১:৩১ অপরাহ্ন

শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ৭, ২০২১ ১:১২ অপরাহ্ন
করোনায় লোকসানের শঙ্কা
প্রাণিসম্পদ

একদিকে হাটে গেলে জনসমাগমের মধ্যে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ভয়, অন্যদিকে এবারও বছরজুড়ে লালন–পালন করা গরু অথবা ছাগলটি বিক্রি করতে না পারলে লোকসানের শঙ্কা। কোরবানির পশুহাটে কেনাবেচা নিয়ে এমন উভয় সংকটে পড়ার কথা জানিয়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

এর মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার করমজা হাটে জনসমাগমের যে চিত্র দেখা গেছে, তাতে হাটে যাওয়া ব্যক্তি ও তাঁদের মাধ্যমে অন্যদেরও করোনায় সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য জারি করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। তবে কোরবানির পশুহাটে সে বিধিনিষেধের আওতায় থাকা স্বাস্থ্যবিধি ছিল উপেক্ষিত।

করমজা পশুহাটে গতকাল ভিড় ছিল উপচে পড়া। হাট কমিটির পক্ষ থেকে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা খুব একটা কাজে লাগাতে দেখা যায়নি। এই পশুহাট উত্তরাঞ্চলের বড় হাটগুলোর মধ্যে অন্যতম। হাট ঘুরে অনেক কোরবানির পশু আমদানি দেখা গেলেও বেচাকেনা ছিল কম।

হাটে সাঁথিয়া উপজেলার শহীদনগর গ্রামের রইজউদ্দিন জানান, এক বছর ধরে তিনি বাড়িতে দুটি ষাঁড় লালন-পালন করেছেন। সকালে হাটে নিয়ে এলেও বেলা ১টা পর্যন্ত ২টির দাম ওঠে মাত্র ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অথচ সপ্তাহখানেক আগে ব্যাপারীরা বাড়িতে গিয়ে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছিলেন।

সাঁথিয়ার ইউএনও এস এম জামাল আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনার জন্য হাট কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গাইবান্ধা জেলায় সাড়ে ১২ হাজারের বেশি খামারি এবার গরু বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭টি উপজেলায় ১২ হাজার ৬৭৭টি বাণিজ্যিক পশুখামার আছে। এসব খামারে ৯০ হাজার গরু আছে। এসব গরু লালন-পালন করে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে বড় খামারে ৩৮ হাজার এবং ছোট খামারে ৫২ হাজার গরু প্রস্তুত আছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৭, ২০২১ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
পঙ্গুত্বের কাছে হার না মানা সফল খামারি রুহুল
পোলট্রি

সফলতার জন্য লাগে ইচ্ছা শক্তি আর প্রবল মনোবলের সাথে লেগে থাকার বাসনা। আর তেমনি একজন সফল উদ্যোক্তা খামারি শারীরিক প্রতিবন্ধী রুহুল আমিন। পঙ্গুত্ব মানেই যে অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে চলা না তা বুঝিয়ে দিয়েছেন পঙ্গু তথা শারীরিক প্রতিবন্ধী রুহুল আমিন। ৮ বছরের ব্যবধানে চারটি খামার করে ১১ হাজার সোনালী জাতের মুরগির মালিক হয়েছেন বগুড়ার এই প্রতিবন্ধী। এছাড়া খামারে দেখভালের জন্য রয়েছেন তিন কর্মচারিও।

জানা যায়, করোনার আগে প্রতি হাজার মুরগি বিক্রি করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হতো। বর্তমানে ব্যবসা নিয়ে শঙ্কিত তিনি। গত দেড় বছরে তার প্রায় ৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। ৭ বছর বয়সে ভুল চিকিৎসায় দুই পা পঙ্গু হয়ে যায় রুহুলের। এরপর থেকেই জীবন নিয়ে সংগ্রাম শুরু হয় তার। নিজ সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তবে ব্যবসা করতে না পারলে তার সে স্বপ্ন হয়তো অধরাই থেকে যাবে।

রুহুলের মুরগির খামারে পরম মমতা সহকারে মুরগি লালন-পালন করা হয়। তিনি নিজেও যেমন মুরগির যত্ন নেন, কর্মচারিরাও তেমনি যত্নের সাথে মুরগির পরিচর্যা করেন। করোনার কারণে মুরগির দাম কমে গেছে। যদিও খুচরা বাজারে লকডাউনের দোহাই দিয়ে বরং দাম বেশিই রাখা হয়। তবে সেসব সুবিধা খামারিরা পান না।

কারও কাছে হাত পেতে নয়, বরং স্বাবলম্বি হয়ে- মাথা উঁচু করেই বেঁচে থাকতে চান তিনি। মুরগির খামার করেই বাকি জীবন কাটানোর ইচ্ছে তার। তাই লোকসান কাটিয়ে স্বচ্ছলতা ফেরাতে সরকারের কাছে সহজ শর্তে ঋণ চান রুহুল আমিন।

এগ্রিভিউ/ এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৭, ২০২১ ৯:৩০ পূর্বাহ্ন
দেশি গরু চিনার উপায়
প্রাণিসম্পদ

সাধারণভাবে দেশি গরু বিদেশি জাত বা সংকর জাতের চেয়ে আকারে কিছুটা ছোট হয়। দেশি জাতের গরুর শরীরে চর্বি কম থাকে। মাংসে স্বাদ বেশি হয়, কিন্তু দুধের পরিমাণ বিদেশী গরুর তুলনায় কম হয়। কোরবানির সময় মানুষ সাধারণত বেশি মাংস হবে এমন জাতের গরু খোঁজে। কিন্তু যেহেতু দেশি জাতের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, ফলে দেশি জাত কিভাবে চেনা যায়, সে প্রশ্ন অনেকের।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল নিউট্রিশন, জেনেটিক্স ও ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক লামইয়া আসাদ বলেছেন, দেশি গরু চেনার উপায় হচ্ছে দেশি জাতের গরুর চামড়া শক্ত থাকে। এছাড়া এর কুঁজ থাকে এবং গলার নিচে চামড়ার ভাঁজ কম থাকে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন বিভাগের পরিচালক ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার জানিয়েছেন, দেশি জাতের যেসব গরু বাজারে জনপ্রিয়, তার মধ্যে মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম, চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের এলাকার আরসিসি, পাবনা ক্যাটল, সিরাজগঞ্জের ব্রিড নামে পরিচিত গরুগুলো উল্লেখযোগ্য।

এসব প্রজাতির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে চলুন কিছুটা জেনে নেয়া যাক:

মীরকাদিমের ধবল গাই
এক সময় ঢাকার পুরনো অংশের বাসিন্দাদের কাছে মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিমের ধবল গাই ছিল খুব জনপ্রিয়। এখন কেবল পুরনো ঢাকা নয়, নগরকেন্দ্রিক ঈদের হাটে কোরবানির জন্য এই গরুর চাহিদা ব্যাপক। এটি আকারে সাধারণ গরুর চেয়ে বড়।

অধ্যাপক লামইয়া আসাদ বলেছেন, এই গরুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি সাধারণত সাদা রংয়ের হয়।

কখনো এর সঙ্গে তার গায়ে অল্প ছাই রং বা কালোর ছোপ থাকতে পারে। এটি পালন সহজ, মানে খাবারের খরচ কম। খৈল, গম, মসুর ডালের ভুসি এবং ভুট্টা গুঁড়ার মত খাবার দিয়ে পালন করা যায়। মীরকাদিমের গরুর মাংসে আঁশ কম থাকে, এর হাড় চিকন হয়। ফলে মাংস হয় নরম ও তেলতেলে।

তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, দেশে মীরকাদিম ভালো জাতের ষাঁড়ের সংকট আছে, যে কারণে এই জাতের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ধীরে হচ্ছে। ভালো জাতের এবং সরাসরি আত্মীয় নয় এমন ষাঁড়ের বীজ নিয়ে সংকরায়নের চেষ্টা করছে সরকার।

আরসিসি বা রেড চিটাগাং ক্যাটল
এই গরুর গায়ের রং লাল। এর ক্ষুরা মানে পায়ের রংও লাল। এটি আকারে বেশি বড় হয় না। এর কুঁজ ছোট আকারের হবে। এই গরু পালনে খাবার কম লাগে। দেশি আবহাওয়া সহনশীল বলে খামারিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় এই গরু। মূলত এই জাত চট্টগ্রাম এবং এর আশেপাশের জেলায় বেশি উৎপাদন হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সরকার বলেছেন, সরকার যেসব দেশি জাত নিয়ে গবেষণা করছে, তার মধ্যে এই আরসিসিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, এটি কেবল চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলা নয়, দেশের অন্য যেকোন জায়গাতেই এই গরু পালন করা সম্ভব। সে কারণে এই জাত উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে শুধু আরসিসি জাতের গরু নিয়ে সরকার একটি খামার করেছে, যার মাধ্যমে আসছে বছরগুলোতে বাজারে আরো দেশি গরু সরবারহ সম্ভব হবে বলে মনে করেন ডা. সরকার।

পাবনা ক্যাটল
এটি পাবনা ব্রিড নামেও পরিচিত। এই জাতের গরুর বড় অংশটির রং সাদা বা সাদা মেশানো ছাই রং। এছাড়া লাল, ধূসর বা মিশ্র বর্ণেরও হয় এসব গরু। দেশীয় আবহাওয়া সহনশীল এসব গরু পালনে খাবার কম লাগে।

বাংলাদেশের জাতীয় তথ্য বাতায়নে পাবনা ক্যাটল সম্পর্কে বলা হয়েছে, পাবনার চলনবিল সংলগ্ন এলাকায় এই গরুর বাস। এটি খর্বকায় মানে বেশি বড় আকৃতির নয়। এদের স্বাস্থ্য সুঠাম, রোগব্যাধি কম হয়। এটি ঘাস খায়, এর বাইরে অন্য ধরনের খাবার কমই দিতে হয়। দেশে দুধের উৎপাদন বাড়াতে ফ্রিজিয়ান গরুর সাথে এর কৃত্রিম প্রজনন করা হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে।

সিরাজগঞ্জ ব্রিড
এই জাতের গরু মূলত পদ্মাপারের কয়েকটি জেলায় হয়ে থাকে। এই জাতের গরুর সঙ্গে পাবনা ক্যাটলের সাদৃশ্য রয়েছে।

তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি পাবনা ক্যাটলের চেয়ে আকারে কিছুটা বড় হয়। এর কুঁজ উঁচু ও বলিষ্ঠ হয়।

এসব জাত ছাড়াও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাংসের চাহিদা মাথায় রেখে শাহীওয়াল এবং ব্রাহমা জাতের গরুর সাথে সংকরায়ন করে আরো কিছু জাতের প্রজনন ঘটানো হয়েছে, যেগুলো কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের মন জয় করেছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৬, ২০২১ ৮:৪৭ অপরাহ্ন
কোরবানিতে যেভাবে জনপ্রিয় দেশি জাতের গরু 
প্রাণিসম্পদ

বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা আসছে আর কয়েকদিন পরেই, যা কোরবানির ঈদ নামেও পরিচিত। এই ঈদকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বহু খামারি বছর জুড়ে পশু পালন করেন। আর ঈদের বাজারে গিয়ে ক্রেতাও নাদুসনুদুস ও দশাসই আকারের গরুই খোঁজেন। যে কারণে স্থানীয় খামারিরা সাধারণত বিদেশি জাতের দ্রুত বর্ধনশীল গরু বেছে নেন।কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে দেশি জাতের গরুর চাহিদা বেড়েছে।

এদিকে, সরকারও দেশি গরুর নানা জাত নিয়ে গবেষণা করছে, যাতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে এসব জাতের গরুর উন্নয়ন ও সংখ্যা বাড়ানো যায়।

দেশি গরুর চাহিদা কিভাবে বেড়েছে?
বাংলাদেশে যত পশু কোরবানি হয়, একটা সময় তার বড় অংশটি আসতো প্রতিবেশী ভারত থেকে। কিন্তু ২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে গরু আসা বন্ধে সীমান্তে কড়াকড়ি করা হয়। সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে এক পর্যায়ে বাংলাদেশে দেশীয় পর্যায়ে মাংসের চাহিদা পূরণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার জানিয়েছেন, সেসময় দেশীয় মাংসের চাহিদা পূরণে বিশেষ করে কোরবানির সময়কার চাহিদা পূরণে সরকার ব্যাপকভাবে দেশীয় গরুর জাত উন্নয়নে মনোযোগ দেয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘বিফ ক্যাটল ডেভেলপমেন্ট’ নামে একটি প্রকল্প রয়েছে যার মাধ্যমে ভিন্ন জাতের উচ্চ-ফলনশীল গরুর সাথে দেশি জাতের গরুর সংকরায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ডা. সরকার বলেছেন, সরকারি গবেষণাগারে গবেষণায় মাংস এবং দুধের পরিমাণ দুই-ই বাড়ানোর দিকে জোর দেয়া হচ্ছে।একই সাথে গত দুই দশকে দেশে কৃষি খামারের সংখ্যা অনেক বেড়েছে, যেখানে দেশি জাতের গরু উৎপাদন করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৬, ২০২১ ৬:০৬ অপরাহ্ন
বিমানবন্দরে আটক মার্কিন গরু, নেয়া হয়েছে কোয়ারেন্টিনে
প্রাণিসম্পদ

অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিয়ে আসায় সাদেক এগ্রোর ১৮টি ব্রাহমা গরু শাহজালাল বিমানবন্দর কাস্টমস থেকে আটক করে সাভার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) কাস্টমস থেকে সাভার কোয়ারেন্টিনে নেওয়া গরুর মধ্যে ষাঁড়, গাভী ও বকনা রয়েছে বলে জানায় অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে সাদেক এগ্রোর স্বত্বাধিকারী ইমরান হোসাইন জানান, মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে ৭ থেকে ৮ মাস আগে অনুমতির জন্য আবেদন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরইমধ্যে আমেরিকা থেকে না জানিয়েই গরুগুলো বুকিং দেওয়া হয়।

সাভার প্রধান প্রাণি প্রজনন ও ডেইরি ফার্মের পরিচালক এস এম আউয়াল হক জানান, এক বছর ধরে দেশে ব্রাহমা জাত সম্প্রসারণ বন্ধ। দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহমা জাত নিয়ে আসা অবৈধ। এ বিষয়ে মামলা হবে, আদালত এর রায় দেবে বলে জানান তিনি।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৬, ২০২১ ১:৫৯ অপরাহ্ন
মানিকগঞ্জের সাহেবের দাম ৩০ লাখ!
প্রাণিসম্পদ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ নয়াপাড়া গ্রামে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ৪০ মণ ওজনের একটি ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন খামারি নোমাজ আলী। তিনি গরুটির জন্য ৩০ লাখ টাকা দাম হাঁকাচ্ছেন। গত চার বছর ধরে ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টি লালন-পালন করছেন তিনি।

নোমাজ আলীর বড় ছেলে জানান, সাহেবের খাবারের মেন্যুতে আমরা প্রতিদিনই ‘সাহেবি’ খাবার পরিবেশন করে থাকি। মাল্টা, পেয়ারা, কলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফল নিয়মিত খাওয়াচ্ছি। দিনে কয়েকবার গোসল করাতে হয়। স্বাস্থ্যের দিক চিন্তা করে তিনটি ফ্যান সবসময় চালু রাখা হয়েছে। সাহেবি আচরণ, বড় আকার ও বেশি ওজন হওয়ায় পরিবারের সবার সম্মতিতে তার নাম দিয়েছি ‘মানিকগঞ্জের সাহেব’।

ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছেন নোমাজ আলীর বাড়িতে। কেউ সেলফিসহ ছবি তুলে আপলোড দিচ্ছেন ফেসবুকে।

ষাঁড়ের মালিক নোমাজ আলী জানান, গত চার বছর ধরে ষাঁড়টি লালন-পালন করে আসছি। গত বছরও বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু করোনা ও বন্যার কারণে ভালো দাম পাইনি। এখন তো লকডাউন চলছে। দুশ্চিন্তায় আছি কী হবে? এই ষাঁড়টি আকারে জেলার সবচেয়ে বড়। স্থানীয় পশু চিকিৎসক শামীম মোল্লার পরিমাপ অনুযায়ী ষাঁড়টির ওজন ৪০ মণ। দাম চাচ্ছি ৩০ লাখ টাকা। তবে বাড়ি থেকে কিনলে কিছু কমেও বিক্রি করবো।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন জানান, ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টি আমি দেখেছি। আকারে অনেক বড়। তবে তা ওজনে ৪০ মণ নাও হতে পারে। আমি আমার কার্যালয় থেকে লোক পাঠিয়েছি ষাঁড়টির সঠিক পরিমাপ করার জন্য। নোমাজ আলীর মতো জেলার অনেকেই বড় বড় ষাঁড় লালন-পালন এবং ঈদুল আজহায় বিক্রি করে থাকেন।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৬, ২০২১ ১:১০ অপরাহ্ন
প্রাইভেট কারে তুলে গরু চুরির চেষ্টা!
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানিতে চারদিকে গরু-ছাগলের জমাট। এরই মাঝে বিভিন্নভাবে চুরি হচ্ছে গবাদি পশু। এবার অভিনব কায়দায় গাজীপুরে প্রাইভেট কারে তুলে চারটি গরু চুরির চেষ্টা হয়েছে। এছাড়া মৃত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (০৫ জুলাই) ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার দিকে টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার ওয়ান ব্যাংক শাখার পেছন থেকে তাদের আটক করা হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃতরা হলেন- জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানার আউচপাড়া এলাকার আলেক শেখের ছেলে ছেলে দুলাল (৪০) ও একই এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আহমেদ উল্লাহ (৪৫)।

ওসি শাহ আলম বলেন, প্রাইভেট কারে গরু নিয়ে পালানোর সময় একটি গরু মারা যায়। সেটিকে সড়কের পাশ থেকে তুলে নিয়ে যান আটক ওই দুই ব্যক্তি। সকাল ৮টার দিকে এরশাদনগর ওয়ান ব্যাংক শাখার পেছনে নিয়ে মৃত গরুটি জবাই করে বিক্রি করেছিলেন তারা। খবর পেয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় গরুর মাংসগুলো জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

গাজীপুর সিটি পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ জানান, সোমবার ভোরে গাজীপুরা বাঁশপট্টি এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চেকপোস্টে সন্দেহভাজন একটি প্রাইভেট কারকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। কারটি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খায়। এ সময় গাড়ি থেকে দুইজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।

“পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাইভেট কার থেকে ছোট চারটি গরু উদ্ধার করে। তার মধ্যে একটি গরু ঘটনাস্থলে মারা যায়। মৃত গরুটি সড়কের পাশে রাখা হয়েছিল। সেটা তুলে নিয়ে বিক্রির অভিযোগে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ সোমবার দুপুরে দুইজনকে আটক করে।”

এগ্রিভিউ/ এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৬, ২০২১ ১২:২৫ অপরাহ্ন
কোরবানির পশু বহনে চালু হচ্ছে ‘ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন’
প্রাণিসম্পদ

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজধানীর কোরবানির পশুহাটে বিক্রয়ের জন্য আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ জুলাই বিশেষ ট্রেন ‘ক্যাটল স্পেশাল’ ট্রেনের মাধ্যমে পশু ঢাকা স্টেশন পর্যন্ত পরিবহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

আজ মঙ্গলবার (৬ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শওকত জামিল মোহসি।

জানা যায়, মহামারি করোনায় কম খরচ আর নিরাপদে পশু পরিবহনের কথা চিন্তা করে গত বছর থেকে ‘ক্যাটল সার্ভিস’ নামে বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

গত বছর শুধু পশু পরিবহনের সুযোগ ছিল ময়মনসিংহ আর জামালপুর অঞ্চলের। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দেশের উত্তরাঞ্চলও। গত বছর দুটি ট্রেন চললেও এবার চলবে ছয়টি ট্রেন।

রাজধানীর তেজগাঁও রেলস্টেশনে নামানো হবে সেসব গরু। ঢাকায় হাট শুরু হলেই প্রতিদিন চলবে ৬টি করে ট্রেন। গরুপ্রতি খরচ পড়বে ৫০০ টাকা করে। ​একটি ট্রেনে ৪০০টি পর্যন্ত পশু পরিবহন করা যাবে।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৬, ২০২১ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রামে অনলাইনে চলছে গরু বিক্রির হিড়িক
প্রাণিসম্পদ

সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন। তবে আসন্ন কোরবানিকে কেন্দ্র করে খামারিদের মাঝে গরু বেচা-কেনার হিড়িক থাকলেও লকডাউন আর করোনায় যখন ভেঙে পড়া অবস্থা ঠিক তখনই জমে উঠেছে অনলাইনি বিক্রির হিড়িক।অনলাইনে পছন্দের কোরবানির পশু কিনে নিচ্ছেন। সরকারি ভাবেও এবার অনলাইনে কোরবানির পশু ক্রয়ে ক্রেতাদের উত্সাহিত করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে অনলাইনে ৩৫ হাজার কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। লকডাউনের কারণে ক্রেতারা বেশি সাড়া দিচ্ছে। আবার খামারিরাও বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে গত বছর অনলাইনে বেচাকেনায় বেশ কিছু প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। বিকাশে গরু বিক্রির টাকা নিয়ে পরে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এতে ক্রেতারা অনলাইনে পশু কেনা নিয়ে সর্তক রয়েছে।

খামারিরা জানান, ক্রেতারা অনলাইনে গরুর খবরাখবর নিচ্ছে। তারাও ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ইতিমধ্যে প্রচুর গরু বিক্রি হয়ে গেছে। খামারি নাজমুল হাসান বলেন, ‘এবার অনলাইনে বেশি সাড়া পাচ্ছি। আমার ২৮টি কোরবানির পশুর মধ্যে ১৬টি বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিটি গরু প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের।’ খামারি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘অনলাইনে ইতিমধ্যে ১২টি বিক্রি করেছি। ক্রেতারা যোগাযোগ করছে। আশা করি, বাকিগুলো বিক্রি হয়ে যাবে। কোরবানির হাটে নিতে হবে না।’

চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবার স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে ছয়টি কোরবানির পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসন। করোনার কারণে এসব হাটে পশু বিক্রি নিয়ে নানা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কোরবানির বাজার নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা সংশয় রয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত গরু পাওয়া যাবে কি না, নাকি গত বছরের মতো শেষ বাজারে গরুর সংকট দেখা দেবে- তা নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। গত বছর কোনো কোনো বিক্রেতা অনলাইনে দেখিয়েছেন বড় গরু, সরবরাহ করেছেন ছোট গরু।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রিয়াজুল হক জানান, অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনায় বেশ সাড়া পড়েছে। সামনে বিক্রি আরো বাড়বে। এবার বাজারে কোরবানির গরুর সংকট হবে না।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৬, ২০২১ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
অধিক ডিম ও মাংস উৎপাদনে দেশী মুরগি পালন করবেন যেভাবে
পোলট্রি

বাংলাদেশের গ্রাম এলাকায় প্রায় প্রতিটি পরিবার দেশী মুরগি পালন করে থাকে। এদের উৎপাদন ক্ষমতা বিদেশী মুরগির চেয়ে কম। উৎপাদন ব্যয়ও অতি নগণ্য। এটি অধিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। এদের মাংস ও ডিমের মূল্য বিদেশী মুরগীর তুলনায় দ্বিগুণ, এর চাহিদাও খুবই বেশী। দেশী মুরগির মৃত্যুহার বাচ্চা বয়সে অধিক এবং অপুষ্টিজনিত কারনে উৎপাদন আশানুরূপ নয়। বাচ্চা বয়সে দেশী মোরগ-মুরগির মৃত্যুহার কমিয়ে এনে সম্পূরক খাদ্যের ব্যবস্থা করলে দেশী মুরগি থেকে অধিক ডিম ও মাংস উৎপাদন করা সম্ভব।

উল্লেখিত অবস্থার আলোকে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশী মুরগি উৎপাদনে উন্নত কৌশল শীর্ষক প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে। এ কৌশল ব্যবহার করে খামারিরা দেশী মুরগি থেকে অধিক ডিম ও মাংস উৎপাদন করে পারিবারিক পুষ্টি ও আয় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।

উদ্দেশ্য:
সম্পুরক খাদ্য, রানীক্ষেত ও বসন্তের প্রতিষেধক প্রদান করে এবং বন্য জন্তুর কবল থেকে মুক্ত রেখে দেশী মুরগি, বিশেষ করে ছোট বাচ্চার মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা যায়।
দেশী মুরগির দৈহিক ওজন ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করা।

প্রযুক্তি ব্যবহারের পদ্ধতি:
প্রযুক্তিটি গ্রামীণ পর্যায়ে সকল গৃহস্থ পরিবারই ব্যবহার করতে পারবেন। খামারের আকার অনুযায়ী প্রত্যেক খামারীর জন্য মোরগ-মুরগির সংখ্যা

নিম্নে দেওয়া হলো-
খামারের আকার আবাদী জমির পরিমাণ (শতাংশ) মোরগ/মুরগি
ছোট ৫০ শতাংশ ১টি মোরগ ও ৩টি মুরগি
মাঝারী ও বড় ৫০ ও তার অধিক ১টি মোরগ ও ৬টি মুরগি

দেশীয় পদ্ধতিতে দেশি মোরগ পালন:
অনেকেই জানতে চেয়ে ছিলেন যে সল্প মূলধন দিয়ে কি ব্যবসা করা যায়। তাদের জন্য দেশি মোরগ হতে পারে একটি সময়পযোগি ব্যবসা। সল্প জায়গায় অল্প টাকা বিনিয়োগ করে সল্প সময়ে অধিক আয় করা যায়। বসত বাড়িতে মুরগি চাষ হচ্ছে একটি সহজ এবং লাভজনক কাজ। বাড়ির গৃহিণীরা খামার স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারে। একটি মোরগ একটি মুরগির তুলনায় দ্রুত বাড়ে আর বাজারে দেশি মোরগের প্রচুর চাহিদা থাকায় মোরগ বিক্রি করতে তেমন বেগ পেতে হয়না এবং বাজারে ভাল দাম ও পাওয়া যায়।

দেশি মোরগ আবদ্ধ ও ছেড়ে পালন করা যায়। তবে ছেড়ে পালন করলে বেশি লাভবান হওয়া যায় কারন মোরগ নিজের খাদ্য নিজে কুড়িয়ে খায়।এরা মুক্ত আলো বাতাস বিশেষ করে প্রচুর সূর্য কিরণে বেড়ে উঠে যা তাদের শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি করতে সাহায্য করে। এদের খাবারের জন্য তেমন কোন খরচ করতে হয় না।

মোরগ নির্বাচনঃ- দেশি মোরগ বা মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের জন্য তেমন কোন হ্যাচারি গড়ে ওঠেনি তাই নিজেকে ই দেখে শুনে সুস্থ সবল ও নিরোগ মোরগ সংগ্রহ করতে হবে। মূলত ৪০০-৬০০ গ্রামের মোরগ দিয়ে শুরু করলে ভাল ফলাফল আশা করা যায়। কারন ঐ সময়ের পর মোরগ গুলো দ্রুত বাড়ে এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যা পেলে ২ মাস পর মোরগ গুলোর গড় ওজন ২ কেজির উপর হবে। প্রতি কিলো দেশি মোরগের মূল্য কেমন আছে সেটা নাই বা বললাম। আপনারা নিজেরা লাভ-ক্ষতি বের করে নিন।

মুরগির ঘর তৈরির নিয়মঃ- মোরগের জন্য খোলামেলা ঘর হতে হবে। ১.৫ মিটার (৫ ফুট) লম্বা X১.২ মিটার (৪ ফুট) চওড়া এবং ১ মিটার (৩.৫ ফুট) উঁচু ঘর তৈরি করতে হবে। ঘরের বেড়া বাঁশের তরজা বা কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি করতে হবে। এছাড়া মাটির দেয়ালও তৈরি করা যাবে। বেড়া বা দেওয়ালে আলো বাতাস চলাচলের জন্য ছিদ্র থাকতে হবে। ঘরের চাল খড়, টিন বা বাঁশের তরজার সাথে পলিথিন ব্যবহার করে তৈরি করা যাবে। এরকম ঘরে ১০-১৫টি মোরগ পালন করা যায়।

খাবারঃ- বাড়ির প্রতিদিনের বাড়তি বা বাসী খাদ্য যেমন ফেলে দেওয়া এঁটোভাত, তরকারি,
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গম, ধান, পোকামাকড়, শাক সবজির ফেলে দেওয়া অংশ, ঘাস, লাতা পাতা, কাঁকর, পাথর কুচি ইত্যাদি মুরগি কুড়িয়ে খায়।

পরিচর্যাঃ- ছেড়ে পালন পদ্ধতিতে মুরগি পরিচর্যার জন্য সময় বা লোকজনের তেমন দরকার পড়ে না। তারপরও কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়। সকালে মুরগির ঘর খুলে কিছু খাবার দিতে হবে। সন্ধ্যায় মুরগি ঘরে ওঠার আগে আবার কিছু খাবার দিতে হবে। ঘরে উঠলে দরজা বন্ধ করে দিতে হবে।মুরগির পায়খানা ঘরের মেঝেতে যেন লেপ্টে না যায় সেজন্য ঘরের মেঝেতে ধানের তুষ, করাতের গুঁড়া ২.৫ সে.মি. (১ ইঞ্চি) পুরু করে বিছাতে হবে। পায়খানা জমতে জমতে শক্ত জমাট বেঁধে গেলে বারবার তা উলট-পালট করে দিতে হবে এবং কিছুদিন পর পর পরিষ্কার করতে হবে। এ পদ্ধতিতে দেশি মোরগ পালন করা গেলে প্রায় তেমন কোন খরচ ছাড়াই ভাল একটা মুনাফা পাওয়া যাবে।

দেশি মুরগি পালনে যত্ন নিতে হবে:
সাকুল্যে ৫-১০টি মুরগি। বাড়ির আশপাশে চরে বেড়িয়ে বাড়ির উচ্ছিষ্ট খাবার, পোকামাকড়, কেঁচো, কচি ঘাসপাতা খায় তারা। সে অর্থে প্রতিপালনের কোনও খরচ নেই বললে চলে। আপাতদৃষ্টিতে লাভজনক মনে হলেও আসলে অতটা লাভ হয় না। ছাড়া মুরগি অন্যত্র ডিম পেড়ে আসে, কখনও রোগে মারা যায়। তাই দেশি মুরগির পালন লাভজনক করতে হলে কিছু নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার, সে জাত নির্বাচনেই হোক বা রোগ পরিচর্যায়।

প্রথমে আসি মুরগির জাতে। ব্রয়লার খামারের হাইব্রিড মুরগি উঠোনে ছেড়ে পালন করা যায় না। তাই খাঁটি জাতগুলোকে বাছতে হবে। যেমন, রোড আইল্যান্ড রেড (আরআইআর) বা ব্ল্যাক অস্ট্রালর্প। রঘুনাথপুর, বালুরঘাটের রাজ্য মুরগি খামারে লাল বা আরআইআর এবং কালো বা ব্ল্যাক অস্ট্রালর্প মুরগির বাচ্চা পাওয়া যায়। ইদানীং কালে বনরাজা, গিরিরাজা, গ্রামরপ্রিয়া ইত্যাদি জাত কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হয়েছে।

মুরগি রাতে রাখার জন্য ঘর বানাতে হবে। মাটি থেকে সামান্য উপরে বাঁশ বা কাঠ দিয়ে কম খরচে খড় বা টালি ঢেকে তৈরি ঘরগুলো যেন শুকনো, পরিষ্কার হয়। আর আলো-বাতাস খেলে। প্রতিটি পাখির জন্য গড়ে তিন বর্গফুট জায়গা ধরতে হবে।

দেশি মুরগি চরে বেড়িয়ে তার খাবার সংগ্রহ করে নিলেও এ ধরনের উন্নত জাতের মুরগির পুরো উৎপাদন ক্ষমতা কাজে লাগাতে অল্প পরিমাণে সুষম খাবার দেওয়া প্রয়োজন। চালের গুঁড়ো (৩০০ গ্রাম), খুদ বা গম ভাঙা (২৮০ গ্রাম), সর্ষে/ তিল খোল ( ২০০ গ্রাম), মাছ বা সোয়াবিন গুঁড়ো (২০০ গ্রাম), ভিটামিন ও খনিজ লবণ মিশ্রণ যেমন সাপ্লিভিট এম (২০ গ্রাম) মিশিয়ে মুরগির সংখ্যা অনুযায়ী মাথা পিছু ৫০-৭০ গ্রাম হিসাবে অর্ধেক সকালে ও অর্ধেক বিকালে খেতে দিতে হবে। রাতে মুরগি রাখার যে ঘর আছে, সেখানে নির্দিষ্ট পাত্রে জল ও খাবার দিতে হবে। যাতে সকালে ঘর থেকে বেরনো বা পরে ঘরে ঢোকার সময় ওই খাবার ও জল খাওয়া অভ্যাস তৈরি হয়। এই অভ্যাস থাকলে ওষুধ গুলে খাওয়াতে সুবিধা হয়। মুরগির খাবার সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখতে হবে। বেশি দিন জমা রাখলে ছত্রাক সংক্রমণ ঘটে।

সংকরায়ণ পদ্ধতিতে দেশি মুরগির সঙ্গে উন্নত মোরগ রেখে প্রাকৃতিক প্রজনন ঘটিয়ে দেশি মুরগির জিনগত উৎকর্ষতা বাড়ানো যায়। প্রতি ১০টি দেশি মুরগি পিছু ১টি উন্নত জাতের মোরগ রাখতে হবে। যে সংকর মুরগি জন্মাবে, তা দেশি মুরগির চেয়ে দ্রুত (৪-৫ মাস বয়সে) এবং প্রায় দ্বিগুণ (বছরে ১২০-১৪০টি) ডিম দেবে।

রোগব্যাধি মুরগি পালনের অন্যতম সমস্যা। তাই নিয়মিত মুরগির ঘর চুন বা জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। প্রতি মাসে একবার করে কৃমিনাশক ওষুধ (পাইপেরাজিন তরল বয়স অনুযায়ী ০.৫-১ মিলি) জলে গুলে খাওয়াতে হবে। রানিক্ষেত বা বসন্তের মতো কয়েকটি সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাকরণ জরুরি। টিকা দেওয়ার দশ দিন আগে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। টিকাকরণ বিশেষত রানিক্ষেত টিকা ৭-১০ দিন বয়সে নাকে বা চোখে এক ফোঁটা, ৩০ দিন বয়সে আর এক বার, ২ মাস বয়সে প্রথম কৃমির ওষুধ এবং আড়াই মাস বয়সে ডানার তলায় ০.৫ মিলি ইঞ্জেকশন অবশ্যই নিতে হবে। ঝিমুনি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট, পাতলা বা রক্ত পায়খানা নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকট্রিম ডিএস বা সেপম্যাক্স (১টি বড়ি ১০টি বড় বা ২০টি বাচ্চা মুরগির জন্য) খাবারে বা জলে গুলে ড্রপারে করে খাইয়ে দিতে হবে (৩/৫/৭ দিন)।

দেশী মুরগি বাণিজ্যিকভাবে পালন:
দেশী মুরগি বানিজ্যিকভাবে পালন কৌশল আয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধানে দেশী মুরগী প্রতিপালন বিশেষ অবদান রাখতে পারে । আমরা সবাই বলে থাকি দেশী মুরগির উৎপাদন কম । কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ লক্ষ্য এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশী মুরগীর উৎপাদন দ্বিগুনের ও বেশী পাওয়া সম্ভব। দেশী মুরগি থেকে লাভ জনক উৎপাদন পওয়ায় বিভিন্ন কৌশল এখানে বর্ননা করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে দেশী মুরগির ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করে বাজারে বিক্রি করার চেয়ে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরী করে ৮-১২ সপ্তাহ বয়সে বিক্রি করলে লাভ বেশী হয়। এক সংঙ্গে ১০-১২ টি মুরগি নিয়ে পালন শূরু করতে হবে। তবে কখনও ১৫-১৬ টির বেশী নেওয়া ঠিক না । তাতে অনেক অসুবিধাই হয় । শুরুতে মুরগি গুলোকে কৃমি নাষক ঔষধ খাওয়ানোর পরে রানীক্ষেত রোগের টীকা দিতে হবে। মুরগির গায়ে উকুন থাকলে তাও মেরে নিতে হবে। প্রতিটি মুরগিকে দিনে ৫০-৬০ গ্রাম হারে সুষম খাদ্য দিতে হবে। আজকাল বাজারে লেয়ার মুরগির সুষম খাদ্য পাওয়া যায় । তা ছাড়া আধা আবদ্ধ এ পদ্ধতিতে পালন করলে লাভ বেশী হয়।

মুরগির সাথে অবশ্যই একটি বড় আকারের মোরগ থাকতে হবে। তা না হলে ডিম ফুটানো যাবে না । ডিম পাড়া শেষ হলে মুরগি উমে আসবে । তখন ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে হয়।এক সঙ্গে একটি মুরগির নীচে ১২-১৪ টি ডিম বসানো যাবে। খামারের আদলে বাঁশ, কাঠ খড়, বিচলী তাল নারকেল সুপারির পাতা দিয়ে যত কম খরচে স্থানান্তর যোগ্য ঘর তৈরী করা সম্ভব তা করা যায়। ঘর তৈরীর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সঠিক মাপের হয় এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে পারে । বানানোর পর ঘরটিকে বাড়ীর সব চেয়ে নিরিবিলি স্থানে রাখতে হবে । মাটির উপর ইট দিয়ে তার উপর বসাতে হবে। তাহলে ঘর বেশী দিন টিকবে ।

ফুটানোর ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষনঃ- আরেকটি প্রয়োজনীয় ̧গুরুত্বপূর্ন কাজ। ডিম পাড়ার পর ডিম সসংগ্রহের সময় পেন্সিল দিয়ে ডিমের গায়ে তারিখ লিখে ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষন করতে হবে। ডিম পাড়া শেষ হলেই মুরগি কুঁচো হবে। গরম কালে ৫-৬ দিন বয়সের ডিম এবং শীত কালে ১০-১২ দিন বয়সের ডিম ফুটানোর জন্য নির্বাচন করতে হবে।

দেশী মুরগি পালন কৌশলের বিশেষ নজর দেয়ার ধাপ সমূহ:
উমে বসানো মুরগির পরিচর্যা করতে হবে। মুরগির সামনে পাত্রে সবসময় খাবার ও পানি দিয়ে রাখতে হবে যাতে সে ইচ্ছে করলেই খেতে পারে । তাহলে মুরগির ওজন হ্রাস পাবেনা এতে বাচ্চা তোলার পর আবার তাড়াতাড়ি ডিম পাড়া আরম্ভ করবে।

ডিম বসানোর ৭-৮ দিন পর আলোতে রাতের বেলা ডিম পরীক্ষা করলে বাচ্চা হয় নাই এমন ডিম ̧লো চেনা যাবে এবং বের করে অনতে হবে। বাচ্চা হওয়া ডিম ̧লো সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন মুরগি বিরক্ত না হয়।
প্রতিটি ডিমের গায়ে সমভাভে তাপ লাগার জন ̈ দিনে কমপেক্ষ ৫-৬ বার ওলট পালট করে দিতে হবে।
বাতাসের আর্দ্রতা কম হলে বিশেষ করে খুব গরম ও শীতের সময় ডিম উমে বসানোর ১৮- ২০দিন পর্যন্ত কুসুম গরম পানিতে হাতের আঙ্গুল ভিজিয়ে পানি স্প্রে করে দিতে হবে।
*ফোটার পর ৫-৬ ঘন্টা পর্যন্ত মাকে দিয়ে বাচ্চাকে উম দিতে হবে। তাতে বাচ্চা শুকিয়ে ঝরঝরে হবে।

বাচ্চা ফুটার পর বাচ্চার পরিচর্যা ও ডিম পাড়া মুরগির পরিচর্যা :- গরম কালে বাচ্চার বয়স ৩-৪ দিন এবং শীত কালে ১০-১২ দিন পর্যন্ত বাচ্চার সাথে মাকে থাকতে দিতে হবে। তখন মুরগি নিজেই বাচ্চাকে উম দিবে। এতে কৃত্রিম উমের (ব্রুডিং ) প্রয়োজন হবে না। এ সময় মা মুরগিকে খাবার দিতে হবে। মা মুরগির খাবারের সাথে বাচ্চার খাবার ও কিছূ আলাদা করে দিতে হবে।

বাচ্চা গুলো মায়ের সাথে খাবার খাওয়া শিখবে। উপরোক্ত বর্ণিত সময়ের পর মুরগিকে বাচ্চা থেকে আলাদা করতে হবে। এ অবস্থায় বাচ্চাকে কৃত্রিম ভাবে ব্রুডিং ও খাবার দিতে হবে। তখন থেকেই বাচ্চা পালনের মত বাচ্চা পালন পদ্ধতির সব কিছুই পালন করতে হবে। মা মুরগিকে আলাদা করে লেয়ার খাদ্য দিতে হবে। এ সময় মা মুরগিকে তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়ার জন্য পানিতে দ্রবনীয় ভিটামিন দিতে হবে।

মা মুরগি ও বাচ্চা এমনভাবে আলাদা করতে হবে যেন তারা দৃষ্টির বাহিরে থাকে। এমন কি বাচ্চার চিচি শব্দ যেন মা মুরগি শুনতে না পায় । তা না হলে মা ও বাচ্চার ডাকা ডাকিতে কেউ কোন খাবার বা পানি কিছুই খাবে না । আলাদা করার পর অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে গেলে আর কোন সমস্য থাকে না ।প্রতিটি মুরগিকে এ সময় ৮০-৯০ গ্রাম লেয়ার খাবার দিতে হবে। সাথে সাথে ৫-৭ ঘন্টা চড়ে বেড়াতে দিতে হবে। প্রতি ৩-৪ মাস পর পর কৃমির ঔষধ এবং ৪-৫ মাস পর পর আর. ডি. ভি . টীকা দিতে হবে।

দেশে একটি মুরগি ডিম পাড়ার জন্য ২০ -২৪দিন সময় নেয় । ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর জন্য ২১ দিন সময় নেয় । বাচ্চা লালন পালন করে বড় করে তোলার জন্য ৯০-১১০ দিন সময় নেয় । ডিম থেকে এ ভাবে (৯০-১১০ দিন ) বাচ্চা বড় করা পর্যন্ত একটি দেশী মুরগির উৎপাদন চক্র শেষ করতে স্বাভাবিক অবস্থায় ১২০- ১৩০ দিন সময় লাগে।

কিন্তু মাকে বাচ্চা থেকে আলাদা করার ফলে এই উৎপাদন চক্র ৬০ -৬২ দিনের মধ্যে সমাপ্ত হয়। বাকি সময় মুরগিকে ডিম পাড়ার কাজে ব্যবহার করা যায় । এই পালন পদ্ধতিকে ক্রিপ ফিডিং বলে । * ক্রিপ ফিডিং পদ্ধতিতে বাচ্চা পালন করলে মুরগিকে বাচ্চা পালনে বেশী সময় ব্যায় করতে হয় না । ফলে ডিম পাড়ার জন্য মুরগি বেশী সময় দিতে পারে । এই পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটার সংখ্যা বেশী হয় । দেখা গেছে বাচ্চার মৃত্যুহারও অনেক কম থাকে। মোট কথা অনেক দিক দিয়েই লাভবান হওয়া যায় । এই পদ্ধতি বর্তমানে অনেকে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop