১:৫৪ পূর্বাহ্ন

শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ২৫, ২০২১ ৯:৪২ অপরাহ্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খেলার মাঠে গরু চরানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২০
প্রাণিসম্পদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে খেলার মাঠে গরু চরানোকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

রবিবার দুপুরে উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিল্লাহ সরকার সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকালে রতনপুর খেলার মাঠে পার্শ্ববর্তী ভলাকুট ইউনিয়নের কয়েকজন যুবক ফুটবল খেলছিলেন। এ সময় রতনপুর গ্রামের হুমায়ুন সেখানে গরু চরাতে গেলে দড়ি ছিঁড়ে গরুটি খেলার মাঠে ঢুকে যায়। এ কারণে খেলায় বাধাগ্রস্ত হয়। পরে যুবকরা গরুটিকে মাঠ থেকে তাড়িয়ে দেন। পরে এ নিয়ে রতনপুর গ্রামের ছাড়ন গোষ্ঠীর হুমায়নের সঙ্গে পাশের গ্রাম ভলাকুট ইউনিয়নের হুনারু গোষ্ঠীর ছুট্টু মিয়া ও মঙ্গল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হুমায়নকে একা পেয়ে হুনারু গোষ্ঠীর লোকজন মারধর করেন।

পরে এ ঘটনার জের ধরে রবিবার দুপুরে হুনারু গোষ্ঠীর ও ছাড়ন গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহতরা হলেন– কামাল (৪৫) হুমায়ন মিয়া (৩২), ফিরোজ মিয়া (৬৫), মোবারক (৩৫), আলমগীর হোসেন (৩৭), মো. এবাদত মিয়া (৩৩), আলামিন (২৭), মো. সালাউদ্দিন (৩৭), সুজন মিয়া (৩২) মোশারফ (৪০), আব্দুর রহমান (৪৫) ও জিন্নত আলী (৭০)। বাকিদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ফায়েজুর রহমান ফয়েজ জানান, ‘আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।’

নাসিরনগর থানার ওসি জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পর চাতলপাড় এবং ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি এবং কোন মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৫, ২০২১ ৩:০৮ অপরাহ্ন
২৮ লাখের বেশি গবাদিপশু অবিক্রীত,হতাশ খামারিরা!
প্রাণিসম্পদ

করোনায় ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর বাজার নিয়ে শঙ্কা ছিল সবার। কিন্তু সেটি যে এত ব্যাপক মাত্রায় প্রভাব ফেলবে, তা অনুমান করা যায়নি। সরকারি হিসাবেই ২৮ লাখের বেশি গবাদিপশু অবিক্রীত রয়ে গেছে।

চলতি বছর ঈদুল আজহায় কোরবানি দেয়ার জন্য সারা দেশে প্রস্তুত করা হয়েছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি গবাদিপশু। বিক্রি হয়েছে ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু। অনেকে লোকসান দিয়েও গবাদিপশু বিক্রি করেছেন শেষ সময়ে। অনেকে অবিক্রীত পশু ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন।

২০১৯ সালের ঈদুল আজহায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ পশু কোরবানি করা হয়েছিল। তার আগের বছর ২০১৮ সালে প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ পশু কোরবানি দেয়া হয়। প্রতি বছর এ সংখ্যা বাড়ে। তবে এবারের পরিস্থিতি ব্যতিক্রম। বিপুলসংখ্যক পশু অবিক্রীত থাকায় লোকসানে পড়েছেন অনেক খামারি, ব্যবসায়ী ও কৃষক।

বছরজুড়ে যারা কোরবানির ঈদের দিকে তাকিয়ে থাকে সেসব পরিবার সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে।

পশু উত্পাদন থেকে শুরু করে মাংস ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত আরো বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্ত। সংকুচিত শ্রমবাজারের বাস্তবতা সত্ত্বেও এ খাতে একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। বড় বিষয় হলো, এ কর্মসংস্থান মূলত সমাজের প্রান্তিক ও গ্রামীণ পর্যায়ে হয়। বড় খামারি ছাড়াও গ্রামের অনেক দিনমজুর ও ক্ষুদ্র আয়ের মানুষ দু-একটি ছাগল বা গরু কিনে বাজার থেকে খইল, ভূসি এনে পশুদের খাইয়ে সারা বছর লালন-পালন করেন কোরবানির হাটে আকর্ষণীয় দামে বিক্রি করে মুনাফা লাভের আশায়।

আর এ উপার্জন দিয়েই তারা সারা বছর সন্তানের পড়াশোনা ও পারিবারিক খরচ চালান। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও খামারে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে যারা গরু লালন-পালন করেছেন বা বিনিয়োগ করেছেন, তারা অনেক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন বলে খবর আসছে। প্রতি বছর কোরবানির আগে পশু নিয়ে মুনাফার আশায় ঢাকার বিভিন্ন হাটে ছুটে যান ব্যবসায়ীরা। অনেক গরিব কৃষক বা চাষী তাদের সব মূলধন জোগান দেন কোরবানিতে একটু বাড়তি লাভের আশায়। এবার তাদের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অবিক্রীত গবাদিপশু নিয়ে ক্ষুদ্র খামারিরা সংকটে পড়বেন। তাদের খাবার জোগাড় করা, ঋণের অর্থ পরিশোধ আবার পরিবার চালানো অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

চলতি বছর অনলাইনে রেকর্ডসংখ্যক গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। তার পরও বিপুলসংখ্যক পশু অবিক্রীত থেকে যাওয়ার কারণ পর্যালোচনা প্রয়োজন। করোনার কারণে মানুষের আয় কমায় গবাদিপশু বিক্রি কমেছে নাকি আর্থিক সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও করোনার জন্য অনেকে কোরবানি দেননি, সেটি বিশ্লেষণের দাবি রাখে। এতে পরবর্তী বছরের পরিকল্পনা প্রণয়ন সহজ হবে। গবাদিপশু বিক্রির হার কমতে থাকলে সরকারের নীতি কী হবে বা অবিক্রীত পশু বিক্রির জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন।

অনলাইনে পশু বিক্রি আরো জনপ্রিয় করতে একে আরো সহজবোধ্য করে গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে প্রান্তিক কৃষকও এটি ব্যবহার করতে পারেন। পার্শ্ববর্তী দেশ গরু রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় গবাদিপশু উত্পাদনে বাংলাদেশে ব্যাপক সাফল্য আসে। অনেকেই এ খাতকে আয়ের উত্স হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে গবাদিপশু বিক্রি কমে এলে খামারি ও দরিদ্র পরিবারগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের হালাল লাল মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ কারণেই সীমিত আকারে হালাল লাল মাংস রফতানি হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের সব কয়টি দেশের পাশাপাশি ব্রুনাইয়েও রফতানি হচ্ছে বাংলাদেশের এ লাল মাংস। বিপুলসংখ্যক পশু অবিক্রীত থাকার পরিপ্রেক্ষিতে মাংস রফতানি বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

এতে খামারি ও কৃষক উভয়ই লাভবান হবেন। এ কথা সত্য, সরকার গবাদিপশু বিক্রির জন্য অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি ছাড়াও বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করেছিল। এতে পশু আনা সুবিধাজনক হলেও চাহিদা না থাকায় অনেক পশু অবিক্রীত থেকে গেছে। এসব পশু বিক্রির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষ চাইলে এ উদ্যোগ নিতে পারে। এক্ষেত্রে দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।

অনেক খামারি ঋণ নিয়ে গরু লালন-পালন করেছেন। কোরবানিতে বিক্রি করে অর্থ পরিশোধ করবেন। তারাও গরু বিক্রি করতে না পেরে ঋণের অর্থ পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। খামার পরিচালনার দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতেই এখন তাদের বেগ পেতে হবে। শুধু খামারিরাই নন, এবার বড় ধরনের চাপে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও। যারা সারা দেশের বিভিন্ন খামার থেকে গরু কিনে ঢাকায় আনেন ব্যবসার উদ্দেশ্যে। কিন্তু তারাও এবার লাভের মুখ দেখতে পারেননি।

যারা গরু বিক্রি করতে পারেননি, উল্টো ঢাকায় এসে বাড়তি কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে, তাদের এখন গরু পালন করতেই হিমশিম খেতে হবে। কারণ আগের ব্যাংকঋণ পরিশোধ না করলে নতুন ঋণও পাওয়া যাবে না। অবিক্রীত গবাদিপশুর খাবার জোগান দেয়া অনেকের পক্ষে সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ ও পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।

কোরবানির পশু অবিক্রীত থাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশেষ কিছু উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক দিন ধরেই গবাদিপশুর বীমা চালুকরণের কথা বলা হচ্ছে। পাইলটভিত্তিক কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও সেটি এখনো তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি। ঈদুল আজহায় গবাদিপশু বিক্রির উদ্দেশ্যে যারা খামার বা পশুপালন করেন, তাদেরও বীমার আওতায় আনা জরুরি। এতে ক্ষুদ্র এসব উদ্যোক্তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা কমে আসবে।

বিশ্বের অনেক দেশেই কৃষি ও পশু বীমা খুবই জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে কৃষকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়। বাংলাদেশেও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক। অর্থনীতির স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী বাজারে চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি থাকলে দাম কমে যায়। চলতি বছরের অভিজ্ঞতা আমলে নিয়ে তাই বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জোগান নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি বছরই গবাদিপশুর জোগান বাড়ছে। ধারণা করা যায় আগামী বছরও বাড়বে।

কিন্তু চাহিদার পতন যদি বজায় থাকে, তবে আগামীবারও খামারি ও ক্ষুদ্র কৃষকরা ব্যাপক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। গবাদিপশু পালনে কৃষকদের মধ্যে যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, সেটি ধরে রাখতে গবাদিপশুর বিকল্প বাজার তৈরি করতে হবে। নতুবা গবাদিপশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সাফল্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

একই সঙ্গে যেসব উদ্যোক্তা ও কৃষক বা খামারি বাজারের মন্দা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আর্থিক সহায়তা বা প্রণোদনা প্রদানের পদক্ষেপ নিতে হবে। করোনার কারণে এমনিতেই তারা ব্যাপক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এখন পশু অবিক্রীত থাকায় ক্ষতির শঙ্কা আরো বাড়ছে। গবাদিপশুকে আরো এক বছর খাইয়ে আগামী বছর বিক্রির জন্য রাখাও লাভজনক হবে না বলে প্রতীয়মান হয়। এক্ষেত্রে অবিক্রীত পশু বিক্রি বা ব্যবহারে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রত্যাশিত। সূত্র:বণিক বার্তা

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৫, ২০২১ ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
প্রাইভেট কারে গরু চুরির চেষ্টায় জনতার হাতে আটক চোর
প্রাণিসম্পদ

প্রাইভেট কারে গরু চুরির চেষ্টাকালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার এলাকায় রাজন নামে চোরকে আটক করেছে সাধারণ জনতা। পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়া। 

শনিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ব্রাহ্মণবাজার-শমশেরনগর রোড থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই অপু দাসগুপ্তসহ পুলিশ ফোর্স কৌলা এলাকায় এক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পান রাজন একটি প্রাইভেট কার নিয়ে চুরি করতে কুলাউড়া থেকে ব্রাহ্মণবাজারের দিকে যাচ্ছে।

কৌলা এলাকায় আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা পুলিশকে দেখে রাজন গাড়ি ঘুরিয়ে উপজেলার বিভিন্ন অলি-গলি দিয়ে ঘুরে ব্রাহ্মণবাজার গিয়ে বের হয়। ব্রাহ্মণবাজার থেকে শমশেরনগর যাওয়ার চেষ্টাকালে ব্রাহ্মণবাজার-শমশেরনগর রোডে জনতা বেরিকেড দিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় ওই প্রাইভেট কার থেকে লোহা কাটার যন্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় রাজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। আটক রাজনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। তাকে রোববার (২৫ জুলাই) সকালে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৪, ২০২১ ৮:৩৭ অপরাহ্ন
২০১৬ সালের পর সবচেয়ে কম পশু কোরবানি হয়েছে এবার
প্রাণিসম্পদ

করোনা সংক্রমণের মাঝেও অনলাইন আর অফলাইনে বিক্রি হয়েছে গরু-ছাগল। এ বছর ঈদুল আজাহায় সারাদেশে ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। যার মধ্যে ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৯টি গরু-মহিষ, ৫০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৮টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ৭১৫টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। তবে এ বছর যেন রেকর্ড হয়ে থাকবে। কারণ ২০১৬ সালের পর এ বছর সবচেয়ে কম পশু কোরবানি হয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে মানুষের কাছে অর্থের সংকট থাকায় অনেকেই এবার কোরবানি দেননি। আবার যারা আগে একাই কোরবানি দিতেন, এবার তারা ভাগে দিয়েছেন। এ জন্য গরুর চাহিদা কম ছিল। শুরুর দিকে যেসব ব্যবসায়ী অল্প দামে গরু ছেড়ে দিয়েছেন, তারা লোকসান করেননি। যারা বেশি দামের আশায় গরু রেখে দিয়েছিলেন, তাদেরই লোকসান গুণতে হয়েছে বিপুল অঙ্কের টাকা।

জানা যায়, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের কারণে ২০১৬ সালেই কোরবানির পশুর সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ কোটি ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর ১ কোটি ৫ লাখ পশু কোরবানি হয়। ২০১৭ সালে ১ কোটি ৪ লাখ গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার সঙ্গে হাজারখানেক দুম্বা, উট ও গয়াল কোরবানি হয়। ২০১৮ সালে ১ কোটি ৫ লাখ পশু কোরবানি হয়। ২০১৯ সালে কোরবানি হয় ১ কোটি ৬ লাখ পশু। ২০২০ সালে করোনাকালে কোরবানির সংখ্যা কমে যায়। ওই বছর ৯৪ লাখ ৫০ হাজার পশু কোরবানি হয়। চলতি বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৭ হাজার। আর কোরবানি হয়েছে ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু ।

শনিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ বছর হাট এবং অনলাইন মিলিয়ে মোট ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। ফলে অবিক্রীত থেকে গেল ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৮টি পশু।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৪, ২০২১ ৭:৪৩ অপরাহ্ন
পোল্ট্রির ডিম, মুরগি ও বাচ্চার শনিবার (২৪ জুলাই) সর্বশেষ পাইকারি দাম
প্রাণিসম্পদ

পোল্ট্রি পণ্য (ডিম ও মুরগীর) আজকের পাইকারী মূল্য(টাকা) নিন্মরুপ:-
তারিখ:২৪/০৭/২০২১ ইং

★এখানে বর্ণিত পোল্ট্রি পণ্যের মূল্য মূলত : পোল্ট্রি খামারিদের প্রাপ্ত মূল্য।

ইউনাইটেড এগ(সেল পয়েন্ট)
লাল ডিম=৮.০০
সাদা ডিম=৭.০০
ডাম্পিং মার্কেট=
লাল(বাদামী) ডিম=৭.১৫
সাদা ডিম=৫.৬৫
গাজীপুর:-
লাল(বাদামী)ডিম=৭.১০
সাদা ডিম=৫.৬০
ব্রয়লার মুরগী=৯০/কেজি
কালবার্ড লাল=১৯০/কেজি
কালবার্ড সাদা=/কেজি
সোনালী মুরগী=১৫৫/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=
লেয়ার সাদা=
ব্রয়লার=
ডায়মন্ডঃ-
লাল(বাদামী) বড় ডিম=
লাল(বাদামী) মাঝারি ডিম=
চট্টগ্রাম:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৪০
সাদা ডিম=৭.০০
ব্রয়লার মুরগী=৯৩/৯৪কেজি
কালবার্ড লাল=২০০/কেজি
সোনালী মুরগী=১৫৫/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=
লেয়ার সাদা=১২
ব্রয়লার=১৭-১৮
রাজশাহী:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮০
সাদা ডিম=৫.৪০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি
সোনালী =/কেজি
খুলনা:-
লাল(বাদামী) ডিম=৮.০০
সাদা ডিম=
বরিশাল:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৩০
ব্রয়লার মুরগী=১০০/কেজি
কালবার্ড লাল=২০০/কেজি
সোনালী মুরগী=১৬০/কেজি বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =১৮
লেয়ার সাদা =
ব্রয়লার=১৮
ময়মনসিংহ:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.১০
ব্রয়লার মুরগী=৮৫/৯০কেজি
সোনালী মুরগী=১৬০/কেজি
সিলেট=
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৫০
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি
কাজী(সিলেট) :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৭১

রংপুর:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
কাজী(রংপুর) :-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৯৫
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=২০-২৫
ব্রয়লার=২১
সোনালী হাইব্রিড=১৪
সোনালী রেগুলার=৯
বগুড়া :
লাল(বাদামী)ডিম=৭.২০
ব্রয়লার মুরগী=৯৫/কেজি
সোনালী মুরগী =১৬০/কেজি
টাংগাইল :-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৯৫
সাদা ডিম=৫.৫৫
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি
কিশোরগঞ্জ:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি
নরসিংদী :-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮০
সিরাজগঞ্জ :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.২০
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি
কালবার্ড লাল=/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি
ফরিদপুর :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৩০
কাজী(ফরিদপুর) :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৫০
ব্রয়লার মুরগী=৯৫/কেজি
লেয়ার মুরগী=১৯০/কেজি
সোনালী মুরগী=১৪৫/কেজি
পাবনা :-
লাল(বাদামী)ডিম=৬.৭৫
সাদা ডিম=৬.৫৫
নোয়াখালী:-
লাল(বাদামী)ডিম=৭.৫০
ব্রয়লার মুরগী=৯০/কেজি
কালবার্ড লাল=২১৫/কেজি
সোনালী মুরগী=১৫০/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =২২
লেয়ার সাদা =
ব্রয়লার =২০
পিরোজপুর (স্বরুপকাঠী:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৩০
সাদা ডিম=
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি
যশোর :-
লাল(বাদামী) ডিম=৮.২০
কুমিল্লা:-
লাল (বাদামী) ডিম=
ব্রয়লার মুরগী=/ কেজি
কালবার্ড লাল=/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি
কক্সবাজার :-
লাল (বাদামী) ডিম=৭.১০
সাদা ডিম=৬.৭০

একটি যৌথ উদ্যোগ: বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ (বি.পি.কে.আর.জে.পি) এবং পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশ(পিপিবি)।

ধন্যবাদান্তে
মো:শিমুল হক রানা
যোগাযোগ:০১৮৫৫৯৪৪২৭০

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৪, ২০২১ ৪:২৩ অপরাহ্ন
ঈদে গবাদি পশু কোরবানি ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি, অনলাইনে গতবছরের তুলনায় ৫ গুণ বেশি বিক্রি
প্রাণিসম্পদ

এবছর পবিত্র ঈদুল আযহায় সারাদেশে মোট ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। যার মধ্যে ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৯টি গরু-মহিষ, ৫০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৮টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ৭১৫টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে।

ঢাকা বিভাগে ৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৩৩টি গরু-মহিষ, ১২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ৩৬৩টিসহ মোট ২২ লাখ ৩৯ হাজার ২৫২টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ লাখ ৭১ হাজার ২৩১টি গরু-মহিষ, ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮৬টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ২০১টিসহ মোট ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫১৮টি, রাজশাহী বিভাগে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৩৩টি গরু-মহিষ, ১২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৩টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ১২৯টিসহ মোট ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৫টি, খুলনা বিভাগে ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৪৭টি গরু-মহিষ, ৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৪৩টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ১১টিসহ মোট ৮ লাখ ৫৭ হাজার ৬০১টি, বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬২১টি গরু-মহিষ, ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৮টি ছাগল-ভেড়াসহ মোট ৪ লাখ ৬১ হাজার ৯৭৯টি, সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৯ হাজার ৫৬৯টি গরু-মহিষ, ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৬৪টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ৮টিসহ মোট ৪ লাখ ৮ হাজার ৯৪১টি, রংপুর বিভাগে  ৪ লাখ ৯৬ হাজার ২২০টি গরু-মহিষ, ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৯ টি ছাগল-ভেড়াসহ মোট ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৯টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ লাখ ৮০ হাজার ৩২৫টি  গরু-মহিষ, ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬১৯টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ৩টিসহ মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সরকার এবছর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গবাদিপশু ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম গ্রহণ করে। সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগসহ অন্যান্য দপ্তর-সংস্থা, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ অন্যান্য বেসরকারি সংগঠন ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে গবাদিপশুর ডিজিটাল হাট পরিচালনা করে। যার প্রেক্ষিতে এবছর অনলাইনে মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৯টি গবাদিপশু বিক্রয় হয়েছে যার আর্থিক মূল্য ২ হাজার ৭৩৫ কোটি ১১ লাখ  ১৫ হাজার  ৬৭৮ টাকা। গতবছর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গবাদিপশু বিক্রয় হয়েছিল ৮৬ হাজার ৮৭৪টি যার আর্থিক মূল্য ছিল ৫৯৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪ হাজার ৮২৯ টাকা। এবছর গতবছরের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ বেশি গবাদিপশু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রয় হয়েছে। আগামী বছর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গবাদিপশু ক্রয়-বিক্রয়ের পরিসর আরো বাড়ানোর লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কাজ করবে।

করোনা মহামারির মধ্যেও গবাদিপশু উৎপাদন, কোরবানির পশু প্রস্তুতকরণ, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা ও খামারিদের উদ্বুদ্ধকরণ, পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল সেবা প্রদানসহ সুষ্ঠুভাবে কোরবানির সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য ষংশ্লিষ্ট সকল প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। একইসাথে স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রাণিসম্পদ খাতের খামারি, উদ্যোক্তা, ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনসহ কোরবানির সাথে সম্পৃক্ত সকল সরকারি-বেসরকারি দপ্তর-সংস্থা ও সংগঠনকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও সচিব।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৪, ২০২১ ২:৪৫ অপরাহ্ন
বিক্রি না হওয়া পশু নিয়ে চরম বিপাকে খামারিরা
প্রাণিসম্পদ

বিক্রি না হওয়া পশু নিয়ে বিপাকে চরম পড়েছে খামারিরা। ব্যাংক ঋণ নিয়ে চড়া দামের খাবারে দিয়ে পালন করে এখন প্রায় ৫০ শতাংশই বিক্রি করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়ছেন খামারিরা।

জানা যায়, এবারে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা ছিল বেশি। যে তুলনায় বড় গরুর ক্রেতা ছিল যৎসামান্য। ফলে যারা বড় গরু বিক্রির জন্য ঢাকার বাজারগুলোতে এসেছিল তাদের ৫০-৯০ শতাংশ পশুই অবিক্রিত থেকে গেছে। তবে ঢাকায় বিক্রি জন্য আনা খামাড়িদের গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ গরু অবিক্রিত রয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

সরকারি তথ্য বলছে, কোরবানি উপযোগী গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার। তবে কি পরিমাণ গরু বিক্রি হয়েছে তার পরিসংখ্যান এখনো হাতে পায়নি অধিদপ্তর। পরিসংখ্যান যাই আসুক কোরবানী আগের তুলনায় অনেক কমেছে বলেই ধারণা খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছর ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি গরু প্রস্তুত ছিল। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছিল ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ২৬৩টি। গত বছরও করোনার কারণে পশু কোরবানি কম হয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে যথাক্রমে এক কোটি সাড়ে পাঁচ লাখ ও ১ কোটি ছয় লাখ ছাড়িয়েছিল কোরবানির সংখ্যা।

পলিসি রিসার্চ ইনষ্টিটিউট অব বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, “বড় শিল্পপতি, রাজনৈতিক নেতারা আগে ৫-৬টা করে গরু কিনতো। কিন্তু এবারে হয়তো তারা একটা গরু কোরবানি করেছে। পাড়া-মহল্লায় বড় গরু কিনে শো-অফের ব্যাপারটা এবার ছিল না। হয়তো যারা দলবল নিয়ে গরু কিনতো তারা এবার করোনার ভয়ে হাটেই যায়নি”।

তিনি বলেন, “রাজনীতিবিদ ও শিল্পপতিরা বড় গরু কিনতো এবং মাংস অন্যান্যদের মাঝে বিলিয়ে দিত। করোনার কারণে এবার সে অবস্থা ছিল না। অন্যদিকে মানুষের হাতে টাকা কম থাকায় অনেকে হয়তো কোরবানিই দেয়নি”।

মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ‘বাবু ক্যাটেল এগ্রো’র মালিক ওমর ফারুক গাবতলী হাটে ৬০টি গরু এনেছিলেন যেখান থেকে বিক্রি করেছেন ১০টি। তিনি জানান, “তিন লাখ টাকার গরু এক বছর পালনের পর যদি দুই লাখ টাকা দাম চায় তাহলে সেটা বিক্রি করা যায় না।” তিনি জানান, ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে সারাবছর গরু পালন করেছেন কোরবানির সময় বিক্রি করবেন বলে।

শুধু খামারিরাই নয়, এবার বড় ধরনের চাপে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও। যারা সারাদেশের বিভিন্ন খামার থেকে গরু কিনে ঢাকায় আনেন ব্যবসার উদ্দেশ্যে। কিন্তু তারাও এবার লাভের মুখ দেখতে পারেননি।

খামারি, ব্যবসায়ী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ এ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর পশু কোরবানি অন্যান্য বছরের চেয়ে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে বেশি-কম হতে পারে। তবে এর এখনো কোন সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি হয়নি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা: শেখ আজিজুর রহমান জানান, “পরিসংখ্যানটি এখনো তৈরি হয়নি। আগামী সপ্তাহে এটি জানা যাবে”।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশন (বিডিএফএ) এর সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ এমরান জানান, “খামারিদের যারা বড় গরু বাজারে এনেছিল তাদের প্রায় ৫০ শতাংশই অবিক্রিত রয়েছে। চড়া দামের খাবার খাইয়ে, ব্যাংক ঋণ নিয়ে যারা খামার করেছে তাদের অবস্থা শোচনীয়। খামার পরিচালনার দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতেই এখন এদেরকে পথে বসতে হবে।”

খামারিরা বলছেন, যারা গরু বিক্রি করতে পারেনি, উল্টো ঢাকায় এসে বাড়তি কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে তাদের এখন গরু পালন করতেই হিমশিম খেতে হবে। কারণ আগের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করলে নতুন ঋণও পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে গো-খাদ্যের দাম ব্যাপক চড়া।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৪, ২০২১ ১২:০০ অপরাহ্ন
ছাগলের খামার থেকে লাভবান হবেন যেভাবে
প্রাণিসম্পদ

ছাগলের খামার লাভজনক হওয়ায় দিন দিন আমাদের দেশের মানুষ ছাগলের খামারের দিকে ঝুঁকছেন। আর তাতে করে ছাগল পালনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছোট আকারের ছাগলগুলোতে বাড়তি আরেকটু যত্ন নিলে আরো বেশি ইনকাম করা সম্ভব হবে। 

ছোট আকারের ছাগলের খামার থেকে আরো লাভের উপায়:
প্রথমেই উচ্চমানের ও ভালো জাতের ছাগল নির্বাচন করতে হবে। এজন্য খামারের জন্য ছাগল কেনার সময় জাত সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। খামারে ছাগল পালন করে লাভবান হওয়ার জন্য ভালো খাদ্য ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। ছাগলকে দৈনন্দিন সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রদান করতে হবে। ছাগল পালনে খাদ্য খরচ কমানোর জন্য প্রয়োজনে খামারের আশপাশে পতিত জমিতে ঘাসের চাষ করতে হবে।

ছোট খামারে ছাগল পালন করা হলে প্রতকেটি খরচের হিসাব রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে খামারে আয়ের তুলনায় যাতে ব্যয় বেশি না হয়। খামারে কোন কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পেলে খরচ কমিয়ে আনতে হবে। ছাগলের খামার ছোট হলেও নিয়মিত খামারকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পালন করা ছাগলকে রোগমুক্ত রাখতে হবে প্রয়োজনে খামারে জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করে দিতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৪, ২০২১ ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
গরু বেপারীদের ১৩ লাখ টাকা লুট, মামলা নিতে গড়িমসি
প্রাণিসম্পদ

ঈদের আগের রাতে ট্রাকে বাড়ি ফেরার পথে গাজীপুরে সাত গরু বেপারীর ১৩ লাখ টাকা লুট করেছে যাত্রীবেশী একটি ডাকাত দলের চক্র। এ সময় ডাকাতদের হামলায় তিন ব্যাপারী গুরুতর আহত হয়েছে।

এ ডাকাতির ঘটনায় এজাহার নিয়ে গেলে মামলা না নিয়ে ঢাকার ভাটরা, গাজীপুর মহানগরীর সদর, গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানার মধ্যে ঠেলাঠেলির অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ঈদের আগের রাতে (মঙ্গলবার) কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গাবরগাঁও গ্রামের ছমির উদ্দিন মাস্টারের ছেলে মুঞ্জুরুল হকসহ (৫০) সাত বেপারী ঢাকার ভাটরা থানার নতুনবাজার পশুর হাটে গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সন্ধ্যার দিকে একটি ট্রাক ময়মনসিংহের গফরগাঁও যাওয়ার কথা বলে তাদের ট্রাকে উঠায়। ওই ট্রাকে আরো ১৩ জন যাত্রী ছিল। যাত্রীরাও গরুর বেপারী পরিচয় দিয়ে গফরগাঁও যাবে বলে বেপারীদের জানায়।

ট্রাকটি রাত ৮টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদর থানার সালনা ব্রিজে পৌঁছালে যাত্রীবেশী ডাকাতরা বেপারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা বেপরীদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে এবং বেদম মারপিট করে একটি ব্যাগে থাকা গরু বিক্রির ১৩ লাখ নিয়ে নেয়। পরে জয়দেবপুর থানার রাজেন্দ্রপুর-ডগরী সড়কের বাশঁরী পিকনিক স্পটের কাছে গহিন গজারি বনে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

বেপারীদের চিৎকার শুনে পথচারীরা জয়দেবপুর থানায় খবর দেয়। রাত ১২টার দিকে জয়দেবপুর থানার এসআই মো. সুলতান তাদের উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে বেপারী রিপন, জয়নাল আবেদীন ও শহিদুল্লাহ গুরুতর অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওই রাতেই বেপারী মঞ্জুরুল হক সদর থানায় মামলা করতে গেলে ডিউটি অফিসার না নিয়ে যে থানা এলাকা থেকে বেপারীদের উদ্ধার করা হয় সেখানে অর্থাৎ জয়দেবপুর থানায় যেতে বলেন। ভোর হয়ে যাওয়ায় ওইদিন না গিয়ে ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে জয়দেবপুর থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে ওসি ঘটনার উৎপত্তি স্থান ঢাকার ভাটরা থানায় যেতে বলেন।

মঞ্জুরুল হক বলেন, ডাকাতদের লাঠিপেটায় জয়নাল ও রিপনের মাথা ফেটে এবং শহিদুল্লাহর হাত ভেঙে যায়। জয়নালের মাথায় ২১টি এবং রিপনের মাথায় ১৭টি সেলাই দিতে হয়েছে। রাতেই মামলার জন্য সদর থানায় গেলে জয়দেবপুর থানায় যেতে বলে। জয়দেবপুর গেলে ভাটরা থানায় যেতে বলেন। ভাটরা থেকেও জয়দেবপুর যেতে বলে। গতকাল শুক্রবার আবার জয়দেবপুর থানায় আসলেও মামলা নেননি ওসি।

জয়দেবপুর থানার ওসি মামুন আল রশিদ জানান, ঘটনার সূত্রপাত ভাটরা থানায়। আর ডাকাতি শুরু হয়েছে সদর থানায়। তাই মামলা ওই দুই থানায় হবে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) জাকির হাসান জানান, বেপরীরা উদ্ধার হয়েছে জয়দেবপুর থানা এলাকায়। তাই মামলা ওই থানায় হওয়ার কথা।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ শফিক জানান, ঘটনাস্থল তিনটা। তিন থানাতেই মামলা হতে পারে। তবে যেহেতু ভাটরা থেকে ঘটনা শুরু তাই মামলা ওই থানায় হলে সবচেয়ে ভালো। তাদের সড়কে সিসি ক্যামেরা আছে। যা তদন্তে সহায়তা হবে। তবে যেহেতেু জয়দেবপুর থানা এলাকায় উদ্ধার হয়েছে তাই ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এ ঘটনায় সবাইকেই দায়িত্ব নিয়ে দেখতে হবে। সূত্র: কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৩, ২০২১ ৪:০৮ অপরাহ্ন
ফেনীতে গরু ব্যবসায়ীর ১৫ লাখ টাকা লুট
প্রাণিসম্পদ

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেনীতে গরু ব্যবসায়ীর ঘরে ডাকাত দল হানা দিয়ে নগদ প্রায় ১৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার ফরহাদ নগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাটা মোবারক ঘোনা এলাকার খালেক মাঝির নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত শাহজাহান জানান, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে মাটি গর্ত করে ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। তারা সবাই অস্ত্র ঠেকিয়ে তার হাত-মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলে। মারধর করে তাকে মারাত্মক জখম করে। তার বুকের ওপর তিন ডাকাত বসে ছিল; যেন চিৎকার করতে না পারেন। এরপর গরু বিক্রির সাড়ে ১৪ লাখ টাকা নিয়ে চলে যায় ডাকাত দল।

বিষয়টি তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন টিপুকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শাহজাহান।

ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন টিপু জানান, গরু ব্যবসায়ী শাহজাহান বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। তবে তারা কাউকে চিনতে পারেননি বলে জানান।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop