৩:৫৭ অপরাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ১৯, ২০২১ ২:১৭ অপরাহ্ন
ব্রি-২৮ ধান চাষ করে ব্যাপক ক্ষতির মুখে কৃষকরা
কৃষি গবেষনা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আগাম জাতের উচ্চ ফলনশীল ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ধানের নেক ব্লাস্ট (শীষ মরা) রোগের আক্রমণে তারা এখন দিশেহারা। অধিক খরচে আবাদ করে কৃষকের মাথায় এখন হাত পড়েছে।

অনেকেই এখন জমির ধান কেটে বাড়িতে আনতে চান না বলে জানিয়েছেন। ব্রি-২৮ জাতের ধানে চিটার পরিমাণ বেশি হওয়ায় খড় ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না বলে ধান কাটতে অনীহা কৃষকদের। তাদের দাবি শীষ মরা রোগে আক্রান্ত ধানের খড়ও গবাদিপশু খেতে চায় না।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫শ’ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এবছর ১৬ হাজার ২১২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হয়। যার মধ্যে ৩ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮ ধান চাষ করা হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ভরতের ছড়া, উজির পাড়া, মাহিগঞ্জ, লক্ষী মোড়, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজ পাড়, বেলদহ, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের মোগলকাটা, ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার, বাগভান্ডার, ঈশ্বরবরুয়া, কামাত আঙ্গারীয়া, তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুর, বানিয়াটারী, পাথরডুবি ইউনিয়নের মইদাম, বাঁশজানী, শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর তিলাই, দক্ষিণ ধলডাঙ্গা ও কাঠগীর এলাকায় ব্রি-২৮ জাতের ধানের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে চিটায় পরিণত হয়েছে। কৃষকদের মতে এই রোগের নাম ‘শীষ মরা’ আর কৃষি অফিসের মতে এটি ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগ।

আন্ধারীঝাড়ের কৃষক ফজলুর রহমান জানান, এক বিঘা ধান কেটে বাড়িতে নিয়েছি, এই ধানের খড় গরুও খেতে চায় না। অপর কৃষক রফিকুল জানান, বিঘা প্রতি ছয় মণ ধান দেয়ার চুক্তিতে তিন বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ ধান চাষ করেছি। শীষ মরা রোগে সমস্ত জমির ধান চিটা হয়ে গেছে। লাভ তো দুরের কথা, খরচ উঠবে না। জমির মালিক যদি ছাড় না দেন বাজার থেকে ধান কিনে দিতে হবে তাকে।

পাইকের ছড়ার বেলদহ গ্রামের কৃষক ভুট্টু জানান, ধানের শীষের গোড়ার দিকে কালো দাগ হয়, দুইদিনের মধ্যে সমস্ত শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। ওষুধ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। তিনি আরো জানান, তার এক প্রতিবেশীর এক বিঘা জমিতে ১ মণের কম ধান হয়েছে। দক্ষিণ ভরতের ছড়ার কৃষক ইদ্রিস আলী জানান, এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি, ওই জমিতে ৩/৪ মণ ধান হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

একই এলাকার কৃষক শাহ আলম জানান, ৩৮ শতাংশ জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। ধানের যে অবস্থা তাতে ধান কাটা আর না কাটা একই সমান।

অধিকাংশ কৃষকের দাবি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ক্ষেতে ওষুধ স্প্রে করেও শীষ মরা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

সোনাহাট ডিগ্রী কলেজের কৃষি বিভাগের প্রভাষক আজিজুল হক বলেন, ধানের শীষ বের হওয়া শুরু হলে জমিতে সব সময় দুই আড়াই ইঞ্চি পানি রাখলে এবং পটাশিয়াম ও ছত্রাক নাশক স্প্রে করলে ধানের শীষ সাদা হয়ে ধান এত বেশী নষ্ট হবে না এবং ধান নেকব্লাষ্টে আক্রান্ত কম হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, নেকব্লাস্ট দমনে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ব্রি-২৮ জাতটি বর্তমান সময়োপযোগী নয়। কৃষি অফিসের তৎপরতায় ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ গত বছরের তুলনায় এবছর অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। জমিতে অধিক পরিমাণে ইউরিয়া ও ডিএপি সার প্রয়োগ, পরিমাণ মতো এমওপি সার প্রয়োগ না করার কারণে নেকব্লাস্টের পরিমান বেড়ে গেছে। প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেয়া জমিতে ৬৬ লিটার ওষুধ মেশানো পানি স্প্রে করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষি অফিস থেকে। কৃষকরা সঠিকভাবে স্প্রে না করায় নেক ব্লাস্ট প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। তিনি কৃষকদের ব্রি-২৮ জাতের পরিবর্তে ব্রি-৭৪, ব্রি-৮৬, ব্রি-৮৯ ও ব্রি-৯২ জাত চাষ করার পরামর্শ প্রদান করেন।

 

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৯, ২০২১ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন
সাদুল্যাপুরে বাড়ছে বিষমুক্ত সবজি চাষ
কৃষি গবেষনা

সাদুল্যাপুর উপজেলার হাট-বাজারে মিলছে বিষমুক্ত সবজি। আর এই বিষমুক্ত সবজির চাহিদা ব্যাপক থাকায় কৃষকরাও হচ্ছেন লাভবান।সেক্সফেরোমন পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা এখন কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়াই বেগুন, পটোল, করলা, ঢ্যাঁড়শ, শসা, টমেটো, বরবটি, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, লালশাক এবং পুইশাক চাষ করছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪৬০ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বেগুন ১০৫ হেক্টর জমিতে, পটোল ৫৫ হেক্টরে, করলা ১০০ হেক্টরে, শসা ৮০ হেক্টরে, টমেটো ২০ হেক্টরে, ঝিঙ্গা ৮ হেক্টরে, চিচিঙ্গা ১০ হেক্টরে, চালকুমড়া ১২ হেক্টরে, মিষ্টিকুমড়া ১৫ হেক্টরে, বরবটি ২০ হেক্টরে, ঢ্যাঁড়শ ১০ হেক্টরে, লালশাক ১০ হেক্টরে এবং পুইশাক চাষ করা হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে। বিষমুক্ত উপায়ে চাষ পদ্ধতির এসব ফসল এখন হাট-বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা এক সময় বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে নানা ধরনের কীটনাশক স্প্রে করতেন। এসব কীটনাশক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত\হক্ষতিকর। তাই তাদের সেক্সফেরোমন পদ্ধতিতে কীটনাশক ছাড়াই বেগুনসহ অন্যান্য সবজি চাষ পদ্ধতি শেখানো হয়েছে। এভাবে সবজি চাষ করে তারা\হবেশ ভালো ফলন পাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া জানান, কৃষকদের বিষমুক্ত উপায়ে সবজি চাষে আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের উপজেলা পরিষদের কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এনে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিষমুক্ত সবজি চাষের সুফল ও গুণাগুণ সম্পর্কে বোঝানো হয়েছে। যার কারণে তারা এখন বিষমুক্ত সবজি চাষে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে উপজেলার ধাপেরহাট, ইদিলপুর, ভাতগ্রাম, ফরিদপুর ও জামালপুর ইউনিয়নে সর্বাধিক জমিতে এখন বিষমুক্ত সবজি চাষ করেছেন কৃষকরা। তাতে বেশ ভালো উৎপাদন হচ্ছে।

উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনি বিষমুক্ত সবজি চাষ করে আশাতীত ফলন পেয়েছেন। এ সবজি বাজারে নিয়ে গেলে নিমেষেই বিক্রি হয়। ক্রেতারাও এ সবজি খোঁজেন এবং তুলনামূলক বেশি দামেই কেনেন।\হসবজি বিক্রেতা মুন্না সাহা জানান, অন্য যে কোনো সবজির চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয় বিষমুক্ত সবজি। অনেক ক্রেতা আগেই জানিয়ে রাখেন বিষমুক্ত সবজির কথা। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান জানান, কৃষকদের\হকীটনাশক ছাড়াই ফসল ফলাতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষক, কৃষি ও ক্রেতারা সবাই উপকৃত হবেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৮, ২০২১ ৫:২৪ অপরাহ্ন
হিট শকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় ৪২ কোটি টাকার প্রণোদনা : কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

সম্প্রতি দেশজুড়ে উচ্চ তাপমাত্রা বা হিট শকে ধানের ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষিতে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ তাপ সহনশীল ধানের জাত এবং এ সংক্রান্ত গবেষণার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য আজ রোববার (১৮ এপ্রিল ২০২১) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা মাঠে ছুটে আসেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। ভবিষ্যতে উচ্চ তাপমাত্রাজনিত বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য বিজ্ঞানীরা কি ধরনের গবেষণা করছেন মূলত সে সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভের জন্য তিনি অনেকটা আকস্মিকভাবেই ব্রির গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেন।

প্রায় ঘণ্টাধিককাল ধরে তিনি গাজীপুরে ব্রির গবেষণা মাঠে উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল ধানের গবেষণা প্লটসহ ব্লাস্ট ও বিএলবি প্রতিরোধী ধানের অগ্রগামি জাত, ব্রি উদ্ভাবিত বাসমতি টাইপ ধান, হাইব্রিড ধানের গবেষণা এবং ব্ল্যাক রাইসসহ বিভিন্ন উন্নত গুণ সম্পন্ন জাতের প্লটসমূহ পরিদর্শন করে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর মন্ত্রীকে বিভিন্ন গবেষণা প্লট সর্ম্পকে ব্রিফ করেন।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বুঝতে পেরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০১৩ সাল থেকে উচ্চ তাপমাত্রা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের গবেষণা শুরু করে। উচ্চ তাপমাত্রা সহিষ্ণু এন২২ (ঘ২২) জাতের সাথে বোরো মওসুমের জনপ্রিয় আধুনিক জাত ব্রি ধান২৮ এর সঙ্করায়ণ করে মার্কার এসিসটেড ব্যাকক্রসিং পদ্ধতির মাধ্যমে একটি অগ্রগামি সারি নির্বাচন করেছে যা মধ্যম মাত্রার উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল। এ সারিটি বর্তমানে আঞ্চলিক ফলন পরীক্ষণ পর্যায়ে রয়েছে। ফলন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হলে এটিকে জাত হিসেবে অনুমোদনের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ডে আবেদন করা হবে। জাত হিসেবে অনুমোদিত হলে ফুল ফোটা পর্যায়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি হলেও এ সারিটি আশানুরূপ ফলন দিতে পারবে।

পরিদর্শনকালে তিনি সুপার হাইব্রিড ইউএস৮৮ (টঝ-৮৮) এবং ব্রি উদ্ভাবিত বোরো মওসুমের ব্রি হাইব্রিড ধান৩, ব্রি হাইব্রিড ধান৫, ব্রি হাইব্রিড ধান৮ (প্রস্তাবিত) এবং বহুল প্রচলিত হাইব্রিড ঝখ-৮ ও তেজ গোল্ডের ফলনের তুলনামূলক পরীক্ষণ এবং ব্রি হাইব্রিড ধান৫ এর বীজ উৎপাদন প্লট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি খাদ্য নিরাপত্তায় ব্রির বিজ্ঞানীদের প্রস্তুতি ও গবেষণা অগ্রগতি দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং ব্রি বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানান। এ সময় বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, ব্রি’র পরিচালক (গবেষণা) ড. কৃষ্ণপদ হালদার, পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী ড. মো, আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশজুড়ে হিট শকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৪২কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ও সহায়তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে দেশের মেহনতি কৃষক ভাইদের এমন বিপর্যয় এর মুখোমুখি হতে না হয় সেজন্যেই উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল এবং রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধক উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রী বর্তমানে বৈরী পরিবেশ উপযোগী বিভিন্ন সহনশীল ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন জাত উদ্ভাবনের গবেষণা অগ্রগতি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা দেখে ব্রির বিজ্ঞানীদের ভূয়শী প্রশংসা করেন।

এসময় ব্রিতে বহুল প্রত্যাশিত পেনশন স্কিম চালু করায় ব্রির সর্বস্তরের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় কৃষিমন্ত্রীকে ধণ্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এর আগে রোববার সকালে তিনি গাজীপুরের নীলের পাড়ায় কম্বাইন হার্ভেস্টারের মাধ্যমে স্কয়ার হসপিটালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর ডা. সানোয়ার হোসেনের আবাদকৃত ব্রি ধান৫০ (বাংলামতি) এর শস্য কর্তন প্রত্যক্ষ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৮, ২০২১ ৪:৪২ অপরাহ্ন
পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়ছে বাগেরহাটের চাষিদের
কৃষি বিভাগ

স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় পেঁপে চাষের দিকে আগ্রহ বাড়ছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের প্রান্তিক চাষিদের। ভাল ফলন পেতে বারি জাতের শাহিরাচি, কাশিমপুরী, হানিডিউ, পুশাজাজেন্টসহ বিভিন্ন জাতের পেঁপের চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের কৃষক মো. আব্দুল খালেক শেখ জানান, এ বছর ১০ বিঘা জমিতে পেঁপে গাছ লাগিয়েছেন। প্রথম বার পেঁপের চারা লাগানোসহ বিভিন্ন ধরনের পরিচর্যায় প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতিমণ পেঁপে ৩শ’ টাকা দরে বিক্রি করছেন। চলতি বছর ৬ থেকে ৮ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

একই গ্রামের কৃষক মো. কাদের শেখ জানান, পেঁপে একটি লাভজনক ফসল। তিনি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে পেঁপে গাছ লাগিয়েছেন। চলতি বছরে এ ক্ষেত থেকে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি হবে।

কৃষি বিভাগের সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় ৪৯৮ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হয়েছে। যেখান থেকে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন পেঁপে উৎপাদিত হবে বলে আশা করছেন তারা। এছাড়াও ভাল ফলন পেতে বারি জাতের শাহিরাচি, কাশিমপুরী, হানিডিউ, পুশাজাজেন্টসহ বিভিন্ন জাতের পেঁপের চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সিফাত আল-মারুফ জানান, একবার চারা লাগালে ৩ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। যারফলে দিন দিন পেঁপে চাষিদের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়াও বাজারে পেপের ব্যাপক চাহিদা থাকার পাশাপাশি চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৮, ২০২১ ৩:৫১ অপরাহ্ন
খুলনায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে সবজি বিতরণ
কৃষি বিভাগ

করোনা সংক্রমণ রোধে সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন। আর এই লকডাউন এবং পবিত্র রমজানে মাস উপলক্ষে খুলনায় কর্মহীন হতদরিদ্রদের মধ্যে শুরু হয়েছে বিনামূল্যে সবজি বিতরণ।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) মহানগরীর চার নম্বর ওয়ার্ডের দৌলতপুর দেয়ানা যশোর মোড় এলাকায় মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে সবজি বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. শফিকুর রহমান পলাশ।

মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. শফিকুর রহমান পলাশ বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশব্যাপী চলছে কঠোর লকডাউন। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। কর্মহীন ও দরিদ্র এসব মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়েছে খুলনা মহানগর যুবলীগ। যার ধারাবাহিকতা লকডাউন চলাকালীন সময় প্রতিটি ওয়ার্ডে বিনামূল্যে সবজি, ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ৪ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে।

খুলনা মহানগর যুবলীগের আয়োজনে সরকারি বিএল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও মহানগর যুবলীগের সদস্য মেহেদী হাসান মোড়লের উদ্যোগে সবজি বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুর ইসলাম, দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওহিদুজ্জামান, চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু আসলাম মোড়ল, মহানগর যুবলীগের সদস্য অভিজিৎ চক্রবর্তী দেবু, আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুজ্জামান খোকন, শেখ শহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম বাপ্পী, সাফায়েত হোসেন, হাবিব মোড়ল, মাহবুব মোড়ল, সাবেক ছাত্রনেতা বাচ্চু মোড়ল, পলাশ মন্ডল, আসাদুজ্জামান আসাদ, নওরজ জাহান আদর, যুবলীগ নেতা ইবাদ মোড়ল, আরিফ মোড়ল, ইব্রাহিম মোড়ল, শেখ নাদিম, সুমন দাস, ছাত্রনেতা রিপন মোড়ল, লিপু মোড়ল, নাজিম হোসেন ইমু, আল আমিন প্রমুখ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৭, ২০২১ ৫:৪০ অপরাহ্ন
যমুনার চরে জৈব পদ্ধতিতে বাড়ছে চাষাবাদ
কৃষি বিভাগ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর চরগুলোতে এ মৌসুমে আবাদ করা হয়েছে মরিচ, মশুর, বুট, খেসারি কালাই, ভুট্টা, বেগুন, মিষ্টি আলু, তিল, তিশি, কালো জিরা, চিনা বাদামসহ নানা ফসল। চারদিকে দেখা মিলে যেন সবুজের সমারোহ।

বৈশাখী চরের ভুলু মন্ডল জানান, চর ভেঙে যাওয়ার পর এখন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পশ্চিমপাড়ে বানিয়াজান গ্রামে বাড়ি করেছি। বর্ষাকালে সব পানিতে একাকার থাকলেও গ্রীষ্মে জেগে ওঠে জমি। চর বলতে শুধুই বালু নয়, পলিও পড়ে। সেই পলিমাটিতে ফসলের বীজ বপন করলেই অনেক ফসল পাওয়া যায়। সার, সেচ দিতে হয় না।তিন বিঘা জমিতে বাদাম করেছেন। এক বিঘার বাদাম জমি থেকে উঠিয়েছেন। সার, কীটনাশক, পানি ছাড়াই পেয়েছেন আট মণ।

রাধানগর চরের লিয়াকত আলী জানান, বন্যায় ফসল নষ্ট হয়। তবু একটি ফসল ঘরে উঠাতে পারলেই সারা বছরের খাবার হয়। চরের লোকের এক ফসলেই সারা বছর চলে যায়। এখন চরে বাদাম, মশুর, খেসারি, মরিচ, মিষ্টি আলু, কালো জিরা, তিল, তিশি, ভুট্টার মৌসুম চলছে। ফলনও হয়েছে প্রচুর।

নিউ সারিয়াকান্দি চরের আব্দুল মালেক, আব্দুল আজিজ জানান, চরের সবজি থেকে শুরু করে সব ফসলের স্বাদই আলাদা। সার-কীটনাশক ছাড়া চাষ করা হয় বলে এলাকার লোকজন যারা শহরে থাকে তারা এখান থেকে চাল-ডালসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে যায়।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক বলেন, সার, কীটনাশক ছাড়া স্বল্প খরচে কৃষকরা চরে অর্গানিক (জৈব) ফসল উৎপাদন করে। ফলনও হয় প্রচুর। চরের মানুষ এসব অর্গানিক ফসল, সবজি খাওয়ায় তাদের শরীর ভাল থাকে। রোগব্যাধি কম। স্বাদও ভাল। তাই এর চাহিদাও অনেক বেশি। শুধু তাই নয়, চরে ঘাস, খড় খাওয়া গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির রোগও কম হয়। এখন চরেই শুধু অর্গানিক ফসল উৎপাদন হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৭, ২০২১ ২:২৭ অপরাহ্ন
উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কৃষি
কৃষি গবেষনা

।।অর্ঘ্য চন্দ।।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান জীবনীশক্তি হচ্ছে কৃষি। আবহমানকাল ধরে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে কৃষির রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৩.৬ শতাংশ। খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান দশম।

ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে দানাদার খাদ্যশস্যের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪১৫.৭৭ লাখ মেট্রিক টন, উৎপাদন হয়েছে ৪৫৩.৪৪ লাখ মেট্রিক টন, যার ফলে দেশ আজ দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০০৬ সালে দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন ছিলো ২৬১.৩৩ লাখ মেট্রিক টন। এক ও দুই ফসলি জমি অঞ্চল বিশেষে চার ফসলি জমিতে পরিণত করা হয়েছে এবং দেশে বর্তমানে ফসলের নিবিড়তা ২১৬% যেখানে ২০০৬ সালে দেশে ফসলের নিবিড়তা ছিলো ১৮০%।

ধান উৎপাদনে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। খরা, লবণাক্ততা, জলমগ্নতা সহনশীল ও জিংকসমৃদ্ধ ধানসহ এ পর্যন্ত ধানের ১৩৪টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এতে ধান উৎপাদন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৬ সালে শাকসবজির উৎপাদন ছিল ২০ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন যেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সবজি উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৭ হাজার মেট্রিক টন। যার ফলস্বরূপ সবজি উৎপাদনে বিশ্বে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। এছাড়াও আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম।

২০০৯ থেকে বিভিন্ন ফসলের ৬৩১টি উচ্চ ফলনশীল নতুন নতুন জাত ও ৯৪০টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ভাসমান বেডে চাষাবাদ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সবজি ও মসলা উৎপাদন অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ভাসমান বেডে চাষাবাদ পদ্ধতিটিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ২০১৫ সালে কৃষিতে বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে।

২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত বিআরআরআই কর্তৃক ধানের ৫৫টি জাত, বিএআরআই কর্তৃক বিভিন্ন ফসলের ২৫৮টি জাত, বিজেআরআই কর্তৃক পাটের ১৫টি জাত, বিএসআরআই কর্তৃক ইক্ষুর ৯তি জাত ও সুগার বিট, তাল ও স্টেভিয়ার ৪টি জাত, সিডিবি কর্তৃক তুলার ১০টি জাত এবং বিআইএনএ কর্তৃক বিভিন্ন ফসলের ৬৮টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। সরকার ২০১৮ সালে গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে গম ও ভুট্টা গবেষণা আরো সম্প্রসারিত হবে। দেশের জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পুষ্টিবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন টেকসই খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

তাছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যখন লকডাউনে ঘরবন্দি, ঠিক সেই সময়েও মাঠে ছিলেন বাংলার কৃষকরা। তাদের উৎপাদিত ফসলই বাঁচিয়ে রেখেছে ঘরবন্দি ১৬ কোটি মানুষের জীবন। বাঁচিয়ে রেখেছে আমাদের অর্থনীতি। করোনাকালে কৃষির এই অবদান আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে – কৃষিই আসল ভরসা।

কৃষকের এই অবদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তার উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন। সর্বোচ্চ উৎপাদন ও সুষ্ঠ বাজারজাতকরণ কেবল করোনা সংকটে নয়, দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায়ও অবদান রাখবে। বর্তমান সময়ে এদেশের উন্নতির জন্য কৃষিবিদদের অবদান প্রশংসনীয়।

কৃষিবিদদের হাতেই সৃষ্টি হচ্ছে ফসলের নতুন নতুন জাত কিংবা ফসল উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি। কৃষি বিজ্ঞানিদের গবেষণায় ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ফলে দেশ আজ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন সূচকে বিশ্বের জন্য পথিকৃৎ। কৃষিতে এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে সাধারণ কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং কৃষিবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীদের নিরলস গবেষণার ফলে। এগিয়ে যাক আমাদের কৃষি, এগিয়ে যাক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।

লেখক: শিক্ষার্থী (৪র্থ বর্ষ) , কৃষি অনুষদ
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট –৩১০০

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৭, ২০২১ ২:০৫ অপরাহ্ন
একদিনের ব্যবধানে অর্ধেকে নামল সবিজর দাম
কৃষি বিভাগ

রাজধানীর বাজারগুলোতে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর একদিনের ব্যবধানে বেগুন, ঢেঁড়স ও শসার দাম কমেছে। বেগুনের দাম কেজিতে ৫০ টাকার ওপরে কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। ঢেঁড়স ও শসার দাম কমেও প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। একদিনে এ দুটি পণ্যের দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মান ও বাজার ভেদে বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। গতকাল শুক্রবার বেগুনের কেজি বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১২০ টাকা।

বেগুন, ঢেঁড়স ও শসার পাশাপাশি কিছুটা দাম কমেছে পাকা টমেটো, ধুন্দুল, পটল, শিম, বরবটির। এসব সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকার মতো কমেছে। কেজি ৯০ টাকায় উঠে যাওয়া শসার দাম কমে এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গতকাল শুক্রবার ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

বেগুন, শসা, ঢেঁড়সের এমন দরপতনের ব্যবসায়ীরা নূর আলী বলেন, ‘রাজধানীর বাসিন্দাদের বড় অংশ শুক্রবার বাজার করেন। এ কারণে শুক্রবার সবজির দাম একটু বেশি থাকে। রোজার প্রথম শুক্রবার হওয়ায় গতকাল সবজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল এক কেজি বেগুন ১২০ টাকা বিক্রি করেছি , আজ ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করছি, তারপরও ক্রেতা কম। একই অবস্থা শসা ও ঢেঁড়সের। ঠান্ডা সবজি হিসেবে পরিচিত ঢেঁড়সের চাহিদা রোজায় একটু বেশি থাকে। চাহিদা বেশি হওয়ায় গতকাল ঢেঁড়সের কেজি ৮০ টাকা বিক্রি হয়েছে। আজ তা দাম কমে ৫০ টাকায় নেমেছে। আর গতকাল ৯০ টাকা কেজি বিক্রি করা শসা আজ ৬০ টাকা বিক্রি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবজির দাম নির্ভর করে আড়তের ওপর। আড়ত থেকে কম দামে সবজি কিনতে পারলে আমরাও কম দামে বিক্রি করি। ঠিক তেমনি আড়তে দাম বাড়লে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। আজ আড়ত থেকে সব সবজিই গতকালের থেকে কম দামে কিনতে পেরেছি। এ কারণে কম দামে বিক্রি করতে পারছি।’

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মিলন ব্যাপারী বলেন, ‘গতকালের তুলনায় আজ সবজির সরবরাহ বেশি। কিন্তু চাহিদা কম। এ কারণে সবজির দাম কমেছে। সরবরাহ কম সবজির দাম আবার বেড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বাজারে ক্রেতার চাপ বেশি থাকে, এটা সবাই জানে। যে কারণে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে যায়। গতকাল রোজার প্রথম শুক্রবার হওয়ায় ক্রেতাদের চাপ অনেক বেশি ছিল। এ কারণে দামও বাড়ে বেশি হারে।’

এদিকে, গতকাল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া সজনে ডাটার দাম কমে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় নেমে এসেছে। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।’

দাম কমার এ তালিকায় রয়েছে পাকা টমেটো, ধুন্দুল, লাউ, পটল। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, যা গতকাল ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। গতকাল ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ধুন্দুলের দাম কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটলের দাম কমে ৪০ টাকায় নেমেছে।

মালিবাগ হাজীপাড়া বৌবাজারে ব্যবসায়ী জাকির বলেন, ‘আড়তে আজ সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। এ কারণে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারছি। আড়তে দাম আরও কমলে আমরাও আরও কম দামে বিক্রি করতে পারবো। তবে রোজায় সবজির দাম আরও কমার সম্ভাবনা কম। বরং আমাদের ধারণা সবজির দাম আবার বেড়ে যাবে।’

বাজারটি থেকে সবজি কেনা আমেনা বেগম বলেন, ‘দাম কমার পরও এখনও সব ধরনের সবজির দাম বেশি। টমেটো ছাড়া এখনও তো ৫০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। এতো দাম দিয়ে সবজি কিনে খাওয়া আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খুব কষ্টের।’ সূত্র: জাগো নিউজ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৭, ২০২১ ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
দিনাজপুরে আলুর বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ ৭ উপজেলায় হয়েছে এবার আলুর বাম্পার ফলন। তবে সংরক্ষণের জন্য মাত্র একটি হিমাগার থাকায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন সেখানকার আলু চাষিরা।

জানা যায়, দিনাজপুরের দক্ষিণাঞ্চলের ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর উপজেলার ১০ হাজারেরও বেশি আলু চাষি প্রতিবছর তাদের উৎপাদিত আলু এবং আলুর বীজ, সংরক্ষণের জন্য নির্ভর করে হিমাগার ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজের উপর। এই হিমাগারে নির্দিষ্ট পরিমাণ আলু ও আলু বীজ সংরক্ষণ করতে পারলেও জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন চাষিরা। সংরক্ষণ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে চাষিরা কম দামে আলু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীদের কাছে। এতে তাদের লোকশান গুণতে হচ্ছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা গোপালপুর গ্রামের আলু চাষি সুবাস চন্দ্র ও লালপুর পাঠকপাড়া গ্রামের প্রদীপ কুমার জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকাসহ প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না আসায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রথম দিকে বাজারে আলুর একটু আশানুরূপ দাম পাওয়া গেলে এখন দাম পড়ে গেছে। তবে আলু এবং আলু বীজ হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারলে আগামীতে ভালো দাম পাওয়া যেতো। কিন্তু হিমাগারে জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা তাদের আলু বিক্রি করে দিয়েছেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ৭ উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ৩৪৪ হেক্টর জমি। কিন্তু চাষিরা চাষ করেছেন ১৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৩০৭ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার অধিক। উপজেলা ভিত্তিক আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ফুলবাড়ীতে ১ হাজার ৮২০ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ২ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে। চিরিরবন্দরে ২ হাজার ৭৯০ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। বিরামপুরে ১ হাজার ৮৬৯ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। নবাবগঞ্জে ১ হাজার ৪৪৯ হেক্টর কিন্তু চাষ হয়েছে ১ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে। হাকিমপুরে ৮৯০ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ৯০৫ হেক্টর জমিতে। ঘোড়াঘাটে ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। পার্বতীপুরে ৩ হাজার ৯৭৬ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ৪ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে। উল্লেখিত ৭ উপজেলার মধ্যে ১টি মাত্র হিমাগার আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে। যা আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা ৬০ কেজি ওজনের ১ লাখ ৫৬ হাজার বস্তা।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইকবাল জানান, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন। আলু বীজের দাম বেশি থাকায় আলুর উৎপাদন খরচও বেড়েছে। গত বছর আলুতে আশানুরূপ লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এ বছর বেশি জমিতে আলু চাষ করেছেন।

ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজের সুপারভাইজার মোজাম্মেল হক জানান, হিমাগারে ১ লাখ ৫৬ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণের ধারণ ক্ষমতার পুরোটাই ভরে গেছে। হিমাগারে প্রধান গেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও চাষিরা আলু নিয়ে এসে ভিড় করছেন। কিন্তু হিমাগারে তো আর জায়গা নেই, নিরুপায় হয়ে তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। তবে এ বছর ব্যবসায়ীদের চেয়ে কৃষকদের আলু বেশি সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৬, ২০২১ ৮:০২ অপরাহ্ন
সবুজ মাঠে বেগুনি ধানে বিস্ময়, দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়
কৃষি বিভাগ

বেগুনী রঙের এই ধানের আবাদ করেছেন সাংবাদিক শেখ হেদায়েতুল্লাহ।রোপনকৃত এ পারপেল লিফ রাইস (বেগুনি ধান) দেখতে তাই জড়ো হচ্ছেন উৎসুক জনতা।  প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা পথচারীরা ভিন্ন রঙের এই ধান দেখতে ভিড় জমান। অনেকেই ক্ষেতের বেড়া টপকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নিয়ে যান। ধানের শীষ তুলে নিয়ে যান। সে কারণে সার্বক্ষণিক পাহারায় রাখতে হচ্ছে বেগুনি রঙা ধানের জমিটিকে।

জানা গেছে, বেসরকারী একটি সংস্থা গত আমন মৌসুমে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরায় পরীক্ষা মূলকভাবে এই ধানের আবাদে উৎসাহী করেন চাষীদের। যদিও এই ধান বোরো মৌসুমের। দেশে সর্বপ্রথম এ জাতের ধানের আবাদ শুরু হয়েছিল গাইবান্ধা জেলায়। সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এ ধান। ধানের রঙ সোনালি আভাযুক্ত বেগুনি ও চালের রঙ বেগুনি। উফশী জাতের এ ধানে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকটাই কম হয়। রোপণ থেকে ধান পাঁকতে সময় লাগে ১৪৫-১৫৫ দিন। অন্য জাতের ধানের চেয়ে এ ধানের একর প্রতি ফলনও বেশ ভালো।

ধানচাষী সাংবাদিক শেখ হেদায়েতুল্লাহ জানান, দ্যা সালভেশন আর্মি নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে এ ধানের বীজ সংগ্রহ করে আবাদ করেছি। ভিন্ন জাতের ধান হওয়ায় মানুষের মাঝে বিশেষ আকর্ষণও তৈরি হয়েছে। ধানের শীষ বেরিয়ে গেছে অনেকে শীষ তুলে নিয়ে যাচ্ছে তাই সার্বক্ষণিক পাহারা দিতে হয়।

দ্যা সালভেশন আর্মীর প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডানিয়েল হালদার জানান, একর প্রতি ফলন ৫৫ থেকে ৬০ মণ হয়ে থাকে। অন্য সব ধানের তুলনায় এ ধান মোটা, তবে পুষ্টিগুণ অনেক। এ চালের ভাত খেতেও সুস্বাদু। ধানের ভাত থেলে ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপসহ জটিল রোগের ক্ষেত্রে মেডিসিনের কাজ করে। সে হিসেবে এক মেডিসিনাল রাইসও বলা হয়।

বেগুনি রঙের এই ধান বিদেশি নয়। এটি আমাদের দেশি জাতের ধান। আগে অন্য জেলায় চাষ হয়েছে, এবার প্রথমবারের মতো খুলনায় চাষ হচ্ছে। এটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop