৪:০৮ অপরাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ১৬, ২০২১ ৭:৪৬ অপরাহ্ন
সারাদেশের কৃষি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে ৮ কর্মকর্তা
কৃষি বিভাগ

দেশের সবচেয়ে বড় ফসল বোরো কেবল পাকতে শুরু করেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সারাদেশকে ১৪টি কৃষি অঞ্চলে ভাগ করে এই অঞ্চলগুলোতে বোরো ধান ও রবি ফসল উৎপাদনসহ সার্বিক কৃষি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের আটজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাদের ১৪টি কৃষি অঞ্চলের সার্বিক কৃষি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়ে গত ১৩ এপ্রিল কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে ।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রবি মৌসুমে বোরো ধান ও রবি মৌসুমের ফসল (গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা, সবজি, তেল জাতীয় ফসল, ডাল জাতীয় ফসল, মসলা জাতীয় ফসল) আবাদ ও উৎপাদন কার্যক্রমসহ ১৪টি কৃষি অঞ্চলের সার্বিক কৃষি কার্যক্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষে তদারকির জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের আটজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আবদুর রৌফ চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি অঞ্চল, গবেষণা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ রাজশাহী ও বগুড়া অঞ্চল, সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল ইসলাম দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চল, নিরীক্ষা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল কাদের কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্ব পেয়েছেন।

এছাড়াও সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল সিলেট অঞ্চল, বীজ অনুবিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বলাই কৃষ্ণ হাজরা যশোর ও খুলনা অঞ্চল, পিপিসি (নীতি, পরিকল্পনা ও সমন্বয়) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চল এবং প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তারকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলামের সার্বিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ অনুবিভাগ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল সব অঞ্চলের কার্যক্রম সমন্বয় করবেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বোরো ধান এবং পেঁয়াজসহ অন্যান্য রবি শস্যের আবাদের পরিমাণ নির্ধারণ এবং উৎপাদন কার্যক্রম মনিটরিং, ভর্তুকি দামে দেয়া কৃষি যন্ত্রপাতিসহ সব কৃষি যন্ত্রপাতির যথাযথ ব্যবহার তদারকি করবেন।

এছাড়া বিভিন্ন ফসলের প্রণোদনা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও রাজস্ব প্রদর্শনী সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সমলয় চাষাবাদ পরিদর্শন করবেন এই কর্মকর্তারা।দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বিভিন্ন অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এবং জেলার উপ-পরিচালকদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন এবং তদারকি করবেন। এক্ষেত্রে নিজ উইংয়ের যুগ্মসচিব ও উপসচিবদেরকে তার অঞ্চলের তদারকিতে সম্পৃক্ত করবেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৬, ২০২১ ৪:৫২ অপরাহ্ন
পটুয়াখালীতে খাল সেচে মাছ শিকার, কৃষিজমি পানিশূন্য
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চর লাতা গ্রামের একটি সরকারি খালের স্বাদু পানি সেচে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। এতে বোরো ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সেচের পানি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন খালের দুই পাড়ের কৃষকরা।

কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সেচ দিয়ে সরকারি ‘গাজীর খাল’ পানিশূন্য করে মাছ শিকার করছে। চলতি মৌসুমে তরমুজ উঠে গেলেও, এখন খালের দুই পাড়ে চলছে বোরো আবাদ। এর জন্য প্রয়োজন হবে প্রচুর পানি। কিন্তু খালে সেচ দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ শিকার করায় বোরো আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাঙ্গাবালীর উপকূলীয় চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চারিদিকে লোনা পানি। প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা এই খালটির পূর্ব ও পশ্চিম দুই মুখেই রাবনাবাদ নদী। প্রায় ১০ বছর আগে খালটির ওই দুই প্রান্তে বাঁধ দিয়ে নদী থেকে লোনা পানি আসা বন্ধ করা হয়। এরপর থেকেই খালটির দুই পাড়ের সহস্রাধিক কৃষক রবি ফসলের জন্য খালে সংরক্ষিত স্বাদু পানি ব্যবহার করছিলেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালটির দুই পাড়ে বিভিন্ন জায়গায় সেচযন্ত্র বসিয়ে এক সপ্তাহ ধরে পানি অপসারণ চলছে। খালের কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করছেন ১০-১২ জন। পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ ধরা হচ্ছে।

খালে যারা মাছ ধরছিলেন তাদের একজন নান্নু হাওলাদার। তিনি জানান, ৩৩ জন মিলে পানি অপসারণ করে মাছ ধরছেন। গলাচিপা থেকে সেচযন্ত্র ভাড়া করে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে এক লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এতে করে খালটি পরিষ্কার হবে আর মাছ ধরে তারাও লাভবান হবেন।

পানি এভাবে অপসারণ করায় কৃষকরা স্বাদু পানি সংকটে পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তরমুজ উঠে গেছে। ধান আবাদ কম, কাজেই তেমন ক্ষতি হবে না। খালের পাড়ের অনেক কৃষককে এ কাজে যুক্ত করা হয়েছে।’

অনুমতি ছাড়া সরকারি খাল সেচে শুকিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।’

খাল থেকে স্বাদু পানি অপসারণ করা হলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে স্থানীয় কৃষকরা প্রতিবাদ করতে পারছে না। ফোনে যোগাযোগ করা হলে কয়েকজন কৃষক জানান, চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন এখানে খুবই কম আসা যাওয়া করছে। এই সুযোগে প্রভাবশালীরা পানি অপসারণ করে মাছ শিকার করছে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বোরো খেতে সেচের পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

এক কৃষক জানান, তিনি সাড়ে তিন একর জমিতে ব্রি-২৮ ও হীরা-১ জাতের বোরো ধান আবাদ করেছেন। চৈত্র-বৈশাখের শুষ্ক মৌসুমে প্রচুর পানির প্রয়োজন। কিন্তু, খেতে প্রয়োজনীয় পানি দিতে পারছেন না তিনি। এতে তিনি ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

যোগাযোগ করা হলে ওই ইউনিয়নের কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা অলক কুমার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গাজীর খালের দুই পাড়ে অন্তত ২৫ হেক্টর জমিতে বোরোসহ রবি ফসলের আবাদ হয়েছে। মাছ শিকারের ফলে সেখানে সেচের পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাবুব হাওলাদার বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমানও একই কথা বলেন।

ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, আমি ওই এলাকার লোকজনকে খাল সেচে মাছ ধরতে নিষেধ করেছিলাম। তবে সেখানকার লোকজন কথা শুনছেন না।

তিনি বলেন, ‘এভাবে খাল সেচে কেউ মাছ ধরতে পারবে না। কৃষক যেন প্রয়োজনীয় সেচের পানি পেতে পারে এ ব্যাপারে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’- সূত্র: দি ডেইলি স্টার

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৬, ২০২১ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
শ্রমিক সংকট, বোরো ধান নষ্ট হওয়ায় শঙ্কায় চাষিরা
কৃষি বিভাগ

চলতি বোরো মৌসুমে বিভিন্ন জেলায় ধান পাকতে শুরু করলেও এ ধান ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। কারণ অনেক এলাকায় ধান কাটার মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে অনেক কৃষক বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। যেসব শ্রমিক আছেন তারাও পরিবহণের অভাবে আরেক জেলায় গিয়ে ধান কাটতে পারছেন না। এদিকে এ সময় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাছাড়া আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। অতীতে এভাবে ফসলের ক্ষতি হওয়ার বহু উদাহরণ রয়েছে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২০ বছরে হাওরাঞ্চলে ছয়টি আগাম বন্যা দেখা দিয়েছে এবং এসব বন্যায় উৎপাদিত বোরো ফসলের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এ বছরও হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যা দেখা দিতে পারে। কাজেই ঝড়, বর্ষা ও বন্যা আসার আগেই ধান কাটার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যসূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সারা দেশে বোরো আবাদ হয়েছে ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ৭৮ হাজার হেক্টরের কিছুটা বেশি। উল্লেখ্য, ধান-চাল উৎপাদনে দেশে বোরোর স্থান শীর্ষে।

দেশে উৎপাদিত চালের ৫৫ শতাংশ আসে বোরো ধান থেকে। বাকিটা আসে আমন ও আউশ ধান থেকে। অর্থাৎ খাদ্য নিরাপত্তায় বোরো ধানের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। খাদ্য নিরাপত্তায় করোনা মহামারির নেতিবাচক প্রভাবের কথা মাথায় রেখে আমাদের উচিত যে কোনো কারণে বোরো ফসলের সম্ভাব্য ক্ষতি রোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

দেশে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার ব্যবস্থা অপ্রতুল। জানা গেছে, হাওরাঞ্চলে সরবরাহকৃত হারভেস্টার ও রিপারের সংখ্যা খুবই কম। তাছাড়া এগুলো দিয়ে ধান কাটানোর দামও বেশি নেয় সুযোগসন্ধানীরা। এ বাস্তবতায় সরকারের উচিত স্বল্প মূল্যে ধান কাটার যন্ত্র সরবরাহ করা।

কৃষকরা বলছেন, সরকার যদি এসব যন্ত্রের দাম অর্ধেক কমিয়ে দেয়, আবার ওই অর্ধেক দামের ওপর ভর্তুকি দেয়, তাহলে একটি গ্রামের কয়েকজন কৃষক মিলে সমবায়ের ভিত্তিতে একটি মেশিন কিনতে পারবেন। এতে সবাই উপকৃত হবেন।

বহু বছর ধরে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারা দেশ থেকে আসা কৃষি শ্রমিকরা হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা এবং তা ঘরে তোলার কাজ করে আসছেন। গত বছর মার্চে দেশে করোনা মহামারি দেখা দিলে সরকার এক অঞ্চল বা জেলা থেকে অন্য অঞ্চল বা জেলায় যাতায়াতের সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করলে কৃষি শ্রমিকের অভাবে হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ক্ষেত্রে সংকট সৃষ্টি হয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারা দেশ থেকে লাখ লাখ কৃষি শ্রমিক নিয়ে আসার ব্যবস্থা করলে এ সংকটের সমাধান হয়। সরকারের উচিত এবারও বিশেষ ব্যবস্থায় সারা দেশ থেকে কৃষি শ্রমিক এনে হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ব্যবস্থা করা।

সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক হাওরাঞ্চলসহ সারা দেশে সময়মতো বোরো ধান কাটার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাই আমরা আশা করব, অবিলম্বে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।-সূত্র: যুগান্তর

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৬, ২০২১ ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা
কৃষি গবেষনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার পান চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ নানা কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে পান চাষের পরিমাণ। ফলে এ অঞ্চলে পান চাষ প্রায় বিলুপ্তির পথে। কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে এই চাষের প্রতি।

পান চাষিদের অভিযোগ, সরকারি কোনো সাহায্য সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না পান চাষের জন্য। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যেকোনো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার তাদের সহায়তা করে কিন্তু পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চাষিদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না।

পান চাষিরা আরো জানায়, পানের বরজ তৈরি করে পানের লতা লাগিয়ে ভাল ফলন পেলেও সার কীটনাশক ব্যবহারে পানের রোগ ঠেকাতে পারছেন না তারা। তাই পানের বরজ বাদ দিয়ে অন্য ফসল ফলানোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে পান চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জগলুল হায়দার জানান, পান চাষের উপর কৃষি বিভাগের কোনো কাযর্ক্রম নেই। তবে চাষীরা যদি সহযোগিতা চান তাহলে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হবে। আমরা পান চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলছি বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৫, ২০২১ ৭:১৪ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত প্রকল্পে লাখো কৃষকের মুখে সোনার হাসিঃ
কৃষি বিভাগ

আঠারো বাকি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে কালিয়া , তেরখাদা,মোল্লাহাট ,রূপসা , দিঘলিয়া,লোহাগড়া উপজেলা গুলোর মানুষের জীবন জীবিকার দারুন প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়েছে । আঠারো বাকি নদী ভৈরব ও মধুমতীর সংযোগ করেছে,কিন্তু পলি জমে দীর্ঘ ২০ বছরের ও বেশি সময় নদীটা বন্ধ হয়ে রয়েছে,যার ফলে প্রায় ২০০০০ হেক্টর কৃষি জমিতে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা ও গ্রীষ্মকালে তীব্র পানির সঙ্কট দেখা যায় । কিন্তু নদীটি খননের ফলে নাব্যতা ফিরে এসেছে । প্রায় ১০০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ,সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী । এখন প্রকল্পটির সুবিধা ভোগ করছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষ ।

এবং এই আঠারো বাকি নদী এলাকার মানুষের বিপুল পরিমাণ মাছ এর চাহিদা মেটাচ্ছে । যার ফলে মানুষদের পুষ্টির চাহিদা ও একইসাথে মেটানো সম্ভব হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ দ্বারা ।

তবে নিয়মিত খনন কাজ ঠিক রাখলে এসব সুবিধা বহাল থাকবে , নয়তবা থাকবেনা । কৃষি এবং কৃষকের উন্নয়নে প্রকল্পটি দারুন আশা জাগানিয়া বলে বিবেচিত হচ্ছে, আগে যেসব জমিতে ফসল চাষ করতে জমির জলাবদ্ধতা দূর করে রোপণ করতে হতো, এখন সেখানে আর সেরকম কোন পরিস্থিতি নেই, তবে সরকারের কৃষি ভর্তুকিটা আবার চালু হলে কৃষকরা লাভবান হবে।

এর ই ধারাবাহিকতায় এবার ধান উৎপাদন দিগুণ হয়েছে,অন্যান্য ফসল যেমন পান,গম,সরিষা,কলাই,মসুরির এর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে করোনা সঙ্কট মোকাবেলায় সরকারের ঘোষিত লকডাউনে কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ,এ বিষয়ে যথাযথ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে। এবং সরকারের মহামারী চলাকালীন সহায়তা মাঠ পর্যায়ে পৌছায় না। সেদিকে ও মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

কিছু সুবিধা ভোগী মানুষের জন্য সরকারের এত সব সহযোগিতা যাতে বিফলে না যায় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

মোঃ আমিনুল খান

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৫, ২০২১ ৬:৫২ অপরাহ্ন
৪৫৯টি ধান কাটার মেশিন পাচ্ছেন সিলেটের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

সিলেট অঞ্চলে বোরো ধান কাটার জন্য কৃষকদের ২৭১টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ১৫০ রিপার ও ৩৮ টি রাইস ট্রানসপ্লান্টার মেশিন বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ধান কাটায় শ্রমিক সংকট সমাধানে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে এইসব যন্ত্র কৃষকদের প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

ডিএই সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী জানান, ভর্তুকির মাধ্যমে এসব কৃষিযন্ত্র এরই মধ্যে বিতরণ শুরু করার ফলে ধান কাটা অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক নির্ভর ধান কাটাও কমে যাচ্ছে।

সিলেট বিভাগে ইতোমধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। ১৫ দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বন্যা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ধান কাটা শেষ হয়ে যাবেÑ এমনটা আশা এই কৃষি কর্মকর্তার।

তবে কৃষি বিভাগ আরও জানিয়েছে, এসব যন্ত্রের চাহিদা আরও বেশি। সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় ৬০৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৬৯১টি রিপার ও ৩৮টি রাইস ট্রান্সপ্লান্টের চাহিদা ছিল। হাওর এলাকার কৃষকরা ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে এবং সমতল এলাকার কৃষকরা ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে এইসব মেশিন পাচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, সিলেট জেলায় সবমিলিয়ে ৭৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৪৭টি রিপার ও ১৮টি রাইস ট্রান্স প্লান্টার, মৌলভীবাজার জেলায় মোট ২১টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ২৫টি রিপার ও একটি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, সুনামগঞ্জ জেলায় ১০৭টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৩৮টি রিপার ও আটটি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৬৮টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৪০টি রিপার ও ১১টি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কম্বাইন্ড হারভেস্টার বরাদ্দ পাওয়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস ইউনিয়নের রজব আলী জানান, ভর্তুকিতে মেশিন বরাদ্দ পেয়ে তিনি খুশি। এরই মাধ্যমে নিজের জমির ধান কাটার পাশাপাশি অন্যের জমিরও ধান কাটতে পারবেন। এর ফলে তার বিকল্প আয়েরও একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, হবিগঞ্জে ৯ উপজেলায় ধান কাটার যন্ত্রগুলো বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তমিজ উদ্দিন খান জানান, কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই একসঙ্গে হয়। এতে কৃষকের অনেক সময় বেচে যাবে। ধান কাটায় শ্রমিক কম লাগবে, খরচও বাচবে।

প্রসঙ্গত, এই বছর বোরো মৌসুমে সিলেট অঞ্চলে আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমি। এর মধ্যে হাওরে ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৩৫ হেক্টর। মোট আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ১৯ লাখ ৩৭ হাজার ৯৭৮ মেট্রিক টন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় অনায়াসে এক একর জমির ধান কিংবা গম কাটা যাবে। একদিনে কাটা যাবে ৮ একর। এতে ৬১ শতাংশ খরচ কমবে, শ্রম বাঁচবে ৭০ শতাংশ। উন্নত এই কৃষি যন্ত্র ধান কাটা, একই সঙ্গে মাড়াই ও বস্তাবন্দির কাজও করবে।

গত কয়েক বছর ধরেই হাওরগুলোতে এই কম্বাইন্ড হারভেস্টার দেখা যায়। সরকারি উদ্যোগের ফলে এবার প্রায় সব হাওরেই এই কৃষি যন্ত্র ব্যবহার বেড়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টারের দাম ৩২ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। কৃষক ৩০ শতাংশ টাকা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ডাউন পেমেন্ট দিয়ে কিস্তিতে ক্রয় করতে পারছেন এ মেশিন। রিপার মেশিনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। তবে এই মেশিনের দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ১০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা। এই মেশিন দিয়ে শুধু ধান কাটা যায়, অন্য কিছু করা যায় না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী বলেন, সিলেটে এই বছর বোরো আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। হারভেস্টার ও রিপার মেশিন বিতরণের পাশাপাশি কিভাবে সঠিক উপায়ে ধান কাটা ও মাড়াই করা যায় সেই কৌশলও শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৫, ২০২১ ১২:০৫ অপরাহ্ন
বরিশাল সদরে কৃষকদের মাঝে আউশের বীজ ও সার বিতরণ
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশাল সদরে কৃষকদের মাঝে করোনা মহামারীতে কৃষি উৎপাদনকে স্বাভাবিক রাখতে আউশের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

গত ১৩ এপ্রিল এ উপলক্ষে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ মো. সাইদুর রহমান রিন্টু।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় কৃষকের পাশেই আছে। করোনামহামারীর মধ্যে কৃষি উৎপাদনকে স্বাভাবিক রাখতে এ প্রণোদনার আয়োজন। আর তা বাস্তবায়নে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমেই হবে খাদ্য নিশ্চিতকরণে সহায়ক।

উপজেলা কৃষি অফিস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুনিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুর রহমান মধু এবং উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান রেহেনা বেগম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা. ফাহিমা হক, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. মাহফুজুর রহমান, এইও তানজিলা আহমেদ প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চরবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহতাব হোসেন সুরুজ এবং শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আরিফুজ্জামান মুন্না অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ।

উল্লেখ্য, চলতি খরিফ-১ মৌসুমের প্রণোদনার অংশ হিসেবে উপজেলার ৮ শ’ ক্ষুদ্র-প্রান্তিক কৃষকের প্রত্যেককে ব্রি ধান৪৮’র ৫ কেজি বীজ, সে সাথে ২০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৫, ২০২১ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
ঝালকাঠিতে বাঙ্গির বাম্পাল ফলন হলেও হতাশায় কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

সবুজ-হলুদের মিলবন্ধনের সেজেছে ঝালকাঠিতে মৌসুমী ফল বাঙ্গি। জেলায় এ বছর বাঙ্গির চাষ করা হয়েছে ৫০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে জেলার সদর উপজেলায় ১০ হেক্টর, নলছিটি উপজেলায় ১৫ হেক্টর, রাজাপুরে ২০ হেক্টর ও কাঁঠালিয়ার পাঁচ হেক্টর জমিতে।প্রায় সাড়ে তিন মাস নিবিড় পরিচর্যার পর মাঠে মাঠে এখন চলছে বাঙ্গি ফল তোলার উৎসব হলেও দুশ্চিন্তা যেন পিঁছু ছাড়ছেনা তাদের।

রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় গ্রামের চাষিরা জানান, এ বছর কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় এবং পোকার উপদ্রব কম থাকায় বাঙ্গির লাভজনক উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদিত ফসল নিয়ে তারা আশায় বুক বাঁধলেও সুলভ মূল্যে বিক্রি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা ভেবেছিলেন এ বছর লাভের মুখ দেখবেন। এনজিও থেকে আনা চড়া সুদের ঋণের বোঝাও সহজেই মেটাতে পারবেন। কিন্তু বিপাকে পড়েছেন করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় সারাদেশের লকডাউনের কারণে।

এখন উৎপাদিত বাঙ্গির বাজার দর না পাওয়ায় কিছুটা শঙ্কিত তারা। চাষি হারুন সিকদার (৪৫) জানান, আড়াই বিঘা জমিতে বাঙ্গির চাষ করেছি। প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে পারলেও দ্রুত রফতানি এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ায় খরচ পুষিয়ে অন্যত্র বিক্রি করতে পারেননি।

ফলে অনেক ফসল খেতেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় বাজারে মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো পেলেও দু’সপ্তাহের মধ্যে সে দাম দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করে। কয়েকদিন পূর্বে স্থানীয় বাজারে বড় আকারের বাঙ্গির দাম ৮০-৯০ টাকা, মাঝারির দাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং ছোটটির দাম ৫০-৫৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু সোমবার (৫এপ্রিল) থেকে সারাদেশে লক ডাউনের কারণে এখন স্থানীয় বাজারেও এ দাম পাওয়া যাচ্ছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, এ বছর বাঙ্গির বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছিলো। পুরো চৈত্র ও বৈশাখ মাসজুড়ে কৃষদের ফসল তোলা আর বিক্রির মৌসুম। কিন্তু যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকা ও মূল বিক্রির সময়টাতে লকডাউনে পতিত হওয়ায় এখন কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে চাষিরা। জমি তৈরি, সার প্রয়োগ, বীজ বপন ও পরিচর্যার সব কিছুতেই কৃষি বিভাগ পাশে থেকে সবধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ফজলুল হক জানান, ‘বাঙ্গির বাম্পার ফলন দেখে মন জুড়িয়ে যায়। যে কোনো সহযোগিতার জন্য আমরা প্রস্তুত। কৃষকরা একটু পরিশ্রমী হলে বহুমুখী ফসল উৎপাদন করে আরও বেশি সফল হতে পারে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৪, ২০২১ ৩:০৮ অপরাহ্ন
নড়াইলে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে করলা চাষিদের
কৃষি বিভাগ

করলার চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় খুশি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার নলদী ও নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের দুই হাজারের বেশি কৃষক। এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সেখানকার করলা চাষিরা। সেখানকার করলা খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি রাজধানীতে সরবরাহ করা হয়।

জানাগেছে, প্রায় এক যুগ আগে লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নে করলা চাষ শুরু হয়। লাভ বেশি হওয়ায় পরবর্তীতে নোয়াগ্রাম ইউপির ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও বাড়ীভাঙ্গা গ্রামে চাষ ছড়িয়ে পড়ে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় এ এলাকার মানুষ করলা চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। আবহাওয়া ও মাটির গুনাগুণ উচ্ছে চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলনও ভালো পাচ্ছেন চাষিরা। বিভিন্ন জাতের করলার চাষ হয়েছে এ এলাকায়।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার লোহাগড়া উপজেলায় ১০৫ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। যার অধিকাংশই নলদী ইউনিয়নের নওয়াপাড়া, বারইপাড়া, গাছবাড়িয়া ও জালালসী ও পার্শ্ববর্তী নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও বাড়ীভাঙ্গা গ্রামের মাঠে চাষ হয়েছে।

চাষি আক্তার হোসেন খান জানান, করলা চাষের মধ্যদিয়ে এ এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। এক যুগের অধিক সময়ে করলা চাষের মাধ্যমে পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। বাড়িতে পাঁকাঘরের পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনাসহ সাংসারিক সব খরচই চলে করলা চাষের টাকা দিয়ে।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক দীপক কুমার দে জানান, রবি মৌসূমে নড়াইল জেলায় ৩ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে লোহাগড়া উপজেলার দুটি ইউনিয়নেই ১০৫ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্য সম্মত উচ্ছে চাষাবাদে সার্বক্ষণিক চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আশা করি আগামীতে এ এলাকায় করলাসহ অন্যান্য সবজির চাষাবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৪, ২০২১ ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
মাগুরায় পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে চাষিরা
কৃষি বিভাগ

মাগুরায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেখানে এবার পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে।চাষ হয়েছে ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ হাজার ১০০ হেক্টর বেশি। আর এতে খুশ সেখান চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। চাষ হয়েছে ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ হাজার ১০০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ১৯০ হেক্টর, শ্রীপুরে ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর, শালিখায় ১ হাজার ১৪০ হেক্টর এবং মহম্মদপুরে ১ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে ।

কৃষি বিভাগ আশা করছেন এবার চাষকৃত জমি থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার পেঁয়াজের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন।

এ ছাড়া জেলায় পেঁয়াজের আবাদ সফল করতে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করায় পেঁয়াজের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার কিছু এলাকায় কৃষকরা খেত থেকে পেঁয়াজ উঠিয়ে তার বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছেন।

এ মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল জাতের লালতীর কিং, বারি পেঁয়াজ-১, বারি-৪ পেঁয়াজসহ দেশি জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। এসব জাতের পেঁয়াজের সাদ গন্ধ হুবহু দেশি পেঁয়াজের মত। এ ছাড়া কৃষকরা এসব জাতের পেঁয়াজের বাজার মূল্য ভালো পায় এবং এটির সংরক্ষণ করতেও বেশ সুবিধা।

নতুন ওঠা এসব পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলার চার উপজেলার মধ্যে শ্রীপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে।

কৃষক পরিমল বাছাড় জানান, তিনি এ বছর প্রায় সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে লালতীর কিং জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছেন। যা থেকে তিনি প্রায় ১৩৫ থেকে ১৫০ মণ পেঁয়াজ পাওয়ার পাশপাশি ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলায় পেঁয়াজের ফলন অনেক ভালো হয়েছে । পেঁয়াজ চাষ সফল করতে কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়েছে। এ মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকার কারণে পেঁয়াজের কোন ক্ষতি হয়নি। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop