৪:২৬ অপরাহ্ন

শুক্রবার, ১ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ ৫:২৭ অপরাহ্ন
বরিশালে ভাসমান কৃষি প্রকল্পের দু’দিনের কর্মশালা উদ্বোধন
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে ‘ভাসমান কৃষি বিষয়ক গবেষণা-স¤প্রসারণ পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন’ শীর্ষক দু‘দিনের কর্মশালা শুরু হয়েছে। আজ রহমতপুরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (আরএআরএস) সেমিনারকক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালা উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, মানুষ বাড়ছে। কমছে জমির পরিমাণ। পরিবর্তিত হচ্ছে জলবায়ু। এসব মোকাবেলায় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন আধুনিক চাষাবাদের পাশাপাশি ফসলের নিবিড়তা বাড়ানো। সে সাথে দরকার জলমগ্ন এলাকা আবাদের আওতায় আনা। এগুলো অবশ্যই পরিকল্পনা অনুযায়ী হওয়া চাই। তাহলেই ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হবো।

ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, স¤প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্প আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আরএআরএস’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএআরআই’র পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. তারিকুল ইসলাম, বিএআরআই’র পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. রিনা রানী সাহা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক এবং ডিএই বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার।

আরএআরএস’র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএআরআই’র সদর দপ্তরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দেলোয়ার আহম্মেদ চৌধুরী, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ পটুয়াখালীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সহিদুল ইসলাম খান, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সিলেটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল, আরএআরএস বরিশালের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৬০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ ৪:২৬ অপরাহ্ন
“শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু” চিত্র কর্মে সম্পৃক্ত ১৯৪ ক্যাডেটকে সম্মাননা প্রদান
কৃষি বিভাগ

গিনেজ বুকে স্থান পাওয়া “শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু” নামে সর্ববৃহৎ চিত্রকর্ম তৈরিতে সম্পৃক্ত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)র ১৯৪ জন ক্যাডেটকে বিএনসিসির পক্ষ থেকে মেডেল ও সনদ প্রদান করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার(৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়া জিলা স্কুলের মুত্তিযোদ্ধা আমিনুল হক দুলাল অডিটোরিয়ামে এটি প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন শস্য চিত্রে বঙ্গবন্ধুর ৮০ শতাংশ ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সদস্যরা। এ সকল বিএনসিসি’র সদস্যদের এ কৃতিত্ব ইতিহাসের পাতায় লিখা থাকবে । এ চিত্র কর্মের লে-আউট থেকে বীজ বপনের মত কঠিন কাজ করে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। শষ্য চিত্রে অবদানের কথা উঠলে সবার আগে নাম উঠবে বিএনসিসি’র সদস্যদের মানুষ স্মরন করবে।প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার সচিব নজরুল ইসলামের জন্য এ চিত্র কর্ম স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন ,বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দা গ্রামে ১০০ বিঘা জমিতে সোনালী ও বেগুনী রঙের বিশেষ ধান গাছের চারা দিয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ চিত্রকর্ম তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিল বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হক। বিশেষ অতিধি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তি , বিশিষ্ট সমাজ সেবী ও নারী নেত্রী ড. জেসমিন আরা সুলতানা সাথী।

এ ছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনসিসির মহাস্থান রেজিমেন্টের ভারপ্রাপ্তরেজিমেন্ট কমান্ডার শেখ শাহরিয়ার মোহাম্মদ শাকিল, বগুড়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামপদ মুস্তাফী অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু যুব ও স্বেচ্ছাসেবা বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ম্যাক্সিম গোর্কি সাম্য।

প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার সচিব নজরুল ইসলাম , বিএনসিসির মাহপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নহিদুল ইসলাম খান, উপ-পরিচালক(সমন্ময়) মেজর হামিদ ওয়াদুদ,উপ-পরিচালক সেনা) মেজর আতাউল হক এবং প্রেস ও মিডিযা ইনচার্জ ও নর্থ সাউথ বিশ^বিদালয় বিএনসিসির অ্যাডজুটেন্ট ক্যাডেট আন্ডর অফিসার ম্যাক্সিম গোর্কি সাম্য সম্মিলিমত প্রচেষ্টায় এ কাজে প্রায় ১২লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে চিত্রকর্মটি ফুটিয়ে তোলার জন্য ম্যাপিং, চারা রোপণ ও লে-আউট ক্রিয়েটিং এরকাজে স্বেচ্ছাসেবার মনন ব্রতে স্বতঃফূর্তভাবে অংশ নেয় বিএনিিসসি ক্যাডেট সদস্যরা। ১৬ মার্চ এ বিশাল চিত্রকর্ম “শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু” নামে বিশে^র সর্ববৃহৎ ক্রপ –ফিল্ড মেজাইক হেসাবে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড-এ স্থান করে নেয়।অনুষ্ঠান শেষে ক্যাডেটদের হাতে এ কৃতিত্বের সম্মাননা হাতে তুলে দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
গ্রিন মাল্টা চাষে লাখপতি বিদেশফেরত আব্দুর রহমান
কৃষি বিভাগ

গত দুই বছর আগে থেকে বিদেশ ফেরত আব্দুর রহমান গ্রিন মাল্টা চাষ করে এখন বিদেশের কাজের সমপরিমাণ টাকা আয় করছেন দেশে বসেই। এখন তার বাগানের প্রতিটি গাছে গ্রিন মাল্টা নামের সুস্বাদু ফল ধরেছে এবং পাকা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিক্রিও হয়েছে কয়েকশত কেজি মাল্টা। তিনি সারাবছর এই বাগানের ভেতরে মাল্টা গাছের ফাঁকে ফাঁকে সবজি উৎপাদন করে বাড়তি লাখ টাকা আয় করছেন। মাল্টা চাষি আব্দুর রহমানের বাড়ি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি গ্রামে।

তিনি জানান, প্রায় ১৯ বছর সৌদি আরবে একটি কোম্পানিতে চাকুরি করেছেন। প্রবাস জীবনে থেকে চাকুরি করে আশানুরূপ টাকা উপার্জন করতে পারেননি। হঠাৎ মাটি ও মানুষের টানে চলে আসেন দেশে। তখন ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি। দেশের মাটিতে ফিরে এলেন তিনি। তখন মনে মনে চিন্তা করেন ভালোমানের ফসল উৎপাদন করে বিদেশের সমপরিমাণ টাকা উপার্জন করবেন।

বাড়ির পাশে রেকর্ডিয় পতিত জমি থাকায় মাল্টা চাষের পরিকল্পনা চেপে বসে মাথায়। এভাবে ভাবতে ভাবতে চলে যায় ৬ মাস। ওই বছরের জুন মাসে এই মাল্টা চাষ শুরু করতে পরামর্শ নিতে ছুটে যান বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে।

মাল্টা চাষে চান ভালো ফলন, চান সমৃদ্ধশালী কৃষি উন্নয়ন পরামর্শ। তার এই পরামর্শে বেশ আগ্রহ দেখে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা। তখন আব্দুর রহমানকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে স্থাপিত ‘মাল্টা ব্লক প্রদর্শনী’ নামে ২০০ গ্রিন মাল্টা গাছের চারা হাতে তুলে দেন।

মাল্টা বাগানের ভালোমন্দ দেখাশোনার দায়িত্বও দেয়া হয় একজন কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে। আব্দুর রহমান এই সহযোগিতা পেয়ে খুবই আগ্রহের সাথে বাগানের কাজ শুরু করেন। অফিসের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনার দায়িত্বে থাকেন ধনপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বিধু।

মাল্টা গাছ রোপণের সাথে সাথে মাটি ভরাটসহ বাগানের চারিদিকে নিরাপত্তা রক্ষায় বেষ্টনি নির্মাণ করেছেন আব্দুর রহমান। বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ করতে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে তার লাখ টাকার উপরে। এই খরচের চিন্তা তার মাথায় রেখে নানা কৃষি উৎপাদন কৌশল কাজে লাগিয়ে মাল্টা বাগানের ভেতরে সবজি চাষ করেছেন। প্রথম বছর সবজি চাষে ভালো লাভ হয়েছে।

এখন সারাবছর বাগানের মাল্টা গাছের ফাঁকে ফাঁকে শসা, ঢেঁড়স, মরিচ, টমেটো, লাউ ইত্যাদি চাষ করে অনেক ফসল উৎপাদন করছেন। এই সবজি বিক্রি করেও ভালো টাকা পাচ্ছেন।

আব্দুর রহমান জানান, দুই বছর আগে রোপণকৃত তার মাল্টা বাগানে ১৪০টি গাছে কাঁচা পাকা মাল্টা ঝুলে আছে। ফলের ভারে গাছ নুয়ে পড়ছে। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে আটকে রেখেছেন। প্রতিটি গাছে মাল্টা ধরেছে অন্তত ৩০ কেজি করে।

প্রতি কেজি পাইকারি হারে বিক্রি করা যায় ১৪০ টাকা দরে। বাজারে খুচরা প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। এই হিসেবে তার বাগান থেকে প্রতিবছর অন্তত ৬ লাখ টাকার মাল্টা পাইকারি হারে বিক্রি করতে পারবেন।

মাল্টা বাগানে এখন তার কোনো খরচ নেই। ফল ধরবে বছর বছর। এছাড়াও সবজি বিক্রি করতে পারবে বছরে প্রায় ২ লাখ টাকার। মাল্টা চাষকে আরও সমৃদ্ধ করে বছরে অন্তত ২০ লাখ টাকা উপার্জনের পরিকল্পনা রয়েছে চাষি মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সাবেক কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস জানান, আমি যখন ওই উপজেলায় ছিলাম তখনই বিদেশ থেকে ফিরে আসা ধনপুরের চাষি আব্দুর রহমানের এই মাল্টা চাষে আগ্রহ দেখে তাকে ২০০ গ্রিন মাল্টার গাছ দিয়েছিলাম। এখন শুনেছি বাগানে ভালো উৎপাদন হয়েছে। তার এই বাগান দেখে অন্যান্য চাষিরাও এই মাল্টা চাষ করতে উদ্বুদ্ধ হবেন।

ধনপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বিধু জাগো নিউজকে বলেন, আমি এই মাল্টা বাগানে ভালো উৎপাদনের জন্য প্রতিনিয়ত লক্ষ্য রেখেছি, পরামর্শও দিয়ে আসছি। এখন ভালো ফলন হয়েছে। রসে ভরা এই গ্রিন মাল্টা অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুঘ্রাণ রয়েছে। চাষি আব্দুর রহমানের আনন্দে আমিও আনন্দিত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১ ৪:৫৮ অপরাহ্ন
ব্যবসা ছেড়ে মাল্টা ও লেবু চাষে লাখোপতি সালাউদ্দিন
কৃষি বিভাগ

ঢাকায় মিষ্টির ব্যবসা ছেড়ে গ্রামে গিয়ে মাল্টা ও লেবু বাগান করে লাখোপতি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার সখিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আনু সরকার কান্দি গ্রামের মো. কাশেম মোল্লার ছেলে সালাউদ্দিন মোল্লা (৪৫)।

জানা যায়, ২০১৩ সালে ৫০ শতক জমি লিজ নিয়ে ৩০০টি লেবু গাছ দিয়ে লেবু চাষ করেন এবং ২০১৮ সালে দুই একর ৪০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে এক হাজার ৩০০টি গাছ দিয়ে মাল্টার বাগান করেন। মাত্র এক বছরে লেবু ও দুই বছরে মাল্টা চাষে তিনি আজ সফল লেবু ও মাল্টা চাষি। বছরে তার বাগান থেকে প্রায় বিশ লাখ টাকার মাল্টা ও লেবু বিক্রি হয়। এই বাগানগুলোতে হওয়া লেবু ও মাল্টা চারা বিক্রি করে তিনি আরও চার লাখ টাকা পান।

টাঙ্গাইল জেলায় লেবু ও মাল্টা চাষের একটি বাগান দেখে তিনি এই ফল চাষে আগ্রহী হন। ২০১৩ সালে ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসে লেবু ও মাল্টার বাগান শুরু করেন। বর্তমানে তিনি সাত একর ৯০ শতক জমিতে লেবু ও দুই একর ৪০ শতক জমিতে মাল্টার বাগান করেছেন। সেখানে আছে ৭ হাজার ৬০০ লেবু ও এক হাজার ৮০০ মাল্টাগাছ গাছ।

সালাউদ্দিন মোল্লা জানান, লেবু ও মাল্টা চাষে তার বেশ আগ্রহ। তার বাগানে চায়না থ্রি, সিলকেট লেবু এবং পাকিস্তানি বেড়িকাটা মাল্টা ও ভারতীয় প্রলিত মাল্টা জাতের গাছ আছে। চারা রোপণের এক বছরের মধ্যে লেবু ও দুই বছরের মধ্যে মাল্টা ফলন শুরু হয়। বর্তমানে তার বাগান পরিচর্যার জন্য বারোজন লোক কাজ করেন। তার দেখাদেখি এলাকার অনেক বেকার যুবক মাল্টা-লেবু বাগান করে বেকারত্ব দূর করছেন।

সালাউদ্দিন মোল্লার বাবা কাশেম মোল্লা এখন পাশাপাশি ছেলের লেবু ও মাল্টা বাগানেও কাজ করেন। তার বাগানের নাম রেখেছেন ‘মোল্লা লেবু ও মাল্টা বাগান’।

তিনি নিজের বাগানে মাতৃগাছ থেকে বাকল দিয়ে ‘গ্রাফটিং’ করে চারা উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, এ বছর প্রায় ২০ লাখ টাকার লেবু এবং আড়াই লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার লেবু ও মাল্টা নিজ এলাকা ছাড়িয়ে শরীয়তপুরের বিভিন্ন উপজেলা ও চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে গেছে। দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা তার বাগানের লেবু ও মাল্টা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন। বাগান থেকে ব্যবসায়ীরা পাইকারি মাল্টা ১২০ ও ৮০ পিচ লেবু ৩০০ টাকা দরে কিনেন ।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম জানান, সালাউদ্দিন মোল্লার বাগানে আমি গিয়েছি। তার উৎপাদিত মাল্টা আকারে বড় ও মিষ্টি। তাছাড়া তিনি লেবু চাষেও বেশ সফল। তিনি কৃষি কার্যালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১ ৮:৪১ পূর্বাহ্ন
ভাসমান বেডে সবজি-চারা উৎপাদনে লাভবান কৃষক
কৃষি বিভাগ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ৮টি ইউনিয়নে ভাসমান বেডে শাকসবজি চাষ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। অত্র উপজেলায় ২৭০ হেক্টর জমি ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত জলাবদ্ধতায় পতিত থাকছে। তাছাড়া ডাকাতিয়া নদীতে চাঁদপুর – ফরিদগঞ্জ অংশে প্রায় ১৮ কিলো মিটার পুরোটাই কচুরিপানা দিয়ে বেষ্টিত রয়েছে। উপজেলার ১,৩,৪, ৫,৬,৯,১০,১৪ নং ইউনিয়নে এ কার্যক্রম চলছে। ভাসমান বেডে লাউ, মিষ্টিকুমড়া, শষা, লাল শাক, পাট শাক, কলশী শাক, ধনিয়া পাতা ইত্যাদি চাষ হচ্ছে।

স্থানীয় উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্র জানায়, কৃষক-কৃষানীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১.২৫ মিটার প্রস্থ, ৪ থেকে ৫ মিটার উচ্চতার কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরি করে ও পঁচা কচুরি পানা উপরে দিয়ে প্রতিটি বেড তৈরিতে ৭/৮ জন শ্রমিকের লাগে। প্রতিটি বেড প্রস্তুত করতে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়।

৪/৫ বার ফসল উৎপাদন করা যায়। তিনটি বেড হতে গড়ে ১৩/১৪ হাজার টাকার আয় করা সম্ভব হচ্ছে। ফসল ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে তোলা যায়। এত পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরন করে বাজারে উদ্বৃত শাকসবজি ও চারা বিক্রি করে কৃষকরা বেশ ভালোই করছে বলে জানায়। তাছাড়া জৈবসারে উৎপাদিত এ শাকসবজিতে কোন ধরনের কিটনাশক ছিটানো হচ্ছেনা।

সোভান এলাকার ভাসমান বেডে শাকসবজি চাষী মো. মিজানুর রহমান তালুকদার জানান, আমার ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ২৫টি বেড রয়েছে। জনতা ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে ও ধার দেনা করে চাষ করে চলছি। স্থানীয় কৃষি দপ্তর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সাথে ৫শত টাকাও দিয়েছে। এছাড়া মাত্র ১ হাজার টাকা পেয়েছি বেড তৈরি বাবত। সরকার আমাদেরকে সুদবিহিন ঋণের ব্যবস্থা চালু করলে আমরা ফরিদগঞ্জে ভাসমান বেডে সবজি চাসে বিপ্লব ঘটাতে পারবো।

বাবুল গাজী জানায়, আমার ১২টি ভাসমান সবজির বেড রয়েছে। এখানে সবজি ও চারা উৎপাদন করে মোটামুটি ভালোই চলছেন বলে জানান। তিনিও সরকারী বরাদ্দ বাড়ানোর দাবী জানান। তিনি আরোও জানান, আমাদেরকে কৃষি অফিস ১ থেকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে থাকে এতে লেবারের চা-বিস্কুটের পয়সা হয়ে থাকে।

অপর চাষী সিরাজ মিয়া জানান, আমার ৩ টি ভাসমান বেড রয়েছে আমি এক টাকাও পাইনি। তাছাড়া প্রশিক্ষণ ও দিতে পারিনি। আমি কোন রকম সবজি চাষ করেই সংসার চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল মাহমুদ জানান, সম্পূর্ন জৈব পদ্ধতিতে ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আয়বর্ধক একটি চাষ প্রক্রিয়া। পারিবারিক ভাবে সবজির চাহিদা মেটায়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অপার সম্ভবনা রয়েছে ভাসমান বেডে সবজি চাষে। সরকার বড় ধরনের বরাদ্দ দিলে এ এলাকার ১৮ কি: মি: ডাকাতিয়া নদীর ফরিদগঞ্জের অংশে কচুরিপানা জটকে কাজে লাগিয়ে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, ভাসমান বেডে সবজি চাষ করার উপযুক্ত অঞ্চল হচ্ছে, এ উপজেলার বদ্ধজলাশয়ের ভূমিগুলো। আমি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ভাসমান বেডে সবজি চাষ কিভাবে আরোও ভালো করা যায় এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলবো।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১ ২:৩৩ অপরাহ্ন
আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত বগুড়ার কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

শাক, ফুলকপি, বাধা কপি, মুলা, লাউ ও ছিমসহ নানা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রামের কৃষকরা।কয়েক দফা টানা বর্ষণে সবজি উৎপাদন অঞ্চল বগুড়ায় আগাম শাক-সবজি চাষে বিঘ্ন ঘটলেও নতুন উদ্যেমে কৃষকরা সবজি চাষ শুরু করেছে তারা।

আগাম শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করে কৃষক লাভবান হয়ে থাকে। এ কারণে বগুড়ার শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ, সদর গাবতলী উপজেলার কৃষকেরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর জেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে শাক-সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচলক দুলাল হোসেন জানান, নির্ধারিত ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ১৬ হাজার মেট্রিকটন নির্ধারন করা হয়েছে। তবে এবার প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমির মাটিতে প্রচুর রস রয়েছে। যা শাক-সবজি উৎপাদনে সহায়ক। এরমধ্যে জেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হবে বলে জানান জেলার কৃষি কর্মকর্তারা। লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাকের জন্য জমি প্রস্তুত করছে কৃষক।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বগুড়ার কৃষকরা আগাম ফুল ও বাঁধা কপি চাষ করে থাকে। ইতমধ্যে কিছু ফুল কপি বাজারে উঠেছে যা প্রতিকেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক কৃষক শীতের আগাম সবজির চারা তৈরিও করছে।

শাজাহানপুরের দাঁড়িগাছা এলাকার বেগুন চাষি মতিউর রহমান জানান, ‘এ বছর তিন বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করছি। বৃষ্টিতে গাছের বৃদ্ধি কম হলেও, এখন বেগুন গাছগুলো স্বাভাবিক আছে। আবহাওয়া এমন থাকলে আগামী মাসে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১ ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
মাগুরায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আউশের ফলন
কৃষি বিভাগ

চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মাগুরা জেলায় বেশি জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় দুই হেক্টর জমিতে এ চাষ বেশি হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর আউশ মৌসুমে জেলায় মোট ১১ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। চাষকৃত এ জমিতে ১৯ হাজার মেট্রিকটনের বেশি চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

এর মধ্যে উপজেলা ভিত্তিক আউশের আবাদ হচ্ছে,- মাগুরা সদর উপজেলায় আউশের আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। শালিখায় আউশের আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৫১০হেক্টর জমিতে, মহম্মদপুরে ১ হাজার আটশো হেক্টর ও শ্রীপুরে ৩০০ হেক্টর জমি এ চাষের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে জেলার চার উপজেলায় ক্ষেত থেকে পুরোদমে আউশ ধান কাটা চলছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক জানান, ইতিমধ্যেই জেলায় ৬৫ শতাংশ জমির আউশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। ধান কেটে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১ ৯:৩০ পূর্বাহ্ন
৩০ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করবেন ওলিয়ার!
কৃষি বিভাগ

বিদেশি ফল মাল্টা চাষে অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখিয়েছেন মাগুরা সদর উপজেলার ওলিয়ার রহমান। চার বছর আগে কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিজের তিন বিঘা জমিতে শখের বশে গড়ে তোলেন মাল্টা বাগান। এ বছর বাগান থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন ওলিয়ার।

ওলিয়ার রহমান জানান, তার ছোটবেলা থেকেই নানান ধরনের গাছের বাগান করার নেশা। ৪ বছর আগে হর্টিকালচারিস্ট ড. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি পরিকল্পনা করেন একটি মাল্টা বাগান করার। সে অনুযায়ী যশোর ঝুমঝমপুর থেকে সংগ্রহ করেন বারি-১ মাল্টার চারা।

তিন বিঘা জমিতে শুরু করেন মাল্টার চাষ। এ বছর তার বাগান ভরে ওঠে মাল্টায়। সব মিলে ৮০০ মণ মাল্টা সংগৃহীত হয়েছে তার বাগান থেকে। দারুণ সুস্বাদু এ মাল্টার খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশ থেকে ব্যবসায়ীরা আসছেন মাল্টা কিনতে। ইতোমধ্যে ২৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন তিনি। আরও ৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হবে বলে ধারণা তার।

ওলিয়ার রহমান জানান, চার বছর আগে আমি এই বাগানের পেছনে ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। তখন মূলত শখের বশেই করেছিলাম। আমি ভাবিনি এই বাগান থেকে এক বছরেই ৩০ লাখ টাকার ফল পাবো। এখন আমার বাগান পরিচর্যার জন্য ৮ জন লোক কাজ করছেন। এ বাগান থেকে আরও ১২ বছর ফল আসবে। আমি স্বপ্ন দেখছি আরও লোকজনকে কাজে নেবো। এই বাগান আরও সম্প্রসারণ করবো।।

মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ রোকনুজ্জামান জানান মাগুরার মাটি বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির। এ ধরনের মাটি মাল্টা উৎপাদনে সহায়ক। এ ছাড়া এই মাটিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অম্লের উপস্থিতি এবং লবণাক্তহীনতা মাল্টাকে সুস্বাদু করে তুলেছে। আমরা মাগুরায় মাল্টা চাষ নিয়ে আশাবাদী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ ৫:৪৫ অপরাহ্ন
বরিশালে কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে সরেজমিন উইংয়ের পরিচালকের মতবিনিময়
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক একেএম মনিরুল আলমের সাথে এক মতবিনিময় সভা ৪ সেপ্টেম্বর বরিশালের খামারবাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, করোণার প্রভাব এখনও বিদ্যমান। আমরা একটি সংকটময় মুহূর্ত পার করছি। যে কারণে বিশ্বের সকল দেশে কৃষিউৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। কাজেই আমদানির ওপর আর ভরসা করা যাবে না। নিজেদেরকেই সাবলম্বী হতে হবে। এর অংশ হিসেবে পারিবারিক পুষ্টি বাগান ও প্রদর্শনী বাস্তবায়নে আরো সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা জরুরি।

ডিএইর উপপরিচালক হৃদয়েশ^র দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএই বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিএইর জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. মোশাররফ হোসেন, কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক তাপস কুমার ঘোষ, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার (বরিশাল অঞ্চল) রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মোসাম্মৎ মরিয়ম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সাবিনা ইয়াসমিন, বরিশাল সদরের উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা. ফাহিমা হক, মুলাদীর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রেজাউল হাসান, বাবুগঞ্জের উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাসির উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ৪০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ ৫:০৪ অপরাহ্ন
পাটের বাম্পার ফলনে খুশি মোল্লাহাটের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

পাট কাটা, পাট জাগ, আশ সংগ্রহ, খড়ি শুকানোসহ পাট পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বাগেরহাটের মোল্লাহাটে পাট চাষিরা।মৌসুমের শুরুতে ভাল দামে খুশি চাষিরা। তবে পাট চাষিদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি প্রধান বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে পাট চাষ হয়ে থাকে। এই উপজেলায় এবছর ৯৬০ হেক্টর জমিতে প্রায় চার হাজার চাষি পাট চাষ করেছেন। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামে পাট জাগের গন্ধ। আশ সংরক্ষণ শেষে কেউ কেউ পাট বিক্রিও শুরু করেছেন। এবছর প্রতি হেক্টর জমিতে দুই থেকে সোয়া দুই টন পাট উৎপাদিত হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ৩০০০ হাজার টাকা। মৌসুমের শেষে এই পাটের মণ অন্তত সাত থেকে আট হাজার টাকা হবে বলে দাবি কৃষি কর্মকর্তার। শুধু আশ নয়, প্রতি বিঘা জমির পাটখড়ি বিক্রি হয় ৭ থেকে ১০ হাজার টাকায়।

চাষিরা বলছেন, ধার-দেনা করে চাষ করা হয়। তাই ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই দেনাদাররা হানা দেয়। দাম কম হলেও দেনাদারের পাওনা পরিশোধ করার জন্য পাটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি করতে হয় তাদের। যার ফলে ইচ্ছে থাকলেও কষ্টার্জিত ফসল থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করতে পারে না কৃষকরা। এরপরেও ভাল ফলনে খুশি কৃষকরা।

তরিকুল ইসলাম নামে এক কৃষক জানান, বাংলাদেশের জন্য পাট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থকরী ফসল। কিন্তু আমরা যারা চাষি, তারা এই পাট চাষ করে তেমন লাভবান হই না। ধার-দেনা ও সুদে টাকা এনে চাষ করি। দাম বৃদ্ধির আগেই দেনা পরিশোধের জন্য পাট বিক্রি করে দিতে হয়। পাট চাষিদের বীজ ও সার কেনার জন্য যদি সরকার কিছু সহযোগিতা করত তাহলে চাষিরা খুবই লাভবান হত বলেন দাবি করেন তিনি।

মোল্লাহাটে তোষা, দেশি, মেস্তা তিন ধরণের পাট চাষ হয়। মার্চের শেষ থেকে মে পর্যন্ত পাট লাগানো যায়। আগস্টের প্রথম থেকে পাট সংগ্রহ শুরু করেন চাষিরা। পাট চাষের জন্য প্রথমে জমি নির্বাচন ও বীজ সংগ্রহ করেন চাষিরা। পরে জমি চাষ ও আগাছা পরিস্কার করতে হয়। এরপরে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বীজ বপন করেন কৃষকরা। বীজ বপনের পরেই শুরু হয় সেচ দেওয়া। ৫২ শতাংশের প্রতি বিঘা জমিতে চাষের জন্য ব্যয় হয় ২০০০ টাকা। এছাড়াও একই পরিমাণ জমিতে সেচ (পানি) দিতে ২০০০, বীজে ২০০ থেকে ৫০০, আগাছা পরিস্কারে ২০০০, সার প্রয়োগে ২০০০ টাকা ব্যয়। পাট পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পরে কাটা, জাগ ও আশ আলাদা করার জন্য ব্যয় হয় ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা।

মোল্লাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিমেষ বালা জানান, মোল্লাহাটের ভান্ডারকোলা, বাসুরিয়া, আটজুড়ি, চর আস্তাইল, শাসনসহ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় পাট চাষ হয়েছে। প্রায় ৯৬০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। আমরা চাষিদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছি। এবছর কাঁচা পাটের মণ ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আস্তে আস্তে এই দাম ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা মণে পৌঁছাবে। এ জন্য চাষিদের একটু ধৈর্য্য ধরে পাট বিক্রি করার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop