১১:০১ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুন ২৭, ২০২১ ৭:৩১ অপরাহ্ন
বরিশালে ভাসমান কৃষির ওপর কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে ভাসমান কৃষির আধুনিক প্রযুক্তির ওপর দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ অনুুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রবিবার(২৭ জুন) বরিশালের আরএআরএস’র ক্যাম্পাসে প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (আরএআরএস) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিন।

ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্প আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়া এবং পিএসও ড. মো. আলিমুর রহমান।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আরএআরএস’র ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রফিকুল ইসলাম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম, এসও স্মৃতি হাসনা প্রমুখ।
প্রধান অতিথি চাষিদের উদ্দেশ্যে বলেন, জলাবদ্ধ স্থানে ভাসমান কৃষি একটি উপযোগী প্রযুক্তি। তাই এখানে আধুনিক চাষাবাদের কৌশল অনুসরণ করা দরকার। এর মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে আশানুরূপ। পাশাপাশি দেশের নিরাপদ খাবারের যোগান বৃদ্ধি পাবে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, ভাসমান কৃষিতে পুরোনো পদ্ধতির স্থলে বিজ্ঞনীদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। পুষ্টির চাহিদা পূরণেও হবে সহায়ক। প্রশিক্ষণে বরিশালের বানারীপাড়া এবং পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদের ৩০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৭, ২০২১ ৫:১৭ অপরাহ্ন
গত ১২ বছরে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে সাফল্য এসেছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

গত ১২ বছরে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে যে সাফল্য এসেছে তা ধরে রাখতে হবে ও তা আরও বেগবান করতে হবে বলে ​খাদ্য নিরাপত্তাকে টেকসই করতে মন্ত্রণালয় ও সংস্থাসমূহের কর্মকর্তা, কর্মচারি ও বিজ্ঞানীসহ সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

আজ রবিবার(২৭ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও দপ্তর/সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত ১২ বছরে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে যে সাফল্য এসেছে তা ধরে রাখতে হবে ও তা আরও বেগবান করতে হবে। দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে খাদ্যের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায়, ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে আরও নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে খাদ্য নিরাপত্তাকে টেকসই ও খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

প্রত্যেককে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। প্রত্যেকের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। ভাল কাজ করলে তাঁকে যেমন পুরস্কৃত করা হবে তেমনি যার কর্মসম্পাদন ভাল হবে না তাকে তিরস্কার বা শাস্তি দেয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন। সে লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাথে অধীন ১৭টি দপ্তর/সংস্থা এপিএ চুক্তি স্বাক্ষর করে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম ও সংস্থার পক্ষে সংশ্লিষ্ট সংস্থাপ্রধান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৭, ২০২১ ৫:০৪ অপরাহ্ন
কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি অর্জনে ৬ থিমেটিক এরিয়াতে কাজ করে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি অর্জনে সরকার ছয়টি থিমেটিক এরিয়াতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান এগুলো হলো- (১) কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন, (২) কৃষি উপকরণ সরবরাহ, (৩) কৃষি সম্প্রসারণ, (৪) সেচ কাজে পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার, (৫) জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত প্রভাব মোকাবিলা; এবং (৬) প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন।

রবিবার(২৭ জুন) সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৪ প্রদান অনুষ্ঠানে (ভার্চ্যুয়াল) প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আজ বিশ্বে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, পাট উৎপাদনে দ্বিতীয়, চা উৎপাদনে চতুর্থ এবং আলু ও আম উৎপাদনে সপ্তম স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

কোন এলাকায় কোন ফসল ভালো হবে তা নির্ধারণে মাটি ও আবহাওয়া নিয়ে গবেষণা এবং সফলতার কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, পতিত জমি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি, ৮০ হাজার হেক্টর অতিরিক্ত জমি চাষাবাদের আওতায় নিয়ে এসেছি। ৮ লাখ ৮০ হাজার কৃষককে সবজি-পুষ্টি বাগান ও শষ্য বহুমুখীকরণের প্রশিক্ষণ দিয়েছি।

কীটনাশকমুক্ত শাক-সবজির যোগান দিতে ৪১টি জেলায় ‘কৃষকের বাজার’ চালু করার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

রপ্তানিমুখী পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শ্যামপুরে একটি ফাইটো-স্যানেটারি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছি, যা রপ্তানিমুখী কৃষি পণ্যেও মান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সার্ক সিড ব্যাংক স্থাপনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। দেশি ফলের উন্নত জাত সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদেশি ফলের চাষাবাদও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

কৃষকদের জন্য ভুর্তকি দিয়ে সার সরবরাহ করার কথা উল্লেখ করে টানা তিনবারের সরকারপ্রধান বলেন, আমরা সারের মূল্য ৪ দফায় কমিয়ে বর্তমানে প্রতি কেজি ইউরিয়া ১৬ টাকা, টিএসপি ২২ টাকা, ডিএপি ১৬ টাকা এবং এমওপি ১৫ টাকায় ধার্য করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলে কৃষকদের সারের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে। আমরা বলেছিলাম- আওয়ামী লীগ সরকারে আসলে কৃষকদের সারের জন্য গুলি খাওয়া তো দূরের কথা, সারের জন্য দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হবে না। সার প্রত্যেক কৃষকের ঘরে পৌঁছে যাবে। আমরা সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেই।

তিনি বলেন, সেই সময় আমরা স্লোগান তুলেছিলাম—কৃষক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও। আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাদের খাদ্য নিরাপত্তা দেওয়া সে জন্য ভোট ও ভাতের অধিকারের আন্দোলন আমরা শুরু করি।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর সহযোগী দপ্তর-সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন-২০১৬, বীজ আইন-২০১৮, বালাইনাশক আইন-২০১৮, সার ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন-২০১৮ ও উদ্ভিদজাত ও কৃষক অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০১৯-সহ মোট ১৫টি আইন এবং সহায়ক নানা নীতি/বিধিমালা প্রণয়ন, ‘কৃষি বাতায়ন’, ‘কৃষি কমিউনিটি রেডিও’ চালু, রেয়াতি শুল্কহারে কৃষি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষিযন্ত্রের ক্রয়মূল্যের উপর ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি প্রদান, কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের উপর ২০ শতাংশ রেয়াত সুবিধা প্রদানসহ কৃষি সম্প্রসারণে নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

চলতি অর্থবছরে সার-বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহায়তা বাবদ ২ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৯ জন কৃষককে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৪১৩.৪৬ কোটি টাকার প্রণোদনা সরাসরি প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ, সমবায় উদ্বুদ্ধকরণ, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, মহিলাদের অবদান, বাণিজ্যিকখামার, বনায়ন, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন এবং মাছ চাষ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ৩২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার দেওয়া হয়।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক পুরষ্কারপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুর কৃষিবিষয়ক ১০০ অমরবাণীর সংকলন ‘বাণী চিরসবুজ’ ও স্মারকগ্রন্থ ‘চিরঞ্জীব’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৭, ২০২১ ৩:১৭ অপরাহ্ন
বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন ২৭ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান।
কৃষি বিভাগ

প্রতি বছর স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্রোঞ্জ এ তিনটি বিভাগে মোট ৩২টি পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে স্বর্ণপদক ৫টি, রৌপ্যপদক ৯টি ও ব্রোঞ্জপদক ১৮টি। কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ, সমবায় উদ্বুদ্ধকরণ, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, মহিলাদের অবদান, বাণিজ্যিকখামার, বনায়ন, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন এবং মাছ চাষ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৪ এ স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীতরা হলেন: কৃষি গবেষণায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ফার্ম মেশিনারি এন্ড পোস্টহার্ভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ, কৃষি সম্প্রসারণে ঢাকার এম আনিস উদ-দৌলা ও উপজেলা কৃষি অফিসার তালহা জুবাইর মাসরুর, কৃষিতে নারী হিসেবে ঢাকার নবাবগঞ্জের মায়া রাণী বাউল এবং বাণিজ্যিক খামারি নারায়ণগঞ্জের এমএম শাহজাহান সিরাজ।
রৌপ্য পদক পেয়েছেন ৯ জন : উদ্যান বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মো: মেসবাহুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো: বকুল হোসেন, বারির কর্মকর্তা ড. মো: ওমর আলী, দিনাজপুরের মো: মাহমুদুল হাসান, নাটোরের রুবিনা খাতুন, রংপুরের বৈদ্যনাথ বর্মণ, বারির মসলা গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড.কে এম খালেকুজ্জামান, খুলনার জীবানন্দ রায় এবং রংপুরের মর্জিনা বেগম।
এছাড়া, ব্রোঞ্জ পদকের জন্য কুমিল্লার মনজুর হোসেন, সিলেটের মো: জাবের হোসেন, গাজীপুরের মো: রমজান আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো: আবু নাছের, আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিরাজগঞ্জের মাস্টার নার্সারি অ্যান্ড এ্যাফরেস্টশন, নোয়াখালীর মো: সাহেদুর রহমান, বগুড়ার মো: হামিদুল ইসলাম, পাবনার মো: আনিছুর রহমান, ঝিনাইদহ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা কৃষি অফিসার রমেশ চন্দ্র ঘোষ, ফরিদপুরের বক্তার হোসেন খান, ময়মনসিংহের নিতাই চন্দ্র রায়, উপসহকারী কৃষি অফিসার মো: সাইদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের মনোয়ারা বেগম, ঢাকার আশুলিয়ার রাজিয়া সুলতানা এবং সাতক্ষীরার পাকুড়িয়া সিআইজি (ফসল) কৃষি সমবায় সমিতি-এই ১৮ ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পেয়েছে।
পুরস্কার বিজয়ীদেরকে সনদপত্র, সংশ্লিষ্ট পদক ও নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। স্বর্ণপদক প্রাপ্তদেরকে ১ লাখ টাকা, রৌপ্যপদক প্রাপ্তদেরকে ৫০ হাজার টাকা এবং ব্রোঞ্জপদক প্রাপ্তদেরকে ২৫ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হবে।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৬, ২০২১ ১১:৫৬ অপরাহ্ন
করোনাকালেও দেশের মানুষের খাদ্য সংকট হয়নি: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

দারিদ্র্য বিমোচন ও খাদ্য নিরাপত্তায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।সরকার দরিদ্র, গরিব ও দুস্থ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনিতে আনতে ৬৫টিরও বেশি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

শনিবার (২৬ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে ( এফডিসি) ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেট’ নিয়ে ছায়া সংসদে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

তিনি বলেন, সরকার ৫০ লাখ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। ফলে করোনাকালেও দেশের মানুষের খাদ্য সংকট হয়নি। বর্তমানে কোথাও খাদ্যের জন্য হাহাকার নেই বরং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধিকে ধরতে পাকিস্তানের আরও কমপক্ষে ১২ বছর সময় লাগবে। এছাড়া, শিক্ষা, মাতৃমৃত্যু হ্রাস, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ ভারত থেকে এগিয়ে রয়েছে। দারিদ্র্যমোচন ও উন্নয়নে বাংলাদেশের এ সাফল্য সারা পৃথিবীতেই প্রশংসিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এর প্রশংসা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট খুবই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত। এবারের বাজেটে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিন প্রদানে নিশ্চিয়তাসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি হয় এবং গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান করা যায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও বিরোধী দল হিসেবে প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে পরাজিত করে প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ন হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৬, ২০২১ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
বৃষ্টির পানি কাজে লাগিয়ে চাষাবাদে ব্যস্ত সিরাজগঞ্জের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

সিরাজগঞ্জ জেলায় দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে আউশ ধানের আবাদ। বৃষ্টির পানি কাজে লাগিয়ে আউশের আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা। এ বিষয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এছাড়া যথাসময়ে কৃষি উপকরণ বিতরণ করায় আবাদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন ও উৎপাদন আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি প্রণোদনা, বিনামূল্যে আউশ বীজ ও সার বিতরণ করা, উচ্চ ফলনশীল জাতের আউশ ধানের বীজের প্রাপ্যতা এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষক উদ্বুদ্ধকরণ ও মনিটরিংয়ের ফলে সেচ সাশ্রয়ী আউশের আবাদে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

সিরাজগঞ্জ সদর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখা যাবে না। প্রতি ইঞ্চি জমিকে কাজে লাগাতে হবে। তাঁর এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে যেসব জমি পতিত থাকত, কোনো আবাদ হতো না, এবার সেসব জমি আউশের আবাদের আওতায় এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বীজ, সার ফ্রি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যেখানে সরকারি সেচ প্রকল্পের ব্যবস্থা আছে, সেখানে সেচও ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এবার বোরো ধানের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষক আউশ ধান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

জেলার কৃষি অফিস সূত্র জানায়, আউশ ধানের আবাদ বৃষ্টি নির্ভর, সেহেতু এ ধান উৎপাদনে সেচ খরচ সাশ্রয় হয়। এবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় দেড় হাজার বিঘা জমিতে আউশের আবাদ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি কৃষককে ৩০ কেজি সার, পাঁচ কেজি বীজ ও সেচ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে এবার সিরাজগঞ্জে কৃষকেরা আউশ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। বোরো কাটার পরপরই অনেক কৃষক আউশ ধান রোপণ করেছেন। আউশ ধান আবাদে উৎপাদন খরচ কম। পানি সেচ দেওয়ার দরকার হয় না। সেই সঙ্গে কীটনাশক ও সার প্রয়োগ করতে হয় সীমিত। তাছাড়া এবার বোরো ধানের ভালো দাম পেয়ে আউশ ধান উৎপাদনের উৎসাহ আরও বেড়ে গেছে।

সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম জানান, ‘ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ করে বৃষ্টির পানি কাজে লাগিয়ে আউশের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি প্রণোদনায় বিনামূল্যে আউশ ধানের বীজ ও সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জে যেসব জমি পতিত থাকত, কোনো আবাদ হতো না, এবার সেসব জমি আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। ধানের উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি। কৃষককেও নানাভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৪, ২০২১ ৫:৩১ অপরাহ্ন
বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি পেলেন পাটগ্রামের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজন রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মুজিব শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলা চত্বরে উক্ত প্রকল্পের আওতায় গঠিত ৭৫টি কৃষক গ্রুপের মধ্যে ১০টি কৃষক গ্রুপকে বিনামূল্যে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (ধান রোপনের যন্ত্র) এবং ১২টি কৃষক গ্রুপকে বিনামূল্যে রিপার (ধান ও গম কর্তন যন্ত্র) বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুর রহমান। এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল, পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পূর্ণ চন্দ্র রায়, পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল গাফ্ফার, উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হারুন মিয়া প্রমুখ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৪, ২০২১ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
পদ্মায় পানি বাড়াতে বিপাকে কৃষক
কৃষি বিভাগ

পদ্মা নদীর পানি হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে কৃষক। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের পাকা আউশ ধানসহ বহু কৃষি ফসল ডুবে গেছে। ধান ও ফসল নষ্ট হয়ে মাথায় হাত তাদের। ট্রলার ভাড়া ও শ্রমিকের চড়া মজুরি জোগার করতে না পেরে অনেক কৃষকই উত্তাল পদ্মার ওপার গিয়ে ডুবে যাওয়া ফসল সংগ্রহ করতে পারছেন না।

কৃষকরা জানান, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চর বিশ্বনাথপুর, বেথুরী, ধোপাগাথী, উত্তর দৌলতদিয়া, রাখালগাছি, বনভাবৈল, কুশাহাটা, বেতকাসহ বিভিন্ন চরে শত শত বিঘা জমিতে কৃষকরা অনেক আশা নিয়ে বিভিন্ন আবাদ করেন। এসব কৃষক সবাই নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এমনিতেই সর্বস্বান্ত।

দৌলতদিয়া নতুনপাড়া এলাকার কৃষক জিয়া মোল্লা (৫৫) জানান, তিনি পদ্মার ওপারে উত্তর ধোপাগাথী চরে ৩ বিঘা বাদাম, ১৫ বিঘা আউশ ধান এবং ২০ বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছিলেন। এতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর বেশিরভাগ টাকা সুদে নেয়া।

তিনি বলেন, বাদাম এবং কিছু তিল তোলা সম্ভব হয়েছে। আউশ ধানও পেকে গেছে। এর মধ্যেই হঠাৎ পানি বেড়ে গিয়ে ক্ষেতে কোমর সমান পানি হয়ে গেছে। কামলা নিয়ে গিয়ে যতটা সম্ভব কাটার চেষ্টা করছি। কিন্তু তাতে মনে হয় শ্রমিকের বেতন ও ট্রলার ভাড়ার টাকাই উঠবে না।

মৃত মজিদ শেখেরপাড়ার বিধবা সাজেদা বেগম (৪৫) বলেন, আমার নিজের কোনো জমি নাই। বার্ষিক লিজ নিয়ে ৩ বিঘা জমিতে বাদাম ও আউশ ধানের আবাদ করেছিলাম। ৫ মণ বাদাম তুলতে পেরেছিলাম। কিন্তু ধানগুলো ডুবে গেছে। আমার দুই ছেলে চরে গিয়ে পানির মধ্য হতে যতটা সম্ভব কেটে আনছে।এতে তাদের অনেক লোকসান হবে।

ফকিরপাড়ার তালেব মণ্ডল (৬০) বলেন, চরে তার নিজের জমি নাই। বিঘাপ্রতি ২ হাজার টাকা করে বাৎসরিক লিজ নিয়ে ৬০ বিঘা জমিতে তিনি তিল ও আউশধানের চাষ করেছিলেন। ফসলও মোটামুটি ভালো হয়েছিল। আশা ছিল ধার-দেনা শোধ করেও সারা বছর ঘরের ধানের ভাত খাব। কিন্তু সেটা আর হলো না।

বরকত সরদারপাড়ার সম্ভ্রান্ত কৃষক শওকত মোল্লা জানান, বহু বছর পর চরে তাদের অনেক জমি জেগে উঠেছে। অনেক আশা করে ধান-দেনা নিয়ে এবার ৪৮ বিঘা আউশ ধান, ১২ বিঘা বাদাম ও ২৪ বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছিলেন। সঙ্গে ১০ বিঘা জমিতে বাঙি ও ঝিঙের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু এবার প্রচণ্ড খরা ও হঠাৎ পানি বেড়ে ফসল ডুবে যাওয়ায় তার অনেক লোকসান হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেন, চরে কোনো সময় কোনো ফসল করলে বা কীভাবে চাষাবাদ করলে তারা লাভবান হবেন সে বিষয়ে তারা কৃষি বিভাগের কোনো সহায়তাই পায় না।

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে ৩ জন করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার জায়গায় আছেন মাত্র ১ জন করে। অফিসেও লোকবলের সংকট রয়েছে। ফলে তাদের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। চরের ডুবে যাওয়া ফসলের বিষয়ে তারা এখনো কোনো খোঁজখবর নিতে পারেননি। তবে দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে প্রণোদনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।সূত্র: যুগান্তর

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৩, ২০২১ ১২:০৩ অপরাহ্ন
ধানের এক চারায় দুইবার ফসল তুলে চমক দেখালেন কুড়িগ্রামের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী ও রাজারহাট উপজেলায় কেটে নেয়া বোরো ও ইরি-বোরো ক্ষেতের ধান গাছের গোড়া থেকে পুনরায় ধান উৎপাদন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কৃষকরা। প্রথম পর্যায়ে ধান কাটার পর আবারও দ্বিতীয় পর্যায়ে ভালো ফলন পেয়ে চমক লাগিয়েছেন এসব এলাকার কৃষক।

ভুরুঙ্গামারী ও রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা তাদের জমিতে কেটে নেয়া বোরো ও ইরি-বোরো ধানের গোড়া থেকে পুনরায় ধানের শীষ বের হয়েছে। সেগুলো পেকে গেছে। ধানের শীষ ছোট হলেও চিটা কম। এতেও ফলন ভালো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের এই পদ্ধতির ধান চাষকে কৃষি বিজ্ঞানের ভাষায় ‘রেটুন শষ্য আবাদ’ পদ্ধতি বলা হয় বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের কৃষক আতাউর জানন, গত বোরো মৌসুমে আড়াই বিঘা জমিতে বি আর-২৮ ধান চাষ করেছিলাম। গত মে মাসের শুরুতে ধান কেটে ঘরে তুলেছি। এরপর ওই জমিতে পড়ে থাকা ধান গাছের মুড়ি (গোড়া) নষ্ট না করে পুনরায় ধান উৎপাদন করতে যত্ন নিয়েছি।

এতে ধান গাছের গোড়া কাঁচা থাকায় দ্রুত নতুন কুশি বের হয়। তবে কোনো প্রকার সেচ ছাড়াই শুধু মাত্র সামান্য পরিমাণে সার প্রয়োগ আর কয়েক বার কীটনাশক স্প্রে করে চাষকৃত এসব মুড়ি ধানের মাঝারি ফলন পেয়েছি।

চর ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের কৃষক ইউনুছ আলী জানান, একই জমিতে কেটে নেয়া ধান গাছের গোড়া থেকে পুনরায় উৎপাদিত ধান পাওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। এক বিঘা জমিতে ফলন পেয়েছি প্রায় ৪ মণ ধান। এতে নিজেই শ্রম দিয়ে ৫ কেজি সার ও কীটনাশক প্রয়োগ বাবদ খরচ হয়েছে মাত্র ৩শ টাকা। এই ৪ মণ ধানই আমার অতিরিক্ত লাভ।

রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের কৃষক অশ্বিনী কুমার ও তার ভাই অশোক কুমার জানান, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে আমরা ১৫ একর (৪৫ বিঘা) জমিতে ইরি-বোরো চারা রোপণ করি এবং গত মে মাসের শুরুতে প্রথম পর্যায়ে ফসল কেটে ঘরে তুলি।

প্রথম পর্যায়ে ধান কর্তনের পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শম্পা বেগম ও উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমানের পরামর্শে ধানের নাড়াগুলো নষ্ট না করে রেটুন পদ্ধতিতে সামান্য ইউরিয়া ও টিএসপি সার ছিটিয়ে দেই। এতে নতুন গজিয়ে উঠা ধান গাছের পরিচর্যা করলে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে আমরা একই জমি থেকে আবার দ্বিতীয় পর্যায়ে ভালো ফলন পাই। এতে আমরা খুবই খুশি।

ভুরুঙ্গামারী কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ও রোকনুজ্জামান জানান, ধানের মুড়ি থেকে আবার ধান চাষ করা যায়। বিশেষ করে ব্রি ধান-২৮ ও ২৯ ধানের গোড়া কাঁচা থাকে। এসব ধান কাটার পর ধান গাছের মুড়ি থেকে কুশি বের হয়। আর এসব মুড়ি থেকে পুনরায় ধান উৎপাদন সম্ভব। এতে খরচ নেই বললেই চলে।

চলতি বছর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের অনেক কৃষক কেটে নেয়া বোরো ধান গাছের মুড়ি থেকে পুনরায় ধান চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন।

রাজারহাট কৃষি কর্মকর্তা শম্পা আক্তার বলেন, উপজেলার পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের কৃষক অশ্বিনী কুমার ও তার ভাই অশোক কুমারের জমিগুলো ছিল এক ফসলি। ইরি-বোরো ফসল উৎপাদনের পর দুই থেকে আড়াই মাস জমি পরে থাকার পর পানি বৃদ্ধি পেলে তারা ওই জমিতে মাছ চাষ করতো। এখন থেকে তারা এই পদ্ধতিতে একবার ধান বীজ রোপণ করেই দু’বার ফসল উৎপাদন ও মাছ চাষ করতে পারবেন। এতে দ্বিগুণ ধান ও খড় পাবেন কৃষক।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজামান বলেন, এই পদ্ধতিতে ধান চাষকে কৃষি বিজ্ঞানের ভাষায় ‘রেটুন শষ্য আবাদ’ পদ্ধতি। বিশেষ করে বোরো ধান কেটে নেয়ার পর পরবর্তী আমন আবাদের জন্য প্রায় ২ মাস সময় পান কৃষকরা।

দুই মাস সময়ের মধ্যে পড়ে থাকা পতিত জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করে কৃষকরা বাড়তি ফসল পেতে পারেন। এটি বেশি লাভজনক না হলেও যেসব কৃষক নিজে পরিশ্রম করেন তারা একেবারে সীমিত খরচ করে একই জমিতে বাড়তি ফসল উৎপাদন করে লাভবান হতে পারবেন।

– জাগো নিউজ ২৪

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২২, ২০২১ ৯:২৮ অপরাহ্ন
মুন্সীগঞ্জের সবজি এখন বিদেশের মাটিতেও
কৃষি বিভাগ

মুন্সিগঞ্জ জেলাকে বলা হয় শাকসবজি উৎপাদনের বিখ্যাত জেলা। এ জেলার বজ্রযোগিনী বাজার ও রামশিং বাঁশপট্টিতে প্রতিদিন পাইকারি দামে শাকসবজি বেচাকেনার উৎসব চলে। এই বাজার থেকেই করলা রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। কৃষি অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে উৎপাদিত এ সকল সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই। সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা ও জৈব সার প্রয়োগ করে উৎপাদন করা হচ্ছে এই সবজি।

জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল, মহাকালী ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন এবং টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধামারণ, আলদী, কাঠাদিয়া, সোনারং, ধীপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা প্রতিদিন ভোরে জমি থেকে করলা, লাউসহ বিভিন্ন সবজি বজ্রযোগিনী বাজার ও রামপাল ইউনিয়নের বাঁশপট্টি পাইকারি বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন।

এ দুটি বাজারে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সবজি বেচাকেনা হয়। বাজার কাছাকাছি হওয়ায় কৃষকেরও তেমন পরিবহন খরচ গুনতে হয় না। করলা ছাড়াও লাউ, জালিকুমড়া, জিঙ্গা, কহি, ধুন্দল, শসাসহ গ্রীষ্ফ্মকালীন সব ধরনের সবজি পাওয়া যায়। বারো মাসই পাইকারি বাজার দুটিতে নানা ধরনের সবজি বেচাকেনা হয়ে থাকে।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আল মামুন জানান, বজ্রযোগিনী ও রামশিং বাজারে গ্রীষ্ফ্মকালীন শাকসবজির উৎসব চলে। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এই দুটি পাইকারি বাজার থেকে করলা বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে এবং কয়েকশ ট্রাক শাক-সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায়ও চলে যায়।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খোরশিদ আলম জানান, কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে একটি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এখন কৃষকরাও সচেতন হয়ে উঠেছেন। তাই রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার এবং জমিতে কীটনাশক ব্যবহার না করে বিভিন্ন ফাঁদের মাধ্যমে পোকামাকড় দমনের মাধ্যমে সবজি উৎপাদন পদ্ধতির দিকে ঝুঁকেছেন কৃষকরা।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop