২:০০ পূর্বাহ্ন

সোমবার, ৪ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ১২, ২০২১ ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
ফরিদপুরে বারি ছোলা-১০’র ওপর মাঠদিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): ফরিদপুরে বারি ছোলা-১০’র ওপর কৃষক মাঠদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের কানাইপুরে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

মাদারীপুরের আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডাল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার।

তিনি বলেন, বারি ছোলা-১০ চাষাবাদের মাধ্যমে এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া ছোলার আবাদ ফিরিয়ে আসবে। পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা মেটবে। এর উৎপাদন বেশি। তাই চাষিরাও লাভবান হবেন ।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ছালেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মনোজিৎ কুমার মল্লিক। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নন্দ দুলাল কুন্ডুর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএআরআই ফরিদপুরের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম আহম্মেদ, পাবনার ডাল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলতাফ হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) যুগ্ম পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন প্রমুখ।

মাঠদিবসে বাংলাদেশের তৈলবীজ ও ডালফসলের গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন ৬০ জন ডালচাষি অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, বারি ছোলা-১০ রোগপোকাসহনশীল। এর উৎপাদন খরচ কম। জমির উর্বরশক্তিও বাড়ে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১১, ২০২১ ৯:০০ অপরাহ্ন
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে সামিল হতে গবেষণা ও উদ্ভাবন আরও বৃদ্ধি করতে হবে : কৃষিমন্ত্রী
এগ্রিবিজনেস

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত হতে হলে আমাদেরকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে সামিল হতে হবে। সেজন্য, কৃষি, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সকল ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবন বৃদ্ধি করতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসম্পর্কিত বিষয় যেমন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ড্রোন, স্প্রেস টেকনোলজিসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সাথে, শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গবেষক ও বিজ্ঞানীদেরকে আরও মনোযোগী হতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) চত্বরে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়াধীন বিসিএসআইআর এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
গবেষক-বিজ্ঞানীদেরকে গবেষণাকর্মে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত উদারভাবে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছেন। ফলে গবেষণায় এখন অর্থ নিয়ে কোন সমস্যা নেই।
কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক আরও বলেন, সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আমাদের দেশে বর্তমানে বিভিন্ন রকমের বিচিত্র রঙের দেশি বিদেশি প্রচুর ফুল চাষ ও উৎপাদিত হচ্ছে। কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বন্ধ হলে ফুলের চাষ আরও বাড়বে; ফুল চাষিরা অনেক লাভবান হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম ফুলের ব্যবহারের কারণে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়- তা থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে।
সম্মেলনে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন ‘চলমান কোভিড পরিস্থিতিসহ যে কোন পরিস্থিতিতে জাতির ভাগ্য উন্নয়নে সময়োপযোগী সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা যারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছি তাদেরকেও নতুন নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে’।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। গেস্ট অব অনার হিসাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, বিশেষ অতিথি হিসাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আফম রুহুল হক এবং পৃষ্ঠপোষক হিসাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির সভাপতি ও বিসিএসআইআর’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো: আফতাব আলী শেখ ।
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ, আমেরিকা, কানাডা, জার্মানি, চীন ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাতশ’র বেশি বিজ্ঞানী, গবেষক ও প্রকৌশলীবৃন্দ সশরীরে ও ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করছেন। ‘ভবিষ্যতের প্রযুক্তি’ প্রতিপাদ্যে সম্মেলনে একইসাথে ১২টি ভেন্যুতে ১ হাজারের বেশি গবেষণাকর্ম উপস্থাপিত হবে।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১১, ২০২১ ৮:৫৭ অপরাহ্ন
খুলনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সাধ্যমত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস
কৃষি বিভাগ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “শেখ হাসিনা বিস্ময়কর রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ায় আমরা ভালো অবস্থায় আছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিদিন জাতিকে জাগ্রত করে রাখেন। বাংলাদেশের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এখন বিশ্বের বিস্ময়। তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা লাগা বাংলাদেশ, দুর্নীতিতে তিনবার ধারাবাহিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ নামে বহির্বিশ্বে পরিচিত বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল বিশ্বে পদার্পন করেছে।”

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহম্মেদ মোল্লার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া খুলনা প্রেসক্লাবের বর্তমান ও প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য প্রদান করেন।

দেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে এসময় মন্ত্রী বলেন, “দেশে আজ অন্নের অভাবে লঙ্গরখানা খুলতে হয় না। কাউকে বস্ত্রের অভাবে থাকতে হয় না। সরকার নয় লক্ষ গৃহহীন কে বাসস্থান দেয়ার পরিকল্পনা করেছে যার মধ্যে ৭০ হাজারকে বাসস্থান দেয়া হয়েছে। পৃথিবীর আর কোন দেশ গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে বিনা পয়সায় শতভাগ গৃহ দেয়ার পরিকল্পনা করতে পারেনি। সেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার করছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বই প্রদানের পাশাপাশি উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। পৃথিবীর প্রায় ১৩০টি দেশে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন পৌঁছেনি। অথচ বাংলাদেশের গ্রামেও ভ্যাকসিন পৌঁছে গেছে। আমাদের মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে এবং গড় আয়ু বেড়েছে। এভাবে আমাদের দেশটা অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। সংবিধানে উল্লিখিত নাগরিকদের প্রতিটি মৌলিক অধিকার এখন নিশ্চিত হচ্ছে।”

বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রাসঙ্গিকতায় মন্ত্রী এ সময় বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর জেলখানার গেট খুলে দিয়ে প্রায় ৩৭ হাজার যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। এদের কারো জেল হয়েছিল, কারো বিচার চলছিল। পরবর্তীতে এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আর এভাবেই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইনে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করা যাবে না এমন নিকৃষ্টতম আইন বাংলাদেশে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান করে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে দৃঢ়চেতা মানসিকতা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের, জেল হত্যার, যুদ্ধাপরাধীদের, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের বিচারসহ বড় বড় হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছেন। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ড হয়েছে। শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন যিনি দুর্নীতি করবেন তার কোনো দলীয় পরিচয় নেই। দুর্নীতি করলে কেউ ছাড় পাবে না।”

দেশকে স্থিতিশীল রাখতে ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সাংবাদিকদের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা উন্নয়নের কথা বলুন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলুন। স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পর্কে জাতিকে জাগ্রত করে তুলুন। আর যারা যেনোতেনো উপায়ে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র করে তাদের বিষয়ে মানুষকে সজাগ করে তুলুন। আমাদের মধ্যে কেউ দুর্নীতি করলেও সামনে নিয়ে আসুন।”

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, “গণমাধ্যম এখন অনেক সজাগ ও সক্রিয়। যদিও গণমাধ্যমকর্মীদের অনেক ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি আছে। বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকদের অনেক বেদনার অধ্যায় আছে। তারা সবসময় যেমন জীবনের নিরাপত্তা পান না তেমনি অনেক সময় আর্থিক সুবিধাও পান না। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের বদনামের শিকার হন। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

এসময় খুলনা প্রেসক্লাবের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে খুলনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সাধ্যমত সকল ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১১, ২০২১ ৭:২০ অপরাহ্ন
নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে কোটি টাকার সয়াবিন
কৃষি বিভাগ

মেঘনার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কিছুতেই থামছে না এ ভাঙন। প্রতিনিয়ত নদীর গর্ভে যাচ্ছে বসতি ঘরবাড়ি।চলতি মৌসুমের সয়বিনসহ নানা প্রজাতের উঠতি ফসল ও বসত বাড়ি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। টানা ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের পরিবারগুলো।

লক্ষ্মীপুর জেলাকে সয়াল্যান্ড নামে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। জেলার কমলনগর ও রামগতির বেশ কয়েকটি গ্রামের কোটি টাকার সয়াবিন নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফসলি মাঠ ভেঙে যাওয়ায় দিশেহারা এ অঞ্চলের কৃষকরা।

সরোজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি, সাহেবেরহাট, চর ফলকন, চর লরেন্স ও পাটারিরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি ভাঙছে । এদিকে রামগতি উপজেলার রামদয়াল, বালুরচর, বাংলাবাজার, চরগাজী, চর আলগী, সেবাগ্রাম, বড়খেরী, চর রমিজ ও চর আবদুল্লার কোটি টাকার সয়াবিন নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

এসব এলাকায় বাঁধ নির্মানের মাধ্যমে কৃষকের ফসল ও স্থানীয় বসতি ঘরবাড়ি রক্ষার দাবি তাদের।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ১০ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে উৎপাদিত সয়াবিনের মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলায় উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৭০ ভাগ সয়াবিন। গত বছর ৪৮ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে, উৎপাদন হয়েছে ৮৬ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় সোয়া ৩০০ কোটি টাকা।

চলতি মৌসুমে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৩ হাজার ২৩৭ হেক্টর জমিতে। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৪০ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯১৭ মেট্রিক টন। কিন্তু আবাদকৃত জমি অনুযায়ী সম্ভাব্য উৎপাদন ৭৭ হাজার ৭৩০ মেট্রিক টন।

এর আগে ২০১৭ সালে ১০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনা নদীতে সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ওই বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনসক্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা কাজটি সম্পন্ন করেছেন। নির্মাণের পর এক বছর পর্যন্ত সেনাবাহিনী বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণ করেছে। ওই তিন কিলোমিটার এলাকা এখন আর ভাঙছে না।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১০, ২০২১ ৬:৪৭ অপরাহ্ন
পোল্ট্রির ডিম, মুরগি ও বাচ্চার (১০ মার্চ) সর্বশেষ পাইকারি দাম
কৃষি বিভাগ

পোল্ট্রি পণ্য (ডিম ও মুরগীর) আজকের পাইকারী মূল্য(টাকা) নিন্মরুপ:-
তারিখ:১০/০৩/২০২১ ইং
★এখানে বর্ণিত পোল্ট্রি পণ্যের মূল্য মূলত : পোল্ট্রি খামারিদের প্রাপ্ত মূল্য।
ইউনাইটেড এগ(সেল পয়েন্ট)
লাল ডিম=৬.৮০
সাদা ডিম=৬.২০
ডাম্পিং মার্কেট=
লাল(বাদামী) ডিম=৬.০৫
সাদা ডিম=৫.৪০
গাজীপুর:-
লাল(বাদামী)ডিম=৬.০০
সাদা ডিম=৫.৪৫
ব্রয়লার মুরগী=১২৫/কেজি
কালবার্ড লাল=১৬৫/কেজি
কালবার্ড সাদা=১৩০/কেজি
সোনালী মুরগী=৩০০/কেজি
প্যারেন্টস=/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =৩৫-৩৬
লেয়ার সাদা=৪৫-৫০
ব্রয়লার=৫৫-৫৬
চট্টগ্রাম:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.০০
ব্রয়লার মুরগী=১৪০/কেজি
কালবার্ড লাল=১৭০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৭০/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =৩৫-৩৮
লেয়ার সাদা=৪০
ব্রয়লার=৫৫-৫৬
রাজশাহী:-
লাল(বাদামী) ডিম=৫.৮০
সাদা ডিম=৪.৯০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি
সোনালী =/কেজি
খুলনা:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৩০
সাদা ডিম=৬.১০
বরিশাল:-
লাল(বাদামী) ডিম=৫.৮০
ব্রয়লার মুরগী=১২০/কেজি
কালবার্ড লাল=১৭৫/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =৩৫
লেয়ার সাদা =
ব্রয়লার=৫৩-৫৫
ময়মনসিংহ:-
লাল(বাদামী) ডিম=৫.৯০
ব্রয়লার মুরগী=১২২/১২৫কেজি
সোনালী মুরগী=২৯০/কেজি
সিলেট=
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৪০
ব্রয়লার মুরগী=১৩২/কেজি
কাজী(সিলেট) :-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৬১
রংপুর:-
লাল(বাদামী) ডিম=৫.৯০
কাজী(রংপুর) :-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.০৫
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =৩৮
ব্রয়লার =৫৫
সোনালী হাইব্রিড =৩৫
সোনালী রেগুলার =৩০
বগুড়া :
লাল(বাদামী)ডিম=৬.২০
ব্রয়লার মুরগী=১২৫/কেজি
সোনালী মুরগী =২৮৫/কেজি
টাংগাইল :-
লাল(বাদামী) ডিম=৫.৯৫
ব্রয়লার মুরগী=১২০/১২২কেজি
সোনালী মুরগী =২৯০/৩০০কেজি
কিশোরগঞ্জ:-
লাল(বাদামী) ডিম=৫.৯০
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি
নরসিংদী :-
লাল(বাদামী) ডিম=৫.৯০
সিরাজগঞ্জ :-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.০০
ব্রয়লার মুরগী=১২৫/কেজি
কালবার্ড লাল=১৮০/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি
ফরিদপুর :-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.২০
কাজী(ফরিদপুর) :-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৪২
ব্রয়লার মুরগী=১২০/কেজি
লেয়ার মুরগী=১৭৫/কেজি
সোনালী মুরগী=২৬৫/কেজি
পাবনা :-
লাল(বাদামী)ডিম=৫.৮০
সাদা ডিম=৫.৬০
নোয়াখালী:-
লাল(বাদামী)ডিম=৬.০০
ব্রয়লার মুরগী=১৪০/কেজি
কালবার্ড লাল=১৮০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৮৫/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =৪৫
লেয়ার সাদা =
ব্রয়লার=৫৬
পিরোজপুর (স্বরুপকাঠী:-
লাল(বাদামী) ডিম=৫.৮০
সাদা ডিম=৫.৬০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি
যশোর :-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৫০
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি
সোনালী মুরগী =/কেজি
কুমিল্লা:-
লাল (বাদামী) ডিম=৬.০০
ব্রয়লার মুরগী=১৩৫/ কেজি
কালবার্ড লাল=১৭০/কেজি
সোনালী মুরগী =২৯০/কেজি
কক্সবাজার :-
লাল (বাদামী) ডিম=৫.৭০
সাদা ডিম=৫.৫০
একটি যৌথ উদ্যোগ: বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ (বি.পি.কে.আর.জে.পি) এবং পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশ(পিপিবি)।
ধন্যবাদান্তে
মো:শিমুল হক রানা
যোগাযোগ:০১৮৫৫৯৪৪২৭০
শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১০, ২০২১ ৩:৪১ অপরাহ্ন
ভুট্টাক্ষেতে পানি দিতে গিয়ে প্রাণ গেল কৃষকের
কৃষি বিভাগ

নীলফামারীর জলঢাকায় ভুট্টাক্ষেতে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মশিউর রহমান নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার উত্তর দেশিবাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত কৃষক মশিউর রহমান ওই এলাকার ছমে উল্লাহর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মশিউর রহমান ভুট্টাক্ষেতে পানি দেয়া শেষে মোটরের লাইন বন্ধ করতে যান। এ সময় তারের সঙ্গে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১০, ২০২১ ১২:০৩ অপরাহ্ন
পেঁপে চাষ করে সুদিন ফিরছে চাষিদের
কৃষি বিভাগ

মাগুরায় দিন দিন পেঁপে চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।ইতিমধ্যে মাগুরায় পেঁপে চাষ করে এলাকার অনেক কৃষকেরই ভ্যাগের বদল হয়েছে। বাড়ির আঙ্গিনাসহ এর আশপাশের পতিত জমিতেও পেঁপে চাষ করছেন কেউ কেউ।

বাজারে পাকা ও কাঁচা পেঁপের চাহিদা থাকায় সারা বছরই এটি সবজি ও ফল হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। অল্প খরচে অধিক লাভ হয় বলেও এ সবজি চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন চাষিরা।

বাড়ির পাশের যেসব জমি আগে পরিত্যাক্ত ছিল সেসব জমিতে পেঁপে চাষ করাসহ ফসলি জমিতেও চাষ করে কৃষকরা অন্য ফসলের থেকে বেশি লাভবান হওয়ায় অনেকের সংসারে স্বচ্ছলতার মুখ দেখছেন। স্থানীয় চাষিদের এই অভূতপূর্ব সাফল্য দেখে বেকার যুবকরা ঝুঁকছেন পেঁপে চাষে।

সদর উপজেলার বেল নগরের পেঁপে চাষি আরজু বলেন- মাগুরার উৎপাদিত পেঁপে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা পেঁপে চাষ করছে বর্তমানে কিছু কিছু এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পেঁপে চাষ করা হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া আর পেঁপে চাষের উপযোগী মাটির জন্য জেলার কৃষকরা পেঁপে চাষে ঝুঁকছেন। এছাড়া এলাকার কৃষকদের দেখাদেখি অনেক স্থানীয় যুবকরা পেঁপে চাষে অগ্রহ দেখাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক  বলেন, পেঁপে গাছের বিভিন্ন রোগ যেমন-গাছের গোড়া পঁচা, পোকাবাহিত বিভিন্ন রোগ, ক্ষতিকারক ভাইরাস থেকে গাছকে মুক্ত রাখতে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পেঁপে গাছের খাদ্যের অভাব মেটাতে বোরোন নামক অনুখাদ্য প্রয়োগ করতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া পেঁপের পরাগায়নসহ ভালো ফলন পাওয়ার জন্য কৃষকদের বিঘাপ্রতি ২টি পুরুষ গাছ রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও কৃষকের মধ্যে প্রয়োজনীয় ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে বলেও জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।

সুত্রঃজাগো নিউজ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৯, ২০২১ ৮:০১ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন
কৃষি বিভাগ

কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২১’ এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগে মন্ত্রিসভা থেকে প্রাথমিকভাবে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে  অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তারপর ভেটিং শেষে আবার নিয়ে আসা হয়েছে এবং আজকে যার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান,  অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগুলোকে অনুসরণ করে নতুন এ আইন করা হচ্ছে। নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলে দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হবে ৪৬টি, আর বর্তমানে ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চালু আছে।

কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য গত বছরের ২১ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত আইনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। খসড়া আইনটি আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলো।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও ফার্মিংয়ের মাধ্যমে যে টেকনোলজি ডেভেলপ হবে তা কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাটে বিস্তৃত হলে ওই লোকজন ফার্মিংয়ের মাধ্যমে ভুট্টা, শাক-সব্জি, মিষ্টি আলু ও মিষ্টি কুমড়া, মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে তাদের অবস্থার আরও উন্নত করতে পারবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৯, ২০২১ ১০:২০ পূর্বাহ্ন
২৫টি হাঁস দিয়ে শুরু, এখন মাসে মুনাফা অর্ধলক্ষাধিক টাকা
কৃষি বিভাগ

আগের মতো কঠোর পরিশ্রম করতে পারছিলেন না। ছেলের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তিন মেয়ের বিয়ে দিতে জমি বন্ধক রাখতে হয়েছিল, করতে হয়েছিল ধারদেনা। এখন সেসব অতীত। নিজের চেষ্টায় ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি, পেয়েছেন অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। হয়েছেন সফল উদ্যোক্তা ও খামারি।

এই গল্পের যিনি নায়ক, তাঁর নাম সিরাজুল ইসলাম। বয়স ৭০ বছর ছুঁইছুঁই। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কশবা গ্রামে তাঁর বাড়ি। রোববার বেলা ১১টার দিকে গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছেউটিয়া নদীর পাশে বসে কথা হচ্ছিল তাঁর সফলতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নিয়ে।

দুই বছর আগে মাত্র ২৫টি পাতিহাঁস লালন-পালন শুরু করেন সিরাজুল ইসলাম। তা থেকে এখন ৭০০ হাঁসের খামারে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৩০০টি হাঁস ডিম পাড়ে। এসব ডিম পাইকারি দরে প্রতিটি ৭ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি করে নগদ টাকা পাচ্ছেন তিনি। দুই কর্মচারীর বেতন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে তাঁর মাসিক মুনাফা এখন অর্ধলক্ষাধিক টাকা।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রথমে ২৫টি হাঁসের দল নিয়ে পাশের ছেউটিয়া নদীতে ছেড়ে দিয়ে আসেন। সারা দিন হাঁসগুলো নদীর শামুকসহ বিভিন্ন খাবার খেয়ে কাটিয়ে দেয়। দিনে দিনে হাঁসের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিছুদিন যাওয়ার পর নদীর দুই পাশে নেট জাল দিয়ে হাঁসগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে আটকানোর ব্যবস্থা করেন। সন্ধ্যা হলেই হাঁসগুলো তুলে এনে খামারে ঢোকানো হয়। একসঙ্গে ২৫০ থেকে ৩০০টি ডিম দিতে থাকে। এসব ডিম অনেকে বাড়ি থেকে নগদ টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে যান।

রোববার সিরাজুলের খামারে গিয়ে দেখা যায়, ছেউটিয়ার বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে ভেসে বেড়াচ্ছে হাঁসের দল। হাঁস দেখাশোনার জন্য আছেন দুই কর্মচারী। পানিতে ডিঙি ভাসিয়ে হাঁসের দলগুলোর নজরদারি করছেন তাঁরা।

ডিম দেওয়ার পর থেকেই লাভের টাকা দিয়ে খামারে নতুন হাঁস কেনা হয় বলে জানালেন খামারি সিরাজুল। বলেন, কিছু ডিম রাখা হয় বাচ্চা ফোটানোর জন্য। এতে হাঁসের সংখ্যার পাশাপাশি আয়ও বাড়তে থাকে। বর্তমানে ৭০০ হাঁস আছে খামারে। গত শীতে হাঁসের ডিমের চাহিদা ও দামও বেশি ছিল। বর্তমানে কর্মচারীসহ সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা লাভ হয়।

দুই কর্মচারী সন্ধ্যায় খামারে হাঁস নিয়ে ফেরার পর রাতে সিরাজুল নিজেই দেখাশোনা করেন। রোগবালাইয়ের হাত থেকে বাঁচাতে প্রতিষেধক ওষুধ মেশানো খাবার নিজেই তৈরি করেন। কোথাও থেকে প্রশিক্ষণ না নিলেও এই কাজগুলো শিখেছেন অন্যদের দেখাদেখি। সিরাজুল বলেন, ‘দিনের বেশির ভাগ সময় হাঁসের সঙ্গে কাটানোয় পরিবারের মতো হয়ে গেছে। এখন তাদের গতি-প্রকৃতি দেখেই বুঝতে পারি কখন কী করতে হবে।’

খামারের ডিম বিক্রি করে অর্জিত মুনাফা দিয়ে সিরাজুল ইসলামের বাড়ির চেহারাও পরিবর্তন হয়েছে। ভিটেমাটিতে তিনি একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ছেলের পড়াশোনা ও থাকা–খাওয়া বাবদ মাসিক টাকা মাস শেষ হওয়ার আগেই পাঠাতে পারেন। তিন মেয়ের জামাইদের ভালো করে দেখাশোনাও করতে পারেন। চার বিঘা কৃষিজমি বন্দক নিয়ে ইজারা দিয়েছেন। সড়কের পাশে একটি গুদামসহ জায়গা কেনার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

গ্রামের বাসিন্দা হজরত আলী বলেন, মানুষের ইচ্ছাশক্তি মানুষকে অনেক দূরে নিয়ে যেতে পারে। এর উজ্জ্বল নিদর্শন সিরাজুল ইসলাম। বৃদ্ধ বয়সেও তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। দেশের প্রতিটি মানুষের এই ধরনের উদ্যম ও ইচ্ছাশক্তি থাকা দরকার।

কশবা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম স্বনির্ভরশীল একজন উদ্যমী মানুষ বলে জানান ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান। বলেন, বয়স কোনো বাধা হতে পারেনি। তাঁর এই দৃষ্টান্ত সমাজের সবার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সক্ষম হবে।

সুত্রঃ প্রথম আলো
শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৯, ২০২১ ১০:০৩ পূর্বাহ্ন
রাণীশংকৈলের আলু রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে
এগ্রিবিজনেস

আলু বিশ্বের অন্যতম প্রধান ফসল। উৎপাদনের দিক থেকে ধান,গম ও ভুট্টার পরেই চতুর্থ স্থানে রয়েছে আলু। বাংলাদেশে আলু একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। দেশের প্রায় সর্বত্রই এর আবাদ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে জেলার রাণীশংকৈলে অনুকূল আবহাওয়া হওয়ায় আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৮৬০ হেক্টর। লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে  অর্জন হয়েছে ৩৯৫০ হেক্টর। আলু আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান গুলো কৃষকদের কাছ থেকে মাঝারি ধরনের ‘ডায়ামন্ট, গ্রানোলা, এসটোরিক’ জাতের আলু ১০ টাকা কেজি দরে কিনে দেশের বাইরে রপ্তানি করছে। যার ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে আলু চাষিরা। এ মৌসুমে আবাদকৃত আলু উপজেলার চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরে রপ্তানির ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন আলু চাষিরা। এবার কৃষকের উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ৫০০টনের অধিক আলু যাচ্ছে মালয়েশিয়া, চীন, নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

ধর্মগড় ইউনিয়নের আলু চাষী সুলতান জানান, তিনি এবার এক একর জমিতে উন্নত জাতের আলু চাষ করেন। কৃষি অফিসের পরামর্শে ভাল ফলন পেয়ে দেশের বাইরে আলু রপ্তানি করে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছেন।

একইভাবে আলু চাষি অলিউর রহমান বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে উন্নত জাতের আলু আড়াই একরের মত চাষ করে ভাল ফলন পেয়েছি। উৎপাদিত আলু ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেও লাভের মুখ দেখব বলে আশা করছি। আমার ক্ষেতের আলু যাচ্ছে দেশের বাইরে এ ভেবে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ জানান, আমরা প্রতিনিয়ত সবধরনের ফসল ফলনে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রযুক্তি প্রদান করে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

কৃষকরা ফসলে ভাল ফলাফল পান সে বিষয়ে  সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে আলু চাষীরা তাদের আলু বিদেশে রপ্তানির ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে ফুলকপি, মুলা, টমেটো সহ অন্যান্য  কৃষি পণ্য দেশের বাইরে রপ্তানি হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop