৫:১৪ অপরাহ্ন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : নভেম্বর ২, ২০২১ ১:০২ অপরাহ্ন
সোনালি মুরগি পালনের লাভজনক পদ্ধতি বিস্তারিতঃ
পোলট্রি

পরিচিতিঃ জয়পুরহাট জেলায় ১৯৯৬-২০০০ সাল পর্যন্ত গবেষণার ফলে সোনালী মুরগি উদ্ভাবন করা সম্বব হয়। এ মুরগি উদ্ভাবনকারীর নাম ডা. মোঃ  শাহ জামাল। যিনি R.I.R (Rhode Island Red) জাতের মোরগের সাথে Fayoumi জাতের মুরগির মিলনের মাধ্যমে সোনালী জাতের উদ্ভাবন করেন।

 

শারীরিক বৈশিষ্টঃ সোনালী মোরগের রং সোনালীর মাঝে কালো ,পাখায় সাদা ফোটা ফোটা। মুরগির রং হলুদ কালো এবং আকারে মাঝারী। ডিমের খোসা ক্রিম বর্ণের। একটি পূর্ণ বয়স্ক মোরগ ২-২.৫ কেজি এবং মুরগি ১.৫-২ কেজি হয়ে থাকে। সোনালি মুরগি বছরে ডিম দেয় ১৫০-২০০টি।

বাসস্থানঃ সোনালী মুরগি সাধারণত ৬০ দিন পালন করা হয় , সে অনুযায়ী প্রতি মুরগির জন্য জায়গা লাগে ০.৮৫-.৯০ বর্গফুট । ঘরের ভেতর বাঁশ ঝুলিয়ে দিলে ২০০-৩০০ মুরগি বেশি পালন করা যায়। জায়গার তুলনায় বেশি মুরগি তুললে রানিক্ষেত ও গাম্বোরো রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে, এছড়া মুরগি সর্দি কাশি হতে পারে। অতিরিক্ত মুরগির জায়গা না থাকলে ঠোকরাঠুকরি করে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সেডের মেঝেতে এবং সেডের বাহিরে ৫ফুট দূরত্ব পর্যন্ত ১০০লিটার পানিতে ৫০০গ্রাম লবণ ও শুকিয়ে যাওয়ার প ১ কেজি চুন ১০০০ বর্গফুট জায়গায় লেপে দিতে হবে। তারপর জীবাণূনাশক দিয়ে স্প্রে করতে হবে।

ঘর পূর্ব – পশ্চিম লম্বা হবে।
দৈঘ্য ৪০ ফুট ও প্রস্থ ২০ ফুট: ৮০০ বর্গফুট

বা ৪৫*১৮ঃ৮১০ বা ৩৫*২২: ৭৭০বর্গফুট

এভাবে নিজের মত করে মিলিয়ে বানাতে হবে, তবে দৈঘ্য ২৫ ফুটের বেশি ঠিক নয়, লম্বা যা খুশি করা যায়। চারদিকে বাঁশে বেধে দিলে অনেক মুরগি বাঁশে বসতে পারে এতে জায়গা কম লাগে। উচ্চতা ৮-৯ ফুট ভাল তবে অধিকাংশ সময় ৭-৮ ফুট হলেই চলে। ফ্লোর পাকা হলে ভালো হয় তবে কাচা হলেও চলে, সেক্ষেত্রে  ইটের খোয়া এবং বালি, তারপর এটেল মাটি দিয়ে লেপে দিতে হবে।

ঘর তৈরির খরচ:

বিভিন্ন ভাবে খরচ করে ফার্ম করা যায়। তবে সাবলিল হিসেব দেখানো হলোঃ-

পিলার- ১৬ টি – ১৬০০০টাকা
কাঠ – ২০০০০
টিন – ২০০০০
পর্দা বা ত্রেপল – ৩০০০
মিস্ত্রি – ৭০০০
নেট – ১০০০০
পাত্র ও ব্রুডার – ৮০০০
মাটি কাটা ১০০০০
ইলেক্ট্রিকেল – ৪০০০
সিলিং – ২০০০
সাইড ওয়াল – ১০০০০

টোটালঃ ১, ১০, ০০০ টাকা


১০০০ সোনালি মুরগি পুষতে যা লাগবে 

খাবার লাগবে ৪০ ব্যাগ, ১৯০০ : ৭৬০০০
বাচ্চা ১০০০, ৩০= ৩০০০০
মেডিসিন = ৭০০০
টিকা = ২০০০
বিদ্যুৎ = ২০০০
লিটার =  ৪০০০
কর্মচারী = ১০০০০

টোটালঃ- ১৩১০০০ টাকা

(সোনালী ৬০-৭০দিন পালা হয় তাই খাবার ৪০-৪৫ ব্যাগ এবং ওজন ৭৫০-৮৫০গ্রাম হয়)

৬০ দিন পর ওজন গড়ে ৮০০ গ্রাম করে ১০০০-৫০ : ৯৫০ টির ওজন ৭৬০ কেজি *

১৮০ টাকা দরে: ১৩৬৮০০টাকা ( ৫০ টা মৃত ধরে) (এখন ৩৫০ টাকা)

তাহলে লাভ : ১৩৬৮০০- ১৩১০০০: ৫৮০০

যদি এমন হয় কর্মচারী ছাড়া ১০০০০ টাকা সেভ হবে
খাবার নগদ হলে ৪০০০ (বস্তা প্রতি ১০০ টাকা কম লাগবে)

লাভ নির্ভর করে বাচ্চার দাম, রেডি মুরগির দাম, ওজন বেশি আসার উপর মানে ৮৫০(৪৭ কেজি * ১৮০:৮৫০০টাকা  এবং ওষধ খরচ কমানোর উপর(৩০০০)

মুরগি যদি ৩০ টা কম মরে তাহলে ৩০*৮০০:২৪*১৮০: ৪৩২০ টাকা

বাচ্চার দাম যদি ৫ টাকা কম হয় ২৫ টাকা হয় তাহলে ৫০০০ টাকা

সবকিছু ঠিক থাকলে লাভ হবে: ৫৮০০+ ১০০০০+৪০০০+ ৮৫০০+৩০০০+৪০০০+ ৫০০০:৪০৩০০ টাকা

তাছাড়া রেডি মুরগির দাম যদি ২৩০ টাকা ধরি তাহলে আরো ৩৮০০০ টাকা বেশি লাভ  হবে মানে ৪০৩০০+৩৮০০০ঃ৭৮৩০০টাকা।

আবার ওজন অনেকের কম মানে ৭০০-৭৫০ আসলে লাভ কম বা লস হতে পারে

আবার সমস্যা হলে ৫০০০০ টাকা লসও হতে পারে তাই সবকিছু মাথায় রেখে ব্যবসা শুরু করা উচিত। তবে সঠিকভাবে পরিচালনা করলে লাভ বেশি না হলেও লস হবেনা ( আল্লাহ যদি চায়)

এখন বাচ্চার দাম ১৫-১৬ টাকা,তার আগে ছিল ৩০-৩৩ টাকা। বাচচার রেট ১০-৩৫টাকা এর মধ্যে থাকে।

রেডি সোনালী ব্রিডের দাম এখন  ২০০ টাকা
মাংসের রেট ১৭০-২৫০ টাকা এর মধ্যে থাকে। এখন ২00টাকা কেজি তাই লাভ লস কম বেশি হবে।

সোনালি মুরগির টিকা:

১-৩ দিন=  আই বি + এন ডি

৭-৮ দিন= ঠোটে ছেকা

৮-১২ দিন= গাম্বোরো

১৫-১৭ দিন= গাম্বোরো

২০-২৫ দিন= রানিক্ষেত

৪-৫ সপ্তাহ= পক্স

৬ সপ্তাহ= রানিক্ষেত

৬-৭ সপ্তাহ= কৃমিনাশক

তবে অনেকে ৮-১২দিনে এন ডি কিল্ড বা এন ডি +গাম্বোরো কিল্ড দেন।

কেউ কেউ ১ম দিনে ভেক্টরমিউন ( এন ডি +মেরেক্স ) দেয়।

১ম দিকে রানিক্ষেতের লাইভ দিতে হবে । কিল্ড দিলে ৪০ দিনের পর লাইভ দিতে হবেনা।যেসব এলাকায় রানিক্ষেতের প্রাদুর্ভাব বেশি সেখানে রানিক্ষেতের কিল্ড টিকা দিতে হবে।ঠোকরাঠুকরি করলে ঠোট ছেকা দিতে হবে ৭-১০দিনে।

খাবার পাত্র: ১-৭ দিন ১০০টির জন্য ১ টি
পানির পাত্র ১০০ টির জন্য ১ টি

প্রথম ১-২ দিন পেপারে খাবার দিতে হবে (যদি লিটার ভাল থাকে তাহলে পেপারে না দিলেও চলে) যাতে খাবার চিনতে পারে এবং লিটারে যাতে খাবারে না পড়ে ও বাচ্চার জন্য সহজ হয়।

৩০ দিন পর্যন্ত ৪০ টির জন্য ১ টি খাবার পাত্র এবং ৫০ টার জন্য ১ টি পানির পাত্র।

৩০ দিন পর ৩০ টির জন্য ১ টি খাবার পাত্র
এবং ৪০ টির জন্য ১ টি পানির পাত্র.

খাবার এবং পানির পাত্র কিছু কম বেশি হতে পারে তবে বেশি দেয়াই ভাল বিশেষ করে বাচ্চা অবস্তায়.

বাচ্চার ব্রুডিং

বাচ্চা আসার আগে ঘরের তাপমাত্রা ৯৫’ ফারেনহাইট বা ৩৩’ সেন্টিগ্রেট করতে যা করার তাই করতে হবে.(স্টোভ,কাঠের গুড়ি দিয়ে তাপ, বালব,হারিকেন,কয়লা, হিটার,গ্যাস ব্রুডার,ইনফ্রারেট বাল্ব) । আলাদা ব্রুডিং ঘর হলে ভাল হয় কারন গঠনগতভাবে ব্রুডিং ঘর আলাদা, সেখানে সাইড ওয়াল,পরদা নিচ হতে উপর পরযন্ত থাকে. তাছাড়া দুটি ব্যাচ পালা যায়.

ব্রুডিং এর তাপমাত্রা

১ম সপ্তাহে ৯৫’ ফারেনহাইট
২য় সপ্তাহে ৯০
৩য় সপ্তাহে ৮৫
৪থ সপ্তাহে ৮০
৫ম থেকে শেষ পর্যন্ত ৭৫ ‘ ফারেনহাইট

লিটার এবং রোগ

শীতের সময় লিটার ২ ইঞ্চি এবং গরমের সময় ১ ইঞ্চি করে দিলে ভাল হয় কারন লিটার পাতলা হলে বাচ্চার শরীরের তাপ বের হয়ে লিটারে চলে যায়.

লিটার ভিজা হলে আমাশয় হয়, আমাশয় হলে গামবোরু এবং রানিক্ষত হবার সম্বাবনা থাকে.

লিটার বেশি শুকনা হলে তুত বা শুকনা গুড়া নিম পাতা প্স্রে করে দিতে হবে কারণ ধুলা বালি নাকে গিয়ে মুরগির ঠান্ডা লাগে,বিশেষ করে বাচ্চার ব্রুডার নিউমোনিয়া হবার সম্বাবনা থাকে তাছাড়া  রানিক্ষতে এবং গাম্বোরুর বিরুদ্ধে কাজ করবে।

খাবার এবং পানির পাত্র ও রোগ

খাবার পাত্র দিতে হবে পিঠ বরাবর আর পানির পাত্র দিতে হবে চোখ বরাবর তাহলে মুরগি সহজে খেতে পারবে এবং পানি ও খাবারে ময়লা পড়বে কম ফলে পানি বাহিত রোগ কম হবে, পেঠ ভাল থাকবে. পাতলা পায়খানা হবেনা । ওজন ভাল হবে। লিটার যদি খাবার এবং পানিতে পড়ে তাহলে আমাশয় হয় যা সব রোগকে দাওয়াত করে নিয়ে আসে। প্রতিদিন পানির পাত্র পরিস্কার করতে হবে এবং সপ্তাহে ১ বার খাবার পাত্র পরিস্কার করতে হবে। মুরগির অধিকাংশ রোগ পানির মাধ্যমে আসে।

পর্দা এবং রোগ

পর্দার নিচের অংশ ফিক্স থাকবে এবং উপর হতে নিচে নামানো হবে,অথবা উপরে চটের অংশ এবং নিচে কাপড়ের অংশ থাকা উচিত যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী উঠানো নামানো যায়। শীতের সময় দরজায় এবং পরদার উপরের অংশ ঢেকে দিতে হয়।

পর্দা উপরে ফিক্স থাকলে সঠিকভাবে উঠানো নামানো যায়না ফলে ভিতরে গ্যাস হয়, গ্যাস হলে ধকল পড়ে এবং শ্বাস নালির ক্ষতি করে ফলে মাইকোপ্লাজমা,ব্রংকাইটিস এবং রানিক্ষেত হতে পারে।

খাবার এবং পানি

খাবার হিসেবে সোনালি খাবার এবং ব্রয়লার খাবার দুটিই চলে,অনেকে ১৫-২০ দিন ব্রয়লার খাওয়ায় তারপর সোনালি,কেউ আবার দুইটা মিক্সার করে খাওয়ায়. কেউ শুধু সোনালি বা শুধু ব্রয়লার খাওয়ায়।

শুধু ব্রয়লার খাওয়ালে আমাশয় এবং নেক্রোটিক এন্টারাইটিস হওয়ার সম্বাবনা থাকে কারণ এতে প্রোটিন,এনারজি এবং অন্য ভিটামিন বেশি থাকে।

সোনালি মুরগি ব্রয়লারের মত বাড়েনা, তাই তাদের খাবারটাও সেভাবে তৈরি করা হয়েছে মানে প্রোটিন কম দেয়া আছে। সোনালী মুরগি যত খায় তত  বাড়ে না তাই খাবার হিসেব করে দেয়া ভাল।

১ম ২ দিন ৪ ঘন্টা পর পর খাবার দেয়া উচিত এবং খাবার যাতে সব সময় থাকে তা নাহলে মুরগি ছোট বড় হয়ে যাবে। ৩-১০ দিন দিনে ৪ বার খাবার দিতে হবে এবং ১১ দিন থেকে দিনে ৩ বার খাবার। ৩০ দিন পর দিনে ২ বেলাও দেয়া যায়। ২০-২৫ দিন যতটুকু খায় ততটুকু খাবার কিন্তু ২৫ দিন পর প্রতি সপ্তাহে  প্রতি মুরগিতে ৪-৬ গ্রাম করে বাড়াতে হবে। এমন ভাবে খাবার দিতে হবে যাতেঃ-

সকালে ৪ ঘন্টয়  শেষ হয় (৪০%)

দুপুরে ৩ ঘন্টা খায় (২০%)

রাত্রে ৫ ঘন্টায় শেষ হয় (৪০%)

শীতে ওজন বেশি হয়।

গরমের সময় ঠান্ডা সময় মানে সকালে এবং বিকালে খাবার দিতে হবে।

কতদিনে কত ওজন

৪৫ -৬০ দিনে ৭০০-৮৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয় আর খাবার খাবে ১০০০ মুরগিতে ৩৫-৪০ ব্যাগ.ওজন অনেকটা বাচ্চার মানের উপর নির্ভর করে. ইনব্রিডিং সমস্যার কারনে প্রায়ই বাচ্চার মান ভাল হয়না.

সোনালীর এফ সি আর  সোনালীর খাবারে ২.২-২.৪ মানে ২২০০-২৪০০ গ্রাম খাবার খেয়ে ১কেজি ওজন । ব্রয়লার খাবারে ১.৮ -২  মানে ১৮০০-২কেজি খাবার খেয়ে ১কেজি ওজন। ব্রয়লার ও সোনালী এক সাথে মিশিয়ে খাওয়ালে  ব্রয়লার ৩৫% আর সোনালী ৬৫% দেয়া ভাল।তাহলে আমাশয় কম হবা

বাচ্চার দাম এবং রেডি মুরগির দাম

রেট ১০-৩৩ টাকার মহ্যে উঠানামা করে। রেডি মুরগির দাম ও উঠানামা করে ১৭০-২৪০ টাকা তাই লাভ টা ও উঠানামা করে.এখন রেট ১৯০-২০০টাকা খাবারের দাম বাকিতে ১৯৫০-১৮০০ টাকা,নগদে ১৭৫০-১৯০০ টাকা ব্রয়লার খাবার দিলে ওজন টা তাড়াতাড়ি আসে তবে আমাশয় বেশি হয়।

রোগব্যাধি :

প্রধান রোগ হলঃ- আমাশয়, গাম্বোরো, রানিক্ষেত, পক্স, এন্টারাইটিস, কৃমি, ক্যানাবলিজম
তাছাড়া মাইকোপ্লাজমা এবং ব্রংকাইটিস। ডিম পাড়ার সোনালিতে মেরেক্স বেশি হয়।

বর্তমানে বেশি যে সমস্যা হচ্ছে

ওজন ভাল আসেনা

বেশি মারা যায়

( মারেক্স , এ আই  বেশি দেখা যাচ্ছে ) কখন কোন বাচ্চা ভাল না খারাপ তা বোজা যাচ্ছেনা ফলে রিক্স বেড়ে যাচ্ছে।

মেডিসিন:
আমাশয় বেশি হয় তাই

১৩-১৫দিনে

২৩-২৫ দিনে

৩৫-৩৭দিনে মোট তিন বার আমাশয়ের ডোজ করা উচিত।

৩৫-৪০ দিনে কৃমির ডোজ করলে ভাল হয়,

অনেক সময় ঠোটে ছেকা দিতে হয় ৫-১০ দিনে.

ব্রুডিং এর সময় প্রথম দিন, গুড়,ইলেক্টোলাইট, প্রবায়োটিক। সি এবং গ্লোকো্‌জ,মাল্টিভিটামিন দেয়া যায় ,পরের দিন থেকে লাগলে এন্টিবায়োটক দেয়া যায়.

প্রতি সপ্তাহ ২ দিন করে প্রবায়োটিক দিলে ভাল হয় এতে পায়খানা ভাল থাকবে.

কেন লাভ হয়না

১. রেডি মুরগির দাম উঠানামা করে
২. ওজন কম আসা
৩. মুরগির ঘর যদি সঠিকভাবে করা না হয়।
৪. পালন সম্পর্কিত সঠিক ধারনা না থাকা
৫. রোগ বালাই
৬. বায়োসিকিউরিটি না থাকা
৭. বাচ্চা ভাল মানের না হওয়া
৮. টিকার মান এবং দেয়ার পদ্ধতি ভাল না হওয়া
৯. বাচ্চার দাম বেশি
১০. খাবারের দাম বেশি
১১. মুক্ত বাজারনীতি মানে দামের উপর সরকারের কোন নীতিমালা নেই.
১২. দেশে কতগুলো ফার্ম আছে,কতগুলো বাচ্চা উৎপাদিত হয় এবং আমাদের চাহিদা কতটুকু তার কোন সঠিক হিসেব নেই ও সে অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা নেই.

তবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি সঠিকভাবে পালন করতে পারলে লস হবেনা হয়ত কম লাভ হবে কিন্তু বাংলাদেশে দক্ষ লোক এবং ভাল পরিবেশ নাই তাই ফারম চালানো কঠিন.

 ব্রীডার বা ডিম পাড়া সোনালি পালন পদ্ধতি

খাবার;
লেয়ারের প্রি স্টাটারবা স্টাটার,গ্রোয়ার,প্রিলেয়ার ও লেয়ার
আলো;
প্রতি সপ্তাহে ১ঘন্টা করে আলো কমাতে হবে মানে আজকে যদি আলো ৭-৮টায় অফ হয়
আগামী সপ্তাহে  ৭-৯,তারপর ৭-১০,এভাবে কমিয়ে দিনের আলোতে মানে ১২.৫ঘন্টায় নিয়ে আসতে হবে।
ওজন ১৩০০-১৩৫০ গ্রাম হলে ১ ঘন্টা আলো দিতে হবে,তারপর প্রতি সপ্তাহে আধা ঘন্টা করে আলো বাড়াতে হবে যতক্ষন না দিন +রাত মিলে ১৬ঘন্টা হয়।
টিকা;
লেয়ার টিকার সিডিউলের মত।
মেল আলাদাকরণ
৮-১২ সপ্তাহে মোরগা গুলোকে আলাদা ক্রতে হবে।
১৮-২০ সপ্তাহের দিকে ৬% দিতে ,বাকি ৪% দিতে হবে পিক প্রডাকশন আসার পর।
ঠোটাকাটাঃ
৭-১০ দিনে  ঠোট ছেকা দিতে হবে আবার ১০-১২ সপ্তাহে ঠোটকাটতে হবে।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২, ২০২১ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
অধিক লাভ পেতে সোনালি মুরগিকে যা খাওয়াবেন
পোলট্রি

অধিক লাভের আশায় এখন অনেকেই খামারে দিকে ঝুঁকছেন। গ্রামের প্রায় প্রতিটি এলাকায় খামাদের দেখা মিলে। পোল্ট্রির পাশাপাশি এখন অধিক লাভের আশায় সোনালি মুরগির খামারের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন। সোনালি মুরগি পালনের পাশাপাশি যদি তার যত্ন কিভাবে করতে হয় তা জানা থাকে তাহলে আরো লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকবে।

সোনালি মুরগির খাদ্য প্রদানে যা রাখবেন:
সোনালি মুরগিকে ব্রয়লার মুরগির মত সব সময় খাবার দেয়া দরকার বলে অনেকেই মনে করেন। কিন্তু এটা একটা ভুল ধারণা। মনে রাখা দরকার ব্রয়লার মুরগি খাদ্য রূপান্তরের হার এবং সোনালি মুরগির খাদ্য রূপান্তরের হার এক নয়।

সাধারণত সোনালি মুরগি ক্ষেত্রে প্রতি ১০০০ মুরগিতে ৪০ ব্যাগ হিসেবে সোনালি খাদ্য হিসাব করে ৮০০ গ্রাম গড় ওজন হিসাব করা হয়। কিন্তু সোনালি খাদ্যে কখনো কখনও ২ ব্যাগ বা ৩ ব্যাগ বেশি লাগতে পারে। আবার খুব ভাল হলে ২ ব্যাগ বা ৩ ব্যাগ কম লাগতে পারে।

যদি সোনালি মুরগিকে ব্রয়লার খাদ্য খাওয়ানো হয় তবে ১০০০ মুরগিতে সর্বোচ্চ ৩৪-৩৫ ব্যাগ খাদ্যে ৮০০ গ্রাম গড় ওজন হিসাব করা হয়। এক্ষেত্রেও আগের মতই ২ থেকে ৩ ব্যাগের যোগ বা বিয়োগ ধরে নেওয়া যেতে পারে।

সারাদিনে খাদ্য দেয়ার নিয়ম:
দিনে ৩ বার খাবার দিতে হবে। বিশেষ করে মনে রাখতে হবে যেন সকালে সর্বোচ্চ ৪ ঘন্টার মধ্যে খাদ্য খাওয়া শেষ হয়ে যায়, দুপুরে যেন সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টার মধ্যে খাদ্য শেষ হয় ও রাতে সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা যেন খাদ্য খায়।

প্রয়োজনে মুরগি ক্রপ(খাদ্য থলি) পরীক্ষা করে খাদ্য দিতে হবে। যদি খাদ্য থলি ভর্তি থাকে তবে খাদ্য দেয়া কোন দরকার নাই। কারণ মনে রাখবেন, সোনালি মুরগিকে আপনি যতই খেতে দিবেন তারা ততই খাবে। কিন্তু এতে খাদ্য অপচয় হবে আপনাদের। খেয়াল করে দেখবেন ঘরে নিমপাতা বা যেকোন পাতা ঝুলিয়ে রাখলে তারা সেগুলোও খেয়ে শেষ করে। সেজন্য খাবার দেয়ার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

৩য় সপ্তাহ বয়সে পরে মুরগিকে ২০-২২ গ্রাম/ মুরগি হিসেবে খাদ্য পরবর্তী প্রতি সপ্তাহে ৪-৬ গ্রাম/মুরগি হারে খাদ্য বৃদ্ধি করে চলতে হবে। দিনের মোট খাদ্যের পরিমাণকে তিন ভাগে ভাগ করে ৪০%(সকাল)+২০%(দুপুর)+৪০%(রাত) খাদ্য প্রদান করতে হবে সোনালি মুরগিকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২, ২০২১ ৯:২১ পূর্বাহ্ন
গরু ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা
পাঁচমিশালি

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় হাসেন আলী আকন্দ (৪৫) নামের এক গরু ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুঠোফোনে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। সোমবার ভোরে উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম সরলিয়া চরের একটি ডুমুরের গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়।

নিহত হাসেন আলী সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের শিমুলতাইড় আশ্রয়ণে বসবাস করতেন। তাঁর বাড়ি শিমুলতাইড় ইউনিয়নের যমুনায় বিলীন হওয়া নোয়ারপাড়া চরে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়ারপাড়া চর যমুনা গর্ভে বিলীন হওয়ায় গত বর্ষায় হাসেন আলী শিমুলতাইড় আশ্রয়ণ প্রকল্পে এসে ঠাঁই নেন। তিনি গরুর ব্যবসা করতেন।

নিহত হাসেন আলীর স্ত্রী আঙ্গুর বেগম জানান, তাঁর স্বামী গতকাল রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে তাঁর স্বামীকে ফোন করা হয়। এরপর তিনি অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তির সঙ্গে বাড়ির বাইরে দেখা করতে যান। এরপর রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। আজ সকালে তাঁর লাশ পাওয়া গেল। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এর বিচার চান।

শিমুলতাইড় গ্রামের বাসিন্দা ও চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিমুলতাইড় আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশেই সোনাতলা উপজেলার সরলিয়া চর। ভোরে চরের জমিতে কাজ করতে যাওয়া কৃষকেরা সেখানকার ডুমুর গাছে হাসেন আলীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে তাঁর পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের লোকজন এসে লাশ শনাক্ত করেন। লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। গলায় গামছা প্যাঁচানো লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হলেও পা মাটিতে লেগে ছিল।

চালুয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, শিমুলতাইড় চরের বাসিন্দারা গরু ব্যবসায়ী হাসেন আলীর লাশ পাওয়ার বিষয়টি জানালে সোনাতলা থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পুলিশ চরে এসে পৌঁছায়নি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২, ২০২১ ৮:১৬ পূর্বাহ্ন
গরু চোর চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার, ১৫ গরু উদ্ধার
প্রাণিসম্পদ

ঝিনাইদহে আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫টি ছোট-বড় গরু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার সকালে জেলার কালীগঞ্জ থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকার আকব্বর কাজীর ছেলে উজ্জ্বল কাজী (৩৫), চিতলমারী উপজেলার শ্যামপাড়া এলাকার লিয়াকত আলীর ছেলে সুজন খান (৪২), ফকিরহাট উপজেলার বাহিরদিয়া এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে আল আমিন কাজী (২৯), বড় খাজুরা এলাকার মৃত মজিদ শেখের ছেলে শেখ ওহাব (৫০), খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার লক্ষ্মীখোলা গ্রামের আব্দুল্লাহ শেখের ছেলে জিয়া শেখ (৪২), ডুমুরিয়া উপজেলার জিলেরডাঙ্গা এলাকার আজিজ ফকিরের ছেলে সেকেন্দার আলী ফকির (৪৫) ও একই উপজেলার খলসি এলাকার হালিম গাজীর ছেলে রুবেল গাজী (৩৫)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ থানায় সম্প্রতি দুটি গরু চুরির ঘটনায় মামলা হয়। এর পর ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ টিম তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে রোববার খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। পরে সেই অভিযানে চোর চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার গরু আদালতের মাধ্যমে মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানায় পুলিশ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ১, ২০২১ ৭:৪২ অপরাহ্ন
মাংস ও দুধের চাহিদা পূরণে হরিয়ানা থেকে আসছে মহিষ
প্রাণিসম্পদ

দেশের মাংস ও দুধের চাহিদা পূরণে ভারতের হরিয়ানা রাজ্য থেকে মুররাহ প্রজাতির ১৬০টি মহিষ আনছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। চলতি মাসেই একটি কারিগরি কমিটি প্রাক-জাহাজীকরণ পরিদর্শনে (পিএসআই) ভারত যাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমাদের দেশে বর্তমানে যে মহিষের জাত রয়েছে তা বছরে বাচ্চা প্রসবের পরে প্রায় ৩০০ দিনে ৪০০-৫০০ লিটার দুধ দিয়ে থাকে আর হরিয়ানা রাজ্যের মুররাহ জাতের মহিষ ৩০০ দিনে প্রায় ২০০০-২৫০০ ক্ষেত্র বিশেষে ৩০০০ লিটার পর্যন্ত দুধ দিয়ে থাকে।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা বলেন, বর্তমান সরকার দেশে মাংস ও দুধ উৎপাদনে জোর দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুধ ও মাংসের যোগান নিশ্চিত করার জন্য ভারত থেকে ভালো জাতের মহিষ সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশাকরি আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে আমরা এসব মহিষ হাতে পাবো।করোনার কারণে আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও এখন পুরোদমে কাজ চলছে। চলতি মাসের যে কোনো সময়ে আমাদের একটা টিম পশু দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ডা. মো.মুহসীন তরফদার রাজু বলেন, মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের (২য় পর্যায়)’ মাধ্যমে সরকারি মহিষ খামারসহ (সাভার, ঢাকা, সন্তোষ, টাঙ্গাইল এবং বাগেরহাট) দেশের মোট ২০০টি উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভালো জাতের (মুররাহ) মহিষ ভারত থেকে সংগ্রহ করা হবে। ইতিমধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করা হলেও করোনার কারণে আমদানি করা সম্ভব হয়নি। এখন নতুন করে সকল কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে আশাকরি মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে মহিষ দেশে আসবে।

তিনি আরও বলেন, মুররাহ জাতের এ মহিষ বছরে ৩০০ দিন পর্যন্ত দুধ দিতে অভ্যস্ত। গড়ে এরা প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কেজি দুধ দেয়। আমরা ভারত থেকে ১০টি পুরুষ এবং ১৫০টি স্ত্রী মহিষ আনবো। তবে আমাদের আমদানি বিষয়ক কার্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি স্ত্রী মহিষের সঙ্গে একটি করে বাচ্চাও থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে ভারত থেকে আসছে ৩১০টি মহিষ।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত দুধের ৯০ শতাংশ দুধ আসে গরু থেকে, আট শতাংশ আসে ছাগল থেকে এবং দুই শতাংশ আসে মহিষ থেকে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে দুধের উৎপাদন ছিল ২৩.৭০ লাখ টন, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে উন্নীত হয়েছে ১০৬.৮০ লাখ টনে। বর্তমানে দেশে মোট দুগ্ধ উৎপাদনকারী গরু ৮.৬ মিলিয়ন, যার মধ্যে দেশীয় ৪.৫৬ মিলিয়ন (৫৩ শতাংশ) এবং সংকর জাতের ৪.০৪ মিলিয়ন (৪৭ শতাংশ)।

বর্তমানে মাথাপিছু দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার দুধের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ১৭৫ মিলিলিটার। দেশে বছরে ১৫২ লাখ টন দুধের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ১০৬.৮ লাখ টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৫২.০২ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে দুধ উৎপাদন হয় ১০৬.৮০ লাখ টন। এ চাহিদা অনুযায়ী সরকার আরও ৪০.২২ লাখ টন দুধ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, মহিষের মাংস ও দুধে কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্য প্রাণীর মাংস ও দুধ অপেক্ষা কম, যা স্বাস্থ্যসম্মত। মহিষের দুধে আমিষের পরিমাণ ৪.৫ শতাংশ ও চর্বির পরিমাণ ৭.৫ শতাংশ। মহিষের দুধে অন্য প্রাণির দুধের চেয়ে ৪৩ শতাংশ কোলেস্টেরল কম থাকে। ভিটামিনের পরিমাণও মহিষের দুধে বেশি থাকে। বাণিজ্যিকভাবে মহিষের দুধ ব্যবহার করে দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি অনেক লাভজনক, মহিষের দুধে মোট সলিড বেশি থাকায় দুগ্ধজাত দ্রব্যাদি (দই, ছানা, পনির ইত্যাদি) তৈরিতে গরুর দুধের চেয়ে কম পরিমাণ মহিষের দুধ লাগে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ১, ২০২১ ৪:৫৬ অপরাহ্ন
নারীর ক্ষমতায়নে দারুণ ভূমিকা রাখছে “আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ” প্রকল্প
প্রাণিসম্পদ

“নিরাপদ মাংসের চাহিদা পূরণে, গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে” ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের “আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ” প্রকল্পটি যাত্রা শুরু করে । অল্প সময়ের মাঝে দেশের ৪৯১টি উপজেলায় প্রকল্পটির কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে । এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৩৬,৮২৫ জন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে আর সুফলভোগী খামারী ৩৬,৮২৫ জনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে । খামারীদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান, সুফল ভোগীদের মাঝে বিনামূল্যে টিকা সরবরাহ, কৃমিনাশক ও ভিটামিন-মিনারেলস প্রিমিক্স বিতরণ, গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ বিষয়ক প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ । দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারীরা যেমন উপকৃত হচ্ছেন তেমনি নারীর ক্ষমতায়নেও দারুন ভূমিকা রাখছে এই কার্যক্রম । সুফলভোগী খামারীদের মাঝে অনেক নারী খামারী রয়েছেন যারা এই প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে নিজের সামাজিক অবস্থান পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দারুণ ভূমিকা রাখছেন । এমনই কয়েকজন নারী খামারীর অবস্থান তোলে ধরা হলো এই পর্বে –

ধামরাই এর শরীফবাগের কামরুন নাহার বেগম বলেন, গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প থেকে যে শুধু কৃমির ঔষধ, ভ্যাকসিন দিচ্ছে তা নয় বরং আমাদের হাতে কলমে শিখিয়েছে কিভাবে গরু মোটাতাজা করতে হবে, কিভাবে ইউএমএস বানাতে হবে । এগুলো নিজেরা করে গত কুরবানি তে গরু বিক্রি করে লাভবান হয়েছি, স্বামী ও সন্তান নিয়ে ভালো আছি, পরিবারে স্বচ্ছলতা এসেছে, আগামী ঈদের জন্য ১০ টি গরু মোটাতাজা করছি, পরিবারের উপার্জনে অবদান রাখতে পারলে ভালো লাগে ।

বগুড়ার গাবতলীর হিজলি গ্রামের মোসাঃ রাজিয়া বেগম বলেন, আগে গরু সনাতন পদ্ধতিতে লালন পালন করতাম, অনেক কিছুই জানতাম না । এই প্রকল্প থেকে অনেক কিছু শিখেছি, বিনামূল্যে ঔষধ ভ্যাক্সিন পাচ্ছি, নিজের মত করে গরু লালন পালন করি, আশে পাশের অনেকেই পরামর্শ নিতে আসে, ভালো লাগে নিজের বর্তমান অবস্থান তৈরী করতে পেরে ।

লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার নিজসেখ সুন্দর গ্রামের সুফিয়া খাতুন বলেন, এই প্রকল্প থেকে ভিটামিন, কৃমিনাশক ও ভ্যাকসিন পাচ্ছি, আধুনিক পদ্ধতিতে কিভাবে গরু মোটাতাজাকরন করতে হয় তা শিখেছি, গত ঈদে ২ টি গরু বিক্রি করে আমার প্রায় আশি হাজার টাকা লাভ হয়েছে, গরুর জন্য নতুন ঘর করছি, এই বছর ৪ টি গরু মোটাতাজা করে ঈদে বিক্রি করবো । ঘর সামলানোর পাশাপাশি বাড়তি উপার্জন করে পরিবারকে সাহায্য করতে পেরে আমি খুশি ।

নরসিংদী সদরের নারী উদ্যোক্তা রেহেনা বেগম বলেন, “এই প্রকল্পের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আমার অনেক উপকার হয়েছে, আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছি” ।

এভাবেই এগিয়ে যাক এদেশের নারীরা আর সমাজে সুসংহত হোক তাদের অবস্থান…

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৯, ২০২১ ৮:৩৩ অপরাহ্ন
দেশবিদেশের বড় চাকরি ছেড়ে গ্রামে গড়েছেন এন্টিবায়োটিকমুক্ত মুরগির খামার
পোলট্রি

বুয়েট থেকে কম্পিউটার প্রকৌশলে পড়াশোনা করে বড় বড় মাল্টিমিডিয়া, টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানির চাকরি আর ইউরোপের চাকচিক্যের জীবন ছেড়ে, দেশে এসে মুরগির খামার করেছেন গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বরইতলী গ্রামের প্রকৌশলী ইমরুল হাসান। নিজ গ্রামেই প্রতিষ্ঠা করেছেন ভিন্ন এক মুরগির খামার, যার নাম ‘অর্গানিক চিকেন’। বর্তমানে ইমরুলের ফার্মে প্রায় দেড় হাজারের মুরগি রয়েছে। ক্রেতাদের ঘরে ঘরে এন্টিবায়োটিকমুক্ত মুরগি পৌঁছে দেয়ার জন্য ইমরুলের রয়েছে নিজস্ব ফ্রিজিং ভ্যান।

জানা যায়, ইমরুল ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়াশোনা শেষ করে যোগ দেন শিক্ষকতায়। অল্প কিছুদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর যুক্ত হন টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরে। দেশে তিন বছর কাজ করে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে কিছুদিন কাজ করে আবার মিসর, ফিলিপাইন, আবুধাবি প্রভৃতি দেশে ছয় বছর কাজ করেন; পেয়েছেন যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্বও। কিন্তু সেই মোহ ইমরুলকে আটকাতে পারেনি। নাড়ির টানে ফিরে আসেন পৈতৃক বাড়িতে।

কিছুদিন আগেই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের এক অনুষ্ঠানে ইমরুল জানিয়েছেন আভিজাত্য চাকরি আর নাগরিকত্বের হাতছানি ছেড়ে তার দেশে ফিরে আসার কারণ।

ইমরুল বলেন, ‘দু’টি কারণে দেশে ফেরার তাগিদ অনুভব করলাম। আমার বড় ভাই ডাক্তার। তাঁর পক্ষে বাবা-মা’কে দেখাশোনা করা সম্ভব হচ্ছিলো না, তাই বৃদ্ধ বাবা-মার পাশে থাকা প্রয়োজন তাঁদের দেখাশোনার। অন্যদিকে আমার মেয়েটা ক্লাস টু-তে পড়ে। এই সময়ে তাকে ছয়বার স্কুল পাল্টাতে হয়েছে। তাই সেসব চিন্তা করে ২০১৪ সালের অক্টোবরে দেশে ফিরলাম।’

দেশে ফিরে টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরে ভালোই চলছিল ইমরুলের দিনকাল। কিন্তু এরমধ্যে সারা পৃথিবীব্যাপি হানা দিল করোনা ভাইরাস। সেসময় ইমরুল ভিন্ন কিছু করার চিন্তা করেন।

যে চিন্তা সেই কাজ— গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিজের গ্রামের বাড়িতেই শুরু করে দিলেন গরু-ছাগলের ফার্ম। কীভাবে ফার্মের গরু-ছাগলদের মান ভাল রাখা যায়, সেটার জন্য রীতিমত রিসার্চ করে বের করলেন সব ফন্দি; নিজেই যেহেতু প্রকৌশলী তাই তাকে এর জন্য বেশি বেগ পোহাতে হয়নি। কিন্তু এরমাঝে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। হাসপাতালে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন কোনোমতে। তারপর আবার পুরোদমে শুরু করলেন ‘অর্গানিক চিকেন’ খামার নামে মুরগির ব্যতিক্রমি এক খামার। তবে তা গৎবাঁধা কোন খামার নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রকৃতির সমন্বয়ে স্মার্ট ফার্মিং। খামারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ থেকে আলো-বাতাসের পর্যাপ্ততা নির্ণয়, পানি ব্যবস্থাপনা, সবই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে কম্পিউটারের মাধ্যমে। ইমরুলের নিজের হাতে তৈরি এসব প্রযুক্তি।

অর্গানিক চিকেন এমন ফার্ম তৈরির চিন্তার ব্যাপারে ইমরুল হাসান জানান, ‘গতবছর আমি করোনায় আক্রান্ত হলাম। হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো। ভয়াবহ অবস্থা। হাসপাতালে শুয়েই চিন্তা করছিলাম আমাদের ইমিউন সিস্টেম নিয়ে। অর্থাৎ আমাদের খাবার আমাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা দিচ্ছে না। খাদ্যের ভেজাল আমাদের সর্বনাশ করে দিচ্ছে। তখনই চিন্তা করলাম বেঁচে থাকলে অর্গানিক খাদ্য উৎপাদন করব। আল্লাহর অশেষ রহমতে এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম। বেঁচে ফিরে চিন্তা করতে থাকলাম কীভাবে শুরু করা যায়। এবার পড়াশোনা শুরু করলাম অর্গানিক উপায়ে মুরগি উৎপাদনের।

বর্তমানে ইমরুলের ‘অর্গানিক চিকেন’ ফার্মের বয়স বছরখানেক হয়েছে, এর মাঝেই তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। তবে সচরাচর বাজারে পাওয়া ফার্মের মুরগির চাইতে দরে কিছুটা বেশি শিমুলের অর্গানিক চিকেন খামারের মুগির দাম। দামে কিছুটা বেশি রাখার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা অর্গানিক মুরগি কেজি দরে ২৫০ টাকা করে বিক্রি করছি। যদিও বাজারের ফার্মের মুরগি ১৬০-১৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু টাকা বেশি নিচ্ছি, কারণ আমরা অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত ও প্রাকৃতিকভাবে মুরগি বড় করছি বলে খরচ অন্যদের চেয়ে বেশি।

মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক না দিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সুস্থ রাখতে চাইলে স্বাস্থ্যকর খাবার দিতে হয়। অর্গানিক গাইডলাইন মেনে স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করতে খরচটা বেশি হয়। এর সাথে যোগ হয় বিদ্যুৎ খরচ। তবে আমরা চেষ্টা করছি খরচটা আরও কীভাবে কমিয়ে আনা যায়।’

কোনোরকম অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার ফলে বিভিন্ন ঋতু পরিবর্তনে মুরগি বাঁচিয়ে রাখা অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। তারপরও ইমরুল কোনোরকমের কৃত্রিম অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন না। ফলে লোকসানের মুখেও পড়তে হয়েছে। একবার পুরো খামারের প্রায় ৪০ শতাংশ মুরগি মারা পড়ল। সে যাত্রায় লোকসান হলো ৬ লাখ টাকা। আরেকবার মারা গেল ৬০ শতাংশ মুরগি। তবে সেগুলো ছোট হওয়ায় লোকসান কিছুটা কম ছিল। ইমরুল বলেন, ‘এখনো ট্রায়াল অ্যান্ড এররের মাধ্যমে এগোচ্ছি। লাভ-লোকসানের ঝুঁকির মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হচ্ছে। ব্যবসা এমনি।’

বর্তমানে ইমরুলের ফার্মে প্রায় দেড় হাজারের মুরগি রয়েছে। ক্রেতাদের ঘরে ঘরে এন্টিবায়োটিকমুক্ত মুরগি পৌঁছে দেয়ার জন্য ইমরুলের রয়েছে নিজস্ব ফ্রিজিং ভ্যান। অর্ডার করলেই সেই ভ্যানের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি মুরগি পৌঁছে দেন। ইমরুল স্বপ্ন দেখেন, একদিন শিক্ষিত যুবকেরা চাকরির পেছনে না ঘুরে নিজেরাই হয়ে উঠবেন উদ্যোক্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৮, ২০২১ ৯:৩২ অপরাহ্ন
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হলেন ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী
প্রাণিসম্পদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হলেন ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। এর আগে তিনি পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
তিনি ১৯৬৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে যথাক্রমে ১৯৮৫ এবং ১৯৮৬ সালে অনার্স এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে আরেকটি স্নাতকোত্তর (এমপিএ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ড. চৌধুরী প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে Ph. D অর্জন করেন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৭, ২০২১ ৬:৩১ অপরাহ্ন
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যুতে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর শোক
প্রাণিসম্পদ

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

শোকবার্তায় মন্ত্রী জানান, “আবদুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যুতে বাংলাদেশের আইন অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলো। আইন অঙ্গনে ৫০ বছরেরও অধিক সময় তার দৃপ্ত পদচারণা ছিলো। তিনি ছিলেন আইনজীবীদের জনপ্রিয় নেতা। আইনজীবীদের কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনসহ তিনি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। দেশে আইনর শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় তার অবদান দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে”।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৭, ২০২১ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
পশু খাদ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে প্রান্তিক খামারিরা
প্রাণিসম্পদ

পশু খাদ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। বেড়েছে খামার রক্ষণাবেক্ষণের খরচও। এসব কারণে লোকসান বেড়ে যাওয়ায় শ্রীপুরের গরুর খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। পশুখাদ্যের দাম না কমালে আরও বেশ কিছু খামার বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিছুদিন আগেও চালের খুদ কেজি প্রতি বিক্রি হত ২০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। একইভাবে ২৪ টাকার ভুট্টা ৩২ টাকা, ৩৮ টাকার অ্যাংকর ডাল ৬৫ টাকা, ৩১ টাকার মসুর ডালের গুঁড়া ৫২ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া এক বস্তা (৫০ কেজি) ফিডের দাম আগে ৭৫০ টাকা থাকলেও এখন ১ হাজার ১০০ টাকা হয়ে গেছে। তাছাড়া আইকন ভুষি আগে ১০৫০ টাকা থাকলেও এখন ১৫০০ হয়ে গেছে।

শ্রীপুর উপজেলা পানিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ছোট–বড় মিলে প্রায় ৭৬০ টি গরুর খামার রয়েছে। এ ছাড়া গৃহপালিত প্রায় ৩৭ হাজার ৪ শ ৫টি গরু কৃষকদের ঘরে আছে। সব মিলিয়ে মোট গরুর সংখ্যা ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ২শ ২০টি। এসব গরুকে খড়ের পাশাপাশি গমের ভুসি, ফিড ও বুটের খোসা খাওয়ানো হয়। কিন্তু গত ১০ দিনের ব্যবধানে ফিড, ভুসি ও বুটের খোসায় বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।

তেলিহাটি ইউনিয়নের গরুর খামারি হিরন সরকার জানান, করোনাকালে পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। গত বছরের শুরুতে এ অঞ্চলের খামারগুলোতে দেখা দেয় লাম্পিং রোগ। এ সময় বেশ কিছু গরু মারা যায়। এর ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উঠেছে পশুখাদ্যের দাম। পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় লোকসানের মুখে অনেকেই খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন।

এমসি বাজারে অবস্থিত ভাই ভাই ডেইরি এন্ড এগ্রো র্ফামের মালিক আবু সাইদ জানান, ‘আমার খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়। খামারে সব সময় ১০০ থেকে ১৫০টি গরু থাকে। কিন্তু পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আর কুলাতে পারছি না। ফলে কমিয়ে দিয়েছি পশুপালন।

শ্রীপুর উপজেলা পানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রুকুনুজ্জামান জানান, খাদ্য উপাদানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিরা পশু পালন করতে হিমশিম খাচ্ছে। করোনাকালে খামারিদের সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop