৪:২৪ পূর্বাহ্ন

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ২৬, ২০২২ ৮:২২ পূর্বাহ্ন
শ্রাবণে যেসব শাক-সবজি চাষ হয়
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। একেক সময় একেক আবহাওয়া বিরাজ করে এই দেশে। আবহাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে দেশের কৃষকরাও একেক সময় একেক ফসল চাষাবাদ করে। আজকের লেখায় জানাবো শ্রাবণ মাসে কৃষকরা যেসব ফসল চাষাবাদ করে থাকেন সে সম্পর্কে।

শাক-সবজি চাষের জন্য প্রথম ও প্রধান কাজগুলোর একটি হলো কোন স্থানে কোন সবজির চাষ হবে ও তার জন্য উপযুক্ত মাটি তৈরি। দুইভাগ জৈব সার (গোবর, কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পোস্ট), ১ ভাগ কোকোডাস্ট ও ১ ভাগ উর্বর দো-আঁশ মাটি মিশিয়ে চারার উপযোগী মাটি তৈরি করে নিতে হবে।

মাটি বেশ মিহি, ঝুরঝুরে ও সমতলভাবে তৈরি করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকতে হবে। পর্যাপ্ত জৈব সারের পাশাপাশি পরিমিত মাত্রায় রাসায়নিক সার দিতে পারেন। আগাম রবি (শীতকালীন) সবজি যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউ, শিম, টমেটো, বেগুন এর বীজতলা তৈরি করে বীজ বপন শুরু করতে পারেন।

ছাদবাগানে ড্রাম বা টবে বা বেডে ভালোভাবে মাটি তৈরি করে সরাসরি বীজ বপন করে লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক চাষ করতে পারেন।

প্যাকেটে, ছোট টবে অথবা সিডলিংট্রেতে এগুলোর চারা তৈরি করে নিতে পারেন। বেড, টব অথবা কাটা ড্রাম প্রতি ১০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম সরিষার খৈল, ২ কেজি ছাই, ১০০ গ্রাম টিএসপি ভালোভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে মাটি তৈরি করে নিতে হবে। প্রতি বেডে, ড্রামে অথবা টবে ৩ থেকে ৪টি ভালো সবল বীজ রোপণ করতে হবে। চারা যদি আগেই তৈরি করা থাকে বা নার্সারি থেকে ৩০-৩৫ দিন বয়সী …

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৫, ২০২২ ১০:২৯ অপরাহ্ন
কৃষিতে অবদানের জন্য এআইপি সম্মাননা পাচ্ছেন ১৩ জন
কৃষি বিভাগ

কৃষি খাতে অবদানের জন্য প্রথমবারের মত ১৩ জনকে কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এগ্রিকালচারালি ইম্পরটেন্ট পারসন-এআইপি) ঘোষণা করেছে সরকার। রোববার প্রকাশিত গেজেটে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে তাদের এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

সরকার প্রতিবছর বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) ঘোষণা করে। তারা সরকারিভাবে বেশ কিছু সুবিধা ও সম্মান পান। সিআইপিদের আদলে এআইপিরাও বেশ কিছু সুবিধা ও সম্মান পাবেন।

এ সম্মাননা দিতে আগে থেকেই কাজ করছিল সরকার। এজন্য ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নীতিমালা ২০১৯’ তৈরি করে সরকার। তবে কোভিড মহামারীর কারণে এ স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব বলাই কৃষ্ণ হাজরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এবার দেওয়া হচ্ছে ২০২০ সালের পদক। ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা দেওয়া হবে।

এআইপির প্রথম সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন

কৃষি উদ্ভাবন (জাত/প্রযুক্তি) ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স ও প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক লুৎফুল হাসান, দিনাজপুরের এ আর মালিক সিডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউস সোপান মালিক, বাগেরহাটের ফিউচার অর্গানিক ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী সৈয়দ আব্দুল মতিন ও সিলেটের আলীম ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক আলীমুছ ছাদাত চৌধুরী।

কৃষি উৎপাদন, বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ক্যাটাগরিতে নাটোরের দৃষ্টান্ত এগ্রো ফার্মের মালিক সেলিম রেজা, ঠাকুরগাঁওয়ের মেহেদী আহসান উল্লাহ চৌধুরী, ঝালকাঠির এশা ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচালারাল ফার্মের মালিক মাহফুজুর রহমান, পিরোজপুরের জাগো কেঁচো সার উৎপাদন খামারের মালিক বদরুল হায়দার বেপারি, পটুয়াখালীর শাহবাজ হোসেন খান ও কুমিল্লার বিসমিল্লাহ মৎস্য বীজ উৎপাদন ও খামারের মালিক মো. সামছুদ্দীন কালু।

স্বীকৃত বা সরকার নিবন্ধিত সংগঠন ক্যাটাগরিতে নওগাঁর শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘরের উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলম শাহ।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদক পাওয়া দুজনকেও এআইপি স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তারা হলেন- পাবনার নুরন্নাহার কৃষি খামারের নুরন্নাহার বেগম এবং একই জেলার ঈশ্বরদীর মা-মনি কৃষি খামারের উদ্যোক্তা শাহজাহান আলী বাদশা।

‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নীতিমালা- ২০১৯’ অনুযায়ী এআইপি স্বীকৃতির মেয়াদ হবে এক বছর। এই এক বছরের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের একটি কার্ড দেওয়া হবে।

নির্বাচিত ব্যক্তিরা সচিবালয়ে ঢোকার পাস পাবেন, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান এবং স্থানীয় সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হবেন, সরকার পরিচালিত গণপরিবহনে (বিমান, রেল, বাস ও নৌ ভ্রমণে) আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

পাশাপাশি ব্যবসার কাজে এআইপিদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকে উদ্দেশ্যে করে ‘লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন’ ইস্যু করবেন, এআইপি ও তার নিকটাত্মীরা সরকারি হাসপাতালের কেবিনপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন এবং বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।

এ পুরস্কার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ উল্লেখ করে অতিরিক্ত সচিব বলাই কৃষ্ণ বলেন, “কোভিডকালে কৃষিতে অবদান রাখার জন্য এনাদেরকে পুরস্কৃত করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। যারা সিআইপি, আমরা দেখি শিল্পপতিরা অনেক সুবিধা পান। সেই সিআইপির আদলে আমরা এআইপি দিচ্ছি। এখানে এআইপিরা যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা পাবেন।”

এতে শিক্ষিত সমাজ ও তরুণরা উদ্বুদ্ধ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি আসছে, বাণিজ্যিক কৃষির কথা বলা হচ্ছে। রপ্তানি বাড়ছে। এসব কারণে মেধাবী তরুণরা কৃষিতে আসবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৫, ২০২২ ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
কচু চাষে এগিয়ে কুমিল্লা
কৃষি বিভাগ

জেলার বাজারগুলোতে কচু শাকের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। কুমিল্লার অলিগলিতেও কচু বিক্রি হচ্ছে। এবছর প্রায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে পানি কচুর চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১৩০-১৫০ মণ কচু পাচ্ছেন চাষিরা।

জমিতে কচুর আবাদ করে চাষিরা স্থানীয় বাজারেই দর পাচ্ছেন কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকা করে। দিন দিন কচুর লতির চাহিদা বেড়েই চলছে।

এখন থেকে ৮ থেকে ৯ হাজার টন লতি উৎপাদন হবে বলে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে। দেশে কচুর বহুবিদ ব্যবহার রয়েছে।

কচু শাক, কচুর ডগা, কচুর মুখি, ও লতি সবজি হিসাবে খাওয়া হয়ে থাকে। কচুতে প্রচুর পরিমাণ লৌহ ও ভিটামিন থাকে।

আগাম জাতের কচু চাষ করে ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে কুমিল্লার চাষিদের মুখে।

বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে লতিরাজ কচু চাষ পদ্ধতি জেনে উৎপাদন বাড়িয়ে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। বরুড়া উপজেলার কৃষক সাদ্দাম হোসেন বাসসকে বলেন, এ বছর ১০ কাঠা জমিতে আগাম জাতের কচু চাষ করেছেন। খরচও তুলনামূলক কম হয়েছে।

তিনি বলেন, ১০ কাঠা জমিতে কচু চাষ করেছি। এক কাঠা জমি থেকে ৬-৭ মণ করে কচু পেয়েছি। জমি থেকেই ৬০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করে দিচ্ছি। প্রতিবার তো এমন দাম হয় না, এবার কচুর দাম খুবই ভালো। যদি এমন বাজার থাকে তাহলে কচুতে প্রচুর টাকা আয় হবে।
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বাসসকে বলেন, কচু চাষ খুবই লাভজনক। চাষিরা কচু চাষ করে বেশ ভালো লাভ করছেন। সেই সঙ্গে দিন দিন কচু চাষ এ অঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও পুষ্টি থাকে। মুখি কচুর পাশাপাশি লতিরাজ কচু চাষ করেও কৃষকরা কম সময়ে লাভবান হচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৪, ২০২২ ৩:১৩ অপরাহ্ন
মেহেরপুরে বারোমাসি সবজি চাষ, স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষক
কৃষি বিভাগ

ফুলকপি ও বাঁধাকপির জন্য এখন আর শীতের মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ অন্যান্য অনেক সবজি এখন বারোমাস পাওয়া যায়। জেলার গাংনী উপজেলায় ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ বারোমাসই হচ্ছে। এ উপজেলার অনেক চাষি বারোমাসি বিভিন্ন সবজি চাষ করেন।

উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়নের কৃষক কিতাব আলী বলেন, এ বছর তিনি ১০-১২ বিঘা জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ করেছেন। বারোমাস সবজি চাষ করে ওই গ্রামের প্রায় ১ হাজার কৃষক স্ববলম্বী হয়েছেন।

জানা যায়, উপজেলার ধলা, নওপাড়া, হিন্দা, মাইলমারী, আযানসহ বিভিন্ন মাঠেই বারোমাসি সবজি চাষ হচ্ছে। এই সব মাঠের সবজি রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

কৃষক মো. আবুল খায়ের জানান, ১ বিঘা জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করতে খরচ হয় ২৫-৩০ হাজার টাকা। ৬০-৭৫ দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়ে যায়। খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩০-৪০ টাকার মতো লাভ হয়।

আবুল হোসেন জানান, ফুলকপি ও বাঁধাকপি শুধু শীতকালেই চাষ করতাম। গরমের সময়ও চাষ করতে পারব সেটা কখনো ভাবিনি। এখন বারোমাসই ফুলকপি-বাঁধাকপি চাষ করতে পারছি। সবজি বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান, মেহেরপুরের জমি খুব উর্বর হওয়ায় এখানে বারোমাসই সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। তাই কৃষকদের জমি খালি না রেখে বারোমাসই সবজি উৎপাদন করার পরামর্শ দিচ্ছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৩, ২০২২ ৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
লালমাই পাহাড়ে সবজি চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা
এগ্রিবিজনেস

কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়ে সবজি চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ি মাটির সবজি সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদাও বেশী। এখানকার সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

এদিকে চাষ বাড়াতে নানা উদ্যোগের কথা জানায় কৃষি অধিদপ্তর।

লালমাই পাহাড়ের লাল মাটিতে স্বপ্ন বুনে স্বাবলম্বী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। বছর জুড়েই চিচিঙ্গা, ঢেড়স, লাউ, কচু, কচুমুখি, কলা, বরবটিসহ নানা রকম সবজি চাষ করছেন তারা।

স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান জানান, বর্ষাকালে জেলার অন্য স্থানে তেমন সবজি চাষ না হলেও ব্যতিক্রম পাহাড়ি এলাকা। বর্ষাজুড়েই সবজি আবাদ হয় লালমাই পাহাড়ে। আর পাহাড়ের মাটি উর্বর হওয়ায় ফলনও হয় ভালো। পাহাড়ের এসব সবজি খেতে সু-স্বাদু। তাই এর চাহিদাও অনেক।

কৃষক সেলিম মিয়া জানান, পুরো বর্ষাকাল সবজি চাষ করেই চলে তাদের সংসার। এ বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বাসসকে বলেন, দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও অনাবাদি থাকবে না, প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লালমাই পাহাড়কে সবজি চাষের আওতায় আনা হয়েছে ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২১, ২০২২ ৩:৪৭ অপরাহ্ন
সারের সংকট হবে না,তবে ভুর্তুকি আরও বাড়বে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

দেশে সারের কোনও সংকট হবে না, তবে রাশিয়া-ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে ভর্তুকি আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে আমরা রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে সার আমদানি করতে পারছি না। তবে সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপে বিকল্প উৎস কানাডা থেকে সার আনা সম্ভব হচ্ছে। এই মুহূর্তে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সারের যে মজুত রয়েছে, তাতে আগামী বোরো মৌসুম পর্যন্ত কোনও সমস্যা হবে না।’

বুধবার (২০ জুলাই)  সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ডের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘তবে যমুনা ও চট্টগ্রাম সার কারখানা দুটিতে গ্যাস সংকটের কারণে সার উৎপাদন সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরিয়া সার নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। কারখানা দুটি চালু করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে ইউরিয়া সার আমদানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে এবং সারে ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়বে। এছাড়া, গ্যাস সংকটের কারণে সার কারখানা বন্ধ হলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হবে।’

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণে সুইজারল্যান্ডের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশ সার আমদানি করতে পারছে না এবং এর ফলে সরকারকে সারে অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে রাষ্ট্রদূতকে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সার রফতানিতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত।’

রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড সুইজারল্যান্ডের বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরকে বাংলাদেশে আনার ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন বলে এ সময় জানান।

বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি অনেক কথাই বলে, সেই ২০১৩ সাল থেকেই শুনে আসছি— তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। আমি মনে করি, তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ করার জন্য বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন দেশে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যার ফলে বিএনপিসহ সবদলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২১, ২০২২ ৬:৫৮ পূর্বাহ্ন
আশ্রয়নের রহিমার স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রীকে নিজ আঙিনার সবজি খাওয়ানো
কৃষি বিভাগ

নদীর পাড়ে আধাপাকা ঘর। সারি সারি ঘরগুলো আশ্রয়ণ প্রকল্প। এই ঘরগুলোতে থাকে গৃহহীন দরিদ্র মানুষগুলো। যাদের মধ্যে একজন রহিমা আক্তার। সহায় সম্বল হারিয়ে এখানেই বসবাস তার। ঘরের পাশেই করেছেন নানান রকম সবজির চাষ। সবুজের সমারোহে পুরো আঙ্গিনা যেন সাজছে নতুন করে। এই যেন এক অন্যরকম আমেজ। এই সবুজের তাজা সবজি প্রধানমন্ত্রী দিতে চান রহিমা আক্তার। তার জন্য তাঁর দীর্ঘ অপেক্ষা।

রহিমা আক্তার জানান, নদীতে সব ভেঙে নিয়ে গেলে আমরা সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর উপহার এই ঘর পেয়েছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, আমরা এখন বেশ ভালো আছি। নিজেরা হাঁস-মুরগী, ছাগল পালন করছি। আর বাড়ির আঙিনায় যতটা সবজি হয়, তা সবাই মিলে ভাগ করে খাই। তবে কষ্টও কিছু আছে। হাসপাতাল অনেক দূরে, বাচ্চাদের জন্যও কাছে একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। আমরাও তো চাই লেখাপড়া শিখে আমাদের সন্তানরা বড় অফিসার হোক। এছাড়া মসজিদ, কবরস্থানসহ আরও কিছু বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সরেজমিনে জয় বাংলা আশ্রয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, দুই শতাংশ জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর করে দেওয়া হয়েছে এই মানুষগুলোকে। এর সঙ্গে আছে রান্নাঘর ও টয়লেট। আঙ্গিনায় হাঁস-মুরগি পালন ও শাক-সবজি চাষেরও জায়গাও আছে বেশ খানিকটা। এছাড়া নদীর পাড়ে হওয়ায় অনেকেই পালন করেন হাঁস।

এখানে আশ্রয় পাওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশ পুরুষরাই যেখানে পেশায় জেলে, সেখানে বাড়ির নারীরাও নিজের প্রচেষ্টায় এগিয়ে নিচ্ছেন সংসার আর সন্তানদের। তাই দেখে অন্য ঘরহীন মানুষও আশা জাগায় মনে- তাদেরও একদিন এমন ঘর হবে! আর সেই ঘর উপহার দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এমনই স্বপ্ন দেখা একজন নারী রেণু বেগম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই নারী বলেন, ‘এখানে আমার বোনের মেয়ে থাকে, ওর নাম বিবি জয়নাল। আমার ঘর তো নদীতে ভাসায়ে নিয়ে গেছে বাজান, তাই আমিও আবেদন করেছি এমন একটা ঘরের জন্য। আমারও এমন একটা সুন্দর ঘর হবে একদিন, এইটাই স্বপ্ন। ’

সার্বিক বিষয়ে কমল নগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান জানান, যে মানুষগুলো নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছেন, এখন ঘর পেয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। আমরা তাদের জন্য এখানে কবরস্থান করার চিন্তা করছি। আমরা জায়গা রেডি করেছি। আমরা এখানে একটা মসজিদ করে দেব। তাদের মধ্যে এখন একটা কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট হচ্ছে। এখানে একটা প্রতিষ্ঠান আছে, আমরা খোলা একটু জায়গা রেখেছি, যেন সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো তারা এখানে করতে পারে। আমরা উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসন নিয়মিত তাদের দেখাশোনা করছি, খোঁজ-খবর রাখছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২১, ২০২২ ৬:৪০ পূর্বাহ্ন
পাটের ভালো পলন হলেও পঁচাতে না পেরে হতাশ রংপুরের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

বর্ষার মৌসুমে হচ্ছেনা বৃষ্টি। প্রচণ্ড রোদে শুকিয়ে গেছে খাল-বিল। গত কয়েক সপ্তাহের অনাবৃষ্টিতে পাট কেটে বিপাকে পড়েছেন রংপুর অঞ্চলের প্রায় ৭০ হাজার কৃষক। কৃষকরা বৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন। বৃষ্টি আসলে খাল-বিল পানিতে ভরবে তারপর পাট পঁচাতে পারবেন। কিন্তু হতাশা যেন পিছু ছাড়ছেনা তাদের।

এবছর লালমনিরহাটে পাট চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৮৫ হেক্টর, নীলফামারিতে ৬ হাজার ৭১০ হেক্টর, গাইবান্ধায় ১৫ হাজার হেক্টর, কুড়িগ্রামে ১৬ হাজার ৫৭৭ হেক্টর ও রংপুরে ৯ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা গ্রামের কৃষক নির্মল বর্মন জানান, এবছর ৭ বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি। বৃষ্টি না হওয়ায় পাট পঁচাতে পারছি না। পাট কেটে জমিতে ফেলে রেখেছি। বৃষ্টি হলে খালে পানি জমলে তখন পঁচাতে পারবো। ‘রিবন রোটিং’ পদ্ধতিতে পাট পঁচানো যায়, কিন্তু এতে পাটকাঠি নষ্ট হয়ে যায়। যদি এ সপ্তাহে বৃষ্টি না হয় তাহলে ‘রিবন রোটিং’ পদ্ধতিতেই পাট পঁচাতে হবে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, চলতি বছর রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারীতে প্রায় ৭০ হাজার কৃষক পাট চাষ করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবছর পাট চাষের জমির পরিমান বেড়েছে।

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের রংপুর আঞ্চলিক কর্মকর্তা ড. আবু ফজল মোল্লা বলেন, বৃষ্টি না হওয়ার কারণে চাষিরা পাট পঁচাতে পারছে না। আমরা তাদের ’রিবন রোটিং’ পদ্ধতিতে পাট পঁচানোর পরামর্শ দিচ্ছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২০, ২০২২ ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
পাটের ন্যায্য দাম না পেয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক
কৃষি বিভাগ

চাঁদপুরে একসময় প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। তবে বর্তমানে পাট আবাদে বিমুখ হচ্ছেন এ জেলার কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেশি এবং কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় দিনদিন আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা।

কৃষকরা জানান, গেলো বছর যেখানে প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ২৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা এ বছর তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-১৮০০ টাকা দরে।

অপরদিকে চারা রোপণ থেকে শুরু করে আঁশ প্রস্তুতকরণ পর্যন্ত প্রতি মণ পাটে ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকা টাকা খরচ হচ্ছে তাদের। এতে এ বছর পাট চাষে ব্যাপক লোকসানের শঙ্কা করছেন কৃষকরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, প্রস্তুতকৃত আঁশ কিছুদিন সংরক্ষণ করে রাখতে পারলে দাম কিছুটা বাড়বে।

চাঁদপুর কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে জেলায় দেশি, তোষা, কেনাফ ও মেস্তা জাতের পাট আবাদ হয়ে থাকে। যা বেশি আবাদ হয় সদর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায়। যদিও গত বছর পাটের দাম ভালো থাকায় চলতি বছর পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে থাকলেও আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার ২০০ হেক্টর বেশি।

এ বছর দেশি জাতের পাটের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে, তোষা আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৭২০ হেক্টর, মেস্তা ১৭৫ হেক্টর ও কেনাফ জাতের পাটের আবাদ হয়েছে ৫৩০ হেক্টর জমিতে।

এরই মধ্যে কাটা হয়েছে দেশি ৯৮৫ হেক্টর, তোষা ৯৭৫ হেক্টর, মেস্তা ১৭০ হেক্টর ও কেনাফ ৩৩০ হেক্টর জমির পাট।

চাঁদপুর সদর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কেউ পাট কাটছেন, কেউবা জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ পাটের আঁশ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ সবাই একত্রে কাজ করছে। কেউ বাড়ির আঙ্গিনায়, কেউ আবার রাস্তায়।

সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের সাহেব বাজার এলাকার কৃষক রফিক তালুকদার, নুরুল ইসলাম ব্যাপারী, বাচ্চু ব্যাপারী ও দেলোয়ার খানসহ বেশ কয়েকজন জানান, প্রতিমণ পাট উৎপাদনে চারা রোপণ থেকে শুরু করে আঁশ নেওয়া পর্যন্ত শ্রমিক খরচ পড়েছে ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকা। কিন্তু এবছর দাম মাত্র ১৫০০-১৮০০ টাকা। এতে প্রতিমণে অনেক টাকা লস দিতে হবে।

তাদের দাবি, গত বছর পাট মৌসুমের প্রথম দিকে প্রতিমণ পাটের দাম ছিল ২৪০০-২৬০০ টাকা, শেষ সময় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত পাটের আঁশ বিক্রি হয়েছে। এতে অনেকেই লাভবান হওয়ায় এবছরও চাষ করেছেন। কিন্তু এবার দাম এমন হবে তা বুঝতে পারেননি।

এভাবে চললে সামনের বছর অনেক কৃষকই আর পাট আবাদ করবে না।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ মো. জালাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, আরও কয়েকদিন যদি পাটের আঁশ সংরক্ষণ করে রাখা যায় তাহলে দাম কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কৃষকদের জন্য একটি সুখবর হলো পাটের নতুন একটি জাত উদ্ভাবন হয়েছে। আগামী বছর থেকে উদ্ভাবিত নতুন এ জাতের পাট আবাদের মাধ্যমে কৃষকরা দ্বিগুণ ফলন পাবেন এবং অধিক লাভবান হবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৬, ২০২২ ৮:১৭ পূর্বাহ্ন
বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম
কৃষি বিভাগ

কাঁচামরিচের সরবরাহে কোনো সংকট নেই। তবু দাম বেড়েছে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকার মতো।

খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও কোরবানি ঈদের কারণে চাহিদা বেশি ছিল। এ কারণে দাম বেড়েছে। তবে বাড়তি এই দাম বেশি দিন থাকবে না বলে আশা করছেন তাঁরা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, তেজকুনিপাড়া ও মগবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, যা কোরবানির ঈদের আগে ছিল ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। পাড়া-মহল্লায় দাম আরেকটু বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা দুলাল আহমেদ বলেন, বাজারে এখন ক্রেতা কম। তবে ঈদে বিয়ে-শাদিসহ নানা অনুষ্ঠান থাকে। সে কারণে মরিচের চাহিদা বেড়েছে। পাইকারি পর্যায়ে কাঁচামরিচের পাল্লায় (৫ কেজি) দাম এক থেকে দেড়শ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ কারণে খুচরা ব্যবসায়ীদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে এই বেশি দাম বড়জোর তিন-চার দিন থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop