১২:১৪ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ১৫ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুন ২৫, ২০২১ ৯:১৮ অপরাহ্ন
ঈদে অনলাইনে পশু কেনাকাটার উৎসাহ দেওয়া হবে
প্রাণিসম্পদ

তিনি বলেন, পশুর হাটে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অতিমারি চলছে। যেসব গরু ব্যবসায়ী আসবেন তারা যেন স্বাস্থ্যসম্মতভাবে আসেন সে বিষয়ে আমরা নজর রাখবো।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোভিড পরিস্থিতির ওপর লক্ষ্য রেখে পরে যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে হয় সেজন্য এবার আগেই সভা করেছি। ঈদের বন্ধের সময় সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে জোরদার ব্যবস্থা রাখা হবে। চুরি, ডাকাসিহ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারিসহ পুলিশ-র‌্যাবের টহল বাড়ানো হবে। স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। করোনা বিবেচনায় অনলাইন কেনাকাটায় উৎসাহ দেওয়া হবে।

‘অস্থায়ী পশুর হাটে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হবে। পশুর হাটে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টি যাতে না আসতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে। ঈদের সময় ব্যবসায়ীদের টাকা পরিবহনের জন্য পুলিশ সহযোগিতা করবে। যানজট নিরসনে আনসার মোতায়েন করা হবে। ’

যানজটপ্রবণ স্থানে ওয়াচ টাওয়ার থাকবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব জায়গায় বেশি যানজট হয় যেমন টঙ্গী থেকে গাজীপুরের রাস্তা এবং যমুনা ব্রিজের ওখানে যানজট কমাতে সড়ক পরিবহন বিভাগকে অনুরোধ করেছি। কোরবানির পশু পরিবহনের ট্রাক ও নৌযানে চাঁদাবাজি বন্ধে নজরদারি থাকবে। পশু বোঝাই যান জোরপূর্বক যেকোনো জায়গায় থামানো যাবে না।

‘ফেরিঘাটে যাতে যানজট না হয় সেজন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে, নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। এছাড়া ঈদের সময় সড়ক, মহাসড়কসহ যেকোনো জায়গায় দুর্ঘটনা বন্ধে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, কুইক রেন্সপন্স টিম প্রস্তুত থাকবে। ’

শিল্প এলকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, শিল্প এলাকায় নাশকতা বন্ধে গোয়েন্দা বাহিনী সজাগ থাকবে। গার্মেন্টসহ সব শিল্প কারখানার বেতন নির্দিষ্ট সময় দেওয়ার জন্য বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারাও নিশ্চয়তা দিয়েছেন সময়মত শ্রমিকদের বেতন দেবেন।

চামড়া বেনাবেচা বিষয়ে তিনি বলেন, চামড়া কেনাবেচনার সিন্ডিকেট রোধে ঈদের আগে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। চামড়া পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। ঈদের সময় নিত্যপণের মূল্য বাড়ানো বন্ধ করতে বা ভেজালরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। ঈদ উদযাপনে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ যেসব নির্দেশনা দিয়েছে বা দেবে তা মেনে চলার অনুরোধ করা হলো।

পশুর হাটে করোনা নিরাপত্তা বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লকডাউন বাস্তবায়ন সংস্থা নিরাপত্তা বাহিনী নয়, বাস্তবায়ন সংস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে তারা অনুরোধ করছেন, সে অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। তারা যেখানে লকডাউন করার কথা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে কাজ করে।

পশুর হাটের সংখ্যা কমছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন এবার হাট নিয়ন্ত্রণ করছে, অনেক হাট বন্ধ করে দিয়েছে। এবার ঢাকায় যত্রতত্র হাট বসতে দেওয়া হবে না।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৫, ২০২১ ৭:১১ অপরাহ্ন
এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করে তাক লাগিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী
পোলট্রি

মো. শাকিল আহমেদ এইচএসসি পরীক্ষার্থী একজন তরুণ উদ্যোক্তা। তিনি কুমিল্লা জেলার তিতাশ থানার গাবতলি গ্রামের মো. জালাল উদ্দিনের ছেলে। এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন নিয়মিত। শুরুতে এন্টিবায়োটিক দিয়ে খামার করে লস দেয়ার পর এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করে সফল হয়েছেন এই ক্ষুদ্র খামারী শাকিল। এগ্রিভিউ২৪.কম এর সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে উঠে আসে শাকিলের খামারের গল্প।

এত অল্প বয়সে ব্রয়লার খামারের দিকে ঝুঁকার কারণ জানতে চাইলে শাকিল বলেন, চারদিকে বর্তমানে চাকরির অবস্থা দেখে নিজ থেকে কিছু করার আশায় খামারের দিকে মনোযোগ। এর মাধ্যমে একদিকে নিজে স্বাবলম্বী হতে ‍পারবো আর অন্যদিকে মাংসের চাহিদাও পূরণ হবে এবং কয়েকজন লোকের কর্মসংস্থানেও ব্যবস্থা হবে। সেই চিন্তা থেকে কয়েকজন বন্ধু মিলে খামার করার চিন্তা করলে বাকিরা আর সাথে থাকেনি। অবশেষে আমি একাই এই খামার শুরু করি। ইনশাআল্লাহ এখন পর্যন্ত ভালোই চলছে।

শাকিল বলেন, আমি ২০১৯ সালের শেষের দিকে খামার শুরু করি। প্রায় ৯০ হাজার টাকা দিয়ে ঘর বানাই। প্রথমে ২৬ হাজার টাকায় এক হাজার ৫০ মুরগির সেড করি। সেখান থেকে আমার প্রায় ৮ হাজার টাকার মত লাভ আসে। আবার ২০২০ সালের শুরুর সেডে ২৯ হাজার টাকা আবার ১ হাজার মুরগি তুললে সেখানে আমার ১৫ হাজার টাকা লাভ হলেও তারপরের সেডে ৬০ হাজার টাকার মুরগি তুললে সেখানে আমার প্রায় ৪৬ হাজার টাকা লস হয়। যার কারণে আমি মাঝখানে খামার বন্ধ রাখি।

বর্তমানে খামারের অবস্থা জানতে চাইলে শাকিল এগ্রিভিউকে বলেন, দীর্ঘ দিন খামার বন্ধ রেখে ‍আবার ২০২১ সালে এসে ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা ছাড়া আবার সেড শুরু করি। বর্তমানে খামারে ১ হাজার মুরগি আছে। আগের সেডগুলোতে আমার প্রতিদিন গড়ে ১৫টা করে মুরগি মারা যেতো। দিনে ৩০-৩৫টাও মারা গিয়েছে। এখন আমার খামারে মুরগির মৃতের সংখ্যা একেবারেই কম এবং মুরগির ওজনও অনেক। বর্তমান সেডের ২৬ দিন বয়সী মুরগির ওজন প্রায় ২ কেজির মত বলে জানান শাকিল।

এন্টিবায়োটিক না খাওয়ালে কি খাওয়াচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মুরগিতে সামান্য আমাশয় দেখা দিলে আমি ডাক্তারের পরামর্শে মেডিসিন খাওয়ায়। এছাড়া বর্তমানে গরমের কারণে কিছু মুরগি মারা গেলেও অসুস্থ মুরগি দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া আমার খামার আলো বাতাস দিয়ে ভরপুর। একেবারে নিরিবিলি পরিবেশ আমার খামারে। খামার সব সময় আমি পরিষ্কার রাখি। খামারে বাইরের লোকজন ঢুকতে দেই না, বায়োসিকিউরিটি যথাযথভাবে পালন করি। এ জন্য খামারে রোগ বালাই কম হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৫, ২০২১ ১১:১৮ পূর্বাহ্ন
মুরগির খামার গড়ে তুলবেন যেভাবে
পোলট্রি

দেশের আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় উন্নত জাতের মুরগি পালনের দিকে জনগণ উৎসাহিত হয়ে ঝুঁকছেন খুব। অন্যদিকে জনগণের উৎসাহের সাথে সাথে সরকারও করছেন নানাবিধ সহযোগিতা। যার কারণে দেশে আমিষের ঘাটতি পূরণে গড়ে উঠেছে অনেকে মুরগি খামার। আর এই শিল্পে লাভ করতে হলে খামারিদের দরকার নিয়ম মোতাবেক খামার গড়ে তোলা। খামারের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে মুরগিতে লাভবান হওয়ার আর না হওয়া।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, উন্নত বিশ্বে বছরে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা যেখানে ২০০; সেখানে আমাদের দেশে মাত্র ১৫ থেকে ১৬টি। এ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে প্রত্যেক বসতবাড়িতে উন্নতজাতের মুরগি চাষ অপরিহার্য। উন্নত জাতের একটি মুরগি ছয় মাস বয়সে ডিমপাড়া শুরু করে এবং বছরে ২০০ থেকে ২৫০ ডিম দেয়। অন্যদিকে ব্রয়লার (মাংস উত্পাদক মুরগি) মুরগি দুই মাসেই দেড় থেকে দুই কেজি মাংস দেয়। বসতবাড়িতে অল্প শ্রম ও কম খরচে মুরগি পুষে পরিবারের প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের ঘাটতি সহজেই মেটানো যায়।

মুরগির থাকার ঘর :  মুরগির থাকার ঘর উচ্চতায় চার ফুট, প্রস্থে সাড়ে ৪ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৬ ফুট করুন। এর ভেতরে ডিম পাড়ার খাঁচি, খাবার পাত্র ও পানির পাত্র রাখুন।
আরও খেয়াল রাখবেন
(১) ঘর সব সময় শুকনো ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
(২) খোলামেলা স্থানে ঘর বানাবেন
(৩) ঘরের মেঝে তিন ইঞ্চি পুরু হয় এ পরিমাণ তুস, কাঠের গুঁড়া বা বালির সঙ্গে আধা কেজি গুঁড়া চূর্ণ ভালোভাবে মিশিয়ে সমানভাবে বিছিয়ে দিন।
(৪) মেঝের কাঠের গুঁড়া বা তুস ৭ দিন পরপর ওলট-পালট করে দেবেন। স্যাঁতসঁতে হলে বা জমাট বেধে গেলে তা পরিবর্তন করে দেবেন। ঘরে আটকে না রেখে বাইরেও মুরগি পালন করতে পারেন।

খাদ্য : অধিক ডিম পেতে হলে মুরগিকে দৈনিক সুষম খাবার খেতে দেবেন, প্রত্যহ প্রতিটি মুরগিকে ১১৫ গ্রাম সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি ও ২৫ গ্রাম সবুজ শাক-সবজি বা কচি ঘাস কুচি কুচি করে কেটে খেতে দিন। আপনি নিজেই সুষম খাদ্য তৈরি করতে পারেন।

সুষম খাদ্যের উপাদানগুলো নিম্নরূপ : খাদ্য উত্পাদন-গম/ভুট্টা ভাঙা বা চালের খুদ ৪০০ গ্রাম। গমের ভুসি ৫০ গ্রাম। চালের কুঁড়া (তুষ ছাড়া) ২৫০ গ্রাম। তিলের খৈল ১২০ গ্রাম। শুঁটকি মাছের গুঁড়া ১০০ গ্রাম। ঝিনুকের গুঁড়া ৭৫ গ্রাম। সুষম খাদ্য মোট ১,০০০ গ্রাম বা ১ কেজি।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা : আপনার মুরগিকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত টিকা দেয়ার ব্যবস্থা নেবেন। পশুসম্পদ বিভাগ থেকে বিনামূল্যে রানীক্ষেত, কলেরা, বসন্ত রোগের প্রতিষেধক টিকা সংগ্রহ করতে পারেন। আরেকটু খেয়াল রাখবেন, আপনার মুরগি অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে পশু চিকিত্সালয়ের পরামর্শ নেবেন। অসুস্থ মুরগিকে চিহ্নিত করে তত্ক্ষণাত্ আলাদা করে রাখুন। তা ছাড়া রোগাক্রান্ত মুরগির বিষ্ঠা ও লালা সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করে তা মাটিতে পুঁতে রাখার ব্যবস্থা নেবেন।

আয়-ব্যয় : এক মোরগের সংসারের জন্য একটি ঘর (খাবার পাত্রসহ) তৈরি কর বাবদ প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হবে এবং ঘর কয়েক বছর ব্যবহার করা যাবে। ছয় মাস বয়সের ৯টি মুরগি এবং ১টি মোরগের ক্রয়মূল্য ২ হাজার টাকা। ১ বছর পর এ ১০টি মুরগিকে প্রায় একই দামে বিক্রি করা যাবে। ডিম কিনলে ১টির দাম পড়বে ৮ টাকা। মুরগির বাচ্চা কিনলে ১টির দাম পড়বে ৩০ টাকা। ৯টির দাম হবে ২৭০ টাকা। প্রতি মাসে মুরগির খাবার ক্রয় বাবদ প্রায় ৮০০ টাকা ব্যয় হবে। যদি আপনি নিজেই মুরগির সুষম খাবার তৈরি করেন তাহলে খরচ আরও কম হবে। ৯টি মুরগি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬টি ডিম পাওয়া যাবে। ডিম বিক্রি করে প্রতি মাসে গড়ে ১৪৪০ টাকা আয় করতে পারেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৪, ২০২১ ১২:০৭ অপরাহ্ন
অজ্ঞাত রোগে ১১০০ হাঁসের মৃত্যু, পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা খামারি!
প্রাণিসম্পদ

১১০০ হাঁসের মৃত্যুতে পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের স্বপন মিয়া নামে এক খামারি। তিনি উপজেলার মাওহা ইউপির নয়ানগর বাউশালী পাড়া গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে। পুঁজি হারিয়ে এখন পথে বসলো স্বপন।

সোমবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার মাওহা ইউপির নয়াননগর বাউশালী পাড়া এলাকার স্বপন মিয়ার হাঁসগুলো মারা যায়।

কৃষক স্বপন মিয়া জানান, প্রায় চার বছর আগে ঢাকার গার্মেন্টস থেকে চাকরি ছেড়ে গ্রামে এসে কৃষি কাজ শুরু করি। গত বছর এক হাজার হাঁস লালন পালন করে কিছুটা লাভবান হয়েছি। সে আশাতেই এবারো চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর থেকে বাকীতে ৩০ টাকা পিস ১২০০ হাঁসের বাচ্চা ৩৬ হাজার টাকায় কিনে আনি। তখন হাঁসের বাচ্চার বয়স ছিল একদিন। ওই হাঁসের বাচ্চা লালনপালন করার জন্য বাড়ির পাশে সুরিয়া নদীর পাড়ে মাচা ও নেটের বেড়া দিয়ে তৈরি করি খামার। এরপর হাঁসের বাচ্চার খাবার কেনার জন্য এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করি। এরপর প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ই পরিচর্যার জন্য বাড়ির পাশে বিল ও ডোবায় নিয়ে যাই হাঁসগুলিকে।

ধান ও পোল্ট্রি খাবার ক্রয় করে হাঁসগুলিকে খাওয়ানো ছাড়াও প্রয়োজনীয় ওষুধও দিয়েছি নিয়মিত। এ অবস্থায় হাঁসগুলির বয়স হয়েছিল ২ মাস ৭ দিন। তিনদিন পরেই বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। এমতাবস্থায় গত সোমবার সন্ধার পর হাঁস খামাারে তুলি। ওই দিন রাতেই অজ্ঞাত রোগে ছটফট করে প্রায় ১ হাজার হাঁস মারা যায়। এরপর মঙ্গলবার রাতে আরো ১৪০ টি হাঁস মারা যায়। হঠাৎ করে হাঁসের খিঁচুনি দিয়ে মরতে শুরু করে। এত অল্প সময়ে আমি হাঁসের চিকিৎসাও করাতে পারিনি। এভাবেই ১ হাজার ১৫০ টি হাঁস মারা গেছে। এই হাঁসগুলিকে লালনপালন বাবদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এ গুলো সবই ঋণের টাকায়। এখন সরকারের সহায়তা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে জানান তিনি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল করিম জানান, চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ না করে এবং সঠিক নিয়ম-নীতি না জেনে হাঁস পালন করায় অনেক সময় রোগাক্রান্ত হয়ে হাঁস মারা যায়। স্বপন যদি আমাদের পরামর্শ নিয়ে হাঁস পালন করতেন তাহলে হয়ত এই ক্ষতি হতো না। হাঁস পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত্যু কারণ বলা যাবে। এ ছাড়াও আমাদের জনবল কম। তাই, বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৩, ২০২১ ৭:৩৭ অপরাহ্ন
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের গরুত্ব দিয়েছেন: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের গুরুত্ব দিয়েছেন। ইতিহাসে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনা সমার্থক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

বুধবার (২৩ জুন) সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) প্রাঙ্গণে ইনস্টিটিউ আয়োজিত ‘খামারি মাঠ দিবস ২০২১’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। বিএলআরআই-এর ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়ন গবেষণা প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন বাঙালি জাতি থাকবে, যতদিন এই ভূখণ্ডে লাল-সবুজের পতাকা উড়বে, ততদিন আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা চিরঞ্জীব হয়ে থাকবে। ক্রান্তিকালে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিতে হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে। আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পাওয়ার পর বাংলার পথে-প্রান্তরে তিনি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষণা করে মানুষকে বুঝিয়েছেন ছয় দফা হচ্ছে আমাদের মুক্তি, আমাদের স্বাধীকার, আমাদের অধিকার আদায়ের ম্যাগনাকার্টা। অপরদিকে শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছেন, পুনরুজ্জীবিত করেছেন। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সরিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।”

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী যোগ করেন, “এ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু তখন পরিকল্পনা করেছিলেন। সে সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের বিকাশের কথা বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টিই প্রমাণ করে দেশের উন্নয়নের স্বার্থ বিবেচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ গৌণ কোন খাত নয়।”

প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের উদ্দেশে এ সময় মন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের অসহাযয় মানুষরা কেউই বিপন্ন অবস্থাযয় থাকবে না। নিজেদের কখনো ছোট ভাববেন না। আপনারা নিজ উদ্যোগে স্বাবলম্বী হোন। সরকার আপনাদের পাশে আছে। করোনায় বিপর্যস্ত খামারিদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আরো প্রণোদনা দেওয়া হবে। সহজশর্তে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হবে। দেশের উন্নয়নে আপনাদের অবদান কোন অংশে কম নয়।”

প্রাণিসম্পদ খাতে টিকা সমস্যাসহ অন্য যেকোন সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “প্রাণিসম্পদের যে রোগের কারণে খামারিরা শঙ্কায় থাকে, মাংস বিদেশে রপ্তানি করা যায় না, সে রোগগুলো নির্মূল করা হবে। সে লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করছে। প্রাণিসম্পদ খাতে গৃহিত প্রকল্প গ্রামীণ নারীসহ দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলছে। তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, বেকারত্ব দূর হচ্ছে এবং উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে। দেশের উন্নয়নে প্রান্তিক মানুষ অবদান রাখছে। এভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্রসরমান বাংলাদেশ নির্মাণে এগিয়ে চলেছেন।”

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ্ মোঃ ইমদাদুল হক ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ শেখ আজিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএলআরআই-এর অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আজহারুল আমিন। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিএলআরআই ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীগণ, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৩, ২০২১ ৭:০২ অপরাহ্ন
বাফিটা’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত, সভাপতি সুধীর চৌধুরী ও মহাসচিব হেলাল উদ্দিন
প্রাণিসম্পদ

প্রাণিজ (পোল্ট্রি, ডেইরী ও মৎস্য) খাদ্যের অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ/মৌলিক কাঁচামাল আমদানীকারক, উৎপাদনকারী, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত ও সরবরাহকারী বৃহত্তর বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ এগ্রো ফিড ইনগ্রিডিয়েন্টস ইম্পোটার্স এন্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন, বাফিটা (রেজিস্ট্রেশন নং- TO : 944/2017) এর ১৫ সদস্য বিশিষ্ট দুই বছর মেয়াদী কার্য্যনির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তা পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৯ জুন) বাফিটা’র অফিস কনফারেন্স কক্ষে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং রবিবার (২০ জুন) একই স্থানে পোর্ট-ফোলিও ১০ (দশ) জন ও ০৫ (পাঁচ) জন কার্য্যনির্বাহী সদস্যও নির্বাচিত হন।

নির্বাচিত সদস্যবৃন্দ হলেন- সুধীর চৌধুরী, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ-সভাপতি পদে এবং মোঃ হেলাল উদ্দিন, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স হেলাল এন্টারপ্রাইজ-মহাসচিব পদে নির্বাচিত হয়। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে জনাব মোঃ সবির হোসেন, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স এম.এস ট্রেডিং, সহ-সভাপতি পদে জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স আল-আমিন পোল্ট্রি ফিড, সহ-সভাপতি পদে জনাব মোঃ সৈয়দুল হক খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, খান এগ্রো ফিড প্রোডাক্টস, যুগ্ন মহাসচিব পদে জনাব মোঃ মাহবুবুল আলম, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স রহমান ট্রেডার্স, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জনাব মোঃ গিয়াস উদ্দিন খান, স্বত্বাধিকারী, এইচ এন্ড কে ফিড প্রোডাক্টস, কোষাধ্যক্ষ পদে জনাব মোঃ ফারুক, স্বত্বাধিকারী, ফয়সাল ট্রেডিং কোম্পানী, সমাজকল্যান সম্পাদক পদে জনাবা মমতাজ হোসেন ইতি, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স ইতি এন্টারপ্রাইজ প্রচার সম্পাদক পদে জনাবা সাদিয়া আফরিন মুন্নি, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স সিনথিয়া এন্টারপ্রাইজ নির্বাচিত হয়।

এছাড়াও কার্য্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত ৫ (পাঁচ) জন সদস্যবৃন্দ হলেন – জনাব সৈয়দ কামালুর রহমান খোকন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সি.আার পোল্ট্রি এন্ড ফিস ফিডস লিঃ, জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান, স্বত্বাধিকারী, আল-হাবিব এন্টারপ্রাইজ, জনাব মোঃ আলাল আহমেদ, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স আলাল এন্টারপ্রাইজ, জনাব মোঃ খোরশেদ আলম, স্বত্বাধিকারী, তাজ রেডি ফিডস, জনাব মোহাম্মাদ শাহ্ একরাম, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স একরাম এন্ড ব্রাদার্স।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৩, ২০২১ ৩:০৭ অপরাহ্ন
সামনে কোরবানি, বাড়ছে গো-খাদ্যের দাম, দিশেহারা খামারি!
প্রাণিসম্পদ

একদিকে চলছে করোনা মহামারী। যার কারণে অর্থনৈতিকভাবে নাজেহাল সকল স্তরের মানুষ। খামারিদেরও যাচ্ছে দৈন্যদশা। তারউপর দফায় দফায় গো-খাদ্যের দাম বাড়া যেন খামারিদের গলায় ফাঁস। এদিকে বন্ধ রয়েছে উল্লাপাড়ার লাহিড়ী মোহনপুরে মিল্ক ভিটার অর্থায়নে নির্মিত গোখাদ্য উৎপাদন প্লান্টটিও। ​আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে যখন খামারিরা নিচ্ছে লস কাটিয়ে উঠার প্রস্তুতি ঠিক সে সময়টাতেই গো-খাদ্যের দাম বাড়াতে হতাশায় ভুগছেন খামারিরা।

গোখাদ্য বিক্রেতারা জানান, ‘মিল্ক ভিটার গোখাদ্য উৎপাদন প্লান্টটি বন্ধ থাকায় দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। এখানে বিভিন্ন কোম্পানির খাদ্য আসে। সবাই এই খাদ্যের দাম সিন্ডিকেট করে বাড়িয়েছে। তাই আমাদের বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’

খান ডেইরি ফার্মের মালিক শাহিন খান গণমাধ্যমকে জানান, গমের ছাল বস্তাপ্রতি ১১০০ টাকা ছিল। বর্তমানে ১২৫০ টাকা হয়েছে। কাউফিড বস্তাপ্রতি ৯০০ টাকার জায়গায় এখন বেড়ে হয়েছে ১০৫০ টাকা।

শাহিন খান বলেন, ডালের ভুসি ৩৫ কেজির বস্তা কিনতে হচ্ছে ১২০০ টাকায়, অ্যাংকর ডালের ভূষি ৮০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। ধানের খড়ের দামও বেশি। খড় কিনতে হচ্ছে ৬০০ টাকা মণ দরে।

শাহিন খান আরও বলেন, ‘প্রতি শতাংশ জমির জাম্বু ঘাস কিনতে হচ্ছে ৩০০ ও নেপিয়ার ঘাস ৪০০ টাকায়। গোখাদ্যের দাম কমানো না হলে কিংবা খামারিদের ভর্তুকি না দিলে আমাদের পক্ষে খামার চালানো অসম্ভব হয়ে উঠবে।’

প্রায় ১০০ গরু নিয়ে খামার রয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের।

মনিরামপুর বাজারের একজন গোখাদ্য বিক্রেতা জানান, ‘কোরবানির ঈদকে ঘিরে কিছু ব্যবসায়ী গোডাউনে খাদ্য মজুত করছেন। বাজারে সংকট দেখিয়ে বেশি দামেও বিক্রি করছেন তারা। এদের জন্য প্রতিবছর এই মৌসুমে গোখাদ্যের দাম বেড়ে যায়।’ করোনাভাইরাস মহামারির অজুহাতে মিলমালিক ও মজুতদাররা তিন দফা দাম বাড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন এই বিক্রেতা।

মিল্ক ভিটার পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকির জানান, ‘গোখাদ্যের দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। গোখাদ্য না খাওয়ালে তো গরু বাঁচানো যাবে না। দানাদার খাদ্য, খড়ের দাম অনেক বেশি। খামারিরা নিজে না খেয়ে গরু লালনপালন করছে। সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিচ্ছে। একইভাবে যদি খামারিদের অনুদান দিত তাহলে হয়তো খামারিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারত।’

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, ‘খাদ্যের দাম বেড়েছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। ব্যবসায়ীরা এটা করে থাকে। সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।’খামারিরা যাতে লোকসানে না পড়ে এ জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গরুর মালিকদের সরকারিভাবে নগদ টাকা, খাবার, ওষুধ দেয়া হয়েছে। দশ লাখ গরুকে বিনা মূল্যে টিকা দিচ্ছে সরকার।’ কোরবানির ঈদ উপলক্ষে জেলায় ৪ লাখ ১২ হাজার গবাদিপশুকে প্রাকৃতিক ও দানাদার খাবার দিয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৩, ২০২১ ১২:১৯ অপরাহ্ন
ব্রয়লারের ওজন বাড়াতে খামারিরা যা করবেন
পোলট্রি

দেশে মাংসের চাহিদা পূরণে ব্রয়লারের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটি একদিকে যেমন মাংসের চাহিদা পূরণ করছে অন্যদিকে কমাচ্ছে বেকারত্ব।অনেকেই এখন খামার করে হয়েছেন স্বাবলম্বী। তবে এই মুরগির ওজন যত বেশি হয় তত তার চাহিদা থাকে বেশি। তাই ব্রয়লারের ওজন বাড়াতে খামারিদের জানতে হবে কিছু কৌশল।

ব্রয়লার মুরগির ওজন বাড়ানোর কিছু কৌশল:
খামার পরিষ্কার রাখা ব্রয়লারের ওজন বাড়ানোর প্রথম কৌশল।এতে খামারে রোগের প্রকোপ কমে যাবে এবং মুরগির দৈহিক বৃদ্ধি দ্রুত হবে। মুরগির খামারে বাচ্চা আসার ৪৫ মিনিট পূর্বে চিকগার্ডের ভেতরে প্রবা‌য়োটিক স্প্রে করে দিতে হবে। বাচ্চা ব্রুডারে ছাড়ার ৩০ মিনিট আগে পানির ড্রিকার দিয়ে দিতে হবে।

খামারে ব্রয়লার পালনের জন্য ১ দিনের বাচ্চার বয়স ৩৬ গ্রাম হতে হবে। বাচ্চা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।ব্রয়লার খামারে যাতে সবসময়ই আলো প্রবেশ ও বায়ু চলাচল করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

১৫ দিন বয়সের মধ্যে মুরগি গ্রাডিং শেষ করতে হবে। ১৮ দিন বয়সে গ্রথ আসার জন্য গুরের পানি খাওয়াতে হবে। ২০ দিন অতিবাহিত হলে মুরগি ফ্লাসিং করতে হবে। ২৫ দিন পর হইতে মাদি এবং ছোট মুরগি বিক্রি করতে হবে।ব্রুডিং এ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে এবং দুই ব্যাচের মধ্যে ১৫ দিন বিরতি দিতে হবে। খামারের মুরগিগুলোকে যথাসময়ে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে। যে কোনো ঔষধ ব্যবহারকালে সেই ওষুধের মেয়াদ আছে কিনা তা ভালোভাবে দেখে নিতে হবে।

খামারে ব্রয়লার মুরগির লিটার সবসময় শুকনো রাখতে হবে। খামারের লিটার ভালো হলে মুরগি ভালো থাকবে। এজন্য নিয়মিত মুরগির লিটার পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আর প্রয়োজন হলে লিটার পরিবর্তন করে দিতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৩, ২০২১ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
আসন্ন কোরবানিতে তিন কোটি টাকার গরু বিক্রি করতে চান তিনি!
প্রাণিসম্পদ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে তরুণ ‍উদ্যোক্তা এরশাদ উদ্দিন গড়ে তুলেছেন জে.সি এগ্রো ফার্ম। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে সেখানে মোটাতাজা করা হচ্ছে বিশালাকারের ষাঁড়, মহিষ এবং গয়াল। আসন্ন কোরবানিতে তিন কোটি টাকার পশু বিক্রির আশা করছেন এরশাদ।

জানা যায়, গত বছর মহামারির শুরুর দিকে মাত্র ২০টি গরু নিয়ে জে.সি এগ্রো ফার্মের যাত্রা শুরু। মাত্র এক বছরেই লাভের মুখ দেখার পাশাপাশি খামারটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভুট্টার ফল ও গাছ, সবুজ ঘাস, দেশি খাবারের পাশাপাশি সঠিক পরিচর্যায় খামারের পশুগুলো বেড়ে উঠছে দ্রুত। দূর-দূরান্তের লোকজন খামারে আসছে দশাসই আর সবল পশুগুলোকে দেখতে।

খামারে ২৫০টি পশুর মধ্যে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে, ১৫০টি ষাঁড় ও ৪০টি মহিষ ও ৮টি গয়াল। আগামী বছর থেকে খামারে এক হাজার পশু মোটাতাজা করা হবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা গরু কিনতে আসছেন। গত এক সপ্তাহে খামার থেকে ৬০টি ষাঁড় বিক্রি হয়েছে বলে জানা যায়।

এরশাদ জানান, ‘শুধু লাভের আশায় নয়, গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকদের উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যা কমানোর লক্ষ্য নিয়েই প্রত্যন্ত গ্রামে খামারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’‘ব্যবসার সুবাদে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকি। তবে মন পড়ে থাকে গ্রামে। গ্রামের বাড়িতে একটি খামার করার স্বপ্ন ছিল অনেকদিন ধরেই। গত বছর করোনা মহামারির শুরুতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসি। এখানে ২০টি গরু দিয়ে খামার শুরু করি। প্রাকৃতিক খাবার ও মনোরম পরিবেশে খামারের পশুগুলো দ্রুত বেড়ে উঠছে দেখে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। খামারে প্রায় আড়াইশ পশু এক সঙ্গে লালন-পালন করা হচ্ছে।’

খামারের কর্মীরা জানান, পশুগুলোর খাবারে কোনো ধরনের রাসায়নিক না মিশিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। এজন্য হাওরের জমি লিজ নিয়ে ভুট্টা চাষ করা হয়। গাজন পদ্ধতিতে সবুজ ভুট্টা গাছ থেকে পশুর পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা হয়। এছাড়া সবুজ ঘাস ও খৈল দেয়া হয়। এ খামারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে এলাকার ২০ যুবকের।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২২, ২০২১ ১:৫৩ অপরাহ্ন
কোরবানিকে সামনে রেখে দুশ্চিন্তায় দুর্গাপুরের গরুর খামারিরা
প্রাণিসম্পদ

গো-খাদ্যের সংকট, মূল্য বৃদ্ধি, বাজার মন্দা, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় পশুর হাট স্থাপনে বিধিনিষেধসহ ইত্যাদি কারণে রাজশাহীর দুর্গাপুরে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দুচিন্তায় খামারিরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ছোট বড় প্রায় ১শ ২৫টি গরুর খামার রয়েছে। এসব গরুর খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণের প্রতিযোগিতা চলছে। সম্প্রতি প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করণে ১২৫ খামারিকে প্রশিক্ষণ, কৃমি নাশক ওষুধ ও ভিটামিন মিনারেল জাতীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলায় ৫ হাজার পরিবারে ২-৩টি করে গরু প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এসব খামার ও পরিবার থেকে কোরবানির জন্য ২০ হাজার গরু টার্গেট করা হয়েছে। এছাড়াও ৩০ হাজার ছাগল স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এসব সুস্থ গরু ও ছাগল নিজ উপজেলা ও জেলার চাহিদা পূরণ করে ঢাকায় কোরবানির হাটে সরবরাহ করা হবে।

জানা যায়, প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলায় মৌসুমী খামারি ও ব্যবসায়ীরা মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর অবৈধ স্টেরয়েড হরমোন ব্যাবহার করে দ্রুত গরু মোটাতাজা করত। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কিন্তু এবার প্রাণিসম্পদ বিভাগের তৎপরতার কারণে চলতি বছর এই প্রবণতা অনেকটাই কম। এ বছর ব্যাপক হারে প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, ঘাস, বিভিন্ন প্রকারের ভুষি, খৈল এবং ভিটামিন খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে।

খামারি ও চাষিরা জানান, গরুকে প্রাকৃতিক পন্থায় মোটাতাজা ও সুস্থ রাখতে সাধারণত খড়, লালি-গুড়, ভাতের মাড়, তাজা ঘাস, খৈল, গম, ছোলা, খেসারি, মাষকলাই, মটরের ভুসিসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেয়া হয়। গরুর জন্য এটা বিজ্ঞানসম্মত। এ নিয়মে গরু মোটাতাজা করা হলে ক্রেতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন না। এ ধরনের গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। তাই প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা গরুর চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে গো-খাদ্য বস্তা প্রতি দাম বেড়েছে ১শ টাকার ওপরে। ফলে খামারি ও চাষিরা অনেকটাই বেকায়দায় রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদির জানান, করোনা সংকটের মধ্যেও এবার ব্যাপকহারে গরু লালন পালন করছেন চাষিরা। এবার ওষুধ বা ইনজেকশন দিয়ে কোনো গরু মোটা করা হচ্ছে না। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ তৎপর রয়েছেন। চাষি ও খামারিদের প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণে প্রশিক্ষণ ও নানান প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে চাষিদের নানা রকম পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop