৫:০৪ অপরাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ১৩, ২০২১ ৭:০৬ অপরাহ্ন
২৩ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি করবে ফেনীর চাষিরা
কৃষি বিভাগ

৩১৭ হেক্টর জমিতে এবার তরমুজ চাষ হয়েছে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায়। ফেনী থেকেই এসব তরমুজ চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তরমুজে বাম্পার ফলনের সাথে আকারেও বড় এবারের ফেনীর তরমুজ। চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষে ৯ কোটি টাকা খরচ করে অন্তত ২৩ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির প্রত্যাশা করছেন এসব এলাকার প্রায় অর্ধহাজার তরমুজ চাষি।

জানা যায়, ২০১৭ সালে নোয়াখালী এলাকা থেকে আগত এক কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নে তরমুজ চাষ করেন। ওই বছরে তার সফলতা দেখে ২০১৯ সালে ৮ থেকে ১০ জন কৃষক তাদের জমিতে রবি মৌসুমে তরমুজ চাষ করে লাভবান হন। উৎপাদনে সম্ভাবনা ও ভালো দাম পেয়ে নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকা থেকে কিছু কৃষক ২০২০ সালে সোনাগাজীর সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় এসে ১০৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ শুরু করেন।

কম সময়ে বেশি লাভ পাওয়ায় এবার উপজেলার চরছান্দিয়া, চরদরবেশ ও আমিরাবাদ ইউনিয়নে ৩১৭ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে সোনাগাজীতে ১৬০ হেক্টর জমিতে ভিক্টর সুগার জাত, ১২২ হেক্টর জমিতে ওশেন সুগার ব্ল্যাক বেরি, ৩৫ হেক্টর জমিতে অন্যান্য জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, সমুদ্রের উপকূলে জেগে ওঠা সোনাগাজীর চরগুলো বছরের পর বছর অনাবাদী পড়ে থাকতো। বছরের কিছু সময় এসব অনাবাদী জমিকে মহিষের চারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বেশিরভাগ সময়ই খালি থাকতো। এখন ওইসব অনাবাদি জমিতেই চলছে তরমুজ চাষ।

সোনাগাজীতে তরমুজ চাষিদের বেশিরভাগ কৃষক নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকা থেকে এসেছেন। স্বল্প সময়ের জন্য চরাঞ্চলে আসা এ কৃষকরা খেতেই তাবু লাগিয়ে অস্থায়ী বসতি তৈরি করেছেন। খেত থেকে তরমুজ তোলা শেষ হলে তারা পুনরায় নিজ এলাকায় ফিরে যাবেন।

সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার জানান, চলতি মৌসুমে সোনাগাজীতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। আকারে প্রতিটি তরমুজ ৬ থেকে ৭ কেজি হওয়ায় ও দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা ভালো লাভবান হবেন। এছাড়াও স্বাদ ভালো হওয়ায় পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারাও সোনাগাজীর তরমুজ বিক্রি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আগামী ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যেই তরমুজ তোলা শেষ হবে বলে জানান তিনি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র নাথ জানান, চলতি মৌসুমে সোনাগাজীতে ৩১৭ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। এখন চাষিরা তরমুজ তোলা ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্বাদ ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা সোনাগাজী থেকে গাড়ি ভর্তি করে তরমুজ নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন জেলায়।

তিনি জানান, চলতি মৌসুমে সোনাগাজীতে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪৯ মেট্টিক টন তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ৭ কেজি ওজনের ৯০০ থেকে ৯৫০ পিস তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। এসব তরমুজ উৎপাদনে বিঘাপ্রতি বীজ, সার, পারিশ্রমিক ও জমি লিজ খরচসহ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা চাষিদের খরচ হয়েছে। এখন প্রতিবিঘায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করছেন চাষিরা।

প্রতাপ চন্দ্র নাথ আরো জানান, প্রতি হেক্টরে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। এ হিসেবে সোনাগাজীতে ৩১৭ হেক্টর জমিতে অন্তত ২৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। এসব তরমুজ উৎপাদনে প্রতি হেক্টরে চাষিদের যাবতীয় খরচসহ ব্যয় হয়েছে মাত্র সাড়ে ৯ কোটি টাকা। বিক্রি শেষে তরমুজ চাষে সম্পৃক্ত ৪ শতাধিক কৃষকের অন্তত ১৪ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে বলে মনে করেন কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৩, ২০২১ ১২:২৫ অপরাহ্ন
বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে ঘিওরের কৃষকদের
কৃষি বিভাগ

রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই বেগুন চাষে সাফল্য পেয়েছেন মানিকগঞ্জের চাষিরা। এছাড়া বিষমুক্ত চাষের দিকেই ‍আগ্রহ বাড়ছে তাদের। লাভজনক হওয়ায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে সবজি চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে ঘিওরের কৃষকরা।

সূত্র মতে জানা যায়, জৈবিক বালাই দমনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদের সাহায্যে বেগুন চাষ করে অধিক লাভবান হয়েছেন ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের জাবরা এলাকার কৃষক আজিম, মাইলাঘী এলাকার মুন্নাফ মিয়াসহ আরো অনেক কৃষক। সেক্স ফেরোমন পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে মুন্নাফ মিয়া বিটি-২ জাতের বেগুন চাষ করেছেন। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ছাড়াই উৎপাদিত এই বেগুনের চাহিদাও অনেক বেশি। তিনি জানান, এ পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করায় তার ক্ষেতে পোকার আক্রমণ হয়নি। আলু, টমেটো, লালশাক, রসুন, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে ব্যবহৃত হচ্ছে কুইক কমপোস্ট সার।

বহুজা গ্রামের কৃষক বাবর আলীর এ পদ্ধতির সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক এ পদ্ধতিতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। জমির মধ্যে মাটিতে ছোট ছোট দুটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে তাতে প্লাস্টিকের বয়াম দু’পাশে বেঁধে ঝুলিয়ে রেখে তার মধ্যে দেয়া হয়েছে সাবান পানি। বয়ামের মাঝখানে একধরনের লেয়র ঝুলিয়ে দিতে হয়। যার ফলে পুরুষ পোকাগুলো গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে বয়ামের ভেতরে ঢোকে। বয়ামের নিচের অংশে রাখা সাবান পানিতে পড়ে মারা যায়। ফলে ক্ষতিকর পোকার বংশ বৃদ্ধি রোধ হয়।
কৃষক বাবর আলী বলেন, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ বসিয়ে বিষমুক্ত বেগুন চাষের সাফল্য কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে বিষমুক্ত সবজি চাষ করতে কৃষকরা আরো এগিয়ে আসবেন।

ঘিওর উপজেলা কৃষি অফিসার শেখ বিপুল হোসেন জানান, এক সময়ের অনাবাদি জমিতে বেগুন চাষ করে যেমন উপজেলায় সবজি উৎপাদন বাড়ছে। তেমনি উৎপাদিত হচ্ছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই বিষমুক্ত সবজি। কম খরচে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষক। আর অপরদিকে বিষমুক্ত সবজিও পাচ্ছেন ক্রেতারা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৩, ২০২১ ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
নাটোরে কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি বীজ ও সার বিতরণ
কৃষি বিভাগ

নাটোরে সদর উপজেলার ৫০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে উফশী আউশ ধান উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার(১২ এপ্রিল) বেলা ১২টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত একই অনুষ্ঠানে উপজেলার তিনজন আদর্শ কৃষকের হাতে পঞ্চাশ ভাগ ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন্ড হার্ভেষ্টার মেশিনের চাবি তুলে দেওয়া হয়।

নাটোর-২ আসনের (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) সংসদ সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম শিমুল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত হন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শিমুল বলেন, কৃষি বান্ধব বর্তমান সরকার প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি নিয়ে সব সময় কৃষকদের পাশে থাকে। কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে সরকারের গৃহীত অসংখ্য কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারণেই খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে বাংলাদেশ খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে কৃষিতে আমাদের অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতে আরো বেগবান হবে বলে তিনি জানান।

নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অধ্যাপক শামসুল ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্ত্তজা আলী বাবলু, নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ-আল-সাকিব বাকি এবং উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মেহেদুল ইসলাম। নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শরিফুল ইসলাম রমজান ভার্চুয়ালি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক কৃষক নিজের একবিঘা জমিতে আউশ ধান চাষাবাদের জন্যে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পাঁচ কেজি বীজ এবং সার সহায়তা বাবদ ২০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার পাচ্ছেন। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধির সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের মনোনীত ৮০ জন প্রান্তিক কৃষককে সার ও বীজ হস্তান্তর করা হয়। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিয়নের কৃষকবৃন্দকে সার ও বীজ প্রদান করা হবে।

আউশের আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে ব্রি ধান-৪৮, ব্রি ধান-৫৫, ব্রি ধান-৮২ এবং বিনা ধান-১৯ এর মত উন্নত আউশ ধানের বীজ সরবরাহ করছে। এসব উফশী জাতের ফলন অনেক বেশী এবং প্রায় বোরো ধানের কাছাকাছি। বাজারে ধানের দামও ভালো। কৃষকগণ সরকারের প্রণোদনা গ্রহণ করে পুনরায় আউশ আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১২, ২০২১ ৬:১৯ অপরাহ্ন
পবিত্র রমজান উপলক্ষে ছয়টি পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।
এগ্রিবিজনেস

পবিত্র রমজান উপলক্ষে ছয়টি পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। দাম বেঁধে দেওয়া ছয়টি পণ্য হলো ছোলা, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, চিনি ও খেজুর। বেঁধে দেওয়া এই দাম অনুযায়ী পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলো কাজ করবে বলে সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে পণ্যের চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

দাম বেঁধে দেওয়া পণ্যগুলো হলো, ছোলা, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, চিনি ও খেজুর। বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে কাজ করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলো।

নতুন বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী খুচরা বাজারে ছোলা কেজিপ্রতি ৬৩ থেকে ৬৭ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, ভোজ্যতেলের এক লিটারের বোতল ১৩৯ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৬৬০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল ৬৭-৬৯ টাকা ও সরু দানার ডাল ৯৭ থেকে ১০৩ টাকায় বিক্রি হবে এবং চিনির খুচরা মূল্য কেজিপ্রতি ৬৭ থেকে ৬৮ টাকায় কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

সাধারণ মানের খেজুর কেজিপ্রতি ৮০-১০০ ও মধ্যম মানের খেজুর ২০০-২৫০ টাকার বেশি হতে পারবে না।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী রমজান মাসে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন ছোলা, তিন লাখ টন পেঁয়াজ, দুই লাখ টন ভোজ্যতেল, ৮০ হাজার টন মসুর ডাল, এক লাখ ৩৬ হাজার টন চিনি ও ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১২, ২০২১ ১:৪৭ অপরাহ্ন
আলুর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে আলু বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। এ উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৮৬০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জন হয়েছে ৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর।

উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের আলু চাষী কুশমত আলী জানান, তিনি এবার এক একর জমিতে উন্নত জাতের আলু চাষ করেন। কৃষি অফিসের পরামর্শে ভাল ফলন পেয়ে দেশের বাইরে আলু রপ্তানি করে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছেন।

কয়েকজন চাষি জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে উন্নত জাতের আলু আড়াই একরের মত চাষ করে ভাল ফলন পেয়েছি। উৎপাদিত আলু ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেও লাভের মুখ দেখব বলে আশা করছি। আমার ক্ষেতের আলু যাচ্ছে দেশের বাইরে এ ভেবে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৮৬০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জন হয়েছে ৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর। আলু আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষকদের কাছ থেকে মাঝারি ধরনের ডায়ামন্ট, গ্রানোলা, এসটোরিক জাতের আলু ১০ টাকা কেজি দরে কিনে দেশের বাইরে রপ্তানি করছে। ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে আলু চাষীরা।

আরো জানায়, এ মৌসুমে আবাদকৃত আলু উপজেলার চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরে রপ্তানির ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন আলু চাষিরা। এবার কৃষকের উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ৫০০ টনের অধিক আলু যাচ্ছে মালয়েশিয়া, চীন, নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ জানান, আমরা প্রতিনিয়ত সবধরনের ফসল ফলনে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রযুক্তি প্রদান করে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। চলতি মৌসুমে আলু চাষীরা তাদের আলু বিদেশে রপ্তানির ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে ফুলকপি, মুলা ও টমেটোসহ অন্য কৃষি পণ্য দেশের বাইরে রপ্তানি হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ৭:১৮ অপরাহ্ন
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে। কৃষিপণ্য রপ্তানিকে আরো ত্বরান্বিত ও ফলপ্রসূ করতে রপ্তানিতে যেসকল বাধা ও সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে। মান নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব দ্রুত চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে ‘শাকসবজি ও ফল রপ্তানীকারকদের’ সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষিতে সরকারের এখন লক্ষ্য হলো কৃষির প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ করে কৃষিকে লাভজনক করা। এজন্য কৃষিপণ্যের রপ্তানী আরো বাড়াতে হবে। প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন ও উদ্যোক্তাদের আরো কিভাবে সহায়তা দেয়া যায়, সেটা আমরা চিন্তা করছি। উৎপাদিত কৃষিপণ্য দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কিভাবে যেতে পারে, সরকার এর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেজন্য, যারা রপ্তানীর সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং মান উন্নয়নে কাজ করছে তাদেরকে সর্বাত্নক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে কৃষির গুরুত্ব অনেক বেশি। কৃষি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। একই সাথে বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালেরও যোগান দিয়ে থাকে। এ কাঁচামাল যোগান দিয়ে আমরা যে প্রক্রিয়াজাত পণ্য পাচ্ছি সেটা বিদেশে রপ্তানিরও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এখনো আমাদের রপ্তানীটা বেশির ভাগ তৈরি পোশাকের মধ্যে সীমিত। প্রায় শতকরা ৮০-৮৪ ভাগ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তার সাথে সাথে কৃষি একটি সম্ভাবনাময় সেক্টর। আমরা যদি প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে পারি এবং নিরাপদ সবজি ও ফলের নিশ্চিয়তা দিতে পারি, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারেও কৃষিপণ্য রপ্তানী করতে পারবো।

সভায় বক্তাগণ কৃষিপণ্য রপ্তানিতে করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। সভায় কৃষিমন্ত্রী বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মতামত ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি শুনেন। তাদের সুপারিশমালা বিবেচেনায় নিয়ে মন্ত্রণালয় কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে, এজন্য সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত আরেকটি সভা করার জন্য মন্ত্রী পরামর্শ দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পিপিসি) মো: রুহুল আমিন তালুকদারের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো: হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ইউসুফ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের পরিচালক মোহম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ এসিআই, প্রাণ-আরএফএল এবং সবজি ও ফল রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ৬:০৫ অপরাহ্ন
খুবিতে পেঁয়াজ গবেষণাতে চমকঃ
কৃষি গবেষনা

খুবির গবেষণায় সাফল্য, ফরিদপুরী জাতের পেঁয়াজের হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ১৬ মেট্রিক টন

মাটি ও সার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে #দেশী_পেঁয়াজের_উৎপাদন_দ্বিগুণ করা সম্ভব

কেননা বাজারে যতই কম দামের পেঁয়াজ পাওয়া যাক , দেশি পেঁয়াজে ঝাঝ  বেশি থাকায় ভোক্তাদের চাহিদা দেশি পেঁয়াজে ই বেশি থাকে । তাই আমাদের এই দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে ।

আমাদের দেশে যে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় তার আকার ও ওজন কম। সাধারণভাবে গড় ওজন ২০-৫০ গ্রাম। ফলে সামগ্রিক উৎপাদন কম হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের গবেষকরা মাটি, জৈব সার ও সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফরিদপুরী দেশী জাতের পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। সম্প্রতি এই গবেষণার কাজ শেষ হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল গবেষণা মাঠের পেঁয়াজ উত্তোলন করে দেখা যায় আশানুরূপ ফলন হয়েছে। এই গবেষণা প্লটের গড় পেয়াজের আকার বড় এবং ওজন ৬০-১০০ গ্রাম পর্যন্ত। এই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষ করলে বর্তমান পেঁয়াজের ফলন শতকরা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি সম্ভব। এর ফলে দেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে সয়ম্ভর, এমনকি উদ্বৃত্ত হতে পারে।

পেঁয়াজ চাষের গবেষক ছিলেন ঐ ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নিশান। এ ব্যাপারে গবেষণা প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের প্রফেসর মোঃ সানাউল ইসলাম জানান, আমাদের দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বাৎসরিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয় প্রায় ২৩ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। পচনসহ ঘাটতি ধরা হয় সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিক টন। মাটি, জৈব সার ও সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে উৎপাদন ১০ লাখ টন পর্যন্ত বৃদ্ধি সম্ভব। এছাড়া একই জমিতে আগামী ও নাবি দু’জাতের পেঁয়াজ চাষ করলে ৪-৫ লাখ টন পেঁয়াজ অতিরিক্ত উৎপাদন সম্ভব। কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং চাষ পদ্ধতির উন্নতি করতে পারলে দেশ অচিরেই চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পেঁয়াজ উৎপাদনে সক্ষম হতে পারে। তিনি আগামী বছর এই মৌসুমে উপকূলীয় লবণাক্ত বটিয়াঘাটা-দাকোপ এলাকাতে গবেষণা চালাবেন। তিনি আরও জানান, গবেষণা প্লটের মধ্যে মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা নেওয়ায় উৎপাদন হয়েছে হেক্টর প্রতি ১৫ টন। উৎপাদিত ৪০-৫০ শতাংশ পেঁয়াজের প্রতিটির গড় ওজন ছিলো ৭০-৯০ গ্রাম।

তিনি জানান, ২৮ দিন বয়সের চারা ফরিদপুর থেকে এনে ১০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে লাগানো হয়। শুষ্ক মৌসুমে (এপ্রিল-মে) গবেষণা প্লটের লবণাক্ততার মাত্রা ছিলো ৪ ডেসিসিমেন্স/মিটার। প্লটের পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয় গত ৫ এপ্রিল। ১৮টি পর্যবেক্ষণ প্লটে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। সঠিক চারা ও সারি ঘনত্ব, যথযাথ মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে আশাতীত ফলন পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

এই বড় সাইজের পেঁয়াজ গুলোকে যদি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিউট , কৃষি মন্ত্রণালয়  ও সরেজমিন গবেষণা বিভাগ গুলোর সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় করা গেলে, কৃষক দের সার, বীজ , কীটনাশক , কারিগরি  সহযোগিতা এর মাধ্যমে , তাহলে আমাদের আর বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভর থাকতে হবেনা, প্রয়োজনে আমরা রপ্তানি করতে পারবো ।

আর আলু এর মত পেয়াজের ও সংরক্ষণ পদ্ধতি অনেক বড় একটি সমস্যা, এটি চাহিদা অনুযায়ী যোগান দেওয়া গেলে আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবো ।

মোঃ আমিনুল খান

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ৫:৫৬ অপরাহ্ন
ময়মনসিংহে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ
কৃষি বিভাগ

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলায় প্রায় দুই কোটি টাকার কৃষি আধুনিক যন্ত্রপাতি অর্ধেকমূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। সহজ পদ্ধতিতে ছয় মাসের কিস্তিতে বিনাসুদে পরিশোধ করে কৃষক হবেন যন্ত্রের মালিক।

আজ রবিবার দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিসে এসব যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়। যা অর্ধেকমূল্যে বিতরণ করা হবে ছয়জন কৃষকের মাঝে।

আজ চারজন কৃষকের মাঝে এই কৃষিযন্ত্র বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও শীতেষ চন্দ্র সরকার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল, কৃষি অফিসার আব্দুল আল-মামুন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া পারভিন লাকি প্রমুখ।

ফুলপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ছয়জন কৃষকের মাঝে ধানকাটার কম্বাইন্ড হারভেস্টার বিতরণ করা হবে। যার প্রতিটির মূল্যে ৩০ লাখ টাকার ওপরে। কৃষকরা মাত্র ৩-৪ লাখ টাকা জমা দিয়ে ছয় মাসের মধ্যে বিনাসুদে পরিশোধ করে এসব যন্ত্রপাতির মালিকানা লাভ করবেন।

বোরো ধান নিয়ে কৃষকের হতাশার সময় শেষ। বিশেষ করে প্রাকৃতিক বিপর্যের হাত থেকে রক্ষা করবে এ আধুনিক যন্ত্রটি। ফুলপুরে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক কারণে আংশিক ক্ষতি হলেও তা পূরণ হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও শীতেষ চন্দ্র সরকার।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ৫:২৮ অপরাহ্ন
ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষের দিকে আগ্রহ বাড়ছে সিলেটের কৃষকদের
কৃষি গবেষনা

সিলেটের কৃষকরা পতিত পুকুর কিংবা বিলে কচুরিপানা পচিয়ে বেড তৈরি করে এর ওপর নানা জাতের সবজি চাষ করার দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছেনে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষের এই প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ফলনও হচ্ছে ভালো।

জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) সিলেট এর সহযোগিতায় সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় শুরু হয়েছে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ প্রকল্পের কাজ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) সূত্রে জানা যায়, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সিলেটের ব্যবস্থাপনায় ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ভাসমান বেডে কৃষকদের সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষকদের সব ধরণের কলাকৌশলের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং চাষাবাদ প্রক্রিয়া হাতে কলমে শেখানো হয়। সবকিছু জেনে নেয়ার পর কৃষকরা ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ শুরু করেন। একজনের সফলতা দেখে অন্যজন একি রকম চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এখন পর্যন্ত সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রূপশাল এবং ফেঞ্চুগঞ্জের কটালপুর গ্রামে প্রাথমিক ভাবে বিনামূল্যে তৈরি ১৫০টি বেডের মাধ্যমে এসব এলাকায় সবজি ও মসলা উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদিত চাষে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার লাগেনা। ফলে সবজির গুনগত মান ও স্বাদ অক্ষুন্ন থাকে। তিনি আরো জানান, ভাসমান বেডে সবজি চাষ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকায়ও ভাসমান বেডে সবজি চাষ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

জানা যায়, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রূপশাল গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন গত ৩বছর যাবত এই পদ্ধতিতে সবজি ও মসলা চাষে সম্পৃক্ত রয়েছেন। আবুল হোসেন এর ভাসমান বেড সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, তিনি ভাসমান বেড তৈরি করে তার ওপর চাষ করছেন টমেটো, বেগুন, কাচা মরিচ, লাল শাক, কলমি শাক, ঢেঁড়শ, বরবটি, লাউ ও সিম। যা একদিকে তাদের পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মিটাতে সক্ষম হচ্ছে, অন্যদিকে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন। আবুল হোসেন এর ভাসমান বেডে সবজি চাষ দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষক আবুল হোসেন জানান, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সিলেটের সহযোগিতায় “ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, স¤প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ” প্রকল্পের আওতায় ভাসমান বেড তৈরি করে তাতে নানা জাতের সবজির চাষ অব্যাহত রেখেছি। আগামীতে আরও বেশি বেড তৈরি করে সবজি চাষ করবেন বলে তিনি জানান। ২০ ফুট গভীর পানির ওপর ভাসমান বেড করা খুবই কষ্টসাধ্য। কষ্ট হলেও আমরা সাফল্য পেয়েছি। বাজারে এই বেডের সবজির প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

ভাসমান বেডের তত্তাবধানের নিয়োজিত বৈজ্ঞানিক সহকারী রায়হান জানান, একই বেডে এক সবজি তোলার পর অন্য সবজি চাষ করা যায়। ভাসমান বেডে উৎপাদিত সবজি জৈব পদ্ধতিতে তৈরি হয় বলে প্রযুক্তিটি পরিবেশ বান্ধব ও সবজি স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত। তাছাড়া খরচও তুলনামূলক কম। ফলে কৃষক বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হতে পারেন।

সরেজমিন গবেষণা বিভাগ (বারি) সিলেটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল জানান, সিলেটের অনেক পুকুর এবং খাল-বিল প্রায় সারা বছরই পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এসব জায়গায় ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে এর ঘাটতি পূরণ সহ আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন কৃষকরা। সিলেট অঞ্চলে এখনো সবজির প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। তাই সিলেটে ভাসমান বেডে পানির স্বল্প খরছে সবজি চাষ ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেলে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে আর্থিক ভাবেও কৃষকরা লাভবান হতে পারেন।

তিনি আরো জানান, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনা মতে, দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমির ব্যবহার ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিবেচনায় ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা উৎপাদন পদ্ধতি বিস্তার প্রয়োজন। কৃষি বান্ধব সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় কৃষকদের কল্যাণে এ পদ্ধতির সবজি ও মসলা চাষে সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ৪:৫০ অপরাহ্ন
লকডাউন: সবজি বাজারজাতে ভোগান্তিতে মুন্সিগঞ্জের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

সবজিতে চাঙ্গা মুন্সিগঞ্জ। রমজানকে সামনে রেখে সবজির সরবরাহ নিশ্চিত করতে সবজির আবাদ করা হচ্ছে সেখানে। এবং জমিন থেকে তাজা শাক-সবজি তুলে সরাসরি মোকামেও পাঠানো হচ্ছে সেখান থেকে। তবে এবার করোনার লকডাউনের কারণে হিমশিম খাচ্ছে সেখানকার চাষিরা। এছাড়া লকডাউনের কারণে সবজির চাহিদা মোতাবেক দাম কম পাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে সেখানকার চাষিদের।

মুন্সিগঞ্জের মালিগাঁওয়ের কৃষক সলেমান মিয়ার বিস্তীর্ণ জমিতে চলছে পুদিনা পাতার পরিচর্যা। রমজান সামনে রেখে ৫০ শতাংশ জমিতে প্রথমবারের মতো চাষ করেছেন এ সবজির। এ ছাড়াও জেলার বজ্রযোগিনী, রামপাল, পঞ্চসার ও মহাকালীতেও এখন সবজির সমাহার। বেগুন, টমেটো, বরবটি, ক্যাপসিকাম, লালশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজির আবাদ চলছে পুরোদমে। প্রতিদিন ভোর থেকেই পরিচর্যার পাশাপাশি সবজি মোকামে পাঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

তবে করোনা ও লকডাউনের কারণে বাজারজাতকরণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। সেই সঙ্গে দাম কম পাওয়ারও অভিযোগ করেন বজ্রযোগিনী আড়তদার মো. মনিরুজ্জামান নান্নু।

জেলায় এবার এক হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ হয়েছে বলে জানান উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম হোসেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop