছে এবং এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।
কোভিড-১৯ এর কারণে ভার্চুয়ালি ১৪-১৮ জুন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের সম্মেলন। কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন। ঢাকা থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো: রুহুল আমিন তালুকদার, যুগ্ম সচিব তাজকেরা খাতুন, উপসচিব আলী আকবর ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব বিধান বড়াল অংশগ্রহণ করছেন। ইটালির রোম থেকে অংশগ্রহণ করছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান ও ইকনমিক কাউন্সিলর মানস মিত্র।
এর আগে সম্মেলনের ২য় দিন ১৫ জুন দুপুরের অধিবেশনে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি ‘স্টেট অব ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারে (SOFA)’ বাংলাদশের অবস্থান তুলে ধরেন। একইদিন সন্ধ্যার অধিবেশনে তিনি
এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক অঞ্চলের (এপিআরসি) ৪৬ টি সদস্য দেশের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।
‘স্টেট অব ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার’ অংশের ভাষণে বাংলাদেশ খাদ্য ও কৃষিতে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির উন্নয়নে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০ বছর আগে ১৯৯৯-২০০০ সালে এ সরকারের আগের আমলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে ও বর্তমান সরকার এ আমলেও তা ধরে রেখেছে। মাথাপিছু আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ও দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। ফলে খাদ্যে মানুষের প্রবেশযোগ্যতা সহজতর হয়েছে। এছাড়া, বিগত দশকে অপুষ্টি দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, চলমান কোভিড-১৯ এর শুরুতেই খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ অব্যাহত রাখা ও দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনতে নানামুখী প্রণোদনা প্রদান করেন। এছাড়া, কৃষিখাতে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। ফলে কোভিড পরিস্থিতি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও নির্দেশনায় দেশে কৃষির উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহের ধারা অব্যাহত থাকে এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
‘জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ১১ লাখ রোহিঙ্গাও বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনীতি ও পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে’ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
এপিআরসি পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিতে মন্ত্রী খাদ্য ও কৃষিতে কোভিডের প্রভাব মোকাবেলায় সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে এফএওকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, টেকসই ও পুষ্টিসম্মত খাদ্য ব্যবস্থা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, জলবায়ুঘাতসহনশীল প্রযুক্তি, খাদ্য অপচয় হ্রাস ও নিরাপদ খাদ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এফএওর সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।

এছাড়া, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পানি স্বল্পতা ও পানি সমস্যা নিরসনের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান মন্ত্রী। পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনের জন্য একটি ‘ উচ্চ পর্যায়ের সম্মিলিত সংগঠন/প্ল্যাটফরম গঠনেরও প্রস্তাব করেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৮, ২০২১ ৬:২৮ অপরাহ্ন
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কাউন্সিলের সদস্য হল বাংলাদেশ
কৃষি বিভাগ

০২২-২০২৪ মেয়াদে এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানায়।বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) ১৮৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধির অংশগ্রহণে চলমান ৪২তম এফএও কনফারেন্সে বাংলাদেশ সর্বসম্মতিতে এ সদস্যপদ অর্জন করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অন্যান্য কাউন্সিল সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে নীতি ও নির্বাহী পর্যায়ে এফএও’র কার্যক্রম, বাজেট বাস্তবায়ন, ফলাফল ভিত্তিক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণসহ এর প্রশাসনিক দিকগুলো তদারকিতে নেতৃত্ব দেবে। সমর্থন আদায়ে রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ এমন এক সময় এ সদস্যপদ লাভ করল যখন ঢাকায় ৩৬তম এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এফএও আঞ্চলিক সম্মেলন (এপিআরসি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলন (৮-১১ মার্চ ২০২২) উদ্বোধন করবেন। যেখানে ৪৬টি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

রোমের এফএও সদর দপ্তরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে চলমান এফএও কনফারেন্সে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক আট সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং অন্যান্যদের মধ্যে আছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও এফএও-তে স্থায়ী প্রতিনিধি মো. শামীম আহসান।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা যা বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্র দূরীকরণে প্রচেষ্টা চালায়।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৭, ২০২১ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন
এক বিঘা জমির ধানের মূল্য ৫ লাখ
কৃষি বিভাগ

উচ্চ ফলনশীল। সাধারণ ধানের তুলনায় ফলন হয় ৬ গুণ। দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে। মাত্র এক মন ধানের দাম ১২ হাজার টাকা। এমন এক জাতের ধান আবাদ করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার এক মুদি দোকানদার মিলন হোসেন।

মাত্র এক বিঘা জমিতে এই ধানের আবাদ করে তিনি তা ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এই খবর এখন মিরপুর উপজেলার কৃষকদের মুখে মুখে। সর্বত্র চলছে আলোচনা। এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন নতুন এ জাতের ধান চাষের জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনেকেই আসছেন বীজ সংগ্রহ করতে। মূলত বীজ হিসেবেই প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছেন মিলন হোসেন। স্থানীয় কৃষি-বিভাগও এই ধান সংগ্রহ করেছেন। তারা এ ধান নিয়ে গবেষণা করবেন বলে জানা গেছে।

কৃষক মিলন হোসেন মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের চক গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় মুদি দোকানি হলেও দীর্ঘদিন ধরেই আধুনিক চাষাবাদে তার আগ্রহ।

মিলন হোসেন আরটিভি নিউজকে জানান, প্রায় ৩ বছর আগে ব্রি-৫১ জাতের ধান চাষ করেন। সে সময় ওই ধানের জমিতে মাত্র এক গোছা ধান ছিল অন্যরকম তার ভাষায় অস্বাভাবিক। অন্য গাছের তুলনায় ওই গোছা ধানের গাছগুলো বেশ শক্ত, লম্বা এবং মোটা।

তিনি আরও জানান, আলাদা করে গাছগুলোর দিকে নজর রাখা হয়েছিল। পরে ওই ধান গাছের শীষে অস্বাভাবিক পরিমাণে ধান আসে। ধানগুলো ছিল সরু। ধান কাটার সময় ওই গোছার ধান আলাদা করে কেটে বাড়িতে নেন এবং সংগ্রহ করে রাখেন। পরে ওই ধান আলাদা স্থানে চারা দেন তিনি। অল্প জমিতে আলাদা করে ওই ধানের চাষ করেন। সেই ধানও বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। পরের বছরে ওই ধানের চারা এক বিঘা জমিতে রোপণ করেন। বর্তমানে এই ধানে ব্যাপক লাভ হয়েছে তার।

মিলন বলেন, যেহেতু এই জাতের কোন নাম তার জানা নেই। তাই নিজের মেয়ের নামের সাথে মিল রেখে এই ধানের নাম দিয়েছেন ফাতেমা ধান। এই ধান অন্য ধানের মতেই চাষ পদ্ধতি। আউশ, আমন ও বোরো তিন মৌসুমেই এ ধানের চাষ করা যায়। গাছের উচ্চতা অন্য ধানের তুলনায় বড়। গাছের বয়স ১০০-১১০ দিন। গাছগুলো শক্ত হওয়ায় হেলে পড়ে না। আর এক একটি ধানের শীষে ৭শ থেকে সাড়ে ৭শ ধান হয়। যা সাধারণ ধানের তুলনায় ৬ গুণ। যার ফলে এর উৎপাদনও অনেক বেশি। শক্ত ও লম্বা হওয়ায় রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম। এছাড়া চিকন চাল হয় এবং ভাতও খেতে খুব সুস্বাদু।

তিনি আরও বলেন, এই বোরো মৌসুমে এক বিঘা জমিতে ৪৩ মণ ধান পেয়েছেন তিনি। যেহেতু এই ধান ইতোপূর্বে কেউ চাষ করেনি। তাই আশপাশের এলাকার চাষিরা এসে বীজ হিসেবে এই ধান কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমি ৩০০ টাকা কেজি হিসেবে ধান বিক্রি করেছি। যা ৫ লাখ টাকার উপরে হবে। মিলন বলেন, আমি এখন চাই এ ধান ছড়িয়ে পড়ুক। দেশের কৃষকের ধান চাষ সফল হোক। খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হোক দেশ। আমার মেয়ের নামের ধান সবাই চাষ করবে এতেই আমার আনন্দ।

মিরপুরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বলেন, মিলনের ধানের খড়ও গবাদিপশুর জন্য উন্নতমানের খাবার হচ্ছে। সাধারণত প্রতিটি ধানের শীষে দেড়শ’ ধান থাকে। কিন্তু মিলনের ধানের প্রতিটি শীষে ৭শ উপরে ধান হয়েছে। বিঘা প্রতি ৪০-৫০ মণ ফলন হতে পারে।

স্থানীয় কৃষি অফিসের মতে, চলতি বছর বোরো মৌসুমে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, ৭ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন হয়েছে হাইব্রিড ৭ দশমিক ৮ মেট্রিকটন এবং উফশী হেক্টর প্রতি ৫ দশমিক ৮ মেট্রিকটন।

এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ আরটিভি নিউজকে বলেন, কৃষক মিলন হোসেন বুদ্ধি করে ব্রিধান-৫১ জাতের মধ্য থেকে একটা ধানের গোছা সংগ্রহ করে নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের আধুনিক ধান চাষে উদ্বুদ্ধ এবং প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আমরা এ ধান সংগ্রহ করেছি। যা উন্নত গবেষণার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সূত্র: আরটিভি

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৬, ২০২১ ১২:১১ অপরাহ্ন
পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সকলকে সম্পৃক্ত হতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি আন্দোলনে পরিণত করেছেন। এ আন্দোলনটি পরিবেশ সুরক্ষায় দেশের ও বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী ১৯৮১ সালে জীবনবাজি রেখে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৩ সালে নানান প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তিনি কৃষক লীগের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেন। এর মাধ্যমে তিনি শুধু দেশের নয়, বৈশ্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় অনন্য নজির স্থাপন করেন।
কৃষিমন্ত্রী মঙ্গলবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে
বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি- ২০২১’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এ অবস্থায়,পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশ কৃষকলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সকলকে সম্পৃক্ত হতে হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নসহ মাঠ পর্যায়ের অফিস ও কর্মকর্তারা এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হবে ও কৃষক লীগকে সহযোগিতা করবে বলে এসময় জানান মন্ত্রী।
কৃষিমন্ত্রী খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এফএওর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ পরপর ৩ বার বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয় স্থান ধরে রাখতে যাচ্ছে। ইন্দোশিয়াকে টপকে এ স্থান অর্জন করে বাংলাদেশ। এটি প্রমাণ করে করোনা ও নানান দুর্যোগ মোকাবেলা করে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে ক্রমাগত ভাল করছে ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় আছে।
বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য অ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী এবং বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৫, ২০২১ ১০:২৮ অপরাহ্ন
উজিরপুরে রাইস গ্রেইন ভ্যালুচেইন এক্টরস শীর্ষক মতবিনিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালের উজিরপুরে রাইস গ্রেইন ভ্যালুচেইন এক্টরস শীর্ষক মতবিনিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বরিশালের উজিরপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত।

তিনি বলেন, জিংকসমৃদ্ধ ধান সুপ্ত ক্ষুধা নিবারণে অনন্য। দিন দিন এর আবাদ সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাই দেশে-বিদেশে জিংক ধানকে আলাদাভাবে উপস্থাপনের জন্য এর ব্রান্ডিং জরুরি। সে লক্ষ্যে প্রয়োজন উৎপাদনকারী থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌছানোর এ ধাপগুলোকে আলাদাভাবে বিবেচনায় নেওয়া। এতে চাষি ও ভোক্তা উভয়েই উপকৃত হবেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমাদের অনেক ফসলেই বিশ্বের প্রথম কাতারে। বেশ কিছু ফসল উদ্বৃত্ত। রপ্তানিও হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে আমরা আরো সম্পদশালী হবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণতি বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন এবং এলাহি এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফরহাদ হোসেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিবির সমন্বয়কারী সমীরণ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. তৌহিদ, হারভেস্টপ্লাসের বিভাগীয় সমন্বয়কারী জাহিদ হোসেন, হারভেস্ট প্লাসের কর্মকর্তা মো. রহুল কুদ্দুস প্রমুখ। সভায় জিঙ্কধান চাষি, ধানক্রেতা এবং মিল মালিকসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৫০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৫, ২০২১ ৩:৫৭ অপরাহ্ন
ছাদে বাগানের খুঁটিনাটি
কৃষি বিভাগ

ছাদে বাগানের প্রথম ধারণা এসেছিল আজ থেকে প্রায় ৩০০০ বছর আগে। মেসোপটেমিয়ায় রাজা নেবুচাঁদ নেজার তার স্ত্রীর জন্য ইউফ্রেটিস নদীর তীরে প্রথম ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান তৈরি করেন। বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বেশিরভাগ ছাদ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এ সকল অব্যবহৃত ছাদে খুব সহজেই পরিকল্পিতভাবে ফুল, ফল ও শাক-সবজির পারিবারিক বাগান তৈরি করা সম্ভব। এর দ্বারা পারিবারিক ফুল, ফল ও শাক-সবজির চাহিদার মিটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।

ছাদে বাগান করার প্রয়োজনীয় উপকরণ: মাটি বা সিমেন্টের টব, হাফ ড্রাম কিংবা সুবিধামত ছাদে স্থায়ী বেড; আয়তন ৩ ফুট বাই ৩ ফুট বা ছাদের কার্নিশ বাড়িয়ে স্থায়ী বেড করা যায়। এছাড়া সিকেচার, কোঁদাল, কাঁচি, সাবল, ঝরনা, বালতি, চালনি, করাত, ছুরি, খুপরী, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি।

ফুল বা ফলের জন্য কলমের বা গ্রাফটিং চারা ও বিভিন্ন প্রকারের ফুল, ফল ও শাক-সবজি চারা বা বীজ। মাটির মধ্যে বেলে দো-আঁশ মাটি বা পাহাড়িয়া লাল মাটি, গোবর, খৈলসহ বিভিন্ন প্রকার জৈব সার এবং গাছের রোগ-বালাই দমনের জন্য বিভিন্ন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক।

ছাদে বাগান তৈরি করার উপযোগী গাছসমূহ: ছাদের বাগানে বিভিন্ন রকমের গাছ লাগানো যায়। এর মধ্যে রয়েছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা, ক্যনা, গাদা, বেলি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা অন্যান্য মৌসুমী ফুল, অর্কিড, বনসাই ও ক্যাকটাস লাগানো যায়। ফল গাছের মধ্যে রয়েছে আম্রপলি, আতা, আঙুর, লতা বোম্বাই জাতের আম, পেয়ারা, কুল, আমড়া, সফেদা, লেবু, ডালিম, বাতাবি লেবু, করমচা, বিলম্ব, জামরুল, ছোট জাতের কলা, ছোট জাতের আনারস, কমলা, কামরাঙা ইত্যাদি। সবজির মধ্যে রয়েছে বেগুন, টমেটো, শিম, মরিচ, লাউ, কুমড়া, ঢেঁড়শ, পুইশাক, লালশাক, পটল, শসা, বরবটি, করলা ইত্যাদি।

ছাদে বাগান করার বিভিন্ন পদ্ধতি : টব পদ্ধতি : খুব সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানাš-র করা যায় বলে টব ছাদ, আঙিনা ও ব্যালকণীর জন্য সর্বোত্তম বাগান পদ্ধতি বলে বিবেচিত। দিনদিন টব পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে আজকাল প্লাস্টিকের বিভিন্ন ধরনের টব তৈরি করা হচ্ছে এবং এসব টবের ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। টবে চাষ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব সার ব্যবহার করা উচিত। ১৪ ইঞ্চি থেকে ১৮ ইঞ্চি আকারের একটি টবের জন্য জৈব সারের পাশাপাশি ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ৫০ গ্রাম এমওপি সার উত্তমরূপে মিশিয়ে ১০ দিন থেকে ১২ দিন রেখে দিতে হবে। তারপর টব ভরাট করতে হবে।

হাফড্রাম পদ্ধতি : টব পদ্ধতি ও হাফড্রাম পদ্ধতির মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। হাফড্রামের তলদেশে ছিদ্র করতে হবে। ছিদ্রগুলোয় ইটের টুকরো বসাতে হবে; তার উপরে ড্রামের তলদেশে প্রথম ১ ইঞ্চি পরিমাণ খোয়া বা সুড়কি দিতে হবে এবং তার উপরে এক ইঞ্চি পরিমাণ জৈব সার বা পচা গোবর দিতে হবে। এর ফলে অতিরিক্ত পানি সহজেই বের হয়ে যেতে পারবে। জৈব সারের পাশাপাশি প্রতিটি ড্রামে ২০০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গ্রাম এমওপি ব্যবহার করা যেতে পারে। আম ও লেবু জাতীয় গাছের জন্য প্রতিটি ড্রামে উপরোক্ত জৈব ও রাসায়নিক সারের পাশাপাশি ৫০০ গ্রাম হাড়ের গুঁড়া ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্থায়ী বেড পদ্ধতি :

স্থায়ী বেড পদ্ধতি হল স্থায়ীভাবে ছাদে বাগান করা। ছাদে বাগান করার পূর্বে ছাদ বিশেষভাবে ঢালাই দিয়ে নেট ফিনিশ করে নিতে হবে। এর দু’টি পদ্ধতি আছে। যেমনঃ

ছাদের চারদিকে স্থায়ী বেড পদ্ধতি :

ছাদে বাগান করার জন্য স্থায়ী বেড পদ্ধতি একটি আধুনিক পদ্ধতি। স্থায়ী বেড পদ্ধতির বাগান করার জন্য ছাদের চারিদিকে ২ ফুট প্রস্থের দুই পাশে ১.৫ ফুট উঁচু দেয়াল ৩ ইঞ্চি গাঁথুনির নেট ফিনিশিং ঢালাই দিয়ে তৈরি করলে মাঝখানে যে খালি জায়গা তৈরি হয়, সেই খালি জায়গার তলায় প্রথমে এক ইঞ্চি ইটের সুড়কি বা খোয়া, পরের এক ইঞ্চি গোবর সার দেয়ার পর বাকি অংশ ২ ভাগ মাটি ও ১ ভাগ গোবরের মিশ্রণ দিয়ে ভরাট করে স্থায়ী বেড তৈরি করা হয়।

ট্যাংক পদ্ধতি:

ছাদে এক ফুট উঁচু ৪টি পিলারের উপর পানির ট্যাংক আকৃতির ৩ ফুট দৈর্ঘ্য, ২ ফুট প্রস্থ ও ১.৫ ফুট উঁচু ৩ ইঞ্চি গাঁথুনির নেট ফিনিশিং ঢালাই দিয়ে যে ট্যাংক তৈরি করা হয় একেই বলে ট্যাংক বেড পদ্ধতি।

ছাদে গাছ লাগানোর কৌশল :

গাছের ধরন অনুযায়ী ড্রাম/টব নির্বাচন করে সার-মাটি দিয়ে গাছ লাগাতে হবে। ডাইথেন এম-৪৫ অথবা এ জাতীয় ছত্রাকনাশক ছাই এর সাথে মিশিয়ে মাটিতে প্রয়োগ করে মাটি শোধন করা যায়। মাটি শোধন করে আদর্শ নার্সারি থেকে চারা, কলম, কাটিং, বীজ সংগ্রহ করে নিজেই টবে লাগালে খরচ কম হবে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসের মধ্যে ড্রাম বা টবের মাটি বদলাতে হবে। ড্রামে বা টবে ইউরিয়া সার না দেয়াই ভাল।

দূষণমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, অবসর সময় কাটাতে, কর্মসংস্থান ও শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ তৈরি করতে এবং টাটকা ফল ও শাক-সবজি উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা মেটাতে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ছাদে বাগান করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৫, ২০২১ ৩:৩৮ অপরাহ্ন
বাংলাদেশে খাদ্য ও কৃষির অবস্থা অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে : কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশে খাদ্য ও কৃষির অবস্থা অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির উন্নয়নে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০ বছর আগে ১৯৯৯-২০০০ সালে এ সরকারের আগের আমলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে ও বর্তমান সরকার এ আমলেও তা ধরে রেখেছে। মাথাপিছু আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ও দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। ফলে খাদ্যে মানুষের প্রবেশযোগ্যতা সহজতর হয়েছে। এছাড়া, বিগত দশকে অপুষ্টি দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী মঙ্গলবার খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ৪২তম সম্মেলনে ‘স্টেট অব ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার’ অংশে বাংলাদশের অবস্থা তুলে ধরে এ কথা বলেন। মন্ত্রী সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলক কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি এ সম্মেলনে সংযুক্ত হন।
মন্ত্রী বলেন, চলমান কোভিড-১৯ এর শুরুতেই খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ অব্যাহত রাখা ও দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনতে নানামুখী প্রণোদনা প্রদান করেন। এছাড়া, কৃষিখাতে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। ফলে কোভিড পরিস্থিতি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও নির্দেশনায় দেশে কৃষির উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহের ধারা অব্যাহত থাকে এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, করোনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ১১ লাখ রোহিঙ্গাও দেশে রয়েছে। যা আমাদের সমাজ, অর্থনীতি ও পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।তিনি এসময় উন্নয়ন সহযোগী দেশসমূহকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
কোভিড-১৯ এর কারণে ভার্চুয়ালি ১৪-১৮ জুন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের সম্মেলন। কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন। ঢাকা থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো: রুহুল আমিন তালুকদার, যুগ্ম সচিব তাজকেরা খাতুন, উপসচিব আলী আকবর ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব বিধান বড়াল অংশগ্রহণ করছেন। ইটালির রোম থেকে অংশগ্রহণ করছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান ও ইকনমিক কাউন্সিলর মানস মিত্র।
মন্ত্রী জানান, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ৩৬তম এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক রিজিওনাল কনফারেন্স (এপিআরসি-৩৬) ২০২২ সালের মার্চের ৮-১১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলন সাফল্যমণ্ডিত করতে তিনি এফএও দেশসমূহের সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য, গত বছর এপিআরসি ৩৫তম সম্মেলনে বাংলাদেশ ৩৬তম সম্মেলনের আয়োজক হিসাবে মনোনীত হয়।
শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop