৪:২৬ অপরাহ্ন

শুক্রবার, ১ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ ৪:৫২ অপরাহ্ন
সবজি চারার চাহিদা কম হওয়ায় লোকসানে চাষিরা
এগ্রিবিজনেস

বরিশাল ও পিরোজপুরের কৃষকরা বছরের পর বছর ধরে ভাসমান ক্ষেতে সবজি চারা উৎপাদন করে আসছেন। তবে, এবার মহামারি করোনা ও বন্যার কারণে চারার বাজারে চলছে মন্দা।চাষি পর্যায়ে ভালো দর না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সবজির চারা পাইকার মো. শহিদ জানান,পুরো বিশারকান্দি ও পিরোজপুরের নাজিরপুর এলাকার ফসলি জমি বর্ষায় পানির নিচে ডুবে থাকে। এ সময় জলজ উদ্ভিদ অর্থাৎ শ্যাওলা, কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান ক্ষেত তৈরি করেন কৃষকরা। এভাবেই ডুবে থাকা ফসলি জমির ওপর সবজি চারা উৎপাদন করা হয়ে থাকে।

এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ সবজি চারা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত চারা বরিশালের বিভিন্ন এলাকাসহ পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করা হয়। তবে এবার বন্যার কারণে এসব অঞ্চলে সবজি চারার বাজারে মন্দা চলছে।

তুলাতলা এলাকার কৃষক শামসুল হক জানান, করোনার কারণে এবার বিশারকান্দিতে স্থানীয় পাইকার ছাড়া দূরের পাইকারদের তেমন দেখা যাচ্ছে না। দূরের পাইকার না থাকায় বাজার স্থানীয় পাইকারদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে লোকসান ঠেকাতে তারা যে দর দিচ্ছেন তাতেই চারা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।

রাসেল নামে এক কৃষক জানান, মৌসুমে একটি ক্ষেত থেকে ৩-৫ বার চারা উৎপাদনের চেষ্টা করেন কৃষকরা। সেক্ষেত্রে ভাসমান ক্ষেতে নির্ধারিত সময়ের পর চারাগাছ রাখা বিপদ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ ৩:২১ অপরাহ্ন
আতা ফলের বাণিজ্যিক বাগান করে তাক লাগিয়েছেন বাদশা মিয়া
কৃষি বিভাগ

বাণিজ্যিকভিত্তিতে আতা ফল চাষ করে বাজিমাত করেছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের চাষি শাহজাহান আলী বাদশা ।

জানা যায়, আজ থেকে ১৫ বছর আগে বাণিজ্যিকভিত্তিতে এ বাগানটি শুরু করেন বাদশা মিয়া। এখন এ বাগানের আয়তন ৪০ বিঘা। ২০১২ সাল হতে তিনি এ বাগান থেকে ফল পাওয়া শুরু করেন। এখন তার বাগান থেকে পরিপূর্ণ ফলন যাচ্ছে। বাজারে ফল বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন।

বাদশা মিয়া জানান, বিলুপ্তপ্রায় দেশি ফলকে বাঁচিয়ে রাখার ইচ্ছা থেকেই বাণিজ্যিকভিত্তিতে শুরুতে এক একরের বাগান গড়ে তুলেছিলেন। তার বাগানই দেশে বাণিজ্যিকভিত্তিতে গড়ে তোলা প্রথম আতা ফল বাগান বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘ ১৫ বছরে তা ৪০ বিঘার বাগানে রূপ নিয়েছে। শ্রমে-ঘামে তিনি আতা ফলিয়েছেন। ১৫ বছর আগে ২০০৬ সালে ঢাকার বায়তুল মোকারম এলাকা থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে তিন কেজি আতা ফল কিনেছিলেন। প্রায় হাজার টাকার ঐ ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে চারা করেন।

বাদশা মিয়া জানান, বৈশাখ মাসে ফুল আসে আর ভাদ্র মাসে ফল সংগ্রহ করা যায়। আতা ফল চাষের উৎপাদন খরচ ও লাভ সম্বন্ধে জানতে চাই বাদশা মিয়ার কাছে। তিনি জানান, উৎপাদন খরচ বলতে চারা লাগানো, যত্ন-পরিচর্যা সব কিছু মিলিয়ে বিঘা প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়।

ফলন পাওয়ার আগে অর্থাৎ ৫-৬ বছর পর্যন্ত সাথী ফসল হিসেবে ওল কচু ও অন্যান্য শাক-সবজি আবাদ করা যায়। এ দিকে বিঘা প্রতি ২০০ গাছে গড়ে একশ-দেড়শ ফল ধরে। গাছ প্রতি গড়ে একশ, ফল হিসেব করে বিঘা প্রতি অন্তত দুই লাখ টাকা লাভ থাকে বলে তিনি জানান।

বাদশা মিয়া জানালেন, বাগানের গাছের উচ্চতা ৭ থেকে ৮ ফুট থাকলে ভালো হয়। উচ্চতা এর চেয়ে বাড়ানো যায়। তবে উচ্চতা একটু কম থাকলে ঝড়ে ডালপালা ভেঙে যাওয়া আশঙ্কা কম থাকে। যত্ন-পরিচর্যা সম্বন্ধে তিনি জানান, আগাছা দূর করা ও সার দেয়া ছাড়া তেমন যত্ন-পরিচর্যা করতে হয় না। কাটিং করে গাছের আকৃতি ছোট রাখা যায়।

রোগ-বালাইয়ের মধ্যে মিলিব্যাগ নামক ছোট ছোট পোকার আক্রমণ দেখা যায়। তবে প্রতিষেধক দ্বারা সহজেই তা দমন করা যায়। পাকা আতা ফল পাখি খেতে আসে। এ জন্য পাকা ফল দ্রুত তোলাই ভালো। ফল পাকলে এটি সাদা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক আবদুল কাদের জানান, বাদশা মিয়া আতা বাগানটি যখন শুরু করেন তিনি তখন ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন। তাই তিনি বাগানটি সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অবগত।

তিনি জানান, দেশীয় প্রজাতির এ ফলটি যেমন শরীরের জন্য খুবই উপকারী তেমনি এর চাষ করাও লাভজনক। পাবনা জেলা শহরের ফলের দোকানেই প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকায় এর দাম আরো বেশি। তিনি জানান, পাবনা অঞ্চলের মাটি এ ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ ৫:৫০ অপরাহ্ন
কালিহাতীতে বিনামূল্যে পাটবীজ বিতরণ
কৃষি বিভাগ

কামরুল হাসান, কালিহাতী (টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে ভিত্তি নাবী পাটবীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও মাঝে স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ উৎপাদন মৌসুমে প্রকল্পভূত নির্বাচিত পাট বীজ উৎপাদনকারী চাষীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা তানজিন অন্তরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বি.কম।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফারহানা মামুন ও উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ফারুকুজ্জামান প্রমুখ।

উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ফারুকুজ্জামান জানান ১০০ জন চাষীদের মাঝে ভিত্তি নাবী পাটবীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও ২০ জন চাষীদের মাঝে স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ ৩:২৯ অপরাহ্ন
আগাম জাতের শিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি
কৃষি বিভাগ

শিম বাংলাদেশের অন্যতম লতা জাতীয় শীতকালিন সবজি। জেলায় গ্রীস্মকালিন সবজি হিসেবে আগাম জাতের শিমের আবাদ হচ্ছে। শিম লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা দিন-দিন এই আবাদের দিকে ঝুঁকছে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৯৫০ হেক্টর জমিতে আগাম অটো জাতের শিম আবাদ করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪০০ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৫০ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩০০ হেক্টর ও জীবনগর উপজেলায় ২০০ হেক্টর। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৮৫০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছিল চলতি মৌসুমে ১০০ হেক্টর বেশি জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হেক্টর প্রতি ১২ টন।

চুয়াডাঙ্গার বাজারে আগাম শিম উঠতে শুরু করেছে। অসময়ে শিমের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। ফলে ফলন যেমন বেশি তেমনি বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকরা বেশ খুশি।

গ্রামের মাঠের দিকে তাকালেই দেখা যায় জমি জুড়ে শিম আর শিমের মাচা। মাটি থেকে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ ফুট উচু বাঁশের মাচা তৈরী করে আবাদ করা হয়েছে উচ্চ ফলনশিল অটো জাতের শিম। বিকেল হলেই চাষীরা তাদের পরিবারের লোকজন নিয়ে শিমের পরিচর্চায় ব্যাস্ত থাকেন। কারন বিকেলের দিকে শিমের পরিচর্চার উপযুক্ত সময়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুঁকিয়া চাঁদপুর গ্রামের কৃষক খাইরুল ইসলাম জানান, তিনি ১৩ বছর ধরে শিম আবাদ করছেন। এ বছর তিনি দেড় বিঘা জমিতে শিমের আবাদ করেছেন । তিনি বলেন, আবহাওয়ায় ও বাজার দরও বেশ ভালো। তার দেখাদেখি অন্যান্য কৃষকরা আগ্রহী হয়ে শিমের আবাদ করেছেন বলে তিনি জানান। প্রথমে অল্প-অল্প জমিতে শিমের আবাদ করতে করতে কৃষকরা এখন ব্যাপক হারে শিম আবাদ করেছেন। প্রতিবছর শিম বিক্রি করে লাখ-লাখ টাকা আয় করছেন । তিনি গত বছরের মত এবছর দেড় বিঘা জমিতে অটো জাতের শিম চাষ করেছেন। আশা করেছেন বিঘাপ্রতি ১ লাখ টাকার শিম বিক্রি হবে। এরই মধ্যে কয়েক মন শিম বিক্রি করে ফেলেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এ পরিস্থিতি থাকলে দেড় বিঘা জমিতে কমপক্ষে দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।।

একই গ্রামের শিমচাষী সাহাবুদ্দিন, গৌতমসাহা, আব্দুল আজিজ ও আহম্মদ আলী জানান, বিঘা প্রতি খরচ বাদে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়।

বর্তমানে শিমের আবাদে নানা উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেশি। বীজ লাগানোর পর থেকে এক বিঘা জমিতে শিম আবাদ করতে বীজ, সার, বাঁশ, তার, শ্রমিক, সেচ খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। শিমের গাছ মাচায় উঠে গেলে ফুল এবং ফল ধরার সময় পোকা দমন এবং পচন রোধে প্রায় প্রতিদিন ওষুধ ¯েপ্র করতে হয়। ৫০ থেকে ৫৫ দিনে গাছে শিম ধরা শুরু করে।
এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত শিম বাজারজাত করতে অন্য কোন স্থানে যেতে হয়না। পাইকারি ক্রেতারা এসে তাদের কাছ থেকে শিম কিনে নিয়ে যায় বলে তারা জানান।

কুঁকিয়া চাঁদপুর গ্রামের শিম ব্যবসায়ী ফিরোজ আহম্মদ বলেন ,আমাদের এলাকায়(বারী -১ বাস্থানীয় অটো জাতের) শিমের অগ্রিম আবাদ হয়। এই শিমের ঢাকা, চট্ট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ জেলায় ব্যপক চাহিদা। আমি কৃষকদের জমি থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে পাইকারি দরে ক্রয় করে কখনো ঢাকা, চট্্রগ্রামে বা ময়মনসিংহ জেলায় পাঠায়, আবার কখনো কমিশনে বিক্রয় করি।

ঠাকুরপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন বলেন, এই ব্লকে ৬৫ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালিন শিমের চাষ হয়েছে। আমরা কৃষকদের সব সময় পাশে থেকে পরামর্শ দিচ্ছি ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকি ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুফি রফিকুজ্জামান বলেন, জেলার কৃষকরা সবজি আবাদে সব সময় অগ্রগামী। গত বছর ৮৫০ হেক্টর জমিতে গ্রীস্মকালিন শিমের আবাদ হয়েছিল আর এ বছর ৯৫০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে শিমের উত্তোলন শুরু হয়ে গেছে এবং বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

অসময়ে শিমের দামটা বেশি পাওয়া যায়, এই জন্য কৃষকরা আগ্রহী এবং লাভটা ভাল পায়। অসময়ে শিমের আবাদ করতে গেলে কিছু পোকা-মাকড়ের সমস্যা হয়। এ ব্যাপরে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি আইটেম পদ্ধতিতে পোকা মাকড় দমন করা যায়। যেহেতু শিমটা অসময়ে বাজারে আসে, তাই আমরা নিরাপদে যদি শিমটা বাজারে তুলতে পারি। তাহলে একদিকে কৃষকরা যেমন লাভবান হবে তেমনি ক্রেতারা নিরাপদ সবজি পাবে। যার কারণে আমাদের জেলায় দিন-দিন শিমের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উৎপাদনের লক্ষমাত্রা হেক্টর প্রতি ১২ টন। এখন শিমের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা । গড়ে ৫০ টাকা দাম ধরে এ জেলার কৃষকরা ৯৫০ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৫৭ কোটি টাকার শিম বিক্রয় করতে পারবে।বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ ২:৩৬ অপরাহ্ন
তরমুজ আবাদে ঝুঁকছে কৃষক
কৃষি বিভাগ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় অফ সিজনেও তরমুজের বাম্পার ফলন। উপজেলার বড় জোড়া গ্রামে আবাদ হয়েছে ১০ একর জমিতে সুপার কুইন জাতের তরমুজ। ফেব্রুয়ারি-মে মাস পর্যন্ত গরমকালে সুস্বাদু তরমুজ বাজারে পাওয়া যায়। তবে এখন আর মৌসুমি ফল নয় এটি। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি (বেশি শীত) মাস বাদে বছরের বাকি ১০ মাসই চাষ হচ্ছে অফ সিজনের তরমুজ।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, সারা বছর জল ও স্থলে পতিত জায়গায় মাটি কেটে বেড তৈরি করে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজের চারা রোপণ করা হয়। চারাগুলো বেড়ে ওঠার জন্য বেডের পাশে পানির উপর মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়। চারা রোপণের ৩০ দিনের মধ্যে ফুল ও ফল ধারণ করে এবং ৪৫ থেকে ৫০ দিন পর ফল পরিপক্ব হয়।

তরমুজ চাষী আমানুল্লাহ জানান, জমিতে ধান পাট চাষ করতে যে খরচ হয় তরমুজ চাষে খরচ হয় তার অর্ধেক মুনাফা হয় বেশি। তাই তিনি ৪৫ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তাকে অনুসরণ করে একই গ্রামের কৃষক শাহ জাহান ১০শতক, শফিকুল ইসলাম ৩৩ শতক, নজরুল ইসলাম ১০ শতক ও শান্ত মিয়া ৪০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার জানান, তরমুজ একটি অর্থকরী ফসল। এ ফল ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। অর্থনৈতিক ভাবে বেকার যুবক ও কৃষককে স্বাবলম্বী করে তুলতে অফ সিজনে তরমুজ চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১ ২:৪২ অপরাহ্ন
কুষ্টিয়ায় পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি
কৃষি বিভাগ

কুষ্টিয়া জেলায় চলতি মৌসুমের শুরুতেই ‘সোনালি আঁশ’ পাটের মূল্য গত বছরের চেয়ে বেশি পাচ্ছে। ভালো মূল্য পাওয়ায় এ জেলার ছয় উপজেলার কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। করোনার সংকটময় সময়ে স্বস্তি ও খুশিতে আত্মহারা পাটচাষিরা। এতে কৃষক পরিবারে বইছে আনন্দ। সব শঙ্কা কাটিয়ে এবার হাসি ফুটেছে হাজারো পাটচাষির মুখে।

কুষ্টিয়ায় পাট প্রধান চাষ এলাকা সদর, মিরপুর, দৌলতপুর, খোকসা উপজেলার কৃষকরা জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর পাটের দাম বেশি। গত বছর এ সময় প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু এ বছর মৌসুমের শুরুতেই বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়।

প্রতি বিঘায় শুধু পাট বিক্রি করেই কৃষক লাভবান হচ্ছেন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে পাটখড়ির দাম যুক্ত করলে প্রতি বিঘায় এখন কৃষকের লাভ হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। করোনাভাইরাসের সংকটময় সময়ে গত বছরের চেয়ে বেশি দামে পাট বিক্রি করে ভালো লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এতে পাটচাষিদের মধ্যে খুশির বন্যা বইছে। সবার মুখে ফুটেছে হাসি। কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক সুযোগ-সুবিধা এবং ভালো দাম পেলে আগামীতে পাটের চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলার ছয়টি উপজেলায় এ বছর ৪০ হাজার ৯৯৬ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। গত বছর ৩৯ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছিল। জমিতে দেশি, রবি-১, মোস্তা, জেআরও এবং তোষা জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। তবে উচ্চ ফলনশীল তোষা জাতের পাট চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানো ও শুকানো নিয়ে ব্যস্তসময় পার করছেন কুষ্টিয়ার চাষিরা। বৃষ্টিতে নদী-নালা, খাল-বিল ও ডোবাতে পানি থাকায় পাট জাগ দেওয়ার কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি তাদের। গত বছরের তুলনায় আবহওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের চাষ বেড়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর পাটের দাম ও ফলন বেশি হয়েছে। ফলে লাভবান হচ্ছেন পাটচাষিরা। সূত্র আরও জানায়, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘায় আট থেকে দশ মণ পাট উৎপাদিত হচ্ছে। গত বছরের এ সময় প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা। এ বছর প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকায় পাটচাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমি থেকে পাট কাটছেন, কেউ পাটের বোঝা বাঁধছেন, কেউ কেউ মাথায় করে সেই বোঝা নিয়ে যাচ্ছে নদী-খাল কিংবা পুকুরে। আবার অনেক জায়গায় পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষকরা। অনেকে আঁশ ছাড়িয়ে, পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে বিক্রির জন্য বাজারে নিচ্ছেন। দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক সুজন আলী বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছরের পাটের দাম বেশি।

গত পাটের মণ ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া এবার ফলনও ভালো। এতে আমরাও খুব খুশি। একই উপজেলার কৃষক হামিদুর হক বলেন, এ বছর চার বিঘা পাটের চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি ১২ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। খরচ বাদে ডাবল লাভ হয়েছে।

দাম ভালো পাওয়ায় আমরা লাভবান। মিরপুর উপজেলার চাষি খাদেমুল ইসলাম বলেন, গত বছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। তাতে ১২ মণ পাট উৎপাদন হয়েছিল। এবার দুই বিঘায় ২০ থেকে ২২ মণ পাট ঘরে তুলেছি। এবার লাভে ভালো হয়েছে। কারণ আগের বছরের চেয়ে দামও বেশি, ফলনও বেশি।

এলাকার কৃষকরা জানান, বিগত বছরের তুলনায় দাম ভালো পেয়েছেন তারা। ফলনও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়াও উপযোগী ছিল। ভালো দাম পেলে আগামীতেও আগ্রহ বাড়বে। ফলে পাট চাষ বাড়বে।

পাটের সঙ্গে সঙ্গে পাটখড়ির চাহিদাও বেশি। প্রতি বিঘায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকার পাটখড়ি পাওয়া যায়। সব মিলে চাষিরা খুশি। জ্বালানির কাজ ও বেড়া দেওয়ার কাজে পাটখড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ জন্য দিন দিন পাটখড়ির দাম ও চাহিদা বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শ্যামল কুমার চৌধুরী জানান, গত বছরের চেয়ে উৎপাদন, চাষের পরিমাণ ও দাম এ বছর বেশি। পাট চাষের উপযোগী আবহাওয়ার ফলে ফলন বেশি পেয়েছেন কৃষক। বাজারে পাটের দাম ভালো যাচ্ছে। আশা করি আগামী বছর কৃষকরা পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন। আগামীতে আবাদ আরও বাড়বে। বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১ ২:২৯ অপরাহ্ন
বাবুই পাখির জন্য কৃষকের ভালোবাসা
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রামপুর গ্রাম। এ গ্রামে কৃষক মো. রিপন মিয়ার পাখিদের প্রতি ভালোবাসায় নজর কেড়েছে অনেকের।চারশ’ বাবুই পাখির জন্য তিনি দেখিয়েছেন অসাধারণ ভালোবাসা।

সূত্রমতে, রামপুর গ্রামের মূল সড়কের পাশে একটি দীর্ঘ তালগাছ। গাছের মাথায় পাতায় পাতায় বাবুই পাখির দুই শতাধিক বাসা। সম্প্রতি গাছের মালিক গাছটি বিক্রি করে দেন। গাছের পাশেই রিপন মিয়ার ধানের জমি। রিপন খেয়াল করেন গাছটি বেপারি কেটে নিয়ে যাবে। কিন্তু এতে নষ্ট হবে প্রায় চারশ’ পাখির আবাস। পরে তাল গাছটি তিনি কিনে নেন। এছাড়াও যত দিন গাছে পাখি থাকবে তিনি ততদিন সেটি বিক্রি বা কাটবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন।

বুড়িচং উপজেলার ভরাসার বাজার পার হয়ে যেতে হয় সদর উপজেলার বলেশ্বর। তারপরের গ্রাম রামপুর। রামপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে সুন্দর সড়কটি গিয়ে মিলেছে তৈলকুপি বাজারে। রামপুর গ্রামের সড়কের পাশে তাল গাছটি। গাছ আর পাখি দেখতে এখানে ভরাসারে অবস্থিত সোনার বাংলা কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় তরুণরা ভিড় করে।

কৃষক মো. রিপন মিয়া জানান, জমিতে ফসল ফলানো আর বাড়িতে গরু পালন তার মূল পেশা। জমির পাশের তাল গাছটিতে অনেক বাবুই পাখি কিচির মিচির শব্দ তুলে ডাকে। গাছের কাছে এসে পাখির শৈল্পিক বাসা বুনন আর ডাক শুনলে তার মন ভালো হয়ে যায়। তাদের গ্রামে এ রকম বাবুই পাখির বাসা বাঁধা তাল গাছ আর নেই। তাই তিনি গাছটি কিনে নেন।

সামাজিক বন বিভাগের কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম জানান, দিন দিন পরিবেশ থেকে বৃক্ষ, পাখি ও বিভিন্ন প্রণি হারিয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এগুলো সংরক্ষণের বিকল্প নেই। কৃষক রিপন মিয়ার এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

স্থানীয় সোনার বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ জানান, পাখির প্রতি যতেœর বিষয়ে আমরা অনেক উদাসীন। সেখানে একজন কৃষক পাখির প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন সেটি বিরল। তার নিকট আমাদের অনেক শেখার আছে। তার মতো অন্যদেরও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় এগিয়ে আসা উচিত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২, ২০২১ ২:৩৭ অপরাহ্ন
ছাদ বাগান করে প্রতি মাসে আয় ৭০ হাজার টাকা!
এগ্রিবিজনেস

চুয়াডাঙ্গার পৌর এলাকায় আব্দুর রশিদ টিটো মিয়া বাণিজ্যিকভাবে ছাদ বাগান করে প্রতিমাসে অনলাইনে গাছের চারা বিক্রি করে আয় করছেন ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। তাঁর বাগানে দেশি-বিদেশি প্রায় সাড়ে তিন হাজার গাছ।

জানা যায়, তিনি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে বোনের দেওয়া ই-ফোরবিয়া গাছদিয়ে তার নিজের গড়া ছাদে বিশাল বাগান গড়ে তুলেছেন। অবিশ্বাস্য পরিকল্পনা তার। জমি না থাকলে ছাদেও যে বাণিজ্যিকভাবে বাগান করে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করেছেন আব্দুর রশিদ টিটো মিয়া। অসম্ভব পরিশ্রম, আধুনিক চিন্তা-ভাবনা ও সৃজনশীল গুণী মানুষ টিটো মিয়া (৬০)। এ বয়সেও বৃক্ষের প্রতি ভালোবাসা সবাইকে মুগ্ধ করেছে।

করোনার মধ্যে তার অনলাইন বিসনেজ চালু ছিল। অনেক গাছ বিক্রি করেছেন। একজন নারী হিসেবে আমি বলবো, নারীরাও ছাদ বাগান করতে পারি। এটা করতে জমি লাগে না। যাদের বাসা আছে, ছাদ সবারই কম বেশি আছে। ছাদে আমরা ছাদ বাগান গড়ে তুলে অনলাইনে এই গাছ সেল করতে পারি।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহিন রাব্বি জানান, জমি না থাকলেও বাণিজ্যিক ছাদ বাগান করে অনেক বেকার যুবক-যুবতী অনলাইনের মাধ্যমে বেচা-কেনা করে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে পারে। করোনাকালে শুধু তরুণরাই নয় যে কোনো বয়সের মানুষই ছাদ বাগান করতে পারে। জমি না থাকলেও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ছাদ বাগান করে বাড়তি আয় করা সম্ভব।

ছাদ বাগান সৌন্দর্য বর্ধনের সাথে কর্মসংস্থান করাও যে সম্ভব তার জ্বলন্ত উদাহরণ টিটো মিয়া। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ সুফি রফিকুজ্জামান বলেন, জনসংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধির কারণে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। বাড়তি চাহিদা মেটানোর জন্য কৃষিকে আমরা ভারট্রিক্যালে বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছি। যারই ফলশ্রুতিতে আমাদের অনেক মানুষ শখের বশে ছাদে বাগান করছে।

এতদিন পর্যন্ত বাগানগুলো শখের বশে দেখতাম। কিন্তু আমাদের চুয়াডাঙ্গার পৌর এলাকার পুরাতন হাসপাতাল পাড়ায় আব্দুর রশিদ টিটো নামে এক ভদ্র লোক প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিভিন্ন প্রজাতির সৌখিন জাতীয় গাছের চারা সংগ্রহ করে এবং সেখানে উৎপাদন করছে। করোনাকালে মানুষ বেকার হয়ে যখন চাকরি হারাচ্ছেন সেই মুহূর্তে অন লাইনে চারা সরবরাহ করে মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা রোজগার করছেন টিটো মিয়া। গত বছর আমরা টিটো মিয়াকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলাম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২, ২০২১ ১:৫৫ অপরাহ্ন
বগুড়ায় আলুর দরপতনে শঙ্কিত কৃষক ও ব্যবসায়ীরা
এগ্রিবিজনেস

বেশ কয়েকদিন ধরে বগুড়ার বাজারে আলুর দরপতনে শঙ্কিত কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। গত সপ্তাহেও যেখানে আলুর কেজি বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা কেজি সেখানে বর্তমান বাজারে বিক্রয় হচ্ছে খুচরা কেজি প্রতি ১৫ টাকা করে। আর পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকা কেজিতে। এদিকে উৎপাদন থেকে হিমাগারে রাখা পর্যন্ত এক কেজি আলুর পেছনে কৃষক ও ব্যবসায়ীর খরচ হয়েছে ১৮ টাকা। এই হিসাবে হিমাগারে আলু রেখে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজিতে ৮ টাকা করে লোকসান গুনছেন।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশের শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোর একটি বগুড়া। কয়েক মৌসুম ধরে জেলাটিতে আলু আবাদ ও উৎপাদন ভালো হওয়ার কারণে আলুর দাম সহনীয় পর্যায়ে ছিল। গত ২০১৮-১৯ মৌসুমে জেলায় আলুর ফলন ছিল প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৯-২০ মৌসুমে বগুড়া জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর। আর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৮ হাজার মেট্রিক টন। শেষ পর্যন্ত বগুড়ায় গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়।

জেলায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন পাওয়া যায় বগুড়ায়। গত কয়েক বছর ধরে বগুড়ায় ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় আলুর দাম নিয়ে কৃষকরা খুশি না হতে পারলেও বাজার ব্যবস্থায় আলুর দাম স্থিতিশীল থাকায় নিশ্চিন্ত ছিল ভোক্তারা।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ভালো ফলনের কারণে জেলায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। বগুড়া সদর উপজেলার বারপুর, ঘোড়াধাপ, মরাকাটা, চাঁদমুহা এলাকার কয়েকজন আলু চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছর আলুর ভালো ফলন পাওয়া যায়। ভালো ফলন পাওয়া গেলেও বাজারে ভালো দাম ছিল না। গত বছর মৌসুমের সময় বগুড়ার খোলা বাজারে একেবারে ভালোমানের আলু ২৮ থেকে ৩০ টাকা আর স্বাভাবিকভাবে আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা কেজি। সেই আলু চলতি বছর এসে বর্তমানে কোল্ডস্টোরে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১০ টাকা কেজিতে। এই আলু কোল্ডস্টোরে সংরক্ষণ করার সময় খরচসহ ব্যবসায়ীদের পড়েছে প্রায় ১৭ টাকা কেজি।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দুলাল হোসেন জানান, বগুড়ায় সবজি হিসেবে আলুর উৎপাদন বরাবরই ভালো। এ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে এবার বন্যা হয়নি। সবজি রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। তাতে আলুর চাহিদা সামান্য কমেছে। আবার বগুড়া অঞ্চল থেকে অন্য জেলায়ও আলু খুব একটা যায়নি। হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলু খালাস না করলে ব্যবসায়ীদের লোকসান হবে। সব মিলিয়ে আলুর বাজারমূল্য কমে গেছে। তবে সামনে আরো একটি আলু চাষের মৌসুম আসছে দাবী করেন ওই কৃষিবিদ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২১ ১২:৫৮ অপরাহ্ন
মাগুরায় পেঁপে চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

পেঁপে চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন মাগুরার কৃষকরা। এ কারণে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।

সরেজমিন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বারাইপাড়া গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম সাথে কথা বলে জানা গেছে, পেঁপে চাষ করে লাভবান হয়েছেন তিনি। ৩ বিঘা জমিতে লাগানো পেঁপে ক্ষেত থেকে এ বছর প্রায় ২ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা মণ দরে পেঁপে বিক্রি করছেন। বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারীরা সরাসরি ক্ষেত থেকে পেঁপে নিয়ে যায়। এর পাশপাশি স্থানীয় বাজারসহ পাইকারি আড়তে পেঁেপ বিক্রি করছেন তিনি। দুই বছর আগে কৃষি বিভাগের সহায়তায় ২ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ শুরু করেন। এতে লাভবান হওয়ায় আরো ১ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন।

অমিরুল জানান, পেঁপে চাষের সুবিধা হচ্ছে জমিতে একবার চারা লাগালে ৩ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। প্রথম বার পেঁপের চারা লাগানোসহ বিভিন্ন ধরনের পরিচর্যায় প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। পরবর্তি দ্ইু বছর গাছের পরিচর্যায় খরচ খুবই কম লাগে। ফলে ঝড় বৃষ্টিতে গাছের ক্ষতি না হলে খরচের তুলনায় লাভ বেশি হয়।

বারইপাড়া গ্রামের অপর কৃষক রুহুল আমিন জানান, পেঁপে একটি লাভজনক ফসল। চলতি মৌসুমে তিনি ৪৬ শতক জমিতে পেঁপের চাষ করেছেন। ক্ষেত থেকে তিনি পেঁপে বিক্রি শুরু করেছেন। এ বছর প্রায় দেড় লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির আশা করছেন। ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষেতের ক্ষতি না হলে আগামীতে আরো বেশি লাভবান হবেন বলে জানান তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার চার উপজেলায় মোট ৬৭৬ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৪০ হেক্টর, শ্রীপুরে ১৮৫ হেক্টর, শালিখায় ১৮ হেক্টর এবং মহম্মদপুর উপজেলায় ৩৩ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হয়েছে। যা থেকে ১৩ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন পেঁপে উৎপাদিত হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। চলতি মৌসুমে স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উচ্চফলনশীল শাহী, রেডলেডিসহ বিভিন্ন জাতের পেঁপের চাষ হয়েছে। কৃষকরা যাতে পেঁপের ভালো ফলন পেতে পারে এর জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক বলেন,পেঁপে ভিটামিন-এসহ বিভিন্ন পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ একটি ফসল। পেঁপের ভালো ফলন পাওয়ার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পেঁপে চাষের সুবিধা হচ্ছে জমিতে একবার চারা লাগালে ৩ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে প্রথম বছরের পর পরবর্তি দুই বছর ক্ষেত পরিচর্যার খরচ খুবই কম লাগে। এতে কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হয়। আবহওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও কৃষকরা পেঁপে চাষে ব্যাপকভাবে লাভবান হবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop