১:৫৭ অপরাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ২৫, ২০২১ ৩:৫৮ অপরাহ্ন
বিশ্বরেকর্ড করা ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’র ধানকাটা উৎসব কাল
কৃষি বিভাগ

গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ স্থান নেওয়ার পর এবার সেই শস্য কাটার উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল সোমবার (২৬ এপ্রিল)। ওইদিন স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকের ধান কাটতে এবং একইসঙ্গে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পাওয়া শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু আয়োজনের ধান কাটতে বগুড়ায় যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। উদ্বোধন করবেন ‘শষ্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং কৃষকলীগ সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ।

‘শষ্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ জাতীয় পরিষদের উদ্যোগে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলতে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে চীন থেকে আনা ডিপ ভায়োলেট রঙের হাইব্রিড ও দেশের ডিপ গ্রিন ধানের হাইব্রিড চারা রোপণ করা হয়।

উচ্চ ফলনশীল দুই ধরনের ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে এই কর্মযজ্ঞের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। আর চারা রোপণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলতে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৩০ জন নারী শ্রমিক কাজ করেছেন। তাঁদের সঙ্গে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন পুরুষ শ্রমিক ছিলেন। এ জন্য স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জমি ইজারা নেওয়া হয়।

ধানের গাছ ছোট অবস্থায় উঁচু থেকে ড্রোন দিয়ে ছবি তোলার পর বঙ্গবন্ধুর অবয়ব ফুটে উঠতে দেখা যায়। ধানের চারা যতই বড় হয়েছে, ততই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের আগেই ১৬ মার্চ বিশ্বের সর্ববৃহৎ ‘শস্যচিত্র’ হিসেবে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর’ প্রতিকৃতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান লাভ করে।

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর আয়তন ছিল ১২ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট। শস্যচিত্রের দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৩০০ মিটার। গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয় বাংলাদেশের জন্য। প্রতিদিন শত শত মানুষ শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দেখতে প্রকল্প এলাকায় ভিড় করছেন।

গাঢ় বেগুনি ও সবুজ রঙের ধান গাছে সোনালী রঙের ধানের শীষে ভরে উঠেছে। শীষগুলো বাতাসে দোল খাচ্ছে। পুরো ধানের মাঠ বাতাসে দুলছে। ওপর থেকে দেখলে মনে হবে বঙ্গবন্ধুর চিত্রটিও দুলছে। তাতে রোদ পড়ে চকচক করছে ধানের শীষগুলো। বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর এবার ধান কাটার সময় হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব রেকর্ডসে স্থান করে নিয়ে ইতিহাস গড়া বঙ্গবন্ধুর শস্যচিত্রটি এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শস্যচিত্র। বিএনসিসি ও কৃষিবিদদের নিপুণ কারুকাজে তৈরি হয়েছে শস্যচিত্রের বিশাল ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধু।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামে ধানের ক্ষেতে তৈরি ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ ক্ষেতের ১০০ বিঘা জমির ধান কাটা হবে আগামীকাল সোমবার। ধানকাটার পর সেগুলোর একটি অংশ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা হবে। বাকি অংশ শুভেচ্ছা স্বরূপ বিতরণ করা হবে কৃষক ও কৃষক সংগঠনের মাঝে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৫, ২০২১ ৩:৪৫ অপরাহ্ন
ঝালকাঠি সদরে কৃষকের মাঝে কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): ঝালকাঠি সদরের উপজেলা পরিষদ চত্বরে ২২ এপ্রিল একজন কৃষকের মাঝে কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালক মো. ফজলুল হক।

তিনি বলেন, কম্বাইন হারভেস্টার এমন এক অত্যাধুনিক কৃষি যন্ত্র, যার মাধ্যমে খুব কম সময়ে অধিক জমির ধান কাটা, মাড়াই এবং বস্তাবন্দি করা সম্ভব। এতে অর্থের সাশ্রয় হয়। শ্রম ও সময় বাঁচে। শ্রমিক সংকট দূর করে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রিফাত শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মো. মঈন তালুকদার।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার সুলতানা আফরোজ, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার খাদিজা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে এসিআই মটরস’র প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে কৃষক কবির হোসেনের হাতে এ অত্যাধুনিক কৃষিযন্ত্রের চাবি তুলে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, কম্বাইন হারভেস্টারের বাজার মূল্য ২৮ লাখ টাকা। কৃষক ভর্তুকি পেয়েছেন ১৪ লাখ টাকা। এ যন্ত্রের মাধ্যমে ধান কাটা এবং মাড়াই করলে শতকরা ৭০-৮০ ভাগ খরচ সাশ্রয় হয়। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় উপকূল ও হাওরাঞ্চলের জন্য ৭০% আর অন্যান্য এলাকায় ৫০% ভর্তুকিমূল্যে কৃষকের জন্য উন্নয়ন সহায়তার এ কার্যক্রম চলমান আছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৫, ২০২১ ১২:০৬ অপরাহ্ন
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
কৃষি গবেষনা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলা তথা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে এবার বোরোর সোনালী ধানের মিষ্টি গন্ধে মাতোয়ারা কৃষকরা। চলতি মৌসুমে একদিকে যেমন প্রকৃতিতে লাগছে অসাধারণ তেমনি অর্থনৈতিক সচ্ছলতারও স্বপ্ন দেখছেন সেখান কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,গত এক সপ্তাহ আগে থেকে কৃষাণ-কৃষাণীরা আনন্দের সাথে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন।ধান কাটা শুরুর পর ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষাণ-কৃষাণীর। শনিবার পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ ধান কাটার কাজ শেষ হয়েছে।ঝড়-বৃষ্টি না হলে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ধান কাটার কাজ সম্পন্ন হবে বলে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস জানান,কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চলতি মৌসুমে বোরো চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ,পরামর্শ,মাঠ দিবস,উঠান বৈঠক,নতুন নতুন জাতের বীজ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদুল আমীন জানান, চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪ হাজার ১৩১ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হওয়ায় ফলনেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ অঞ্চলের ছয় জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন লাখ ৫৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়ে আবাদ হয়েছে তিন লাখ ৬৭ হাজার ৯১১ হেক্টর জমিতে।গত কয়েক বছর চালের দাম ভালো পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা অধিক জমিতে বোরো চাষ করেছেন।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলায় হাইব্রিড জাতের বোরো ধান ২৭ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের বোরো ধান এক লাখ ৩০ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলায় হাইব্রিড জাতের বোরো ধান আট হাজার ২১৭ হেক্টর জমিতে ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধান ৭২ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

মাগুরা জেলায় হাইব্রিড জাতের ধান ৭ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধান ৩২ হাজার ২৪১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।কুষ্টিয়া জেলায় হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চার হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধান ৩০ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় হাইব্রিড জাতের বোরো ধান দুই হাজার ৪৬১ হেক্টর জমিতে ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধান ৩৩ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে এবং মেহেরপুর জেলায় হাইব্রিড জাতের ধান এক হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধান ১৭ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

এ বছরে চালের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯৮৩ মেট্রিকটন। ধান কেটে ঘরে তোলার আগে যদি শিলাবৃষ্টি না হয় তবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উদ্বৃত্ত হবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানান।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক বোরো চাষিদের প্রয়োজনীয় কৃষি লোন প্রদান করেছে।বাজারে সারেরও কোন সংকট ছিল না। বিভিন্ন জাতের ধান ও চালের দাম ভালো থাকায় এ অঞ্চলে বোরোর চাষ বেড়েছে। কৃষি যান্ত্রীকরণ উদ্যোগের আওতায় এ জেলায় ১৮টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টারের মাধ্যমে বোরো কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলার কাছ চলছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৪, ২০২১ ৭:২৬ অপরাহ্ন
৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মাছ, দুধ, ডিম, মাংসের উৎপাদনে উদ্বৃত্ত হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জন্য পুষ্টিসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পুষ্টিসম্মত খাবার নিশ্চিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। এ খাতে গত ১০ বছরে যেসব প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে, উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে ও সার্ভিস দেয়া হচ্ছে- তার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার করতে পারলে, দেশ যেমন দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে তেমনি আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মৎস্য, হাঁস-মুরগি, দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনে উদ্বৃত্ত থাকবে।
মন্ত্রী আজ শনিবার বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ২০২১ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ভেটেরিনারি পরিষদ আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
ভেটেরিনিয়ানদের উদ্দেশ্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে এ খাতকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। সকলের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে হবে।
ড. রাজ্জাক আরও বলেন, পুষ্টিসম্মত খাবারের নিশ্চয়তার জন্য মানুষের আয় বাড়াতে হবে এবং কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে হবে। নাহলে পর্যাপ্ত খাবার উৎপাদন করলেও মানুষ তা কিনতে ও ভোগ করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্যবিমোচনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে কৃষি। দেশে এখনো ২৮ ভাগ লোকের একটি কুঁড়ে ঘর ছাড়া কোনো জায়গা জমি নেই, ৫৬ ভাগ লোক ভূমিহীন। আমরা বিভিন্ন প্রচলিত ও অপ্রচলিত ফসল চাষের কথা বলছি। যার জমি নাই, সে কিভাবে করবে। তাদের দারিদ্র্য কিভাবে কমবে। এছাড়া, সরকার আগামীতে দারিদ্র্য ১২ ভাগে এবং অতিদরিদ্র ৫ ভাগে নামিয়ে আনতে নিরলস কাজ করছে। আমি মনে করি, এসবক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সেক্টর।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। ‘ভেটেরিনিয়ান রেসপনস টু দ্যা কভিড-১৯ ক্রাইসিস’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. এ এস মাহফুজুল বারী। অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন বাকৃবি এলামনাই এসোসিশেনের নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মতিয়ার রহমান হাওলাদার, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুর রহমান খান, বাকৃবি বাউরেসের পরিচালক প্রফেসর ড. আবু হাদি নূর আলী খান,প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ শেখ আজিজুর রহমান ও ডা. মো. আওলাদ হোসেন প্রমুখ।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৪, ২০২১ ৫:৩৪ অপরাহ্ন
করোনায় চাকরি হারিয়ে মাশরুম চাষে ঘুরে দাঁড়ালেন সাইদুর
কৃষি বিভাগ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চকরামাকান্ত দহপাড়া গ্রামের সাইদুর রহমান(৪৫)। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন। গত বছর করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চাকরি হারিয়ে বাড়ি চলে আসেন। এরপর ছেলে সাজিদ হোসেন আরাফাত তার বাবাকে মাশরুম চাষের ব্যাপারে পরামর্শ দেন। আর তাতেই বর্তমানে তার ৫৮টি মাশরুম বীজ প্যাকেট (স্পন প্যাকেট) রয়েছে।

মাশরুম চাষের বিষয়ে আরাফাতের আগে থেকে ধারণা থাকায় তেমন বেগ পেতে হয়নি। কুরিয়ারের মাধ্যমে ঢাকার মোহাম্মদপুর আঁটিবাজার থেকে ৮ কেজি মাসরুম বীজ আনতে খরচ হয় হাজার টাকা। সাথে আরো ২-৩ হাজার টাকা খরচ করে ৬০টি ছত্রাকের প্যাকেট বা সিলিন্ডার তৈরি করা হয়। এরপর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থের ঘরে রশিতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয় এক একটি ছত্রাকের প্যাকেট। যা থেকে উৎপন্ন হয় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার মাসরুম।

মাশরুম চাষি সাইদুর রাহমান জানান, করোনায় চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ছেলের কথামত মাশরুম চাষ করি। অয়েস্টার জাতের মাশরুমের বীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করা হয়। ঘরে ৫৮টি মাশরুম বীজ প্যাকেট (স্পন প্যাকেট) আছে।

তিনি আরো জানান, এ বছর জানুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ৭ হাজার টাকার মাশরুম বিক্রি করেছি। যেখানে আড়াই হাজার টাকার মতো বিনিয়োগ হয়েছে। একেকটি স্পন প্যাকেট তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৩০ টাকা। আর এমন স্পন প্যাকেট বিক্রি হয় ৪৫০ টাকায়। প্রতি কেজি মাশরুম বিক্রি করা হয়েছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। আশেপাশের লোকজন এসে মাশরুম কিনে নিয়ে যান। যখন বেশি উৎপাদন হয় তখন স্থানীয় বাজারেও বিক্রি করা হয়।

তিনি বলেন, এলাকায় মাসরুমের তেমন পরিচিত না থাকায় মাইকিং ও লিফলেট ছাপিয়ে প্রচারণা করেছি। অনেক ডায়াবেটিস রোগী কিংবা সাধারণ মানুষ চাহিদা দেখিয়েছেন। প্রথমবার ভালো বীজ পাওয়া যায়নি। কিন্তু তারপরও ভালো লাভ হয়েছে। উৎপাদন করা খুব সহজ হলেও বিক্রি করতে অনেকটাই ঝামেলা। যদি বিক্রির নিশ্চয়তা থাকত, তাহলে কাজটি আরোও সহজ হতো। তবে বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা আছে।

সাইদুর রহমানের ছেলে সাজিদ হোসেন আরাফাত জানান, মাশরুম চাষের জন্য দেড় থেকে দুই ইঞ্চি খড় সিদ্ধ করে হালকাভাবে শুকাতে হয়। যাতে চাপ দিলে পানি না ঝরে। এরপর খড়গুলো পলিথিনে প্যাকেটে রেখে তাতে মাশরুমের বীজ দিতে হবে। প্যাকেটের মুখ বন্ধ করে দিয়ে কয়েকটা ছিদ্র করে দিতে হবে। এরপর ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় অন্ধকার ঘরে রেখে দিতে হবে। দিনে ৮-১০ বার স্পনগুলোতে পানি দিতে হয়। সাধারণত ২৫-৩০ দিনে মধ্যে পলিথিনের গায়ে সুক্ষ ছিদ্র দিয়ে সাদা আস্তরণ দেখা যাবে যাকে মাইসেলিয়াম (মাসরুমের ছাতা) বলে। এরপর মাসরুম খাওয়ার উপযোগী হয়।

মান্দা উপজেলা কৃষি অফিসার শায়লা শারমিন জানান, সাইদুরের মাশরুমের প্রজেক্টটি দেখেছি। তার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমরা কিছু কিনেছিলাম। মাশরুম চাষে মার্কেটিং সবচেয়ে বড় বিষয়। মাশরুম চাষের উপর একটা বরাদ্দ এসেছিল, সেটা এখন আর নেই। পরবর্তীতে কোন বরাদ্দ আসলে তার জন্য থাকবে বলেও তিনি জানান।-জাগো নিউজ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৪, ২০২১ ১২:৫১ অপরাহ্ন
বোরো ধান আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে নড়াইল
কৃষি গবেষনা

নড়াইল জেলায় এরই মধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকরা সোনালী ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে বলে জানান কৃষি বিভাগ।

নড়াইল কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, এ বছর করোনার মধ্যেই কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অতিরিক্ত ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। ধান উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা নড়াইলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৭ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে। সেখানে আবাদ হয়েছে ৪৮ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে।

নড়াইল সদর উপজেলার ইছামতি বিল, কাড়ার বিল, আউড়িয়া, লস্কারপুর সলুয়ার বিল, কুমড়ির বিল, তারাপুর বিল, পেড়লির বিল, চাচড়ার বিল, চামরুল বিল, ধাড়িয়ার বিল, লোহাগড়া উপজেলার ইছামতি বিল, ইতনা বিল, কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি বিল, পাটেশ^রী বিল, কলাবাড়িয়ার বিলসহ বিভিন্ন বিলে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।

এসব বিলে হাইব্রিড জাতের হীরা, তেজ গোল্ড, এসএল ৮এইচ, উফসি জাতের ব্রিধান- ২৮, ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৫০, ব্রি ধান-৫৮, ব্রি ধান-৬৩, ব্রি ধান-৬৭, ব্রি ধান-৭৬, ব্রি ধান-৮৪, ব্রি ধান-৮৮, ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-৯৬ সহ বিভিন্ন জাতের ধানের চাষ হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জাতেরও কিছু ধানের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সঠিক পরিচর্যায় এবছর ধানে বাম্পার ফলন আশা করছেন চাষিরা।

নড়াইল সদর উপজেলার সিবানন্দপুর গ্রামের কৃষক ইশারত শেখ বলেন, আমাদের বিলে এবছর বোরা ধান খুবই ভাল হয়েছে। সম্প্রতি ঝড়ে কিছুটা সমস্যা হলেও ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এরই মধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি কাটা শুরু হয়ে যাবে।

ফেদি গ্রামের তরিকুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষ করোনার ভয়ে ঘরবন্দী থাকলেও কৃষকরা করোনার ভয়কে উপেক্ষা করে বোরো ধানের চাষ করেছেন। করোনাকে ভয় পাচ্ছি না। তবে ঝড় ও শিলা বৃষ্টিকে ভয় পাচ্ছি। এ মুহূর্তে ঝড় ও শিলা বৃষ্টি হলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে।

লোহাগড়া উপজেলার হান্দলা গ্রামের কৃষক এসকেন্দার মোল্যা বলেন, আমরা অর্থে কষ্টের মধ্যেই ধান চাষ করি। এ বছর ধান ভালো হয়েছে। গত বছর দাম ভালো পাওয়ায় এবছর আরো বেশি জমিতে ধান চাষ করেছি। আগামী এক মাসের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। শিলা বৃষ্টি, ঝড় না হলে আল্লাহর রহমতে ভালোভাবে ধান ঘরে তুলতে পারবো।

কালিয়া উপজেলার নোয়াগ্রমের বাদশা মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় ধান খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি গত বছরের মত এবছরও ধানের ভালো দাম পাবো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নড়াইলের উপ-পরিচালক দীপক কুমার দে বলেন, সরকারিভাবে বিভিন্ন সহযোগিতা দেয়ায় এবং গত মৌসুমে ধানের দাম ভ ালো পাওয়ায় চাষিরা পতিত জমিতেও এবছর ধানের চাষ করেছে। সরকারিভাবে চাষিদের মাঝে বোরো ধানের বীজ বিতরণ, সার প্রণোদনা, ন্যায্য মূল্যে সার বিতরণ, করোনার সময়ে কৃষকের পাশে থেকে উৎসাহ যোগানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ধান উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা নড়াইল। এ জেলায় উৎপাদিত ধান জেলার চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলায় সরবরাহ করা হয়। এ বছর ধান বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৭ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে। সেখানে আবাদ হয়েছে ৪৮ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অতিরিক্ত ৬২০ হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে তিন হাজার হেক্টর জমির ধানা কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এক মাসের মধ্যেই ধান কাটা সম্পন্ন হবে। আশা করি এবছরও কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ধানের ন্যায্য মূল্য পাবেন।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ২:২৮ অপরাহ্ন
সফলভাবে বোরো ধান ঘরে তুলতে পারলে খাদ্যের কোন সংকট হবে না: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

সারা দেশের বোরো ধান সফলভাবে ঘরে তুলতে পারলে করোনাকালেও দেশে খাদ্য নিয়ে কোন সংকট হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশ বরেণ্য কৃষিবিদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।
কৃষিমন্ত্রী আজ শুক্রবার হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামে হাওরে বোরো ধান কাটা পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন।
এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার , কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, ব্রির ডিজি ড. শাহজাহান কবীর, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপপরিচালক মো: তমিজ উদ্দিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৩, ২০২১ ১১:১২ পূর্বাহ্ন
সানশাইন আলু চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের
কৃষি গবেষনা

নতুন জাতের আলু সানশাইন। আর এই সানশাইনের বাম্পার ফলনে এই আলু চাষের দিকে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে শেরপুর জেলার কৃষকদের। এই আলু চাষ করে লাভবানও হচ্ছেন তারা। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের আওতায় নকলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে নতুন এ বীজ আলুর ফলন দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

নকলা উপজেলার বিএডিসি কর্মকর্তা জানান, আমরা মাঠ পরিদর্শনসহ নিয়মিত চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সানশাইন জাতের আলু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হচ্ছে এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব। নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ও নারায়ানখোলা ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে, কুইন অ্যানি আটাডো, গ্র্যানোলা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, এস্টারিক্সসহ ২০টি জাতের বীজ আলু চাষ করা হয়। কিন্তু এ বছর সানশাইন জাতের বীজ আলু চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষকরা।

এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন হচ্ছে বেশি। চলতি মৌসুমে নকলা উপজেলায় ১৯টি ব্লকে বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ ৩৬ কৃষকসহ অর্ধশতাধিক আলুচাষিকে নির্বাচন করে বীজ আলু উৎপাদনের লক্ষ্যে ২৭০ একর জমিতে এবং রফতানি করার লক্ষ্যে আরও ৩০ একর জমিতে বিএডিসির আওতায় আলু চাষ করা হয়েছে। এসব জমিতে প্রতি একরে এক মেট্রিক টন হারে ৩০০ মেট্রিক টন বিএডিসির আলুবীজ রোপণ করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বীজ আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন থেকে ১ হাজার ৬০৭ মেট্রিক টন অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে আলু বাছাই কাজেও ব্যস্ত সময় পার করে সংসারে বাড়তি আয় করছেন স্থানীয় শ্রমজীবী নারীরা।

শেরপুরের কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গুণগত মান ও অধিক উৎপাদনসম্পন্ন সানশাইন বীজ আলু উৎপাদনের লক্ষ্যে আলুর বিভিন্ন ব্লক পরিদর্শনে গিয়েছি। মাঠ দিবসের মাধ্যমে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন ও মাল্টি লোকেশন পারফরম্যান্স যাচাইসহ চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। উৎপাদিত এ আলু বিদেশে রফতানি করা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, বিএডিসির আওতায় কৃষকের উৎপাদিত আলু গ্রেডিং করার পর সরকার-নির্ধারিত দামে কিনে হিমাগারে সংরক্ষণ করা হবে। পরে সরকার-নির্ধারিত দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে। এতে আলু চাষিরা দুই দিক থেকেই লাভবান হবেন বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২২, ২০২১ ৮:২০ অপরাহ্ন
হাওরের ৪০ ভাগ ধান কর্তন সম্পন্ন
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, গতবছর হাওরের ধান কাটার জন্য যেভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, এ বছরও সেভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদেরকে নিয়ে আসা হয়েছে। এ মূহুর্তে হাওরে ধান কাটার জন্য শ্রমিকের কোন সংকট নেই। পর্যাপ্ত শ্রমিক রয়েছে। একইসাথে, কম্বাইন হারভেস্টার, রিপারসহ পর্যাপ্ত ধান কাটার যন্ত্র হাওরে এ বছর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার অনলাইনে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ কথা বলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং সংস্থাপ্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এবছর ধান চালের উৎপাদন বাড়াতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আমাদের চেষ্টার কোন কমতি ছিল না। বেশি জমি চাষের আওতায় আনা, উন্নত জাতের ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। বীজ, সারসহ নানা প্রণোদনা কৃষকদেরকে প্রদান করা হয়েছে। হাইব্রিড ধানের বীজ সহায়তা বাবদ ৭৬ কোটি টাকার প্রণোদনা কৃষকদেরকে দেয়া হয়েছে। এছাড়া, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মীরা করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কঠোর পরিশ্রম করেছেন, কৃষকের পাশে থেকেছেন। নতুন উন্নত জাতের ধান চাষের জন্য চাষিদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছেন, প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে গত বছরের তুলনায় এবছর ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। একই সাথে, গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাইব্রিডের আবাদ বেড়েছে। আশা করা যায়, গত বছরের তুলনায় এবছর বোরোতে ৯- ১০ লাখ টন বেশি উৎপাদন হবে।
উল্লেখ্য, এ বছর সারা দেশে বোরোতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৮ লাখ ৫ হাজার ২০০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে। এ বছর বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী এসময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে ধান কাটায় এগিয়ে আসার ও এ বিষয়ে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, এবছর হাওরভুক্ত ৭টি জেলা- কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ ও ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু হাওরে আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত হাওরভুক্ত ৭টি জেলায় ২ লাখ ৩১ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমির ধান কর্তন হয়েছে, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ২৫ ভাগ। অন্যদিকে শুধু হাওরের ১ লাখ ৮০ হাজার ৭২৯ হেক্টর জমির ধান কর্তন হয়েছে, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ৪০ ভাগ।
সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের আরএডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৮২টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। মার্চ ২০২১ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ৪৯.১০%, যেখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি ৪১.৯২%।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২২, ২০২১ ১২:২১ অপরাহ্ন
রংপুরে পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় অর্ধেক আলুর পঁচন!
এগ্রিবিজনেস

দেশে সবচেয়ে বেশি আলুর উৎপাদন হয় রংপুর অঞ্চলে। সরকারি হিসাবে এখানে ৯৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে এবার উৎপাদিত হয়েছে সাড়ে ২৪ লাখ টন।

কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় আলুর সংরক্ষণ মডেল ঘরেই সমাধান দেখছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। তাদের দাবি, এতে ৩-৪ মাস আলু রাখা যাবে। জেলায় যে ৬৭টি হিমাগার রয়েছে তাতে উৎপাদিত আলুর মাত্র ১৫ শতাংশ সংরক্ষণ সম্ভব।

সমাধানে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরামর্শ, আলু সংরক্ষণ মডেল ঘর। যা তৈরি হবে ইট, কাঠ, টিন ও বাঁশ দিয়ে। এটি লম্বায় ২৫ ফুট আর চওড়া হবে ১৫ ফুট। কিন্তু এটি তৈরিতেও যে টাকার দরকার তা নেই কৃষকের কাছে। তবে ঋণ নয়, শুধু প্রশিক্ষণ ও পরামর্শই দিতে পারবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সংরক্ষণের অভাবে দেশে প্রতিবছর ১ কোটি ৫ লাখ টন আলু উৎপাদিত হলেও অর্ধেকই পঁচে যায় ।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop