১১:৪২ অপরাহ্ন

রবিবার, ১৫ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ২৪, ২০২১ ১২:১৭ অপরাহ্ন
আজ বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস
প্রাণিসম্পদ

বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবসে সারা বিশ্বের প্রাণী সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ একটি দিন। প্রতি বছর এপ্রিলের শেষ শনিবার সারাবিশ্বে যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, বিনামূল্যে প্রাণীর চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান, টিকাদান কর্মসূচির মতো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রতিটি দেশ পালন করে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়- “Veterinarian response to the COVID-19 crisis.”

ভেটেরিনারিয়ানরা কেবল প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখছে তা নয়, তারা কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অশ্রান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে।মহামারিতে বিশ্বে ভেটেরিনারিয়ানদের বীরত্বগাথা রচিত হয়েছে। ফাইজারের কোভিড ভ্যাক্সিন আবিষ্কার টিমের প্রধান ড. আলবার্ট বোরলা একজন ভেটেরিনারিয়ান। পিপিই নিরাপদে পুনঃব্যবহারের কৌশলের আবিষ্কারক এফ. হ্যাঙ্কেনসনও ভেটেরিনারিয়ান।

বিজন কুমার শীল একজন আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি ভাইরোলজিস্ট, ভ্যাকসিনোলজিস্ট এবং ভেটেরিনারিয়ান বিজ্ঞানী। এর আগে সিঙ্গাপুরে দীর্ঘদিন অবস্থান করা এই ভেটেরিনারি বিজ্ঞানী সেখানে সার্স করোনা ভাইরাস-১ এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের র‌্যাপিড টেস্ট কিট উদ্ভাবন করেও অনেক আলোচিত হয়েছিলেন।

২০০১ সালে বিশ্ব ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন ভেটেরিনারি পেশার সঙ্গে কর্মরত সকল ভেটেরিনারিয়ানদের জন্য একটি বিশেষ দিন আয়োজনের প্রস্তাব করে। যেটা নির্ধারিত হয় প্রতি বছরের এপ্রিল মাসের শেষ শনিবার। দিবসটির মূল লক্ষ্য ভেটেরিনারি পেশাকে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। প্রাণী, পরিবেশ ও মানুষের উন্নয়নে কাজ করা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রাণী পরিবহন ও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখা।

বাংলাদেশে ২০০৮ সালে প্রথম দি ভেট এক্সিকিউটিভ আয়োজন করে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবসটি। বর্তমানে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন (বিভিএ), দি ভেট এক্সিকিউটিভ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি ছাত্র সমিতি যৌথভাবে দিনটি নানা আয়োজনের সঙ্গে উদযাপন করে থাকে।

একটি দেশের পুষ্টি বিশেষ করে প্রোটিন, আমিষের চাহিদার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন এই ভেটেরিনারিয়ানরা।দেশের মোট প্রাণিজ আমিষের ৭৬ শতাংশ আসে ডিম, দুধ ও মাংস থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, ইউনিসেফ, রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ও চিকিৎসকরা করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে বেশি করে দুধ, ডিম, মাংস খাওয়ার পরামর্শ দেন। যেগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে ভেটেরিনারিয়ানরা। গত দশ বছরে দেশে ডিম উৎপাদন বেড়েছে চারগুণ, দুধ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ, মাংস উৎপাদন বেড়েছে প্রায় আটগুণ।

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে স্পেনের মাদ্রিদে বিশ্ব ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়। জনস্বাস্থ্যের দিক বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, হিউম্যান মেডিকেল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিকেল সায়েন্সকে একীভূত করে ওয়ান হেলথ ইস্যুতে কাজ করছে। উন্নত দেশে ভেটেরিনারি ডাক্তার ও হিউম্যান মেডিকেল ডাক্তাররা এক হয়ে কাজ করে যাচ্ছে এই সংকট মোকাবিলায়। কিন্তু অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ভেটেরিনারি ডাক্তার ও মেডিকেল ডাক্তারদের সমন্বয় তেমন নেই বললেই চলে। উভয়েই সমন্বয় সাধন করে কাজ করলেই হতে পারে প্রাণিসম্পদ তথা মানবসম্পদের কল্যাণ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ১০:৫৪ অপরাহ্ন
কোভিড-১৯ ক্রাইসিসে বাংলার ভেট সমাজের ভুমিকা ও আমার উপলব্ধি
প্রাণিসম্পদ

ডা. নাজমুল হুদাঃ আমি এমন একজন পেশাজীবি যার নামের ইংরেজী শব্দটি ব্যবহার করলে শিক্ষিত মানুষকে একটু দম নিতে হয় । কম শিক্ষিত মানুষেরা আবিষ্কার করেন এক নতুন শব্দ । আর আধা শিক্ষিত কীংবা অশিক্ষিত জনগণ সৃষ্টি করেন লেজে গোবরে পরিস্থিতি ।উদাহরণ দিলেই পরিষ্কার হবে । গ্রামের বাজারে কোন কারণে উপজেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা এসেছেন । তাদের সম্মানে ও আপ্যায়নে এগিয়ে আসেন ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ ও বিত্তশালী লোকেরা । বিত্তশালীদের একজন হচ্ছেন এক ভেটেরিনারিয়ানের বাবা । সবাই পরিচয় করিয়ে দিলেন ইনি একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার বাবা । কর্মকর্তাগণ ভদ্রলোককে সম্মান জানিয়ে পাশে বসালেন । একজন কর্মকর্তা জিজ্ঞেস করলেন ” চাচা আপনার ছেলে কিসে চাকুরি করে ? জবাবে ভেটেরিনারিয়ানের বাবা বললেন ” আমার ছেলে ব্যাটালিয়ান সার্জন ।”
সবাই একটু নীরব হয়ে চার পাশে তাকাতে লাগলেন । আকারে ইঙ্গিতে অন্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করলেন । পরিস্থিতি যে গোলা হয়ে যাচ্ছে তা চাচা বুঝতে পেরে নিজেই বললেন ” আমার ছেলে এগ্রিকালচার ইনিভার্সিটি পড়ছে । বিসিএস পাশ করছে ।” কৃষি অফিসার বলেই ফেললেন তাহলে আপনার ছেলে ভেটেরিনারি সার্জন । গ্রামের সহজ সরল বাবা তাঁর ছেলেকে এমন একটি ডিসিপ্লিনে পড়াশুনা করালেন যার নামটাই তিনি সঠিক করে বলতে পারেন না । আরেকটু যদি উপরের দিকে যাই যারা কিছু পড়াশুনা করেছেন , দুই একটা সনদও সংগ্রহ করেছেন সরকারের নিকট থেকে । তারা আমার ডিসিপ্লিনকে কীভাবে উচ্চারণ করেন ? হয় তারা ভেটানি সাইন্স অথবা ভেটারি সাইন্স এর মত একটা উচ্চারণ করেন । যারা এই উচ্চারণগত জটিলতায় যেতে চান না তাদের হাতে সহজ একটা শব্দ আছে তা হচ্ছে পশু ডাক্তার । আরেকটু শ্রুতি মধুর শব্দ ব্যবহার করলে প্রাণি চিকিৎসক । জেনে রাখা দরকার পশু ডাক্তার/প্রাণি চিকিৎসক শব্দগুলি ভেটেরিনারিয়ান এর প্রতিস্থাপন নয় ।
কিছুটা তৃপ্তিবোধ নিয়ে লিখছি । বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য সিটিকর্পোরেশন এলাকায় পোষা প্রাণি-পাখি লালন পালন এর ক্ষেত্রে একটা ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে । আমি হাসপাতালে গেলে সিএনজি কীংবা উবারে যাই । কিন্তু পোষা খরগোশ যখন আমার কাছে আসে সে মালিকের প্রাইভেট কারে আসে । আর ঐ মালিক কিন্তু আমাকে ভেট বলেই ডাকেন । আমাকে প্রাণি চিকিৎসক বললে আমাকে সংক্ষিপ্ত করা হয় । ছাটাই করা হয় আমার অনেক ভূমিকাকে । ভেটেরিনারি শব্দটার ব্রান্ডিং চাই । শুরু হয়ে গেছে । উপজেলা লাইভস্টক অফিস ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল লিখতে এখন আমরা বাধ্য । জেলায় জেলায় বসে পড়েছেন জেলা ভেটেরিনারি অফিসার । বিভাগীয় পর্যায়ে উপ-পরিচালক, ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ ।
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের বর্ষপূর্তি হয়ে গেল । ইতিমধ্যে নতুন ভেরিয়েন্ট এর আমদানী হয়ে গেছে । শেষ কোথায় না পারছি আমরা বলতে না পারছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলতে । চলুন দেখি জীবন না থামিয়ে রেখে কীভাবে মোকাবেলা করে যাচ্ছে বাংলার ভেট সমাজ ।
০১) ভেটেরিনারিয়ানগণ জুনুটিক ডিজিজ নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে কাজ করেন ওয়ান হেলথ এর মাধ্যমে । কোভিড-১৯ সংক্রমনের সাথে সাথে পথে বসতে যাচ্ছিল প্রাণিসম্পদ প্রোডাক্টসমূহ । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যানার ফেস্টুনে পশু পাখির মাধ্যমেও ছড়ায় ধরণের তথ্যগুলি আসছিল মিডিয়াতে । ভেটসমাজ এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান দিয়েছেন । এক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন ।বাংলাদেশে ওয়ান হেলথ কো-অর্ডিনেটর একজন ভেটেরিনারিয়ান যিনি আউটব্রেকের পর থেকে অদ্যবধি ওয়েবিনার , সেমিনার ইত্যাদির মাধ্যমে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ মুভমেন্টের সাথে জড়িত । ভেটেরিনারি নেতৃবৃন্দকে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবসের শুভেচ্ছা ও লাল আমার সালাম ।
০২. প্রাণিজ প্রোটিনের উৎপাদন ও নিরবিচ্ছিন সরবরাহে ভেট সমাজ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কোভিড প্রতিরোধ এর জন্য লক ডাউনের শিকল ভেঙ্গে মাঠে নেমেছে ভেট সমাজ । উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য থাকছে খামারীর পাশে । উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য সররকার চালু করেছেন ডিম, দুধ, মাংসের ভ্রাম্যমান বাজার । তাতে মনিটরিং করছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেট সমাজ । অনেকেই কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন । অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন কেউবা ফিরে এসেছেন মৃত্যুর দুয়ার থেকে তবু পেশাগত দায়িত্বে থেকেছেন অটুট ।
০৩) কোভিড-১৯ ডায়াগনোসিস এ ভেট সমাজ ।
তৃণমূল পর্যায়ে পিসিআর ব্যবহারে যখন হিমশিম খাচ্ছিল সরকার তখনই রেপিড ডট ব্লট এর মাধমে কোভিড-১৯ সনাক্তকরণ কিট আবিষ্কারের ঘোষনা দিয়েছেন ভেট সমাজের অহংকার ড. বিজন কুমার শীল । কিট সরকার কিনেনি সেটা ভিন্ন কথা । কিন্তু তাঁর গবেষণা অব্যাহত । হয়তো আরও কোন বড় চাপটারে দেখা যাবে ড. শীলকে । স্বল্প প্রশিক্ষণে পিসিআর অপারেশনে যখন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকগণ তখন তাদের পাশে টেকনোলজি নিয়ে হাজির হয়েছে আইসিডিডিআরবি’র ভেটেরিনারিয়ান ড. সৈয়দ মাজেদুর রহমান শাকিল । ভেটদের ভূমিকায় সন্তুষ্ট হয আইইডিসিআর । পরবর্তীতে পিসিআর ল্যাবগুলিকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য গঠন করে ন্যাশনাল এক্সপার্ট পুল যেখানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ০৩ জন ভেটেরিনারি একাডেমিশিয়ান । তারা হলেন ড. নাজমুল হুসাইন নাজির, প্রফেসর (মাইক্রোবায়োলজি), এবং প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নুরুজ্জামান খোকন এবং ড. রোকসানা পরভীন মিথুন ।
সবার আগে হাত তোলে নিজেদের পিসিআর ল্যাবে মানুষের করোনা শনাক্তের দায়িত্ব নিলেন বিএলআরআই এর ভেটেরিনারিয়ানগণ । কোভিড-১৯ ক্রাইসিসে ইহা বাংলাদেশের ভেটেরিনারিয়ানদের জন্য একটি গৌরবময় অধ্যায় । চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারিয়ানগণও তাদের পিসিআর ল্যাবে করেছেন কোভিড-১৯ টেস্ট । শুধু তাই না ভেটিরিনারি শিক্ষার এই চমৎকার বিদ্যাপিঠ জামালপুরস্থ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজকে পিসিআর মেশিন দিয়ে সহযোগীতা করেছে ।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের কোভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পিসিআর মেশিন সরবরাহ থেকে শুরু করে অন্যান্য সাপোর্ট সার্ভিস ক দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক । তার মধ্যে ড. পূর্বা ইসলাম, প্রফেসর (ফার্মাকোলজি) অন্যতম ।
০৪) কোভিড-১৯ ক্রাইসিসে ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদের পাশে ভেট সমাজ
কোভিড-১৯ ক্রাইসিস এ ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদের প্রণোদনা দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এর এলডিডিপি প্রকল্প । আর তা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কঠোর পরিশ্রম করছেন অধিদপ্তরে কর্মরত ভেটেরিনারিয়ানগণ ।
উপসংহার :
প্রাণি চিকিৎসক কীংবা পশু চিকিৎসক নয় আমার ভেটেরিনারিয়ান বা ভেট শব্দটা চাই । হিউম্যান ডিজিজ কন্ট্রোলে ভেটদের যে ভূমিকা আছে তার ব্রান্ডিং চাই । বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল ভেটেরিনারিয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা । বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস সফল হউক । করোনার কবল থেকে মুক্তি পাক মানব সমাজ ।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ৮:২০ অপরাহ্ন
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কৃষককে দুটি গরু কিনে দিলেন যুবক
পাঁচমিশালি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চরবেতকান্দি গ্রামে বজ্রপাতে দুটি গরু মারা যায় দরিদ্র কৃষক ফরিদের। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েন এই কৃষক। মারা যাওয়া ষাঁড় দুটির আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় লাখ টাকা। তার এই অসহায়ত্ব দেখে ফেসবুকে সহযোগিতা চেয়ে পোস্ট দেন মামুন বিশ্বাস নামের এক যুবক। সকলের করা সহযোগিতায় কৃষককে দুটি ষাঁড় কিনে দিয়েছেন মামুন।

শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে শাহজাদপুরে চরবেতকান্দি গ্রামে ফরিদের বাড়িতে গিয়ে দুটি গরু তুলে দেন তিনি। এর আগে সকালে এনায়েতপুর হাট থেকে ৬২ হাজার ৩০০ টাকায় গরু দুটি কেনেন।

কৃষক ফরিদ বলেন, ‘ষাঁড় দুটির মৃত্যুতে পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। আজকে সত্যি অনেক খুশি লাগছে নতুন দুটি ষাঁড় পেয়ে। এই গরু দুটি ভালোভাবে লালন-পালন করে আমার স্বপ্ন পূরণ করবে ইনশা আল্লাহ।’

যুবক মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল রাতে কালবৈশাখীর বজ্রপাতে ফরিদের দুটি গরুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আমি সকালে ফরিদের বাড়িতে গেলে সবার কান্নাকাটি দেখে বিস্তারিত ঘটনা লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেই। পোস্ট দেখে আমার ফেসবুক বন্ধুরা ৬২ হাজার ৫০০ টাকা পাঠান। সেই টাকা দিয়ে আজকে গরু দুটি কিনে দিলাম।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ৭:৩৪ অপরাহ্ন
রাজধানীর ২০টি স্থানে কম দামে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি অব্যাহত
প্রাণিসম্পদ

করোনায় জনদূর্ভোগ কমাতে সরকারের উদ্যোগে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করায় বেশ উপকৃত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। আর এসব খাদ্যপণ্য তারা পাচ্ছেন একেবারেই কম দামে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শুধ ঢাকা সিটিতেই ২০টি পয়েন্টে চলছে এই কার্যক্রম।

খামারে উৎপাদিত দুধ প্রতি লিটার ৬০, প্রতিপিস ডিম ৬ টাকা ও এককেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। সরকারের এ উদ্যোগে সন্তুষ্ট সব শ্রেণির ক্রেতা।

ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী রফিকুজ্জামান জানান, দেশব্যাপি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে খামারিদের কাছ থেকে কেনা দামেই সরকার ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে অস্থায়ী ডিপো থেকে রাজধানীতে দুই শিফটে ২০টি পয়েন্টে প্রতিটি গাড়িতে বিক্রি করা হচ্ছে সাড়ে তিনশ’ লিটার দুধ, দুই হাজার পিস ডিম ও ৫০ কেজি মাংস।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ৭:০৬ অপরাহ্ন
গাইবান্ধার প্রান্তিক খামারিরা পাচ্ছে না সঠিক কোন সেবা!
প্রাণিসম্পদ

দীর্ঘদিন থেকে গাইবান্ধায় প্রাণিসম্পদ দফতরের (পশু হাসপাতাল) সেবা না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রান্তিক খামারিরা। আর এতে করে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে তাদের। অনেক পুরাতন খামার বন্ধ হয়ে গিয়েছে আবার সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতার অভাবে অনেক নতুন খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ অবস্থায় সাধারণ খামারি ও পশু পালনকারীরা গবাদিপশুকে বাঁচাতে অর্থের বিনিময়ে ব্র্যাক কিংবা যুব উন্নয়ন থেকে বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাধারণ পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এতে একদিকে খামারিরা আর্থিকভাবে হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত, অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ দফতরের অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তবে প্রাণিসম্পদ দফতর বলছে, নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে খামারিদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা শহরসহ ও বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে সরেজমিনে গেলে প্রাণিসম্পদ দফতরের অসহযোগিতার কথা জানিয়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। অনেকে সরকারি দফতরের নাম শুনলেও বাস্তবে কোনো ভেটেরিনারি সার্জনের সেবা তো দূরের কথা, চোখেও দেখেনি বলে জানিয়েছেন। এমন চিত্র জেলার সাত উপজেলাজুড়েই।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার চক মোমরোজপুর গ্রামের খামারি গোলাম মোস্তফা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে গরুর খামারের সঙ্গে যুক্ত আমি। আমার খামারে বর্তমানে ৭টি গরু আছে। প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে কোনো পরামর্শ কিংবা সহযোগিতা পাইনি। বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোতেও তাদের দেখা পাইনি আমরা। বাধ্য হয়ে টাকার বিনিময়ে বেসরকারি পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিই আমি।

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হরিণসিংহা গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি মতিয়ার রহমান বলেন, পশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা সাধারণত গ্রামে আসেন না। গবাদিপশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলে তাদের অফিসে নিয়ে যেতে বলা হয়। অফিসে গরু নিতে গেলে কমপক্ষে ভাড়া বাবদ এক হাজার টাকা খরচ হয়। আমাদের মতো ছোট খামারির পক্ষে এত টাকা ব্যয় করা সম্ভব নয়। কয়েকবার ফোন করার পর যদি কোনো চিকিৎসক আসেন, চিকিৎসা শেষে তাদের আবার তেল খরচ বাবদ টাকা দিতে হয়।

একই গ্রামের ইসলাম আকন্দ বলেন, পশু হাসপাতালের নাম শুনি। অনেকে সেবা পায়। কিন্তু ৩০ বছর থেকে গরু পালন করি, তাদের কোনো সেবা পাইনি আমি। গত বছর সঠিক চিকিৎসার অভাবে আমার একটা বড় গরু মারা গেছে। গ্রাম্য পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আমরা গরু বাছুর লালন-পালন করি।

আরিফুল ইসলাম নামের একজন বলেন, প্রাণিসম্পদ দফতর জেলার বড় খামারগুলোয় সেবা দেয় শুনেছি। গ্রাম পর্যায়ে তারা কোনো সেবা দেয় না। গ্রামের ছোট খামারিরা তো টাকা দিতে পারেন না। তাই তাদের ভাগ্যে সেবাও জোটে না।

দক্ষিণ ধানঘড়া গ্রামের পারুল বেগম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করি। কোনো দিনও পশু হাসপাতালের কেউ আসেনি। হাঁস-মুরগি ছাগলের অসুখ হলে টাকা দিয়ে ব্র্যাক থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেই।

সেবা না পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাঠপর্যায়ে আমাদের সঙ্গে এখন অনেক মানুষ করে। প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে কৃত্রিম প্রজননকারী ও একজন করে ভ্যাকসিনেটর ও লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার গ্রামে গ্রামে ঘুরে খামারিদের সেবা দিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, এ ছাড়া উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারাও বিভিন্ন খামার ও গ্রাম পর্যায়ের খামারিদের সেবা দেন। ভেটেরিনারি সার্জনরা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কল এলে সেখানে গিয়ে সেবা দিয়ে থাকেন। তা ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একজন ভেটেরিনারি সার্জন দিয়ে সবার কাছে সেবাটা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তবু আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না।সূত্র: ঢাকা পোস্ট

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ৫:২৩ অপরাহ্ন
বরিশালে ভ্রাম্যমাণ দুধ-ডিম ও মাংস বিক্রি উদ্বোধন
প্রাণিসম্পদ

করোনাকালীন প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বরিশালের উদ্যোগে এবং বরিশাল জেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় গত ৮ এপ্রিল ভ্রাম্যমাণ দুধ, ডিম এবং পোল্ট্রি বিক্রয় কেন্দ্র বরিশাল শহরে এবং ১০টি উপজেলায় চালু করা করা হয়েছে।

এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি এবং সচিব রওনক মাহমুদ এর নির্দশেনায় পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বরিশাল নগরিতে ন্যায্যমূ্ল্যে মাংস বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, বরিশাল বিভাগ, এডিএম সাইফুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ডা.মো. নুরুল আলম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বরিশাল, ডা. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা,বরিশাল, ডা.প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বরিশাল সদর, ডা. মো. আশরাফুল আলম,ভেটেরিনারী সার্জন, জেলা ভেটেরিনারী হাসপাতাল,বরিশাল,ডেইরী ফার্মস এসোসিয়েশন,বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মশিউর রহমান সুমনসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ,ভোক্তাগণ এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃ্ন্দ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
ডিসির কাছ থেকে গরু পেয়ে খুশিতে অশ্রু‌সিক্ত বৃদ্ধা
পাঁচমিশালি

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাস‌ক ড. কেএম কামরুজ্জামান সে‌লিমের কাছ থে‌কে গরু ও আর্থিক সহায়তা পে‌য়ে আন‌ন্দে অশ্রু‌সিক্ত হ‌য়ে‌ছেন এক বৃদ্ধা। তিনি শহরের আদর্শ কলোনির বৃদ্ধা ম‌নোয়ারা খাতুন।

বৃহস্প‌তিবার জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সে‌লিম মনোয়ারা খাতুনকে এক‌টি গরু ও কিছু আর্থিক সহায়তা এবং চাল, ডাল তেলসহ শুকনা খাবার উপহার দেন। আশা পূরণের আনন্দে এসময় অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন মনোয়ারা খাতুন।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন-এর আয়োজনে জেলায় কর্মরত ৬১টি দপ্তর এবং কিছু এনজিও ও জনপ্রতিনিধির আর্থিক সহায়তায় শতভিক্ষুককে বকনা বাছুর উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল। মনোয়ারা খাতুন তখন ওই উপহার থেকে বঞ্চিত হন। প‌রে বিষয়টি জানতে পারেন জেলা প্রশাসক।

প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসক যে গণশুনানি করেন, সেখানে উপস্থিত হন মনোয়ারা খাতুন।

গণশুনানিতে সাধারণত স্বল্প পরিসরে চিকিৎসা সহায়তা, বই ক্রয়ের জন্য সহায়তা, ফরম ফিলাপের জন্য সহায়তা, জমি-জমা সংক্রান্ত সহায়তা ইত্যাদি সহায়তা করা হয়। সেখানে কাউকেই গরু-ছাগল বা এ জাতীয় সহায়তা সাধারণত করা হয় না। তবে মনোয়ারা খাতুন গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক‌কে এমনভাবে কনভিন্স করেছেন যে, জেলা প্রশাসক তার আবদার ফি‌রি‌য়ে দি‌তে পারেননি।

জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সে‌লিম জানান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন একইভাবে আনন্দিত মনোয়ারা খাতুনের আনন্দে। এভাবে ছোট ছোট আনন্দ মানুষের মুখে ফুটানোই জেলা প্রশাসনব্রত বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২২, ২০২১ ৬:৪৬ অপরাহ্ন
সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের দু‘গরুর মৃত্যু
পাঁচমিশালি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চরবেতকান্দি গ্রামের দরিদ্র কৃষক ফরিদ হোসেন ঋণ নিয়ে কিনছিলেন দুটি গরু। যার ঋণের কিস্তি এখনও পরিশোধ না হতেই বজ্রপাতে মারা যায় তার দুটি গরু। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েন অসহায় কৃষক। গরু দুটির মূল্য আনুমানিক প্রায় লাখ টাকা।

বুধবার (২১ এপ্রিল) রাতে শাহজাদপুর উপজেলার ওই গ্রামটিতে কালবৈশাখীর ঝড় আঘাত হানে।

কৃষক ফরিদ হোসেন জানান, তিনি অন্যের জমিতে দিনমজুর শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। চলতি বছরে এনজিও থেকে ৬৫ হাজার লোন নিয়ে আর সঞ্চিত কিছু টাকা দিয়ে ৭৪ হাজার টাকায় গরু দুটো কেনেন।

বুধবার রাত ১০ দিকে বজ্রপাতের বিকট শব্দ হলে গোয়ালঘরে ঢুকে দেখতে পান দুটি গরুই ঝলসে মাটিতে পড়ে আছে। আশেপাশে লোকজন ছুটে আসলেও তার আগেই একটি গরু মারা যায়। আর একটি নড়াচড়া করতে করতেই কিছুক্ষণের মধ্যে মারা যায়।

ফেসবুকের মাধ্যমে মানবসেবার কাজ করা মামুন বিশ্বাস বলেন, বুধবার রাতে কালবৈশাখীতে ঋণের টাকায় কেনা দু’টি ষাঁড়ের বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ফরিদের স্ত্রী মমতা কান্না করছেন। কিভাবে কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত তিনি।

তিনি আরো বলেন, অন্যদিকে তার ছেলেও কিডনি রোগে আক্রান্ত। সব মিলিয়ে একটি পরিবারের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। যদি কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি এ অসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়ান তাহলে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন তারা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২২, ২০২১ ৩:৫০ অপরাহ্ন
“ওয়ান হেলথ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ” উপদেষ্টা পরিষদের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত
প্রাণিসম্পদ

ওয়ান হেলথ্ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ এর জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ, সক্রিয় সদস্য এবং বাছাইকৃত স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত ১২ এপ্রিল অধ্যাপক পরিতোষ কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানটি স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু করে ওয়ান হেলথ্ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ এর জাতীয় সমন্বায়ক অধ্যাপক মো. আহসানুল হক, “ওয়ান হেলথ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ এর কার্যক্রমের অগ্রগতি” বিষয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে এ যাবতকালীন গবেষণা প্রকল্পটির সকল কর্মকাণ্ডর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। এবং এই প্রকল্পে ইউকে’র সরকারি উন্নয়ন সহায়তার বাজেট হ্রাসের প্রভাব বিষয়টি উত্থাপন করেন।

সভায় ড্রেস্ড পোল্ট্রি মাংসের মান উন্নয়নের বিষয়ে সুপারিশ করেন ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সাইন্স এসোসিয়েশান এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলএর সম্মানিত সভাপতিবৃন্দ।

তারা বলেন, বাংলাদেশে পোল্ট্রি সেক্টর উন্নয়নের একটি ধাপ হতে পারে ড্রেসড পোল্ট্রি রপ্তানিকরণ। যা শুরু করার জন্যে পোল্ট্রি খামারকরণে জোনিং বা কম্পার্টমেন্টালাইজেশান ও দেশের অভ্যন্তরীণ জবাইখানাগুলোর মান উন্নয়ন এবং প্রচলিত প্রাণি জবাই আইন‘টিকে দৃঢ়ভাবে মাঠ-পর্যায়ে প্রয়োগ করা জরুরি। সেই সাথে প্রয়োজন এর ক্রমবর্ধমান প্রসার।

আলোচনায় উপস্থিত বক্তারা ২৫ দিন বয়সী ব্রয়লার মুরগী বিক্রয় কিংবা জবাই না করে, ৩৫ দিন বয়স পর্যন্ত মুরগী পালন করে তারপর বিক্রয় এবং জবাই করার কথা বলেন।

তারা আরো বলেন, ২৫ দিন বয়সী মুরগীর মাংস পরিপূর্ণভাবে উন্নত হয়না বলে এর স্বাদ অতোটা ভালো হয়না এবং পুষ্টিগত মানও কম থাকে। অতিরিক্ত দিন ব্রয়লার মুরগী পালন করায় খামারীরা যাতে ভালো মূল্যে সেগুলো বিক্রয় করতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা জরুরি।

এছাড়া তারা খামার নিবন্ধনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, খামারের সঠিক জীব-নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা দেখে খামারীকে খামার পরিচালনা করার বৈধতা দেয়া উচিত। এতে করে খামারে যেমন রোগবালাই কম হবে, তেমনি এন্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগও কমে যাবে। এসব বিষয়ে সরকারি নীতিমালা আরো জোরালো করা প্রয়োজন এবং সেগুলোর বাস্তবিক প্রয়োগ আবশ্যক বলে মনে করেন বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচকরা।

সরকারের সঠিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের পোল্ট্রি সেক্টর আগামি ৫ বছরেরর মধ্যে মাথাপিছু ২১০টি ডিম এবং ১২কেজি মাংস উত্পাদনে সক্ষম হবে। ন্যাশনাল প্ল্যান ফর এভিয়ান এন্ড প্যান্ডেমিক ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রিপেয়ার্ডনেস প্ল্যান-৩ শিরোনামে তৃতীয় পরিকল্পনা পর্যালোচনা সভা অনলাইনে আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়।

পোল্ট্রি খামারি, মাঠ-পর্যায়ে কর্মরত ভেটেরিনারিয়ান এবং ভেটেরিনারি মেডিসিন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে ওয়ান হেলথ্ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ দুইটি অনলাইন প্রশিক্ষণ সিরিজ‍ এর আয়োজন করে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

সিরিজ দুইটিতে (১২ টি পর্বের সিরিজ-১ এবং ১৩ টি পর্বের সিরিজ-২) পোল্ট্রি খামারকরণ, রোগবালাই, রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাময় এবং জীব-নিরাপত্তাসহ মাঠ-পর্যায়ে পোল্ট্রি সেক্টরে প্রয়োজনীয় নানা বিষয় আলোচনা করা হয়।

খুব শীঘ্রই পোল্ট্রি খামারী এবং আগ্রহী গ্রাহকদের জন্যে সিরিজ-১ ‍এর উপর একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ এবং অনুষ্ঠানগুলোর রেকর্ড এবং ভিডিও করা সংস্করণগুলো সরবারহ করা হবে।

এই গ্রন্থটিসহ ওয়ান হেলথ্ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ, পোল্ট্রি খামারী, মাঠ-পর্যায়ে কর্মরত ভেটেরিনারিয়ানদের এবং ভেটেরিনারি অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্যে সহায়িকাস্বরূপ আরো একটি গ্রন্থ তৈরী করেছে যাতে রয়েছে পোল্ট্রি খামারকরণ, রোগ সংক্রান্ত তথ্যাদিসহ মাংস এবং পোল্ট্রি প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মধ্যে কোভিড-১৯ এর ঝুঁকি হ্রাসকরণ এবং কর্মক্ষেত্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কৌশল নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তাছাড়া, জীবাণুর বিরুদ্ধে এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা বিষয়ে আইসিডিডিআরবি, ফ্লেমিং ফান্ড এবং ওয়ান হেলথ্ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ এর যৌথ প্রজেক্ট এবং বাংলাদেশে ওয়ান হেলথ্ এপ্রোচ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সুদূরপ্রসারতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

পরিশেষে, কোভিড-১৯ এর কারণে হাব প্রজেক্টের বাজেট কমে যাওয়ার সত্ত্বেও বর্তমানে এর চলমান কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে পোল্ট্রি পণ্য সহজ পরিবহন বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে এই আলোচনা সভাটি শেষ হয়।

অনলাইন সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এবং এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ, মেজর জেনারেল ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান (মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর), ডা. শেখ আজিজুর রহমান (মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর), ডা. মোঃ আব্দুল জলিল (মহাপরিচালক, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এবং গবেষণা ইন্সটিটিউট), অধ্যাপক ড. নিতীশ চন্দ্র দেবনাথ (জাতীয় সমন্বায়ক, ওয়ান হেলথ্ বাংলাদেশ), অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমান (সাবেক পরিচালক, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট), অধ্যাপক, ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা (অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়), অধ্যাপক ড. তাহমিনা শিরিন (পরিচালক, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট), অধ্যাপক মো. ড. আব্দুল আলিম (বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ)।

আরো উপস্থিত ছিলেন, মশিউর রহমান (সভাপতি, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল), মো. আবু লুতফে ফজলে রহিম খান (সভাপতি, ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সাইন্স এসোসিয়েশান), ডা. মো. গিয়াসউদ্দিন (সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এবং গবেষণা ইন্সটিটিউট), অধ্যাপক ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস (সিভাসু), ড. আব্দুস সামাদ (মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এবং গবেষণা ইন্সটিটিউট), ড. মোজাফ্ফর গণি ওসমানি (প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর), ডা. রাশেদ মাহমুদ (সিভাসু), ডা. মাহমুদুল হাসান (বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এবং গবেষণা ইন্সটিটিউট), ডা. সুদীপ্তা সরকার (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট), ডা. নুরুন নাহার চিশতী (সিভাসু), ডা. মেহেরজান ইসলাম (সিভাসু), ডা. সৈয়দা মুনিরা দিলশাদ (সিভাসু), ডা. ইশরাত জাহান ইশা (সিভাসু) এবং অধ্যাপক ড. মোঃ আহসানুল হক (সিভাসু)।

এতে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন agriview24.com

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২২, ২০২১ ৩:০৬ অপরাহ্ন
মনপুরায় ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে দুধ-ডিম ও মাংস বিক্রি উদ্বোধন
প্রাণিসম্পদ

উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মাস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ফার্মাস এসোসিয়েশন এর বাস্তবায়নে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এর ব্যবস্থাপনা ও প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্প, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় মনপুরায় ভ্রাম্যমান গাড়িতে দুধ ডিম বিক্রি করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল)প্রতি পিস ডিম ৬ টাকা, ১ লিটার দুধ ৫০/- টাকায় বিক্রির ঘোষণা দিয়ে সকাল ৮ টায় মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট বাজারে কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. শামীম মিঞা।

এসময় উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. লোকমান ও ডেইরি ফার্ম ও পোল্ট্রি ফার্মের উদ্যোক্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

করোনাকালে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাণিজ পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকারের ন্যায্য মুল্যে দুধ, ডিম বিক্রির এই উদ্যোগ পুরো রমজান মাস জুড়ে চলবে। মনপুরা উপজেলায় হাজির হাট, বাংলা বাজার ও রামনেওয়াজ বাজারে এই কর্মসূচীর আওতায় দুধ, ডিম বিক্রি করা হবে।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দুধ, ডিম ক্রয় করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop