৩:২৯ পূর্বাহ্ন

সোমবার, ২৭ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২ ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
আগাম শীতকালীন সবজি চাষ ব্যস্ত কুড়িগ্রামের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

কুড়িগ্রামে এখন সারা বছরই প্রায় সবজি চাষ হয়। তবে হরেক রকমের শীতকালীন সবজি কৃষকরা চাষ করেন বেশি। দাম ভালো পাওয়া ও ফলন ভালো হওয়ায় শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েই চলেছে।

তবে চলতি বছর বৈরী আবহাওয়া, সার, বীজ ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে এ জেলায় আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষিরা দুশ্চিন্তিত হয়ে পড়েছে। অসময় বৃষ্টিপাত ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে মাঠেই বেশ কিছু বীজ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। পলিথিন-কাঁথা দিয়ে ঢেকেও রক্ষা করা যাচ্ছে না।এ দিকে সরকারিভাবে সারের কোনো সংকট নেই বলা হলেও কৃষকরা বলছে চাহিদা মতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া যা পাওয়া যাচ্ছে তাও দ্বিগুণ মূল্যে কিনতে হচ্ছে তাদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-সহকারি কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, চলতি মৌসুমে জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই এবং সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ীতে আগামভাবে ফুলকপি এবং বাঁধাকপি চাষ করা হচ্ছে। গত বছর প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে আগাম চাষ করা হলেও এবার ৯০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও বাঁধা কপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন কৃষকরা। জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত কোম্পানি থেকে বীজ নিয়ে পুলি তৈরির কাজ করা হয়। প্রথমে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে বীজ বপন করা হয়। সেখানে ১৫ দিন বয়সী পুলি তুলে বেডের মধ্যে লাগানো হয়। বেডে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ দিন রাখা হয়। এরপর জমি তৈরি করে সেখানে পুলি লাগানো হয়। সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে ফুলকপি বা বাঁধা কপি উত্তোলন করা শুরু হয়।

এতে সব মিলিয়ে ১১০ থেকে ১২০ দিন অর্থাৎ ৪মাস সময় লেগে যায়।জেলায় সবজির জন্য বিখ্যাত রাজারহাট উপজেলার ছিনাই এবং সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ীতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও চাষ হচ্ছে আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি। বাজারে শীতের এই সবজির চাহিদা থাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে এখানকার কৃষকরা আগামভাবে এসব সবজি চাষ করছেন। কিন্তু চলতি বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও প্রখর রোদে বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এর উপর সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে কৃষকদের। ফলে আগামভাবে চাষ করে এবার বিপাকে রয়েছে চাষিরা।

রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের বালার ডিঘিরপাড় খিলপাড় এলাকার কৃষক আব্দুল গফুর (৬৩) জানান, দিন দিন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রান্তিক চাষিরা সবচেয়ে বেশী সমস্যায় ভুগছেন। যারা জমি লিজ নিয়ে বা বর্গা নিয়ে আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন তারা অতিরিক্ত খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গতবছর যে বীজ ৪০০ টাকা দরে কেনা হয়েছিল এবার সেটা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। একই উপজেলার মীরেরবাড়ী এলাকার কৃষক কোরবান আলী (৬০) জানান, গরমকালে দুটো পয়সা বেশী পাওয়ার আশায় ফুলকপি লাগাই। কিন্তু এবার খরচ বেশি পড়ায় লাভ কেমন হবে জানিনা। আবহাওয়া ভাল থাকলে শতভাগ লাভ হবে।গতবার ইউরিয়া ও পটাশ সারের কেজি ছিল ১৮টাকা করে। এবার কিনতে হচ্ছে ৩০টাকা। এছাড়াও বীজ ও কীটনাশকের দামও বেড়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আজিজুল ইসলাম জানান, ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জেলায় আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ। তবে সাম্প্রতিক খরা ও বৃষ্টির কারণে চারার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা নতুনভাবে আবারো চারা রোপণ করছে। তবে সবজির মান বৃদ্ধির জন্য আমরা কৃষকদের জৈব সার ব্যবহার করা পরামর্শ দিচ্ছি। তবে জেলায় কোন সারের সংকট নেই বলে তিনি মনে করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২ ৪:১৪ অপরাহ্ন
মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন ফেনীর চাষিরা
কৃষি বিভাগ

“ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মাল্টা চাষে দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এই উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় এখানকার কৃষকরা মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে বারি মাল্টা-১ জাতের মাল্টা চাষ করে অনেকে সফলও হয়েছেন।

জানা যায়, সুস্বাদু এই ফল চাষে নিজেদের স্বাবলস্বী করছেন চাষিরা। দেশি এই সবুজ মাল্টায় রসে টইটম্বুর, স্বাদে ও ঘ্রানে অতুলনীয়। চাষিদের উৎপাদিত মাল্টা এই উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া গ্রামের চাষী এম শামসুল করিম বলেন, আমি আমার ১২ শতক জমিতে বারি মাল্টা-১ জাতের মাল্টা চাষ করছি। বাগানের সবগুলো গাছে মাল্টা এসেছে। সবুজ পাতার ভেতর থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ মাল্টা। খেতে খুব মিষ্ট ও ভিটামিন ‘সি’ তে ভরপুর।

তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও বাগানের গাছের সঠিক পরিচর্যা করায় ভালো ফলন হয়েছে। আমার বাগানের ২৬ টি মাল্টা গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ৫০-৬০ টি মাল্টা ধরেছে। প্রতি কেজি মাল্টা ১২০ টাকা করে বিক্রি করতে পারছি। আগামীতে আরো বেশি ফলনের আশা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন মজুমদার বলেন, এই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আরো ১০ জন সবুজ মাল্টা চাষি রয়েছে। যারা এই জাতের মাল্টা চাষ করে লাভবান হয়েছেন। দিন দিন চাষিদের মাল্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বারি মাল্টা-১ জাতের মাল্টা উচ্চ ফলনশীল একটি জাত। এই জাতের মাল্টা খেতে সুস্বাদু ও ভিটামিন ‘সি’ সম্পন্ন হয়। মাল্টা গাছ সারা বছর ফল দিয়ে থাকে। আমরা মাল্টা চাষে আগ্রহীদের চারা বিনামূল্যে প্রদান করছি।”

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২ ৯:৪০ পূর্বাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ের করল যাচ্ছে দেশের সব জেলায়
কৃষি বিভাগ

ঠাকুরগাঁও জেলায় করলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে জেলায় গতবারের তুলনায় করলার ফলনও হয়েছে দ্বিগুণ। অল্প সময়ে কম পুঁজিতে বেশি লাভ হয় বলেই তারা করলা চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

এ জেলায় উৎপাদিত করলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও এ জেলার করলা রফতানি হচ্ছে।

জানা যায়, সদর উপজেলার রাজাগাঁও, আসাননগর, চাপাতি, রাজারামপুর খড়িবাড়ী, দক্ষিণ বঠিনা, উত্তর বঠিনা, ঝলঝলি, ফরিদপুর, বড়দেশ্বরী, ধর্মপুর, বোয়ালিয়া চোপড়াপাড়াসহ রুহিয়ার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০০ চাষি করলার আবাদ করছেন। সাধারণত বছরে এক জমিতেই দুবার করলা চাষ করা যায় বলে জানান চাষিরা।

সদর উপজেলার পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার বাসিন্দাদের চাহিদা মেটাতে কয়েক বছর আগেও অন্য জেলা থেকে করলা আনতে হতো। কয়েক বছর ধরে এ জেলার উৎপাদিত করলাই বিক্রি হচ্ছে বাজারে। শুরুতে প্রতি কেজি করলা ৭০ থেকে ৮০ কিংবা ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ করলা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়।

ঠাকুরগাঁও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আগস্ট থেকে অক্টোবর ও অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে জমিতে দুবার করলা চাষ করা যায়। সাধারণত রোপণের ৪০-৫০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। মাত্র দেড় মাসে ফলন পাওয়া যায় বলে এ ফসলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে চাষিদের মধ্যে। তাই এ জেলায় করলা চাষ দিন-দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

চলতি মৌসুমে জেলায় এবার গতবারের তুলনায় করলার ফলনও দ্বিগুণ হয়েছে। পাশাপাশি এবার দামও ভালো পেয়েছেন চাষিরা। চাষিদের কাছ থেকে সংগৃহিত করলা এ অঞ্চলের সবজির স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম বরিশালসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ রায় বলেন, সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২৯০ হেক্টর জমিতে করলার চাষ হয়েছে। পানি জমে না এমন উঁচু-মাঝারি জমিতে করলার ভালো চাষ হয়। কৃষি বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে চাষিদের পাশে আছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ডা. আবদুল জলিল বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৬৮৭ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কেজি। এবার ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় আগামী দিনে এর চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছি। এর ফলন আরও ভালো করার লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের প্রয়োজনীয় সহায়তাসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২ ১২:৫০ অপরাহ্ন
কৃষকের ব্যাংকঋণেও মধ্যস্বত্বভোগীরা হস্তক্ষেপ করে!
কৃষি বিভাগ

গ্রামের কৃষকদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন সমাজের প্রভাবশালীরা। একজন কৃষক এখন ব্যাংকঋণ পেতে গেলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা হস্তক্ষেপ করে। এসব বাধা উত্তরণের ধারণা আমাদের পুনরায় চিন্তা করতে হবে। ’৪৭ দেশভাগের পর সাত দশকে সামাজিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন পরিবর্তনের ধারা আছে। কিন্তু কৃষিখাতে প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে কৃষি জমিগুলো দখল হচ্ছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংস্থাটির সম্মেলন কক্ষে ‘এগ্রেইন ট্রানজিশন অর রুরাল ট্রান্সফরমেশন: ফ্যাক্টর অ্যান্ড ট্রেন্ড অব চেঞ্জ ইন ভিলেজ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিআ্ইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লন্ডনের সোয়াস ইউনির্ভাসিটির প্রফেশনাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েটস স্বপন আদনান। বক্তব্য দেন প্রফেসর আব্দুস সাত্তার মন্ডল, প্রফেসর মাহাবুব উল্লাহ প্রমুখ।

গবেষণায় বলা হয়, গ্রামের পরিবর্তন হয়েছে চারটি ধারার মধ্যে। এগুলো হলো- শিল্পায়ন, নগরায়ন, অভিবাসন এবং উন্নয়ন। সামাজিক, অর্থনৈতিক, ডেমোগ্রাফিক এবং সাংস্কৃতিক বিভিন্ন প্রভাব পড়েছে এসব ক্ষেত্রে। ৪৭-এর দেশভাগের পর কৃষি জমি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে শালিশ বিচার এক ধরনের মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এক্ষেত্রে সমাজ প্রধানরাই নিয়ম ভেঙেছেন।

মূল প্রবন্ধে স্বপন আদনান বলেন, গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবস্থার বিকাশ ঘটানোর সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। রেমিট্যান্স এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু এই অর্থ উৎপাদনশীল কাজে কতটা ব্যয় হয়ে থাকে সেটি প্রশ্ন সাপেক্ষ।

তিনি বলেন, গ্রামীণ জমি চলে যাচ্ছে বিত্তশালী বা শিল্প মালিকদের হাতে। তারা চিংড়ি ঘের, রাবার বাগান কিংবা অন্য কোনো অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহার করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২ ৫:১৮ অপরাহ্ন
রোপা আমনের জমিতে চাষ হচ্ছে সবজি!
কৃষি বিভাগ

বৈরী প্রকৃতির ফেরে পড়ে যে কৃষক রোপা আমনের আবাদ করতে পারেনি তারা ওই জমিতে শীতকালীন সবজির আগাম ফসল ফলিয়েছে। শীত মৌসুমে রবি ফসলের নির্দিষ্ট সবজির আবাদ তো হবেই। এভাবে বগুড়া অঞ্চলের কৃষক সবজি ফলনে এগিয়ে গেছে।

বগুড়ার কৃষক বাসেত আলী বললেন, কম বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে রোপা আমন আবাদ করা যায়নি। শুকনো আবহাওয়ায় সেই জমিতে সবজি ফলানো হচ্ছে। এই সময় যদি অতি বৃষ্টি নামে তাহলে সবজি আবাদ নষ্ট হবে। প্রকৃতির বৈরিতা এবার এমনই যে, বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক জমিতে আমন আবাদ হচ্ছে না। আবার সবজি আবাদ করে বৃষ্টির ভয় পেয়ে বসেছে। দ্বিমুখী এই প্রকৃতিতে  একটি বিষয় পরিষ্কার কৃষক কোন জমি ফেলে রাখে না।

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর করে জানা গেল, ওইসব এলাকার কৃষক একই ব্যবস্থা নিয়েছে। চলনবিল পাড়ের এলাকায় আবার আউশ ঘরে তোলার পর আগাম আমন ঘরে তুলছে।

সিংড়ার চামারি এলাকার গৃহস্থ আবুল কালাম জানালেন বিলপাড়ের বিলদহর এলাকার কৃষক সারাবছর কোন না কোন ফসল ঘরে তোলে। বর্ষার ফসলের পাশাপশি মাছের আধারে শুঁটকির চাতাল গড়ে তুলেছে। পাবনা রাজশাহী রংপুর অঞ্চলের কৃষক যেখানে রোপা আমন করতে পারেনি সেখানে সবজির আবাদ করেছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা জানালেন, বগুড়ায় চলতি মৌসুমে আগাম শীতকালীন সবজি আবাদের টার্গেট করা হয়েছিল ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি। সেখানে রোপা আমন না হওয়া জমিগুলো সবজি আবাদের মধ্যে এসেছে। ফলে আগাম শীতকালীন সবজি আবাদের পাল্লা এবার ভারি। গত বছরে সবজি আবাদের যে টার্গেট ছিল তারচেয়ে আগাম শীতকালীন সবজির জমি অন্তত ৯শ’ হেক্টর বেড়েছে। সামনের রবি মৌসুমে ফসলের জমি আগাম সবজির জমির সঙ্গে যুক্ত করে হিসাব কষতে হবে।

বগুড়ায় এই মুহূর্তে বাজারে মিলছে মুলা, পালং শাক, পুঁই শাক, লাল শাক, শিম, বরবটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা,  টমেটো, গাজর ইত্যাদি। এবারের বর্ষা শরত রোপা আমনের জন্য আবহাওয়া প্রতিকূলে। আবার সবজি আবাদের জন্য এই আবহওয়া অনুকূলে। বগুড়ার প্রবীণ কৃষক  মহাস্থানগড়ের আজাহার আলী বললেন, বর্ষায় বৃষ্টি হয় না এমন প্রকৃতি সে ৭৬ বছরের জীবনে দেখেননি। আবহাওয়া বিভাগের কথা গত ৪২ বছরে বর্ষার এমন প্রকৃতি দেখা যায়নি। রোপা আমন আবাদটি নির্ভর করে বৃষ্টির ওপর সেই বৃষ্টি এবার নেই। যে কারণে কৃষক জমি ফেলে না রেখে সবজি আবাদের দিকে ঝুঁকেছে।

কৃষক আব্দুল করিম বলেন, গত শীতকালীন রবি মৌসুমে তিনি এক বিঘা জমিতে সবজির আবাদ করেছিলেন। এবার আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ করেছেন আড়াই বিঘা জমিতে। তিনি কিছুটা হতাশায় বললেন, এবার এত যে সবজি আবাদ হচ্ছে কৃষক ঠিকমতো দাম পাবে তো! তিনি তার অভিজ্ঞতায় জানালেন, গত ক’বছর ধরে সবজি মৌসুমে ঢাকার পাইকাররা বগুড়ার মহাস্থানগড় ও আশপাশের এলাকায় ট্রাক পাঠিয়ে দিয়ে সস্তা দামে সবজি কিনে নিয়ে যায়। ঢাকা ও চট্টগ্রামে সেই সবজি বিক্রি হয় চড়া দামে। উত্তরাঞ্চলের যে কৃষক কষ্ট করে সবজি ফলায় তারা বেশি লাভ করতে পারে না। অনেক সময় কোন সিন্ডিকেটের থাবায় সবজির দাম কমিয়ে দিলে কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তারপরও কৃষক কোন জমি ফেলে রাখে না।

বগুড়ার কৃষকগণ বলছেন এখনও সবজি আবাদে তারা লাভের মধ্যেই আছেন। ভয় হয় কখন কোন না সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে তাদের লোকসান গুনতে হয়। বগুড়ার গ্রাম ও শহরে সবজির ক্রেতা বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ মাছ গোশতের চেয়ে সবজি বেশি কিনছে। হালে সবজির নানা ধরনের রেসিপিও তৈরি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের মানুষ এখন ভেজিটেরিয়ান হয়ে যাচ্ছে। এতে গড় আয়ু বাড়ছে।

সূত্র: জনকণ্ঠ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২ ২:২৫ অপরাহ্ন
কাঁচা মরিচের বিভিন্ন জাত
কৃষি বিভাগ

সুস্বাদু একটি তরকারির অন্যতম প্রধান উপাদান হলো কাঁচা মরিচ বা পাকা মরিচ। যা গুঁড়ো করে কিংবা পাটায় বেটে তরকারিতে ব্যবহার করা হয়।

তরকারি হোক, নিরামিষ হোক—এক-আধটু ঝাল চাই-ই চাই। পরিমিত ঝাল না হলে অনেকের কাছে তরকারি স্বাদহীন হয়ে যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য রকমের মরিচ চাষ হচ্ছে। রয়েছে এর বিভিন্ন জাত। উল্লেখ্যযোগ্য জাত হলো—রোপা ঝাল মরিচ, বোনা ঝাল মরিচ এবং মিষ্টি মরিচ। এই তিনটি জাতের মধ্যেও রয়েছে আরো অসংখ্য জাতের মরিচ। যেমন কামরাঙ্গা, বোম্বাই, কৃষ্ণকলি, ঘৃতকুমারী, সূর্যমুখী, সিটিন, বালিজুরী, জারলা, বারোমাসী, উবধা, পুষা জাওলা, বাইন, সাইটা, শিকারপুরী, ক্যালিফোর্নিয়া ওয়ান্ডার, ম্লিমপিম, ওয়ান্ডার বেল, ফুসিমি লংগ্রিন প্রভৃতি।

বাংলাদেশে সব অঞ্চলেই কাঁচা মরিচ হয়। উত্তরাঞ্চলে কাঁচা মরিচ ‘আকালি’ নামে পরিচিত। টাঙ্গাইল জেলার পাহাড়ের ঢালু অঞ্চলেও কাঁচা মরিচ ভালো জন্মে, তবে সেগুলো ছোট আকৃতির—যার নাম হচ্ছে ‘ধাইন্যা মরিচ’ বা সুগন্ধযুক্ত তীব্র ঝাল মরিচ। টাঙ্গাইলের কাঁচা মরিচ বিখ্যাত। এ মরিচ অন্যান্য জেলার মরিচের চেয়ে একটু ভিন্ন। টাঙ্গাইল অঞ্চলের দ্বারিয়াপুরের লোকজন মরিচের গুঁড়ো মসলা খুবই কম ব্যবহার করেন। তাঁরা কাঁচা মরিচ দিয়েই তরকারি রান্না করে থাকেন।

কাঁচা মরিচ গ্রামবাংলায় পানতার সঙ্গে খাওয়া হয়। কাঁচা মরিচ অনেক উপকারী। এতে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ, শর্করা, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ রয়েছে। তাছাড়া অনেক জাতে ‘কেপসাইসিন’ থাকায় মরিচ ঝাল হয়ে থাকে। মাটির তারতম্য ও আবহাওয়ায় ঝাল, তীব্র ঝাল, হালকা ঝাল ও মিষ্টি কাঁচা মরিচ উত্পাদিত হয়। কাঁচা মরিচ নষ্ট হয় না এবং তা ফেলনা নয়। গ্রামে এমনকি শহরেও এখন প্রচলিত আছে—হাটবাজার থেকে সবুজ হালকা লাল, কমলা ও লাল আকৃতির কাঁচা মরিচ বাসায় এনে তা দু’ভাগে ভাগ করা হয়। লাল কাঁচা মরিচ অর্থাত্ পাকা। মরিচ শুকালে শুকনো মরিচে পরিণত হয়। আর তাই কাঁচা মরিচ পচনশীল দ্রব্য নয়। তবে এক্ষেত্রে সাবধান হয়ে পরিচর্যা করলে এর থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২ ২:০৯ অপরাহ্ন
বরগুনায় আউশ ধানের দামে হতাশ চাষিরা
কৃষি বিভাগ

বরগুনার হাটগুলোতে বেড়েছে ধানের সরবরাহ। তবে সে অনুযায়ী বাজারে ব্যাপারী না আসায় কমতে শুরু করেছে দাম। চলতি বোরো মৌসুমে ধানের দাম না পাওয়ায় হতাশ এলাকার কৃষকরা।

এ বছর আউশ ধান চাষ করে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। এক মণ ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না তাদের।

জেলায় আউশ মৌসুমের ধান কাটা-মাড়াই শেষপর্যায়ে। ব্যস্ততা দেখে মনে হবে ধানচাষিদের সুদিন ফিরে এসেছে। কিন্তু চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায় ধানের দাম নিয়ে হতাশ তারা। বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭২০ থেকে ৭৪০ টাকায়। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে ধানের দাম কমেছে মণপ্রতি ৮০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় আউশ ধান আবাদের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে। আবাদকৃত জমি ৫২ হাজার ৮১১ হেক্টর। কর্তনকৃত জমি পরিমাণ ১২ হাজার ৫২৮ হেক্টর। হেক্টর প্রতি ফলন ২.৩০ টন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বরগুনা উপপরিচালক আবু সৈয়দ জোবায়দুল আলম।

সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নে গিলাতলি গ্রামের মোতালেব বলেন, আমরা লাভের আশায় ধানচাষ করি। কিন্তু সারা বছর পরিশ্রম করেও কোনো লাভ নেই। বাজারে পাইকাররা যে দামে ধান কিনছেন তাতে আমাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। সারের দাম বেশি, দুনিয়ার সবকিছুর দাম বাড়ে কিন্তু সেই হিসেবে ধানের দাম বাড়ে না।

কুমড়াখালী গ্রামের রশিদ ফরাজী বলেন, সার, পানি, কীটনাশকসহ সব খরচ শেষে যখন ধান ঘরে তুলতে হবে ঠিক সেই সময় দেখা দেয় শ্রমিক সঙ্কট। বেশি টাকায় শ্রমিক নিয়ে ধান কাটার পরে দেখা যায় উৎপাদন খরচ উঠছে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় পাইকাররা সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমিয়ে দিয়েছে।

বরগুনা পৌর বাজারের মেসার্স মুন্সি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী কবির মুন্সি জানান, আউশের ভরা মৌসুমে বরগুনায় কিছুদিন ধরে ধানের দাম কমেছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি মণের দাম কমেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বাজারে ভেজা ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা, আর শুকনা বিক্রি হচ্ছে ৭২০ থেকে ৭৪০ টাকায়। অথচ প্রতি মণ ধানের উৎপাদন খরচ ৭০০ টাকার বেশি।

আউশের ভরা মৌসুমেও বরগুনায় বেড়েছে চালের দাম। বাজারে ধানের দাম কমলেও খুচরা পর্যায়ে তার প্রভাব পড়েনি একটুও। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষসহ সব ধরনের ভোক্তারা।”

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
কৃষি বিভাগের উদ্যোগে বাড়ির আঙ্গিনায় মিষ্টি কুমড়ার চাষ
কৃষি বিভাগ

কৃষি বিভাগের উদ্যোগে বাড়ির আঙ্গিনায় আর মাঠে মিষ্টি কুমড়ার চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। হাসি ফুটেছে ছোট-বড় পরিবারগুলো বাড়ির আঙ্গিনা থেকে চালে ছড়িয়ে পড়া ডগায়-ডগায় কুমড়া দেখে।

কৃষি নির্র্ভর ও সবজি চাষ খ্যাত এই জেলায় বারো মাস মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়। আগে গৃহবধূরা বসতবাড়ির আঙিনায় মিষ্টি কুমড়া লাগিয়ে পারিবারিক চাহিদা মেটাতেন। বর্তমানে আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে সাথী ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করছে কৃষকরা।

বর্তমানে জেলায় কলা, আলু, আখ, বিভিন্ন ফলজ বাগানে সাথী ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়ার চাষ বেড়েছে। কম খরচে এবং তিন মাসের মধ্যেই এই উৎপাদন করা যায় বলে দিন-দিন জেলায় মিষ্টি কুমড়ার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বিরুপ আবহাওয়ার জন্য গতবছর মিষ্টি কুমড়া চাষে ফলন কম হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। চাষের সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ফল ছোট ও বিকৃত হয়ে যায়। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাড়তি সার ও কীটনাশক ছাড়াই মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন ভালো হয়েছে। একই জমিতে অন্য ফসলের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়ার চাষে ফলন কিছুটা কম হলেও এক জমিতে একই সাথে দুটি ফসল পাওয়ায় লাভবান কৃষকরা। আবার অনেক কৃষক এগুলো এককভাবে চাষ করেন। এক্ষেত্রে অবশ্য ফলনও বেশি পাওয়া যায়।

কৃষি বিভাগের হিসেবে জেলায় প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে কুমড়ার চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা মিষ্টি কুমড়া তোলা হচ্ছে ট্রাকে। নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে যাচ্ছে সুস্বাদু এই সবজি।

সদর উপজেলার উজ্জলপুর গ্রামের কুমড়া চাষি কামরুল হাসান বলেন, মাঠে প্রতিনিয়ত কুমড়ার চাষ বাড়ছে। গতবছর ১ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে ১০ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রি করেছিলাম। এ বছর ১ বিঘা ১০ কাঠা জমিতে কুমড়ার চাষ করে ২০ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রি করেছি। এখনও ২৫-৩০ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রি করতে পারব। আশা করি গত বছরের লোকসান কাটিতে লাভবান হতে পারব।
গাংনী উপজেলার ভোমরদহ গ্রামের কুমড়া চাষি আব্দুর রহমান জানান- তিনি মরিচের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে ২ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এবার এতো দাম পাবো আশা করিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সামসুল আলম জানান, কুমড়া চাষ লাভজনক। অল্প ব্যয়ে ফলন বেশি পাওয়া যায়। এই ফসল চাষের সুবিধাজনক দিক হল, এটি সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা যায়। এতে অন্য ফসলও হয় আবার বাড়তি হিসেবে কুমড়াও হয়। তিনি আরো জানান- কুষি বিভাগ থেকে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়। ক্ষতিকারক বালাইনাশক ব্যবহার করলে অনেক উপকারী পোকা মারা যায়। তাই কৃষকদের জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করাতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২ ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
জয়পুরহাটে আউশ বিনাধান ১৯ এর নমুনা শস্য কর্তন
কৃষি বিভাগ

সরকারের প্রণোদনার আওতায় চাষ করা আউশের বিনাধান ১৯ জাত চিকন হওয়া ও চাষে তুলনামূলক পানি কম লাগায় জয়পুরহাটে কৃষকদের মধ্যে ওই ধান চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, কৃষি হবে দুর্বার’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার মাঠে বৃহস্পতিবার সকালে আউশ বিনাধান ১৯ এর নমুনা শস্য কর্তন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ইউসুফ রানা মন্ডল। আউশের বিনাধান ১৯ এর হেক্টর  প্রতি উৎপাদন হচ্ছে ৩ দশমিক ৯ মেট্রিক টন ধান।

২০২১-২০২২ অর্থ বছরে  আউশ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কৃষি প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। সুবিধা প্রাপ্ত কৃষক সংখ্যা ১৬শ জন।

প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের বীজ ৫ কেজি, ডিএপি ১০ কেজি ও এমওপি ১০ কেজি সার প্রদান করা হয়।

স্বল্প সময়ের ফসল আউাশ বিনাধান টির ফলন ভালো  হওয়ায় গবাদি পশুর  খড় পাওয়া যাচ্ছে ফলে আউশ চাষে জেলার কৃষকদের  মাঝে আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধান কাটার পরে আগাম জাতের সবজি চাষ করতে পারবেন কৃষকরা।

নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো: শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপরিচালক( শস্য) কৃষিবিদ মজিবর রহমান, অতিরিক্ত উপরিচালক উদ্ভিদ সংরক্ষণ মো: শহিদুল ইসলাম, আক্কেলপুর কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইমরান হোসেন ।

বগুড়া অঞ্চলের উপপরিচালক ইউসুফ রানা মন্ডল জামালগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টার ও আমন ফসলের মাঠ পরিদর্শন শেষে স্থানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে সার্বিক সার ব্যবস্থাপনা ও সেচ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২২ ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
একই জমিতে ফলছে হরেক রকমের সবজি
কৃষি বিভাগ

একই জমিতে ফলছে হরেক রকমের সবজি, ফলমূল। উত্তরের জনপদ রাজশাহীতেও ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে মিশ্র চাষাবাদ। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া, হুজুরীপাড়া, পারিলাসহ কয়েক এলাকার একাধিক কৃষক গড়ে তুলেছেন মিশ্র ফল-সবজির বাগান।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে মিশ্র সবজি চাষ হয়েছে। এরমধ্যে চলতি মৌসুমে মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, লাউ, করলা, ঢ্যাঁড়শ, মুলা, পটল, লালশাক ও শিম চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অল্প জমিতে কম খরচে অধিক মাত্রায় ফসল উৎপাদনের জন্য মিশ্র ফসল চাষে কৃষকরা উৎসাহিত হচ্ছেন। জেলায় সবচেয়ে বেশি মিশ্র সবজি চাষ হয়েছে বাঘা, চারঘাট, গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলায়।

মিশ্র ফসল চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন পবা উপজেলার হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের কৃষক সারোয়ার জাহান। দুই বছর আগে ৯ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন বারি-১ জাতের মাল্টা ও সবজির মিশ্র ফসলের বাগান। তার উৎপাদিত মাল্টা এলাকার চাহিদা পূরণ করে নগরীর বিভিন্ন ফলের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে।

একই ইউনিয়নে আট বিঘা কমলা ও মাল্টার বাগানে মরিচ চাষ করেছেন আলমগীর হোসেন। এই মৌসুমে মরিচের ভালো দাম পেয়েছেন। বাগানের ফল পাওয়া শুরু হলেই খরচ উঠে যাবে। এতে ভালো লাভ আসবে বলে মনে করছেন এই চাষি।

দামকুড়া ইউনিয়নের মধুপুর গ্ৰামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন জানান, তিনি তিন বিঘা পেঁপের জমিতে মরিচ ও বাঁধাকপির মিশ্রচাষ করেছেন। এরই মধ্যে পেঁপে ও মরিচ বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোজদার হোসেন জানান, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে মিশ্র ফল-সবজি চাষ হয়েছে। অল্প সময়ে অধিক মুনাফা পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে মিশ্র সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop