১২:২৬ পূর্বাহ্ন

শনিবার, ২ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অগাস্ট ১৯, ২০২১ ৪:৫০ অপরাহ্ন
এ দেশে ধর্মান্ধদের রাজনীতি আর নয়: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

এ দেশের মাটিতে ধর্মান্ধদের আর কোনোদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে এবং রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে বিএআরসি মিলনায়তনে ‘দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায়’ এ কথা বলেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মান্ধদের শেকড় এ দেশে, পাকিস্তানে বা যেখানেই যত গভীরেই হোক না কেন- তাদের শেকড় সমূলে উৎপাটন করা হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কৃষি উন্নয়নের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন সে ধারাবাহিকতায় তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ক্রমাগতভাবে কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ও উন্নয়নে আজ বিস্ময়কর সাফল্য এসেছে। এ সাফল্যকে আরও বেগবান করতে কৃষিবিদ, বিজ্ঞানীসহ সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুর রৌফ। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল। অন্যান্যের মধ্যে হোসনে আরা এমপি ও সংস্থা প্রধানরা বক্তব্য দেন। এ সময় সশরীরে ও সারা দেশ থেকে ভার্চুয়ালি প্রায় সাত শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৯, ২০২১ ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
ক্ষতিকারক বাদামি গাছ ফড়িং দমনের কৌশল
কৃষি বিভাগ

বাচ্চা ও পূর্ণবয়স্ক উভয় অবস্থায় বাদামি গাছফড়িং ধান গাছের গোড়ায় বসে গাছের রস চুষে খায় ফলে গাছ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তবে ধানের ক্ষতিকারক গাছফড়িং দমনের সঠিক কৌশল জানা থাকলে সহজেই দম করা যায়।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের প্রধান তথ্য অফিসার কৃষিবিদ তুষার কান্তি সমদ্দার জানান,এক সঙ্গে অনেকগুলো পোকা রস চুষে খাওয়ার ফলে ধানের পাতা প্রথমে হলদে ও পরে শুকিয়ে মারা যায়। আক্রমণ বেশি হলে দূর থেকে বাজ পড়ার মতো (হপার বার্ন) মনে হয়। ধানের শীষ আসার সময় বা তার আগে হপার বার্ন হলে কোনো ফলনই পাওয়া যায় না। তবে ধানের দানা শক্ত হওয়ার পর ধান গাছ আক্রান্ত হলে ক্ষতি কম হয়।

জীবন বৃত্তান্ত: মৌসুমের শুরুতে লম্বা পাখা বিশিষ্ট পূর্ণবয়স্ক বাদামি গাছফড়িং পাতার খোলে এবং পাতার মধ্য শিরায় ৮-১৬টি ডিম গুচ্ছাকারে পাড়ে। ডিমের রঙ হলুদ এবং দেখতে অনেকটা কলার কাঁদির মতো। ডিমগুলোর উপর পাতলা চওড়া একটি আবরণ থাকে।

ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ৭-৯ দিন সময় লাগে। সদ্য ফোটা বাচ্চাগুলো দেখতে পূর্ণবয়স্ক পোকার মতো তবে আকারে খুবই ছোট। বাচ্চাগুলো পাঁচ বার খোলস বদলানোর পর পূর্ণবয়স্ক পোকায় পরিণত হয়। এতে ১৩-১৫ দিন সময় লাগে। পূর্ণবয়স্ক বাদামি গাছফড়িং ৩-৫ মিলিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। পূর্ণবয়স্ক পোকার গায়ের রঙ বাদামি। বাদামি গাছফড়িং ছোট পাখা ও লম্বা পাখা বিশিষ্ট এ দুই ধরনের হতে পারে। এর স্ত্রী পোকাগুলো সাধারণত গাছের গোড়ার দিকে বেশি থাকে।

গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লম্বা পাখা বিশিষ্ট ফড়িংয়ের সংখ্যাও বাড়তে থাকে, যারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় উড়ে যেতে পারে। পূর্ণবয়স্ক বাদামি গাছফড়িং প্রায় তিন সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে এবং এক জোড়া পোকা থেকে ২-৩ মাসের মধ্যে হাজার হাজার পোকা জন্ম নিতে পারে।

ক্ষতির অনুকূল পরিবেশ: বাদামি গাছফড়িং আলো-বাতাস পছন্দ করে না। এদের বংশ বৃদ্ধি এবং বেঁচে থাকার জন্য আর্দ্র ও ছায়াযুক্ত স্থান খুবই পছন্দ। ঘন করে গাছ লাগালে, জমিতে অধিক নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করলে, জমিতে পর্যাপ্ত আগাছা থাকলে এবং সব সময় জমিতে পানি জমে থাকলে এ পোকার আক্রমণ বেশি হয়।

বাদামি গাছফড়িংয়ের প্রাকৃতিক শত্রু: এমন অনেক বন্ধু পোকামাকড় আছে যেগুলো ধানের জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই গাছফড়িং দমন করে থাকে। বাদামি গাছফড়িংয়ের যেসব প্রাকৃতিক শত্রু আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মাকড়সা, মিরিডবাগ, লেডিবার্ড বিটল, ক্যারাবিড বিটল, ড্যামসেল ফ্লাইয়ের বাচ্চা, মাইক্রোভেলিয়া, মেসোভেলিয়া ইত্যাদি পরভোজী। ব্যাঙ বাদামি গাছফড়িংকে দমিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

দমন ব্যবস্থাপনা: জমিতে আলোক ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে। চারা রোপণের দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে হবে। থোড় আসার আগ পর্যন্ত আক্রান্ত জমিতে হাঁস ছেড়ে দিলে পোকা কিছুটা দমন করা যায়। লাইন ও লোগো পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ করতে হবে। উর্বর জমিতে ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে। জমি আগাছামুক্ত রাখা প্রয়োজন। আক্রান্ত জমি থেকে ৫-৬ দিনের জন্য পানি বের করে দিয়ে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা দূর করতে হবে।

জমির অধিকাংশ গাছে যদি ৩-৪টি পেট মোটা ডিমওয়ালা পূর্ণবয়স্ক বাদামি গাছফড়িং বা ৮-১০টি নিম্ফ অথবা উভয়ই দেখতে পাওয়া যায় তাহলে যেকোনো একটি অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। কীটনাশক অবশ্যই গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৯, ২০২১ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
বুড়িরহাট হর্টিকালচারের আয় ছাড়িয়েছে ৩০ লাখ টাকা
কৃষি বিভাগ

রংপুরে উদ্যান ফসলের সম্প্রসারণ ও পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টার। দিন দিন উৎপাদিত চারার বিপণন ও বিক্রি বাড়ছে। এতে সরকারের রাজস্ব খাতে বেড়েছে বার্ষিক আয়। অতিমারি করোনার মধ্যেও গেল দুই অর্থবছরে বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারে রাজস্ব আয় ৩০ লাখ টাকা।

জানা যায়, ২০০১-০২ অর্থবছরে যেখানে আয় ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪০ টাকা। বর্তমানে (২০২০-২১ অর্থবছর) তা বেড়ে ১৭ লাখ ৫ হাজার ৪১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুধু আয়ই বাড়েনি, সময়ের ব্যবধানে এই সেন্টারে চারা উৎপাদন, কলম ও সংরক্ষণপ্রক্রিয়ায় ব্যাপকতা এসেছে। ২০ বছর আগে যেখানে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ৭৮ হাজার ৩২৯ ছিল। এখন তা পৌঁছেছে ২৭ লাখ ৮ হাজার ১৮১-তে।

রংপুর শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টার। গঙ্গাচড়া উপজেলার আরাজী নিয়ামত গ্রামে সাড়ে ২১ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। সুদীর্ঘকাল থেকে এখানে হয়ে আসছে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা। এখানে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ফসলের জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি ফলদ, বনজ, ঔষধি গাছের চারা কলম ও রোপণ করা হয়।

এখান থেকে উৎপাদিত চারা ও বীজ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এতে দেশের কৃষি, ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চাহিদা অনেকাংশই পূরণ হচ্ছে এখান থেকে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও থেমে নেই বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের কার্যক্রম। উন্নত জাতের ফলের চারা, কলম, বীজ উৎপাদন ও বিতরণ এবং জনপ্রিয়করণে সংশ্লিষ্ট সবাই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত। পাশাপাশি উদ্যান বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহযোগিতা এবং উন্নত জাতের ফল ও সবজির প্রদর্শনী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সবুজাভ এই হর্টিকালচার সেন্টারটি দেশি-বিদেশ গাছগাছালি, চারা আর ফুলে-ফলে ভরা। আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কামরাঙা, জাম্বুরা, জলপাই, পেঁপে, ডালিম, আমলকী ও সুপারিগাছের চারার ছড়াছড়ি সেন্টারে। রয়েছে লটকন, জাবাটিকাবা, আতা, শরিফা, চালতা, কাজুবাদাম, নাশপাতি, ত্বীন, স্ট্রবেরি, পেপিনোমিলনের চারা।

পুরো উদ্যানজুড়ে শোভাবর্ধনকারী গাছের সঙ্গে দোল খাচ্ছে প্রস্ফুটিত বাহারি রঙের ফুল। পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর প্রজাপতির ওড়াউড়িও ফুটিয়ে তুলেছে বাড়তি সৌন্দর্য। উদ্যান কর্মকর্তা, কর্মচারী, মালিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা তরুণ উদ্যোক্তাদের তথ্য প্রদানের পাশাপাশি এই উদ্যানের উপপরিচালক নিজেই তাদের হাতে-কলমে গাছগাছালি দেখিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের আয়তন ২১ দশমিক ৫০ একর। এর মধ্যে সাড়ে ১৩ একর জমিতে স্থায়ী মাতৃবাগান রয়েছে। ৩ দশমিক ১ একর জমিতে নার্সারি এলাকা। এ ছাড়া সেন্টারে পুকুর, বাঁশবাগান, সেচ ও নিষ্কাশন নালা, নার্সারি শেড, রাস্তা, ডরমিটরি, অফিস, আবাসিক এলাকা, গ্যারেজ, পার্কিং এলাকা রয়েছে। বিশাল এই সেন্টারে ফল, সবজি, ঔষধি, মসলা, ফুল ও শোভাবর্ধনকারী চারা, কলম ও বীজ উৎপাদন করা হয়ে থাকে।

কৃষকদের লাভবান করা, পুষ্টিচাহিদা পূরণ ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি গবেষণামূলক এ প্রতিষ্ঠানটি। গেল অর্থবছরে এই হর্টিকালচার সেন্টার থেকে ৩১টি ব্যাচে ৯০০ জন কৃষক ও বাগান উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অন্তত ৯ হাজার জন নিয়মিত সেবার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শমূলক সেবা পেয়েছেন।

এ ছাড়া হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যোগে উদ্যান পরিদর্শন ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ১৪ জাতের আম ও ৪ জাতের লিচু ছাড়া মাশরুম, কমলা, লটকন কলম, জাম্বুরা কলম, জামরুল কলম, লেবু কলম, পেয়ারা কলম, মাল্টা কলম ও কার্টিং ড্রাগন ফলের চাহিদা বেশি।

বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. আফতাব হোসেন জানান, বারো মাস ফল দেবে, এটা নিয়ে আমরা গুরুত্বসহকারে কাজ করছি। বিশেষ করে আম, লিচু, মাল্টা ও কমলার নতুন নতুন দেশি-বিদেশি জাত সংগ্রহ করেছি। একসময় আমাদের দেশে কমলা ও মাল্টা আবাদ হতো না। অথচ আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে মাল্টাকে আর বিদেশি ফল বলার সুযোগ থাকবে না। এটি দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশি ফলে পরিণত হবে। দুই থেকে চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মাল্টা বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

বিদেশি বিভিন্ন জাতের কমলার মাতৃগাছ রোপণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও জানান, হর্টিকালচার সেন্টারে দার্জিলিং, ছাতকি ও বারোমাসি ভিয়েতনামি কমলার জাত রয়েছে। শিগগিরই এসব মাতৃগাছ থেকে কলম উৎপাদন করা হবে। রংপুর অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় এসব কমলার চারা পৌঁছে গেলে দ্রুত এর সুফলও পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৮, ২০২১ ৪:১৭ অপরাহ্ন
আম নিতে চায় রাশিয়া, সার চায় বাংলাদেশ
কৃষি বিভাগ

রাশিয়া থেকে জিটুজি ভিত্তিতে ডিএপি ও পটাশিয়াম সার আনতে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) স্বাক্ষরের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে আম নেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভি মান্টিটস্কি।

বুধবার কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাক্ষাৎকালে দুপক্ষ এ আগ্রহের কথা জানায়।

এ সময় বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, সদস্য পরিচালক (সার ব্যবস্থাপনা) ড. একেএম মুনিরুল হক, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শরীফা আহমেদ, ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাসের অ্যাটাচে খানুভা আমাতুলা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে কৃষকদের ডিএপি সার ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার চার দফা সারের দাম কমিয়েছে। ডিএপির দাম ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে কেজিপ্রতি ১৬ টাকা করা হয়েছে। ফলে ডিএপি সারের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। আমরা রাশিয়া থেকে ডিএপি ও পটাশিয়াম আমদানি করতে চাই এবং এ ব্যাপারে একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) স্বাক্ষর করতে চাই।

এ ছাড়া বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে রাশিয়াকে আলু আমদানির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, আলুকে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত ও নিরাপদ করতে বাংলাদেশ সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশে এখন অনেক উন্নতমানের আলু উৎপাদিত হচ্ছে। রাশিয়া আলু আমদানি পুনরায় শুরু করতে পারে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র। স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি— আমাদের এ সম্পর্ক অটুট থাকবে। ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভি মান্টিটস্কি বলেন, বাংলাদেশের আম অত্যন্ত সুস্বাদু ও উন্নত মানের। রাশিয়াতে এ আম রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আম নিতে রাশিয়ার আগ্রহ রয়েছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানেও রাশিয়া প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে বলে জানান রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভি মান্টিটস্কি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৭, ২০২১ ৯:২৩ পূর্বাহ্ন
বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পে আমন আবাদের সুবিধা পাচ্ছে কৃষক
কৃষি বিভাগ

নীলফামারী জেলায় র অনাবৃষ্টির দুর্যোগে আমন আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। সেই ধকল কাটিয়ে ১৫ হাজার কৃষকের আমন আবাদের সুযোগ করে দিয়েছে বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প। দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ থাকা প্রকল্পটি থেকে এবার সেচ সুবিধা পেয়ে আমন চারা রোপণ এবং পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এসব কৃষক।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ ছিল প্রকল্পটির কার্যক্রম। সে মামলার সমাপ্তি ঘটলে অনাবৃষ্টির এ দুূর্যোগে বিশেষ ব্যবস্থায় এবার চালু করা হয় সেচ কাজ। বর্ষার এ সময়ে যে পরিমান বৃষ্টির প্রয়োজন জেলায় এবার তার অর্ধেকও পাওয়া যায়নি। ফলে চলতি আমন আবাদে অনাবৃষ্টির ধকল থেকে রক্ষা পেয়েছে ১৫ হাজার কৃষক।
গতকাল ওই প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে কৃষকের ব্যস্ততা। সেচের পানিতে অনেকেই ব্যস্ত আমন চারা লাগানোর কাজে। কেউবা ব্যস্ত পরিচর্যায়।

বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এস আর শফিক সাদিক জানান,‘দীর্ঘ ১০ বছর পর এ প্রকল্পে প্রায় আট হাজার একর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে জলঢাকা ও ডিমলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার কৃষক এ সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। এর আগে প্রয়োজনীয় পানির অভাবে এলাকার অনেক জমি পতিত থাকতো। ওইসব জমিতে তামাক, ভুট্টা ছাড়া অন্য কিছু আবাদ হতো না। এবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড সেচ সুবিধার জন্য কৃষকদের কাছ থেকে কোনো সার্ভিসচার্জ নিবেন না বলে জানিয়েছেন। এলাকাবাসী এ সুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।’

তিনি জানান, এর আগে এ প্রকল্পের জলাধার ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতে মামলা হয়। এ কারণে দীর্ঘ ১০ বছর প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ক্যানেলের বিভিন্ন অংশে কিছু ত্রুটি দেখা দিলে স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছায় তা সংস্কার করে তাদের জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিৎ করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১১ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রায় দেশের প্রথম বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ১৯৬০ সালে। এজন্য জলঢাকা উপজেলার কালিগঞ্জ নামক স্থানে ১৯৬৭ সালে ব্যারেজ নির্মাণ কাজ শেষ করে অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ করা হয় ১৯৮৩ সালে। এতে ব্যয় হয় ৫৪ লাখ ১১ হাজার টাকা ।

সেচ সুবিধা প্রদানে ২১৭ একর জলধার, ১০ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার প্রধান সেচ খাল ও ২৯ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার শাখা সেচ খাল নির্মাণ করে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১০ সালে প্রকল্পের জলাধারটি মাছ চাষের জন্য তুসকা রিসোর্সেস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান মাছ চাষের জন্য লীজ গ্রহণ করলে বন্ধ হয় ওই সেচ কাজ। পরবর্তীতে ওই লীজ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের হলে সেটি নিস্পত্তি হয় ২০২০ সালের ১৫ মে। এ সময়ে বন্ধ থাকা প্রকল্পটি পুণরায় চালু করা হয় চলতি বছরের ২৮ জুলাই।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৗশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা জানি আমন মৌসুমে উত্তরাঞ্চলে যে পরিমান বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল তার অর্ধেক পরিমানও হয়নি। সে কারণে কৃষকেরা আমন চারা রোপণ করতে পারছিলেন না। আমরা কৃষকদের চাহিদার কথা চিন্তা করে সামান্য কিছু সংস্কার কাজ সেরে সেচ সুবিধা প্রদান করছি। কৃষকরা এখন সেচের পানি ব্যবহার করে আমন চারা রোপণ করছেন।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৬, ২০২১ ৭:০৪ অপরাহ্ন
পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষকের কলাগাছ নিধন
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে গরুর ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে শাহাদৎ হোসেন নামের এক কৃষকের কলা বাগানের প্রায় শতাধিক কলা গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই কৃষকের প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আয়মারসুল ইউনিয়নের মালিদহ গ্রামে। শাহাদৎ হোসেন মালিদহ গ্রামের মৃত রাশেদ আলীর ছেলে। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ওই গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের পুত্র শফিকুল ইসলাম (৪০) এর নামে পাঁচবিবি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সোমবার দুপুরে শফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ এর বাড়ীর সন্নিকটে গরু দিয়ে ঘাস খাওয়ানোর সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।

এ সময় শফিকুল ইসলাম শাহাদৎ কে দেখে নেওয়া এবং আর্থিক ক্ষতি করার হুমকি দেয়। পরে ঐ রাতেই শাহাদৎ ইসলামের ৪৫শতক জমির কলা বাগানের কলার মোছা বের হওয়া প্রায় শতাধিক কলা গাছ কর্তন করে।
এলাকাবাসীরা জানায়, ঘটনার আগের দিন তাদের দু’জনের মধ্যে গরুর ঘাস খাওয়া নিয়ে ঝগড়াঝাটি হয়েছে। তবে কলার গাছ কে কেটেছে তা তারা জানেন না।

আয়মারসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম বেনু বলেন, শাহাদৎ হোসেনের জমির কলার গাছ কাটার কথা জেনেছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তবে যেই এ অপরাধ করুক তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

অভিযুক্ত শফিকুলের বাড়ীতে গিয়ে তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ পলাশ চন্দ্র দেব বলেন, কলা বাগানের কলা গাছ কাটার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৫, ২০২১ ৩:৫৫ অপরাহ্ন
যেকারণে নরসিংদীর কৃষকরা ঝুঁকছেন লটকন চাষে
কৃষি বিভাগ

অল্প খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় নরসিংদীর অনেক কৃষকই ঝুঁকছেন লটকন চাষে। লটকন চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্যও পেয়েছে অনেকে। এছাড়া এই লটকন দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানী হচ্ছে দেশের সীমানা পেড়িয়ে বিদেশেও।

জেলায় এবছর ১ হাজার ৬শত ১০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লটকন চাষ হয়েছে শিবপুর উপজেলায়। সুস্বাধু লটকন ঔষধিগুণ সম্পন্ন হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় এর চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ।

এছাড়া অন্যান্য ফসলের তুলনায় কয়েকগুণ লাভ বেশি হওয়ায় লটকন চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা। বাজারে আকার ভেদে প্রতি কেজি লটকন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

নরসিংদী জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলার লাল মাটিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান, তাই এখানে লটকনের ভালো ফলন হয়।

চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৬শত ১০ হেক্টর জমিতে লটনকনের বাগান করা হয়েছে। যা হেক্টর প্রতি ১৫ টন হারে ২৪ হাজার মেট্রিক টন লটকনের ফলন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ। আর উৎপাদিত এ লটকন পাইকারি ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার মূল্য পাওয়া যাবে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা।

কৃষি অধিদপ্তর জানায়, রোপণের তিন বছরের মধ্যে লটকন গাছে ফলন আসে। প্রতিটি গাছ ফল দেয় টানা ২০ থেকে ৩০ বছর। লটকন গাছের রোগবালাই তেমন দেখা যায় না। ফল সংগ্রহের ৬০ দিন আগে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম পটাশ পানির সঙ্গে মিশিয়ে গাছের গোঁড়ায় দিলে ফলের মিষ্টতা ও আকার বৃদ্ধি পায়।

এ ফল চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বিক্রির জন্য কোন টেনশন করতে হয় না। পাইকারী ব্যবসায়ীরা লটকন কাঁচা থাকা অবস্থায় চাষিদের কাছ থেকে বাগান খরিদ করে নেয়। বাগান খরিদের পদ্ধতিতে রয়েছে ভিন্নতা।

প্রথমে বাগানের মালিকের কাছ থেকে একদল পাইকার দাম-দর করে বাগান ক্রয় করেন, পরে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পাকা লটকন বাগান থেকে সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন। প্রকারভেদে পাইকারি মণ প্রতি দাম ওঠে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। যা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

এদিকে মৌসুমী এ ফলের বেচাকেনাকে ঘিরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মরজাল, বেলাবরের বাড়ৈচা, পলাশের রাবান ও শিবপুর উপজেলা সদরে ও যোশরে বসছে লটকনের পাইকারী বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ক্রেতারা এসে এসব বাজার থেকে কিনে নিয়ে যায় লটকন।

পর্যায়ক্রমে হাত বদল হয়ে লটকন যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বাজারে। অনেকে সরাসরি বাগান থেকে লটকন কিনে সরবরাহ করছেন।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শোভন কুমার ধর জানান, লটকন চাষ বৃদ্ধিতে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চারা উৎপাদন করাসহ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারে রপ্তানি হওয়াতে কৃষকরা লটকনের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন । চলতি মৌসুমে ১৬১০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে।

প্রতি হেক্টরে ১৫ মেট্রিকটন ফলন হিসেবে লটকনের মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৪ হাজার মেট্রিকটন যার পাইকারি ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় মূল্য দাঁড়ায় ১৬৮ কোটি টাকা।

মানুষের শরীরে একদিনে যে পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ প্রয়োজন মাত্র তিন থেকে চারটি লটকন সে চাহিদা মেটাতে পারে। ছোট এ ফলটি ভিটামিন ‘বি-টু’, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদানে ভরপুর। যা এই করোনাকালে আমাদের সবার শরীরের জন্য খুবই উপকারী বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৫, ২০২১ ১২:০২ অপরাহ্ন
ভোলায় শুরু হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে আদা চাষ
এগ্রিবিজনেস

ভোলায় বাণিজ্যিকভাবে আদার চাষ শুরু হয়েছে। জেলায় চলতি বছরের রবি মৌসুমের শেষের দিকে জেলার ৭ উপজেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের পাহাড়ি আদার চাষ হয়েছে। নির্ধারিত জমি থেকে ৪২০ মেট্রিক টন আদা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। হেক্টরপ্রতি ১২ থেকে ১৩ মেট্রিক টন আদা উৎপাদন করা সম্ভব। ৭-৮ মাসব্যাপী আদা চাষে ৪’শ ৩২ জন কৃষককে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বীজ বিতরণ ও প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবু মো: এনায়েতউল্লাহ জানান, আদা মূলত দামি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি মসলা। দেশে আদা চাহিদার তুলনায় বড় একটি অংশ অন্যদেশ থেকে আনতে হয়। এ জেলায় সুপারি ও নারকেল বাগান রয়েছে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে এবং ৩ হাজার মিলিমিটারের উপরে বৃষ্টিপাত হয়। যা আদা চাষে অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে ছায়াযুক্ত জমিতে অন্য জমির চেয়ে ২০ ভাগ বেশি আদার উৎপাদন হয়। এমন ধারনা থেকে প্রথমবারের মতো বান্দরবন থেকে আদা এনে তা বিনামূল্যে কৃষকদের বীজ হিসেবে প্রদান করি।

কৃষকরা জানান, মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে তারা আদার বীজ রোপণ করেছেন। নভেম্বর-ডিসেম্বর দিকে ফলন ঘরে তুলবেন। পতিত ও পরিত্যক্ত জমিতে এর চাষ হওয়ায় জমির শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এক শতাংশ জমির জন্য ৪ কেজি আদার বীজ প্রয়োজন হয়। আর একটি গাছ থেকে আড়াই কেজি বা তারচেয়ে বেশি আদা পাওয়া যায়। তাই পরিশ্রম কম হওয়াতে আদা চাষে অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিসার এ এফ এম শাহাবুদ্দিন জানান, তার উপজেলায় সবচেয়ে বেশি জমিতে আদার চাষ হয়েছে। মূলত সুপারির বাগানগুলোতেই বেশি আবাদ হয়েছে। এর মাধ্যমে এসব বাগানকে দুই ফসলী জমিতে রুপান্তর করা হলো। তারা কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করেছেন। ২৯ জন কৃষককে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের প্রধান কর্মকর্তার একান্ত উদ্যোগে চাষ হওয়া আদা প্রথম দিকে চ্যালেঞ্জ মনে হলেও তা এখন সফলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৪, ২০২১ ৪:৪৭ অপরাহ্ন
৮ মাস পর শুরু হলো কাঁচা মরিচ আমদানি
এগ্রিবিজনেস

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৮ মাস পর ভারত থেকে আমদানি শুরু করা হয়েছে কাঁচা মরিচ। আমদানি শুরুর খবরে বন্দর এলাকায় ভিড়তে শুরু করেছেন পাইকাররা।

শনিবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় হিলির আমিরুল মল্লিক রয়েল নামের সিএন্ডএফ এজেন্টের প্রথম কাঁচা মরিচের একটি গাড়ি এ বন্দরে প্রবেশ করে।

সিএন্ডএফ আমিরুল মল্লিক রয়ে জানান, দীর্ঘ দিন কাঁচা মরিচের আমদানি বন্ধ থাকার পর এখন পারমিট পেয়েছি। আজ সকালে প্রথম আমার এক গাড়ি কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। ৩০০ টাকা ডলারে প্রায় ১৩ মেট্রিকটন কাঁচা মরিচ আনা হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন জানান দীর্ঘ ৮ মাস বন্ধের পর হিলির কাঁচা মরিচ আমদানি কারকরা পারমিট পেয়েছেন। ভারত থেকে মরিচ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি বাজারে মরিচের দাম অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করছি, দেশি বাজারে মরিচের দাম স্বাভাবিক হবে।

এদিকে দেশের বাজারে পণ্যটির দাম স্বাভাবিক রাখতে কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৪, ২০২১ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
তালায় কাজু বাদাম চাষে তাক লাগিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য
কৃষি বিভাগ

তালা উপজেলার শিবপুর গ্রামের কাজু বাদাম চাষ করা হচ্ছে। ঐ গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম এই কাজু বাদাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কাজু বাদাম সাধারণত খাগড়াছড়ির নারানখাইয়া, পানখাইয়াপাড়া, কমলছড়ি জামতলী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় চাষ হয়ে থাকে।

তালা উপজেলার মো. রফিকুল ইসলাম কাজু বাদাম চাষে সাফল্য দেখিয়েছেন। তিনি মিষ্টি পানির মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধের ওপর রোপণ করেন পাঁচটি কাজু বাদাম গাছ। চাষ করার পর ফলন ধরেছে দুই বছর। কাজু বাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু করেছেন এই কৃষক।

অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি পাঁচ বছর আগে এই কাজু বাদামের চাষ করেন। গত দুই বছর গাছে কাজু বাদাম ধরেছে। কাজু বাদামের বীজগুলো চারা দেওয়ার জন্য রেখেছেন। বাড়িতে বীজ রোপণ করার পর নতুন চারাও গজিয়েছে। তাছাড়া কলম পদ্ধতিতে গাছের বংশবিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজু বাদাম চাষের গবেষণা ও পিএইচডি অধ্যয়নরত কৃষিবিদ জাকিয়া সুলতানাকে দেখে এই কাজু বাদাম চাষের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এই কাজু বাদাম চাষের জন্য তার কাছ থেকে কিছু বীজ এনে বাড়িতে চারা উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, শারীরিক উপকারিতার দিক থেকে কাজু বাদামের কোনো বিকল্প নেই। এতে প্রোটিন,
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ এবং ভিটামিন রয়েছে। তবে কাজু বাদাম দামে একটু চড়া। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাজু বাদাম বিক্রি হয় ৮০০ থেকে ১০০ টাকায়।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, কাজু বাদাম একটি বিদেশি ফল। দেশে পাহাড়ি অঞ্চলে এই ফলের চাষ হয়ে থাকে। তালা উপজেলায় কাজু বাদামের চাষ হয়েছে, অফিসের পক্ষ থেকে প্রদর্শনী প্লটও করা হয়েছে। গত বছর থেকে গাছে কাজু বাদাম ধরেছে। এই উপজেলায় কাজু বাদাম চাষের বিস্তার ঘটার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop