৯:৪৬ অপরাহ্ন

শনিবার, ২৫ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২৩ ৯:৩৪ অপরাহ্ন
সূর্যমুখী চাষে কুমিল্লার চাষিদের ভাগ্য বদল!
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লায় বেড়েছে সূর্যমুখী চাষ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও এই জেলার মাটির সূর্যমুখী চাষের উপযোগী হওয়ায় বাম্পার ফলন হয়েছে। জমিতে বাম্পার ফলন ও বাজারে সূর্যমুখীর দাম ভালো থাকায় খুশি কৃষকরা।

জানা যায়, কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা বাজার সংলগ্ন ডুমুরিয়া এলাকার কৃষকরা চাষ করছেন। সারাদেশে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে। সেই অনুপাতে কুমিল্লার কৃষকরাও সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় এটির চাষ অনেক সহজলভ্য ও উৎপাদন খরচ কম। তাই কৃষকরা সূর্যমুখী চাষ করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এ বছর কুমিল্লার দেবিদ্বার, বরুড়া, ব্রাহ্মণপাড়া, চান্দিনা সহ অন্যান্য সকল উপজেলার ৩১০ জন কৃষক ১১৮ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড আরডিএস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখীর চাষ করছেন। যার বিঘাপ্রতি ফলন হবে ৫-৬ মণ।

আবদুল জলিল বলেন, আমি ৫০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে কর্মকর্তা এসে পরামর্শ দিয়ে যান।

তিনি আরো বলেন, গত ২ মাসে বিভিন্ন প্রকার সার ও পানির সেচ দিয়ে ২৫-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখনো ফুল পাকা শুরু করেনি। পেকে গেলে সূর্যমুখী ফুলগুলো সংরক্ষণ করে তেল উৎপাদন করে বাজারজাত করবো।

সদর দক্ষিণ বিজয়পুরের চৌধুরীখোলা এলাকার কৃষক মো. ইয়াছিন বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে লাভের আশায় চাষ করেছি। জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি পেকে গেলে তা থেকে তৈল উৎপাদন করে বাজারজাত করে লাভবান হতে পারবো।

কৃষি অফিসের মতে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে লাভ বেশি। আর দেশে তেলের ঘাটতি মেটাতে কৃষকরা এই ফসল চাষে ঝুঁকছেন। প্রতি বিঘায় ৬-৭ হাজার টাকা খরচ করে কৃষকরা ২০-২৫ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। এছাড়াও এটি ফসল চাষ করলে খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৯, ২০২৩ ৯:৩১ অপরাহ্ন
বোরো রোপণে ব্যস্ত লালমনিরহাটের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

বোরো রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ১২ ইউনিয়নের কৃষকেরা। শীতের সকালে কৃষকরা কোদাল আর মই হাতে নিয়ে মাঠে নেমে যাচ্ছে। কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই জমি তৈরি ও চারা রোপণের কাজ চলছে।

জানা যায়, লালমনিরহাটে মোট আবাদ যোগ্য জমি রয়েছে ২৩ হাজার ৫’শ ৫৯ হেক্টর। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১২ ইউনিয়নে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৪’শ ৯০ হেক্টর। এ ছাড়াও এবার ৩’শ ৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বোরো চাষীদের উন্নতমানের ফসল উৎপাদনের প্রদর্শনী করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারিভাবে প্রণোদনা ও পুনঃর্বাসনের আওতায় উপজেলার মোট ৫ হাজার কৃষককে ধানের বীজ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে।

বোরো চাষী আব্দুল জলিল বলেন, গতবার বোরো ও আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল আর দামও পেয়েছি সন্তোশজনক।এবার বোরো রোপণে আগের চেয়ে খরচ বেশি করেছি। জমি পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করেছি, এরপর মই দিয়ে রোপণ শুরু করবো। তবে এবার সেচ আর মজুরির দাম বেড়েছে। গতবারের তুলনায় এবার বোরো আবাদে খরচ মোটামুটি বেড়েছে। আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলে এবারও ভালো ফলন হওয়ার আশা করছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার সুমন মিয়া বলেন, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা মূলত কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা। আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করা করছি আমরা । আনন্দ মুখর পরিবেশে বোরো রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কৃষকদের সকল প্রকার সহযোগিতা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে দিয়ে আসছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৯, ২০২৩ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন
লাউ চাষে সফল চান্দিনার চাষিরা
কৃষি বিভাগ

চান্দিনা উপজেলায় এ বছর দেড় হেক্টর জমিতে বারি ১২ জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। এই বেগুন আকারে অনেক বড় হয়। প্রতিটা বেগুন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের হয়। আকারে বড়, নরম ও স্বাদে পুষ্টিমানে অনন্য বারি বেগুনের বাজার চাহিদা অনেক। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি এ অঞ্চলের কৃষকরা।

জানা যায়, বারি ১২ জাতের ই বেগুন প্রথমবার কুমিল্লায় চাষ শুরু হয়েছে। এ বছর পুরো জেলায় দেড় হেক্টর জমিতে বারি ১২ জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। এই বেগুন আকারে অনেক বড় হয়। প্রতিটা বেগুন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের হয়। এই বেগুনের টিস্যু অনেক নরম তাই খেতে অনেক সুস্বাদু। কুমিল্লায় সবজির বাজারে একটা বড় অভাব পূরণ হবে বারি ১২ জাতের বেগুনে।

বেগুন চাষি হোসেশিবলেন, আমি কৃষি অফিস থেকে বারি-১২ জাতের বেগুনের বীজ এনে ৩০ শতক জমিতে প্রথমবারের মত লাউ বেগুন চাষ করি। ফলন আশার চেয়ে বেশি ভালো হয়েছে। প্রতি কেজি বেগুন ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি করছি। বাজারেও নিতে হয় না। গ্রাহকরা জমিতে এসেই বেগুন নিয়ে যায়৷
লাউ বেগুন আকারে বড় এবং অনেক নরম। তাই পাখির প্রিয় খাবার এই লাউ বেগুন। এতে কৃষকরা চিন্তা করেন পাখির ঠোঁট থেকে কীভাবে তাদের লাউ বেগুনকে রক্ষা করবে।

আর একজন কৃষক শাহজাহান বলেন, বারি ১২ জাতের বেগুন চাষ করেছি।ফলন অনেক ভালো হয়েছে । চিন্তার একটি কারণ হল লাউ বেগুন খুব নরম বলে পাখি ও পোকামাকড়ের প্রিয় খাবার। তাই এ বেগুন রক্ষায় জাল দিয়ে পুরো জমি ঢেকে দিয়েছি। না হয় জমিতে বেগুন থাকবে না।’

চান্দিনা উপজেলা কৃষি কমকর্তা মনিরুল হক বলেন, পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকজন কৃষককে বাছাই করে বারি ১২ জাতের বেগুন চাষ করেছি। কৃষি অফিসার ও কৃষকদের আন্তরিকতায় প্রথম বছরই ভালো ফলন হয়েছে। আমরা আশাকরি আগামী বছর আমরা পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়বে বারি-১২ জাতের এই বেগুন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৩ ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
বিষমুক্ত সবজি চাষে সফল গাড়িদহরের কৃষকরা!
কৃষি বিভাগ

পরিবেশবান্ধব জৈব সার ব্যবহার করে সবজি চাষে সফলতা পেয়েছেন শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের কৃষকরা। রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ তেমন না থাকায় কম খরচে অধিক ফসল পাচ্ছেন তারা। বিষমুক্ত সবজি হওয়ায় বাজারেও অধিক দাম পাচ্ছেন কৃষকেরা।

জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের কৃষকরা বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন। একসময় এই এলাকার কৃষকরা বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, মিষ্টিকুমড়া ও শিম চাষ করতে যেখানে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতেন, এখন তারা এসব সবজি উৎপাদন করছেন কোন প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই। মানুষ যেন বিষমুক্ত সবজি বাজার থেকে সহজে কিনতে পারেন, সেজন্য ছোট ফুলবাড়ি বাজারে স্থাপন করা হয়েছে নিরাপদ সবজি কর্ণারও।নিরাপদ সবজি কর্ণারে সবজি নিয়ে যাওয়ার জন্য ২০টি কৃষক গ্রুপের মাঝে বিনামূল্যে ২০টি ভ্যান বিতরণ করা হয়েছে। ১০০ একর জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, করলা, মিষ্টিকুমড়া ও শিম চাষ হচ্ছে।

চাষি বাদশা মিয়া বলেন, আমি জমিতে নিরাপদ উপায়ে সবজি চাষ করেছি। সেখানে কোন রাসায়নিক সার বা কীটনাশক স্প্রে করিনি, ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। বিষমুক্ত সবজি হওয়ায় বাজারেও অধিক দাম পাচ্ছি।গামীতেও নিরাপদ উপায়ে ফসল উৎপাদন করবো।

উপজেলা কৃষি অফিসার ফারজানা আক্তার বলেন, এ বছর ঊপজেলায় সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৭৮০ হেক্টর জমিতে। ইতিমধ্যে ১৭৩০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এখানে সম্পূর্ণ আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করেই সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। নিরাপদ উপায়ে সবজি চাষের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন আধুনিক জৈব প্রযুক্তি সম্পর্কে জানানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৩ ৯:৩০ পূর্বাহ্ন
অধিক লাভের আশায় গম চাষে ঝুঁকছে যশোরের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় আটার চাহিদা মেটাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে গমের আবাদ হয়েছে ।এ অঞ্চলের গ্রামীণ মাঠঘাটে কৃষকরা এখন গম চাষে জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অধীক চাহিদা এবং দাম ভালো পাওয়ায় গম চাষে ঝুঁকছে যশোরের কৃষকরা।

জানা যায়, যশোরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলায় ৩৮ হাজার ৪৪৩ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। ৬ জেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৪হাজার ৩৩৯ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ১০৪ হেক্টর বেশি জমিতে গমের আবাদ হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

আরও জানা যায়, শুধু কুষ্টিয়া জেলায় ১৩ হাজার ৬৫৪ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। এছাড়া মেহেরপুর জেলায় ১২ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে, মাগুরা জেলায় ৫হাজার ২শ’ ২১০হেক্টর জমিতে, ঝিনাইদহ জেলায় ৫হাজার ১৭৩ হেক্টর জমিতে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১হাজার ৭ হেক্টর জমিতে এবং যশোর জেলায় ৬শ’২৪ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষকরা।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো.আমিনুল ইসলাম বলেন, আটার চাহিদা মেটাতে এ অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে গমের আবাদ করা হয়েছে। গম চাষে কৃষক পর্যায়ে প্রশিক্ষণসহ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার,সার,সেচ ও উন্নতমানের বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সামনে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে গমের বাম্পার ফলন হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৩ ৮:৪৭ অপরাহ্ন
কেঁচো সারে ঝুঁকছেন চাষিরা, বাড়ছে পতিত জমিতে চাষ
কৃষি গবেষনা

দিন দিন ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) তৈরির প্লান্ট বাড়ছে বাগেরহাটে। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ভার্মি কম্পোস্ট প্লান্ট স্থাপন করছেন চাষীরা।

এসব প্লান্টে উৎপাদন হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কেঁচো সার। দাম কম এবং সহজলভ্য হওয়ায় কৃষকদের মাঝে কেঁচো সারের ব্যবহার বাড়ছে। কেঁচো সার দিয়ে পতিত জমিতে ফল ও সবজি চাষ শুরু করছেন প্রত্যন্ত এলাকার মানুষেরা। ফলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে ভোক্তা পর্যায়ে। পতিত জমিতে উৎপাদিত ফল ও সবজিতে পুষ্টি চাহিদা পূরণ হচ্ছে হত দরিদ্রদের। সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্টের উৎপাদন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের ৯টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৯৪২টি ভার্মি কম্পোস্ট প্লান্ট রয়েছে। এসব প্লান্টে গত বছর (২০২২) ৪৭১ মে. টন কম্পোস্ট সার উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে ৪ হাজার ৯৯০ জন কৃষককে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে ৩ হাজার ৮৮০ হেক্টর পতিত জমিতে সবজি চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। এর বাইরে আরও ৫ হাজার ১৭৪ হেক্টর আবাদযোগ্য জমি পতিত রয়েছে। এসব জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে চেষ্টা করছে কৃষি বিভাগ।

শুধু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নয়, ভার্মি কম্পোস্ট সম্প্রসারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পুষ্টি উন্নয়নে অংশগ্রহণমূলক সমন্বিত প্রকল্প (ক্রেন) নামের একটি প্রকল্প কাজ করছে। জেলার মোংলা, কচুয়া, মোল্লাহাট ও শরণখোলা উপজেলায় ৩০০ জন ভার্মি কম্পোস্ট উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে। এই ভার্মি কম্পোস্ট প্লান্টে উৎপাদিত সার বিক্রির জন্য রয়েছে আরও ১৫ জন কৃষি উদ্যোক্তা। তারা নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে কেচো সার বিক্রি করে থাকেন। ভার্মি কম্পোস্টে রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাস ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে অনেকের।

কচুয়ার সাংদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক সাহাপাড়া এলাকার সুকদেব সাহা বলেন, কৃষি ডিপ্লোমা পড়া অবস্থায় সবজি ও ধান চাষ করতাম। রাসায়নিক সারের ক্ষতি সম্পর্কে জানলেও সহজলভ্য বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হত। বছর খানেক হল, ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করি। আমার জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। সেই সঙ্গে ব্যয়ও কমেছে। কেঁচো সার ব্যবহার করা জমির সবজি ও খাদ্যশস্যের স্বাদও অনেক ভাল।

উপজেলা সদরের হাজীপাড়া এলাকার মিরাজুল শেখ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ৫ কাঠা জমি ফেলানো (পতিত) ছিল। সারের দাম বেশি থাকায় চাষ করতাম না। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ব্যবসার পাশাপাশি ভার্মি কম্পোস্ট দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছি। চার মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকার লাল শাক, লাউ, মুলা ও পালন শাক বিক্রি করেছি। নিজেদের খাবার জন্য এখন তরকারি ক্রয় করা লাগে না।

ক্রেন প্রকল্পের কনসোর্টিয়াম ম্যানেজার কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ইমরানুল হক জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাস ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার সম্প্রসারণের চেষ্টা করেছি। চার উপজেলার ৩০০ জন উপকারভোগীকে ভার্মি কম্পোস্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্লান্ট স্থাপনের জন্য তিনটি করে ঋণ-স্লাপ ও আনুসঙ্গিক অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসব উপকারভোগী নিজের ক্ষেতে কেচো সার ব্যবহারের পাশাপাশি বিক্রি করছেন। এই প্রক্রিয়া যাতে চলমান থাকে এ জন্য আমরা স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে ভার্মি কম্পোস্ট উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ স্থাপন করিয়েছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাগেরহাটের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে ভার্মি কম্পোস্ট সারের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। এই সার ব্যবহারের ফলে জেলায় পতিত জমি চাষাবাদ বেড়েছে। বর্তমানে আমাদের ১ হাজার ৩৬৪টি বাড়িতে পুষ্টি বাগান রয়েছে। যাদের বেশিরভাগ উপকারভোগী কেঁচো সার ব্যবহার করেন। এছাড়া যেসব চাষির গরু আছে তাদেরকে ভার্মি কম্পোস্ট প্লান্ট স্থাপনে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ভার্মি কম্পোস্ট প্লান্ট ও কেচো সারের ব্যবহার বাড়ছে বলে জানান জেলা কৃষি বিভাগের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির পদ্ধতি চ্যালেঞ্জঃ ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির মূল কাঁচামাল হচ্ছে গোবর ও কেচো। গোবর ও কেচোর সঙ্গে লাগবে চাড়ি বা ঋণ ও সেলাপ। একটু ছায়াযুক্ত স্থানে স্লাপের ওপর ঋণ রাখতে হবে। ঋণের মধ্যে আধা শুকনা গোবর দিতে হবে এবং সেই গোবরের ওপরে কেচো ছেড়ে দিতে হবে। এরপর উপরে ছালা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। উপড়ে ছাউনি দিতে হবে। ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে সেই গোবর ব্যবহার উপযোগী সার হয়ে যাবে। এই সারে কোনো গোবরের গন্ধ থাকবে না। শুধু গরুর গোবর নয়, হাঁস-মুরগির বিষ্টা, ছাগল-ভেড়ার মল এবং মহিষের গোবরও ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। সরাসরি বৃষ্টির পানি পড়লে এবং পিঁপড়া ঢুকলে কেঁচো মারা যাবে। সূর্যের আলো সরাসরি পড়লেও কেঁচো মারা যাবে। এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৩ ৮:৩৯ অপরাহ্ন
খিরা চাষে সিরাজগঞ্জের কৃষকের মুখে হাসি
কৃষি বিভাগ

সিরাজগঞ্জে খিরা চাষে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। প্রতিদিন আড়তে বেচা-কেনা হচ্ছে কয়েকশ টন খিরা। চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ ও উল্লাপাড়ার উৎপাদিত এসব খিরা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে আড়ৎ থেকে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা কিনছেন।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার ৬৬৬ হেক্টর জমিতে খিরা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে তাড়াশ উপজেলায় রয়েছে ৪৩৯ হেক্টর। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় মৌসুমি খিরার হাট বসেছে ১৫টি স্থানে।

তাড়াশ উপজেলার দিঘড়িয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক ফজর আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত বছর আধা বিঘা জমিতে খিরা চাষ করেছিলাম। এবার ২৫ শতাংশ জমিতে চাষ করেছি। ফলন ও দাম ভালোই পাচ্ছি।’

উল্লাপাড়া উপজেলার কৃষক আক্কাস আলী বলেন, ‘প্রতি বছর ধান ও সরিষা চাষ করলেও এবার আড়াই বিঘা জমিতে খিরা চাষ করেছি। এতে প্রতি বিঘা জমিতে একশ’র ও বেশি মণ খিরা উৎপাদন হবে। এসব খিরা স্থানীয় বাজারে ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’

উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের চরবর্দ্ধনগাছা খিরার হাটের আড়তদার ফজলুল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার খিরার দ্বিগুণ উৎপাদন হয়েছে। সেই সাথে চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাচ্ছে কৃষক।’

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর জাগো নিউজকে বলেন,
‘গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার ৭৫ হেক্টর জমিতে খিরা বেশি চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে খিরা চাষে আবহাওয়া অনূকূল থাকায় কৃষকরা ভালো ফলন ও দাম পাচ্ছেন।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২৩ ৮:১৪ অপরাহ্ন
মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে ঝুঁকছেন শিবচরের কৃষকরা!
কৃষি বিভাগ

মাদারীপুরের তরুণদের মাঝে দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে সবজি চাষ। তরুণরা চাকরি ও ব্যবসার পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন। বিশেষ করে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করে অনেক তরুণ সফল হয়েছেন। ধীরে ধীরে এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ কৃষক সহ তরুনদেরও আকর্ষিত করছে।

জানা যায়, মাদারীপুর জেলার শিবচরের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার পতিত জমি এখন চাষের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ করেছেন কৃষক সহ তরুন ও যুবকরা। এতে ব্যবহার হচ্ছে আধুনিক মালচিং পদ্ধতি। সম্প্রতি বিভিন্ন জাতের সবজি চাষে মাটি তৈরিতে পলিথিনের ব্যবহার বাড়ছে। এই পদ্ধতিতে উৎপাদন অনেক বেশি বলে জানান একাধিক তরুণ কৃষক। তাই দিন দিন এই পদ্ধতিতে চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

জানা যায়, কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। কৃষকরা ফসল ফলানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি চাষ করছেন। জৈব সারের প্রয়োগে মাটি তৈরী, সারিবদ্ধভাবে মাটি উঁচু করে পলিথিনের শিট বিছিয়ে দিচ্ছেন এবং নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন করে তাতে টমেটো, ফুলকপি, বাধাকপি, করলা, ঢেঁড়স, স্কোয়াশ, ব্রুকলি, নানা জাতের বেগুন, মরিচ, ক্যাপসিকাম ফলানো হচ্ছে। সবজিকে পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতেও ব্যবহার হচ্ছে আধুনিক পদ্ধতি।

উপজেলার রাজারচর এলাকার সবজিচাষী সুমন আহমেদ বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। তার পাশাপাশি গত ৫ বছর আগে পরিক্ষামূলক সবজি চাষ করেছিলাম। বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে নানা ধরনের সবজি চাষ করছি।

তিনি আরো বলেন, কৃষির প্রতি টান থেকেই শুরু করেছি। এখন বানিজ্যিকভাবে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে শিবচরে বিদেশি সবজির মধ্যে ব্রুকোলি, স্কোয়াশ, রেড ক্যাভেজ প্রথম চাষ করি। ভালো ফলনও পেয়েছি। এছাড়াও ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, করলার চাষ করছি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে শিবচর উপজেলায় মালচিং পদ্ধতিতে ৬ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষাবাদ করা হয়েছে। শিবচরে ৪২ জন কৃষক এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন।

স্থানীয় আরো কৃষকরা জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে প্রথমেই বেশি খরচ হয়। পরে আর বেশি খরচ করতে হয় না। এই পদ্ধতিতে চাষ করলে গাছে আগাছাও কম হয়। বারবার সার দেওয়া ও পানির সেচের ঝামেলা থাকে না। তাই এই পদ্ধতিতে চাষে ঝুঁকি কম আর লাভবান হওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, মালচিং পদ্ধতি চাষাবাদ একটি আধুনিক পদ্ধতি। সবুজ কৃষির জন্য ওই পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত কার্যকর। এতে উৎপাদন খরচ কম হয়। আমরা এ পদ্ধতিটি কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২৩ ৭:৩২ অপরাহ্ন
ধানে চিটা হওয়ার কারণ ও সমাধান
কৃষি গবেষনা

বোরো ধান উৎপাদনে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব –
মার্চ মাসের ৩য় সপ্তাহ থেকে দিনের বেলার তাপমাত্রা প্রায়শই ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়েও বেড়ে যাচ্ছে। যা ধানের ফুল ফোটা পর্যায়ে চিটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ধান গাছের জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের তাপমাত্রায় গাছের বাড়-বাড়তি প্রভাবিত হয়। আমাদের দেশে চাষকৃত জাতসমূহ সাধারনত: ২০-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রায় বৃদ্ধি ও উন্নয়ন সবচেয়ে ভালো হয়। তাপমাত্রা এর চেয়ে উপরে বা নিচে চলে গেলে ধান গাছের বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ব্যহত হয়।
তবে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে সাধারনত: প্রজনন পর্যায় যথাঃ শীষ গঠন ও ফুলফোটা/পরাগায়ন এবং দানা ভরাট/গঠন পর্যায়ে দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর চেয়ে বেশী হলে ধানে চিটা সমস্যা ও দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয়।
ধানের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলেও ফুলফোটা পর্যায়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর চেয়ে বেশী হলে ধানে চিটা সমস্যা দেখা দেয়।
সাধারনত: ফুলফোটা পর্যায়ে দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর বেশী হলে ঐদিন যে ফুলসমূহ ফুটবে তা চিটা হয়ে যাবে এ কারনে সম্পূর্ন শীষ চিটা হবে না।
আমাদের দেশে দীর্ঘ জীবনকালের বোরো ধানের জাত সমূহ, নাবী বোরো ও আউস ধানে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে চিটা সমস্যা দেখা যায়। এছাড়াও এসময়ে চাষকৃত জাতসমূহ রাত্রীকালীন উচ্চ তাপমাত্রা এবং ঝড়ের কারণে দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয় ও দানা কালো বর্ণ ধারণ করে ফলে বীজ ও ধানের মান এবং ফলন কমে যায়।
উচ্চ তাপমাত্রার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রভাবঃ
প্রজনন পর্যায়ে অতি উচ্চ তাপে (৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর বেশী হলে) শিষে ধানের সংখ্যা কমে যেতে পারে।
ফুল ফোটা পর্যায়ে অথবা পরাগায়ণের সময় উচ্চ তাপে (৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর বেশী হলে) ধানের পরাগায়ন বাধাগ্রস্থ হয় ফলে চিটার সংখ্যা বেশী হয়।
রাত্রীকালীন উচ্চ তাপমাত্রা (২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর বেশী হলে) ও ঝড়ের কারণে দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয় ও দানা কালো বর্ণ ধারণ করে।
ফুল ফোটা পর্যায়ে অথবা পরাগায়ণের সময় ইট-ভাটার আশে-পাশের জমিতে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবের কারণে ধানের শীষ আগুনে-ঝলসে যাওয়ার মত লক্ষণ দেখা যায় ফলে চিটার সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যায় ও দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয় ও ফলন ব্যাপকহারে কমে যায়।
ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ব্যবস্থাপনাঃ
চৈত্র ও বৈশাখ (এপ্রিল) মাসের উচ্চ তাপমাত্রা প্রাকৃতিক বিধায় প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে বোরো ধানের জাত নির্বাচন এবং এদের বপন ও রোপন সময় সমন্বয় করে এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
স্বল্প জীবনকালের বোরো ধানের জাত যথা: ব্রি ধান২৮, অগ্রহায়ন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বপন এবং ৪০-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপন করে প্রজনন ও ফুল ফোটা পর্যায়ে চৈত্র ও বৈশাখ (এপ্রিল) মাসের উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব এড়ানো সম্ভব।
দীর্ঘ জীবনকালের বোরো ধানের জাত সমূহ যথা: ব্রি ধান২৯ ও ব্রি ধান৫৮, কার্তিক মাসের ৩য়-৪র্থ সপ্তাহের মধ্যে বপন এবং ৪০-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপন করে প্রজনন ও ফুল ফোটা পর্যায়ে চৈত্র ও বৈশাখ (এপ্রিল) মাসের উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব এড়ানো সম্ভব।
জমিতে সেচ প্রদান করে এবং পানি ধরে রেখে চৈত্র ও বৈশাখ মাসের উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব কিছুটা কমানো যেতে পারে।
ধানের জমির আশে-পাশে ইট-ভাটা স্থাপনের অনুমোদন না দেওয়া অথবা ইট-ভাটার আশে-পাশে ধান চাষ না করা।
উচ্চ তাপমাত্রা সহিষ্ণু ধানের জাত চাষ করতে হবে।
এসময় করণীয়:-
ক)জমিতে পানি ধরে রাখুন।
খ) কাইচ থোর পর্যায়ে পটাশ, জিবি বোরন, মাইটিভিট, জিবি জিংক এবং কেমোজল জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে পারেন।
গ) ১০লিটার পানিতে ৬০গ্রাম পটাশ সার+৬০গ্রাম মাইটিভিট একত্রে মিশিয়ে ৫শতক জমিতে স্প্রে করতে পারেন।
বিস্তারিত পরামর্শের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে অথবা ইউনিয়ন/ ব্লক পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিন।
তথ্যসূত্র :
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২৩ ৭:০৮ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটে ৯১০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজ চাষ হয়েছে
কৃষি বিভাগ

খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে চলতি ২০২২-২০২৩ রবি ফসল চাষ মৌসুমে ৯১০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের চাষ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, পেঁয়াজ চাষে সরকারি ভাবে প্রণোদনা প্রদান করা এবং বাজারে পেঁয়াজের দাম ভালো পাওয়ায় জেলায় পেঁয়াজ চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। জেলায় পেঁয়াজ চাষ সফল করতে ব্যাপক কর্মসচি গ্রহণ করে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। জেলায় ৮০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ৯১০ হেক্টর। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ।

উপজেলা ভিত্তিক পেঁয়াজ চাষের মধ্যে রয়েছে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ৩ শ ২০ হেক্টর, পাঁচবিবিতে ৪ শ ৫৫ হেক্টর, আক্কেলপুরে ৭০ হেক্টর, ক্ষেতলাল উপজেলায় ৪৫ হেক্টর ও কালাই উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে। রোপা আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষে জয়পুরহাটের কৃষকরা পেঁয়াজ চাষের প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকেন। আগাম পেঁয়াজ চাষে লাভবান হওয়ার আশায় অনেকেই আগাম জাতের পেঁয়াজও চাষ করে থাকেন জয়পুরহাটে। জেলায় পেঁয়াজ চাষ সফল করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছে কৃষি বিভাগ বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ রাহেলা পারভীন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop