১২:০৬ পূর্বাহ্ন

সোমবার, ৪ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ১৭, ২০২১ ৪:১৪ অপরাহ্ন
তাল ও ডিম বেগুনের লাভজনক সংযোজন
এগ্রিবিজনেস

আমাদের দেশে বেগুন একটি সুস্বাদু , পুষ্টিকর ও লাভজনক সবজী । বেগুন দিয়ে নানান রকম রান্না ছাড়া ও ফাস্ট ফুড এ ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হয়। বেগুনে আছে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান।

বেগুনকে শীতকালীন সবজি বলা হয়, কিন্তু আমাদের দেশে সারা বছরই বেগুন পাওয়া যায়। দেশে বিভিন্ন জাতের বেগুন পাওয়া যায়।এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’, যা চোখের জন্য খুব উপকারী।এই ডিজিটাল যুগে আমাদেরকে চোখের পরিশ্রম করতে হয় খুব বেশি। এতে চোখের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বেগুন আপনার চোখ ও ত্বকের জন্য বয়ে আনবে সুফল।এই সবজিতে কোলেস্টেরল বা চর্বি নেই। কোলেস্টেরল হলো চর্বিজাতীয় উপাদান, যা রক্তে জমে।
যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, তাঁরা কোনো রকম দুশ্চিন্তা ছাড়াই খেতে পারেন বেগুন।পাকস্থলী, কোলন, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্রের (এগুলো পেটের ভেতরের অঙ্গ) ক্যানসারকে প্রতিরোধ করে।যেকোনো ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে বেগুন।
বেগুনে আয়রনও রয়েছে, যা রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে। রক্তশূন্যতার রোগীরাও খেতে পারেন এই সবজি। এতে চিনির পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই ডায়াবেটিসের রোগী, হৃদ্‌রোগী ও অধিক ওজনসম্পন্ন ব্যক্তিরা নিঃসংকোচে খেতে পারেন বেগুন।বেগুনে রয়েছে রিবোফ্ল্যাভিন নামক উপাদান। এই উপাদান জ্বর হওয়ার পরে মুখ ও ঠোঁটের কোণের ঘা, জিহ্বার ঘা প্রতিরোধ করে। দূর করে জ্বর জ্বর ভাব।
বেগুন ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, ‘ই’ এবং ‘কে’ সমৃদ্ধ সবজি। ভিটামিন ‘এ’ চোখের পুষ্টি জোগায়, চোখের যাবতীয় রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।আর ভিটামিন ‘সি’ ত্বক, চুল, নখকে করে মজবুত।দেহে রক্ত জমাট বাঁধার বিরুদ্ধে কাজ করে ভিটামিন ‘ই’ ও ‘কে’। এই ভিটামিন চারটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে বহুগুণে কার্যকর।প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ রয়েছে এই সবজিতে, যা খাবার হজমে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এর ভূমিকা অনেক।ডায়াটারি ফাইবার–জাতীয় সবজি (আঁশ–জাতীয় উপাদান) ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য খুব উপকারী।বেগুনে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। এই উপাদানগুলো দাঁত, হাড় ও নখ শক্ত করে। দাঁতের মাড়িকে করে শক্তিশালী। ভঙ্গুরতা রোধ করে নখের।অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে বেগুন পরিহার করা উচিত। বেগুন অনেকের অ্যালার্জি বাড়িয়ে দেয়।জিঙ্কের ঘাটতি পূরণ করার জন্য ডায়রিয়া চলাকালে বেগুন খাওয়া অনুচিত। ডায়রিয়া ভালো হয়ে যাওয়ার পরে বেগুন খাবেন।ডায়রিয়া হওয়ার পর দেহে জিঙ্কের ঘাটতি হয়। এই ঘাটতি পূরণ করে বেগুন। জিঙ্কের ঘাটতি বেশি হয় মূলত শিশুদের।শিশুরা সবজি খেতে পছন্দ করে না। তাদেরকে খিচুড়ির সঙ্গে বেগুন মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। এতে শিশুদের শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি পূরণ হবে।যাঁরা অ্যালার্জির জন্য ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেগুন না খাওয়াই ভালো।

তাল ও ডিম বেগুন এক্ষেত্রে বিশাল জনসংখ্যার পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে।কারন এই ২ জাতের বেগুন এর চাহিদা মার্কেট এ সবসময় বেশি থাকে। ১ টি তাল বেগুন ৭০০-৮০০ গ্রাম ও১ টি ডিম বেগুন ৩০০-৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। পোকার আক্রমণ কম থাকায় এটাতে ফলন বেশি। চাষিরা এটার দাম ও অনেক ভাল পায় অন্য উচ্চ ফলনশীল জাতের চাইতে। এই বিষয়ে যদি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিউট(BARI) সকল প্রকার কারিগরি সহায়তা করে তবে এই তাল ও ডিম বেগুন সারাদেশ ব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব।

মোঃ আমিনুল খান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৭, ২০২১ ১২:৪৮ অপরাহ্ন
বাণিজ্যিকভাবে তেঁতুল চাষে পাহাড়িদের ভাগ্যবদল
কৃষি বিভাগ

পাহাড়ের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে তেঁতুল। আম, কাঁঠাল, কলা, বেল, আদা ও হলুদের সাথে পাল্লা দিয়ে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন হাট-বাজারে জায়গা করে নিয়েছে তেঁতুল। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন হাট-বাজারে জমে উঠেছে তেঁতুল বেচা-কেনা।

জানা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, নরসিংদী ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে খাগড়াছড়ির তেঁতুল। ঢাকা, নরসিংদী ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা তেঁতুল ব্যাবসায়ীদের পদচারণায় মুখরিত হাট-বাজার।

একসময় খাগড়াছড়ির বিভিন্ন হাট-বাজারে ১০-১৫ টাকা দরে প্রতি কেজি তেঁতুল বিক্রি হলেও সমতলের বিভিন্ন জেলায় তেঁতুলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এখন সেই টক-মিষ্টি তেঁতুল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা থেকে ১১০ টাকায়। কোন ধরনের কীটনাশক বা পরিচর্চা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত তেঁতুল লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে তেঁতুল চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।

গত ৪ থেকে ৫ বছর ধরে গুইমারা বাজার থেকে ঢাকায় তেঁতুল নিয়ে যান ব্যবসায়ী মো. নবী হোসেন। তিনি বলেন, দিন দিন ঢাকাসহ আশেপাশের জেলায় খাগড়াছড়ির তেঁতুলের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। তেঁতুলের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে স্থানীয় বাজারে দামও বেড়ে গেছে।

দেশের আচার তৈরির কারখানা গুলোতেও খাগড়াছড়ির তেঁতুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে জানিয়ে নরসিংদী থেকে আসা পাইকার মো. আমির হোসেন জানান, নরসিংদীতে পাহাড়ি তেঁতুলের চাহিদা ব্যাপক। তেঁতুলে কোনো ধরনের কীটনাশকের ব্যবহার করা হয় না। ফলে এর গুণগত মান ঠিক থাকে।

স্থানীয় বিক্রেতা সুনুইপ্রু মারমা বলেন, এক সময় তেঁতুল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। এখন আর বসে থাকতে হয় না। বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যায়। বালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি ক্রেতার জন্য অপেক্ষার দিনও শেষ হয়ে গেছে।

পাহাড়ে উৎপাদিত তেঁতুলের নির্দিষ্ট কোন জাত নেই জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মর্ত্তুজ আলী বলেন, প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে তেঁতুল গাছ। সময়ের ব্যবধানে তেঁতুল বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন পাহাড়ের লোকজন।

দেশব্যাপী খাগড়াছড়ির তেঁতুলের বাজার তৈরির হওয়ার সাথে সাথে পাহাড়ে তেঁতুল দিয়ে কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠার সম্ভাবনাও ব্যাপক। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাহাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আরও বেগবান হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৭, ২০২১ ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
২ টাকায় মিলছে এক কেজি টমেটো
কৃষি বিভাগ

মুন্সিগঞ্জ সদরে এবছর টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ২ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে কৃষকের চেয়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা লাভবান হচ্ছেন বেশি।খুচরা বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫-১০ টাকা দরে। তাই খুচরা বিক্রেতারা লাভবান হচ্ছেন বেশি। পাইকারি বাজার থেকে ২ টাকায় কিনে অধিক লাভে খুচরা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া একটু ভালো মানের টমেটো খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেজি দরে। যা কৃষকের দামের চেয়ে অনেক বেশি।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। শহরের মোল্লারচর এলাকায় কিছু কিছু কৃষক জমি থেকে টমেটো তুলতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। গেল সপ্তাহেও প্রতি কেজি টমেটো ১০-১৫ টাকা দরে বিক্রয় করেছেন কৃষকরা, যা এখন নেমে এসেছে ২-৩ টাকায়।

চরকিশোরগঞ্জ মোল্লারচর এলাকার মনির হোসের মোল্লা জানান, পাইকারি বাজারে এক মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। টমেটো বিক্রি করে লেবার খরচই উঠছে না। একজন লেবারকে দিতে হয় ৩০০ টাকা। অর্থাৎ ৫ মণ টমেটো বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরী দিতে হয়।

একই এলাকার সেরাজল মোল্লা জানান, প্রথম দিকে টমেটো ভালো দাম পাওয়া গেছে। তবে এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২ টাকায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৭, ২০২১ ৯:৩১ পূর্বাহ্ন
একই জমিতে ভূট্টা ও শাক চাষে সফল সিলেটের কৃষকরা
কৃষি গবেষনা

সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি ভুট্টার সাথে আন্তঃফসল হিসেবে স্বল্পমেয়াদী শাকসবজি যেমন লালশাক, ডাটাশাক, পালংশাক, লাইশাক, সরিষাশাক, খেসারিশাক, ধনিয়া ইত্যাদি চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন ওখানকার কৃষকরা। সিলেট অঞ্চলে শাক-সবজির চাহিদা এমনিতেই বেশি।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ব ও হাওর বিভাগের নতুন গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে অন্যান্য দানাদার শস্যের তুলনায় ভুট্টার উৎপাদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি বলে। ভুট্টা চাষে সার তুলনামূলক বেশি প্রয়োজন হয় এবং প্রাথমিক অবস্থায় দুই গাছের মধ্যবর্তী স্থানে অনেক ফাঁকা জায়গা থাকে। এই ফাঁকা জায়গার সুযোগটা কাজে লাগিয়ে সহজেই বিভিন্ন ধরনের স্বল্পমেয়াদী শাকসবজি চাষ করা সম্ভব। অতিরিক্ত আকারে সার ছিটানোরও প্রয়োজন হয় না। এতে করে সমপরিমাণ জায়গায় অধিক পরিমাণ ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে ভুট্টার সাথে আন্তঃফসল হিসেবে স্বল্পমেয়াদী শাকসবজি চাষকালে ভুট্টা কিংবা শাকসবজি কোনো ফসলের উৎপাদনই তেমন বাধাগ্রস্থ হয়নি। বরং খেসারি শাক ও ধনিয়ার সাথে ভুট্টার উৎপাদন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। এতে করে অতিরিক্ত আকারে প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ৬০,০০০-৮০,০০০ টাকা আয় করা সম্ভব।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্স সিস্টেমের (সাউরেস) সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছেন কৃষিতত্ত্ব ও হাওর বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক। এই গবেষণায় আরো যুক্ত হয়েছেন মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী পলাশ দেব নাথ এবং নুর মোহাম্মদ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৬, ২০২১ ১০:৫৫ অপরাহ্ন
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বঙ্গবন্ধুর শস্যচিত্র
কৃষি বিভাগ

বগুড়ার শেরপুরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে শেরপুরের বালেন্দা গ্রামে ১০০ বিঘা জমিতে দুই জাতের ধান লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় প্রতিকৃতি। যা স্থান পেয়েছে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।

আজ মঙ্গলবার (১৬ মার্চ ) ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ’-এর আহ্বায়ক আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এ তথ্য জানিয়েছেন।

‘শস্যচিত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’ প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, প্রতিকৃতিটি বিশ্বের কাছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদাভাবে পরিচিত করবে। এর আগে প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ যে প্রতিকৃতি চীনে তৈরি করা হয়েছিল, তার মোট আয়তন ছিল ৮১,৫২২ বর্গমিটার, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিটি প্রায় তার দেড় গুণ।

তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এখন শুধুই ক্ষণ গণনা, বাংলাদেশের জন্য নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করার জন্য। যদিও খালি চোখে দেখে বঙ্গবন্ধুর সম্পূর্ণ মুখাবয়ব দৃষ্টিগোচর করা সম্ভব নয়, তবুও প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসছে প্রকল্পটি দেখতে। ড্রোনের মাধ্যমে তোলা ছবি ও ভিডিও এবং এ সম্পর্কিত বিভিন্ন ফিচার, সম্পাদকীয় টেলিভিশন ও জাতীয় দৈনিকে এসেছে।

সত্যি এ এক নয়নাভিরাম দৃশ্য, যা দেখে বোঝার উপায় নেই যে শুধু দুই প্রকার ধানগাছ লাগিয়ে অপূর্ব এই প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে। স্বাধীনতার মাসে জাতির পিতার এ প্রতিকৃতি সবাইকে আরো একবার প্রেরণা জোগাবে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে। জয় বাংলা।

আগামীকাল বাংলাদেশ সময় একটায় একটি ওয়েবনিয়ারে তারা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিবে, বলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এই নেতা।

জানা যায়, ভবানীপুরের বেলেন্দিয়া গ্রামের ১০০ বিঘা জমির ওপর নেওয়া হয়েছে প্রকল্পটি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি এবং ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এটি সম্পন্ন করেছে। ৪০০ মিটার লম্বা ও ৩০০ মিটার চওড়া প্রতিকৃতিটি সর্বমোট ১,২০,০০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।

স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে নভেম্বর ২০২০ থেকে মে ২০২১ তারিখ পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য জায়গাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। প্রতিকৃতিটিকে ফুটিয়ে তুলতে দুই ধরনের ধান ব্যবহার করা হয়েছে। সবুজ ধানটি ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার কর্তৃক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এবং বেগুনী (হালকা খয়েরি) ধানটি চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে।

গত (১-১৫) ফেব্রুয়ারি স্থানীয় নারী শ্রমিক, বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী এবং বিএনসিসি সদস্যরা এই ধানের চারা রোপণ করেন। প্রকল্পের অংশ হিসেবে মূল প্রতিকৃতির নিচে খয়েরি রংয়ের ধানে বঙ্গবন্ধুর সম্পূর্ণ নাম লেখা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৬, ২০২১ ৪:০২ অপরাহ্ন
কুষ্টিয়ায় সবজি বিক্রেতাকে কুপিয়ে হত্যা!
কৃষি বিভাগ

কুষ্টিয়ার মিরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সিদ্দিক আলী মণ্ডল (৪৫) নামে এক সবজি বিক্রেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত সিদ্দিক আলী মণ্ডল ওই এলাকার মৃত ফেরত আলী মণ্ডলের ছেলে।

গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার পাহাড়পুর-লক্ষ্মীপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুল সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা ডেইলী বাংলাদেশকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সিদ্দিক আলী মণ্ডলের সাথে প্রতিবেশী মৃত বিল্লাল হোসেনের ছেলে গফুর, সালাউদ্দিন, জলিল ও খলিলের বাগবিতণ্ডা হয়। দু্ই পক্ষের বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র (রামদা) দিয়ে আঘাত করলে গুরুতর আহত হন সিদ্দিক আলী।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৬, ২০২১ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ১২ জাতের আলু আবাদ
কৃষি বিভাগ

এ মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলনে খুশি কুমিল্লার আলু চাষিরা। প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ১২ জাতের আলুর আবাদ করে চাষিরা। উন্নত জাতের আলু আবাদ করে প্রতিবিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ মণ আলু বেশি ফলন পেয়েছেন তারা।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবারের মৌসুমে প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন আলু অতিরিক্ত উৎপাদন হওয়ায় কুমিল্লার ১৬ উপজেলায় আলু চাষিদের আনন্দের মাত্রাটাও অনেক বেশি দেখা দিয়েছে তাদের চোখেমুখে। চলতি মৌসুমে আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় কুমিল্লার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তারাও অনেক খুশি।

এখনো মাটির নিচে লাখ লাখ টন আলু। ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন আলু তোলা হয়েছে। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে শুরু হবে কুমিল্লার ১৬ উপজেলায় আলু তোলার মহোৎসব। এবারের মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন ধরা দিয়েছে জমিতে।

সমগ্র জেলায় চলতি মৌসুমে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ৯৩৪ হেক্টর জমিতে। আর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬৬ হেক্টর বেশি। হেক্টর প্রতি উৎপাদন ২৫ টনেরও বেশী। সেই হিসেবে চলতি মৌসুমে ৪ লক্ষাধিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে আগাম জাতের নতুন আলু পাওয়া যাচ্ছে।

চলতি মৌসুমে কুমিল্লার ১৬ উপজেলার মধ্যে দাউদকান্দি, চান্দিনা, দেবিদ্বার, আদর্শ সদর, বুড়িচং, হোমনা, মেঘনা, তিতাস, মুরাদনগর, সদর দক্ষিণ, বরুড়ায় এবারে আলুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। তবে ফলনের দিক থেকে দাউদকান্দি এগিয়ে রয়েছে। এ উপজেলায় ৫ হাজার ৯২১ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। ফলনের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চান্দিনা উপজেলা। এ উপজেলায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে।

দাউদকান্দি, চান্দিনা, বুড়িচং, মুরাদনগর, আদর্শ সদর ও দেবিদ্বারের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে আলু চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের আলু মৌসুমে চাষিরা ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, গ্র্যানোলা, মালটা, হীরা, অরিগো, কোস্টারিকা, পেট্রোনিজ, বেলেনী, এস্টারিক্স, সাগিতা ও রোজগোল্ড জাতের আলুর আবাদ করেছে। তবে হোয়াইট ডায়মন্ড ও কার্ডিনাল জাতের আলুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। এছাড়াও অনেকে অন্যান্য জাতের আলুও আবাদ করেছে।

আলু চাষিরা জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি উপকরণ সুলভমূল্যে পাওয়ায় এবার ফলন ভালো হয়েছে এবং ন্যায্যমূল্য পেলে ভালো লাভ করা যাবে। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে চলায় শীত ও ঘনকুয়াশায়ও আলু ক্ষেতের কোনরকম ক্ষতি হয়নি। জমিতে সঠিক মাত্রার সুষম সার প্রয়োগ করায় এবারে ফলন বেশি হয়েছে। এখন মৌসুমী আলু ক্ষেতে পরিচর্যা চলছে। আগামী এক দেড় সপ্তাহের মধ্যে আলু উঠানোর কাজ শুরু হবে। এজন্য কৃষকরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

প্রসঙ্গত, বিগত বছরের চেয়ে এবারে আলুর আবাদ অনেক ভালো। বাম্পার ফলনে তাদের খুশির সীমাও ছাড়িয়ে গেছে। তাই আলু চাষে তাদের আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে। এবারের মৌসুমী আলু বাজারে উঠলে চাহিদা থাকবে ব্যাপক আর দামের দিক থেকেও বেশ সাড়া মিলবে বলে চাষিরা প্রত্যাশা করছেন।

কৃষি সম্প্রারণ অধিদফতর কুমিল্লার উপ-পরিচালক সুরজিত চন্দ্র দত্ত বলেন, কুমিল্লার সবক’টি উপজেলার মাটি আলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এবারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে। ক্ষেতে আলু ভালো রাখতে প্রতিষেধক হিসেবে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করে সুফল পেয়েছেন আলু চাষিরা। আমাদের কর্মকর্তাসহ মাঠকর্মীরা সার, কীটনাশক প্রয়োগের ব্যাপারে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। যা এবারের বাম্পার ফলনেই এ চিত্র ফুটে উঠেছে। আমরা কেবল আলু নয়, সব ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদনে কৃষকরা যাতে তাদের প্রয়োজন মতে সহযোগিতা, পরামর্শ পেতে পারে এজন্য জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কৃষি অফিসগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে চলেছে। বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৫, ২০২১ ১০:১৭ অপরাহ্ন
‘২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে কোনো কৃষি জমি থাকবে না’
কৃষি বিভাগ

পরিবেশ অধিদফতর এর মহাপরিচালক একেএম রফিক আহম্মেদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন বর্তমান হারে ভূমি অবক্ষয় চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে কোনো কৃষি জমি থাকবে না।

রবিবার (১৪ মার্চ) পারিবেশ অধিদপ্তরের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “প্রতি বছর বাংলাদেশে এক শতাংশ হারে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে কোন কৃষি জমি থাকবে না।”

মহাপরিচালক আরও বলেন, “২০০১ সালে ন্যাশনাল ল্যান্ড ইউস পলিসির ড্রাফট হয়েছিলো। এর কোনো ব্যবহার দেখছি না। ভূমি ব্যবহার পলিসি আপডেট করা প্রয়োজন। এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে, দারিদ্র দূর করতে হলে ভূমির বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে। ভূমিকে অবক্ষয়ের হাত থেকে বাচাতে হবে।”

“বিশ্বব্যাপী ইতিমধ্যে ২৫ শতাংশ ভূমি অবক্ষয় ঘটেছে। প্রতিবছর ২৪ বিলিয়ন টন উর্বর ভূমি নষ্ট হচ্ছে। ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর অর্ধেক ভূমির অবক্ষয় ঘটবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ” বাংলাদেশ রিও কনভেনশনে স্বাক্ষর করে বিশ্ববাসীর সাথে মরুময়তা, ভূমির অবক্ষয় ও খরা মোকাবেলা, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বদ্ধপরিকর। মাটির পুষ্টি উপাদান হ্রাস, মাটিতে জৈব পদার্থের ঘাটতি, মাটির অম্লতা বৃদ্ধি, ভূমিক্ষয়, নদী ভাঙ্গন, জলাবদ্ধতা, উপকূলীয় এলাকায় লবনাক্ততা বৃদ্ধি বাংলাদেশে ভূমি অবক্ষয়ের প্রধান প্রক্রিয়া বলে বিবেচিত।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের অনেক টেকসই ভূমি ব্যবহার প্রযুক্তি আছে যার মাধ্যমে আমরা ভূমি অবক্ষয় শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে পারবো। এছাড়া অবক্ষয় রোধে ভূমিতে বিনিয়োগ হলে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এদেশের মানুষকে টিকে থাকার লড়াইয়ের সুযোগ করে দিবে যা পক্ষান্তরে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যত উন্নয়নও টেকসই হবে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৫, ২০২১ ৫:৪৯ অপরাহ্ন
দেশে গম চাষ ও উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে : কৃষিমন্ত্রী
কৃষি গবেষনা

ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী উচ্চফলনশীল গমের জাতের মাঠ পরিদর্শন ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী উচ্চফলনশীল গমের নতুন জাতের মাধ্যমে দেশে গম চাষ ও উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। তিনি বলেন, দেশে দিন দিন গমের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের আবহাওয়া গম চাষের জন্য খুব উপযোগী না হওয়ায় চাহিদার পুরোটা দেশে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। দেশে আগে গমের অনেকগুলো জাত জনপ্রিয় হয়েছিল কিন্তু সেগুলো সহজেই ব্লাস্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতো। নতুন উদ্ভাবিত জাত যেমন বারি গম -৩৩সহ আরও কয়েকটি জাত ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী। এই উচ্চফলনশীল জাতগুলোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই দিনাজপুরে জাতগুলোর উন্নত বীজ উৎপাদন করে সারাদেশে চাষে ব্যবহৃত হবে। এর ফলে দেশের বিরাট এলাকা গম চাষের আওতায় আসবে ও উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

কৃষিমন্ত্রী সোমবার দিনাজপুরের নশিপুরে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে গম ও ভুট্টার চলমান গবেষণা মাঠ পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন।
এসময় হুইপ ইকবালুর রহিম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ এছরাইল হোসেন, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, ব্রির মহাপরিচালক ড. মো: শাহজাহান কবীর, বারির মহাপরিচালক নাজিরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র-সিমিটের বাংলাদেশ প্রতিনিধি টিমোথি জে. ক্রুপনিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সূত্রে জানা যায়, ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী গমের মধ্যে বারি গম-৩৩, ডাব্লিউএমআরআই গম- ২ ও ডাব্লিউএমআরআই গম -৩ উল্লেখযোগ্য। বারি গম-৩৩ এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী, পাতার মরিচা ও পাতা ঝলসানো রোগপ্রতিরোধী। তাপ সহিষ্ণু। কাণ্ড শক্ত, সহজে হেলে পড়ে না। জীবনকাল ১১০-১১৫দিন। গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৪.৬-৫ টন। দানা বড়, সাদা, চকচকে। জিংক সমৃদ্ধ (৫০-৫৫ পিপিএম)। ব্লাস্টপ্রবণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চাষের জন্য বেশি উপযোগী। ২০১৭ সালে অবমুক্ত।
ডাব্লিউএমআরআই গম- ২ এর বৈশিষ্ট্য হলো ব্লাস্ট সহনশীল,পাতা ঝলসানো ও পাতার মরিচা রোগপ্রতিরোধী। তাপ সহিষ্ণু,আগাম। স্বল্প মেয়াদি জীবনকাল ১০৬-১১২ দিন। ফলন হেক্টর প্রতি ৪.৫-৫.৫ টন।ডাব্লিউএমআরআই গম- ২ এর বৈশিষ্ট্য হলো ব্লাস্ট প্রতিরোধী,পাতা ঝলসানো ও পাতার মরিচা রোগ প্রতিরোধী। তাপ সহিষ্ণু। জীবনকাল ১০৮-১১৪ দিন। খাটো জাতের ৯৬-১০৬ সেমি উচ্চতা। ফলন হেক্টর প্রতি ৪.০-৪.৫ টন।
উল্লেখ্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশে প্রথম ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। ব্লাস্টে আক্রান্ত ফসলের উৎপাদন শতকরা ২৫-৩০ ভাগ হ্রাস পায়।
ভুট্টার ফল আর্মিওয়ার্ম পোকার আক্রমণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সিমিট ও দেশের বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় এটি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে। এটি নিয়ে তীব্র কোন সমস্যা নেই।
কৃষিমন্ত্রী সরেজমিনে গবেষণা মাঠ পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু কর্ণার’ উদ্বোধন করেন। পরে দুপুরে মন্ত্রী ইনস্টিটিউট চত্বরে চার দিনব্যাপী ‘কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলা-২০২১’ এর উদ্বোধন করেন এবং কর্মশালায় কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। মন্ত্রী এসময় জলবায়ু পরিবর্তনসহ ভবিষ্যতের চ্যালেন্জ মোকাবেলায় গম ও ভুট্টার নতুন নতুন জাত ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সেগুলো কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ এছরাইল হোসেন কর্মশালায় গম ও ভুট্টার উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়নের সার্বিক চিত্রের ওপর মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, এই ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত ৩৬ টি উচ্চ ফলনশীল গমের জাত উদ্ভাবন করেছে। এগুলোর মধ্যে গমের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী ও জিঙ্কসমৃদ্ধ জাত বারি গম ৩৩ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইনস্টিটিউট কর্তৃক ২০১৯ সালে ডাব্লিউএমআরআই গম-১ এবং অতি সম্প্রতি ডাব্লিউএমআরআই গম-২ (ব্লাস্ট রোগসহনশীল) ও ডাব্লিউএমআরআই গম-৩ (ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী) জাত অবমুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত ভুট্টার ১৯ টি হাইব্রিড জাত ও ৭টি ওপেন পলিনেটেড কম্পোজিট জাত উদ্ভাবিত হয়েছে।
বিশেষ অথিতির বক্তব্যে হুইপ ইকবালুর রহিম, এমপি বলেন, দিনাজপুরে সব ধরণের ফসলের চাষের সম্ভাবনা প্রচুর। এ অঞ্চলে গম, ভুট্টাসহ শাক-সবজি ও ফল প্রক্রিয়াকরণের জন্য দ্রুত কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা প্রয়োজন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৫, ২০২১ ৫:৪৭ অপরাহ্ন
কৃষি নির্ভরশীল একটি দেশের নাম বাংলাদেশ: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষি উন্নয়নের মাঝেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিহিত রয়েছে। অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি কৃষি। আর কৃষি নির্ভরশীল একটি দেশের নাম বাংলাদেশ। তাই এই খাতকে লাভজনক করতে কাজ করছি। কৃষিকে আধুনিকায়ন করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি

রোববার বিকেল চারটায় বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু ‘বাংলাদেশে কৃষিবিপ্লব শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি এসব কথা বলেন।

ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের সহযোগিতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও শস্যেচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় বাস্তবায়ন পরিষদ এই সেমিনারের আয়োজন করেন। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আসাদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন কৃষকের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাই কৃষি ও কৃষকের বঙ্গবন্ধুকে শস্যেচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে উদ্দেশ্যে করে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এজন্যই প্রতিবেশি বন্ধু রাস্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ধর্মকে ব্যবহার করে ভারত বিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে । ইতিহাসেরও বিকৃতি ঘটাচ্ছে।

উক্ত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম, কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য লুৎফুল হাসান, জাতীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যা ড. অমিতাভ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক হামিদুর রহমান, শস্যেচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের সদস্য সচিব কেএম মোস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়া অন্যদের মধ্যে বগুড়ার জেলা প্রশাসক জিয়াউর হক, জেলার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞ্রা, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সফিক, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

আরো পড়ুনঃ কৃষি গবেষণায় উদারভাবে অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop