১১:৪৮ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ২৬, ২০২১ ৮:৫০ পূর্বাহ্ন
ঝালকাঠিতে বেডে বেডে ভাসছে সবজি
কৃষি বিভাগ

ঝালকাঠিতে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলার চাষ। উপকূলীয় হওয়ায় এই জেলার কৃষকদের চাষাবাদ নিয়ে সমস্যা লেগেই থাকত। সেই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ভাসমান বেডে নানান সবজি, মসলা রোপণ করছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

বেড পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা কৃষকরা বলছেন, এক-একটি বেডে বছরে ৭ থেকে ৮ বার সবজি চাষ করা যায়। সেই সঙ্গে বেডের জলে মাছ চাষও করা যায়।

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি নিম্নাঞ্চল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যেত কৃষকের তৈরি বীজতলা। কৃষি বিভাগ নিজেদের উদ্যোগে কৃষকদের কলাগাছের ভেলা ও কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরি করে দিচ্ছে।

জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে ভাসমান বেড রয়েছে। ভাসমান এসব বেডে চাষ করা হচ্ছে লালশাক, মুলাশাক, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢ্যাঁড়শ, ধনিয়াসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি ও মসলা।

বেড পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে লাভবান কৃষক সালেহ আহম্মেদ জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় গত দুই বছর ধরে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করছেন তিনি। লালশাক, মুলাশাক, ঢ্যাঁড়শসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মসলা চাষ করেছেন।

বেড পদ্ধতির চাষে তেমন কোনো খরচ না থাকায় লাভবান হয়েছেন বলেও জানান সালেহ।

বেড তৈরির কৌশল কী তা জানতে চাইলে কৃষক মোকসেদ আলী জানান, প্রথমে পানির ওপরে কলাগাছ অথবা বাঁশ বিছিয়ে বেড বা মাচা তৈরি করতে হয়। তার ওপর কচুরিপানা তুলে বেড প্রস্তুত করা হয়। আর কচুরিপানা পচিয়ে তার ওপরেই বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়।বর্ষা বা বন্যার পানি যতই হোক বেডের ওপরে রোপণ করা চারার কোনো ক্ষতি হয় না। বেড পদ্ধতির আরেকটি গুণ হচ্ছে এতে কোনো ধরনের সার-কীটনাশকও দিতে হয় না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফজলুল হক নিউজবাংলাকে জানান, ঝালকাঠি জেলায় চাষাবাদের জমি অন্য জমির তুলনায় বেশ নিচু হওয়ায় বর্ষার পানিতে ডুবে যায়। তাই বেড পদ্ধতির চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে অনেকেই বেড পদ্ধতিতে চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৫, ২০২১ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
২০০ হেক্টর জমির ধান শুকিয়ে খড়
কৃষি বিভাগ

‘কারেন্ট পোকা’ নামে পরিচিত বাদামি ঘাসফড়িংয়ের আক্রমণে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২০০ হেক্টর জমির আমন ধানগাছ শুকিয়ে খড় হয়ে গেছে। পাশাপাশি চলছে ইঁদুরের আক্রমণ। এতে কৃষকেরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।কৃষকেরা বলছেন, কীটনাশক ছিটিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। পোকার আক্রমণে একের পর এক ধানখেত ধ্বংস হচ্ছে। তাঁরা কী করবেন ভেবে কূল পাচ্ছেন না।

ফরিদগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুয়ায়ী, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ২০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। জেলার মধ্যে ধানের সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। এবারও উপজেলা নানা জাতের আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি ধান-৩৩, বিআর-২২, বিআর-২৩, ব্রিধান-৪৯, ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-৫২, ব্রিধান-৮৭ ছাড়াও নানা ধরনের উচ্চ ফলনশীল ধানের চাষ হয়েছে। কিন্তু কৃষকেরা ঘাসফড়িং ও ইঁদুরের আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

উপজেলার পাইকপাড়া এলাকার কৃষক শাহজাহান বলেন, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে সুমন স্বর্ণা ও ধানি গোল জাতের ধানের চাষ করেছেন। এবার ফসলের সম্ভাবনা ভালোই ছিল। কিন্তু খেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ১০ শতাংশ জমির ধান কারেন্ট পোকায় খেয়ে ফেলেছে। ইঁদুরও আমার ধান কেটে ফেলছে। আশা করেছিলাম, বিঘায় ২৮-৩০ মণ ধান পাব। কিন্তু এখন দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি।’

উপজেলার গাব্দেরগাঁও গ্রামের কৃষক মিসির আলী বলেন, ‘ধার-দেনা করে ফসল আবাদ করছি। তাই যদি নষ্ট হয়ে যায়, কী করে আমরা খেয়ে পরে বাঁচব’। তিনি জানান, প্রায় ১২ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় দুই বিঘা জমির ধান পোকায় নষ্ট করে ফেলেছে।

কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, এবার ধানখেত দেখে কৃষকের পাশাপাশি তাঁরাও খুব খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ কারেন্ট পোকার আক্রমণে বেড়ে গেছে। এমন বাস্তবতায় কৃষকদের চিন্তিত না হয়ে কীটনাশক দিয়ে ধানখেতের গোঁড়া ও ওপরে স্প্রে করতে বলা হয়েছে। কীটনাশক ছিটালে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দূর হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল মাহমুদ বলেন, ধানখেতে বিভিন্ন পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচানোর লক্ষ্যে কৃষকদের মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৫, ২০২১ ১০:২০ পূর্বাহ্ন
মাল্টা চাষে জড়িত কুমিল্লায় তিন শতাধিক চাষি
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলার গ্রামে-গ্রামে এখন সবুজ মাল্টার উৎসব চলছে। প্রায় তিন শতাধিক চাষি মাল্টা চাষে জড়িত। মাল্টা বিক্রি করে নগদ টাকা পেয়ে খুশি চাষি। অন্যদিকে ভোক্তারা ফরমালিনমুক্ত তাজা মাল্টা কিনতে পেরে আনন্দিত।

বিশেষ করে কুমিল্লার আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, বরুড়া, লালমাই, নাঙ্গলকোট, দেবিদ্বারসহ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাল্টার চাষ করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কুমিল্লার সূত্র জানায়, কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৩০ একর জমিতে মাল্টার চাষ হচ্ছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্ন ভাবে ১০/১৫টি করে চারা লাগাচ্ছেন গৃহস্থরা। সব মিলিয়ে তিন শতাধিক চাষি মাল্টা চাষে জড়িত। তাদের উৎপাদিত মাল্টা কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় ফল দোকানসহ বিভিন্ন উপজেলার দোকানে বিক্রি হচ্ছে। বরুড়া পৌর এলাকার উত্তরের গ্রাম মুগুজি। গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবদুর রব মাল্টার বাগান করে বেশ সাফল্য পেয়েছেন।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।দেশে এসে স্থানীয় বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেন। বাড়ির পাশে নিজের কিছু জমি ছিল। পরিকল্পনা করলেন অর্থকরি কোনো ফলের বাগান করবেন। ইউটিউবে মাল্টার চাষ ও সম্ভাবনা দেখলেন।

তিনি তিন বছর আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তারিক মাহমুদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার সহযোগিতা নিয়ে ১৭ শতক জমিতে মাল্টা চাষ করেন। তার ভালো ফল দেয়া গাছ থেকে মৌসুমে প্রতিটি থেকে ৩৫ কেজির মতো মাল্টা পেয়েছেন। এই মাল্টা আকারের বড়, মিষ্টিও খুব। তিনি বাজারের পাইকারের কাছে মাল্টা বিক্রি করেন না। গ্রামের মানুষের কাছে কম দামে বিক্রি করেন, যাতে এই ফল সবাই কিনতে পারে।

জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা তারিক মাহমুদুল ইসলাম জানান, দেশের শতভাগ মাল্টা আমদানি করতে হয়। এদেশে ভারত, চীন থেকে বেশি মাল্টা আসে। যার অধিকাংশ ক্ষতিকর ক্যামিকেল যুক্ত। দেশের উৎপাদিত মাল্টা এখন বাজারে পাওয়া যায়। যা দেশের মাল্টার পাঁচ ভাগ চাহিদা পূরণ করছে। এই গতি অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছর পর নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে মাল্টা রপ্তানি করা যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মাল্টার চাষ করতে অনেকে আগ্রহী। তারা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসে যোগাযোগ করছেন। কুমিল্লায় প্রচুর মাল্টা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। মাল্টার বাগান করতে আগ্রহীদের আমরা পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৪, ২০২১ ২:১৯ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত
কৃষি বিভাগ

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, বাংলাদেশের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের তুলনায় ধান উৎপাদনে বেশি আগ্রহী। কভিড-১৯ পিরিয়ডে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ছিল ঊর্ধ্বমুখী এবং বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়নের জন্য চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গতকাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইডিআরও), বণিক বার্তা ও ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘মবিলাইজিং অ্যাকশন ফর ফুড সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের এক ভার্চুয়াল সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। তিনি বাণিজ্যিক কৃষির প্রতি জোর দিয়ে বলেন, যদিও আমাদের দেশ এখনো ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এ দেশগুলোর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে আছে, তবু বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে বলে মনে করেন। কৃষিভিত্তিক উন্নয়নের জন্য তিনি গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

ভার্চুয়াল সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড. সুরেশ বাবু, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ও প্রধান ক্যাপাসিটি স্টেনটইন, আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি এবং গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র।

সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে ছিলেন ড. আক্তার আহমেদ, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, আইএফপিআরআই, বাংলাদেশ; অধ্যাপক ড. মোহা. জাহাঙ্গীর আলম, ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিবিজনেস অ্যান্ড মার্কেটিং, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়; ড. মো. আব্দুস সালাম, মেম্বার ডিরেক্টর, বাংলাদেশ এগ্রিকালচারালস রিসার্চ কাউন্সিল এবং ড. মো. সাহাদাত হোসাইন সিদ্দিকী, অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেমিনারে আলোচক ছিলেন ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট এইচএম হুমায়ন কবির, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, বাংলাদেশ এবং নাসের ফরিদ, সাবেক ডিজি, খাদ্য মন্ত্রণালয়।

ভার্চুয়াল সেমিনারে ড. সুরেশ বাবু বলেন, করোনা মহামারীর সময়ে বিশ্বে খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। তিনি টেকসই খাদ্য উৎপাদনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, টেকসই খাদ্য উৎপাদন শুধু ক্ষুধাই দূর করে না বরং তা আরো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও সাহায্য করে। টেকসই খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকতা তৈরিতেও অবদান রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভার্চুয়াল সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন তানজিল হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কার্যনির্বাহী পরিচালক, ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইডিআরও), বাংলাদেশ। বণিকবার্তা

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৪, ২০২১ ১০:৪০ পূর্বাহ্ন
বাসাইলে জনপ্রিয় হচ্ছে কেঁচো সার
কৃষি বিভাগ

কম দাম, অধিক কার্যকারিতা, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী হওয়ায় ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার ব্যবহারে টাঙ্গাইলের বাসাইলের অনেক কৃষক আগ্রহী হচ্ছেন। হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, গবাদিপশুর গোবর, শাক-সবজির উচ্ছিষ্ট, খোসা ও কচুরিপানার মিশ্রণে প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদন করা হয় কেঁচো সার, যা ভার্মি কম্পোস্ট সার নামে অধিক পরিচিত।

উপজেলার নর্থখোলা গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, এ সার খুব উপকারী। আমি নিজে ব্যবহার করি। বাকি সার আশপাশে কৃষকের কাছে বিক্রি করি। প্রথমে আমি কৃষি অফিস থেকে ১০টি রিং আর কেঁচো পাইছিলাম। এরপর চাহিদা দেখে নিজ খরচে আরও ৮টি রিং আমি বসিয়েছি।

উপজেলার দাপনজোর গ্রামের ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনকারী কৃষক হোসেন আলী জানান, একটি রিং এ ৫০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করা যায়। সার তৈরিতে প্রয়োজন হয় কেঁচো, পচা গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, তরকারির খোসা ও কচুরিপানা। সব উপকরণ না পেলেও কেঁচো, কলার খোসা ও পচা গোবর দিয়ে এ সার তৈরি করা যায়। আমি কৃষি অফিস থেকে ১০টি রিং আর কেঁচো পেয়েছিলাম। এখন আমার কাছে ২৫টি রিং রয়েছে। এ সারের যে উপকার তাতে আমি আরও রিং বাড়াবো।

বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, ৫০ কেজি সার উৎপাদন করতে সময় লাগবে এক থেকে দেড় মাস। ৫০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট ৩০ শতক জমিতে ব্যবহার করা যায়। ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে তেমন খরচ না হওয়ায় কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

বাসাইল উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নাজনিন আক্তার জানান, আমরা উপজেলা থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের বিনামূল্যে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির উপকরণ দিয়েছি। এ সারের উপকারিতা দেখে দিন দিন কৃষকরা নিজ খরচেই এ সার তৈরি করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৪, ২০২১ ৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
বন্যাসহনীয় আগাম আমন বীনা-১১ চাষে ঝুঁকছেন কৃষক
কৃষি বিভাগ

বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ। বাতাসে দোল খাচ্ছে কাঁচা আমন ধান।মাঠের মধ্যে এক খণ্ড জমির ধান সম্পূর্ণ পেকে হলুদ হয়ে গেছে। দু-এক দিনের মধ্যেই কৃষক এই ধান কেটে ঘরে তুলবেন। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব? সম্প্রতি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার পীরগঞ্জ গ্রামে গেলে এমন দৃশ্যই দেখা যায়।

কৃষক মো. আবু সাইয়ীদ জানান, এটা আগাম আমন জাত বীনা-১১ ধান। এই ধান চাষ করতে চারা তৈরি থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১১০ দিন সময় লাগে। এই ধানের চারা করতে ২০ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। চারা তৈরির সময় বাদ দিলে বীনা-১১ চাষে সময় লাগে ৯০ দিন, যা অন্য জাতের আমনের চেয়ে এক মাস কম। তিনি আরও জানান, ‘দু-এক দিনের মধ্যেই এই ধান কেটে ঘরে তুলব।’

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বীনা) জানিয়েছে, দেশে প্রতি বছর অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা ও বন্যায় ২০ লাখ হেক্টর জমির ধান কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি বছরও বন্যায় ৫০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির আমন ফসল নষ্ট হয়েছে। গত বছর বন্যায় নষ্ট হয়েছিল ১ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমির আমন ফসল, যা দেশে সামগ্রিক ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অথচ আগাম জাতের বীনা-১১ চাষে বন্যার হাত থেকে এই ফসল অনেকটাই রক্ষা করা সম্ভব হতো।

সরকারের এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বীজতলা কিংবা চারা রোপণের দু-তিন দিন পর ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত পানিতে ডুবে চারা গাছের ওপরের অংশ পচে গেলেও মূল গাছ আবার বৃদ্ধি পেয়ে স্বাভাবিক ফলন দিয়ে থাকে। জলমগ্ন অবস্থায় প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ টন আর জলমগ্ন না হলে ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এছাড়া স্বল্প জীবনকাল হওয়ায় এই জাত চাষাবাদ করে সহজেই শস্য নিবিড়তা বাড়ানো সম্ভব। গত কয়েক বছরে এই আগাম জাতের আমনের আবাদ ক্রমেই বাড়ছে বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বীনা) মহাপরিচালক ও জাতটির উদ্ভাবক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, আগের আমন জাতগুলোর জীবনকাল বেশি হওয়ায় উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা বছরে দুটির বেশি ফসল চাষ করতে পারতেন না। কিন্তু স্বল্প জীবনকালের বীনা-১১ চাষ করলে কৃষকেরা সহজেই বছরে একই জমিতে তিনটি ফসল চাষ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, একজন কৃষক আগাম আমনের পর সরিষা বা পাটশাক অথবা রবি ফসল করে বোরো চাষ করতে পারবেন। তাছাড়া স্বল্প জীবনকালবিশিষ্ট এসব জাত আবাদ করে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কৃষকেরা দুই ফসলি জমিকে ইতিমধ্যে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করেছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৩, ২০২১ ৬:৩০ অপরাহ্ন
কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের পৃথক সেল
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এখন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের উৎসাহিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা দেশে কৃষি উদ্যোক্তারা কে কী ফসল চাষ করবে, কোন ধরনের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করবে, তাদের কী সহযোগিতা দরকার- এসব বিষয়ে দেখভাল, সহযোগিতা এবং যোগাযোগ রক্ষা করবে এই সেল।’

কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে একটি পৃথক সেল গঠন করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে শনিবার কৃষি উদ্যোক্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, ‘দেশে এখন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের উৎসাহিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা দেশে কৃষি উদ্যোক্তারা কে কী ফসল চাষ করবে, কোন ধরনের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করবে, তাদের কী সহযোগিতা দরকার- এসব বিষয়ে দেখভাল, সহযোগিতা এবং যোগাযোগ রক্ষা করবে এই সেল।’

কৃষিমন্ত্রী জানান, এ বছরের মধ্যে সারা দেশে ২৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি কৃষি ঋণ বিতরণের খোঁজ খবর রাখতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কৃষকেরা সঠিকভাবে ঋণ পাচ্ছে কিনা, ঋণ পেতে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে কিনা, কোন জেলায় কী পরিমাণ ঋণ বিতরণ হচ্ছে-এসব বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়েও কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এবারের দুর্গাপূজায় যে সহিংসতা হয়েছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর যে আক্রমণ হয়েছে তা জাতির জন্য লজ্জাজনক। এটি আমাদের গায়ে কালিমা লেপন করেছে। এ ধরনের ঘটনা কোনোক্রমেই কাম্য নয়।

‘ধর্মের নামে অপপ্রচার চালিয়ে যারা রংপুরের জেলেপল্লিতে মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে, আগুনে পুড়িয়েছে তারা অমানুষ, পশুতুল্য এবং বর্বর। এ ধর্মান্ধ বর্বরদের শিকড় সমূলে উৎপাটন করতে হবে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৩, ২০২১ ১২:৫৯ অপরাহ্ন
ছাদে যেভাবে চাষ করবেন জামরুল
কৃষি বিভাগ

বিষমুক্ত ফল ও সবজি পেতে দেশের মানুষ ছাদ বাগানের দিকে ঝুঁকছে। ছাদে লাগানোর জন্য ফুল ও বাহারি গাছের চেয়ে ফল ও সবজি লাগানো ভালো। ফল হিসেবে জামরুল আমাদের দেশে জনপ্রিয়। খুব সহজে ছাদে জামরুল চাষ করা যায়। তাই জেনে নিন এ চাষ পদ্ধতি।কাঁচা-পাকা সব অবস্থাতেই জামরুল খাওয়া যায়। মৌসুমে জামরুল গাছে কয়েক দফায় জামরুল ধরে। ফলের গড়ন অনেকটা নাশপাতির মতো, সাদা মোমের মতো।

সম্প্রতি দেশে এসেছে নতুন কিছু জামরুলের জাত। যেগুলো আকারে বড়, স্বাদেও মিষ্টি। থাইল্যান্ড থেকে এসব জাতের জামরুল এসেছে বলে একে সবাই বলছে থাই জামরুল।

আধুনিক জাতের জামরুলের গাছ হয় ঝোঁপালো ও খাটো। তাই এসব জাতের গাছ ছাদে হাফ ড্রামে লাগানো যেতে পারে। তবে বাড়ির আঙিনায় জায়গা থাকলে টব বা ড্রামের চেয়ে মাটিতে লাগানো ভালো। হাফ ড্রামে মে মাসের মধ্যেই দো-আঁশ মাটি অর্ধেক ও অর্ধেক গোবর বা জৈব সার মিশিয়ে ভরতে হবে।

সাথে প্রতিটি হাফ ড্রামে ১ কেজি কাঠের ছাই ও ৫০০ গ্রাম হাঁড়ের গুঁড়া, ২৫০ গ্রাম টিএসপি, ১৫০ গ্রাম এমওপি এবং ৫০ গ্রাম বোরণ সার মিশিয়ে দেবেন। তবে ড্রামের ওপরের কানা থেকে অন্তত দু ইঞ্চি খালি রেখে সারও মাটি ভরবেন।

মাটিতে লাগানো গাছ বাড়ে বেশি। একাধিক কলম লাগালে একটি কলম থেকে অন্য কলমের দূরত্ব দিতে হবে ৩-৪ মিটার। তবে বাগান করতে চাইলে সব দিকে সমান দূরত্ব দিয়ে কলম লাগাতে হবে। জুন-জুলাই মাস কলম রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে বছরের যেকোনো সময় জামরুল গাছ লাগানো যায়। নির্দিষ্ট জায়গায় সব দিকে আধা মিটার মাপ দিয়ে গর্ত করতে হবে।

গর্তের মাটির সাথে মিশাতে হবে গর্ত প্রতি ১৫ কেজি গোবর সার, ১ কেজি কাঠের ছাই ও ৫০০ গ্রাম হাঁড়ের গুঁড়া। গর্তের মাঝখানে কলম লাগিয়ে গোড়ার মাটি চেপে দিতে হবে। কাঠি পুঁতে ঠেস দিতে হবে। লাগানোর পর হালকা সেচ ও শুকানোর সময় সেচ দিতে হবে। ছোট গাছে ও ফলবান গাছে প্রতি বর্ষার আগে রাসায়নিক সার দিলে উপকার পাওয়া যায়।

ফলবান প্রতিটি গাছে বছরে ১০ কেজি গোবর সারের সাথে ৫০০ গ্রাম সরিষার খৈল, ১ কেজি ইউরিয়া, ৫০০ গ্রাম এমওপি ও ৫০০ গ্রাম টিএসপি সার গোড়া থেকে একটু দূরে চার দিকের মাটি নিড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এসব ঝামেলা মনে হলে ছাদ বাগানে ড্রামের গাছে গাছ প্রতি ৪-৮টি ট্যাবলেট সার গাছের গোড়ার মাটিতে পুঁতে দিয়ে বছর ভর উপকার পেতে পারেন। জামরুল গাছ ছাদে লাগানোর পরে নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। নিয়তিম পরিমাণ মতো পানি দিতে হবে। তাইলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৩, ২০২১ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
লাউ চাষে বছরে ৭০ হাজার টাকা আয় করেন দুলাল
কৃষি বিভাগ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মীরের বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা দুলাল খন্দকার (৬৫)। তিনি ২০ বছর ধরে লাউ চাষ করে সফল হয়েছেন। চলমান খরিপ-২ মৌসুমে বসত বাড়ির পাশেই চল্লিশ শতক জমিতে লাউয়ের আবাদ করে আসছেন তিনি। তার ক্ষেতের উৎপাদিত লাউ জেলা থেকে শুরু উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।

লাউ চাষি দুলাল খন্দকার জানান, বিশ বছর আগে অনান্য সবজির পাশাপাশি লাউয়ের আবাদ শুরু করি। তবে অনান্য সবজিতে তেমন লাভের মুখ না দেখলেও লাউ চাষে যথেষ্ট লাভবান হতে শুরু করি। তখন থেকেই লাউ চাষে ঝুঁকে পড়ি। লাউ চাষে আয়ের টাকা দিয়ে পরিবারের সকল সদস্যদের ভরণ-পোষণসহ সংসারের যাবতীয় খরচ বহন করে আসছি।

এছাড়াও লাউ চাষে আয়ের টাকা দিয়ে আমার তিন ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছি। বড় ছেলে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে পুলিশে চাকরি করছে। দ্বিতীয় ছেলে ডিগ্রি পাস করে এনজিওতে চাকরি করছে এবং তৃতীয় ছেলে মাস্টার্সে পড়ছে। লাউ চাষে কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হইনি। বিশ ধরে লাউ চাষে যথেষ্ট লাভবান হয়েছি। এবারও ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছি।

৪০ শতকে জমি তৈরি, সার, সেচ, কীটনাশক, মাচা তৈরিসহ পরিচর্যা খাতে আমার ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার টাকা। তাতে প্রতি শতকে ব্যয় হয়েছে ২৫০ টাকা করে। ফলন ভালো হয়েছে। এবার মৌসুমের শুরুতেই আট হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। ৪শ টি লাউয়ের প্রতিটি ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আশা রাখি এবার লাউ বিক্রি করে এক লাখ টাকা আয় করবো। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং বাজার দর ভালো থাকে তাহলে লাউ বিক্রি করে ব্যাপক লাভবান হবো।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলমান মৌসুমে জেলার নয়টি উপজেলার ১ হাজার ১শ ৪৮ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। তবে সে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়ে ১ হাজার ১শ ৯৫ হেক্টর জমিতে শাকসবজির চাষ হয়েছে। এতে শাক-সবজির ভালো ফলন হয়েছে।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সম্পা আক্তার জানান, উপজেলায় এ মৌসুমে ৭শ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। তবে এখনও অনেক জমিতে। শাক-সবজি চাষ না করায় লক্ষ্যমাত্রা এখনও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। কিন্তু খরিপ-২ এ চল্লিশ হেক্টর জমিতে লাউয়ের চাষ হওয়ায় লাউয়ের ফলন ভালো হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৩, ২০২১ ১১:০০ পূর্বাহ্ন
টানা বৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে ধান ও আলু গাছ
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ধান, আগাম জাতের আলু, রবি শস্যসহ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতেবিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি ও ঝড়োহাওয়ায় ধান গাছ নুয়ে পড়েছে মাটিতে। জমে থাকা পানিতে ফসল পচে যাওয়ার আশঙ্কা দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও চলমান বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষকরা।

শিবনগর ইউনিয়নের রবিউল হক জানান, আগাম জাতের আলু ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও মৃদু বাতাসে অধিকাংশ জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। বেতদীঘি ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হামিদ, সামিউল ইসলামসহ অনেক কৃষক জানায়, আসছে শীত মৌসুমে আগাম জাতের রবিশস্য উৎপাদনের আশায় আলুসহ শীতকালীন সবজির মাঠে পানি জমে থাকায় চরম দুশ্চিন্তার দিন কাটছে তাদের।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় জানায়, এবছর এ উপজেলায় ১৮ হাজার ১৮১ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। সম্ভাব্য (চাল) উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার ২০২ মেট্রিকটন। ৫০ হেক্টর জমিতে হয়েছে আগাম আলু চাষ।

এবার উফশী জাতের ধান ব্রি-৩৪, ব্রি-৩৯ ব্রি-৫১, ব্রি-৫২, বিনা-১৭, সম্পা কাটারি, স্বার্ণা-৫, গুটিস্বর্ণা, রঞ্জিত, সোনামুখী এবং হাইব্রিট জাতের টিয়া, ধানিগোল্ড, হীরা, এজেড-৭০০৬ জাতের ধান চাষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার জানান, হাইব্রিট ও সোনামুখী আগাম জাতের কিছু ধান কাটা শুরু হয়েছে। বাকি ধান কার্তিকের শেষ থেকে কাটা শুরু হবে। ফলন যাতে ভালো হয় সেদিক লক্ষ রেখে মাঠে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বৃষ্টি প্রাকৃতিক ব্যাপার, তবে এ বিষয়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করি খুব একটা ক্ষতি হবে না।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop