৪:৪২ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ১০, ২০২১ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
মৌলভীবাজারে অগ্নিকাণ্ডে গরু-ছাগল পুড়ে ছাই!
প্রাণিসম্পদ

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে বাছুরসহ ৪টি গরু, ২টি ছাগলসহ আসবাবপত্র এবং নগদ ১ লাখ টাকা পুড়ে ছাই হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ লক্ষাধিক টাকার মত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাঠানটুলা গ্রামের মোস্তফা বক্সের বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাতে গরুর ঘরে আগুন লাগে। এসময় গরুঘর থেকে বসতঘরেও আগুন ছড়িয়ে পরে। এতে বসতঘরে আগুন জ্বলতে দেখে বাড়ির বাসিন্দারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই অগ্নিকাণ্ডে নগদ ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্র, ৪টি গরু ও ২টি ছাগল পুড়ে গেছে।

রাজনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গোয়াল ঘরের কয়েলের আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করেছেন ফায়ার সার্ভিস।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১০, ২০২১ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
কলমাকান্দায় দুধ, ডিম ও মাংসের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রম শুরু
প্রাণিসম্পদ

“মুজিববর্ষের অঙ্গীকার নিরাপদ প্রাণিজ পুষ্টি হবে সবার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী করোনা (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ পদ্ধতিতে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয়ের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু হয়।

গতকাল শুক্রবার(৯ এপ্রিল) এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সম্মানিত উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আব্দুল খালেক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ সোহেল রানা।

উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি মহোদয় সরকারের এ কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় বলেন, এর দ্বারা এ এলাকার জনসাধারণ বিশেষভাবে উপকৃত হবে।

এলডিডিপির সহযোগিতায় এ কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে শুরু ও চলমান রাখার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান ও তত্ত্বাবধানের জন্য সম্মানিত পরিচালক, ময়মননসিংহ জনাব সুখেন্দু শেখর গায়েন স্যার এবং ডিএলও, নেত্রকোণা জনাব ডা. মনোরঞ্জন ধর স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২১ ৬:১৬ অপরাহ্ন
সিরাজগঞ্জে দুধ-ডিম-মাংসের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন
পাঁচমিশালি

সিরাজগঞ্জে ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, নিরাপদ প্রাণিজ পুষ্টি হবে সবার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকল্পে ​করোনা পরিস্থিতিতে ন্যায্যমূল্যে ভ্রাম্যমাণ দুধ, ডিম ও সোনালী মুরগীর মাংস বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকার স্বাধীনতা স্কয়ারে এই বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. শেখ মো. আজিজুর রহমান।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (বাজেট) ডা. মোহাম্মাদ আলী, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আক্তারুজ্জামান ভুইঁয়া, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশিদ, প্রাণি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মৌসুমী খাতুন, তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোহেল আহমেদ, কামারখন্দ উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাঈদ প্রমুখ।

উদ্বোধনের আগে মহাপরিচালককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রাণি সেবা কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ) ও বাংলাদেশ পোল্ট্রি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএফএ) বাস্তবায়নে এবং প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি), প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সারাদেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জ জেলা ও উপজেলা সদরগুলোতে ১০ দিনব্যাপী মোট ৪৪টি ন্যায্যমূল্যের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

এ কেন্দ্রগুলোতে ফার্মের মুরগির ডিম ২৬ টাকা হালি, ফার্মের গরুর দুধ ৫০ টাকা প্রতি কেজি ও সোনালী মুরগির মাংস প্রতি কেজি ২৫০ টাকা মূল্যে বিক্রি করবে বলে ‍জানা যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২১ ৫:৩০ অপরাহ্ন
নতুন খামারী হয়েও কোন লসের মুখ দেখেননি হৃদয়
পোলট্রি

মো. হৃদয় একজন নতুন সফল খামারী। তিনি কুষ্টিয়া জেলার খোকশা উপজেলার রাধানগরের মো.ইউনুছ আলী প্রামানিকের ছেলে। চাকরী না করে অন্যকে চাকরী দেয়ার মানসিকতা থেকেই খামারের দিকে ঝুঁকেছিলেন তিনি। ফরিদপুর পলিটেকনিক্যালে ইঞ্জিয়ার ৪র্থ সেমিস্টারে পড়া অবস্থায় তিনি গড়ে তুলেন খামার। আর এই খামার করতে গিয়ে এখনও কোন লসের মুখ দেখেননি এই নতুন খামারী মো. হৃদয়। এগ্রিভিউ২৪.কম এর একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তার সফলতার গল্প।

হৃদয় জানান, তিনি ২০২০ সাল থেকেই পাশের গ্রামের বন্ধুর দেখাতে শুরু করেন খামার। প্রথমে মাত্র ৩০০০ টাকায় ২০০ সোনালি মুরগির বাচ্চা দিয়ে শুরু করেন খামার। আর তাতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২২ হাজার টাকার মত। তিনি সেই প্রথম সেডে লাভ করেন প্রায় চার হাজার টাকার মত। যা ছিলো তাঁর অনুপ্রেরণার প্রথম মাধ্যম।

২য় সেড তিনি শুরু করেন ৭ হাজার টাকার ৬০০ বাচ্চা দিয়ে। যাতে মোট খরচ হয় প্রায় ৭২ হাজার টাকার মত। আর তিনি তাতে লাভ করেন ২৫ হাজার টাকার মত। তারপরে খামার বিভিন্ন কারণে বন্ধ রাখেন কয়েক মাস। কয়েক মাস বন্ধ রেখে আবার ২০২১ সালে জানুয়ারি মাসে তিনি শুরু করেন ব্রয়লার দিয়ে খামার। আর তাতেও লাভের মুখই দেখেন এই নতুন খামারী হৃদয়।

এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে হৃদয় জানান, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে এসে তিনি ২৮০টি বাচ্চা দিয়ে শুরু করেন। আর তাতে তথা ২০২১ সালের প্রথম সেডে তিনি লাভ করেন প্রায় ১৩ হাজার টাকার মত। আর বর্তমানে তার খামারে ৫০০ বাচ্চা আছে যার বয়স মাত্র ২২ দিন। ইনশাআল্লাহ সব ঠিক থাকলে এবারও তিনি লাভের আশা করছেন বলে জানান এগ্রিভিউ২৪‘কে।

যদিও সফলতার গল্প শুনিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগও তার কম না। বাজারে বাচ্চার মূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় হতাশার কথাও তিনি শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এভাবে বাচ্চার দাম বৃদ্ধি পেতে থাকলে আমরা যারা উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা করেছি আমাদের পথে এটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তাছাড়া খাবারের দামও অধিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে ২২‘শ টাকার খাবারের বস্তা এখন প্রায় ২-৩‘শ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়। যার কারণে নতুন খামারিরা সামনে এগোতে ভয় পাচ্ছে। একদিকে বাড়ছে মুরগির বাচ্চার দাম আর অন্যদিকে খাবারের দাম। এই দুটোতে সামঞ্জস্য আনার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২১ ৪:৫৬ অপরাহ্ন
সাতক্ষীরায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে অর্ধশত গরু-ছাগলের মৃত্যু
প্রাণিসম্পদ

একদল বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের আক্রমণে গত এক মাসের ব্যবধানে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে অর্ধশত গরুর বাছুর, ছাগল ও ভেড়ার মৃত্যু হয়েছে।

বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম মোল্যা জানান, একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি এ খবর জানতে পেরেছেন। কিন্তু পশু মারার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকায় তিনি বিষয়টি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। আশা করছি দ্রুত এসব বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর নিধনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফকরাবাদ গ্রামের একজন জানান, গত একমাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া, ফকরাবাদ, গোয়ালডাঙ্গা, জেলপাতুয়া, বামনডাঙ্গা, ডুমুরপোতা, নড়েরাবাদ, জামালনগরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন বিলে ২০-২৫টি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর ঘোরাফেরা করছে। এসব কুকুর বিলের মধ্যে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেয়া গরুর বাছুর, ছাগল, ভেড়া ধরে কামড়ে মেরে ফেলছে। এসময় কুকুর ওই পশুর পেটের চামড়া ছিঁড়ে ফেলে অল্প একটু মাংস খেয়ে সেটি ফেলে রেখে আবার আরেকটির ওপর আক্রমণ করছে। এভাবে গত একমাসের ব্যবধানে ওই এলাকায় কুকুরের কামড়ে অর্ধশত গরুর বাছুর ও ছাগল-ভেড়ার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ অবস্থা দেখে স্থানীয়রা তাদের গবাদিপশু ঘাস খাওয়ার জন্য বিলে ছাড়তে সাহস পাচ্ছে না। এমনকি এসব বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের ভয়ে ওই এলাকার সাধারণ মানুষও বিলে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসেইন খান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২১ ২:৪৫ অপরাহ্ন
গর্ভবতী গাভীকে যা খাওয়াবেন
প্রাণিসম্পদ

গাভী গর্ভবতী হলে খাবারের আনতে হবে ভিন্ন যত্ন। তাতে করে ভালো থাকবে গাভী এবং গাভীর পেটের বাচ্চাও। আর এই জন্য জানা উচিত গর্ভবতী গাভী কি খাওয়াতে হবে।

গর্ভবতী গাভীকে যা খাওয়াবেন
গর্ভবতী গাভীকে প্রতিদিন ১৪-১৫ কেজি সবুজ ঘাস, ৩-৪ কেজি খড়, ২-৩ কেজি দানাদার খাদ্য একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।

দানাদার খাদ্য
দানাদার খাবারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উপাদান হচ্ছে-
১. গমের ভূষি- ১ কেজি।
২. খেসারি ভাঙা- ১ কেজি।
৩. খৈল- ২৫০ গ্রাম।
৪. চাউলের গুড়া- ৫০০ গ্রাম।
৫. লবণ- ৫০ গ্রাম।
৬. খনিজ মিশ্রণ- ৫০ গ্রাম।
৭. চিটাগুড়- ১৫০ গ্রাম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২১ ২:২১ অপরাহ্ন
পশুর ক্ষুরা রোগ দেখা দিলে যা করবেন
প্রাণিসম্পদ

বাংলাদেশের সব ঋতুতে ক্ষুরা রোগ দেখা গেলেও বর্ষার শেষে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়।পশুর জন্য ছোঁয়াচে প্রকৃতির ভাইরাসজনিত রোগের মধ্যে এই ক্ষুরা রোগ অন্যতম। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হরিণ ও হাতিসহ বিভক্ত ক্ষুরা বিশিষ্ট প্রাণির এ রোগ হয়ে থাকে।

কখন বুঝবেন পশুর ক্ষুরা রোগ হয়েছে:
পশু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের তাপমত্রা বেড়ে যায়। জিহ্বা, দাঁতের মাড়ি, সম্পূর্ণ মুখ গহ্বর, পায়ের ক্ষুরের মাঝে ঘা বা ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ক্ষত সৃষ্টির ফলে মুখ থেকে ফেনাযুক্ত লালা বের হয়। কখনো বা ওলানে ফোসকা পড়ে। পশু খোঁড়াতে থাকে এবং মুখে ঘা বা ক্ষতের কারণে খেতে কষ্ট হয়। অল্প সময়ে পশু দুর্বল হয়ে পড়ে। এ রোগে গর্ভবতী গাভির প্রায়ই গর্ভপাত ঘটে। দুধালো গাভির দুধ উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। বয়স্ক গরুর মৃত্যুহার কম হলেও আক্রান্ত বাছুরকে বাঁচিয়ে রাখা খুবই কঠিন। বলা চলে ৬ মাস বয়সের নিচে আক্রান্ত বাছুরের ৯৫ শতাংশই মারা যায় এই ক্ষুরা রোগে।

কিভাবে বিস্তার করে এই রোগ:
ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত পশুর লালা, ঘায়ের রস, মল-মূত্র, দুধ ইত্যাদির মাধ্যমে এই ভাইরাস বের হয়। এ ভাইরাস বাতাস ও খাদ্যের মাধ্যমে সংবেদনশীল পশুতে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত গরু ও মহিষের সংস্পর্শে এ ভাইরাস সুস্থ পশুতে সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত পশুর ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও পশুজাত দ্রব্যের (চামড়া, মাংস, দুধ ইত্যাদি) মাধ্যমে এ ভাইরাস এক স্থান থেকে অন্য স্থানে এমনকি বাতাসের মাধ্যমে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ক্ষুরা রোগ।

ক্ষুরা রোগের চিকিৎসা:
ক্ষুরা রোগের চিকিৎসায় প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখতে হবে। অসুস্থ পশুর ক্ষত পটাশ মেশানো পানি (০.০১ শতাংশ পটাশিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট) দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। ফিটকিরির পানি ১০ গ্রাম (২ চা চামচ) ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। সোহাগার খৈর গুড়া করে মধু মিশিয়ে মুখের ঘায়ে প্রলেপ দিতে হবে। নরম খাবার দিতে হবে। পশুকে শুষ্ক ও ছায়াযুক্ত স্থানে মেঝেতে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কাদা মাটি বা পানিতে রাখা যাবে না। খাওয়ার সোডা ৪০ গ্রাম ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে পায়ের ঘা পরিষ্কার করে সালফানিলামাইড পাউডার লাগাতে হবে। মাছি থেকে সাবধান থাকতে হবে, যাতে পোকা না দিতে পারে।

লক্ষণীয়:
ওষুধ লাগানোর আগে পায়ের ঘা হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দ্বারা পরিষ্কার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। আক্রান্ত গরু মহিষকে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য পেনিসিলিন বা অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ইনজেকশন দিতে হবে (চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে)। মুখে ঘায়ের কারণে অতিরিক্ত লালা নির্গত ও খাওয়া ছেড়ে দিলে অবশ্যই স্যালাইন (৫% গ্লুকোজ+০.৯% সেডিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত) শিরায় পুশ করতে হবে। এর সঙ্গে ভিটামিন বি-কম্প্লেক্স ইনজেকশন প্রয়োগে ঘা সেরে ওঠার পাশাপাশি খাওয়ার আগ্রহ বাড়বে। তবে সতর্ক থাকতে হবে- শুধু গ্লুকোজ ইনজেকশন প্রয়োগ করা যাবে না।

ক্ষুরা রোগের প্রতিরোধ:
রোগ যাতে না ছড়ায় সে জন্য আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষুরা রোগসহ যে কোনো মৃত পশুকে ৪-৫ ফুট মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। কোনোভাবেই খোলা স্থানে ফেলে রাখা যাবে না। ৬ মাসের কম বয়সের বাচ্চাকে অসুস্থ গাভির দুধ খাওয়ানো যাবে না এবং আলাদা স্থানে রাখতে হবে।

টিকা:
সুস্থ গবাদি পশুকে বছরে দু’বার প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে। ক্ষুরা রোগের টিকা স্থানীয় উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে পাওয়া যায়। সময়মতো এই টিকা দিলে প্রতিহত করা যাবে এই ক্ষুরা রোগ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২১ ১২:২২ অপরাহ্ন
১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা
প্রাণিসম্পদ

গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পে দ্রুত লাভবান হতে গিয়ে অনেকেই ভুল করে বসেন। অনেক খামারি ভাবেন গরুকে বেশি বেশি খাদ্য প্রদান করলে স্বাস্থ্য ভাল থাকবে এবং দ্রুত গরু মোটাতাজা হবে। আসলে ব্যাপারটি তেমন নয়।

প্রতিটি প্রাণীরই খাদ্য খাওয়ার একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠি থাকে। যেমন মানুষ প্রতিদিন তিনি বেলা খেয়ে থাকেন এবং পরিমিত হারে খেয়ে থাকেন তেমনি গবাদিপশুকেও পরিমিত হারে খাদ্য প্রদান করতে হবে।

গরুর দোহিক ওজনের ভিত্তিতে খাদ্য প্রদানের হার নির্ধারণ করা যায়। আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক গরুর দৈহিক ওজনের ভিত্তিতে দৈনিক কি পরিমাণ খাদ্য দেয়া যেতে পারে-

১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা উপাদান পরিমাণ

ধানের খড় ২ কেজি
সবুজ ঘাস ৪-৫ কেজি (ঘাস না থাকলে খড় ব্যবহার করতে হবে

দানদার খাদ্যে মিশ্রন ১.২-২.৫ কেজি
ইউরিয়া ৩৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)

চিটাগুড়া ২০০-৪০০ গ্রাম
লবণ ২৫ গ্রাম

দানাদার খাদ্যের সাথে লবণ, ইউরিয়া, চিটাগুড় এক সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার দিতে হবে। ধানের খড় এবং কাঁচা ঘাস ছোট ছোট করে কেটে এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

১৫০ কেজি ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা উপাদান পরিমাণ

ধানের খড় ৩ কেজি
কাঁচা ঘাস ৫-৬ কেজি

দানাদার খাদ্যের মিশ্রন ১.৫-২ কেজি
চিটাগুড় ৫০০ গ্রাম

ইউরিয়া ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুয়ায়ী)
লবন ৩৫ গ্রাম

১৫০-২০০ কেজি ওজনের পশুর খাদ্য তালিকা উপাদান পরিমাণ

ধানের খড় ৪ কেজি
কাঁচা ঘাস ৫-৬ কেজি

দানাদার খাদ্যের মিশ্রন ১.৫-২ কেজি
চিটাগুড় ৫০০ গ্রাম

ইউরিয়া ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)
লবন ৩৫ গ্রাম

মোটাতাজাকরণের গরুকে সর্বক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ জাতীয় খাবার (খড়, কাঁচা ঘাস) এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।

গবাদীপশুকে ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রদানে কিছু কিছু সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত।
১। এক বছরের নিচে গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
২। কখনও মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না
৩। গর্ভাবস্থায় ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
৪। অসুস্থ গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না, তবে দূর্বল গরুকে পরিমাণের চেয়ে কম খাওয়ানো যেতে পারে।
৫। ইউরিয়া খাওয়ানোর প্রাথমিক অবস্থা (৭ দিন পর্যন্ত পশুকে ঠান্ডা ছায়াযুক্ত স্থানে বেঁধে রাখতে হবে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। প্রকল্প মেয়াদ তিন মাস, শুরু হবে ইউরিয়া মিশ্রিত খাবার প্রদানের দিন থেকে।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ৪:৩৭ অপরাহ্ন
মেহেরপুরে দুই ছাগল চোরকে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা
পাঁচমিশালি

মেহেরপুরের গাংনীর সাহারবাটি গ্রামে দুই ছাগল চোরকে ধরে গণপিটুনি দিয়েছে সাধারণ জনগণ। পরে তারা পুলিশে সোপর্দ করেছেন ওই দুই ছাগল চোরকে।

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটকরা হলেন, মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ার ইকবাল আলীর ছেলে আকাশ (২২) ও শাহাদত হোসেনের ছেলে শামীম (২০)।

অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেন জানান গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম জানান, গাংনীর সাহারবাটি গ্রামের মুক্তি নামে এক নারীর বাড়ির পাশ থেকে তার দুটি বড় খাসি ছাগল চুরি করে আকাশ ও শামীম একটি ইজিবাইকযোগে পালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাদের দু’জনকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশকে জানায়।

সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। এছাড়া চুরি যাওয়া ছাগলসহ ইজিবাইকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান জানান, চোর এবং ছাগল থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৭, ২০২১ ৭:০৯ অপরাহ্ন
দুধ, ডিম ও মাংস ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় শুরু করলো মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
প্রাণিসম্পদ

করোনা পরিস্থিতিতে জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে ন্যায্যমূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস ভ্রাম্যমাণ পদ্ধতিতে বিক্রয় শুরু হয়েছে।

আজ বুধবার (৭ এপ্রিল) সারাদেশে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিন রাজধানীর সচিবালয় গেট, খামাবাড়ি, মিরপুর-১০ নং গোল চক্কর ও ধানমন্ডি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় শুরু হয়। এ কার্যক্রমের সূচনা দিনে রাজধানীতে প্রায় ১ হাজার ২০০লিটার দুধ বিক্রয় হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে ক্রমান্বয়ে ঢাকার ১০টি স্থানে ডেইরি ও পোল্ট্রি অ্যসোসিয়েশনসহ প্রান্তিক খামারিদের সম্পৃক্ত করে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর।

পাশাপাশি দেশের সকল জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে দুধ, ডিম, ও মাংসের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় চলমান থাকবে। ভ্রাম্যমান বিক্রয়ের মাধ্যমে খামারিগণ ন্যায্যমূল্যে সরাসরি ভোক্তাদের নিকট দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রির সুযোগ পাবে।

গতকাল মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত চলমান নিষেধাজ্ঞাকালে মাছ, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, দুধ, ডিম, মাছের পোনা, মুরগির বাচ্চা, পশু চিকিৎসা সামগ্রী, টিকা, কৃত্রিম প্রজনন সামগ্রী, মৎস্য ও পশু খাদ্য, ঔষধ ইত্যাদি পরিবহণ ও বিপণন কার্যক্রম নিশ্চিতকরণ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ভার্চুয়াল সভায় সারাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় চালুর নির্দেশ দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

এসময় তিনি বলেন, “আমরা সবকিছু বন্ধ করে দিলে মানুষের মাছ, মাংস, দুধ ডিমের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না। আবার উৎপাদক, খামারি, বিপণনকারীসহ এ খাত সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গতবছর এ খাতের সংকট উত্তরণে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, পরিবহনের বাধা দূর করা হয়েছে। বন্দরে মৎস্য ও প্রাণী খাদ্য ছাড়করণেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এবছরও প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদিত পণ্য ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।”

ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়ের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করার জন্য সভায় সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ও জেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

উল্লেখ্য গতবছর করোনা সংকটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা মূল্যের খামারিদের উৎপাদিত মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম ভ্রাম্যমান ব্যবস্থায় বিক্রয় করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop