১২:৫৫ অপরাহ্ন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ২৪, ২০২২ ৩:৩৮ অপরাহ্ন
খুলনায় বোরো ধানে ‘ব্লাস্ট রোগ’ বিপাকে কৃষক
কৃষি বিভাগ

খুলনার চলতি বোরো মৌসুমে ধানে ছত্রাকজনিত রোগ ব্লাস্টের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ফলে, এবার আশানুরূপ ফলন পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা।

কৃষিবিভাগ জানিয়েছে, বোরো ধানের ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ খুব একটা ক্ষতি করতে পারবে না। তারা কৃষকদের রোগ দমনে ছত্রাক নাশক প্রয়োগ করলে এই রোগ ঠেকানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ছিটাতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

কৃষকেরা জানালেন, কীটনাশক প্রয়োগে করেও সুফল মিলছে না বলে জানালেন কৃষকরা। তারা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দেয়া না গেলে এবার ফলন আশানুরূপ হবে না।

কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৬০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৬২ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে।

খুলনায় গত বছর বোরো ধানের দাম ভাল পাওয়ায় এবার আরও বেশি জমিতে আবাদ করেছেন চাষীরা। কিন্তু বোরো ধানের ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে ব্লাস্ট রোগ। আবহাওয়াও প্রতিকূল। আক্রান্ত ধান কচি অবস্থাতেই হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের কপালে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, খুলনা জেলার কিছু কিছু জায়গায় ২৮ ধানের আবহাওয়াজনিত কারনে বৃষ্টির প্রভাব ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে,যার জন্য ব্লাস্ট’র কিছু আক্রমণ দেখা গেছে। কৃষি বিভাগ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে এবং ছত্রাকনাশক ছিটিয়ে এই রোগকে দমন করে আসছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৪, ২০২২ ২:২২ অপরাহ্ন
বীজ থেকে সুদান ঘাসের চাষ পদ্ধতি
কৃষি বিভাগ

আমাদের দেশে গবাদিপশুর পালন অনেক বেড়েছে কিন্তু সেই তুলনায় গো-খাদ্য অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে। বর্ষা মৌসুমে বাড়ির পাশের জমিতে ধান উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পতিত জমিতে পানি ও আগাছা বেশি হয়ে থাকে। ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই এরকম লাখ লাখ একর পতিত জমি সারা বছরই খালি পড়ে থাকে। একটু সচেতন হলেই আমরা এ জমিগুলো কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করতে পারি । বর্ষা মৌসুমসহ সারা বছরই এ জমিগুলোতে ঘাস চাষ করে গো-সম্পদের প্রসার ঘটানো যায় । সুদান ঘাস উচ্চ ফলনশীল ফসল। এটা গোরুর মোটাতাজাকরণ জন্য ব্যবহৃত হয়।

সুদান ঘাসের উপযোগী মাটি ও জলবায়ু:

তুলনামূলকভাবে- যে সকল জমিতে পানি জমে থাকে না সেই সকল জমিতেই সুদান ঘাস চাষ করা উত্তম। এ ঘাস সব ধরনের মাটিতেই জন্মে। তবে বেলে দো-আশ মাটিতে এর ফলন সবচেয়ে বেশি। এ ঘাসের জন্য উঁচু জমি ভালো। বন্যা প্রস্তাবিত জমি এ ঘাস চাষের জন্য অনুপযুক্ত।

জমি নির্বাচন:

পানি নিষ্কাশনের জন্য ভাল ব্যবস্থা আছে অর্থাৎ যেখানে বৃষ্টি বা বর্ষার পানি জমে থাকে না এরূপ জমি নেপিয়ার চাষের জন্য উত্তম। প্রায় সব ধরনের মাটিতেই এ ঘাস রোপন করা যায়, তবে বেলে-দোআঁশ মাটি সবচেয়ে বেশি উপযোগী।

চাষের সময়:

সুদান ঘাসের বীজ সারা বৎসরই রোপন করা যায়। প্রচন্ড শীত এবং বর্ষার পানির সময় বাদে সব সময় বীজ বপন করা যায়।

চাষ পদ্ধতি:

এ ঘাস চাষের জন্য জমিতে তিনটি থেকে চারটি চাষ দিয়ে এবং মই দিয়ে আগাছামুক্ত করার পর রোপণ করতে পারলে উত্তম।

জমি প্রস্তুতের সময়:

১.৫০ থেকে ২.০০ টন জৈবসার- প্রতি একরে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। এছাড়া রাসায়নিক সারের মধ্যে ইউরিয়া, টিএসপি ও পটাশ ইত্যাদি সার ব্যবহার করতে পারেন।

বীজ বপন:

প্রথমে বীজ ১-২ ঘন্টা মিষ্টি রোদে শুঁকিয়ে তারপরে নরমাল করে ২৪-৪৮ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন তারপরে জমিতে ছিটিয়ে দিন। পরবর্তী ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে বীজ জার্মিনেশন হয়ে যায়। চারা ৩-৪ ইঞ্চি হবার পরে একটি সেচ দিতে পারলে ভালো।

সার প্রয়োগ ও পানি সেচ:

ভালো ফলন ও গাছের বৃদ্ধির জন্য সার এবং পানির প্রয়োজন। বর্ষা মৌসুমে পানি সেচের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু অন্য সময়ে সাধারণত পানি সেচের প্রয়োজন হয় এবং ইউরিয়া ১৫০ কেজি, টিএসপি ৮০ কেজি, ও এমওপি ৭০ কেজি সার প্রয়োগ করতে হবে।

ঘাস কাটার পদ্ধতি:

বীজ থেকে চারা হবার পর থেকে ৩৫-৪০ দিন পর প্রথমবার ঘাস সংগ্রহ করা যায়, মাটির ৫-৬ ইঞ্চি উপর থেকে ঘাস কাটতে হয়।তিন সপ্তাহ পরপর পুনরায় ঘাস কাটা যায়। প্রথম কাটিং-এ ফলন একটু কম হলেও দ্বিতীয় কাটিং থেকে পরবর্তী ২/৩ বছর পর্যন্ত ফলন বাড়তে থাকে। এরপর আস্তে আস্তে কমতে থাকে। পরে পুনরায় বীজ অথবা কাটিং বা মোথা লাগাতে হবে। প্রত্যেকবার ঘাস কাঁটার পর একর প্রতি ৬০-৭০ কেজি ইউরিয়া, ৪০-৫০ কেজি টিএসপি, ৪০-৫০ কেজি এমওপি এবং ২-৩ টন গোবর/ কম্পোস্ট সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

পশুকে খাওয়ানোর নিয়ম:

জমি থেকে ঘাস কাটার পর ঘাস যাতে শুকিয়ে না যায় সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। আস্ত ঘাস গবাদিকে খেতে দিলে অপচয় বেশি হয়। তাই মেশিন, দা অথবা কাঁচি দ্বারা ২-৩ ইঞ্চি লম্বা করে কেটে খাওয়ানো ভাল। এই কাটা ঘাস খড়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া দুই থেকে তিন ইঞ্চি করে কেটে খড়ের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়ানো যায়। নেপিয়ার ঘাসে শতকরা ৭-১২ ভাগ প্রোটিন আছে।সুদান ঘাস শুকিয়ে সংরক্ষণ করা সুবিধাজনক নয়। তবে কাঁচা ঘাস সাইলেজ করে শুষ্ক মৌসুমে সংরক্ষণ করা যায়।

সুদান ঘাস উচ্চ ফলনশীল ঘাস। এই ঘাস চাষের মাধ্যেমে গবাদিপশুর কাঁচা ঘাসের চাহিদা মিটানো সম্ভবপর। কাঁচা ঘাস/সাইলেজের ব্যবহার যথাযথভাবে করতে পারলে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে যা দ্বারা ক্রমান্বয়ে দেশের দুধের চাহিদা মিটানো সম্ভব। সম্প্রতি আমাদের দেশে দুধের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে দুধ উৎপাদন বাড়লে কৃষকের যেমন আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাবে তেমনি দেশের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে।

 

লেখকঃ কৃষিবিদ সালাউদ্দিন কাজী

 

এগ্রোবাংলা ডটকম

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৪, ২০২২ ১:৩৩ অপরাহ্ন
স্ট্রবেরি চাষে সাফল্য পাচ্ছেন জয়পুরহাটের চাষীরা
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাটে বাণিজ্যিকভাবে বিদেশী ফল স্ট্রবেরি চাষ করে অনেকেই সফলতা পেয়েছেন। বানিজ্যিকভাবে এ ফল চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে এর আবাদ। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন এ এলাকায় স্ট্রবেরি চাষে ঝুঁকে পড়ছেন চাষীরা।কৃষি বিভাগও স্ট্রবেরি চাষে সহযোগিতা করছে।

স্ট্রবেরি শীত প্রধান অঞ্চলের ফল হলেও গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর চাষ হচ্ছে। আর তাতে সফলতাও মিলছে। জয়পুরহাটেও বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ শুরু হয়েছে। এ বছর জেলায় ১২ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হয়েছে। উৎপাদন হবে কমপক্ষে ১ শ ২০ মেট্রিকটন স্ট্রবেরি।

সম্প্রতি কৃষি অর্থনীতি বিভাগ ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রবেরির প্রতিটি গাছে ৪০টি ফল ধরে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২ হাজার ৭৭৮ কেজি ফলন হয়। প্রতি কেজি স্ট্রবেরির উৎপাদন খরচ প্রায় ৪২ টাকা। আর সেটা বিক্রি করা যায় পাওয়া যায় একশ টাকা। সেই হিসাবে এক বিঘা জমিতে এক লাখ টাকা খরচ করে স্ট্রবেরি চাষ করে অন্তত ৩ লাখ টাকা লাভ হতে পারে। এসব বিবেচনায়, স্ট্রবেরি চাষ খুবই লাভজনক বলে দাবি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের।

কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা স্ট্রবেরি ফল বিক্রি করে ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা লাভ হতে পারে বলে জানান তারা। এ কারনে অনেকেই স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

স্ট্রবেরি  রসালো ও পুষ্টিকর ফল। রঙ, গন্ধ ও স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় এটি সারাবিশ্বে সমাদৃত। ফলটি রবি মৌসুমে চাষের উপযোগী। দেশের আবহাওয়ায় আশ্বিন মাসই (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য অক্টোবর) স্ট্রবেরির রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং ডিসেম্বরের শেষ ভাগ থেকে পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শফিকুর ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। অন্যবারের চেয়ে এবার স্ট্রবেরি বেশি চাষ হচ্ছে। এটি একটি সম্ভাবনাময় ফসল, খরচের তুলনায় লাভ বেশি।

জয়পুরহাটে উৎপাদিত স্ট্রবেরি রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়। আবাদ আরও বাড়লে বিদেশে রপ্তানি সম্ভব বলেও মনে করছে কৃষি বিভাগ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৩, ২০২২ ১০:১০ অপরাহ্ন
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বারি সূর্যমুখী-২’র ওপর মাঠদিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বারি সূর্যমুখী-২’র ওপর মাঠদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ উপজেলার পাখিমারায় বিএআরআই’র সরেজমিন গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) মহাপরিচালক ড. দেবাশিষ সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন তেল বীজ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. আব্দুল লতিফ আকন্দ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলের ডাল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. ছালেহ উদ্দিন, ডিএই’র উপপরিচালক একেএম মহিউদ্দিন, বিএআরআই’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সহিদুল ইসলাম খান, ভাসমান কৃষি প্রকল্পের ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার, বিএআরআই’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিমুর রহমান, কলাপাড়ার উপজেলা কৃষি অফিসার এ.আর.এম. সাইফুল্লাহ, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নজরুল ইসলাম, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক, কৃষক সুলতান গাজী, জুলেখা বেগম প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, সূর্যমুখীর তেল স্বাস্থ্যের জন্য হিতকর। যেহেতু দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছে এর যথেষ্ট সম্ভাবনা। তাই অন্যান্য তেলফসলের পাশাপাশি সূর্যমুখীর আবাদ বাড়ানো দরকার। এর আগে তিনি বরগুনার আমতলীতে ৫০ বিঘা মুগের প্রদর্শনীপ্লট পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের (বারি অংগ) আওতাধীন দেড়শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৩, ২০২২ ৩:১৪ অপরাহ্ন
নীলফামারীতে জনপ্রিয় হচ্ছে জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি
কৃষি বিভাগ

নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ধান ক্ষেতের পোকা দমন করার বিশেষ পাচিং পদ্ধতি।পোকামাকড় দমনে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের জীব-বৈচিত্র, পরিবেশ, পশু-পাখি ও মানুষের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বোরো ধান রক্ষা করতে পরিবেশবান্ধব পাঞ্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে ঝুঁকে পড়েছে। যা কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় এ পদ্ধতি একটি কৃষিবান্ধব প্রযুক্তি।

কৃষকেরা জানালেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকরা বোরো ফসলের জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে শাখা-প্রশাখা সংযুক্ত গাছের মরা ডাল,বাঁশের কঞ্চি,ত্রিকোণাকৃতির বাঁশের বাতা পুঁতে পাখি বসার জায়গা করেছেন। এর উপর নানা ধরনের পাখি বসে দৃষ্টি সীমার মধ্যে ক্ষতিকর পোকা ধরে খাচ্ছে। এভাবে কীটনাশক ছাড়াই সহজে দমন হচ্ছে ক্ষতিকারক পোকা, ধান উৎপাদনে কমে আসছে খরচ।

চাঁদখানা ইউপি’র সরঞ্জাবাড়ি গ্রামে রানা সরকার চলতি বছর ৮বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। তিনি বলেন, ক্ষেতে মাজরা পোকা, পামড়ি পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা ও ঘাষ ফড়িংসহ কীটনাশক প্রয়োগ করলে অনেক সময় তা মরে না। ফসল উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। পাচিং পদ্ধতির ফলে পাখি ডালে বসে ধান ক্ষেতের পোকা খেয়ে ফেলছে। এতে পোকা দমনে খরচ নেই। ফলে ধান উৎপাদন খরচ কমছে। বিনা খরচে অধিক লাভজনক পরিবেশবান্ধব একটি পদ্ধতি।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, চলতি বছর ১১ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের অযাচিত কীটনাশকের খরচ কমাতে পাচিং পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহী করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে ধানের জমিতে গাছের মরা ডাল, বাঁশের কঞ্চি, আগালি,পুঁতি দিয়ে তার উপর পাখি বসার জায়গা করায় পোকার মথ, ডিম,বাচ্চা খেয়ে ফেলছে। ফলে ধান উৎপাদনে খরচ কমছে পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ রোধসহ স্প্রেকারীরাও মানবদেহের নানা রোগব্যধি থেকে রক্ষা পাচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৩, ২০২২ ১২:৪৬ অপরাহ্ন
নাটোরে ব্যাপক পরিসরে বোরো ধানের আবাদ
কৃষি বিভাগ

শস্য ভান্ডারখ্যাত নাটোরে চলতি বোরো মৌসুমী ব্যাপক পরিসরে ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা আশা করছেন এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হবে। কৃষকরা দাবি জানিয়েছেন,চাষাবাদের জন্য তেল,সার ও কীটনাশক এর দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকলে তারা চাষাবাদ করে লাভবান হবেন।

নাটোরের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু সবুজের সমারোহ। চোখ জুড়ানো সবুজে ছেয়ে গেছে নাটোরের বিল ও মাঠগুলো। চলছে ব্যাপক পরিসরে বোরো ধানের আবাদ। শস্য ভান্ডারখ্যাত চলনবিল এবং হালতিবিলেও বোরো ধানের আবাদে ব্যস্ত চাষীরা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বিগত বছরগুলোতে দাম ভালো পাওয়ায় এবার বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন তারা। সঠিকভাবে পরিচর্যা করায় ভালো ফলনেরও আশা করছেন। তবে, কারো কারো অভিযোগ-ডিজেল,সার ও কীটনাশকের দাম বেশি। এসবের দাম কমানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নাটোর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক মাহমুদুল ফারুক জানালেন, এ’বছর জেলায় ৫৮ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সার ও বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় ঘাটতি নেই বলে জানান তিনি। ধানের মূল্য বেশি থাকায় কৃষকরা পূর্বের থেকে অধিক জমিতে বোরো ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

জেলায় হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার ধানের উৎপাদনও আশানুরূপ বৃদ্ধি পাবে বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২২, ২০২২ ৩:০৭ অপরাহ্ন
রংপুরের উৎপাদিত আলু যাচ্ছে বিদেশে
কৃষি বিভাগ

আলু উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা রংপুর থেকে উন্নত জাতের আলু রফতানি শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা।। একদিকে আলুর বাম্পার ফলন, অন্যদিকে বিদেশে বেড়েছে আলু রপ্তানি। আলু নিয়ে চিন্তায় থাকা চাষিরা এখন ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকরা আশা করছেন, গত দুই বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার বাজারে ভালো দাম পাবেন তাঁরা

সম্প্রতি রংপুর থেকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আবর, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আলু পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো রাশিয়াতেও যাচ্ছে এখানকার আলু। রপ্তানি বাড়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক অবস্থায় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন আলু রফতানির অর্ডার পাওয়া গেছে। সাদা জাতের প্রতিটির ওজন একশ গ্রামের উপরে আলু মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের পছন্দ হওয়ায় এ আলু রফতানি শুরু করেছে। আলু রফতানি করতে পেরে আলুচাষিরাও বেজায় খুশি।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, রংপুর জেলায় এবার রেকর্ড ৫২ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে আলুচাষ হয়েছে। যা গতবারের চাষাবাদের তুলনায় এবার প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেশি।

সাদা জাতের প্রতিটির ওজন একশ গ্রামের উপরে আলু মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের পছন্দ। এই চাহিদা বিবেচনায় সান্তা, ডায়মন্ড, কুমারিকা, গ্রানুলা, কুম্বিকা এলুয়েট, এস্টারিকস, সানসাইনসহ উন্নত জাতের সাদা আলু উৎপাদনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও বীজ সরবরাহ করে কৃষি বিভাগ।

আলু চাষী রহমান বলেন, গত বছর থেকে আমি রপ্তানিযোগ্য আলু উৎপাদন করছি। বিভিন্ন দেশ আমাদের আলু ‍কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে আমরা অন্যান্য কৃষকের তুলনায় বেশি লাভবান হবার সুযোগ পাচ্ছি।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানির অর্ডার পাওয়া গেছে। সান্তা, ডায়মন্ড, কুমারিকা, গ্রানুলা, কুম্বিকা এলুয়েট, এষ্টারিকস, সানসাইনসহ যে আলু আছে তা আমরা নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় রপ্তানি করছি। এছাড়া মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আমরা সাদা আলু রপ্তানি করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২২, ২০২২ ১১:২১ পূর্বাহ্ন
কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কৃষি ও কৃষকের অকৃত্রিম বন্ধু। স্বাধীনতার পরপরই তিনি দেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেন। সেটিকে অনুসরণ করে তাঁর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষকের কষ্ট লাঘব ও কৃষককে লাভবান করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ,কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি, বিশাল ভর্তুকিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছর শুধু সারের জন্য কৃষককে ২৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে- যা সারা বিশ্বের বিরল ঘটনা।

সোমবার (২১ মার্চ) বিকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘টুঙ্গিপাড়া: হৃদয়ে পিতৃভূমি’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষকলীগ।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলেই কৃষি উৎপাদন কমতে থাকে। উৎপাদনে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি শুরু হয়। তারা কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব প্রদান না করে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। কৃষকের দুর্দশা ও কষ্ট শুরু হয়। বিএনপি সবসময় ভিক্ষাবৃত্তির মানসিকতা নিয়ে দেশ পরিচালনা করেছে। যে কারণে তারা ক্ষমতায় থাকাকালে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চেষ্টা করে নি এবং তাদের আমলে দেশে সবসময়ই বিশাল খাদ্য ঘাটতি ছিল।

ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, দেশে কেউ খাদ্যের জন্য কষ্ট করবে না। মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  এক কোটি পরিবারের পাশে কমমূল্যে নিত্যপণ্য নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। আরও ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়া হবে। ভিজিএফসহ আরও সহায়তা দেয়া হবে, যাতে দেশের একজন মানুষকেও খাদ্যের জন্য কষ্ট করতে না হয়।

বাংলাদেশ কৃষকলীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী,কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি, সহসভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এসময় বাংলাদেশ কৃষকলীগের সারা দেশের বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনাসভার আগে কৃষিমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ও বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২১, ২০২২ ১০:১১ অপরাহ্ন
খুবিতে আন্তর্জাতিক বন দিবস উদযাপিত
কৃষি গবেষনা

‘বন সংরক্ষণের অঙ্গীকার, টেকসই উৎপাদন ও ব্যবহার’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক বন দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ ২১ মার্চ (সোমবার) বেলা ১১টায় বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য এক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি হাদী চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ ভবন ঘুরে অদম্য বাংলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মো. ইফতেখার শামস, সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর এ কে ফজলুলসহ ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে থ্রি মিনিটস টক কম্পিটিশনের গ্র্যান্ড ফিনালে ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফরেস্ট্র সার্ভিসের মানবসম্পদ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক (কমপাস প্রোগ্রাম) মোসা. শারমিন খানম। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মো. ইফতেখার শামস। কি-নোট স্পিকার হিসেবে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ও আলোচনা করেন প্রফেসর ড. মো. গোলাম রাক্কিবু। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত ও সহযোগী অধ্যাপক ড. অরুণ কান্তি বোস।

অনুষ্ঠানে কুইজ প্রতিযোগিতা ও থ্রি মিনিটস টক কম্পিটিশনের গ্র্যান্ড ফিনালের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। টক কম্পিটিশনে চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ ও পিপলস চয়েজ হিসেবে মোট তিনজনকে পুরস্কারস্বরূপ ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও প্রাইজমানি প্রদান করা হয়। এছাড়া বাকি অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

তথ্যসূত্রঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ফেসবুক পেজ

মোঃ আমিনুল খান

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২১, ২০২২ ৩:৫৫ অপরাহ্ন
ব্যবসায়িক লক্ষ্যে পেঁপের চাষ করবেন যেভাবে
কৃষি বিভাগ

পেঁপে( বৈজ্ঞানিক নাম :Carica papaya),এরা Caricaceae পরিবারের সদস্য। একটি ফল যা মানুষ কাঁচা তথা সবুজ অবস্থায় সব্জি হিসেবে এবং পাকা অবস্থায় ফল হিসাবে খেয়ে থাকে। এর অনেক ভেষজ গুণও রয়েছে। এর ইউনানী নাম পাপিতা, আরানড খরবূযা। গ্রামবাংলায় বাড়ির উঠোনে পেঁপে গাছ পরিচিত ছবি। কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ব্যবসায়িক লক্ষ্যে পেঁপে চাষ বিশেষ হয় না। অথচ, অতি উপকারী এই সব্জির চাহিদা সারা বছরই থাকে, ফল হিসাবে আরও বেশি উপকারী, আরও বেশি সুস্বাদু।

পুষ্টি মূল্য: পাকা পেঁপে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ একটি ফল। কাঁচা পেঁপেতে প্রচুর পরিমানে পেপেইন নামক হজমকারী দ্রব্য থাকে।

ভেষজ গুণ: অজীর্ণ,কৃমি সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা, একজিমা, কিডনি ও পাকস্থলীর ক্যান্সার নিরাময়ে কাজ করে।

ব্যবহার: পাকা পেঁপে ফল হিসেবে এবং কাঁচা পেপে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়।

উপযুক্ত জমি ও মাটি : উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি ভাল।

জাত পরিচিতি:

বারি পেঁপে-১ (শাহী পেঁপে): স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা গাছে ধরে। চারা লাগানোর ৩-৪ মাস পর ফুল আসে। কান্ডের খুব নিচ থেকেই ফল ধরা শুরু হয়। প্রতিটি ফলের ওজন ৮৫০-৯৫০ গ্রাম। চারা লাগানোর ৩-৪ মাস পর ফুল আসে, ফুল আসার ৩-৪ মাস পর পাকা পেঁপে সংগ্রহ করা যায়। এ জাতটি প্রায় সার বছরই ফল দিয়ে থাকে।

চারা তৈরি: বীজ থেকে চারা তৈরি করা যায়। পলিথিন ব্যাগে চার তৈরি করলে রোপণের পর চারা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

চারা রোপণ: দেড় থেকে দুই মাস বয়সের চারা রোপণ করা হয়। ২ মিটার দূরে দূরে চারিদিকে ২ ফুট পরিমান গর্ত তৈরি করে রোপণের ১৫ দিন আগে গর্তের মাটিতে সার মিশাতে হবে। পানি নিকাশের জন্য দুই সারির মাঝখানে  ৫০ সে.মি নালা রাখা দরকার। বানিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষের জন্য বর্গাকার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। প্রতি গর্তে  ৩ টি করে চার রোপণ করতে হয়। ফুল আসলে ১ টি স্ত্রী গাছ রেখে বাকি গাছ তুলে ফেলা দরকার। পরাগায়ণের সুবিধার জন্য বাগানে ১০% পুরুষ গাছ রাখা দরকার।

সার ব্যবস্থাপনা: প্রতি গাছে ১৫ কেজি জৈব সার, ৫৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার, ৫৫০ গ্রাম টিএসপি সার, ৫৫০ গ্রাম এমওপি সার, ২৫০ গ্রাম জিপসাম সার, ২৫ গ্রাম বোরাক্স সার এবং ২০ গ্রাম জিংক সালফেট সার একত্রে ভালভাবে প্রয়োগ করতে হয়।  ইউরিয়া ও এমওপি সার ছাড়া সব সার গর্ত তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। চারা লাগানোর পর গাচে নতুন পাতা আসলে ইউরিয়া ও এমওপি সার ৫০ গ্রাম করে প্রতি ১ মাস পর পর প্রয়োগ করতে হয়। গাছে ফুল আসলে এ মাত্রা দ্বিগুণ করা হয়।

অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা:  ফুল হতে ফল ধরা নিশ্চিত মনে হলে একটি বোঁটায় একটি ফল রেখে বাকিগুলো ছিড়ে ফেলতে হবে। গাছ যাতে ঝড়ে না ভেঙ্গে যায় তার জন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে গাছ বেঁধে দিতে হয়।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা: চারা রোপণ এবং সার প্রয়োগের পর প্রয়োজনমতো পানি দিতে হবে। খরা মৌসুমে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর হালকা সেচ দিতে হবে।

রোগ ব্যবস্থাপনা:

রোগের নাম: পেঁপের ড্যাম্পিং অফ রোগ দমন।

ভূমিকা: মাটিতে যে ছত্রাক থাকে তার দ্বারা এ রোগ হতে পারে। এ রোগটি সাধারণত: চারা অবস্থায় অথবা বীজ গজানোর সময় হয়ে থাকে। বীজের অংকুর গজানোর সময় এ রোগের জীবাণু অতি সহজেই বীজ অথবা অংকুরকে আক্রমণ করে।

ক্ষতির নমুনা: এ অবস্থায় বীজ পচে যায় এবং চারা মাটির উপর বের হয়ে আসতে পারেনা। এভাবে অংকুর গজানোর আগেই পচন হতে পারে। চারা গজানোর পরেও জীবাণুর আক্রমণ ঘটে। এ পর্যায়ে চারার গোড়া বা শিকড় পচে গিয়ে আক্রান্ত চারা মাটিতে পড়ে যায় এবং মারা যায়। চারার বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ রোগের প্রকোপ কমে যায়।

অনুকূল পরিবেশ: বর্সা মৌসুমে ঢলে পড়া রোগের প্রকোপ খুব বেশি।

বিস্তার: বৃষ্টির পানিতে অথবা সেচের পানিতে এ রোগের জীবাণু ছড়ায়।

ব্যবস্থাপনা: গাছের গোড়ার পানি নিকাশের ভাল ব্যবস্থা রাখা দরকার। রোগাক্রান্ত চারা গাছ মাটি থেকে উঠিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে। আক্রমন বেশি হলে রিডোমিল এমজেড-৭২ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর গাছের গোড়ার চারিদিকের মাটিতে প্রয়োগ করা দরকার। জিংকের ঘাটতির জন্য মোজাইক লক্ষণ দেখা দিলে গাছের গোড়ায় গাছপ্রতি ৫-১০ গ্রাম জিংক প্রয়োগ করলে এবং ০.২% জিংক গাছের পাতায় স্প্রে করলে এ সমস্যা কমে যায়।

ফসল তোলা: সবজি হিসেবে কচি ফল সংগ্রহ করা হয়। পাকানোর জন্য ফলের ত্বক হালকা হলুদ বর্ণ ধারণ করলে সংগ্রহ করতে হয়।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop