৪:০৬ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অগাস্ট ২৫, ২০২১ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
৩ শতাধিক খুরমা খেজুঁর গাছের বাগান করলেন প্রবাসী সেলিম
কৃষি বিভাগ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মার্টিন গ্রামে প্রবাসী(মালেশিয়া) মো: সেলিম তিন শতাধিক (৩০৮) খুরমা খেজুঁর গাছের একটি বাগান তৈরি করেছেন। বর্তমানে গাছের বয়স ২ বছর। আগামী ৩ বছরের মধ্যে তিনি ফলনের আশা করছেন তিনি।

জানা যায়, ছোট ছোট খেজুঁর গাছের বাগানে পরিচর্যা করছেন যুবক মাইন উদ্দিন। তিনি প্রবাসী সেলিমের মেয়ের জামাই। শ্বশুর সেলিমের গড়ে তোলা বাগানের যত্ন করছেন মাইন উদ্দিন।

তিনি জানান, গত ২ বছর আগে শ্বশুর সেলিম আরব আমিরাত থেকে থেকে পাকা খেঁজুর এনে বীজ তলায় বীজ বপন করেন। পরে সেখানে যে চারা গাছ হয় তা জমিতে রোপন করেন। বর্তমানে তাদের বাগানে ৩০৮টি চারা গাছ রয়েছে। মাইন উদ্দিন জানান, আগামী ৩ বছরের মধ্যে গাছে ফুল এবং ফল ধরার আশা করছেন তারা।

মাঈন উদ্দিন নিজেও আরব আমিরাতে খেজুঁর বাগানে কাজ করতেন। তাই দেশে আসলে শ্বশুর তাকে নিজের বাগানের কেয়ার টেকার নিযুক্ত করেন। মাঈন উদ্দিন জানান, তার শ্বশুরের ইচ্ছা এ বাগানে সফল হলে সেখান থেকে তিনি পুরো লক্ষ্মীপুর জেলায় খেঁজুর বাগান ছড়িয়ে দিবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৫, ২০২১ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
দাম ভালো পেলেও বিপাকে পাট চাষিরা
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাটে পাটের ফলন ভালোসহ বর্তমানে বাজারে ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষকরা। বিঘাপ্রতি জমিতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন কৃষকরা। তবে আশেপাশের খাল, ছোট ছোট পুস্কুনি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট পঁচানোর জন্য জাগ দেয়ার জায়গা সঙ্কটে কিছুটা বিপাকে তারা।

কৃষকরা জানান, বিঘাপ্রতি জমিতে পাট চাষ করতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২৭শ’ থেকে ২৮শ’ টাকা পর্যন্ত। তবে তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাট পঁচানোর জন্য জাগ দেয়ার জায়গা নিয়ে। আশেপাশের খাল ও ছোট ছোট পুস্কুনিগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কমে গেছে জাগ দেয়ার পর্যাপ্ত জায়গা। এতে কিছুটা বিপাকে তারা।

হাতিল হাজিপাড়া গ্রামের একজন কৃষক জানান, ভালো দাম পেলে ২৫ হাজারের মতো বিক্রি হয় বিঘাপ্রতি। আর ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমানে পাট কেটে জাগ দেবো কোথায় সেই জায়গা পাচ্ছি না। আশেপাশের যেসব ছোট ছোট পুকুর, খাল ছিল সেগুলো ভরাট করে মানুষ আবাদি জমি করছে। নদীতে দিলে ভেসে চলে যায়। তাই আমাদের খুব সমস্যা পাট নিয়ে।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স.ম মেফতাহুল বারী জানান, জেলায় এবার ৩ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২শ’ হেক্টর বেশি। ইতিমধ্যে প্রায় ২৩শ’ হেক্টর জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। বিঘাপ্রতি গড় ফলন ৮ মণ। বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পাট চাষে কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণসহ সব ধরণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৫, ২০২১ ২:০০ পূর্বাহ্ন
অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বেকারত্ব হ্রাসে কৃষি ফার্ম
কৃষি বিভাগ

বর্তমান সময়ে কৃষকের ছেলে কৃষক হবে এমন কথা একেবারেই ভিত্তিহীন। কিন্তু কৃষির ওপর ভিত্তি করে আজও আমরা আমাদের সুখ-দুঃখের হিসাব-নিকাশ করে থাকি। দেশের কৃষির উৎপাদন কমে গেলে সারাদেশের মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়। সমস্যাটি যেন শুধু কৃষকদের থাকে না, সবার মাঝেই ছড়িয়ে পড়ে। কৃষি দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। দেশের মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগ এবং শ্রমশক্তির ৫৫ ভাগ কোন না কোনভাবে কৃষিতে নিয়োজিত।

বর্তমানে দেশে কৃষিভিত্তিক শিল্পের মধ্যে পোল্ট্রি ফার্ম, ডেইরি ফার্ম, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, মৎস্য উৎপাদন, হিমায়িতকরণ শিল্প রয়েছে। এসব শিল্পে বেশকিছু বড় বড় কোম্পানি বিনিয়োগ করছে।

বর্তমানে দেশে বেশ কিছু খ্যাতিসম্পন্ন কোম্পানি যেমন আকিজ, স্কয়ার, এসিআই কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ করছে এবং দৈনন্দিন জীবনের চাহিদামাফিক বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত করছে। অনেক কোম্পানি কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের নিকট থেকে সরাসরি কৃষি পণ্য সংগ্রহ করছে। তবে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের মূল কাঁচামাল কৃষি ফসল উৎপাদনে সরাসরি বড় প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায় না। ব্যক্তি ও পারিবারিক উদ্যোগে কিছু ফলমূল ও সবজি উৎপাদন এলাকা গড়ে উঠলেও বৃহৎ পরিসরে গড়ে উঠেনি কোন সুপরিকল্পিত কৃষি ফসল উৎপাদনমুখী ফার্ম। ফলে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের কৃষক এবং বর্গাচাষীরাই ভরসা যাদের উৎপাদনের হার কম।

দেশে কৃষি উৎপাদন ফার্ম গড়ে উঠলে পরিকল্পিতভাবে মাটির গুণাগুণ অনুসারে খণ্ড খণ্ড জমিগুলো এক করে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং উৎপাদন আরও বৃদ্ধি হবে। পাশাপাশি কৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণও অনেকাংশে সহজ হবে।

দেশের দক্ষিণাঞ্চল খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এলাকায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমি লিজ নিয়ে বেশ কিছু মৎস্য খামার গড়ে উঠেছে। অন্যান্য এলাকায়ও এরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করে কৃষি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। একই এলাকার আশেপাশের খণ্ড খণ্ড জমির মালিকদের নিয়ে কৃষি পণ্য উৎপাদনমুখী সমবায় সমিতি গঠন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের কৃষি ফার্ম গঠন করে সমন্বিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যেতে পারে।

জমির মালিকদের নিকট থেকে বছরভিত্তিক লিজ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কোনো সমবায় সমিতির মাধ্যমেও কৃষি ফার্ম গঠন করা যায়। নতুন নতুন এনজিও এবং কোম্পানি প্রতিষ্ঠাপূর্বক তাদের মাধ্যমে কৃষি ফার্মভিত্তিক চাষাবাদের উদ্যোগ গ্রহণ করলে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেক সহজ হবে।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠী জমি লিজ হতে প্রাপ্ত অর্থের পাশাপাশি এসব ফার্মে কাজ করে অর্থ উপার্জনও করতে পারবে। ফার্মের কাজের বাইরে বাকি সময়ে নিজের কাজ করলে অর্থনীতিতে ছদ্মবেশী বেকারের হারও হ্রাস পাবে। কৃষি ফার্মে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ গ্রহণের পাশাপাশি বৃহৎ ফার্মে বা কয়েকটি ছোট ছোট ফার্মকেন্দ্রিক একজন করে কৃষিবিদ নিয়োগ করলে ফার্মভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা কৃষিখাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিবে। ফলে কৃষি কাজের সামাজিক মর্যাদাও বাড়বে এবং শিক্ষিত বেকার শ্রেণীকে চাকুরি হিসেবে কৃষিখাতে নিযুক্ত করা সম্ভব হবে। কারণ একজন শিক্ষিত বেকার মাঠে চাষাবাদের বদলে একই কাজ প্রতিষ্ঠিত কৃষি ফার্মে করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।

ফার্মে জনসাধারণের কর্মসংস্থানের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতি সাধন হবে এবং নগরায়ন সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক কৃষি ঋণ বিতরণের পাশাপাশি এসব ফার্মে ঋণ প্রদানপূর্বক কার্যকর কৃষি ঋণের পরিমাণও অনেকগুণ বাড়াতে পারবে।

আমাদের পাশের দেশগুলোতে কৃষি ফার্ম গড়ে উঠছে। আমাদের দেশের জমির মালিক পক্ষ, ফার্ম পরিচালনাকারী কোম্পানি বা এনজিও, প্রশাসন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির সমন্বয় করে কৃষি ফার্ম গঠন কিছুটা কষ্টসাধ্য হলেও উদ্যোগ গ্রহণ করলে সেটা অবশ্যই সম্ভব। এরূপ কয়েকটি ফার্ম প্রতিষ্ঠিত হয়ে লাভের মুখ দেখলে বড় এবং মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান কৃষি ফার্মভিত্তিক বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে। এর ফলে, সমন্বিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বেকারত্ব হ্রাসেও কৃষি ফার্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

লেখক: রিয়াজুল হক
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৪, ২০২১ ৩:৩২ অপরাহ্ন
গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের উদ্যোগ
কৃষি বিভাগ

গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে স্বপ্ন দেখছেন জয়পুরহাটের স্থানীয় কৃষকরা। গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে তিত বেগুনের সাথে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে সফলতার দ্বার প্রান্তে এখন জয়পুরহাটের স্থানীয় বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ’জাকস ফাউন্ডেশন’র কৃষি ইউনিট।

জাকস ফাউন্ডেশনের কৃষি ইউনিটের প্রধান কৃষিবিদ ওবাইদুল ইসলাম জানান, আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলের মাটিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ সম্ভব হয়না। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও ভাইরাসের আক্রমণে টমেটোর ফুল আসার আগেই টমেটোর গাছ নষ্ট হয়ে যায়। যা গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে বড় অন্তরায় হয়ে দেখা দেয়। এসব অন্তরায় গুলো মাথায় নিয়ে জাকস ফাউন্ডশনের কৃষি ইউনিটের সদস্যরা তিত বেগুনের সাথে গ্রাফটিং করে।

পর্যবেক্ষণে ভালো ফলাফল পাওয়ায় জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আগাইর গ্রামের কৃষক কখীল চন্দ্রের ১০ শতাংশ জমিতে এবার প্রদর্শনী হিসেবে ওই টমেটোর চারা লাগানো হয়েছে। পলিথিন দিয়ে সেড তৈরি করে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মালচিং ব্যবহারের ফলে মাটির আদ্রতা রক্ষার পাশাপাশি অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে গাছ রক্ষা পায়। আবার বৃষ্টির পানি থেকেও রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে পলি সেড।

টমেটোর জাত হচ্ছে বারি ৪ ও ৮। বর্তমানে দেখা যায় টমেটোর গাছে ভাইরাসের কোন আক্রমণ হয়নি। টমেটোর গাছে গাছে ফুল ধরেছে। টমেটোর গাছের ফুল কৃষকের মনে দোলা দিচ্ছে আনন্দ। ভালো ফলন পাওয়ার আশায় দেখছেন স্বপ্ন।

জাকস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো: নূরুল আমিন বলেন, টমেটো শীতকালীন ফসল হলেও গ্রীষ্মকালে অনেক চাহিদা থাকে। পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহায়তায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের উদ্যোগ নেওয়া হযেছে। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে অনেক কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাহিদা পূরণ, ভালো ফলন পাওয়া যাবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান, টমেটো চাষি কখীল চন্দ্র।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ স ম মেফতাহুল বারি জানান, এখানকার মাটি গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের উপযোগী নয়, তারপরেও গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে ’জাকস ফাউন্ডেশন’ গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের উদ্যোগ নিয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৪, ২০২১ ১০:২১ পূর্বাহ্ন
বৃষ্টি উপেক্ষা করে ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক
কৃষি বিভাগ

কমলগঞ্জে বিরূপ আবহাওয়ার প্রতিকূলতা কাটিয়ে আউশের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কেউ কেউ ধান কাটার প্রস্তুুতি নিতে শুরু করেছেন। কেউ বা ধান রোদে শুকাচ্ছেন।

উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে এ বছর আউশের চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার কম জমিতে আউশ ধান চাষ করা হলেও এবার ফলন ভালো হয়েছে।

সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সার, পোকামাকড়, আগাছা দমনসহ সব বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যে কারণে এ বছর আউশ ধানের ভালো ফলন হয়েছে।

শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল বারী, মছদ্দর আলী, আবুল কাশেম ও আমির আলী বলেন, বর্ষার ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় প্রায় ১০ একর আউশ জমি চাষাবাদ করতে পারেননি। আউশের চারা রোপণে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে অল্প বৃষ্টির মধ্যেই যে পাঁচ একর জমিতে আউশ চাষ করেছেন, তাতে ফসল ভালো হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে আরও কিছু জমি চাষ করা যেত।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার বিশ্বজিৎ রায় বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে ধান না কাটলে বৃষ্টিতে ধান পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং যে পরিমাণে ধান পাওয়ার কথা তার থেকে কম পাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৩, ২০২১ ৮:৪৬ অপরাহ্ন
১ লাখ টন আম রপ্তানির লক্ষ্যে রোডম্যাপ প্রণয়নের নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর
কৃষি বিভাগ

আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে প্রতিবছর ১ লাখ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা- রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি।
মন্ত্রী সোমবার বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে হর্টেক্স ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘আম রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য আমের উন্নত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে ২৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। অথচ রপ্তানি হয় মাত্র কয়েকশ টন আম। বছরে ১ লাখ টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। সেলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন, রোডম্যাপ প্রণয়ন ও আমের নতুন বাজার খুঁজে বের করতে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। রপ্তানির বাধাসমূহ চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে, নিরাপদ আমের নিশ্চয়তা দিতে ৩ টি ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। উৎপাদন থেকে শিপমেন্ট পর্যন্ত আম নিরাপদ রাখতে উত্তম কৃষি চর্চা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট দেয়ার কাজ চলছে। এর ফলে চলতি বছর গত বছরের তুলনায় আম রপ্তানি ৫ গুণ বেড়েছে।আগামীতে রপ্তানির পরিমাণ অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো: বখতিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ এবং এনএটিপি-২ প্রকল্পের পরিচালক মো: মতিয়ার রহমান। এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থাপ্রধান, আমচাষি, ব্যবসায়ী, শাকসবজি ও ফল রপ্তানিকারক প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে প্রতিবছর আমের উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু উৎপাদনের তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ অনেক কম। ডিইএর হিসাবে ২০১৯-২০ সালে দেশে প্রায় ২৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়েছে; বিপরীতে আম রপ্তানি হয়েছে ২৮৩ মেট্রিক টন। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের ফলে চলতি বছর ২০২০-২১ সালে ১৬২৩ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৫ গুণেরও বেশি।
কর্মশালায় আরো জানান হয়, দেশে উৎপাদিত আমের বিরাট অংশ- গড়ে শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। খিরসাপাত আমের ক্ষেত্রে ৩৭% ও ফজলি আমের ২৯% নষ্ট/অপচয় হয়। এতে ক্ষতির পরিমাণ বছরে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
আম রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য নতুন বাজার অনুসন্ধান, রপ্তানি চাহিদা অনুযায়ী উন্নতজাত নির্বাচন, ফাইটোস্যানিটারি পদ্ধতি ও আমদানিকারক দেশের উত্তম কৃষি চর্চা মেনে আম উৎপাদন, সার্টিফিকেশন, উন্নত প্যাকিং, উন্নত সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থা, রপ্তানি কার্যক্রমে দক্ষতা, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ, বিমান বন্দরে সুষ্ঠু কার্গো ব্যবস্থাপনার উপর কর্মশালায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২২, ২০২১ ৩:৪২ অপরাহ্ন
বরিশালে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি আয়োজিত দিনব্যাপী এক আঞ্চলিক কর্মশালা আজ বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, কৃষিতে বীজের গুরুত্ব অপরিসীম। অধিক উৎপাদনের জন্য অবশ্যই ভালো বীজ দরকার। আর এ জন্য প্রয়োজন বীজের গুণতমান বজায় রাখা। এসব বিষয়ে কৃষক এবং বীজ উৎপাদনকারীর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার চিন্ময় রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো.আলমগীর হোসেন এবং ডিএই বরিশালের উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিএই পিরোজপুরের উপপরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদার, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের যুগ্ম পরিচালক ড. একেএম মিজানুর রহমান, ডিএই পটুয়াখালী জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার (বরিশাল অঞ্চল) রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, ডিএই পটুয়াখালীর অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন তালুকদার, নেছারাবাদের উপজেলা কৃষি অফিসার চপল কৃষ্ণ নাথ, গৌরনদী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মামুনুর রহমান, নেছারাবাদের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সঞ্জয় হালদার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বীজ ডিলার ও কৃষকসহ ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২২, ২০২১ ২:৫৯ অপরাহ্ন
কুমিল্লায় নতুন ধানের দ্বিগুণ ফলন
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিনা ধান-২১ চাষে সাফল্য পাচ্ছেন কুমিল্লার কৃষকরা। ধান চাষে কম খরচের সাথে সময়ও কম ব্যয় হয়। দীর্ঘ খরায়ও এটি টিকে থাকতে পারে। ফলনও হচ্ছে দ্বিগুণ।

সম্প্রতি বিনা কুমিল্লা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ) ড. ফাহমিনা ইয়াসমিন, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ জুয়েল সরকার মাঠ পরিদর্শন করেন। মাঠ পরিদর্শনে দেখেন, বিনা ধান-২১ চাষ করে প্রতি হেক্টরে কৃষক সাড়ে ৫ টন ধান পেয়েছেন। এই আউশ মৌসুমে অন্য ধান চাষ করে হেক্টরে পেতেন পৌনে ৩ টন ধান। ফসলের প্রধান মৌসুম বোরোর মতই ফলন হচ্ছে।

সূত্র মতে, আফ্রিকার নেরিকা-১০ ধানের জাত থেকে এই বিনা ধান-২১ উদ্ভাবন করা হয়। নেরিকার ফলন কম হতো। বিনার মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম গবেষণা করে এর ফলন বাড়িয়ে দেন। গাছের উচ্চতা কম বেশি ছিল। সেগুলো সমান করা হয়। ধানের সাইজ চিকন করা হয়। বিনা ধান-২১ প্রথমবারের মতো কুমিল্লার মাঠে ৫০ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়েছে। এতে ভালো ফলন এসেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামীতে আউশ মৌসুমে কুমিল্লার মাঠে বিনা ধান-২১ এর আবাদ বাড়বে।

বুড়িচং উপজেলার দয়ারামপুর গ্রামের কৃষক শামছুল হক, নজরুল ইসলাম ও সদর উপজেলার রামপুর গ্রামের রিপন মিয়া বলেন, প্রথমবারের মতো বিনা ধান-২১ চাষ করেছেন। প্রথমে ফলন নিয়ে টেনশনে ছিলেন। তবে প্রথমবারেই ভালো ফলন হয়েছে। আগামীতে তারা আরো বেশি জমিতে এই ধান চাষ করবেন বলে জানান। তাদের দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও এই ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ) ড. ফাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, কুমিল্লার মানুষ সৌখিন। তারা চিকন চাউল খেতে পছন্দ করেন। বিনা ধান-২১ এর চাউলও চিকন। এই কারণে এই ধান চাষে কৃষক ভালো লাভ পাবেন। এছাড়া এই ধান পানি ছাড়া ২০ দিন টিকে থাকতে পারে। তবে পানি পেলে আবার বেড়ে উঠবে।

বিনার মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম জানান, আফ্রিকার নেরিকা-১০ ধানের জাত থেকে এই বিনা ধান-২১ উদ্ভাবন করা হয়। নেরিকার ফলন কম হতো। তাই কৃষকের আগ্রহ কম ছিল। গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ফলন বাড়ানো হয়। গাছের কম বেশি উচ্চতা সমান করা হয়। মোটা ধানের সাইজ চিকন করা হয়। তাই এই ধান চাষ নিয়ে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে আউশ মৌসুমে উঁচু সবগুলো জমি বিনা ধান-২১ এ হেসে উঠবে। এতে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান জানান, আউশ মৌসুমে অনেক জমি খালি পড়ে থাকে। কারণ ফলন কম পাওয়ায় অনেকে এই মৌসুমে ধান চাষ করতে চান না। অন্য ধান চাষে হেক্টরে আগে পেতেন পৌনে ৩ টন ধান। বিনা ধান-২১ চাষে প্রতি হেক্টরে কৃষক সাড়ে ৫ টন ধান পাচ্ছেন। এছাড়া ধানের জীবনকাল কম হওয়ায় এক জমিতে চার ফসলও করা সম্ভব হচ্ছে। এদিকে এই ধান চাষে সেচসহ অন্যান্য খরচ নেই বললেই চলে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২২, ২০২১ ১২:৫৩ অপরাহ্ন
বর্ষা মৌসুমেও ব্যাপকহারে চাষ হচ্ছে তরমুজ
কৃষি বিভাগ

দেশ সাধারণত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত তরমুজ চাষের উপযোগী সময় হলেও ঠাকুরগাঁওয়ে আগস্ট মাসে চাষ করা হচ্ছে তরমুজ। মালচিং পদ্ধতি অবলম্বন করে চারা রোপনের মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে তরমুজ হারভেস্ট করা যায়। তাই বর্ষা মৌসুমে তরমুজ চাষ উপযোগি না হলেও মালচিং পদ্ধতিতে বিদেশী জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে সেখানকার চাষিদের।

দেখা যায়, চাষকৃত মাটিতে সার ও বিষ দিয়ে উঁচু ও লম্বা সারি করে মালচিং পলিথিন দিয়ে ঢেকে তৈরি করা হয়েছে তরমুজের বীজতলা। নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে পলিথিন ছিদ্র করে মাটির মধ্যে বপন করা হয় তরমুজের বীজ। সেই বীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা থেকে বড় হয়ে গাছে পরিণত হচ্ছে। আর গাছ গুলোর লতাপাতা বিস্তারের জন্য বাঁশ, সুতা ও তারের সমন্বয়ে তৈরি করা হচ্ছে মাচা। মূলত এ পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে- যাতে করে বৃষ্টির পানি গাছের গোড়ায় জমাট না বাধে ও পানিতে তরমুজ নষ্ট না হয়। এমন পদ্ধতি অবলম্বন করে জেলার পীরগঞ্জ, হরিপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিদেশী বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করছেন অনেকে।

এতে যেমন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে ও তেমনি পুষ্টির চাহিদা পুরণে ভূমিকা রেখে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা কৃষকদের। অসময় ও বর্তমানে বর্ষাকাল হলেও জেলায় এবার প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে চাষ শুরু হয়েছে বিদেশী তরমুজ।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের কৃষক ও উদ্যোক্তা মঞ্জুর আলম জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে পরিকল্পনা করে এবার নিজ উদ্যোগে ও পাশের উপজেলার কৃষকদের দেখে উৎসাহিত হয়ে এবং ইউটিউব থেকে ধারণা নিয়ে তিন প্রজাতির তরমুজ চাষ শুরু করেন তারা। তিনি আরও বলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তরমুজ চাষে প্রতিবিঘা জমিতে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। লাভ কত হবে জানিনা। তবে আশা করি প্রকৃতি সহায় থাকলে প্রতিবিঘা জমির তরমুজ ১ থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রয় করতে পারবো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ আবু হোসেন জানান, বিভিন্ন এলাকায় এটি নতুন ফসল হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সম্প্রসারিত হচ্ছে। আমরা কৃষি অধিদপ্তর থেকে তাদেরকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সম্ভব হলে পরবর্তীতে আমাদের বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি মনে করি, ঠাকুরগাঁও জেলার জন্য এটি উপযোগি ফসল ও লাভ জনক ফসল হিসেবে অর্জিত হবে এবং এটি দিন দিন সম্প্রসারিত হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২২, ২০২১ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
সৌদির খেজুর চাষ করছেন আইনজীবী
কৃষি বিভাগ

বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার সন্ন্যাসী হাজীপাড়া এলাকায় সৌদি খেজুর চাষ করে এলাকার মানুষকে স্বাবলম্বী হতে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন দিহিদার জাকির হোসেন নামের একজন আইনজীবী। মরুভূমির এ উদ্ভিদ চাষে নতুন সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন স্থানীয়রা ও কৃষি বিভাগ।

১৫ একর মৎস্য ঘেরের খামারের বেড়িব-বাঁধে এখন আড়াই হাজারের মত গাছ রয়েছে জাকিরের। দুই বছরেই ফল এসেছে অনেক গাছে। ইতোমধ্যে আগস্ট মাসে প্রথম একটি গাছ থেকে ফল কেটেছেন তিনি।

খেজুর চাষি দিহিদার জাকির হোসেন জানান, ২০১৪ সালে ১৫ একর জমিতে ৯টি পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করি। পুকুরের পাড় জুড়ে বিভিন্ন ফলজ গাছও রোপণ করি। কিন্তু লবণ পানির জন্য এসব ফসলে লাভ হচ্ছিলো না।

অন্যদিকে অতিরিক্ত লবন পানির কারণে ঘেরে গলদা চিংড়ি বা কার্প জাতীয় মাছ ভালো হয় না। তারপরে কয়েক বছরে বাগদা চিংড়িতেও লোকসানে পড়ি। পরে হতাশা কাটিয়ে উঠতে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়াির মাসে রামপাল সৌদি খেজুর বাগান নাম দিয়ে এ খেজুর চাষ শুরু করি। প্রথম দিকে লোকজন আমাকে পাগল বলতো। ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে ২০০ সৌদি খেজুরের চারা এনে রোপণ করি। পরবর্তীতে নরসিংদী থেকে আরও ১০০ চারা আনি।

বর্তমানে আমার আজোয়, মরিয়ম, সুকারি, আম্বার ও বারহি এ পাঁচ জাতের আড়াই হাজারের মত খেজুর চারা রয়েছে। এছাড়াও বিচির তৈরি আরও ২৫০০ চারা প্রস্তুত রয়েছে নার্সারিতে। বর্তমানে ৫০ টি গাছে ফলন হলেও আগামী এক বছরের মধ্যে বাগানের অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ গাছে খেজুর হওয়া শুরু করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

এছাড়া খেজুরের পাশাপাশি ভিয়েতনামি নারকেল, কয়েক প্রজাতির আম, আমড়া, মাল্টাসহ বেশকিছু ফলের চাষ করেন তিনি। খামারে রয়েছে ৩০টি দেশী গরু।
নতুনদের উদ্দেশ্যে জাকির হোসেনের পরামর্শ কলম এবং বিচি দুইভাবেই সৌদি খেজুরের চারা তৈরি হয়। এ বিচির চারার বেশিরভাগ পুরুষ হয়ে যায়। যার ফলে ফল আসে না। তাই নতুন যারা শুরু করবে তাদেরকে কলম (অপ শুট)‘র চারা ক্রয়ের জন্য পরামর্শ দেন তিনি।
জাকির হোসেন আরো বলেন, আমার এখানে এখন সার্বক্ষণিক তিনজন কর্মচারী রয়েছে। ভবিষ্যতে এ নার্সারীতে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, সৌদি খেজুর মরুভূমির ফসল। দিহিদার জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি এ খেজুর চাষে সফলতা পেয়েছেন। তবে খেজুরের স্বাদ, পুষ্টিগুন ও উৎপাদনের পরিমান ঠিক থাকবে কিনা তা এখনি বলা যাচ্ছে না। যদি সব কিছু ঠিক থাকে তবে লবনাক্ত পানির এলাকার জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। সৌদি খেজুর চাষের এ উদ্যোগকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop