৭:৩১ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ৩১, ২০২১ ৮:০৬ অপরাহ্ন
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তেনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ইনোভেশন শোকেসিং-২০২১ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

মন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারিকালেও দেশকে উচ্ছৃঙ্খলতার মাধ্যমে অস্থিতিশীল করার জন্য স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক একটি মহল মাঠে নেমেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ পছন্দ করে না, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ পছন্দ করে না, বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য স্বাধীন বাংলাদেশ পছন্দ করে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান মিলে হাজার বছরের ভাতৃত্ব ও সহমর্মিতার বাংলাদেশ পছন্দ করে না।

সেই চক্র শেষ হয়ে যায়নি। এ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা বিএনপি দিয়েছে, জাতীয় পার্টি দিয়েছে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের ক্ষমতায় এনে রাজাকার শাহ আজিজ, আব্দুল আলীম, মাওলানা মান্নান, খান এ সবুরদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে বিশ্বাসঘাতকের নাম ছিল মীর জাফর, ১৯৭৫ সালে সেই বিশ্বাসঘাতকের নাম হয়েছে খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমান। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যারা নষ্ট করতে চাইবে, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ যারা ধ্বংস করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর-কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে, বঙ্গবন্ধুকে আঘাত করবে, স্বাধীনতার স্বপ্নে আঘাত করবে তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রেজাউল করিম বলেন, সংবিধোনের ৭ (ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংবিধানের কোনো বিধি-বিধানকে অসাংবিধানিক উপায়ে রদ, রহিত, বাতিল, স্থগিত করলে বা করার জন্য ষড়যন্ত্র করলে তা ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া সংবিধানের বিধানের প্রতি নাগরিকদের আস্থা-বিশ্বাস নষ্ট করলে বা প্রত্যেক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন করলেও তা ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। যার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদন্ড।

সাম্প্রতিক সময়ে সাংবিধানিক বিধান ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’, ‘জাতির পিতা’ ইত্যাদি নিয়ে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কৃতকর্ম স্পষ্ঠভাবে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে প্রতিভাত। তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একসময় অবহেলিত ছিল। এখন এ খাতে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। সরকারে নীতি-নির্ধারণ ও বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতর ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিসর বৃদ্ধি করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, অত্যাধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য সকলে মিলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন করতে হবে। এ খাতকে আধুনিকায়ন ও যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে। পুষ্টি ও আমিষসমৃদ্ধ খাবার মাছ, মাংস, দুধ, ডিম সরবরাহের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এ খাতের পরিসর বৃদ্ধির জন্য কর্মকর্তারা কাজ করতে হবে। সরকার ও রাষ্ট্র পাশে আছে।

করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, করোনার মধ্যে কাজ না করলে রাষ্ট্রযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাবে। রাষ্ট্রযন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন হবে না। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে অর্থনীতি ঠিক থাকবে না। অর্থনীতি ঠিক না থাকলে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ডিজিটাল রাষ্ট্র ব্যবস্থা আমরা কেউ পাবো না। এজন্য করোনার মধ্যে কাজও করতে হবে, সচেতনও থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোটা জাতি, দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে সাথে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও চিফ ইনোভেশন অফিসার মো. তৌফিকুল আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ্ মো. ইমদাদুল হক ও শ্যামল চন্দ্র কর্মকারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দফতর-সংস্থার ৩২টি উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করা হয়। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি উদ্ভাবনী ধারণাগুলো ঘুরে দেখেন ও এ বিষয়ে সম্যক ধারণা নেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩১, ২০২১ ১:৩২ অপরাহ্ন
বাঁশখালীতে গরু চোরের হামলায় আহত ২
প্রাণিসম্পদ

বাঁশখালী শেখেরখীল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের হিন্দু পাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র লাল দেবের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসময় তাদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসা রূপন দেব (৪০) ও দীপেশময় সিকদার (৩৬) আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া একটি এলজি ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে শেখেরখীল ইউনিয়নের হিন্দু পাড়ায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র লাল দেবের বাড়িতে অটোরিকশা ও মিনিট্রাকে গরু চুরি করতে আসে একদল চোর। এসময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রতিরোধে এগিয়ে আসেন রূপন দেব (৪০) ও দীপেশময় সিকদার (৩৬)।

এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় হামলায় গুরুতর আহত হন রূপন ও দীপেশ। পরে তাদের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রূপন দেব বাঁশখালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শেখেরখীল ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, চোরের দলকে প্রতিহত করতে গিয়ে দুজন আহত হয়েছেন। তারা চিকিৎসা শেষে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সফিউল কবীর বলেন, হামলাকারীরা অভিযোগ দিলেও তারা কারো বিরুদ্ধে মামলা করেননি। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে। এই ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩০, ২০২১ ৬:৫১ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী চান ভাতে-মাছে বাঙালি সংস্কৃতি যেন বিলুপ্ত না হয়: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

প্রধানমন্ত্রী চান ভাতে-মাছে বাঙালি সংস্কৃতির মাছ যেন বিলুপ্ত হয়ে না যায়। মাছের সংকট যেন না হয় বলে মন্তব্য করেছেন ​মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মিল ব্যারাক নৌ জেটিতে বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি আয়োজিত নৌ র‍্যালি-২০২১ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

স্বাধীনতাবিরোধী প্রেতাত্মাদের এই বাংলাদেশে উত্থান ঘটতে দেওয়া হবে না বলে মন্ত্রী বলেন, “৭১-এর রাজাকাররা কেউ হেফাজত নামে, কেউ নেজামে ইসলাম নামে, কেউ মুসলীম লীগ নামে নতুন করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। ইসলাম ধর্ম সহিংসতায় বিশ্বাস করে না, সন্ত্রাসকে পছন্দ করে না, জঙ্গীবাদে বিশ্বাস করে না।

তিনি বলেন, মহানবী রসুলুল্লাহ (সা.) ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন। কারও উপর জুলুম না করতে বলেছেন, ফেৎনা-ফেসাদ সৃষ্টি না করার জন্য বলেছেন। তিনি বলেছেন- এগুলো যুদ্ধের চেয়ে বড় অপরাধ। কিন্তু ইসলামের নামধারী কিছু উচ্ছৃঙ্খল, সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশকে নতুন করে অস্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যেতে চাইছে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “দেশ যখন শান্তিতে আছে, মানুষের যখন অভাব-অনটন নেই, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার সব সুযোগ যখন মিলছে, এটা একটা শ্রেণির লোকদের ভালো লাগছে না। এরা হলো মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি। ওরা মারা যায়নি। ওদের প্রেতাত্মারা বেঁচে আছে। ওদের সন্তানরা এদেশে এখনও বেঁচে আছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ পছন্দ করে না, শান্তির বাংলাদেশ পছন্দ করে না, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ পছন্দ করে না, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ পছন্দ করে না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের যে অপ্রতিরোধ্য গতি এটা ওদের ভালো লাগছে না। এজন্য বেগম খালেদা জিয়া নিজ বাড়িতে থেকেও অকৃতজ্ঞের মতো মির্জা ফখরুল ও কয়েকজনকে দিয়ে দেশের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।”

শ ম রেজাউল করিম আরও বলেন, “এ সময়ে একজন মানুষও না খেয়ে নেই, বিবস্ত্র অবস্থায় নেই, টাকার অভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না- এমন অবস্থায় নেই। বাংলাদেশে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষায় অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে ইলিশ অহরণে বাংলাদেশ পৃথিবীর সেরা অবস্থানে রয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থান, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থান এবং চাষের মাছ উৎপাদনে পঞ্চম অবস্থানে থেকে সারাবিশ্বে মাছ উৎপাদনে আমরা আমূল পরিবর্তন আনতে পেরেছি। এক্ষেত্রে মৎস্যজীবীদের বড় ভূমিকা রয়েছে।।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান ভাতে-মাছে বাঙালি সংস্কৃতির মাছ যেন বিলুপ্ত হয়ে না যায়। মাছের সংকট যেন না হয়। মাছের মাধ্যমে মানুষের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা যেন মেটানো যায়। মাছ রফতানি করে যেন আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি, মৎস্য চাষের মাধ্যমে যেন বেকারদের বেকারত্ব দূর করা যায়, তারা যেন উদ্যোক্তা হতে পারে। সে জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। মৎস্য চাষ এখন গর্বের বিষয়। এটি এখন অর্থ-বিত্তের সুযোগ করে দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মো. সায়ীদুর রহমানের সভাপতিত্বে সংগঠনটির কার্যকরী সভাপতি সাইফুল ইসলাম মানিক, সাধারণ সম্পাদক লায়ন শেখ আজগর নস্করসহ ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩০, ২০২১ ৫:১২ অপরাহ্ন
ফরিদপুরে দুর্বৃত্তের আগুনে গরু-ছাগল পুড়ে ছাই
প্রাণিসম্পদ

ফরিদপুরের সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দি গ্রামে আতঙ্ক ছড়াতে গভীর রাতে সুকৌশলে বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। আগুনে চা বিক্রেতা মো. বাচ্চু মিয়াজীর (৫০) নামক একজনের রান্নাঘরে আগুন লেগে উন্নত জাতের বিদেশি গাভী ও বাছুরসহ তিনটি ছাগল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে এই ঘটনাটি ঘটে। বাচ্চু মিয়াজী খাসকান্দি গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিন মিয়াজীর ছেলে।

বাচ্চু মিয়াজী জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রতিবেশির ডাকে ঘুম থেকে উঠে দেখি গোয়াল ঘরে আগুন জ্বলছে। পরে প্রতিবেশীদের নিয়ে অনেক চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। কিন্তু এরই মধ্যে গরু, ছাগলসহ গোয়াল ঘর পুড়ে যায়। এ সময় খামারে থাকা পাঁচটি পশু আগুনে পুড়ে মারা যায়। এর মধ্যে দুটি বিদেশি গাভী ছিল।

এছাড়া গোয়ালঘরে নতুন চিরাইকৃত কাঠ বাঁশসহ সাংসারিক নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখা ছিল। সেগুলোও পুড়ে ছাই হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ সাড়ে চার লাখ টাকার বেশি বলে দাবি করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এটা দুর্বৃত্তায়ন। কারণ গরুর খামারে কোনও বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না। এছাড়া অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে একইভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তারা।

কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, সম্প্রতি আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইউনিয়নের হোগলাকান্দী গ্রামে গত সপ্তাহে একরাতে চারটা বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। গত রাতে খাসকান্দি গ্রামে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি খুবই দুঃখজনক। সুকৌশলে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৯, ২০২১ ১১:৪৪ অপরাহ্ন
লামায় অভিনব কায়দায় গরু চুরি, আটক ৪
প্রাণিসম্পদ

বান্দরবানের লামায় মাইক্রোবাসে করে অভিনব কায়দায় গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় ইয়াংছায় বাজারে জনগণের হাতে আটক হোন চার চোর। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে চারজনকেই ইয়াংছা চেকপোস্টে নিয়ে যায়। চার গরু চোর এখন সেনা-পুলিশের হেফাজতে আছে।

আজ সোমবার (২৯ মার্চ) বিকাল ৫টা ১২ মিনিটের সময় এ ঘটনা ঘটে।

বেপরোয়াভাবে মাইক্রোটি ইয়াংছা বাজার ক্রস করে চেক পোস্টে বাধাপ্রাপ্ত হয়। গাড়ির ভেতর লাল ও আরেকটি কালো কম্বল জড়ানো একটি ধামড়া গরু যার আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা।

গাড়ি চালকের নাম সেনাম। তার ভাষ্যমতে মাইক্রোবাসের মালিক জনৈক নাসির। বাড়ি চকরিয়া ছুয়ারপাড়ি। অন্য তিন জনের নাম, তৌহিদ (২৮), নুরু (২২), সাইদুল (২২) এরা সবাই চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

গরুর মালিক বধুঝিরির বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ পিতা মৃত হামিদ আলম। সে একটি বাগানে কাজে ছিল। বধুঝিরি রাস্তার পাশে একটি পেঁপে বাগান থেকে গরুটি চুরি করে নিয়ে আসে বলে জানা যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৯, ২০২১ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
অধিকলাভে যেভাবে যত্ন নিবেন হাঁস-মুরগির
প্রাণিসম্পদ

গ্রামীন অর্থনীতির অন্যতম পাথেয় হলো হাঁস-মুরগির পালন।গ্রামের প্রায় সবার ঘরে ঘরে দেখা যায় হাঁস-মুরগি। এবং অনেকেই করছেন বৃহৎ আকারে হাঁস-মুরগির খামারও। আর খামারে লাভবান হওয়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা। সঠিক পরিচর্যা প্রয়োগে আরো লাভবান হওয়া সম্ভব। বর্ষাকালের আগেই প্রাণিসম্পদের যত্ন নিতে রয়েছে প্রস্তুতির প্রয়োজন। আর সেজন্য জানা প্রয়োজন তার সঠিক নিয়ম কানুন।

হাঁস-মুরগির যত্ন যেভাবে নিবেন:

১. বর্ষাকলের আগেই প্রাণিচিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিন দিতে হবে।

২. বাজারে রাণীক্ষেতের জন্য নবিলিস এনডি ল্যাসুটা, এনডিএলএস, সিভেক নিউ এল, আইজোভ্যাক এনডি কিল্ড, নিউক্যাভাক, ইমোপেস্ট, নিউক্যাসেল ল্যাসুটা ওষুধ রয়েছে। এছাড়া গামবোরো রোগে নবিলিস ২২৮, সিভেক গামবো এল, আইজোভ্যাক গামবো-২ রয়েছে। আর বসন্ত রোগে সিভেক এফপিএল, নবিলিস, ওভোড্রিপথেরিন পাওয়া যায়।

৩. হাঁস-মুরগির কৃমির জন্য ওষুধ খাওয়ানো, ককসিডিয়া রোগ হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরুরিভাবে অন্যান্য প্রতিষেধক টিকা দিয়ে দিতে হবে।

৪. মুরগি ও হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর কাজটি ভরা বর্ষার আগেই সেরে ফেলতে হবে।

৫. গবাদি পশুর গলাফোলা, ডায়রিয়া, ক্ষুরারোগ, নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগের টিকা দেওয়াসহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. বর্ষা আসার আগেই গবাদি পশুর আবাসস্থল পরিপাটি করে পুনসংস্কার, আশপাশ পরিষ্কার করা, জমে থাকা পানির দ্রুত নিকাশের ব্যবস্থা, বর্ষার নিয়মিত এবং পরিমিত গো-খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য কাজ সঠিকভাবে করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৯, ২০২১ ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
কক্সবাজারে প্রান্তিক খামারিদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
প্রাণিসম্পদ

কক্সবাজার প্রতিনিধি: প্রাণিসম্পদ সেক্টরে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান পিয়ারটপ লিমিটেড, বিগত প্রায় ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে সুনামের সহিত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রাণিসম্পদ সেক্টরের উন্নয়নের জন্য। সারাদেশে প্রান্তিক পর্যায়ের ছোট বড় সকল ধরনের খামারিদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে খামার ব্যবস্থাপনা এবং রোগ প্রতিরোধ পরিকল্পনা বিষয়ক নানা প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি, যাতে করে প্রান্তিক খামারীরা উপকৃত ও লাভবান হতে পারে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২০ মার্চ) সকাল ১০ টায় কক্সবাজারে লিংক রোডে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কনফারেন্স রুমে ৮০ জন প্রান্তিক খামারিদের নিয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোঃ রুকনুজ্জামান খান, সিনিয়র প্রশিক্ষক, যুব উন্নয়ন কেন্দ কক্সবাজার, তিনি আগত সকল অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি ভ্যাকসিন, জৈব নিরাপত্তা ও ব্রুডার ব্যবস্থাপনার উপর সম্মক আলোচনা করেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিয়ারটপ লিমিেিটড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ সৈয়দ মোস্তফা আলী।

মাঠ পর্যায়ে অত্যন্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডাঃ সৈয়দ মোস্তফা আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত তিনি পোল্ট্রি সেক্টরের সাথে জড়িত এবং মাঠ পর্যায়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় কাজ করে চলেছেন।

তিনি খামারিদের বলেন শত ব্যস্ততার মাঝেও খামারিদের সাথে সর্বদা সম্পৃক্ত রয়েছি। শুধু ব্যবসাকে প্রাধান্য না দিয়ে খামারিদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন সাম্প্রতিক সময়ে করোনা সংকটের কারণে পোল্ট্রি শিল্পের অবস্থা খারাপ যাচ্ছে, অনেক খামারী তাদের পুঁজি হরিয়ে পথে বসেছে। আমি এই সংকটপন্ন সময়েও খামারীদের নিয়ে নানা প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে যাচ্ছি। খামারির যাতে করে প্রকৃত খামারী হয়ে ওঠে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি আমরা। এই কঠিন সময়েও খামারিদের মনবল অটুট থাকে ও ব্যবসার ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।

তিনি আরো বলেন, ব্রয়লারের দর প্রতিনিয়ত হৃাস পাচ্ছে ফলে খামারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ফলে তাদের ব্যবস্থাপনা উন্নত করে খরচ কমিয়ে কিভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি তার বক্তব্যে পোল্ট্রিতে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়সহ নানান সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা সাবলিল ভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি এন্টিবায়োটিকের বিকল্প প্রোবায়োটিক ব্যবহারের উপর জোর দেন। এছাড়াও তিনি গ্রীষ্মকালীন সময়ে খামারের নানা রোগ প্রতিরোধ পরিকল্পনা বিষয়ক আলোচনা করেন এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে পিয়ারটপ লিমিটেডের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রোডাক্ট সংক্রান্ত তথ্য খামারীদের মাঝে প্রামান্য চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেন।

প্রোডাক্টগুলোর মধ্যেRevolution, Peercox, Nutrivit Pro FT, Heat Breaker, Germy 200X, Moxitin Plus উল্লেখযোগ্য।

কর্মশালায় খামারিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো: জাহেদুল ইসলাম, শফিউল আলম, আব্দুল বারী, ওবায়দুল হক,আব্দুর রহিম, হাবিবুর রহমান, শাহেদুল ইসলাম, রিদুয়ানুর রহমান, আয়াতুল্লাহ, মো: ওমর ফারুক,মো: আলমগীর, আবু তাহের, জয়নাল আবেদিন,মো: রুবেল, মো: রাসেল, মো: ইসমাইল, মো: সাদ্দাম হোসেন, মো: সিজান, শাহিন, দেলোয়ার, রহিম, আব্দুল কালাম, মো: রফিক, তাজউদ্দিন, রুহুল আমিন আরো অনেকে।

কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন মেসার্স আলম পোল্ট্রি ফিড এন্ড মেডিসিন সেন্টার এর সত্ত¡াধিকারী মোঃ ফরিদুল আলম, পিয়ারটপ লিঃ এর আরএসএম আবু সুফিয়ান ও যুবরাজ হোসেন ছাড়াও কোম্পানির কর্মকর্তাবৃন্দ। মধ্যাহ্ন ভোজের মাধ্যমে কর্মশালার সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৭, ২০২১ ৭:১৮ অপরাহ্ন
দেশে পাকিস্তানি প্রেতাত্বারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের দেশে অবস্থানের সময় পাকিস্তানি প্রেতাত্বাদের কেউ কেউ মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে।

শনিবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উপলক্ষে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এ সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এমন একটি চমৎকার সময়েও দেশের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোর জন্য পাকিস্তানি প্রেতাত্বাদের কেউ কেউ মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে এ বাংলাদেশ রাম-রহিমের বাংলাদেশ, এ বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানের বাংলাদেশ। এ বাংলাদেশে ধর্মের ঊর্ধ্বে গিয়ে আমাদের একটি পরিচয় আছে। সে পরিচয়, আমরা বাঙালি, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। এ বাংলাদেশে নতুন করে যদি কেউ ধর্মীয় উসকানি সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায় তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। কোনোভাবেই এ বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।”

শ ম রেজাউল করিম বলেন, “ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম অপর ধর্মে আঘাত করায় বিশ্বাস করে না, অপর ধর্মাবলম্বীদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করায় বিশ্বাস করে না। এই শান্তির ধর্ম ইসলামের নাম ব্যবহার করে যারা ’৭১ সালে লুণ্ঠন করেছে, ধর্ষণ করেছে, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করেছে তাদের চেহারা আমরা চিনি। তাদের প্রেতাত্বারা আবার মাথাচাড়া দেয়ে উঠার চেষ্টা করছে। যুদ্ধাপরাধী, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিচার শেখ হাসিনা করেছেন। প্রয়োজনবোধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের কঠোর বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শান্তির বাংলাদেশকে কোনোভাবে ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না।”

স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “১৯৭২ সালে আমাদের অর্থনীতির আকার ছিল ০.৫৮ বিলিয়ন ডলার যা আজ ৩৪৮ বিলিয়ন ডলার, মাথাপিছু আয় ছিল ১২৯ ডলার যা বর্তমানে ২০৬৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে, দারিদ্র্যের হার ছিল ৮৮ শতাংশ যা আজ ২০ শতাংশে নেমেছে, গড় আয়ু ছিল ৪৭ বছর যা এখন ৭২.৬ বছর, শিক্ষার হার ছিল ২০.৯ শতাংশ যা আজ ৭২.৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেছেন, যেভাবে বাংলাদেশকে শেখ হাসিনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এটা বিশ্বের বিস্ময়। পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এসময় বাংলাদেশে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ অনেকেই বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন। সারাবিশ্ব বলছে ঈর্ষা করার মতো উন্নয়ন বাংলাদেশ করতে পারছে।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেনের সভাপতিত্বে নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান রনি দত্ত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বশির গাজী, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ফিরোজ কিবরিয়া, নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবির মোহাম্মদ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী সাখাওয়াতসহ অনেকেই আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৬, ২০২১ ৬:০৮ অপরাহ্ন
লাভ-লসে ভেঙ্গে না পড়া খামারী মাহফুজ
পোলট্রি

স্বাবলম্বী হওয়ার সুবাদে বাবার করা খামারকে আবারো তৈরি করতে কাজ করছেন নোয়াখালী জেলার চাটখিলের আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ। “যে মুরগি আমরা খাই তা কেউ না কেউ তো পালন করেছে”, আর সেই পালনকারীর কাতারে থেকে দেশকে আরো সম্মৃদ্ধ করার প্রয়াসে পোল্ট্রি খামারসহ বিভিন্ন উদ্যোক্তামূলক কাজে নামেন তিনি। আর পোল্ট্রি খামার করতে গিয়ে তিনি এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান নানান সমস্যা আর সম্ভাবনা। নিন্মে পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে দেয়া সাক্ষাৎকারাটি।

আপনি কতসালে খামার শুরু করেন? এমন প্রশ্নে তিনি এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে বলেন, আমি যে খামার নতুন শুরু করেছি এমনটি নয়। ২০০০ সালে আমার বাবা প্রথম খামার শুরু করে। আর তখন বাবা খামার করে লাভও করেছেন বেশ। তখন আমি দাখিলে পড়ি। আর বাবা বিদেশ যাওয়ার পর সেই খামার বন্ধ থাকে। আবার ২০১৯ সালে এসে আমি আবার খামার শুরু করি।

কতটি মুরগির বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করলেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রথম প্রায় ৪৩ হাজার টাকায় ১৫‘শ বাচ্চা দিয়ে ২০১৯ সালের অক্টোবরে খামার শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ প্রথম সেডেই আমি ত্রিশ হাজার টাকা লাভ করি। তারপর আরেক সেডে ৫০ হাজার টাকার মত লাভ করলেও ২০১৯-২০ সালে আমার লসের অংকটা একটু বেশি গুনতে হয়। আমি প্রায় তিন লক্ষ টাকার মত লস করি।

এই লসের কারণ কি বলে আপনি মনে করেন? তিনি বলেন,করোনার কারণে অনেকটা লসে পড়তে হয়। তার উপর ছিলো সিন্ডিকেট বানিজ্য। সিন্ডিকেট বলতে বাচ্চা যারা উৎপাদন করে আবার তারাই খাদ্য উৎপাদনও করে আবার মুরগিও তারাই উৎপাদন করে। এতে করে একজন প্রান্তিক খামারির চাইতে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক কম পড়ে। অন্যদিকে তারাই আবার মুরগির বাজার মূল্য নির্ধারণ করে। ফলে বাচ্ছা, খাদ্য এবং একই সাথে মুরগী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন ব্যায় অনুযায়ী বাজার মূল্য নির্ধারণ করায় প্রান্তিক খামারিগন ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। ফলে প্রান্তিক খামারিগন আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

২০২১ সালে এসে নতুন বছর কেমন যাচ্ছে? ২০২১ সালের এসে প্রথম ব্যাচ ভালো করতে পারি নাই। শীতের কারণে আবার নানারকম রোগের কারণে প্রায় ২০ হাজার টাকার মত লস দিয়েছি। আর ২য় ব্যাচ শুরু করেছি ইনশাআল্লাহ।২য় ব্যাচের বয়স মাত্র ৮ দিন বলে তিনি জানান।

একজন খামারী কিভাবে লাভ করতে পারবে বলে আপনি মনে করছেন? একজন খামারী লাভ করতে হলে প্রথমত বাচ্চার দাম কমাতে হবে। একটা খামারের ৯০%খরচ ধরা হয় খাদ্যে। তাই খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বাজারের অন্যান্য দ্রব্যের ন্যায় মুরগির দামেরও একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি থাকতে হবে। হুট করে বাচ্চার দাম, খাদ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতা কমাতে হবে।একটা স্থিতিশীল বাজার মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।যাতে বাচ্ছা উৎপাদনকারী, খাদ্য উৎপাদনকারী এবং খামারি ক্ষতিগ্রস্ত না হয় আবার জনগণকেও উচ্চমূল্যে মুরগী কিনতে না হয়।

এছাড়া ভারতের সিন্ডিকেটসহ যেকোন ধরণের সিন্ডিকেট হ্রাস করতে হবে। প্রয়োজনের তুলনায় অধিক বাচ্চা উৎপাদন কমাতে হবে।আবার বাজারে কেবল বাচ্চার দাম কমালেই হবে না। বাচ্চার সাথে সাথে তার প্রাসঙ্গিক সব কিছুর দাম কমাতে হবে। এক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটা কমিটি গঠন করা উচিত। যারা বাজার মনিটরিং করবে।

পোল্ট্রির খামার দিয়েই কি প্রতিষ্ঠিত হবেন ভাবছেন? মাহফুজ বলেন,পোল্ট্রি নিয়ে অনেক পরিকল্পনা আছে। আবার মাছ, গরু, দুগ্ধজাত দ্রব্য নিয়েও কাজ করার ইচ্ছা আছে। এসবের উপরে আমি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এর বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি। ব্যক্তি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও প্রশিক্ষণ নিয়েছি।

এ ছাড়া উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প থেকেও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। আমার ছোট আরো দুই ভাই আছে তারাও লেখাপড়ার পাশাপাশি যুব উন্নয়নসহ ব্যাক্তিকেন্দ্রিক নানান প্রতিষ্ঠানে গরু মোটাতাজা করন, গাভী পালন, দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন, মৎস্য পালন সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছে।

মূলত আমরা খামারিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগেই খামার করি। যদিও এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের অনেক পরিকল্পনা আছে। যদিও তা যথা সময়ে প্রান্তিক খামারিদের কাছে এসে পৌঁছায়না। সরকারি সুবিধাগুলো যদি যথাসময়ে প্রান্তিক খামারিদের কাছে এসে পৌঁছায় তা হলে এই শিল্প আরো এগিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। এতে জাতীয় চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করার সুযোগে সৃষ্টি হবে। সুতরাং সুযোগ সুবিধা এবং আমার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে খামার করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইচ্ছা আছে বলে জানান মাহফুজ।

প্রাণিসম্পদ থেকে কেমন সুবিধা পাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ থেকে এখনও যেভাবে পাওয়ার কথা সেভাবে সহযোগিতা পাইনি। প্রথমত এই সেক্টরে প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাব, প্রয়োজনীয় ভ্যাক্সিনের অভাব। যার কারনে ভ্যাকসিন নিজ টাকা দিয়েই কিনতে হচ্ছে। যদিও পারিবারিক খামারের জন্য সরকারি ভ্যাক্সিন পাওয়া যায়। আবার বাজার থেকে কেনা ভ্যাক্সিন দিলেও অনেকক্ষেত্রে কাজ হচ্ছে না।

আর কোন ধরনের উদ্যোগ নিলে আপনাদের জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন? প্রথমত সিন্ডিকেটের বন্ধ করতে হবে। বাচ্ছা উৎপাদনকারী শুধু বাচ্ছাই উৎপাদন করবে, খাদ্য উৎপাদনকারী শুধু খাদ্যই উৎপাদন করবে আর খামারিরা মুরগী উৎপাদন করবে। সাথে যত্রতত্র হ্যাচারি বন্ধ করতে হবে। কারণ যত্রতত্র হ্যাচারি মান সম্মত বাচ্চা দিতে পারে না। বাচ্চা নিয়ে আসলেই দেখি কয়েকদিনের ভিতরে মারা যায়। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকায় নানা রোগে আক্রান্ত হয়।যত্রতত্র হ্যাচারির কারণে মানহীন বাচ্চা ছড়িয়ে পড়ে। যার কারণে খামারীরা উঠে দাঁড়াতে পারে না।

করোনায় প্রণোদনার টাকা পেয়েছেন? এমন প্রশ্নে তিনি সরকারের প্রশংসা করে এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে বলেন, এটা সরকার খুব ভালো একটা কাজ করেছে। অনেকে এখনও প্রণোদনার টাকা না পেলেও আমি পেয়েছি। আমি প্রায় ২৩ হাজার টাকা পেয়েছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৬, ২০২১ ৫:৪১ অপরাহ্ন
গরুর খামারে লাভবান হওয়ার জন্য যা জানতে হবে
প্রাণিসম্পদ

আমাদের দেশে এখন গ্রামের বেশির ভাগ লোকই গরুর খামারের দিকে ঝুঁকছে। তারা একটু বেশি লাভের আশায় গরুর খামার গড়ে তুলছে। তবে তাদের অনেকেই জানে না তার নিয়ম-কানুন। নিয়ম কানুন জেনে খামার করলে লাভ হবে আরো ব্যাপক। আজকের এই লেখায় উঠে আসবে গরুর খামার করে লাভবান হওয়ার কিছু নিয়ম।

গরুর খামারে লাভবান হওয়ার জন্য যে নিয়মগুলো মানতে হবে:
১। প্রত্যেকটি গরুর জন্য আলাদা আলাদা খাদ্য ও পানির পাত্রের ব্যবস্থা রাখতে হবে। গরুর পুষ্টি চাহিদা পূরণে রুটিন অনুযায়ী খাদ্য নিশ্চিক করার প্রতি নজর দিতে হবে।

২। গরুর খাদ্য ও পানির পাত্র সব সময় জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। খাদ্যের সাথে ক্ষতিকর কোন উপাদান যাতে না থাকে সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে।

৩। গাভী ছয় মাসের গর্ভবতী হলে লবণ খাওয়ানো বন্ধ করুন এবং বাচ্চা দেওয়া পর্যন্ত তা পালন করুন। এতে গাভীর ওলানে পানি আসবে না।

৪। গরুর খামারের প্রতিটি গরু জন্য খাদ্য খরচের হিসাব লিখে রাখতে হবে। খাদ্য খরচ যাতে অতিরিক্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৫। গরুর খামারে বায়োসিকিউরিটি মেনে চলতে হবে এবং অন্যকে মানতে বাধ্য করতে হবে। অন্য খামারে দুধ দোহন করে এমন দোহানকারীকে খামারে প্রবেশ করালে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে তারপর খামারে প্রবেশ করাতে হবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop