৬:৪০ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ১ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১ ৪:৪০ অপরাহ্ন
সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে চালের রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দেশে চালের রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। গড় উৎপাদনশীলতাও বেড়েছে। এখন দেশে প্রতি শতাংশ জমিতে ১ মণ করে ধান উৎপাদন হয়। তারপরও চাল আমদানি করতে হচ্ছে নানা কারণে। দেশে জনসংখ্যা ও চালের চাহিদার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। অন্যদিকে বছর বছর জনসংখ্যা বাড়ছে, চাষের জমি কমছে। অন্যান্য ফসলের চাষেও জমি ব্যবহার হচ্ছে।

দেশে বছরে এখন ৬০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হচ্ছে। আগে যে খেতে ধানের চাষ হতো সেখানেই ভুট্টা চাষ হচ্ছে। একইসাথে, চালের নন-হিউম্যান কনজামশন অনেক বেড়েছে। মাছ, পোল্ট্রি, প্রাণি খাদ্য ও স্টার্চ হিসেবে চালের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব মিলে দেশে চালের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

বুধবার ঢাকার ফার্মগেটে বিএআরসি মিলনায়তনে ‘ফার্ম সেক্টর অব বাংলাদেশ: প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ফোরাম ফর ইনফরমেশন ডিসেমিনেশন অন এগ্রিকালচার (ফিডা) ও সিনজেন্টা বাংলাদেশ লি. এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, যে যে ভাবে পারছে দেশের বাইরে থেকে নতুন ধরণের ফসলের জাত নিয়ে আসছে ও চাষ করছে। এটিকে আমরা উৎসাহ দেই, কিন্তু সাথে সাথে দেখতে হবে দেশে এসব ফসল চাষে কোন ঝুঁকি বা স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে কিনা। এসব ফসল চাষ আদৌ আমাদের প্রয়োজন আছে কিনা।

দেশের কৃষির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে ‘ফার্ম সেক্টর অব বাংলাদেশ: প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ’ বইটি ফিডা ও সিনজেন্টা বাংলাদেশ ফেলোশিপের আওতায় প্রকাশিত হয়েছে। এর প্রশংসা করে ড. রাজ্জাক বলেন, প্রাইভেট সেক্টর ও সাংবাদিকদের এ যৌথ উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। আমরা কৃষিকে বাণিজ্যিক, আধুনিক ও লাভজনক করতে চাই। এক্ষেত্রে মিডিয়ার বিরাট ভূমিকা রয়েছে। প্রাইভেট সেক্টরকেও এগিয়ে আসতে হবে।

ফিডার সভাপতি রিয়াজ আহমদের সভাপতিত্বে বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো: বখতিয়ার, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, বারির মহাপরিচালক নাজিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনিরুল আলম, ফিডার সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন বাবলু, ফিডার সদস্য কাউসার রহমান, সিনজেন্টার ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম তৌহিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১ ১২:২৭ অপরাহ্ন
আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কিশোরগঞ্জের কৃষক
কৃষি বিভাগ

জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কৃষক ব্যস্ত আগাম আলু চাষে। ভালো দামের আশায় কৃষির মাঠে তাদের ওই মহাব্যস্ততা। কেউ তৈরি করছেন জমি, আবার অনেকেই জমি তৈরির পর বপন করেছেন আলু বীজ।

কৃষকরা বলছেন, বাজারে নতুন আলুর ভালো দাম পাওয়া যায়। বীজ বপনের পর ৫৫ থেকে ৫৮দিনের মধ্যে ফসল তুলা যায়। এসময়ে বাজারে নতুল আলুর চাহিদা থাকায় দামও ভালো পাওয়া যায়। প্রতিবছর ওই আলু তুলে তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে বিক্রি করেন। আগাম আলু চাষে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে আবাদ।

উপজেলার বাগাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের শামীম হোসেন বাবু জানান, আগাম আলু আবাদের জন্য প্রয়োজন একটু উঁচু জমি। কৃষকরা ওই জমিতে আগাম জাতের ধানের কর্তনের পর একই জমিতে আগাম আলু আবাদ করছেন। এতে করে একই জমিতে অধিক ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। তেমনি আলুর আগাম বাজার ধরে অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

তিনি বলেন,‘গত বছর ২১ বিঘা জমির আলু আগাম বাজারে বিক্রি করে খরচ বাদে লাভ করেছি ১০ লাখ টাকার অধিক। মাত্র ৫৫ থেকে ৫৮ দিনের মধ্যে এ মৌসুমে আলু ছাড়া অন্য কোন ফসল থেকে এ পরিমান লাভ করা সম্ভব হয় না। একারণে এবার ২৫ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছি। বীব বপনের পর এখন চলছে পরিচর্যা। আবহাওয়া অনুক’লে থাকায় ভালো ফলন এবং ভালো দামের আশা করছি।’

ওই কৃষক বলেন,‘আগে এ সময়টাতে এলাকার মানুষ মঙ্গায় কবলে পড়তেন। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে কৃষি বিপ্লবের ওপর জোর দেন। সে বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় নিত্য নতুন ফসলের আর্বিভাব ঘটায় কৃষি বিভাগ। এখন এলাকার কৃষক আগাম আলু আবাদ করে তাড়িয়েছেন সে মঙ্গা।

একই গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান তাঁর ছয় বিঘা জমিতে আগাম জাতের ধান আবাদের পর ফসল তুলেছেন ঘরে। এখন ওই জমিতে আলু আবাদের প্রস্তুতিও শেষ করে শুরু করেছেন বীজ বপন। অনেকের ন্যায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

ওই উপজেলার রণচন্ডী ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামের আকবর আলী ও রতন আলী বলেন,‘গত বছর অতি বৃষ্টির কারণে আলু আবাদে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে। এরপরও সেবার আলু তুলে বাজারে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পেরেছি। এবার কম বৃষ্টি থাকায় দ্রুত সময়ে আলুর জমি তৈরি থেকে বীজ বপন সম্পন্ন করেছি। তাই এবার আরো ভালো দামের আশা করছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পুটিমারী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিরেন্দ্র নাথ রায় জানান, এলাকার কৃষকরা আলুর আবাদের পর ওই জমিতে ভুট্টাসহ অন্য ফসলের আবাদ করে থাকেন। জমি তৈরি থাকায় ওই জমিতে পরবর্তী আবাদের জন্য খরচ কম হয়। ফলে সেখানে অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘রংপুর বিভাগের মধ্যে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আগাম জাতের আলুর চাষ হয়। গত বছর জেলায় আলুর আবাদ হয়েছিল ২২ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলুর চাষ হয়েছিল সাত হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে। আগাম আলু চাষের জন্য এ অঞ্চলের কৃষকরা আগাম জাতের ধান আবাদ করেও লাভবান হচ্ছেন। এ বছর জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার হেক্টর জমি । সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে আগাম জাতের আলু বীজ বপন করা হবে। এখন সেভেন জাতের আলু বীজ লাগানো হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
হবিগঞ্জে সারের দাম বেশি, বিপাকে কৃষক
কৃষি বিভাগ

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার রোপা আমনের মৌসুমে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সারের মূল্য বেড়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।প্রয়োজন মেটাতে অতিরিক্ত মূল্যে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।সরকার অনেক কৃষককে বিনামূল্যে সার দিচ্ছে। দেশজুড়ে সারের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে চলছে তৎপরতা। কিন্তু লাখাইয়ে সারের মূল্যবৃদ্ধিরোধে কর্তৃপক্ষের নিরব ভূমিকা ভাল চোখে দেখছেন না স্থানীয়রা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে ইউরিয়া সারের ৫০ কেজির এক বস্তা ৮শ’, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) প্রতি বস্তা ১ হাজার ১শ’ ও মিউরেট অব পটাশ অর্থাৎ এমওপি সারের প্রতি বস্তা ৭শ’৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু রোপা আমনে লাখাই উপজেলায় ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪ হাজার হেক্টর চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এজন্য বেড়ে গেছে সবধরণের সারের চাহিদা। অভিযোগ উঠেছে চাহিদা বাড়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সারের ডিলাররা অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছেন।

উপজেলাটির বুল্লা বাজার, বামৈ বাজার, লাখাই বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সার বিক্রিতে অতিরিক্ত মূল্য নেয়ার কথা জানা গেছে।

কৃষকরা জানান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএডিসি) সারের মজুদ চাহিদা অনুযায়ী না থাকায় ডিলাররা কৃষকদের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছেন। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সার ক্রয় করছেন। সারের মূল্য বেশি হওয়ায় সকল খরচ যোগ করে এবার আমনে বেশি লাভবান হতে পারবেন না বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

হবিগঞ্জের সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ বীরেন্দ্র লাল সাহা বলেন, কৃষকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। সারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে যদি তাঁদেরকে লোকসান গুণতে হয় তাহলে সেটি আমাদের চরম ব্যর্থতা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জোরদার তৎপরতা চালাতে হবে।
লাখাই উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা শাকিল খন্দকার জানান, বরাদ্দ অপ্রতুল থাকায় চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের সার দেওয়া যাচ্ছে না। তবে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
চুয়াডাঙ্গার চাষিদের মুখে পাটের ভালো দামে হাসি ফুটেছে
কৃষি বিভাগ

চুয়াডাঙ্গা জেলায় মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পাট জাগ দিতে কিছুটা বিড়ম্বনা হলেও পরবর্তীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ায় সেই সমস্যা কেটে গেছে। ঠিকমতো পাট কেটে জাগ দিয়ে আঁশ ছাড়িয়ে শুকিয়ে সেই পাট এখন বাজারে বিক্রির ধুম পড়েছে।অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর পাটের ফলনও যথেষ্ট ভালো হয়েছে। বর্তমানে সব সমস্যা সমাধান করে বাজারে নতুন পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এতে বেশ আনন্দিত চাষিরা। এতে দীর্ঘদিন পর হাসি ফিরেছে সোনালি আঁশে।

কৃষকরা এখন পাট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও খাল-বিল, পুকুর কিংবা ডোবায় পাট কেটে জাগ দেয়ার জন্য ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। আবার হাইওয়ে কিংবা গ্রামীণ রাস্তার পাশে বাঁশের খুঁটি পুঁতে তাতে সারি সারি করে শুকাতে দেয়া হয়েছে পাট। কোথাও বা পাটগাছ কেটে জাগ দিয়ে সেখান থেকে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ আঁশ ছাড়ানো পাট শুকিয়ে ঘরে তুলছেন। গ্রামাঞ্চলে এখন একটাই দৃশ্য চোখে পড়ে সোনালি পাট নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা।

অনেক জায়গায় সড়কের দুই পাশে নারী ও পুরুষকে পাট শুকানোর কাজ করতেও দেখা যায়। আবার অনেকে অটোরিকশা, ভ্যানে করে বাজারে পাট নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নতুন পাটের গন্ধে এখন গ্রামগঞ্জ মাতোয়ারা।

গত কয়েক বছর ধরেই পাটের দাম খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। এরমধ্যে হঠাৎ করে গত বছর পাটের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। পাট কাটা মৌসুমের শুরুতেই প্রতিমণ পাট বিক্রি হয় ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে। পরে এটি ৩৫০০ এবং মৌসুমের শেষ পর্যায়ে হাটে প্রতিমণ পাটের দাম ৫ হাজার টাকা পৌঁছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, গত বছর প্রতিমণ পাটের গড় মূল্য হয়েছিল ৩৫০০ টাকা।

পাট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাট চাষ করে তিন মাসের মধ্যে পাট ঘরে তোলা যায়। কম সময়ে, কম পরিশ্রমের ফসল পাট। প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ১০-১২ মণ পাট উৎপাদন হয়।

এবার বাজারে পাটের মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। এত দামে বিক্রির কারণে পাট চাষের খরচ বাদ দিলে অভাবনীয় মুনাফা পাচ্ছেন পাট চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ২০ হাজার ৫২৭ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৬ টন। এ হিসেবে জেলায় এবার ৭৩ হাজার ৮৯৭ টন পাট উৎপাদন হবে। বর্তমানে পাট কাটা ধোয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিভিন্ন হাট বাজারে পুরোদমে পাট বেচা-কেনা চলছে। এ বছর পাটের রং ভালো হওয়ায় যে কোনো বছরের তুলনায় দাম অনেক বেশি।

জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পাট নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। পাটের দাম শুরুতেই ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

জীবননগর উপজেলার নিধিকুন্ড গ্রামের পাট চাষি মিজানুর রহমান জানান, তিনি ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ২ বিঘা জমিতে প্রায় ২৪ মণ পাট হয়েছে। তিনি সেই পাট বাজারে নিয়ে প্রতিমণ ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এতে তার অনেক লাভ হয়েছে। কম খরচে, কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় খুব খুশি তিনি।

দামুড়হুদা উপজেলার বলদিয়া গ্রামের পাট চাষি আবুল হাসান জানান, সোয়া ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। ওই জমিতে ১৮ মণ পাট হয়েছে। প্রতিমণ ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এতে তার খরচ বাদে ৩৭ হাজার ২০০ টাকা লাভ হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল মাজেদ বলেন, এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা বর্তমান পাটের বাজার দর অনুযায়ী উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ পাচ্ছেন। পাটের দাম এ রকম থাকলে আগামী বছর কৃষকরা আরও ব্যাপকভাবে পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ১০:১৮ অপরাহ্ন
কালিহাতীতে বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে মাসকলাই বীজ ও সার বিতরণ
কৃষি বিভাগ

কামরুল হাসান, কালিহাতী (টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে খরিপ-২/২০২১-২২ মৌসুমে মাসকলাই উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে মাসকলাই বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ১৬০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ১ বিঘা জমির জন্য জনপ্রতি ৫ কেজি করে মাসকলাই বীজ, ৫ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বি.কম।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা তানজিন অন্তরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল ছালেক, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিল্পী দে ও অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা মামুন প্রমুখ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ৫:০৭ অপরাহ্ন
সিঙ্গাপুর ফেরত সোহাগের ব্লাক রাইস চাষ
কৃষি বিভাগ

সিঙ্গাপুর ফেরত দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কামার পাড়া ইউনিয়নের রেজওয়ানুল সরকার সোহাগ ব্লাক রাইস (কালো ধান) ধান চাষ হচ্ছে। ৩০ জুলাই জমিতে চারা রোপণ করা এই ধান আসছে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ঘরে তোলা যাবে। অথচ ব্লাক রাইস ধানক্ষেতে থাকতেই বীজ হিসেবে ক্রয়ের জন্য খানসামার কৃষকদের সাড়া পড়ে গেছে। রীতিমত খানাসামা উপজেলায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

রেজওয়ানুল সরকার সোহাগ চলতি মৌসুমে ৫২ শতক জমিতে এই ব্লাক রাইস চাষ করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ কিছুই জানে বলে জানিয়েছে।

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৪ নং খামার পাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া আদিবাসি স্কুলের পাশে এই ধানের চাষ করেছেন তিনি। রেজওয়ানুল সরকার সোহাগ খানসামা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত জোনাব আলী সরকারের ছেলে। ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন সিঙ্গাপুরে। দেশে আসার পর তার বাবা মারা যান। এরপর আর সিঙ্গাপুর ফিরে যাওয়া হয়নি তার।

সোহাগ জানান, সিঙ্গাপুরে আমি দেখেছি সেখানকার মানুষ, বিশেষ করে চীনের মানুষ ব্লাক রাইস বেশি দামে কিনে খেত। আমারা ৫ কেজি সাধারণ চাল কিনতাম ১২ থেকে ১৬ ডলারে, আর তারা ৫ কেজি ব্লাক রাইস কিনত ২০ ডলারে। তারা বলত ব্লাক রাইস শরীরে চর্বি জমতে দেয় না ধীরে ধীরে হজম হয়। এ কারণে খুদা কম লাগে। দেশে ফিরে আসার পর এখন বাবার রেখে যাওয়া জমি জমা দেখাশোনা ও চাষবাস করি।

এক বন্ধুর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে এর বীজ সংগ্রহ করে বাড়িতে পরিবার নিয়ে খাওয়ার জন্য এবং উৎপাদন কেমন হয় তা জানার জন্য এই প্রথম ব্লাক রাইসের চাষ করছি। এই ধান একরে ৩৫ মণ পর্যন্ত হতে পারে। দাম যদি ভালো পাওয়া যায় এবং চাহিদা যদি থাকে তাহলে আগামীতে ব্লাক রাইসের চাষ আরো বৃদ্ধি করব।

সোহাগ জানান, ব্লাক রাইসের উপরে প্রামাণ্য চিত্র দেখে তিনি জেনেছেন কালো চাল ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধক। এতে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল রয়েছে। তাই কালো চাল উৎপাদনে মনোযোগী হয়েছেন। অনেকে বিদেশ থেকে বেশি দামে চাল কিনে খায়।

ঢাকায়ও বিদেশি কোম্পানিগুলো এই চাল হাজার টাকায় কেজি বিক্রি করলেও স্থানীয়ভাবে তিনি প্রতি কেজি কমপক্ষে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান সোহাগ। এ চালের উৎপাদন সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করছেন।

ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সোহাগ তার আদিবাসী স্কুল সংলগ্ন নিজের জমিতে কালো চালের সুবজ পাতায় বেগুনি শীষের ধানের গাছগুলো পরিচর্যা করছেন। ধানের শীষও সাধারণ ধানের চেয়ে বড়। অন্যান্য আর সাধারণ ধানের মতোই পরিচর্যা করতে হয় এই ধানের। অতিরিক্ত কোনো কিছুই করতে হয় না। ব্লাক রাইসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং বাংলাদেশে চাষের উপযোগী।

তিনি আরো জানান, কালো চাল দেখতে যেমন কালো, এ চালের ভাতও কালো এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ, সুগন্ধযুক্ত দামি ও স্বাস্থ্যকর এ কালো চাল সারা পৃথিবীতে খুবই সমাদৃত।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায়ের কাছে ব্লাক রাইস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ব্লাক রাইস সম্পর্কে জানিনা বা আমার জানামতে খানসামা উপজেলায় কেউ ব্লাক রাইস ধান রোপণ করেননি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ১২:৫৫ অপরাহ্ন
কালো জাতের ধান চাষে তাক লাগিয়েছেন কৃষক শাহাবুদ্দিন
কৃষি বিভাগ

এই প্রথম পরীক্ষামূলক মাগুরার মুহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের আদর্শ কৃষক শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ লিটন কালো চালের ধান চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত দামি এই ধান চাষ করেছেন ৬৫ শতক জমিতে। ব্লাক রাইস চাষাবাদ অন্যান্য আধুনিক ধান চাষের মতো দেখতে দৃষ্টি নন্দন ফলনও বেশি। এতে কোনো অতিরিক্ত সার বা পানির প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় না অতিরিক্ত পরিচর্যার। ব্যতিক্রমী এবং দুর্লভ এই ধান চাষে এলাকার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে অনেক দামি ও দুর্লভ এই ধান রোপণ করে কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ। এই ধানের চালের ভাত খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজাপুর ইউনিয়নের নাওভাঙ্গা এলাকায় ডায়াবেটিস প্রতিরোধমূলক নতুন কালো ধানের ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু আব্দুল্লাহেল কাফী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সোবহান, রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বিশ্বাস, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার, রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো. শাখারুল ইসলাম প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিজ অর্থায়নে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঁচ জন আর্দশ কৃষককে ৫ কেজি করে কালো ধানের বীজ প্রদান করা হয়।

উপজেলায় বিভিন্ন এলকায় প্রায় আট বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক এই কালো ধানের চাষ করা হয়েছে। সফল চাষ ও ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। আর সফলতার সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগ এই জাতের ধান চাষে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়াতে পরিকল্পনা করে যাচ্ছেন।

কৃষক লিটন বলেন, ‘প্রথমে ইউটিউবে দেখে কালো ধান সম্পর্কে জানতে পেরে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে বীজ সংগ্রহ করি। শুরু থেকেই কৃষি কর্মকর্তারা ফসলের তদারকিসহ আমাকে সব ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। আগামি মৌসুমে বেশি জমিতে এই ধানের চাষ করে স্বাবলম্বী হতে চাই।’

বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কালোধান চাষি মাসুদ শেখ জানান, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে সহযোগিতায় ৩৩ শতক জমিতে কালো ধান চাষ করেছি। ফলনও ভালো পেয়েছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোকছেদুল মোমিন বলেন, এই জাতের ধানের চালে বিভিন্ন ওষুধি গুণ রয়েছে। এই চালের ভাতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণসহ ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

কালো ধানের গুণাগুণ সম্পর্কে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুস সোবহান বলেন, মূলত এসব জাতের ধানের রঙ সোনালি বা কালচে হয়। তবে চাল একেবারে কুচকুচে কালো। কালো চালে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। কালো ধানে ডায়াবেটিস প্রতিরোধক ক্ষমতা রয়েছে। এ চাল অনেক উপকারী।

পুষ্টিসমৃদ্ধ এই চাল কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন কৃষিবিদ মো. আব্দুস সোবহান। তিনি বলেন, এই মূল্যবান ধানের জাত খুব দ্রুত দেশের কৃষকের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
ভোর থেকেই বসছে আমন চারার হাট
কৃষি বিভাগ

আমন ধানের চারা কুমিল্লার হাট-বাজার বেচা-কেনা জমে উঠেছে। জেলার মাধাইয়া হাট-বাজারটি বিশাল এলাকা জুড়ে ভোর থেকেই বসছে আমন চারার হাট। তবে বর্তমানে আমন ধানের চারার দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকায় ক্রেতারাও খুশি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লার বেশীর ভাগ এলাকায় এখন চলছে আমন ধান আবাদের ভরা মৌসুম। তবে প্রকৃতির উপর নির্ভর করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে এ অঞ্চলের কৃষকরা রোপা আমন ধান চাষ করে থাকেন। কৃষক এখন মাঠে ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত। বর্তমানে আবহাওয়া ভালো থাকায় চাষে আগ্রহী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। আমনের চারা কিনতে কৃষক ছুটছেন কুমিল্লার চারার হাট গুলোতে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় জাতের আমনের চারা ভালো মানের এবং বেশ লম্বা। এটি লবণসহিষ্ণু জাত। কুমিল্লার দোল্লাই নবাবপুর, মাধাইয়া, ইলিয়টগঞ্জ চারা বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় চারা কিনতে বহু দূরদূরান্তে কৃষকরা হাটে এসেছেন। মাধাইয়া হাটে আসা কৃষক কাউসার খন্দকার বাসসকে বলেন, আমি উপজেলা কৃষি অফিসারগণের পরামর্শে বিএডিসি অফিস থেকে ৪৫ কেজি ধান সংগ্রহ করে ১৫ শতক জমিতে ফলাই। এতে যে ধানের চারা হয়েছে তা দিয়ে আমার ১২০ শতক জমিতে চারা রোপণ করে বাকি চারা আমি ৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি এবং আমি আরো ৫ হাজার টাকার চারা বিক্রি করতে পারবো।

এ প্রসঙ্গে দোল্লাই নবাবপুর হাট-বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাজারে অনেক বড় চারার হাট বসে। তবে অন্য বারের চেয়ে এবার হাট আরো জমজমাট হয়েছে। দূর -দূরান্ত থেকে যে সব কৃষক আসে তাদের কেউ যেন কোনো প্রকার সমস্যায় না পড়ে তার জন্য আমরা কঠোর নজরদারি রেখেছি।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, বীজতলা তৈরী থেকে শুরু করে ধানের বীজ সংগ্রহ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করেছি। করোনা পরবর্তী খাদ্য সংকট মোকাবেলায় আমাদের কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে থেকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আমন ধান রোপণের জন্য বর্তমান সরকারের নিদের্শনা অনুযায়ী আমরা জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে ধানের বীজ, সার প্রণোদনা দিয়ে আসছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ১০:২৬ পূর্বাহ্ন
লাউয়ের ভালো দাম পাচ্ছে লালমাইয়ের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা লালমাই উপজেলাকে বলা হয় সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ হয়। তার মধ্যে অন্যতম লাউ। প্রতি বছরের মত কৃষকরা এবারো লাউয়ের চাষ করেছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম ভালো পাচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। এখানকার লাউয়ের কদর দেশব্যাপী। খরচের চেয়ে লাভ বেশি হওয়া লাউ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলার সব এলাকায় লাউয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এখন চট্টগ্রাম শহর, ফেনী, নোয়াখালী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লালমাই উৎপাদিত লাউ সরবারহ করা হচ্ছে। চাষিরা বলেছেন, অন্য সবজির চেয়ে লাউ চাষ লাভজনক। লাউ চাষে উৎপাদন ব্যয় কম অথচ আয় বেশি হওয়ায় দিন দিন কৃষকরা লাউ চাষের দিকে ঝুঁকছে। লালমাই এলাকার কৃষক গফুর মিয়া বাসসকে বলেন , ৫০ শতক জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ শুরু করি। লাউ চাষে আমাদের খরচ হয়ে ৩৪ হাজার টাকা। ইতিমেধ্যে প্রায় ৮৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। আরো কিছুদিন বিক্রি করতে পারবেন বলে জানায়।

একই এলাকার কৃষক জামিল হোসেন জানান, পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় লাউ চাষের মাচাং তৈরির প্রয়োজনীয় শলাকা ও খুঁটি হাতের কাছে পাওয়া যায়। ফলে এ এলাকায় লাউ চাষের মাচাং তৈরি ও খেত পরিচর্যায় খরচ কম। উপজেলার মধ্যম লালমাই ঘুরে দেখা গেছে, সকাল নয়টার মধ্যে বাজারে নেয়ার জন্য জমি থেকে লাউ তুলে সেখানে জমা করেছেন প্রায় ২৫ জন কৃষক। তারা সেখান থেকে পিকআপ যোগে নিমসার নিয়ে যাবেন। এখন প্রতি পিস লাউ প্রথমে ৫০ টাকা করে পাইকারী বিক্রি করেছেন। এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি করছেন। ভালো দাম পাওয়ায় তার খুশি। সেখানে আবার পাইকারী চাষিদের থেকে পাইকারী লাউ কিনে নিচ্ছেন ইমাম হোসেন নামে একজন পাইকার। ইমাম বলেন, আমি চাষিদের কাছ থেকে ৩০-৩৫ টাকা ধরে লাউ কিনে নিয়ে তা বাজারের শহরের থেকে আসা পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করবো। গাড়ি ভাড়া, শ্রমিক খরচ, বাজারের টোল দেয়ার পর প্রতি পিস লাউয়ে আমার ৮-১০ টাকা লাভ হয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, লালমাই এলাকার আবহাওয়া লাউ চাষের অনুকূল। তাছাড়া প্রয়োজনীয় কৃষি সামগ্রী এখানে সহজলভ্য। এসব সুযোগ সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে কৃষকরা লাউ চাষ করছেন। কৃষি অফিস থেকেও চাষিদের নিয়মিত বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছেন বলে জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১ ১০:১০ পূর্বাহ্ন
কানাইঘাটের কৃষি কর্মকর্তার বদলী জনিত বিদায়
কৃষি বিভাগ

কানাইঘাট উপজেলার কৃষি বান্ধব কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমদ সরকারের অন্যত্র বদলি জনিত উপলক্ষে কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিক ও বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্থরের কৃষকগণ তাকে আবেগঘন বিদায় জানিয়েছেন।

রবিবার বিকাল ৪ টায় কর্ম দিবসের শেষ দিনে কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কানাইঘাট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ উপজেলার কৃষি সেক্টরের যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত করায় কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমদ সরকারকে আনুষ্টানিক ভাবে এ বিদায় জানান।

এ সময় কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমদ সরকার বলেন কানাইঘাটে প্রায় দুই বছর দায়িত্বকালীণ সময়ে বিশেষ করে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা কৃষির উন্নয়নে আমাকে যে ভাবে সহযোগীতা করেছেন তা আমি সব সময় মনে রাখবো।

কানাইঘাট অঞ্চল কৃষির জন্য উর্বর এলাকা। এখানকার কৃষকদের পাশে থেকে কৃষিকে যান্ত্রীকীকরন করার লক্ষে সমলয় চাষাবাদ সহ সব ধরণের কৃষির উন্নয়নে আমি চেষ্টা করেছি। কৃষক সহ সবাই আমাকে সহযোগীতা করেছেন। কানাইঘাটে মানুষের কথা সব সময় আমি মনে রাখবো।

দায়িত্ব পালন কালে কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। বিদায় বেলায় উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সহ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ, দপ্তর সম্পাদক মুমিন রশিদ, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহীন আহমদ, ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সদস্য মাহফুজ সিদ্দিকী।

এ সময় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বিদায়ী কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমদ সরকার কানাইঘাটে কর্মরত থাকাকালীণ সময়ে অত্যান্ত নিষ্টার সাথে কাজ করায় কৃষি জমির চাষাবাদ বৃদ্ধি সহ ধানের রেকর্ড উৎপাদন ও সবজির বাম্পার ফলন এবং কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষি সেবা পৌছে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি বরাদ্ধ বৃদ্ধি সহ তার কর্ম তৎপরতার প্রশংসা করেন।

এর আগে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এক সংবর্ধনা অনুষ্টান কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হায়দার আলীর সভাপতিত্বে ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো:আবুল হারিছ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত সভায় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিদায়ী কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমদ সরকারকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসের সকল কর্মকর্তা বৃন্দ।

এদিকে দিনভর বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিসিআইসি সার ডিলারদের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop