৩:২৩ অপরাহ্ন

সোমবার, ২৭ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ২০, ২০২২ ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
পাটের ন্যায্য দাম না পেয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক
কৃষি বিভাগ

চাঁদপুরে একসময় প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। তবে বর্তমানে পাট আবাদে বিমুখ হচ্ছেন এ জেলার কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেশি এবং কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় দিনদিন আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা।

কৃষকরা জানান, গেলো বছর যেখানে প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ২৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা এ বছর তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-১৮০০ টাকা দরে।

অপরদিকে চারা রোপণ থেকে শুরু করে আঁশ প্রস্তুতকরণ পর্যন্ত প্রতি মণ পাটে ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকা টাকা খরচ হচ্ছে তাদের। এতে এ বছর পাট চাষে ব্যাপক লোকসানের শঙ্কা করছেন কৃষকরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, প্রস্তুতকৃত আঁশ কিছুদিন সংরক্ষণ করে রাখতে পারলে দাম কিছুটা বাড়বে।

চাঁদপুর কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে জেলায় দেশি, তোষা, কেনাফ ও মেস্তা জাতের পাট আবাদ হয়ে থাকে। যা বেশি আবাদ হয় সদর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায়। যদিও গত বছর পাটের দাম ভালো থাকায় চলতি বছর পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে থাকলেও আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার ২০০ হেক্টর বেশি।

এ বছর দেশি জাতের পাটের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে, তোষা আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৭২০ হেক্টর, মেস্তা ১৭৫ হেক্টর ও কেনাফ জাতের পাটের আবাদ হয়েছে ৫৩০ হেক্টর জমিতে।

এরই মধ্যে কাটা হয়েছে দেশি ৯৮৫ হেক্টর, তোষা ৯৭৫ হেক্টর, মেস্তা ১৭০ হেক্টর ও কেনাফ ৩৩০ হেক্টর জমির পাট।

চাঁদপুর সদর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কেউ পাট কাটছেন, কেউবা জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ পাটের আঁশ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ সবাই একত্রে কাজ করছে। কেউ বাড়ির আঙ্গিনায়, কেউ আবার রাস্তায়।

সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের সাহেব বাজার এলাকার কৃষক রফিক তালুকদার, নুরুল ইসলাম ব্যাপারী, বাচ্চু ব্যাপারী ও দেলোয়ার খানসহ বেশ কয়েকজন জানান, প্রতিমণ পাট উৎপাদনে চারা রোপণ থেকে শুরু করে আঁশ নেওয়া পর্যন্ত শ্রমিক খরচ পড়েছে ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকা। কিন্তু এবছর দাম মাত্র ১৫০০-১৮০০ টাকা। এতে প্রতিমণে অনেক টাকা লস দিতে হবে।

তাদের দাবি, গত বছর পাট মৌসুমের প্রথম দিকে প্রতিমণ পাটের দাম ছিল ২৪০০-২৬০০ টাকা, শেষ সময় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত পাটের আঁশ বিক্রি হয়েছে। এতে অনেকেই লাভবান হওয়ায় এবছরও চাষ করেছেন। কিন্তু এবার দাম এমন হবে তা বুঝতে পারেননি।

এভাবে চললে সামনের বছর অনেক কৃষকই আর পাট আবাদ করবে না।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ মো. জালাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, আরও কয়েকদিন যদি পাটের আঁশ সংরক্ষণ করে রাখা যায় তাহলে দাম কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কৃষকদের জন্য একটি সুখবর হলো পাটের নতুন একটি জাত উদ্ভাবন হয়েছে। আগামী বছর থেকে উদ্ভাবিত নতুন এ জাতের পাট আবাদের মাধ্যমে কৃষকরা দ্বিগুণ ফলন পাবেন এবং অধিক লাভবান হবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৬, ২০২২ ৮:১৭ পূর্বাহ্ন
বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম
কৃষি বিভাগ

কাঁচামরিচের সরবরাহে কোনো সংকট নেই। তবু দাম বেড়েছে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকার মতো।

খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও কোরবানি ঈদের কারণে চাহিদা বেশি ছিল। এ কারণে দাম বেড়েছে। তবে বাড়তি এই দাম বেশি দিন থাকবে না বলে আশা করছেন তাঁরা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, তেজকুনিপাড়া ও মগবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, যা কোরবানির ঈদের আগে ছিল ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। পাড়া-মহল্লায় দাম আরেকটু বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা দুলাল আহমেদ বলেন, বাজারে এখন ক্রেতা কম। তবে ঈদে বিয়ে-শাদিসহ নানা অনুষ্ঠান থাকে। সে কারণে মরিচের চাহিদা বেড়েছে। পাইকারি পর্যায়ে কাঁচামরিচের পাল্লায় (৫ কেজি) দাম এক থেকে দেড়শ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ কারণে খুচরা ব্যবসায়ীদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে এই বেশি দাম বড়জোর তিন-চার দিন থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৬, ২০২২ ৮:১০ পূর্বাহ্ন
নোনাপানিতে ঘেরের মাছ ও ফসলের ক্ষতি
কৃষি বিভাগ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ২৬ নম্বর পোল্ডারে দুই রাতেই নোনাপানিতে সাড়ে ৭০০ বিঘা জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে স্বাদু পানির ঘেরের মাছ ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্বল বাঁধ গলিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি অনেকের।

স্থানীয় ঘের মালিকদের অভিযোগ, কয়েকজন বাগদা চিংড়ি চাষি গত মঙ্গলরার রাতে উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের ২৬ নম্বর পোল্ডারের কাকমারি বিল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে দিলে এ ঘটনা ঘটে।

এই পোল্ডার অর্থাৎ কাকমারি বিলে ডুমুরিয়া, সাহস, নোয়াকাটি, শরাফপুর, কুমারঘাটা, শোভনা, জিয়েলতলা, উলা, ভাণ্ডরপাড়া, বসুন্দিয়া, ভুলবাড়িয়া, কাপালিডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। ওই বিলের বেড়িবাঁধের উত্তর-দক্ষিণ অংশে সাড়ে ৭০০ বিঘা জমিতে এরই মধ্যে নোনাপানি ছড়িয়ে পড়েছে।

এসব জমিতে এখন মিষ্টি পানির গলদা চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছের চাষ হচ্ছে। রয়েছে আউশ ধানের বীজতলা। বিলজুড়ে রয়েছে চিংড়ি ঘেরের (অবশিষ্ট জায়গা) বেড়িবাঁধের ওপর বেগুন, পটোল, শসা, চিচিঙ্গা, ওল, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, পেঁপে, বরবটিসহ নানা সবজি।

এ অঞ্চলে সারাবছর প্রায় ৬৫ কোটি টাকার সুস্বাদু পানির মাছ এবং ৪০ কোটি টাকার ফসল উৎপাদন হয় বলে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৬, ২০২২ ৭:৪৮ পূর্বাহ্ন
ইউটিউব দেখে বালুর মাঠে মরুর খেজুর চাষ
এগ্রিবিজনেস

উটিউব দেখে দেশে কত কিছইনা হচ্ছে। তবে এবার ইউটিউবে সময় নষ্ট না করে, ইউটিউব দেখেই ভাগ্য পরিবর্তন করলেন নাটোরের লালপুরে শরিফুল ইসলাম (৩৫)। তিনি পদ্মার চরে করছেন মরুর খেজুর চাষ। বালি মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে ৩ বিঘা জমিতে এ খেজুর চাষ শুরু করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিলমাড়িয়ায় পদ্মার বুকে কাঁটাতারে ঘেরা জমিতে রসুনের সাথে বেড়ে উঠছে সৌদি আরবের খুরমা খেজুরের গাছ।

তিনি জানান, এটি মরুভূমির গাছ, যার ফলে আমাদের এই অঞ্চলে খাপ খাওয়াতে একটু বেগ পেতে হবে। গাছের গোড়ায় একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি দিতে হয়, পানি কম হলেও বাঁচবে না, আবার বেশি হলে পচে যাবে। এর সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব। নারকেল ও শুপারি গাছের নতুন রোগ হোয়াইট ফ্লাই ও শূতিমূলের আক্রমণটা বড় ভয় এ খেজুর গাছের। এ জন্য সব সময় খেয়াল রাখতে হয়। প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এর সঙ্গে রয়েছে ইঁদুরের জ্বালাতন। খেজুর গাছের শিকড় কেটে দেয়, আবার ফলও কাটে। ইঁদুরের জন্যও আমাদের সতর্ক থাকতে হয়।

নতুন কেউ সৌদির খেজুর চাষ করতে চাইলে তাদের জন্য শরিফুল ইসলামের পরামর্শ, কলম এবং বিচি দুইভাবেই সৌদির খেজুরের চারা তৈরি হয়। এ বিচির চারার বেশিরভাগ পুরুষ হয়ে যায়। যার ফলে ফল আসে না। তাই নতুন যারা শুরু করবেন, তাদের কলমের (অপশুট) চারা কিনতে হবে। তবে সবচেয়ে সতর্কবানী হচ্ছে হুট করে কেউ বাণিজ্যিকভাবে খেজুর চাষে নেমে ধ্বংস হবেন না। আগে জানতে হবে। আমিও ঠিকমতো জানিনা। কৃষি কর্মকর্তাদের সাহায্য নিয়ে আগাবো।

লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকতা রফিকুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবের আবহাওয়া ও জলবায়ু আমাদের এখানকার থেকে পৃথক হওয়ায় সৌদি জাতের খেজুরগাছগুলো এদেশে সাধারণত হয় না। হলেও সফলতার হার কম। আমরা সুবিধা অসুবিধা দুইটার কথায় তাকে বলছি। তারপরও কৃষক যথেষ্ট আগ্রহী। তিনি সফল্যের বিষয়ে খুবই আশাবাদী সেই সাথে আমরাও আশাবাদী। আমরা তাকে সকল প্রকার পরামর্শ দিয়ে যাবো।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৬, ২০২২ ৭:৩২ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীতে বেড়েছে কলার উৎপাদন!
কৃষি বিভাগ

কলা একটি আদর্শিক খাবার। এটি মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। বিগত কয়েক বছরের তুলনাই রাজশাহীতে কলার উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। পতিত জমি ও পুকুর পাড়ে উচ্চ ফলনশীল কলার চাষ করতে দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া রাজশাহী অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে কলার আবাদ ও উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজশাহী কৃষি অধিদপ্তরের সূত্র মতে, বিগত ৫ বছর আগে যেখানে রাজশাহীতে কলা আবাদ হতো ১ হাজার ৯০২ হেক্টর জমিতে আর চলতি মৌসুমে কলা আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৪১০ হেক্টর।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, রাজশাহীর ৯ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কলার আবাদ হয় পুঠিয়া উপজেলায়। চলতি বছর এ উপজেলায় মোট ১ হাজার ২ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক তৌফিকুর রহমান জানান, আগের চেয়ে বর্তমানে মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কলা। সম্প্রতি কলা খুব লাভজনক একটি কৃষি ব্যবসায় পরিণত হওয়ায় বিভিন্ন রাস্তা ও রেল লাইনের পরিত্যক্ত জায়গায় কলার চাষ হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৫, ২০২২ ৯:২২ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লায় পাটের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
এগ্রিবিজনেস

পাট বাংলাদেশের অর্থ উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম। পাট ছাড়া কারও জীবন একদিনের জন্য অতিবাহিত হওয়া সম্ভব না। এটি একটি বর্ষাকালীন ফসল। আর পাটকে বলা হয় বাংলাদেশের সোনালী আঁশ। পাট পরিবেশ বান্ধব, বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য আঁশ ।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার কুমিল্লায় সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পূর্ব লক্ষ্যমাত্রা থেকে এবার ৫শত হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এবছর ভালো বৃষ্টিপাত ও সারের সঙ্কট না থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষকরা মনে করেন।

কৃষক মোতালেব জানান, তিনি এবছর ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেন। প্রতি বিঘাতে প্রায় ৮ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, এবছর জেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এতে দেশি ও তোষা জাতের পাট রয়েছে। পাটের মূল্য নাগালেই থাকায় ধীরে ধীরে বাড়ছে পাটের চাষ।

কুমিল্লার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগ চাষিদের সব ধরনের সহযোগীতা করবে বলে তিনি আশ্বাস রাখেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২২ ৮:৫৪ অপরাহ্ন
বিষমুক্ত সবজি চাষ এগিয়ে ব্রহ্মপুত্রের চরে
কৃষি বিভাগ

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদীর বুকে ২০টি চরাঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার পরিবার বিষমুক্ত সবজি চাষ করছে। সেই সবজি দিয়ে পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও বিক্রি করে আশানুরূপ আয় করছেন চরের মানুষ। এসব পরিবারের অধিকাংশই ভূমিহীন। চরাঞ্চলের এসব মানুষ বসতভিটার উঠানে স্বল্প পরিসরে লাউ, সিম, বরবটি, করল্লা, মরিচসহ নানা রকমের শাক উৎপাদন করছেন।

চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে চর শাখা হাতি এলাকার গৃহবধূ আমিনা বেগম জানান, ‘তিন-চার বছর আগেও আমরা আমাদের বসতভিটার উঠান অব্যবহৃত রাখতাম। একটি বেসরকারি সংস্থার উৎসাহ ও সহযোগিতায় বসতভিটার উঠানকে কাজে লাগানো শুরু করেছি। জৈবসার ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছি। এতে পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারছি।’

‘অনেক সময় উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি বিক্রি করে টাকা রোজগারও করতে পারছি। আমি ৫ শতাংশ বসতভিটার উঠানে সারা বছরই লাউ, মরিচ, করল্লা, লাল শাকসহ বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদন করছি।

চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুমার প্রণয় বিষাণ দাস জানান, ‘আপাতত জৈব সার ব্যবহার করে উৎপাদিত সবজি দিয়ে পরিবারগুলোর চাহিদা মিটলেও এর বাণিজ্যিক উৎপাদন সেভাবে শুরু হয়নি। এই কাজে বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি কৃষি বিভাগও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তবে বসতভিটার উঠান অব্যবহৃত ফেলে না রেখে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করায় চরের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৫, ২০২২ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
শেরে বাংলা গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড-২০২২ পেলেন ড. আবুল মনসুর
কৃষি বিভাগ

কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: আবুল মনসুর এবছর ‘শেরে বাংলা গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড-২০২২’ লাভ করেছেন।

বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ইকোনোমিক রিপোর্টারস ফোরাম মিলনায়তনে গত শনিবার এক সেমিনার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে এ এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।

গত ৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর লেখা এক অবহিতকরণ চিঠিতে প্রফেসর ড. মো: আবুল মনসুর এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল ‘উপমহাদেশে শিক্ষা বিস্তারে শেরে বাংলার ভূমিকা’।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্রেস্ট প্রদান করেছেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. শরীফ সাকী ও আলহাজ্ব আব্দুস শক্কুর। সেমিনার উদ্বোধন করেন ব্যারিষ্টার জাকির আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন জনাব মুহাম্মদ আতাউল্লাহ্ খান। প্রফেসর ড. মো: আবুল মনসুর শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ সম্মাননা লাভ করেন। প্রফেসর ড. মো: আবুল মনসুর বিগত ৩৬ বৎসর যাবৎ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগে শিক্ষকতা করছেন।

তিনি দুইবার বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। একবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের প্রভোস্ট ছিলেন। ফিশ মিউজিয়াম এন্ড জার্মপ্লাজম সেন্টারের পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে কর্মরত।

প্রফেসর ড. মো: আবুল মনসুর ১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ডের হাল বিশ্ববিদ্যালয় হতে পি.এইচ-ডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০০১ সালে জে.এস.পি.এস. পোস্ট-ডক ফেলোশীপে জাপানে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৩, ২০২২ ১:১৬ অপরাহ্ন
গোপালগঞ্জে ভাসমান কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): গোপালঞ্জে ভাসমান কৃষির আধুনিক প্রযুক্তির বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২ জুলাই) শহরের সবুজবাগে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ, গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের (বারি অংগ) উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (আরএআরএস) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশালের বরিশালের আরএআরএসর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়া এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো.আলিমুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনসিটটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মহসীন হাওলাদার।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশালের আরএআরএসর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমান, বরিশালের কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বলেন, গোপালগঞ্জে ভাসমান কৃষির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এখানকার ভাসমান বেডে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ফসলের উৎপাদন অনেকাংশে বাড়বে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন। সেই সাথে হবে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন। প্রশিক্ষণে গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলার ৩০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৩, ২০২২ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
বিনা ধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক
কৃষি বিভাগ

উচ্চ ফলনশীল, স্বল্প মেয়াদি, খরাসহিষ্ণু, আলোক সংবেদনশীল ও উন্নত গুণাগুণের বিনা ধান-১৭ আবাদে কৃষি খাতে বিপুল সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ জাত আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানান, উদ্ভাবিত এ জাতের ধানগাছ খাটো ও শক্ত বলে হেলে পড়ে না। পূর্ণবয়স্ক গাছের উচ্চতা ৯৬ থেকে ৯৮ সেন্টিমিটার। পাতা গাঢ় সবুজ ও খাড়া। ধান আগাম পেকে যাওয়ায় কাটার পর জমিতে সহজেই আলু, গম বা রবিশস্য চাষ করা যায়।

বিনা ধান-১৭ উজ্জ্বল রঙের। ধান ও চাল লম্বা এবং চিকন, খেতে সুস্বাদু। এ কারণে বাজারমূল্য বেশি ও বিদেশে রপ্তানির উপযোগী। চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৪.৬ শতাংশ এবং হেক্টরপ্রতি ৬.৮ টন থেকে সর্বোচ্চ আট টন পর্যন্ত ফলন হয়।

এ ধানের চাল রান্নার পর ভাত ঝরঝরে হয় এবং দীর্ঘক্ষণ রাখলেও নষ্ট হয় না। ধানের এই জাতটি পাতা পোড়া, খোল পচা ও কাণ্ড পচা ইত্যাদি রোগ তুলনামূলকভাবে বেশি প্রতিরোধ করতে পারে। এ ছাড়া প্রায় সব ধরনের পোকার আক্রমণ, বিশেষ করে বাদামি গাছফড়িং, গলমাছি ও পামরি পোকার আক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা অনেক বেশি।

বিনা ধান-১৭ আগাম পাকে, লাভ অনেক
বিজ্ঞানীরা জানান, ধান চাষ বৃদ্ধির কারণে তেল ও ডালজাতীয় শস্যের জমি কমে যাচ্ছে। বিনা ধান-১৭ উচ্চ ফলনশীল এবং এর জীবনকাল তুলনামূলকভাবে অনেক কম বলে শস্য নিবিড়তা বাড়াতে খুবই কার্যকর। আগাম পাকা জাত হিসেবে এটি চাষ করে সঠিক সময়ে তেল ও ডাল ফসল চাষ সম্ভব।

লবণাক্ত এলাকা ছাড়া দেশের সব রোপা আমন অঞ্চল, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা এবং রাজশাহীসহ ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও পার্বত্য অঞ্চলে জাতটির বেশি ফলন পাওয়া যায়।

বিনা ধান-১৭ জাতের ধানটি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম। সহযোগী গবেষক হিসেবে ছিলেন উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামছুন্নাহার বেগম।

ড. শামছুন্নাহার বেগম জানান, ‘এ জাতের ধানটি উদ্ভাবনে পাঁচ বছর গবেষণা করা হয়েছে। বিনা ধান-১৭-এর কৌলিক সারি নম্বর SAGC-7, যা ইরি-বিনার সহযোগিতায় ইরি-ফিলিপাইন থেকে সংগ্রহ করা হয়। সারি C418 (ZHONG413)-এর সঙ্গে SH109/(ZHONG413)2 সংকরায়ন করে পরে খরাসহিষ্ণু (ZHONG413)2-এর সঙ্গে পশ্চাৎ সংকরায়ন ও জিন পিরামিডিংয়ের মাধ্যমে লাইনটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।’

তিনি জানান, এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমন মৌসুমে ফলন পরীক্ষার মাধ্যমে জাত হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। ২০১৫ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্পমেয়াদি জাত হিসেবে সারা দেশে আমন মৌসুমে চাষের জন্য বিনা ধান-১৭ নামে অনুমোদন দেয়।

বিনা ধান-১৭ জাতের ধানের উদ্ভাবক বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, ‘এ জাতটি সম্পর্কে ইতোমধ্যে কৃষকদের অবগত করা হয়েছে। নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি আবাদ হয়েছে। অল্প খরচে বেশি উৎপাদনসহ চাল বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের।’

তিনি বলেন, “এ ধানগাছের প্রতিটি শিষে পুষ্ট দানার সংখ্যা ২৫০ থেকে ২৭০টি। প্রচলিত জাতের তুলনায় ইউরিয়া সার ৩০ শতাংশ কম ও জমিতে ৪০ শতাংশ পানি কম লাগে। এ কারণে ‘গ্রিন সুপার রাইস’ হিসেবেও জাতটির নামকরণ হয়েছে।”

মহাপরিচালক বলেন, ‘চলতি মাসে বিভিন্ন জাতের ধানে এখনও শিষ বের হয়নি। এগুলো পরিপক্ব হতে আরও দেড় মাস লেগে যাবে। অথচ অন্য জাতের সঙ্গে একই সময়ে লাগানো বিনা ধান-১৭ জাতের ধান কাটা শেষ হয়েছে। কিছু জমিতে ধান থাকলেও সেগুলোও সম্পূর্ণ পেকে গেছে। এখন কৃষক ধান কাটতে ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত। আগাম ধান কাটা শেষ হওয়ায় একই জমিতে এরপর আলু, গম বা রবিশস্য চাষ করা যাবে।’

 

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop