১:০৪ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১ ১০:৪২ অপরাহ্ন
বরিশালে ভাসমান কৃষি বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): ভাসমান কৃষির আধুনিক প্রযুক্তির ওপর এক কৃষক মাঠ দিবস আজ বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে (আরএআরএস) অনুষ্ঠিত হয়। ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ, গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্প আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম।

আরএআরএস’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়া।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম, এসও মো. মাহবুবুর রহমান, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, আগে ভাসমান বেডে শুধু সবজির চারা উৎপাদন হত। এখন শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হচ্ছে। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তা সম্ভব হয়েছে। এখন দরকার ভাসমান কৃষিকে জনপ্রিয়করণ করা। অনুষ্ঠানে বাবুগঞ্জ এবং উজিরপুর ও আলৈঝাড়ার ১০০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১ ৩:৪৮ অপরাহ্ন
নরসিংদীতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে সবজির চারা
কৃষি বিভাগ

নরসিংদীতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে সবজির চারা। এ জেলার সবজির খ্যাতি দেশজুড়ে। সবচেয়ে বেশি সবজি হয় শিবপুর উপজেলায়। তবে ভালো ফলন চাইলে প্রথমে প্রয়োজন ভালো বীজতলা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের ৫/৬টি গ্রামে গড়ে উঠেছে সবজি চারা উৎপাদনের নার্সারি। সর্বমহলের কাছে বিশেষ পরিচিত হয়ে উঠেছে এখানকার চারা।

সব রকমের মৌসুমি ও আগাম সবজির চারার উৎপাদন করা হয় এখানে। উৎপাদনে নিয়োজিত রয়েছেন এই এলাকার প্রায় দুই থেকে তিন শতাধিক কৃষক। এসব চারার গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের মাঝেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে উৎপাদনকারী কৃষকের সংখ্যাও।

কৃষকরা জানান, শিবপুর তথা নরসিংদীর স্থানীয় কৃষকরা একসময় মুন্সিগঞ্জ থেকে সবজির চারা কিনে চাষ করতেন। কিন্তু নিজেদের প্রয়োজনীয় চাহিদার কথা ভেবে আজ থেকে দীর্ঘ দুই যুগ আগে এ চারা উৎপাদন শুরু করেন এখানকার কৃষকরা। এরপর থেকে ধীরে ধীরে এলাকাটি চারা উৎপাদনের জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এখন প্রায় ৪০ বিঘার বেশি জমিতে এ চারা উৎপাদন করা হয়। বাজার মূল্যে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার উপরে। এই চারা বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন শুধু বাঘাব ইউনিয়নেরই দুই শতাধিকেরও বেশি কৃষক।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ভালো ফলন পেতে হলে ভালো জাতের চারা হওয়া চাই। আর ভালো ফলনের চারা মানেই শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের চারা। এই ইউনিয়নের কুন্দারপাড়া, গাংপাড়া, খড়কমারা, ব্রাহ্মন্দী, লামপুর, নাওহালা ও বংপুর এলাকার উৎপাদিত সবজির চারার রয়েছে সুনাম। এখানকার কৃষকরা বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, লাউ, শসা, টমেটো, পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, শালগম, করলাসহ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ফলনশীল সবজির চারা উৎপাদন করে থাকেন।

চলতি মৌসুমের আগস্ট থেকে ডিসেম্বরে প্রতিবছর এই সময় বদলে যায় এ এলাকার চিত্র। ভোরের আলো উঠার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষকরা। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বর মাসজুড়ে চারা উৎপাদন ও বিক্রি চলে। পলিথিনে মোড়ানো শেড করে ৪ থেকে ৫ বার পর্যন্ত বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বিক্রি করতে পারেন তারা।

বাঘাব ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা জোসনা বেগম জানান, সবজির চারা উৎপাদন করা নার্সারি একটি লাভজনক ব্যবসা। তাই এ বাঘাবা ইউনিয়নেই ৫/৬টি গ্রামের প্রায় দুই-তিন শত কৃষক এ সবজির চারা উৎপাদন করেন। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকি।

শিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন সাদেক জানান, এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে সবজির চারা উৎপাদন করা হয়। চারা উৎপাদন করে নিজেদের জমিতে রোপণের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অন্যত্র বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে এখানকার কৃষকরা। তাই আমাদের কৃষি অফিস তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সবজির চারা উৎপাদন বাড়াতে প্রতি বছরই কৃষকদের দক্ষতা অর্জনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১ ১০:০১ পূর্বাহ্ন
ধানের জমিতে শসা চাষ
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলায় ধানের জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলন হওয়ায় হাসিও ফুটেছে কৃষকের মুখে। শসার উৎপাদন সাধারণত গরমের সময় বেশি হয়ে থাকে। বেশ কয়েক জাতের শসা রয়েছে। বীজ রোপণের ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল ধরা শুরু হয়। বিঘা প্রতি খরচ হয় ১০ হাজার আর বিক্রি হয় ২০ হাজার টাকায়। লাভ বেশি হওয়ায় শসার চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকেই।

গোমকোট গ্রামের শসা চাষি কামরুল ইসলাম জানান, এ মৌসুমে ৩০ শতক জমিতে শসার আবাদ করেছেন। যা খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এতে বিক্রি উঠবে হবে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এবার আবহাওয়া ভালো রয়েছে। বাজারে শসার ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

গোমকোট গ্রামের মোতালেব ও আলমগীর যৌথভাবে প্রায় দুই একর জমিতে শসার আবাদ করেন তারা। এতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রথম দিকে বৃষ্টি কম হওয়া বীজ বপন করলে চারা কম উঠে। আবার কিছু কিছু চারা গাছও মারা যায়। পরে আবার গাছ লাগাই। এখন একটু ভালো অবস্থায় রয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে শসা বিক্রি শুরু করি। এভাবে আরো ৭-৮ বার শসা কাটলে ১ লাখ ৫০ টাকার মতো বিক্রি হবে।

শসা চাষি মনির হোসেন বলেন, ৬০ শতক জায়গা শসা চাষ করেছেন তিনি। ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। যা খরচ হয়েছে তা উঠে এখন লাভে আছি। কৃষি অফিসার তদারকিতে ভালো ফলন পেয়েছি।

পৌর সদর ব্লক উপ-সহকারী কৃষি অফিসার জুনায়েদ হোসেন জানান, পৌর সদরের বাতুপাড়া গ্রামটি শসা চাষের বিচরণ ভূমি। আমরা কৃষকদের উদ্ভূত করি ভালো জাতের বীজ ব্যবহার করে সঠিক সময়ে শসা ফলানোর জন্য। সব সময় শসার জমিনগুলো পরিদর্শন করি। কখন কি ওষুধ ব্যবহার করবে তার জন্য পর্রামশ প্রদান করি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম জানান, এ মৌসুমে পুরো উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ করা হয়। আবহাওয়া ভালো থাকায় বাজারে শসার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভালো দামও পাচ্ছেন তারা। আর কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। যাতে আরো অধিক লাভবান হতে পারে শসা চাষিরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
বরিশালে নারিকেলের পোকা দমন ব্যবস্থাপনার ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): নারিকেলের ক্ষকিকর পোকামাকড়ের সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনার ওপর এক কৃষক মাঠ দিবস ২৯ সেপ্টেম্বর বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে (আরএআরএস ) অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) কীটতত্ত¡ বিভাগ এবং আরএআরএস’র যৌথ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএআরআই’র পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ উইং) ড. মুহাম্মদ সামসুল আলম।

তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে নারিকেল গাছ নেই, এমন বাড়ি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এর কোনো অংশই ফেলনার নয়। বাজারমূল্যও ভালো। তাই এ ফল আবাদে আমাদের যত্নশীল হতে হবে। রোগপোকা দমনে নিতে হবে সঠিক ব্যবস্থা। তবেই এর উৎপাদন বাড়বে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়।

আরএআরএস’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএআরআই’র কীট তত্ত্ব বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নির্মল কুমার দত্ত এবং ভাসমান প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন, আরএআরএস’র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমান, এসও মো. রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বাবুগঞ্জ এবং উজিরপুরের ৫০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১ ৪:৪০ অপরাহ্ন
সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে চালের রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দেশে চালের রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। গড় উৎপাদনশীলতাও বেড়েছে। এখন দেশে প্রতি শতাংশ জমিতে ১ মণ করে ধান উৎপাদন হয়। তারপরও চাল আমদানি করতে হচ্ছে নানা কারণে। দেশে জনসংখ্যা ও চালের চাহিদার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। অন্যদিকে বছর বছর জনসংখ্যা বাড়ছে, চাষের জমি কমছে। অন্যান্য ফসলের চাষেও জমি ব্যবহার হচ্ছে।

দেশে বছরে এখন ৬০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হচ্ছে। আগে যে খেতে ধানের চাষ হতো সেখানেই ভুট্টা চাষ হচ্ছে। একইসাথে, চালের নন-হিউম্যান কনজামশন অনেক বেড়েছে। মাছ, পোল্ট্রি, প্রাণি খাদ্য ও স্টার্চ হিসেবে চালের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব মিলে দেশে চালের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

বুধবার ঢাকার ফার্মগেটে বিএআরসি মিলনায়তনে ‘ফার্ম সেক্টর অব বাংলাদেশ: প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ফোরাম ফর ইনফরমেশন ডিসেমিনেশন অন এগ্রিকালচার (ফিডা) ও সিনজেন্টা বাংলাদেশ লি. এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, যে যে ভাবে পারছে দেশের বাইরে থেকে নতুন ধরণের ফসলের জাত নিয়ে আসছে ও চাষ করছে। এটিকে আমরা উৎসাহ দেই, কিন্তু সাথে সাথে দেখতে হবে দেশে এসব ফসল চাষে কোন ঝুঁকি বা স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে কিনা। এসব ফসল চাষ আদৌ আমাদের প্রয়োজন আছে কিনা।

দেশের কৃষির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে ‘ফার্ম সেক্টর অব বাংলাদেশ: প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ’ বইটি ফিডা ও সিনজেন্টা বাংলাদেশ ফেলোশিপের আওতায় প্রকাশিত হয়েছে। এর প্রশংসা করে ড. রাজ্জাক বলেন, প্রাইভেট সেক্টর ও সাংবাদিকদের এ যৌথ উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। আমরা কৃষিকে বাণিজ্যিক, আধুনিক ও লাভজনক করতে চাই। এক্ষেত্রে মিডিয়ার বিরাট ভূমিকা রয়েছে। প্রাইভেট সেক্টরকেও এগিয়ে আসতে হবে।

ফিডার সভাপতি রিয়াজ আহমদের সভাপতিত্বে বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো: বখতিয়ার, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, বারির মহাপরিচালক নাজিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনিরুল আলম, ফিডার সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন বাবলু, ফিডার সদস্য কাউসার রহমান, সিনজেন্টার ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম তৌহিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১ ১২:২৭ অপরাহ্ন
আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কিশোরগঞ্জের কৃষক
কৃষি বিভাগ

জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কৃষক ব্যস্ত আগাম আলু চাষে। ভালো দামের আশায় কৃষির মাঠে তাদের ওই মহাব্যস্ততা। কেউ তৈরি করছেন জমি, আবার অনেকেই জমি তৈরির পর বপন করেছেন আলু বীজ।

কৃষকরা বলছেন, বাজারে নতুন আলুর ভালো দাম পাওয়া যায়। বীজ বপনের পর ৫৫ থেকে ৫৮দিনের মধ্যে ফসল তুলা যায়। এসময়ে বাজারে নতুল আলুর চাহিদা থাকায় দামও ভালো পাওয়া যায়। প্রতিবছর ওই আলু তুলে তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে বিক্রি করেন। আগাম আলু চাষে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে আবাদ।

উপজেলার বাগাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের শামীম হোসেন বাবু জানান, আগাম আলু আবাদের জন্য প্রয়োজন একটু উঁচু জমি। কৃষকরা ওই জমিতে আগাম জাতের ধানের কর্তনের পর একই জমিতে আগাম আলু আবাদ করছেন। এতে করে একই জমিতে অধিক ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। তেমনি আলুর আগাম বাজার ধরে অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

তিনি বলেন,‘গত বছর ২১ বিঘা জমির আলু আগাম বাজারে বিক্রি করে খরচ বাদে লাভ করেছি ১০ লাখ টাকার অধিক। মাত্র ৫৫ থেকে ৫৮ দিনের মধ্যে এ মৌসুমে আলু ছাড়া অন্য কোন ফসল থেকে এ পরিমান লাভ করা সম্ভব হয় না। একারণে এবার ২৫ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছি। বীব বপনের পর এখন চলছে পরিচর্যা। আবহাওয়া অনুক’লে থাকায় ভালো ফলন এবং ভালো দামের আশা করছি।’

ওই কৃষক বলেন,‘আগে এ সময়টাতে এলাকার মানুষ মঙ্গায় কবলে পড়তেন। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে কৃষি বিপ্লবের ওপর জোর দেন। সে বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় নিত্য নতুন ফসলের আর্বিভাব ঘটায় কৃষি বিভাগ। এখন এলাকার কৃষক আগাম আলু আবাদ করে তাড়িয়েছেন সে মঙ্গা।

একই গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান তাঁর ছয় বিঘা জমিতে আগাম জাতের ধান আবাদের পর ফসল তুলেছেন ঘরে। এখন ওই জমিতে আলু আবাদের প্রস্তুতিও শেষ করে শুরু করেছেন বীজ বপন। অনেকের ন্যায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

ওই উপজেলার রণচন্ডী ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামের আকবর আলী ও রতন আলী বলেন,‘গত বছর অতি বৃষ্টির কারণে আলু আবাদে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে। এরপরও সেবার আলু তুলে বাজারে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পেরেছি। এবার কম বৃষ্টি থাকায় দ্রুত সময়ে আলুর জমি তৈরি থেকে বীজ বপন সম্পন্ন করেছি। তাই এবার আরো ভালো দামের আশা করছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পুটিমারী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিরেন্দ্র নাথ রায় জানান, এলাকার কৃষকরা আলুর আবাদের পর ওই জমিতে ভুট্টাসহ অন্য ফসলের আবাদ করে থাকেন। জমি তৈরি থাকায় ওই জমিতে পরবর্তী আবাদের জন্য খরচ কম হয়। ফলে সেখানে অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘রংপুর বিভাগের মধ্যে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আগাম জাতের আলুর চাষ হয়। গত বছর জেলায় আলুর আবাদ হয়েছিল ২২ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলুর চাষ হয়েছিল সাত হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে। আগাম আলু চাষের জন্য এ অঞ্চলের কৃষকরা আগাম জাতের ধান আবাদ করেও লাভবান হচ্ছেন। এ বছর জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার হেক্টর জমি । সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে আগাম জাতের আলু বীজ বপন করা হবে। এখন সেভেন জাতের আলু বীজ লাগানো হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
হবিগঞ্জে সারের দাম বেশি, বিপাকে কৃষক
কৃষি বিভাগ

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার রোপা আমনের মৌসুমে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সারের মূল্য বেড়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।প্রয়োজন মেটাতে অতিরিক্ত মূল্যে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।সরকার অনেক কৃষককে বিনামূল্যে সার দিচ্ছে। দেশজুড়ে সারের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে চলছে তৎপরতা। কিন্তু লাখাইয়ে সারের মূল্যবৃদ্ধিরোধে কর্তৃপক্ষের নিরব ভূমিকা ভাল চোখে দেখছেন না স্থানীয়রা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে ইউরিয়া সারের ৫০ কেজির এক বস্তা ৮শ’, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) প্রতি বস্তা ১ হাজার ১শ’ ও মিউরেট অব পটাশ অর্থাৎ এমওপি সারের প্রতি বস্তা ৭শ’৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু রোপা আমনে লাখাই উপজেলায় ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪ হাজার হেক্টর চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এজন্য বেড়ে গেছে সবধরণের সারের চাহিদা। অভিযোগ উঠেছে চাহিদা বাড়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সারের ডিলাররা অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছেন।

উপজেলাটির বুল্লা বাজার, বামৈ বাজার, লাখাই বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সার বিক্রিতে অতিরিক্ত মূল্য নেয়ার কথা জানা গেছে।

কৃষকরা জানান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএডিসি) সারের মজুদ চাহিদা অনুযায়ী না থাকায় ডিলাররা কৃষকদের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছেন। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সার ক্রয় করছেন। সারের মূল্য বেশি হওয়ায় সকল খরচ যোগ করে এবার আমনে বেশি লাভবান হতে পারবেন না বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

হবিগঞ্জের সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ বীরেন্দ্র লাল সাহা বলেন, কৃষকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। সারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে যদি তাঁদেরকে লোকসান গুণতে হয় তাহলে সেটি আমাদের চরম ব্যর্থতা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জোরদার তৎপরতা চালাতে হবে।
লাখাই উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা শাকিল খন্দকার জানান, বরাদ্দ অপ্রতুল থাকায় চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের সার দেওয়া যাচ্ছে না। তবে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
চুয়াডাঙ্গার চাষিদের মুখে পাটের ভালো দামে হাসি ফুটেছে
কৃষি বিভাগ

চুয়াডাঙ্গা জেলায় মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পাট জাগ দিতে কিছুটা বিড়ম্বনা হলেও পরবর্তীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ায় সেই সমস্যা কেটে গেছে। ঠিকমতো পাট কেটে জাগ দিয়ে আঁশ ছাড়িয়ে শুকিয়ে সেই পাট এখন বাজারে বিক্রির ধুম পড়েছে।অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর পাটের ফলনও যথেষ্ট ভালো হয়েছে। বর্তমানে সব সমস্যা সমাধান করে বাজারে নতুন পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এতে বেশ আনন্দিত চাষিরা। এতে দীর্ঘদিন পর হাসি ফিরেছে সোনালি আঁশে।

কৃষকরা এখন পাট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও খাল-বিল, পুকুর কিংবা ডোবায় পাট কেটে জাগ দেয়ার জন্য ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। আবার হাইওয়ে কিংবা গ্রামীণ রাস্তার পাশে বাঁশের খুঁটি পুঁতে তাতে সারি সারি করে শুকাতে দেয়া হয়েছে পাট। কোথাও বা পাটগাছ কেটে জাগ দিয়ে সেখান থেকে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ আঁশ ছাড়ানো পাট শুকিয়ে ঘরে তুলছেন। গ্রামাঞ্চলে এখন একটাই দৃশ্য চোখে পড়ে সোনালি পাট নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা।

অনেক জায়গায় সড়কের দুই পাশে নারী ও পুরুষকে পাট শুকানোর কাজ করতেও দেখা যায়। আবার অনেকে অটোরিকশা, ভ্যানে করে বাজারে পাট নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নতুন পাটের গন্ধে এখন গ্রামগঞ্জ মাতোয়ারা।

গত কয়েক বছর ধরেই পাটের দাম খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। এরমধ্যে হঠাৎ করে গত বছর পাটের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। পাট কাটা মৌসুমের শুরুতেই প্রতিমণ পাট বিক্রি হয় ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে। পরে এটি ৩৫০০ এবং মৌসুমের শেষ পর্যায়ে হাটে প্রতিমণ পাটের দাম ৫ হাজার টাকা পৌঁছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, গত বছর প্রতিমণ পাটের গড় মূল্য হয়েছিল ৩৫০০ টাকা।

পাট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাট চাষ করে তিন মাসের মধ্যে পাট ঘরে তোলা যায়। কম সময়ে, কম পরিশ্রমের ফসল পাট। প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ১০-১২ মণ পাট উৎপাদন হয়।

এবার বাজারে পাটের মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। এত দামে বিক্রির কারণে পাট চাষের খরচ বাদ দিলে অভাবনীয় মুনাফা পাচ্ছেন পাট চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ২০ হাজার ৫২৭ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৬ টন। এ হিসেবে জেলায় এবার ৭৩ হাজার ৮৯৭ টন পাট উৎপাদন হবে। বর্তমানে পাট কাটা ধোয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিভিন্ন হাট বাজারে পুরোদমে পাট বেচা-কেনা চলছে। এ বছর পাটের রং ভালো হওয়ায় যে কোনো বছরের তুলনায় দাম অনেক বেশি।

জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পাট নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। পাটের দাম শুরুতেই ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

জীবননগর উপজেলার নিধিকুন্ড গ্রামের পাট চাষি মিজানুর রহমান জানান, তিনি ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ২ বিঘা জমিতে প্রায় ২৪ মণ পাট হয়েছে। তিনি সেই পাট বাজারে নিয়ে প্রতিমণ ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এতে তার অনেক লাভ হয়েছে। কম খরচে, কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় খুব খুশি তিনি।

দামুড়হুদা উপজেলার বলদিয়া গ্রামের পাট চাষি আবুল হাসান জানান, সোয়া ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। ওই জমিতে ১৮ মণ পাট হয়েছে। প্রতিমণ ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এতে তার খরচ বাদে ৩৭ হাজার ২০০ টাকা লাভ হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল মাজেদ বলেন, এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা বর্তমান পাটের বাজার দর অনুযায়ী উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ পাচ্ছেন। পাটের দাম এ রকম থাকলে আগামী বছর কৃষকরা আরও ব্যাপকভাবে পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ১০:১৮ অপরাহ্ন
কালিহাতীতে বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে মাসকলাই বীজ ও সার বিতরণ
কৃষি বিভাগ

কামরুল হাসান, কালিহাতী (টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে খরিপ-২/২০২১-২২ মৌসুমে মাসকলাই উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে মাসকলাই বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ১৬০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ১ বিঘা জমির জন্য জনপ্রতি ৫ কেজি করে মাসকলাই বীজ, ৫ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বি.কম।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা তানজিন অন্তরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল ছালেক, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিল্পী দে ও অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা মামুন প্রমুখ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ৫:০৭ অপরাহ্ন
সিঙ্গাপুর ফেরত সোহাগের ব্লাক রাইস চাষ
কৃষি বিভাগ

সিঙ্গাপুর ফেরত দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কামার পাড়া ইউনিয়নের রেজওয়ানুল সরকার সোহাগ ব্লাক রাইস (কালো ধান) ধান চাষ হচ্ছে। ৩০ জুলাই জমিতে চারা রোপণ করা এই ধান আসছে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ঘরে তোলা যাবে। অথচ ব্লাক রাইস ধানক্ষেতে থাকতেই বীজ হিসেবে ক্রয়ের জন্য খানসামার কৃষকদের সাড়া পড়ে গেছে। রীতিমত খানাসামা উপজেলায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

রেজওয়ানুল সরকার সোহাগ চলতি মৌসুমে ৫২ শতক জমিতে এই ব্লাক রাইস চাষ করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ কিছুই জানে বলে জানিয়েছে।

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৪ নং খামার পাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া আদিবাসি স্কুলের পাশে এই ধানের চাষ করেছেন তিনি। রেজওয়ানুল সরকার সোহাগ খানসামা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত জোনাব আলী সরকারের ছেলে। ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন সিঙ্গাপুরে। দেশে আসার পর তার বাবা মারা যান। এরপর আর সিঙ্গাপুর ফিরে যাওয়া হয়নি তার।

সোহাগ জানান, সিঙ্গাপুরে আমি দেখেছি সেখানকার মানুষ, বিশেষ করে চীনের মানুষ ব্লাক রাইস বেশি দামে কিনে খেত। আমারা ৫ কেজি সাধারণ চাল কিনতাম ১২ থেকে ১৬ ডলারে, আর তারা ৫ কেজি ব্লাক রাইস কিনত ২০ ডলারে। তারা বলত ব্লাক রাইস শরীরে চর্বি জমতে দেয় না ধীরে ধীরে হজম হয়। এ কারণে খুদা কম লাগে। দেশে ফিরে আসার পর এখন বাবার রেখে যাওয়া জমি জমা দেখাশোনা ও চাষবাস করি।

এক বন্ধুর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে এর বীজ সংগ্রহ করে বাড়িতে পরিবার নিয়ে খাওয়ার জন্য এবং উৎপাদন কেমন হয় তা জানার জন্য এই প্রথম ব্লাক রাইসের চাষ করছি। এই ধান একরে ৩৫ মণ পর্যন্ত হতে পারে। দাম যদি ভালো পাওয়া যায় এবং চাহিদা যদি থাকে তাহলে আগামীতে ব্লাক রাইসের চাষ আরো বৃদ্ধি করব।

সোহাগ জানান, ব্লাক রাইসের উপরে প্রামাণ্য চিত্র দেখে তিনি জেনেছেন কালো চাল ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধক। এতে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল রয়েছে। তাই কালো চাল উৎপাদনে মনোযোগী হয়েছেন। অনেকে বিদেশ থেকে বেশি দামে চাল কিনে খায়।

ঢাকায়ও বিদেশি কোম্পানিগুলো এই চাল হাজার টাকায় কেজি বিক্রি করলেও স্থানীয়ভাবে তিনি প্রতি কেজি কমপক্ষে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান সোহাগ। এ চালের উৎপাদন সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করছেন।

ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সোহাগ তার আদিবাসী স্কুল সংলগ্ন নিজের জমিতে কালো চালের সুবজ পাতায় বেগুনি শীষের ধানের গাছগুলো পরিচর্যা করছেন। ধানের শীষও সাধারণ ধানের চেয়ে বড়। অন্যান্য আর সাধারণ ধানের মতোই পরিচর্যা করতে হয় এই ধানের। অতিরিক্ত কোনো কিছুই করতে হয় না। ব্লাক রাইসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং বাংলাদেশে চাষের উপযোগী।

তিনি আরো জানান, কালো চাল দেখতে যেমন কালো, এ চালের ভাতও কালো এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ, সুগন্ধযুক্ত দামি ও স্বাস্থ্যকর এ কালো চাল সারা পৃথিবীতে খুবই সমাদৃত।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায়ের কাছে ব্লাক রাইস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ব্লাক রাইস সম্পর্কে জানিনা বা আমার জানামতে খানসামা উপজেলায় কেউ ব্লাক রাইস ধান রোপণ করেননি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop