৫:২৭ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ১৬, ২০২১ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ১২ জাতের আলু আবাদ
কৃষি বিভাগ

এ মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলনে খুশি কুমিল্লার আলু চাষিরা। প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ১২ জাতের আলুর আবাদ করে চাষিরা। উন্নত জাতের আলু আবাদ করে প্রতিবিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ মণ আলু বেশি ফলন পেয়েছেন তারা।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবারের মৌসুমে প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন আলু অতিরিক্ত উৎপাদন হওয়ায় কুমিল্লার ১৬ উপজেলায় আলু চাষিদের আনন্দের মাত্রাটাও অনেক বেশি দেখা দিয়েছে তাদের চোখেমুখে। চলতি মৌসুমে আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় কুমিল্লার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তারাও অনেক খুশি।

এখনো মাটির নিচে লাখ লাখ টন আলু। ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন আলু তোলা হয়েছে। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে শুরু হবে কুমিল্লার ১৬ উপজেলায় আলু তোলার মহোৎসব। এবারের মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন ধরা দিয়েছে জমিতে।

সমগ্র জেলায় চলতি মৌসুমে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ৯৩৪ হেক্টর জমিতে। আর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬৬ হেক্টর বেশি। হেক্টর প্রতি উৎপাদন ২৫ টনেরও বেশী। সেই হিসেবে চলতি মৌসুমে ৪ লক্ষাধিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে আগাম জাতের নতুন আলু পাওয়া যাচ্ছে।

চলতি মৌসুমে কুমিল্লার ১৬ উপজেলার মধ্যে দাউদকান্দি, চান্দিনা, দেবিদ্বার, আদর্শ সদর, বুড়িচং, হোমনা, মেঘনা, তিতাস, মুরাদনগর, সদর দক্ষিণ, বরুড়ায় এবারে আলুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। তবে ফলনের দিক থেকে দাউদকান্দি এগিয়ে রয়েছে। এ উপজেলায় ৫ হাজার ৯২১ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। ফলনের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চান্দিনা উপজেলা। এ উপজেলায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে।

দাউদকান্দি, চান্দিনা, বুড়িচং, মুরাদনগর, আদর্শ সদর ও দেবিদ্বারের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে আলু চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের আলু মৌসুমে চাষিরা ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, গ্র্যানোলা, মালটা, হীরা, অরিগো, কোস্টারিকা, পেট্রোনিজ, বেলেনী, এস্টারিক্স, সাগিতা ও রোজগোল্ড জাতের আলুর আবাদ করেছে। তবে হোয়াইট ডায়মন্ড ও কার্ডিনাল জাতের আলুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। এছাড়াও অনেকে অন্যান্য জাতের আলুও আবাদ করেছে।

আলু চাষিরা জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি উপকরণ সুলভমূল্যে পাওয়ায় এবার ফলন ভালো হয়েছে এবং ন্যায্যমূল্য পেলে ভালো লাভ করা যাবে। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে চলায় শীত ও ঘনকুয়াশায়ও আলু ক্ষেতের কোনরকম ক্ষতি হয়নি। জমিতে সঠিক মাত্রার সুষম সার প্রয়োগ করায় এবারে ফলন বেশি হয়েছে। এখন মৌসুমী আলু ক্ষেতে পরিচর্যা চলছে। আগামী এক দেড় সপ্তাহের মধ্যে আলু উঠানোর কাজ শুরু হবে। এজন্য কৃষকরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

প্রসঙ্গত, বিগত বছরের চেয়ে এবারে আলুর আবাদ অনেক ভালো। বাম্পার ফলনে তাদের খুশির সীমাও ছাড়িয়ে গেছে। তাই আলু চাষে তাদের আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে। এবারের মৌসুমী আলু বাজারে উঠলে চাহিদা থাকবে ব্যাপক আর দামের দিক থেকেও বেশ সাড়া মিলবে বলে চাষিরা প্রত্যাশা করছেন।

কৃষি সম্প্রারণ অধিদফতর কুমিল্লার উপ-পরিচালক সুরজিত চন্দ্র দত্ত বলেন, কুমিল্লার সবক’টি উপজেলার মাটি আলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এবারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে। ক্ষেতে আলু ভালো রাখতে প্রতিষেধক হিসেবে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করে সুফল পেয়েছেন আলু চাষিরা। আমাদের কর্মকর্তাসহ মাঠকর্মীরা সার, কীটনাশক প্রয়োগের ব্যাপারে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। যা এবারের বাম্পার ফলনেই এ চিত্র ফুটে উঠেছে। আমরা কেবল আলু নয়, সব ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদনে কৃষকরা যাতে তাদের প্রয়োজন মতে সহযোগিতা, পরামর্শ পেতে পারে এজন্য জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কৃষি অফিসগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে চলেছে। বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৫, ২০২১ ১০:১৭ অপরাহ্ন
‘২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে কোনো কৃষি জমি থাকবে না’
কৃষি বিভাগ

পরিবেশ অধিদফতর এর মহাপরিচালক একেএম রফিক আহম্মেদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন বর্তমান হারে ভূমি অবক্ষয় চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে কোনো কৃষি জমি থাকবে না।

রবিবার (১৪ মার্চ) পারিবেশ অধিদপ্তরের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “প্রতি বছর বাংলাদেশে এক শতাংশ হারে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে কোন কৃষি জমি থাকবে না।”

মহাপরিচালক আরও বলেন, “২০০১ সালে ন্যাশনাল ল্যান্ড ইউস পলিসির ড্রাফট হয়েছিলো। এর কোনো ব্যবহার দেখছি না। ভূমি ব্যবহার পলিসি আপডেট করা প্রয়োজন। এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে, দারিদ্র দূর করতে হলে ভূমির বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে। ভূমিকে অবক্ষয়ের হাত থেকে বাচাতে হবে।”

“বিশ্বব্যাপী ইতিমধ্যে ২৫ শতাংশ ভূমি অবক্ষয় ঘটেছে। প্রতিবছর ২৪ বিলিয়ন টন উর্বর ভূমি নষ্ট হচ্ছে। ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর অর্ধেক ভূমির অবক্ষয় ঘটবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ” বাংলাদেশ রিও কনভেনশনে স্বাক্ষর করে বিশ্ববাসীর সাথে মরুময়তা, ভূমির অবক্ষয় ও খরা মোকাবেলা, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বদ্ধপরিকর। মাটির পুষ্টি উপাদান হ্রাস, মাটিতে জৈব পদার্থের ঘাটতি, মাটির অম্লতা বৃদ্ধি, ভূমিক্ষয়, নদী ভাঙ্গন, জলাবদ্ধতা, উপকূলীয় এলাকায় লবনাক্ততা বৃদ্ধি বাংলাদেশে ভূমি অবক্ষয়ের প্রধান প্রক্রিয়া বলে বিবেচিত।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের অনেক টেকসই ভূমি ব্যবহার প্রযুক্তি আছে যার মাধ্যমে আমরা ভূমি অবক্ষয় শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে পারবো। এছাড়া অবক্ষয় রোধে ভূমিতে বিনিয়োগ হলে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এদেশের মানুষকে টিকে থাকার লড়াইয়ের সুযোগ করে দিবে যা পক্ষান্তরে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যত উন্নয়নও টেকসই হবে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৫, ২০২১ ৫:৪৯ অপরাহ্ন
দেশে গম চাষ ও উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে : কৃষিমন্ত্রী
কৃষি গবেষনা

ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী উচ্চফলনশীল গমের জাতের মাঠ পরিদর্শন ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী উচ্চফলনশীল গমের নতুন জাতের মাধ্যমে দেশে গম চাষ ও উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। তিনি বলেন, দেশে দিন দিন গমের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের আবহাওয়া গম চাষের জন্য খুব উপযোগী না হওয়ায় চাহিদার পুরোটা দেশে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। দেশে আগে গমের অনেকগুলো জাত জনপ্রিয় হয়েছিল কিন্তু সেগুলো সহজেই ব্লাস্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতো। নতুন উদ্ভাবিত জাত যেমন বারি গম -৩৩সহ আরও কয়েকটি জাত ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী। এই উচ্চফলনশীল জাতগুলোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই দিনাজপুরে জাতগুলোর উন্নত বীজ উৎপাদন করে সারাদেশে চাষে ব্যবহৃত হবে। এর ফলে দেশের বিরাট এলাকা গম চাষের আওতায় আসবে ও উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

কৃষিমন্ত্রী সোমবার দিনাজপুরের নশিপুরে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে গম ও ভুট্টার চলমান গবেষণা মাঠ পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন।
এসময় হুইপ ইকবালুর রহিম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ এছরাইল হোসেন, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, ব্রির মহাপরিচালক ড. মো: শাহজাহান কবীর, বারির মহাপরিচালক নাজিরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র-সিমিটের বাংলাদেশ প্রতিনিধি টিমোথি জে. ক্রুপনিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সূত্রে জানা যায়, ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী গমের মধ্যে বারি গম-৩৩, ডাব্লিউএমআরআই গম- ২ ও ডাব্লিউএমআরআই গম -৩ উল্লেখযোগ্য। বারি গম-৩৩ এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী, পাতার মরিচা ও পাতা ঝলসানো রোগপ্রতিরোধী। তাপ সহিষ্ণু। কাণ্ড শক্ত, সহজে হেলে পড়ে না। জীবনকাল ১১০-১১৫দিন। গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৪.৬-৫ টন। দানা বড়, সাদা, চকচকে। জিংক সমৃদ্ধ (৫০-৫৫ পিপিএম)। ব্লাস্টপ্রবণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চাষের জন্য বেশি উপযোগী। ২০১৭ সালে অবমুক্ত।
ডাব্লিউএমআরআই গম- ২ এর বৈশিষ্ট্য হলো ব্লাস্ট সহনশীল,পাতা ঝলসানো ও পাতার মরিচা রোগপ্রতিরোধী। তাপ সহিষ্ণু,আগাম। স্বল্প মেয়াদি জীবনকাল ১০৬-১১২ দিন। ফলন হেক্টর প্রতি ৪.৫-৫.৫ টন।ডাব্লিউএমআরআই গম- ২ এর বৈশিষ্ট্য হলো ব্লাস্ট প্রতিরোধী,পাতা ঝলসানো ও পাতার মরিচা রোগ প্রতিরোধী। তাপ সহিষ্ণু। জীবনকাল ১০৮-১১৪ দিন। খাটো জাতের ৯৬-১০৬ সেমি উচ্চতা। ফলন হেক্টর প্রতি ৪.০-৪.৫ টন।
উল্লেখ্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশে প্রথম ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। ব্লাস্টে আক্রান্ত ফসলের উৎপাদন শতকরা ২৫-৩০ ভাগ হ্রাস পায়।
ভুট্টার ফল আর্মিওয়ার্ম পোকার আক্রমণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সিমিট ও দেশের বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় এটি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে। এটি নিয়ে তীব্র কোন সমস্যা নেই।
কৃষিমন্ত্রী সরেজমিনে গবেষণা মাঠ পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু কর্ণার’ উদ্বোধন করেন। পরে দুপুরে মন্ত্রী ইনস্টিটিউট চত্বরে চার দিনব্যাপী ‘কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলা-২০২১’ এর উদ্বোধন করেন এবং কর্মশালায় কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। মন্ত্রী এসময় জলবায়ু পরিবর্তনসহ ভবিষ্যতের চ্যালেন্জ মোকাবেলায় গম ও ভুট্টার নতুন নতুন জাত ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সেগুলো কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ এছরাইল হোসেন কর্মশালায় গম ও ভুট্টার উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়নের সার্বিক চিত্রের ওপর মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, এই ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত ৩৬ টি উচ্চ ফলনশীল গমের জাত উদ্ভাবন করেছে। এগুলোর মধ্যে গমের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী ও জিঙ্কসমৃদ্ধ জাত বারি গম ৩৩ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইনস্টিটিউট কর্তৃক ২০১৯ সালে ডাব্লিউএমআরআই গম-১ এবং অতি সম্প্রতি ডাব্লিউএমআরআই গম-২ (ব্লাস্ট রোগসহনশীল) ও ডাব্লিউএমআরআই গম-৩ (ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী) জাত অবমুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত ভুট্টার ১৯ টি হাইব্রিড জাত ও ৭টি ওপেন পলিনেটেড কম্পোজিট জাত উদ্ভাবিত হয়েছে।
বিশেষ অথিতির বক্তব্যে হুইপ ইকবালুর রহিম, এমপি বলেন, দিনাজপুরে সব ধরণের ফসলের চাষের সম্ভাবনা প্রচুর। এ অঞ্চলে গম, ভুট্টাসহ শাক-সবজি ও ফল প্রক্রিয়াকরণের জন্য দ্রুত কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা প্রয়োজন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৫, ২০২১ ৫:৪৭ অপরাহ্ন
কৃষি নির্ভরশীল একটি দেশের নাম বাংলাদেশ: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষি উন্নয়নের মাঝেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিহিত রয়েছে। অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি কৃষি। আর কৃষি নির্ভরশীল একটি দেশের নাম বাংলাদেশ। তাই এই খাতকে লাভজনক করতে কাজ করছি। কৃষিকে আধুনিকায়ন করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

রোববার বিকেল চারটায় বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু ‘বাংলাদেশে কৃষিবিপ্লব শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি এসব কথা বলেন।

ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের সহযোগিতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও শস্যেচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় বাস্তবায়ন পরিষদ এই সেমিনারের আয়োজন করেন। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আসাদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন কৃষকের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাই কৃষি ও কৃষকের বঙ্গবন্ধুকে শস্যেচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে উদ্দেশ্যে করে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এজন্যই প্রতিবেশি বন্ধু রাস্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ধর্মকে ব্যবহার করে ভারত বিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে । ইতিহাসেরও বিকৃতি ঘটাচ্ছে।

উক্ত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম, কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য লুৎফুল হাসান, জাতীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যা ড. অমিতাভ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক হামিদুর রহমান, শস্যেচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের সদস্য সচিব কেএম মোস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়া অন্যদের মধ্যে বগুড়ার জেলা প্রশাসক জিয়াউর হক, জেলার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞ্রা, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সফিক, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

আরো পড়ুনঃ কৃষি গবেষণায় উদারভাবে অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৫, ২০২১ ৪:১৭ অপরাহ্ন
এসিআই দীপ্ত কৃষি অ্যাওয়ার্ড ফর্ম বিতরন পর্ব শুরু
কৃষি গবেষনা

কৃষি নির্ভর এই দেশের কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করে যাওয়া দীপ্ত টেলিভিশন এবার হাতে নিয়েছে আরেকটি বিশাল উদ্যোগ। কৃষির অগ্রযাত্রায় সামনে থেকে এগিয়ে নেয়া মানুষগুলোর কাজের স্বীকৃতি হিসাবে দীপ্ত টেলিভিশনের ‘‌দীপ্ত কৃষি‘‌ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে প্রদান করা হবে “এসিআই দীপ্ত কৃষি অ্যাওয়ার্ড ২০২০”।

এখন থেকে প্রতি বছর এই পুরস্কারটি দেয়া হবে মাঠ পর্যায়ে তিলতিল করে সফল হয়ে ওঠা কৃষক, খামারি, সৃজনশীল উদ্ভাবক, মেধাবী গবেষক এবং সফল কৃষি উদ্যোক্তাদের।

বাংলাদেশের সকল কৃষক, খামার, উদ্ভাবক, কৃষি বিজ্ঞাণী, গবেষক ও নতুন উদ্যোক্তা দীপ্ত কৃষি আ্যওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ইমেইল বা ডাকযোগে মনোনায়ন পত্র দাখিল করতে পারবেন বা ছবি তুলে দীপ্ত টিভির ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রতিটি মনোনায়ন ফরমে অবশ্যই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর থাকতে হবে।

আবেদনকারীরা অনলাইনেও ফরম পূরণ করতে এখানে ক্লিক করুন: এসিআই দীপ্ত কৃষি অ্যাওয়ার্ড ফর্ম

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৫, ২০২১ ১২:৫৬ অপরাহ্ন
খাগড়াছড়িতে রাবার চাষিদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ
কৃষি বিভাগ

তিন পার্বত্য জেলার রাবার প্রকল্পে সুবিধাভোগী চাষিদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (১৪ মার্চ) সকালে খাগড়াছড়ির পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে কার্যালয়ে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য-পরিকল্পনা (উপ-সচিব) ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশরী মুজিবুল আলম, রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জ্যোতিষ বসু ত্রিপুরাসহ বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে চাষিদের মধ্যে রাবার চাষের জন্য সিলভামিক্স-৪০ নামক ট্যাবলেট সার বিতরণ করা হয়। তিন পার্বত্য জেলায় ১হাজার ৬শ জন কৃষকের মধ্যে ৬হাজার পিস করে মোট ১০ লাখ সিলভামিক্স-৪০ ট্যাবলেট বিতরণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

৮০ দশকের পর থেকে পাহাড়ে রাবার চাষ শুরু হয়। বর্তমানে তিন পার্বত্য জেলায় মোট ১৩ হাজার ২শ একর জায়গা জুড়ে রাবার চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়িতে ১০ হাজার একর, রাঙ্গামাটিতে এক হাজার ২শ একর এবং বান্দরবানে দুই হাজার একর জায়গায় মোট তিন হাজার ৩শ পরিবার রাবার চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৪, ২০২১ ১২:৪২ অপরাহ্ন
মাচা পদ্ধতিতে টমেটো চাষে লাভবান হচ্ছেন পাবনার কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন পাবনার কৃষকরা। এতে সবজি নষ্ট না হওয়ায় বাড়ছে উৎপাদনও। মাচায় বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে কৃষকরা আগের চেয়ে এখন বেশি লাভবান হচ্ছেন। ফলে মাচা পদ্ধতিতে পটোল, টমেটো, লাউ, শিম, মিষ্টিকুমড়া, করলা, ধুন্দল, চালকুমড়া, ঝিঙা, চিচিঙা, শসা, বরবটিসহ লতাজাতীয় অন্যান্য সবজি চাষ বাড়ছে। লাভবানও হচ্ছে চাষি।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাটমোহর উপজেলায় ১ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২০০ হেক্টর জমিতে শিম, ২৫০ হেক্টর জমিতে বেগুন, ১৯৫ হেক্টর জমিতে মুলা, ১৬০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি, ১৪৫ হেক্টর জমিতে লাউ, ১১৫ হেক্টর জমিতে পালংশাক, ৯০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপিসহ অন্যান্য সবজির আবাদ হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা এএ মাসুম বিল্লাহ জানান, কৃষকরা এখন সচেতন হয়েছেন। অনেক কৃষক টমেটোসহ লতানো সবজি মাচায় চাষ শুরু করেছেন। মাচায় সবজি চাষে প্রাথমিক খরচ বেশি হলেও এটি লাভজনক। পটোল, টমেটো, লাউ, শিম, মিষ্টিকুমড়া, করলা, ধুন্দলসহ লতানো সবজি মাচায় চাষ করা যায়। এজন্য উঁচু জমি বেছে নেয়া ভালো।

উঁচু করে মাচা তৈরি করলে মাচার সবজি মাটির সংস্পর্শে আসে না। ফলে পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ কম হয়। টমেটো ও মিষ্টিকুমড়া জাতীয় ফসল মাটির সংস্পর্শে থাকলে পচনের ভয় থাকে। মাচায় সবজি চাষের অন্য সুবিধাগুলো হলো, সবজিতে ভিটামিন বা সীমিত আকারে কীটনাশক প্রয়োগের সময় তা নষ্ট হয় না। গাছের গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করা সহজ হয়। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এ পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি পাওয়া যায় বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৪, ২০২১ ৮:১০ পূর্বাহ্ন
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ‍উন্নত দেশে রুপান্তরিত হবে: কৃষি সচিব
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে কীভাবে এটি একটি উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি সচিব মেসবাহুল ইসলাম।

গতকাল শনিবার (১৩ মার্চ) গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ের উদ্যোগে মালিবাড়ী ইউনিয়নের কাবিলের বাজারের হাজিপাড়ায় ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ বিতরণ প্রকল্প’ এর আওতায় গম প্রর্দশনীর মাঠ দিবস ও রংপুর বিভাগের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) কৃষি সচিব মেসবাহুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

কৃষকরা কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকারের ফসল উৎপাদন করে এবং ফসলের বিরুদ্ধে কাঙ্খিত সুফল পাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষিক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ পর্যায়ে রাসায়নিক সার, কীটনাশক এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের জন্য কৃষিক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন ঘটেছে। যা কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সরবরাহের পাশাপাশি পাশে ছিল সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কৃষকদের কৃষি ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে তুলতে এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।

কৃষি সচিব আরো বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবিত এবং কৃষক মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্বারা প্রসারিত আধুনিক কৃষি পদ্ধতি প্রয়োগের জন্য বর্তমান সরকারের আমলে একটি ফসলি জমি দু’টি এক এবং দু’টি ফসলের জমি তিনটি ফসলে পরিণত হয়েছে। এ অঞ্চলে আমন ও বোরো ধানের উচ্চমূল্যের ফসলের উৎপাদনই বৃদ্ধি পায়নি বরং বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছিল, ফলস্বরূপ, দেশ খাদ্য সুরক্ষা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে কীভাবে এটি একটি উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে।

তিনি জাতির জনক ও স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নে দেখে ‘সোনার বাংলা’ গড়তে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিউল আলম, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান।

এরআগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জেলার ৩১৮০ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছিল, এরমধ্যে ১ ১৭০০ হেক্টর জমি গমের আওতায় আনা হয়েছে। চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় কৃষিকাজ। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক কৃষক, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত ব্যক্তি ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। শেষে কৃষক পর্যায়ের উন্নতমানের ডাল, তেল, ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিভাগ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় এসএমইভূক্ত কৃষকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ঢাকা খামারবাড়ীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ, প্রাক্তন মহাপরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সদস্য বিশেষজ্ঞ পুল, এপিএ কৃষি মন্ত্রণালয় হামিদুর রহমান ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার আবদুল ওয়াহেদ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৩, ২০২১ ১০:৪৯ অপরাহ্ন
হলুদ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন পাহাড়ের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

হলুদ চাষ লাভজনক হওয়াতে পাহাড়ের অনেক চাষিরা ঝুঁকছেন হলুদ চাষের প্রতি। প্রতিবছর পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণ হলুদ হয়ে থাকে। আর সারাদেশের চাহিদাও মিটান তারা। তবে এবার হলুদের ভাম্পার ফলন হলেও চাষিরা পাচ্ছেন না হলুদের ন্যায্য মূল্য। যার কারণে হলুদ চাষ থেকে আগ্রহ হারাচ্ছেন পাহাড়ের চাষিরা।

জানা যায়, পাহাড়ের পতিত টিলাভূমিতে উৎপাদিত হলুদের খ্যাতি দেশজুড়ে। পাহাড়ে কৃষিপণ্যের তালিকায় সবার শীর্ষে ‘হলুদ’। এসব কারণেই হলুদ সংগ্রহে ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা থেকে পাইকাররা ভিড় করেন খাগড়াছড়ির বিভিন্ন হাট-বাজারে।

অনুকূল আবহাওয়ায় চলতি বছরেও পাহাড়ে হলুদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। হলুদ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও ন্যায্য মূল্য নেই। বিগত বছরগুলোয় প্রতিমণ হলুদ ৮-৯ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও চলতি মৌসুমে দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪-সাড়ে ৪ হাজারে। ফলে দাম না পেয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা।

সম্প্রতি খাগড়াছড়ির গুইমারার বড়পিলাক, সিন্ধুকছড়ি ও হাফছড়ি ঘুরে প্রান্তিক চাষি এবং খাগড়াছড়ির সবচেয়ে বড় হলুদের বাজার গুইমারায় আসা খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

বড়পিলাকের হলুদ চাষি মো. শাহিদুল ইসলাম জানান, ‘হলুদ চাষে আগের মতো লাভ নেই। চলতি বছর হলুদের ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচের সাথে বাজার দরের বিস্তর ফারাক। পাহাড়ের হলুদের চাহিদা থাকলেও বিশেষ সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত চাষিরা।’

হলুদ ব্যবসায়ী ইয়াকুব মিয়া জানান, বাড়তি পরিবহন খরচ ও হলুদের দাম কমে যাওয়ায় আগের মতো লাভ নেই। আগের চেয়ে আয় কমেছে কয়েকগুণ। বিদেশি হলুদের কারণে দেশি হলুদের দাম কমে গেছে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মর্তুজা আলী বলেন, ‘পাহাড়ি টিলাগুলো হলুদ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। দেশের বাজারে স্থানীয় হলুদকে গুরুত্ব দিয়ে হলুদের আমদানি কমানো হলে স্থানীয় কৃষকরা হলুদের ন্যায্য দাম পাবে। পাশাপাশি হলুদ চাষে আগ্রহী হবে।’ ফলে দেশব্যাপী পাহাড়ের হলুদের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে বিদেশি হলুদের আমদানি বন্ধ করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৩, ২০২১ ২:০৬ অপরাহ্ন
ক্যাপসিক্যাম চাষে সফল পাবনার কৃষক নজরুল
কৃষি বিভাগ

বিদেশি সবজি ক্যাপসিক্যামের বাণিজ্যিক আবাদে সাফল্য পেয়েছেন পাবনার চাষিরা। বাজারে চাহিদা থাকায় মিলছে ভালো দামও। তাই জেলায় দিন দিন বাড়ছে ক্যাপসিক্যামের আবাদ।

জানা যায়, পাবনার সদর উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম উচ্চশিক্ষিত একজন লোক। তিনি  প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি দুই বছর চার বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক আবাদ করছেন ক্যাপসিক্যামের। প্রথম দিকে অভিজ্ঞতা না থাকায় ফলন ভালো না হলেও দমে যাননি তিনি। ইন্টারনেট থেকে আবাদের বিষয়ে জেনেছেন। সরেজমিন গাজীপুরে গিয়ে আবাদ দেখে এসে ভুলত্রুটি শুধরে নিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমের শুরুতে মিলেছে ভালো ফলন।

গত বছর ক্যামসিক্যাম ক্ষেতে আগাছার কারণে ফলন ভালো হয়নি নজরুলের। খরচও বেশি হয়। সেই ঝামেলা এড়াতে এবার জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে পলিথিন বিছিয়ে চারা রোপণ করেন। তাতে কাজ হয়েছে। নজরুলের হিসাবে, প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে এককেজি ফলন পেলেও তার লাভের অঙ্ক চার লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

নজরুল ইসলাম বলেন, তার ক্ষেতের ক্যামসিক্যাম ঢাকার বাজারে পাঠাচ্ছেন। এছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে চাইনিজ রেস্টুরেন্টেও পাঠাচ্ছেন। ঢাকার রেস্টুরেন্টে এর ভালো চাহিদা। স্থানীয়রা বাজারেও বিক্রি হচ্ছে। পাবনায় এই সবজি তেমন কেউ আবাদ করে না। তবে আস্তে আস্তে আবাদ বাড়ছে।

নজরুলের এমন সাফল্যে ক্যাপসিক্যাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন আশপাশের গ্রামের চাষিরা। মকবুল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম জানান, অল্প জমিতে বেশি আবাদ করা যায়। এতে লাভবান হচ্ছেন তারা। বেশি খরচ নেই, পরিচর্যাও বেশি করতে হয় না। এ কারণে সবার মাঝে ক্যাপসিক্যাম চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

তারা আরও জানান, দেশের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও তারকা হোটেলে ক্যাপসিক্যামের চাহিদা রয়েছে। পাইকাররা ক্ষেত থেকে কিনে নিয়ে যায়। জেলার মাটি ও আবহাওয়া ক্যাপসিকাম চাষের উপযোগী। তাই জেলায় আবাদের পরিসর বাড়ছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, ক্যাপসিক্যাম সম্ভাবনাময় ফসল। কৃষক যদি প্রতিকেজি একশত টাকা দরেও বিক্রি করতে পারেন, তাহলে এক একর জমি থেকে কয়েক লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। তিনি আশা করেন, পাবনার কৃষকরা এই সবজি চাষ করে লাভবান হবেন। ক্যাপসিক্যামের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ কৃষকের পাশে থাকবে বলেও জানা ন তিনি।

জেলা কৃষিবিভাগের সূত্রমতে জানা যায়, পাবনা জেলায় এ বছর পাঁচ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিক্যামের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হেক্টরপ্রতি ৪০ মেট্রিক টন ফলন পাবেন কৃষকরা।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop