৭:১১ অপরাহ্ন

শুক্রবার, ১ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অগাস্ট ২৩, ২০২১ ৮:৪৬ অপরাহ্ন
১ লাখ টন আম রপ্তানির লক্ষ্যে রোডম্যাপ প্রণয়নের নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর
কৃষি বিভাগ

আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে প্রতিবছর ১ লাখ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা- রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি।
মন্ত্রী সোমবার বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে হর্টেক্স ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘আম রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য আমের উন্নত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে ২৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। অথচ রপ্তানি হয় মাত্র কয়েকশ টন আম। বছরে ১ লাখ টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। সেলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন, রোডম্যাপ প্রণয়ন ও আমের নতুন বাজার খুঁজে বের করতে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। রপ্তানির বাধাসমূহ চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে, নিরাপদ আমের নিশ্চয়তা দিতে ৩ টি ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। উৎপাদন থেকে শিপমেন্ট পর্যন্ত আম নিরাপদ রাখতে উত্তম কৃষি চর্চা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট দেয়ার কাজ চলছে। এর ফলে চলতি বছর গত বছরের তুলনায় আম রপ্তানি ৫ গুণ বেড়েছে।আগামীতে রপ্তানির পরিমাণ অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো: বখতিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ এবং এনএটিপি-২ প্রকল্পের পরিচালক মো: মতিয়ার রহমান। এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থাপ্রধান, আমচাষি, ব্যবসায়ী, শাকসবজি ও ফল রপ্তানিকারক প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে প্রতিবছর আমের উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু উৎপাদনের তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ অনেক কম। ডিইএর হিসাবে ২০১৯-২০ সালে দেশে প্রায় ২৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়েছে; বিপরীতে আম রপ্তানি হয়েছে ২৮৩ মেট্রিক টন। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের ফলে চলতি বছর ২০২০-২১ সালে ১৬২৩ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৫ গুণেরও বেশি।
কর্মশালায় আরো জানান হয়, দেশে উৎপাদিত আমের বিরাট অংশ- গড়ে শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। খিরসাপাত আমের ক্ষেত্রে ৩৭% ও ফজলি আমের ২৯% নষ্ট/অপচয় হয়। এতে ক্ষতির পরিমাণ বছরে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
আম রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য নতুন বাজার অনুসন্ধান, রপ্তানি চাহিদা অনুযায়ী উন্নতজাত নির্বাচন, ফাইটোস্যানিটারি পদ্ধতি ও আমদানিকারক দেশের উত্তম কৃষি চর্চা মেনে আম উৎপাদন, সার্টিফিকেশন, উন্নত প্যাকিং, উন্নত সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থা, রপ্তানি কার্যক্রমে দক্ষতা, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ, বিমান বন্দরে সুষ্ঠু কার্গো ব্যবস্থাপনার উপর কর্মশালায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২২, ২০২১ ৩:৪২ অপরাহ্ন
বরিশালে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি আয়োজিত দিনব্যাপী এক আঞ্চলিক কর্মশালা আজ বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, কৃষিতে বীজের গুরুত্ব অপরিসীম। অধিক উৎপাদনের জন্য অবশ্যই ভালো বীজ দরকার। আর এ জন্য প্রয়োজন বীজের গুণতমান বজায় রাখা। এসব বিষয়ে কৃষক এবং বীজ উৎপাদনকারীর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার চিন্ময় রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো.আলমগীর হোসেন এবং ডিএই বরিশালের উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিএই পিরোজপুরের উপপরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদার, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের যুগ্ম পরিচালক ড. একেএম মিজানুর রহমান, ডিএই পটুয়াখালী জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার (বরিশাল অঞ্চল) রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, ডিএই পটুয়াখালীর অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন তালুকদার, নেছারাবাদের উপজেলা কৃষি অফিসার চপল কৃষ্ণ নাথ, গৌরনদী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মামুনুর রহমান, নেছারাবাদের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সঞ্জয় হালদার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বীজ ডিলার ও কৃষকসহ ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২২, ২০২১ ২:৫৯ অপরাহ্ন
কুমিল্লায় নতুন ধানের দ্বিগুণ ফলন
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিনা ধান-২১ চাষে সাফল্য পাচ্ছেন কুমিল্লার কৃষকরা। ধান চাষে কম খরচের সাথে সময়ও কম ব্যয় হয়। দীর্ঘ খরায়ও এটি টিকে থাকতে পারে। ফলনও হচ্ছে দ্বিগুণ।

সম্প্রতি বিনা কুমিল্লা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ) ড. ফাহমিনা ইয়াসমিন, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ জুয়েল সরকার মাঠ পরিদর্শন করেন। মাঠ পরিদর্শনে দেখেন, বিনা ধান-২১ চাষ করে প্রতি হেক্টরে কৃষক সাড়ে ৫ টন ধান পেয়েছেন। এই আউশ মৌসুমে অন্য ধান চাষ করে হেক্টরে পেতেন পৌনে ৩ টন ধান। ফসলের প্রধান মৌসুম বোরোর মতই ফলন হচ্ছে।

সূত্র মতে, আফ্রিকার নেরিকা-১০ ধানের জাত থেকে এই বিনা ধান-২১ উদ্ভাবন করা হয়। নেরিকার ফলন কম হতো। বিনার মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম গবেষণা করে এর ফলন বাড়িয়ে দেন। গাছের উচ্চতা কম বেশি ছিল। সেগুলো সমান করা হয়। ধানের সাইজ চিকন করা হয়। বিনা ধান-২১ প্রথমবারের মতো কুমিল্লার মাঠে ৫০ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়েছে। এতে ভালো ফলন এসেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামীতে আউশ মৌসুমে কুমিল্লার মাঠে বিনা ধান-২১ এর আবাদ বাড়বে।

বুড়িচং উপজেলার দয়ারামপুর গ্রামের কৃষক শামছুল হক, নজরুল ইসলাম ও সদর উপজেলার রামপুর গ্রামের রিপন মিয়া বলেন, প্রথমবারের মতো বিনা ধান-২১ চাষ করেছেন। প্রথমে ফলন নিয়ে টেনশনে ছিলেন। তবে প্রথমবারেই ভালো ফলন হয়েছে। আগামীতে তারা আরো বেশি জমিতে এই ধান চাষ করবেন বলে জানান। তাদের দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও এই ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ) ড. ফাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, কুমিল্লার মানুষ সৌখিন। তারা চিকন চাউল খেতে পছন্দ করেন। বিনা ধান-২১ এর চাউলও চিকন। এই কারণে এই ধান চাষে কৃষক ভালো লাভ পাবেন। এছাড়া এই ধান পানি ছাড়া ২০ দিন টিকে থাকতে পারে। তবে পানি পেলে আবার বেড়ে উঠবে।

বিনার মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম জানান, আফ্রিকার নেরিকা-১০ ধানের জাত থেকে এই বিনা ধান-২১ উদ্ভাবন করা হয়। নেরিকার ফলন কম হতো। তাই কৃষকের আগ্রহ কম ছিল। গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ফলন বাড়ানো হয়। গাছের কম বেশি উচ্চতা সমান করা হয়। মোটা ধানের সাইজ চিকন করা হয়। তাই এই ধান চাষ নিয়ে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে আউশ মৌসুমে উঁচু সবগুলো জমি বিনা ধান-২১ এ হেসে উঠবে। এতে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান জানান, আউশ মৌসুমে অনেক জমি খালি পড়ে থাকে। কারণ ফলন কম পাওয়ায় অনেকে এই মৌসুমে ধান চাষ করতে চান না। অন্য ধান চাষে হেক্টরে আগে পেতেন পৌনে ৩ টন ধান। বিনা ধান-২১ চাষে প্রতি হেক্টরে কৃষক সাড়ে ৫ টন ধান পাচ্ছেন। এছাড়া ধানের জীবনকাল কম হওয়ায় এক জমিতে চার ফসলও করা সম্ভব হচ্ছে। এদিকে এই ধান চাষে সেচসহ অন্যান্য খরচ নেই বললেই চলে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২২, ২০২১ ১২:৫৩ অপরাহ্ন
বর্ষা মৌসুমেও ব্যাপকহারে চাষ হচ্ছে তরমুজ
কৃষি বিভাগ

দেশ সাধারণত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত তরমুজ চাষের উপযোগী সময় হলেও ঠাকুরগাঁওয়ে আগস্ট মাসে চাষ করা হচ্ছে তরমুজ। মালচিং পদ্ধতি অবলম্বন করে চারা রোপনের মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে তরমুজ হারভেস্ট করা যায়। তাই বর্ষা মৌসুমে তরমুজ চাষ উপযোগি না হলেও মালচিং পদ্ধতিতে বিদেশী জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে সেখানকার চাষিদের।

দেখা যায়, চাষকৃত মাটিতে সার ও বিষ দিয়ে উঁচু ও লম্বা সারি করে মালচিং পলিথিন দিয়ে ঢেকে তৈরি করা হয়েছে তরমুজের বীজতলা। নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে পলিথিন ছিদ্র করে মাটির মধ্যে বপন করা হয় তরমুজের বীজ। সেই বীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা থেকে বড় হয়ে গাছে পরিণত হচ্ছে। আর গাছ গুলোর লতাপাতা বিস্তারের জন্য বাঁশ, সুতা ও তারের সমন্বয়ে তৈরি করা হচ্ছে মাচা। মূলত এ পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে- যাতে করে বৃষ্টির পানি গাছের গোড়ায় জমাট না বাধে ও পানিতে তরমুজ নষ্ট না হয়। এমন পদ্ধতি অবলম্বন করে জেলার পীরগঞ্জ, হরিপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিদেশী বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করছেন অনেকে।

এতে যেমন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে ও তেমনি পুষ্টির চাহিদা পুরণে ভূমিকা রেখে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা কৃষকদের। অসময় ও বর্তমানে বর্ষাকাল হলেও জেলায় এবার প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে চাষ শুরু হয়েছে বিদেশী তরমুজ।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের কৃষক ও উদ্যোক্তা মঞ্জুর আলম জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে পরিকল্পনা করে এবার নিজ উদ্যোগে ও পাশের উপজেলার কৃষকদের দেখে উৎসাহিত হয়ে এবং ইউটিউব থেকে ধারণা নিয়ে তিন প্রজাতির তরমুজ চাষ শুরু করেন তারা। তিনি আরও বলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তরমুজ চাষে প্রতিবিঘা জমিতে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। লাভ কত হবে জানিনা। তবে আশা করি প্রকৃতি সহায় থাকলে প্রতিবিঘা জমির তরমুজ ১ থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রয় করতে পারবো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ আবু হোসেন জানান, বিভিন্ন এলাকায় এটি নতুন ফসল হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সম্প্রসারিত হচ্ছে। আমরা কৃষি অধিদপ্তর থেকে তাদেরকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সম্ভব হলে পরবর্তীতে আমাদের বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি মনে করি, ঠাকুরগাঁও জেলার জন্য এটি উপযোগি ফসল ও লাভ জনক ফসল হিসেবে অর্জিত হবে এবং এটি দিন দিন সম্প্রসারিত হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২২, ২০২১ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
সৌদির খেজুর চাষ করছেন আইনজীবী
কৃষি বিভাগ

বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার সন্ন্যাসী হাজীপাড়া এলাকায় সৌদি খেজুর চাষ করে এলাকার মানুষকে স্বাবলম্বী হতে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন দিহিদার জাকির হোসেন নামের একজন আইনজীবী। মরুভূমির এ উদ্ভিদ চাষে নতুন সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন স্থানীয়রা ও কৃষি বিভাগ।

১৫ একর মৎস্য ঘেরের খামারের বেড়িব-বাঁধে এখন আড়াই হাজারের মত গাছ রয়েছে জাকিরের। দুই বছরেই ফল এসেছে অনেক গাছে। ইতোমধ্যে আগস্ট মাসে প্রথম একটি গাছ থেকে ফল কেটেছেন তিনি।

খেজুর চাষি দিহিদার জাকির হোসেন জানান, ২০১৪ সালে ১৫ একর জমিতে ৯টি পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করি। পুকুরের পাড় জুড়ে বিভিন্ন ফলজ গাছও রোপণ করি। কিন্তু লবণ পানির জন্য এসব ফসলে লাভ হচ্ছিলো না।

অন্যদিকে অতিরিক্ত লবন পানির কারণে ঘেরে গলদা চিংড়ি বা কার্প জাতীয় মাছ ভালো হয় না। তারপরে কয়েক বছরে বাগদা চিংড়িতেও লোকসানে পড়ি। পরে হতাশা কাটিয়ে উঠতে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়াির মাসে রামপাল সৌদি খেজুর বাগান নাম দিয়ে এ খেজুর চাষ শুরু করি। প্রথম দিকে লোকজন আমাকে পাগল বলতো। ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে ২০০ সৌদি খেজুরের চারা এনে রোপণ করি। পরবর্তীতে নরসিংদী থেকে আরও ১০০ চারা আনি।

বর্তমানে আমার আজোয়, মরিয়ম, সুকারি, আম্বার ও বারহি এ পাঁচ জাতের আড়াই হাজারের মত খেজুর চারা রয়েছে। এছাড়াও বিচির তৈরি আরও ২৫০০ চারা প্রস্তুত রয়েছে নার্সারিতে। বর্তমানে ৫০ টি গাছে ফলন হলেও আগামী এক বছরের মধ্যে বাগানের অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ গাছে খেজুর হওয়া শুরু করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

এছাড়া খেজুরের পাশাপাশি ভিয়েতনামি নারকেল, কয়েক প্রজাতির আম, আমড়া, মাল্টাসহ বেশকিছু ফলের চাষ করেন তিনি। খামারে রয়েছে ৩০টি দেশী গরু।
নতুনদের উদ্দেশ্যে জাকির হোসেনের পরামর্শ কলম এবং বিচি দুইভাবেই সৌদি খেজুরের চারা তৈরি হয়। এ বিচির চারার বেশিরভাগ পুরুষ হয়ে যায়। যার ফলে ফল আসে না। তাই নতুন যারা শুরু করবে তাদেরকে কলম (অপ শুট)‘র চারা ক্রয়ের জন্য পরামর্শ দেন তিনি।
জাকির হোসেন আরো বলেন, আমার এখানে এখন সার্বক্ষণিক তিনজন কর্মচারী রয়েছে। ভবিষ্যতে এ নার্সারীতে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, সৌদি খেজুর মরুভূমির ফসল। দিহিদার জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি এ খেজুর চাষে সফলতা পেয়েছেন। তবে খেজুরের স্বাদ, পুষ্টিগুন ও উৎপাদনের পরিমান ঠিক থাকবে কিনা তা এখনি বলা যাচ্ছে না। যদি সব কিছু ঠিক থাকে তবে লবনাক্ত পানির এলাকার জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। সৌদি খেজুর চাষের এ উদ্যোগকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২১, ২০২১ ২:৪৪ অপরাহ্ন
চৌগাছায় শতবিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে ড্রাগন
কৃষি বিভাগ

যশোর জেলার চৌগাছায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ভিনদেশী ড্রাগন ফল। স্থানীয় উদ্যোক্তা ইসমাইল হোসেন প্রথমে ড্রাগন চাষে বিনিয়োগ করে সফলতা অর্জন করেন। তার সফলতা দেখে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতোমধ্যেই ১০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন বাগানের মালিকরা।

চাষিরা জানিয়েছেন, চৌগাছায় ড্রাগন চাষ ইতোমধ্যেই শতবিঘা ছাড়িয়ে গেছে। উপজেলার তিলকপুর গ্রামের একছের আলীর ছেলে এনামুল হোসেন ওরফে ইসলামাইল। তার ছোট বেলার শখ ছিল কৃষির উপর ব্যতিক্রম কিছু করা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে চাকরি নেন একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে। পরে চাকরি ছেড়ে থাই পেয়ারা, আপেল ও বাউ কূলের বাগান করেন তিনি। নতুন কিছু করার চিন্তায় ইন্টারনেটে ড্রাগন ফল চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারা এনে নিজের দুই বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ১০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ রয়েছে তার। তিনি জানান, প্রতিবছর প্রতি একর বাগান থেকে বছরে প্রথম পর্যায়ে ৬/৭ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করা সম্ভব। এছাড়া চারা বিক্রি করে আরো কয়েক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

কয়েকজন চাষী জানান, প্রতি বছরই এই গাছ বড় হবে এবং ফলের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। একটানা বছরের ৭ মাস এই ফল পাওয়া যায়। এবং একবার চারা লাগালে ৩০ থেকে ৪০ বছর একইভাবে ফল হয়। ফলে কাঙ্খিত পরিমাণে লাভবান হওয়া সম্ভব। উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বুন্দলিতলা গ্রামের চাষী সোলাইমান হোসেন বলেন, প্রথম পর্যায়ে এই বাগানে এতো টাকা বিনিয়োগ করে ড্রাগন ফল চাষ করা স্বপ্নে দেখা কল্পকাহিনীর মত মনে করতাম। তার পরেও ড্রাগন বাগান তৈরি করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম। এক পর্যায়ে নিজের ভূষি মালের ব্যবসা বন্ধ করে প্রথমে ১ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করি।

এক বিঘা জমিতে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাগানের দেড় বছর বয়সে চারা ও ড্রাগন ফল বিক্রি করে ৪ লাখেরও বেশি টাকা আয় করেছি। প্রতি কেজি ড্রাগন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। ভালা লাভ হওয়ায় এ বছরে আরো এক বিঘা জমিতে নতুন বাগান করেছি। সোলাইমান জানান, ড্রাগনের সাথে সাথি ফসল হিসেবে পেয়ারা চাষ রয়েছে। যেখান থেকে ড্রাগন পরিচর্যার সকল খরচ উঠে আসে বরং কিছু টাকা লাভ থাকে।
সিংহঝুলী গ্রামের প্রবাস ফেরত হেলাল উদ্দিন ওরফে মিঠু খান বলেন, বিদেশ থেকে বাড়ি এসে কি করবো চিন্তা করছিলাম।

এ সময় সৌখিন চাষ হিসেবে ড্রাগন চাষের কথা মাথায় আসে। আবার বাজারে ড্রাগন ফলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। যে কারণে আমি ৯ বিঘা জমিতে ড্রাগন বাগান করি। বাগানের বয়স ১ বছর হয়েছে। গাছ ফল আসতে শুরু করেছে। অল্প কিছু ড্রাগন ফল প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি।
চাষিরা জানান, ভেষজ জাতীয় এ ফল অত্যান্ত লাভজনক। এই ফল চাষ করার জন্য জৈব সারই যথেষ্ট। অতিরিক্ত অন্য কোনো সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। এছাড়া বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলকা থেকে খরিদ্দাররা বাগানে এসে কিনে নিয়ে যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন জানান, চৌগাছা এলাকা ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী। উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান রয়েছে। জমি থেকে ড্রাগন ফল সংগ্রহ করে বিক্রি শুরু করেছেন চাষিরা। মিষ্টি ও হালকা টক জাতীয় স্বাদের নানা পুষ্টিগুণে ভরা ড্রাগন ফল চাষ লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করার জন্য আমরা চাষিদের উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছি বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২১, ২০২১ ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
শিক্ষকতার পাশাপাশি ড্রাগন চাষে তাক লাগিয়েছেন মুসা
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশে গত বেশ কয়েক বছর ধরে নানা ধরনের বিদেশি ফল চাষ হচ্ছে। দেশীয় বাজারে এসব ফলের চাহিদা থাকার কারণে অনেকেই ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এবার ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কাগমারী গ্রামের হারুনুর রশীদ মুসা ড্রাগন চাষ করে তাক লাগিয়েছেন। পেশায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তবে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নিজ গ্রামে সুখ্যাতি পেয়েছেন দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের আবাদ করে। আর মুসার এ অভাবনীয় সাফল্য দেখে এখন গ্রামের অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ঝুঁকছেন এসব বিদেশি ফল চাষে। এবার ৫ বিঘা জমিতে পিংক রোজ ড্রাগনের আবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। আর বিক্রি করেছেন করেছেন ১০ লাখ টাকার ফল।

এর আগে হারুনুর রশীদ মুসা ত্বীন ও অ্যাভোকাডো ফলের চাষ করে সাফল্য পেয়েছিলেন। তবে এবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন “পিংক রোজ” জাতের ড্রাগন ফলের।

এই ফলগুলোর এক একটির ওজন ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। চারা, সেচ, সার, কীটনাশক পরিচর্যাসহ ৫ বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। চলতি বছর তিনি এই ৫ বিঘা জমিতে পিংক রোজ ড্রাগনের আবাদ করে ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন।

হারুনুর রশীদ মুসা জানান, তিনি প্রায় ১৬ বছর আগে আপেল কুলের আবাদ করেন। এরপর পেয়ারা, মাল্টাসহ অন্যান্য ফলের বাগান করেছেন। ৫ বছর আগে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। এছাড়া তিনি অ্যাভোকাডো ফলেরও চাষ করেছেন। বর্তমানে তার ১১ বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ রয়েছে। এর মধ্যে পিংক বড় জাতের ড্রাগনের আবাদ রয়েছে ৫ বিঘা জমিতে।

তিনি আরও জানান, এক বিঘা জমিতে চারাসহ তার খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। চারা লাগানোর ৬ মাস পর ফল পাওয়া যায়। ড্রাগন গাছ একবার লাগালে ১৫ থেকে ২০ বছর বাঁচে। বাজারে অন্যান্য ড্রাগনের ফল যখন বিক্রি শেষ হয়ে যায় তখন পিংক রোজ ড্রাগন ফল ওঠে। অর্থাৎ পিংক বড় জাতের ড্রাগন ফল একটু দেরিতে আসে। যে সময় বাজারে ড্রাগন ফল খুবই কম থাকে। ফলে দাম ভালো পাওয়া যায়।

কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মহাসিন আলী জানান, “হারুনুর রশীদ একজন ইনোভেটিভ কৃষক। তার বাগানে শুধু ড্রাগন নয়। মাল্টা, অ্যাভোকাডো, ত্বীনসহ বিভিন্ন ধরনের বিদেশি ফলের আবাদ রয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা তাকে নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছি। আমি নিজেই তার প্রতিটি বাগান পরিদর্শন করেছি। এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে তাকে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণেও পাঠানো হয়। মুসার মত কৃষি উদ্যোক্তারা দেশের কৃষিক্ষেত্রে দারুণ অবদান রাখছেন।”

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২০, ২০২১ ৪:৪২ অপরাহ্ন
ভৈরবে শুরু হয়েছে আউশ কাটার ধুম
কৃষি বিভাগ

ব্রিধান-৪৮ ও বিধ্রান-৮২ জাতের নমুনা আউশ ধান কাটা শূরু হয়েছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। স্বল্প সময়ে ফলন ভাল পেয়ে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদের লক্ষ্য মাত্রা থাকলেও তা ছাড়িয়ে ৫ হেক্টর আরো বেশি আবাদ হয়েছে।

জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২২ মন ধরে ফলন উৎপাদিত হয়েছে। খরছ কম ও দাম ভাল পাওয়ায় আউশ আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা ও নিবিড় মনিটরিংয়ের ফলে দিন দিন আ্উশ আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

জানা যায়, মাত্র কিছু দিন আগে ইরি-বোর ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকরা অলস সময় পার না করে কৃষি অফিসের পরামর্শে জমি ফাঁকা না রেখে আউশ ধান আবাদ করেছিলেন। আউশ আবাদে প্রতি বিঘায় খরছ পড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ধান উৎপাদন ২০ থেকে ২২ মন দর। আবাদের ৯০ দিনের মধ্যেই এ ধান ঘরে তুলতে পারছেন কৃষকরা।

কৃষকরা আনন্দে ধান কেটে তাদের ঘরে তুলছেন। ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ করে বৃষ্টির পানিকে কাজে লাগিয়ে আউশ আবাদ জনপ্রিয় হচ্ছে বলে এখন আউশ আবাদও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আউশ আবাদের ৯০ দিনে কাটা শেষ হয়। ফলে কৃষকরা তাদের জমিতে বছরে ৪ ফসল উৎপাদন করতে পারছে।

চাষীরা জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার আবাদ করেছেন। আউশ ধান একটি লাভ জনক ফসল। একই জমিতে আউশ ধানসহ বছরে ৪ বার বিভিন্ন ফসল আবাদ করা যায়। আউশ ধান আবাদে খরছ কম ও উৎপাদন বেশি। এবার ধানের ফলন ও দাম ভাল থাকায় কৃষকরা খুশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, ভৈরব উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে আউশ ৪৮ ও আউশ -৮২ ব্রিধান জাতের ধান আবাদের লক্ষমাত্র ছিল ১ হাজার ৫ হেক্টর। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আর মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিষের সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষ ও কৃষকদের নিয়মিত পরামরর্শ দেওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো ৫ হেক্টর বেশি উৎপাদন হয়েছে। রোপা আউশ মৌসুমে আধুনিক উফশী জাতের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় এই জাতের ধান আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২০, ২০২১ ৪:৩২ অপরাহ্ন
লবণসহিষ্ণু জাতের ধান,গম ও ভুট্টা উদ্ভাবনের সুপারিশ
কৃষি বিভাগ

দক্ষিণাঞ্চলে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে লবণসহিষ্ণু জাতের ধান, ভুট্টা ও গম উদ্ভাবনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সংসদ ভবনে কমিটির ১৬তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, মুহা. ইমাজ উদ্দিন, মো. মোসলেম উদ্দিন, আনোয়ারুল আবেদীন খান, উম্মে কুলসুম স্মৃতি এবং হোসনে আরা।

বৈঠকে আমন এবং আউশ ধানের উন্নত জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষণার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শহীদ হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২০, ২০২১ ৩:০২ অপরাহ্ন
আমনের অধিক ফলন পেতে যা করবেন
কৃষি বিভাগ

কৃষকরা এখন মাঠে আমন ধানের বীজতলা ও জমি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, আমন ধান চাষে সফল হতে হলে শুরুতে জাত নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন জাতের ধান রয়েছে, কৃষককে সঠিক জাতটি বেছে নিতে হবে। আমন ধানের অধিক ফলন পেতে ধাপে ধাপে যত্ন নিতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি বছরে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১০৬ হেক্টর। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। মূলত তিন জাতের আমন ধানের চাষাবাদ করা হয় দেশে। এগুলো হলো হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাত।

আমন ধানের যত্নের বিষয়ে কৃষি তথ্য সার্ভিস জানায়, শ্রাবণ মাস আমন ধানের চারা রোপণের ভরা মৌসুম। চারার বয়স ৩০ থেকে ৪০ দিন হলে জমিতে রোপণ করতে হবে।

জাত পরিচিতি
রোপা আমনের আধুনিক এবং উন্নত জাতগুলো হলো : বিআর-৩, বিআর-৮, বিআর-৫, বিআর-১০, বিআর-২২, বিআর-২৩, বিআর-২৫, ব্রি ধান-৩০, ব্রি ধান-৩১, ব্রি ধান-৩২, ব্রি ধান-৩৩, ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৩৭, ব্রি ধান-৩৮, ব্রি ধান-৩৯, বিনাশাইল, নাইজারশাইল, বিনাধান-৪।

উপকূলীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে উপযোগী উফশী জাতের (ব্রি ধান-৪০, ব্রি ধান-৪১, ব্রি ধান-৪৪, ব্রি ধান-৫৩, ব্রি ধান-৫৪, ব্রি ধান-৫৬, ব্রি ধান-৫৭, ব্রি ধান- ৬২) চাষ করা যেতে পারে।

খরা প্রকোপ এলাকায় নাবি রোপা আমনের পরিবর্তে যথাসম্ভব আগাম রোপা আমন (ব্রি ধান-৫৩, ব্রি ধান-৫৪) চাষ করা যেতে পারে। একইসঙ্গে জমির এক কোনে গর্ত করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। আমন ধানের ক্ষেতে সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। এজন্য জমির উর্বরতা অনুসারে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে।

আমন ধান চাষে সারের ব্যবহার
ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার শেষ চাষের সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণের ১২ থেকে ১৫ দিন পর প্রথমবার ইউরিয়া সার ক্ষেতে অতিরিক্ত প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম প্রয়োগের ১৫ থেকে ২০ দিন পর দ্বিতীয়বার এবং তার ১৫ থেকে ২০ দিন পর তৃতীয়বার ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।

গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলে চারা লাগানোর ১০ দিনের মধ্যে প্রতি চার গুছির জন্য ১৮ গ্রামের ১টি গুটি ব্যবহার করতে হবে। এজন্য চারা লাইনে রোপণ করতে হবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop