২:০৮ অপরাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ২৪, ২০২১ ২:৪৫ অপরাহ্ন
বিক্রি না হওয়া পশু নিয়ে চরম বিপাকে খামারিরা
প্রাণিসম্পদ

বিক্রি না হওয়া পশু নিয়ে বিপাকে চরম পড়েছে খামারিরা। ব্যাংক ঋণ নিয়ে চড়া দামের খাবারে দিয়ে পালন করে এখন প্রায় ৫০ শতাংশই বিক্রি করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়ছেন খামারিরা।

জানা যায়, এবারে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা ছিল বেশি। যে তুলনায় বড় গরুর ক্রেতা ছিল যৎসামান্য। ফলে যারা বড় গরু বিক্রির জন্য ঢাকার বাজারগুলোতে এসেছিল তাদের ৫০-৯০ শতাংশ পশুই অবিক্রিত থেকে গেছে। তবে ঢাকায় বিক্রি জন্য আনা খামাড়িদের গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ গরু অবিক্রিত রয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

সরকারি তথ্য বলছে, কোরবানি উপযোগী গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার। তবে কি পরিমাণ গরু বিক্রি হয়েছে তার পরিসংখ্যান এখনো হাতে পায়নি অধিদপ্তর। পরিসংখ্যান যাই আসুক কোরবানী আগের তুলনায় অনেক কমেছে বলেই ধারণা খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছর ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি গরু প্রস্তুত ছিল। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছিল ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ২৬৩টি। গত বছরও করোনার কারণে পশু কোরবানি কম হয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে যথাক্রমে এক কোটি সাড়ে পাঁচ লাখ ও ১ কোটি ছয় লাখ ছাড়িয়েছিল কোরবানির সংখ্যা।

পলিসি রিসার্চ ইনষ্টিটিউট অব বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, “বড় শিল্পপতি, রাজনৈতিক নেতারা আগে ৫-৬টা করে গরু কিনতো। কিন্তু এবারে হয়তো তারা একটা গরু কোরবানি করেছে। পাড়া-মহল্লায় বড় গরু কিনে শো-অফের ব্যাপারটা এবার ছিল না। হয়তো যারা দলবল নিয়ে গরু কিনতো তারা এবার করোনার ভয়ে হাটেই যায়নি”।

তিনি বলেন, “রাজনীতিবিদ ও শিল্পপতিরা বড় গরু কিনতো এবং মাংস অন্যান্যদের মাঝে বিলিয়ে দিত। করোনার কারণে এবার সে অবস্থা ছিল না। অন্যদিকে মানুষের হাতে টাকা কম থাকায় অনেকে হয়তো কোরবানিই দেয়নি”।

মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ‘বাবু ক্যাটেল এগ্রো’র মালিক ওমর ফারুক গাবতলী হাটে ৬০টি গরু এনেছিলেন যেখান থেকে বিক্রি করেছেন ১০টি। তিনি জানান, “তিন লাখ টাকার গরু এক বছর পালনের পর যদি দুই লাখ টাকা দাম চায় তাহলে সেটা বিক্রি করা যায় না।” তিনি জানান, ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে সারাবছর গরু পালন করেছেন কোরবানির সময় বিক্রি করবেন বলে।

শুধু খামারিরাই নয়, এবার বড় ধরনের চাপে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও। যারা সারাদেশের বিভিন্ন খামার থেকে গরু কিনে ঢাকায় আনেন ব্যবসার উদ্দেশ্যে। কিন্তু তারাও এবার লাভের মুখ দেখতে পারেননি।

খামারি, ব্যবসায়ী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ এ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর পশু কোরবানি অন্যান্য বছরের চেয়ে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে বেশি-কম হতে পারে। তবে এর এখনো কোন সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি হয়নি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা: শেখ আজিজুর রহমান জানান, “পরিসংখ্যানটি এখনো তৈরি হয়নি। আগামী সপ্তাহে এটি জানা যাবে”।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশন (বিডিএফএ) এর সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ এমরান জানান, “খামারিদের যারা বড় গরু বাজারে এনেছিল তাদের প্রায় ৫০ শতাংশই অবিক্রিত রয়েছে। চড়া দামের খাবার খাইয়ে, ব্যাংক ঋণ নিয়ে যারা খামার করেছে তাদের অবস্থা শোচনীয়। খামার পরিচালনার দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতেই এখন এদেরকে পথে বসতে হবে।”

খামারিরা বলছেন, যারা গরু বিক্রি করতে পারেনি, উল্টো ঢাকায় এসে বাড়তি কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে তাদের এখন গরু পালন করতেই হিমশিম খেতে হবে। কারণ আগের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করলে নতুন ঋণও পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে গো-খাদ্যের দাম ব্যাপক চড়া।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৪, ২০২১ ১২:০০ অপরাহ্ন
ছাগলের খামার থেকে লাভবান হবেন যেভাবে
প্রাণিসম্পদ

ছাগলের খামার লাভজনক হওয়ায় দিন দিন আমাদের দেশের মানুষ ছাগলের খামারের দিকে ঝুঁকছেন। আর তাতে করে ছাগল পালনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছোট আকারের ছাগলগুলোতে বাড়তি আরেকটু যত্ন নিলে আরো বেশি ইনকাম করা সম্ভব হবে। 

ছোট আকারের ছাগলের খামার থেকে আরো লাভের উপায়:
প্রথমেই উচ্চমানের ও ভালো জাতের ছাগল নির্বাচন করতে হবে। এজন্য খামারের জন্য ছাগল কেনার সময় জাত সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। খামারে ছাগল পালন করে লাভবান হওয়ার জন্য ভালো খাদ্য ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। ছাগলকে দৈনন্দিন সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রদান করতে হবে। ছাগল পালনে খাদ্য খরচ কমানোর জন্য প্রয়োজনে খামারের আশপাশে পতিত জমিতে ঘাসের চাষ করতে হবে।

ছোট খামারে ছাগল পালন করা হলে প্রতকেটি খরচের হিসাব রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে খামারে আয়ের তুলনায় যাতে ব্যয় বেশি না হয়। খামারে কোন কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পেলে খরচ কমিয়ে আনতে হবে। ছাগলের খামার ছোট হলেও নিয়মিত খামারকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পালন করা ছাগলকে রোগমুক্ত রাখতে হবে প্রয়োজনে খামারে জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করে দিতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৪, ২০২১ ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
গরু বেপারীদের ১৩ লাখ টাকা লুট, মামলা নিতে গড়িমসি
প্রাণিসম্পদ

ঈদের আগের রাতে ট্রাকে বাড়ি ফেরার পথে গাজীপুরে সাত গরু বেপারীর ১৩ লাখ টাকা লুট করেছে যাত্রীবেশী একটি ডাকাত দলের চক্র। এ সময় ডাকাতদের হামলায় তিন ব্যাপারী গুরুতর আহত হয়েছে।

এ ডাকাতির ঘটনায় এজাহার নিয়ে গেলে মামলা না নিয়ে ঢাকার ভাটরা, গাজীপুর মহানগরীর সদর, গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানার মধ্যে ঠেলাঠেলির অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ঈদের আগের রাতে (মঙ্গলবার) কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গাবরগাঁও গ্রামের ছমির উদ্দিন মাস্টারের ছেলে মুঞ্জুরুল হকসহ (৫০) সাত বেপারী ঢাকার ভাটরা থানার নতুনবাজার পশুর হাটে গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সন্ধ্যার দিকে একটি ট্রাক ময়মনসিংহের গফরগাঁও যাওয়ার কথা বলে তাদের ট্রাকে উঠায়। ওই ট্রাকে আরো ১৩ জন যাত্রী ছিল। যাত্রীরাও গরুর বেপারী পরিচয় দিয়ে গফরগাঁও যাবে বলে বেপারীদের জানায়।

ট্রাকটি রাত ৮টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদর থানার সালনা ব্রিজে পৌঁছালে যাত্রীবেশী ডাকাতরা বেপারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা বেপরীদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে এবং বেদম মারপিট করে একটি ব্যাগে থাকা গরু বিক্রির ১৩ লাখ নিয়ে নেয়। পরে জয়দেবপুর থানার রাজেন্দ্রপুর-ডগরী সড়কের বাশঁরী পিকনিক স্পটের কাছে গহিন গজারি বনে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

বেপারীদের চিৎকার শুনে পথচারীরা জয়দেবপুর থানায় খবর দেয়। রাত ১২টার দিকে জয়দেবপুর থানার এসআই মো. সুলতান তাদের উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে বেপারী রিপন, জয়নাল আবেদীন ও শহিদুল্লাহ গুরুতর অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওই রাতেই বেপারী মঞ্জুরুল হক সদর থানায় মামলা করতে গেলে ডিউটি অফিসার না নিয়ে যে থানা এলাকা থেকে বেপারীদের উদ্ধার করা হয় সেখানে অর্থাৎ জয়দেবপুর থানায় যেতে বলেন। ভোর হয়ে যাওয়ায় ওইদিন না গিয়ে ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে জয়দেবপুর থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে ওসি ঘটনার উৎপত্তি স্থান ঢাকার ভাটরা থানায় যেতে বলেন।

মঞ্জুরুল হক বলেন, ডাকাতদের লাঠিপেটায় জয়নাল ও রিপনের মাথা ফেটে এবং শহিদুল্লাহর হাত ভেঙে যায়। জয়নালের মাথায় ২১টি এবং রিপনের মাথায় ১৭টি সেলাই দিতে হয়েছে। রাতেই মামলার জন্য সদর থানায় গেলে জয়দেবপুর থানায় যেতে বলে। জয়দেবপুর গেলে ভাটরা থানায় যেতে বলেন। ভাটরা থেকেও জয়দেবপুর যেতে বলে। গতকাল শুক্রবার আবার জয়দেবপুর থানায় আসলেও মামলা নেননি ওসি।

জয়দেবপুর থানার ওসি মামুন আল রশিদ জানান, ঘটনার সূত্রপাত ভাটরা থানায়। আর ডাকাতি শুরু হয়েছে সদর থানায়। তাই মামলা ওই দুই থানায় হবে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) জাকির হাসান জানান, বেপরীরা উদ্ধার হয়েছে জয়দেবপুর থানা এলাকায়। তাই মামলা ওই থানায় হওয়ার কথা।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ শফিক জানান, ঘটনাস্থল তিনটা। তিন থানাতেই মামলা হতে পারে। তবে যেহেতু ভাটরা থেকে ঘটনা শুরু তাই মামলা ওই থানায় হলে সবচেয়ে ভালো। তাদের সড়কে সিসি ক্যামেরা আছে। যা তদন্তে সহায়তা হবে। তবে যেহেতেু জয়দেবপুর থানা এলাকায় উদ্ধার হয়েছে তাই ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এ ঘটনায় সবাইকেই দায়িত্ব নিয়ে দেখতে হবে। সূত্র: কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৩, ২০২১ ৪:০৮ অপরাহ্ন
ফেনীতে গরু ব্যবসায়ীর ১৫ লাখ টাকা লুট
প্রাণিসম্পদ

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেনীতে গরু ব্যবসায়ীর ঘরে ডাকাত দল হানা দিয়ে নগদ প্রায় ১৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার ফরহাদ নগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাটা মোবারক ঘোনা এলাকার খালেক মাঝির নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত শাহজাহান জানান, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে মাটি গর্ত করে ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। তারা সবাই অস্ত্র ঠেকিয়ে তার হাত-মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলে। মারধর করে তাকে মারাত্মক জখম করে। তার বুকের ওপর তিন ডাকাত বসে ছিল; যেন চিৎকার করতে না পারেন। এরপর গরু বিক্রির সাড়ে ১৪ লাখ টাকা নিয়ে চলে যায় ডাকাত দল।

বিষয়টি তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন টিপুকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শাহজাহান।

ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন টিপু জানান, গরু ব্যবসায়ী শাহজাহান বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। তবে তারা কাউকে চিনতে পারেননি বলে জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৩, ২০২১ ৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
ফেরত যাচ্ছে হাজার হাজার অবিক্রিত গরু
প্রাণিসম্পদ

দাম ও ক্রেতা কম থাকায় বিক্রি হয়নি উত্তরবঙ্গ থেকে নিয়ে আসা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাটের কয়েক হাজার পশু। এক সপ্তাহ নাগাদ ঢাকাতে অবস্থান করেও বিক্রি না করতে পেরে বিপাকে পড়ছেন খামারিরা।

ঈদুল আজহার দিন সকালে দেখা গেছে, শত শত ট্রাক-পিকআপে হাজার হাজার গরু অবিক্রীত অবস্থায় উত্তরবঙ্গে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো থেকে অসংখ্য খামারি ও ব্যবসায়ীরা কয়েক হাজার পশু বিক্রির জন্য নিয়েছিলেন ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাটে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে মানুষের কাছে অর্থের সংকট থাকায় অনেকেই এবার কোরবানি দেননি। এজন্য গরুর চাহিদা কম ছিলো। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে নেওয়া অর্ধেক গরুও বিক্রি হয়নি। অনলাইনে গরু বিক্রিকেও কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

ঈদের দিনেও পশুর হাটে রয়ে যাওয়া গরুর বেপারীদের বেশির ভাগ জানান, তাদের লোকসান হয়েছে। কয়েকজন বলছেন, লাভ হয়নি, ক্ষতিও হয়নি। গরু বিক্রি করে শুধু টাকা নগদ করেছেন।শুধু উত্তরবঙ্গেরই অন্তত ১০ হাজার গরু অবিক্রীত রয়ে গেছে বলে জানান তারা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২২, ২০২১ ১:১৮ অপরাহ্ন
কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করবেন যেভাবে
প্রাণিসম্পদ

ঈদুল আজহার আর মাত্র ক’দিন বাকি। ঈদুল আজহা মূলত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে। পশু কোরবানির পর নিজের ভাগের অংশের মাংস অনেকে সংগ্রহ করেন। কোরবানির পশুর মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ কমবেশি করতেই হয়।

কোরবানির মাংস গরিবদের এবং আত্মীয়স্বজনদের দেয়ার পরও প্রয়োজন হয় সংরক্ষণের। অনেকেই চিন্তিত থাকেন কত দিন মাংস ফ্রিজে রাখা যায় সেটি নিয়ে। বিভিন্ন উপায়ে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করা যায়। তবে এমনভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।

আসুন জেনে নেই কীভাবে সংরক্ষণ করবেন কোরবানির মাংস ।

চার থেকে ছয় মাস

গরুর কাঁচা মাংস ফ্রিজে রাখলে চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে খেয়ে ফেলা ভালো। কারণ, চার-ছয় মাস পর মাংসের পুষ্টিগুণ, গুণগতমান কমতে থাকে। তবে ফ্রিজের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইটে থাকলে মাংস প্রায় এক বছর পর্যন্ত রাখা যাবে।

অন্যান্য মাংস

ফ্রিজে গরুর মাংস পাঁচ থেকে ছয় মাস, খাসির মাংস চার থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত রাখা যায়। তবে কলিজা বেশি দিন ফ্রিজে না রাখাই ভালো। এছাড়া উট, মহিষ তিন থেকে চার মাস রাখা যাবে। আর ভেড়া রাখা যাবে দুই থেকে তিন মাস। আর মুরগির মাংস সর্বোচ্চ এক মাস ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যাবে।

ফ্রিজে রাখার আগে

ফ্রিজের মধ্যে বাক্সের থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগেই মাংস রাখা উচিত। চর্বিসহ মাংসগুলো আলাদা রাখাই ভালো। ফ্রিজে রাখার আগে, ধোয়ার পর পানি ভালো করে ঝরিয়ে নিন। না হলে অনেক দিন রেখে দিলে মাংস নষ্ট হয়ে যাবে।

ইলেকট্রিসিটি না থাকলে

মাংস ফ্রিজে রাখার এক সপ্তাহের মধ্যে বাসায় ইলেকট্রিসিটি না থাকলে খুব একটা ফ্রিজ খুলবেন না। এতে মাংস শক্ত হওয়ার আগেই বাতাস লাগলে বেশি দিন ভালো থাকবে না।

৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট

৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার নিচে কাঁচা মাংস ৪ থেকে ৬ দিন রাখা যায়। এছাড়া জিরো ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার নিচে রাখলে গরুর কাঁচা মাংস ১২ মাস ভালো থাকবে।

প্যাকেটের গায়ে তারিখ লিখুন

মাংস ফ্রিজে রাখার আগে প্যাকেটের গায়ে তারিখ লিখে রাখুন। এতে মাংসগুলো কত দিন সংরক্ষণ করা হয়েছে সেটা সহজেই বোঝা যাবে।

তাপমাত্রা 

ফ্রিজে মাংস রাখার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ঠিক আছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ‘যেই তাপমাত্রায় মাংস সব সময় বরফ থাকবে সেই তাপমাত্রা সেট করে তারপর মাংস রাখতে হবে।

বড় বড় টুকরো

ফ্রিজে মাংস রাখার ক্ষেত্রে বড় বড় টুকরো করে রাখতে হবে। কারণ, ছোট টুকরোতেও অনেক সময় পানি ও রক্ত জমে থাকে।’

রক্ত, চর্বি, পানি 

মাংস ফ্রিজে রাখার আগে অবশ্যই মাংস থেকে রক্ত, চর্বি, পানি পরিষ্কার করে নিতে হবে। ‘এগুলো থাকলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।

প্লাস্টিকের ব্যাগ 

মাংস অবশ্যই প্লাস্টিকের ব্যাগে বা অ্যালমোনিয়াম ফয়েলে রাখতে হবে। ‘প্লাস্টিকের ব্যাগ বা অ্যালমোনিয়াম ফুয়েলে রাখলে বাতাস থাকে না। বাতাস ঢুকলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।’

রান্না করা ও কাঁচা মাংস

রান্না করা ও কাঁচা উভয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি একরকম। তবে এগুলোও শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইটে ডিপ ফ্রিজে এক বছর রাখা যাবে। তবে স্বাদ, পুষ্টিগুণ থাকবে না।

তবে পুষ্টিগুণের কথা চিন্তা করতে হলে অবশ্যই মাংস এক মাসের মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২২, ২০২১ ১:০৮ অপরাহ্ন
ট্যানারি গুলোতে চামড়ার সংকট হবে না
প্রাণিসম্পদ

কোরবানির ঈদের পর সাভারে সরব হয়ে উঠেছে বিসিক শিল্প নগরী ট্যানারি। দূরদূরান্ত থেকে কাঁচা চামড়া আসা শুরু হয়েছে এখানে। গত বারের মতো এবারও ট্যানারি মালিকরা নিজেদের ব্যবস্থাপনাতেই চামড়া কিনছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক সাখওয়াত উল্লাহ জানান, গতকাল (২১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকেই ট্যানারি গুলোতে কাঁচা চামড়া আসা শুরু হয়েছে। গত বছরের ন্যায় এবারও ৮০ লাখ গবাদি পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এবারের কোরবানির ঈদে।

তিনি জানান, সরকারের বেঁধে দেয়া দামের মধ্যেই এবার তারা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। চামড়া পরিবহনের বিষয়টি আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনের আওতামুক্ত রাখায় ট্যানারি গুলোতে চামড়ার সংকট হবে না বলেও জানান তিনি।

দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি গবাদি পশুর চামড়া ক্রয় করা হয়। যার ৮০ ভাগ চামড়াই সংগ্রহ করা হয়ে থাকে কোরবানির ঈদকে ঘিরে।

এদিকে ট্যানারি শিল্প কারখানা ঘিরে সাভারের আমিনবাজার সহ কারখানার আশেপাশে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু চামড়ার আড়ত। মৌসুমি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে গুণগত মান অনুযায়ী তা লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করছেন তারা। সুবিধাজনক দামে এসব আড়ত থেকেই পরবর্তীতে চামড়া সরবরাহ করা হবে ট্যানারি শিল্প কারখানাগুলোতে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৯, ২০২১ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
গবাদিপশু কৃমিমুক্ত রাখার উপায়
প্রাণিসম্পদ

আমাদের দেশে বর্তমানে গবাদিপশু পালন লাভজনক কাজ। পাশাপাশি বেকার সমস্যা সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তা এ কাজে অনেক শিক্ষিত যুবকরা আগ্রহী হচ্ছেন। কিন্তু আমাদের খামারিরা গবাদিপশু পালন করতে গিয়ে পরজীবী কিংবা কৃমির সমস্যায় পড়ছেন।

কৃমি এক ধরনের পরজীবী। যা পশুর ওপর নির্ভর করে জীবন ধারণ করে। তারা পশুর অন্ত্রে, ফুসফুসে, লিভারে, চোখে, চামড়ায় বাস করে ও পশুর হজমকৃত খাবারে ভাগ বসিয়ে পশুর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। অনেক কৃমি পশুর রক্ত চুষে ও আমিষ খেয়ে পশুকে দুর্বল ও স্বাস্থ্যহীন করে দেয়।

গবাদিপশুর পরজীবী বা কৃমি সাধারণত দুই ধরনের। এগুলো হচ্ছে দেহের ভেতরের পরজীবী ও দেহের বাইরের পরজীবী। কৃমি বা পরজীবী আমাদের গবাদিপশু পালনের প্রধান শত্রু। কৃমি বা পরজীবীগুলো হচ্ছে কলিজাকৃমি, পাতাকৃমি, গোলকৃমি, রক্তকৃমি, ফিতাকৃমি, প্রটোজয়া ও বিভিন্ন ধরনের বহিঃপরজীবী উঁকুন, আঠালী, মাইট ইত্যাদি গবাদিপশুকে আক্রান্ত করে।

কৃমির কারণে গাভীর দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায় অস্বাভাবিকভাবে। পাশাপাশি বাছুরগুলো পেট ফুলে গিয়ে স্বাস্থ্যহীন হয়ে পড়ে। ফলে দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর কারণে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস গবাদিপশুকে আক্রান্ত করার পরিবেশ তৈরি করে।

গবাদিপশুকে কৃমি বা পরজীবী থেকে মুক্ত রাখার উপায় জেনে নিন এবার-
গবাদিপশুর বাসস্থানের জন্য নির্ধারিত স্থানের মাটি শুষ্ক ও আশপাশের জমি থেকে উঁচু হওয়া প্রয়োজন। সম্ভব হলে নদীনালা, খালবিল, হাওর-বাঁওড় থেকে দূরে করতে হবে।

পশুর মলমূত্র ও আবর্জনা অল্প সময় পরপর পরিষ্কার করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ঘরে মলমূত্র ও আবর্জনা জমা না থাকে।

তিন মাস অন্তর গবাদিপশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।

গবাদিপশুর খামারের আশপাশে যেন বৃষ্টির পানি এবং অন্যান্য বর্জ্য জমে না থাকে।

খামারের জন্য নির্ধারিত স্থানের মাটিতে বালির ভাগ বেশি হওয়া প্রয়োজন যেন বর্ষাকালে খামারের মেঝে কর্দমাক্ত না হয়।

খামারের অনেক দূরে পশুর মলমূত্র ও আবর্জনা পুঁতে রাখতে হবে।

গবাদিপশুর বাসস্থান প্রতিদিন আদর্শ ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে এবং জীবাণুনাশক মেশানো পানি দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

কলিজাকৃমি, পাতাকৃমি, গোলকৃমি, রক্তকৃমি, ফিতাকৃমি দ্বারা আক্রান্ত পশুকে অ্যালবেনডাজল ইউএসপি ৬০০ মি.গ্রা., হেক্সাক্লোরোফেন ইউএসপি ১ গ্রাম, লিভামিসোল হাইড্রোক্লোরাইড বিপি ৬০০ মি.গ্রা. এবং ট্রাইক্লাবেন্ডাজল আইএনএস ৯০০ মি.গ্রা. জাতীয় ওষুধ ভালো কাজ করে। কর্কসিডিয়াতে সালফোনামাইডস, স্ট্রেপটোমাইসিন ও মেট্রোনিডাজল ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ট্রিপানোসোমা ও ব্যাবেসিওসিস তে ব্যাবকপ খাওয়ালে রোগ ভালো হয়।

উঁকুন, আঠালী ও মাইটে আক্রান্ত গবাদিপশুর শরীরে আইভারমেকটিন, সেভিন, নেগুভান ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার করলে এসব পরজীবী থেকে গবাদিপশুকে রক্ষা করা যায়।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৯, ২০২১ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
গর্ভবতী গাভীকে খাদ্য প্রদানে যেসব বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে
প্রাণিসম্পদ

গাভী গর্ভবতী হলে খাদ্য প্রদানে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে সেগুলো খামারিদের ভালোভাবে জেনে রাখতে হবে। লাভজনক হওয়ার কারণে দিন দিন গাভী পালনে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকেই। গাভী পালনকালে গর্ভবতী অবস্থায় বেশি যত্ন নিতে হয়। আজকে আমরা জানবো গাভী গর্ভবতী হলে খাদ্য প্রদানে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে সেই সম্পর্কে-

১। গর্ভবতী গাভীকে খাদ্য প্রদানে এমনভাবে খাদ্য প্রদান করতে হবে যাতে গাভীর দৈনিক খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়। সম্ভব হলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর গাভীকে খাদ্য প্রদান করতে হবে। এতে গাভী সুস্থ-সবল থাকবে ও বাচ্চাও পরিপুষ্ট হবে।

২।  গাভীকে   যতটা সম্ভব নরম ও তরল জাতীয় খাদ্য বেশি খাওয়াতে হবে। শুকনো খাদ্য প্রদানের পাশাপাশি নরম ও তরল খাদ্য প্রদান করলে গাভীর খাদ্য হজমে সমস্যা দেখা দিবে না এবং গাভী সুস্থ থাকবে।

৩।  গাভীকে খাদ্য প্রদানের সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে গাভীর খাদ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদন বিদ্যমান থাকে। গর্ভবতী থাকা অবস্থায় গাভীর শরীরে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টির দরকার হয়। এছাড়াও গাভীকে পুষ্টিকর খাদ্য গাভীকে প্রদান করলে গর্ভের বাচ্চা সুস্থ ও সবল থাকে।

৪। গর্ভধারণ করা গাভী বেশি দুর্বল হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গাভীর খাদ্য প্রদান করতে হবে। এছাড়াও গাভীকে সবল রাখার জন্য খাদ্যের সাথে অতিরিক্ত উপাদান মিশ্রিত করে গাভীকে খাওয়াতে হবে।

৫। গর্ভবতী গাভীকে কাঁচা ঘাস খাওয়াতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। গাভীকে নিয়মিত কাঁচা ঘাস খাওয়ালে গাভীর প্রয়োজনীয় সকল ভিটামিন ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। এছাড়াও গাভী আরও বেশি শক্তিশালী হবে। ফলে বাচ্চা প্রসবের সময় তেমন কোন জটিলতা দেখা দিবে না।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৮, ২০২১ ৮:৫৬ অপরাহ্ন
কোরবানির পশুর যত্ন যেভাবে নিবেন
প্রাণিসম্পদ

পবিত্র কোরবানির আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি।  এরই মধ্যে পশুর বাজার জমে উঠেছে। অনেকে ঘুরে ঘুরে পছন্দ করছেন আবার কেউ কেউ কিনে ফেলেছেন। কোরবানির পশু আগে ভাগে কেনা ভালো। পশুর যত্ন ও পরিচর্যা নেয়া যায়। এর ফলে পশুর সঙ্গে কোরবানি দাতার একটা হৃদ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। যা ভালোবাসা ও মায়ার রূপ নেয়।

কোরবানির পশুর যত্ন ও পরিচর্যায় কোরবানি দাতার সঙ্গে পশুর একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। পশুর প্রতি কোরবানি দাতার ভালোবাসা ও মায়া জন্ম নেয়। সুতরাং কোরবানির (পশু হাট বা বাড়ি থেকে) কেনা থেকে শুরু করে কোরবানি করার আগ পর্যন্ত নানা ধাপে কষ্ট না দিয়ে পশুর যত্ন ও পরিচর্যা নেয়া আবশ্যক। কারণ এ পশু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে তারই নামে উৎসর্গ করা হবে।

কেনার সময় থেকে জবাই করা পর্যন্ত নানা ধাপে পশুর যত্ন ও পরিচর্যা নিতে হবে। হাট থেকে পশু কেনার পর বাসা দূরে হলে পিকআপ ভ্যানে করে আনাই ভালো। সাধারণত হাটবাজারে ব্যবসায়ীরা পশুকে পর্যাপ্ত খাদ্য দেয় না। যার কারণে পশু এমনিতেই কিছুটা দুর্বল থাকে। আবার অনেক পশু হাঁটায় অভ্যস্ত থাকে না। এই অবস্থায় হাঁটিয়ে আনা হলে পশুর কষ্ট বেড়ে যায়। তাই পিকআপভ্যানে আনাই উত্তম।

ভুষি, খৈল, গাছের পাতা, ঘাস ও খড় আগে থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রস্তুত রাখতে হবে। এই সময়ে পশু ক্ষুধার্ত থাকে। হাঁটিয়ে আনলে পিপাসা ও ক্ষুধা আরও বৃদ্ধি পায়। তাই বাসায় আনার পরপর পশুকে খাদ্য ও পানীয় দিতে হবে।

পশুর গায়ে ময়লা থাকলে তাই বাসায় আনার পরে গোসল করানো উচিত। পশুর গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করা যায়। পশুর প্রতি মমত্ববোধ ইসলামের শিক্ষা। কোরবানির পশুর প্রতি আরও বেশি মমত্ববোধ থাকা জরুরি। এই পশু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করা হবে। আল্লাহর সামনে নিজের প্রিয় জিনিস উৎসর্গ করাই উত্তম। কেননা আল্লাহ তায়ালা বান্দার অন্তরের অবস্থা দেখেন।

পশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে, শান্ত-শীতল পরিবেশে রাখতে হবে। স্যাঁতসেতে, অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা স্থানে না রাখা যাবে না। প্রতিদিন পশুর মলমূত্র ও উচ্ছিষ্ট খাবার পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা। পরিবেশ যেন দূষিত না হয়।

কোরবানির দিন ঈদের জামাতে যাবার আগে সকাল সকাল পশুকে গোসল করানো উচিত। যাতে গায়ে লেগে থাকা ময়লা-গোবর ইত্যাদি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

জবাই করার জন্য পশু শোয়ানোর সময় খুব বেশি ধস্তাধস্তি করা ঠিক নয়। কৌশলে যত্নের সঙ্গে শুইয়ে দেওয়া। শোয়ানোর পর দেরি না করে দ্রুত জবাই করা। পশু জবাই করার ক্ষেত্রেও বিশেষ যত্ন জরুরি। জবাই করার জন্য ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে হবে। জবাইয়ের আগেই ছুরি ভালোভাবে ধারিয়ে নিতে হবে।

জবাইয়ের সময় যতটা সম্ভব পশুর প্রতি সহমর্মী থাকা ও সহজে জবাই করার চেষ্টা করা। এক পশুর সামনে অন্য পশুকে জবাই না করা। এতে জীবিত পশুর মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় সৃষ্টি হয়। পশু কষ্ট পায়।

জবাই করার সময় মাথাকে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা মাকরুহ। এতে পশুকে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেওয়া হয়। জবাইয়ের পরপরই চামড়া খসানোর জন্য তাড়াহুড়া করা ঠিক হবে না। পশু নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো উচিত নয়।

সর্বোপরি কোরবানির পশুকে কোনো প্রকার কষ্ট না দেওয়া। পশুর প্রতি সদয় ও দয়াবান হয়ে আল্লাহর নির্দেশ পালন করা এবং কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই কাজটা করছি তা মনে প্রাণে দৃঢ় রাখতে হবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop