৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অগাস্ট ২১, ২০২১ ২:৪৪ অপরাহ্ন
চৌগাছায় শতবিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে ড্রাগন
কৃষি বিভাগ

যশোর জেলার চৌগাছায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ভিনদেশী ড্রাগন ফল। স্থানীয় উদ্যোক্তা ইসমাইল হোসেন প্রথমে ড্রাগন চাষে বিনিয়োগ করে সফলতা অর্জন করেন। তার সফলতা দেখে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতোমধ্যেই ১০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন বাগানের মালিকরা।

চাষিরা জানিয়েছেন, চৌগাছায় ড্রাগন চাষ ইতোমধ্যেই শতবিঘা ছাড়িয়ে গেছে। উপজেলার তিলকপুর গ্রামের একছের আলীর ছেলে এনামুল হোসেন ওরফে ইসলামাইল। তার ছোট বেলার শখ ছিল কৃষির উপর ব্যতিক্রম কিছু করা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে চাকরি নেন একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে। পরে চাকরি ছেড়ে থাই পেয়ারা, আপেল ও বাউ কূলের বাগান করেন তিনি। নতুন কিছু করার চিন্তায় ইন্টারনেটে ড্রাগন ফল চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারা এনে নিজের দুই বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ১০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ রয়েছে তার। তিনি জানান, প্রতিবছর প্রতি একর বাগান থেকে বছরে প্রথম পর্যায়ে ৬/৭ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করা সম্ভব। এছাড়া চারা বিক্রি করে আরো কয়েক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

কয়েকজন চাষী জানান, প্রতি বছরই এই গাছ বড় হবে এবং ফলের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। একটানা বছরের ৭ মাস এই ফল পাওয়া যায়। এবং একবার চারা লাগালে ৩০ থেকে ৪০ বছর একইভাবে ফল হয়। ফলে কাঙ্খিত পরিমাণে লাভবান হওয়া সম্ভব। উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বুন্দলিতলা গ্রামের চাষী সোলাইমান হোসেন বলেন, প্রথম পর্যায়ে এই বাগানে এতো টাকা বিনিয়োগ করে ড্রাগন ফল চাষ করা স্বপ্নে দেখা কল্পকাহিনীর মত মনে করতাম। তার পরেও ড্রাগন বাগান তৈরি করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম। এক পর্যায়ে নিজের ভূষি মালের ব্যবসা বন্ধ করে প্রথমে ১ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করি।

এক বিঘা জমিতে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাগানের দেড় বছর বয়সে চারা ও ড্রাগন ফল বিক্রি করে ৪ লাখেরও বেশি টাকা আয় করেছি। প্রতি কেজি ড্রাগন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। ভালা লাভ হওয়ায় এ বছরে আরো এক বিঘা জমিতে নতুন বাগান করেছি। সোলাইমান জানান, ড্রাগনের সাথে সাথি ফসল হিসেবে পেয়ারা চাষ রয়েছে। যেখান থেকে ড্রাগন পরিচর্যার সকল খরচ উঠে আসে বরং কিছু টাকা লাভ থাকে।
সিংহঝুলী গ্রামের প্রবাস ফেরত হেলাল উদ্দিন ওরফে মিঠু খান বলেন, বিদেশ থেকে বাড়ি এসে কি করবো চিন্তা করছিলাম।

এ সময় সৌখিন চাষ হিসেবে ড্রাগন চাষের কথা মাথায় আসে। আবার বাজারে ড্রাগন ফলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। যে কারণে আমি ৯ বিঘা জমিতে ড্রাগন বাগান করি। বাগানের বয়স ১ বছর হয়েছে। গাছ ফল আসতে শুরু করেছে। অল্প কিছু ড্রাগন ফল প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি।
চাষিরা জানান, ভেষজ জাতীয় এ ফল অত্যান্ত লাভজনক। এই ফল চাষ করার জন্য জৈব সারই যথেষ্ট। অতিরিক্ত অন্য কোনো সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। এছাড়া বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলকা থেকে খরিদ্দাররা বাগানে এসে কিনে নিয়ে যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন জানান, চৌগাছা এলাকা ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী। উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান রয়েছে। জমি থেকে ড্রাগন ফল সংগ্রহ করে বিক্রি শুরু করেছেন চাষিরা। মিষ্টি ও হালকা টক জাতীয় স্বাদের নানা পুষ্টিগুণে ভরা ড্রাগন ফল চাষ লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করার জন্য আমরা চাষিদের উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছি বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২১, ২০২১ ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
শিক্ষকতার পাশাপাশি ড্রাগন চাষে তাক লাগিয়েছেন মুসা
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশে গত বেশ কয়েক বছর ধরে নানা ধরনের বিদেশি ফল চাষ হচ্ছে। দেশীয় বাজারে এসব ফলের চাহিদা থাকার কারণে অনেকেই ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এবার ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কাগমারী গ্রামের হারুনুর রশীদ মুসা ড্রাগন চাষ করে তাক লাগিয়েছেন। পেশায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তবে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নিজ গ্রামে সুখ্যাতি পেয়েছেন দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের আবাদ করে। আর মুসার এ অভাবনীয় সাফল্য দেখে এখন গ্রামের অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ঝুঁকছেন এসব বিদেশি ফল চাষে। এবার ৫ বিঘা জমিতে পিংক রোজ ড্রাগনের আবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। আর বিক্রি করেছেন করেছেন ১০ লাখ টাকার ফল।

এর আগে হারুনুর রশীদ মুসা ত্বীন ও অ্যাভোকাডো ফলের চাষ করে সাফল্য পেয়েছিলেন। তবে এবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন “পিংক রোজ” জাতের ড্রাগন ফলের।

এই ফলগুলোর এক একটির ওজন ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। চারা, সেচ, সার, কীটনাশক পরিচর্যাসহ ৫ বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। চলতি বছর তিনি এই ৫ বিঘা জমিতে পিংক রোজ ড্রাগনের আবাদ করে ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন।

হারুনুর রশীদ মুসা জানান, তিনি প্রায় ১৬ বছর আগে আপেল কুলের আবাদ করেন। এরপর পেয়ারা, মাল্টাসহ অন্যান্য ফলের বাগান করেছেন। ৫ বছর আগে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। এছাড়া তিনি অ্যাভোকাডো ফলেরও চাষ করেছেন। বর্তমানে তার ১১ বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ রয়েছে। এর মধ্যে পিংক বড় জাতের ড্রাগনের আবাদ রয়েছে ৫ বিঘা জমিতে।

তিনি আরও জানান, এক বিঘা জমিতে চারাসহ তার খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। চারা লাগানোর ৬ মাস পর ফল পাওয়া যায়। ড্রাগন গাছ একবার লাগালে ১৫ থেকে ২০ বছর বাঁচে। বাজারে অন্যান্য ড্রাগনের ফল যখন বিক্রি শেষ হয়ে যায় তখন পিংক রোজ ড্রাগন ফল ওঠে। অর্থাৎ পিংক বড় জাতের ড্রাগন ফল একটু দেরিতে আসে। যে সময় বাজারে ড্রাগন ফল খুবই কম থাকে। ফলে দাম ভালো পাওয়া যায়।

কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মহাসিন আলী জানান, “হারুনুর রশীদ একজন ইনোভেটিভ কৃষক। তার বাগানে শুধু ড্রাগন নয়। মাল্টা, অ্যাভোকাডো, ত্বীনসহ বিভিন্ন ধরনের বিদেশি ফলের আবাদ রয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা তাকে নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছি। আমি নিজেই তার প্রতিটি বাগান পরিদর্শন করেছি। এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে তাকে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণেও পাঠানো হয়। মুসার মত কৃষি উদ্যোক্তারা দেশের কৃষিক্ষেত্রে দারুণ অবদান রাখছেন।”

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২০, ২০২১ ৪:৪২ অপরাহ্ন
ভৈরবে শুরু হয়েছে আউশ কাটার ধুম
কৃষি বিভাগ

ব্রিধান-৪৮ ও বিধ্রান-৮২ জাতের নমুনা আউশ ধান কাটা শূরু হয়েছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। স্বল্প সময়ে ফলন ভাল পেয়ে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদের লক্ষ্য মাত্রা থাকলেও তা ছাড়িয়ে ৫ হেক্টর আরো বেশি আবাদ হয়েছে।

জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২২ মন ধরে ফলন উৎপাদিত হয়েছে। খরছ কম ও দাম ভাল পাওয়ায় আউশ আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা ও নিবিড় মনিটরিংয়ের ফলে দিন দিন আ্উশ আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

জানা যায়, মাত্র কিছু দিন আগে ইরি-বোর ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকরা অলস সময় পার না করে কৃষি অফিসের পরামর্শে জমি ফাঁকা না রেখে আউশ ধান আবাদ করেছিলেন। আউশ আবাদে প্রতি বিঘায় খরছ পড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ধান উৎপাদন ২০ থেকে ২২ মন দর। আবাদের ৯০ দিনের মধ্যেই এ ধান ঘরে তুলতে পারছেন কৃষকরা।

কৃষকরা আনন্দে ধান কেটে তাদের ঘরে তুলছেন। ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ করে বৃষ্টির পানিকে কাজে লাগিয়ে আউশ আবাদ জনপ্রিয় হচ্ছে বলে এখন আউশ আবাদও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আউশ আবাদের ৯০ দিনে কাটা শেষ হয়। ফলে কৃষকরা তাদের জমিতে বছরে ৪ ফসল উৎপাদন করতে পারছে।

চাষীরা জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার আবাদ করেছেন। আউশ ধান একটি লাভ জনক ফসল। একই জমিতে আউশ ধানসহ বছরে ৪ বার বিভিন্ন ফসল আবাদ করা যায়। আউশ ধান আবাদে খরছ কম ও উৎপাদন বেশি। এবার ধানের ফলন ও দাম ভাল থাকায় কৃষকরা খুশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, ভৈরব উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে আউশ ৪৮ ও আউশ -৮২ ব্রিধান জাতের ধান আবাদের লক্ষমাত্র ছিল ১ হাজার ৫ হেক্টর। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আর মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিষের সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষ ও কৃষকদের নিয়মিত পরামরর্শ দেওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো ৫ হেক্টর বেশি উৎপাদন হয়েছে। রোপা আউশ মৌসুমে আধুনিক উফশী জাতের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় এই জাতের ধান আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২০, ২০২১ ৪:৩২ অপরাহ্ন
লবণসহিষ্ণু জাতের ধান,গম ও ভুট্টা উদ্ভাবনের সুপারিশ
কৃষি বিভাগ

দক্ষিণাঞ্চলে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে লবণসহিষ্ণু জাতের ধান, ভুট্টা ও গম উদ্ভাবনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সংসদ ভবনে কমিটির ১৬তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, মুহা. ইমাজ উদ্দিন, মো. মোসলেম উদ্দিন, আনোয়ারুল আবেদীন খান, উম্মে কুলসুম স্মৃতি এবং হোসনে আরা।

বৈঠকে আমন এবং আউশ ধানের উন্নত জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষণার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শহীদ হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২০, ২০২১ ৩:০২ অপরাহ্ন
আমনের অধিক ফলন পেতে যা করবেন
কৃষি বিভাগ

কৃষকরা এখন মাঠে আমন ধানের বীজতলা ও জমি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, আমন ধান চাষে সফল হতে হলে শুরুতে জাত নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন জাতের ধান রয়েছে, কৃষককে সঠিক জাতটি বেছে নিতে হবে। আমন ধানের অধিক ফলন পেতে ধাপে ধাপে যত্ন নিতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি বছরে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১০৬ হেক্টর। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। মূলত তিন জাতের আমন ধানের চাষাবাদ করা হয় দেশে। এগুলো হলো হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাত।

আমন ধানের যত্নের বিষয়ে কৃষি তথ্য সার্ভিস জানায়, শ্রাবণ মাস আমন ধানের চারা রোপণের ভরা মৌসুম। চারার বয়স ৩০ থেকে ৪০ দিন হলে জমিতে রোপণ করতে হবে।

জাত পরিচিতি
রোপা আমনের আধুনিক এবং উন্নত জাতগুলো হলো : বিআর-৩, বিআর-৮, বিআর-৫, বিআর-১০, বিআর-২২, বিআর-২৩, বিআর-২৫, ব্রি ধান-৩০, ব্রি ধান-৩১, ব্রি ধান-৩২, ব্রি ধান-৩৩, ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৩৭, ব্রি ধান-৩৮, ব্রি ধান-৩৯, বিনাশাইল, নাইজারশাইল, বিনাধান-৪।

উপকূলীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে উপযোগী উফশী জাতের (ব্রি ধান-৪০, ব্রি ধান-৪১, ব্রি ধান-৪৪, ব্রি ধান-৫৩, ব্রি ধান-৫৪, ব্রি ধান-৫৬, ব্রি ধান-৫৭, ব্রি ধান- ৬২) চাষ করা যেতে পারে।

খরা প্রকোপ এলাকায় নাবি রোপা আমনের পরিবর্তে যথাসম্ভব আগাম রোপা আমন (ব্রি ধান-৫৩, ব্রি ধান-৫৪) চাষ করা যেতে পারে। একইসঙ্গে জমির এক কোনে গর্ত করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। আমন ধানের ক্ষেতে সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। এজন্য জমির উর্বরতা অনুসারে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে।

আমন ধান চাষে সারের ব্যবহার
ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার শেষ চাষের সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণের ১২ থেকে ১৫ দিন পর প্রথমবার ইউরিয়া সার ক্ষেতে অতিরিক্ত প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম প্রয়োগের ১৫ থেকে ২০ দিন পর দ্বিতীয়বার এবং তার ১৫ থেকে ২০ দিন পর তৃতীয়বার ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।

গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলে চারা লাগানোর ১০ দিনের মধ্যে প্রতি চার গুছির জন্য ১৮ গ্রামের ১টি গুটি ব্যবহার করতে হবে। এজন্য চারা লাইনে রোপণ করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৯, ২০২১ ৪:৫০ অপরাহ্ন
এ দেশে ধর্মান্ধদের রাজনীতি আর নয়: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

এ দেশের মাটিতে ধর্মান্ধদের আর কোনোদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে এবং রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে বিএআরসি মিলনায়তনে ‘দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায়’ এ কথা বলেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মান্ধদের শেকড় এ দেশে, পাকিস্তানে বা যেখানেই যত গভীরেই হোক না কেন- তাদের শেকড় সমূলে উৎপাটন করা হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কৃষি উন্নয়নের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন সে ধারাবাহিকতায় তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ক্রমাগতভাবে কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ও উন্নয়নে আজ বিস্ময়কর সাফল্য এসেছে। এ সাফল্যকে আরও বেগবান করতে কৃষিবিদ, বিজ্ঞানীসহ সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুর রৌফ। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল। অন্যান্যের মধ্যে হোসনে আরা এমপি ও সংস্থা প্রধানরা বক্তব্য দেন। এ সময় সশরীরে ও সারা দেশ থেকে ভার্চুয়ালি প্রায় সাত শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৯, ২০২১ ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
ক্ষতিকারক বাদামি গাছ ফড়িং দমনের কৌশল
কৃষি বিভাগ

বাচ্চা ও পূর্ণবয়স্ক উভয় অবস্থায় বাদামি গাছফড়িং ধান গাছের গোড়ায় বসে গাছের রস চুষে খায় ফলে গাছ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তবে ধানের ক্ষতিকারক গাছফড়িং দমনের সঠিক কৌশল জানা থাকলে সহজেই দম করা যায়।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের প্রধান তথ্য অফিসার কৃষিবিদ তুষার কান্তি সমদ্দার জানান,এক সঙ্গে অনেকগুলো পোকা রস চুষে খাওয়ার ফলে ধানের পাতা প্রথমে হলদে ও পরে শুকিয়ে মারা যায়। আক্রমণ বেশি হলে দূর থেকে বাজ পড়ার মতো (হপার বার্ন) মনে হয়। ধানের শীষ আসার সময় বা তার আগে হপার বার্ন হলে কোনো ফলনই পাওয়া যায় না। তবে ধানের দানা শক্ত হওয়ার পর ধান গাছ আক্রান্ত হলে ক্ষতি কম হয়।

জীবন বৃত্তান্ত: মৌসুমের শুরুতে লম্বা পাখা বিশিষ্ট পূর্ণবয়স্ক বাদামি গাছফড়িং পাতার খোলে এবং পাতার মধ্য শিরায় ৮-১৬টি ডিম গুচ্ছাকারে পাড়ে। ডিমের রঙ হলুদ এবং দেখতে অনেকটা কলার কাঁদির মতো। ডিমগুলোর উপর পাতলা চওড়া একটি আবরণ থাকে।

ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ৭-৯ দিন সময় লাগে। সদ্য ফোটা বাচ্চাগুলো দেখতে পূর্ণবয়স্ক পোকার মতো তবে আকারে খুবই ছোট। বাচ্চাগুলো পাঁচ বার খোলস বদলানোর পর পূর্ণবয়স্ক পোকায় পরিণত হয়। এতে ১৩-১৫ দিন সময় লাগে। পূর্ণবয়স্ক বাদামি গাছফড়িং ৩-৫ মিলিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। পূর্ণবয়স্ক পোকার গায়ের রঙ বাদামি। বাদামি গাছফড়িং ছোট পাখা ও লম্বা পাখা বিশিষ্ট এ দুই ধরনের হতে পারে। এর স্ত্রী পোকাগুলো সাধারণত গাছের গোড়ার দিকে বেশি থাকে।

গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লম্বা পাখা বিশিষ্ট ফড়িংয়ের সংখ্যাও বাড়তে থাকে, যারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় উড়ে যেতে পারে। পূর্ণবয়স্ক বাদামি গাছফড়িং প্রায় তিন সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে এবং এক জোড়া পোকা থেকে ২-৩ মাসের মধ্যে হাজার হাজার পোকা জন্ম নিতে পারে।

ক্ষতির অনুকূল পরিবেশ: বাদামি গাছফড়িং আলো-বাতাস পছন্দ করে না। এদের বংশ বৃদ্ধি এবং বেঁচে থাকার জন্য আর্দ্র ও ছায়াযুক্ত স্থান খুবই পছন্দ। ঘন করে গাছ লাগালে, জমিতে অধিক নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করলে, জমিতে পর্যাপ্ত আগাছা থাকলে এবং সব সময় জমিতে পানি জমে থাকলে এ পোকার আক্রমণ বেশি হয়।

বাদামি গাছফড়িংয়ের প্রাকৃতিক শত্রু: এমন অনেক বন্ধু পোকামাকড় আছে যেগুলো ধানের জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই গাছফড়িং দমন করে থাকে। বাদামি গাছফড়িংয়ের যেসব প্রাকৃতিক শত্রু আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মাকড়সা, মিরিডবাগ, লেডিবার্ড বিটল, ক্যারাবিড বিটল, ড্যামসেল ফ্লাইয়ের বাচ্চা, মাইক্রোভেলিয়া, মেসোভেলিয়া ইত্যাদি পরভোজী। ব্যাঙ বাদামি গাছফড়িংকে দমিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

দমন ব্যবস্থাপনা: জমিতে আলোক ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে। চারা রোপণের দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে হবে। থোড় আসার আগ পর্যন্ত আক্রান্ত জমিতে হাঁস ছেড়ে দিলে পোকা কিছুটা দমন করা যায়। লাইন ও লোগো পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ করতে হবে। উর্বর জমিতে ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে। জমি আগাছামুক্ত রাখা প্রয়োজন। আক্রান্ত জমি থেকে ৫-৬ দিনের জন্য পানি বের করে দিয়ে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা দূর করতে হবে।

জমির অধিকাংশ গাছে যদি ৩-৪টি পেট মোটা ডিমওয়ালা পূর্ণবয়স্ক বাদামি গাছফড়িং বা ৮-১০টি নিম্ফ অথবা উভয়ই দেখতে পাওয়া যায় তাহলে যেকোনো একটি অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। কীটনাশক অবশ্যই গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৯, ২০২১ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
বুড়িরহাট হর্টিকালচারের আয় ছাড়িয়েছে ৩০ লাখ টাকা
কৃষি বিভাগ

রংপুরে উদ্যান ফসলের সম্প্রসারণ ও পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টার। দিন দিন উৎপাদিত চারার বিপণন ও বিক্রি বাড়ছে। এতে সরকারের রাজস্ব খাতে বেড়েছে বার্ষিক আয়। অতিমারি করোনার মধ্যেও গেল দুই অর্থবছরে বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারে রাজস্ব আয় ৩০ লাখ টাকা।

জানা যায়, ২০০১-০২ অর্থবছরে যেখানে আয় ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪০ টাকা। বর্তমানে (২০২০-২১ অর্থবছর) তা বেড়ে ১৭ লাখ ৫ হাজার ৪১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুধু আয়ই বাড়েনি, সময়ের ব্যবধানে এই সেন্টারে চারা উৎপাদন, কলম ও সংরক্ষণপ্রক্রিয়ায় ব্যাপকতা এসেছে। ২০ বছর আগে যেখানে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ৭৮ হাজার ৩২৯ ছিল। এখন তা পৌঁছেছে ২৭ লাখ ৮ হাজার ১৮১-তে।

রংপুর শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টার। গঙ্গাচড়া উপজেলার আরাজী নিয়ামত গ্রামে সাড়ে ২১ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। সুদীর্ঘকাল থেকে এখানে হয়ে আসছে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা। এখানে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ফসলের জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি ফলদ, বনজ, ঔষধি গাছের চারা কলম ও রোপণ করা হয়।

এখান থেকে উৎপাদিত চারা ও বীজ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এতে দেশের কৃষি, ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চাহিদা অনেকাংশই পূরণ হচ্ছে এখান থেকে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও থেমে নেই বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের কার্যক্রম। উন্নত জাতের ফলের চারা, কলম, বীজ উৎপাদন ও বিতরণ এবং জনপ্রিয়করণে সংশ্লিষ্ট সবাই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত। পাশাপাশি উদ্যান বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহযোগিতা এবং উন্নত জাতের ফল ও সবজির প্রদর্শনী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সবুজাভ এই হর্টিকালচার সেন্টারটি দেশি-বিদেশ গাছগাছালি, চারা আর ফুলে-ফলে ভরা। আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কামরাঙা, জাম্বুরা, জলপাই, পেঁপে, ডালিম, আমলকী ও সুপারিগাছের চারার ছড়াছড়ি সেন্টারে। রয়েছে লটকন, জাবাটিকাবা, আতা, শরিফা, চালতা, কাজুবাদাম, নাশপাতি, ত্বীন, স্ট্রবেরি, পেপিনোমিলনের চারা।

পুরো উদ্যানজুড়ে শোভাবর্ধনকারী গাছের সঙ্গে দোল খাচ্ছে প্রস্ফুটিত বাহারি রঙের ফুল। পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর প্রজাপতির ওড়াউড়িও ফুটিয়ে তুলেছে বাড়তি সৌন্দর্য। উদ্যান কর্মকর্তা, কর্মচারী, মালিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা তরুণ উদ্যোক্তাদের তথ্য প্রদানের পাশাপাশি এই উদ্যানের উপপরিচালক নিজেই তাদের হাতে-কলমে গাছগাছালি দেখিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের আয়তন ২১ দশমিক ৫০ একর। এর মধ্যে সাড়ে ১৩ একর জমিতে স্থায়ী মাতৃবাগান রয়েছে। ৩ দশমিক ১ একর জমিতে নার্সারি এলাকা। এ ছাড়া সেন্টারে পুকুর, বাঁশবাগান, সেচ ও নিষ্কাশন নালা, নার্সারি শেড, রাস্তা, ডরমিটরি, অফিস, আবাসিক এলাকা, গ্যারেজ, পার্কিং এলাকা রয়েছে। বিশাল এই সেন্টারে ফল, সবজি, ঔষধি, মসলা, ফুল ও শোভাবর্ধনকারী চারা, কলম ও বীজ উৎপাদন করা হয়ে থাকে।

কৃষকদের লাভবান করা, পুষ্টিচাহিদা পূরণ ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি গবেষণামূলক এ প্রতিষ্ঠানটি। গেল অর্থবছরে এই হর্টিকালচার সেন্টার থেকে ৩১টি ব্যাচে ৯০০ জন কৃষক ও বাগান উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অন্তত ৯ হাজার জন নিয়মিত সেবার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শমূলক সেবা পেয়েছেন।

এ ছাড়া হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যোগে উদ্যান পরিদর্শন ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ১৪ জাতের আম ও ৪ জাতের লিচু ছাড়া মাশরুম, কমলা, লটকন কলম, জাম্বুরা কলম, জামরুল কলম, লেবু কলম, পেয়ারা কলম, মাল্টা কলম ও কার্টিং ড্রাগন ফলের চাহিদা বেশি।

বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. আফতাব হোসেন জানান, বারো মাস ফল দেবে, এটা নিয়ে আমরা গুরুত্বসহকারে কাজ করছি। বিশেষ করে আম, লিচু, মাল্টা ও কমলার নতুন নতুন দেশি-বিদেশি জাত সংগ্রহ করেছি। একসময় আমাদের দেশে কমলা ও মাল্টা আবাদ হতো না। অথচ আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে মাল্টাকে আর বিদেশি ফল বলার সুযোগ থাকবে না। এটি দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশি ফলে পরিণত হবে। দুই থেকে চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মাল্টা বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

বিদেশি বিভিন্ন জাতের কমলার মাতৃগাছ রোপণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও জানান, হর্টিকালচার সেন্টারে দার্জিলিং, ছাতকি ও বারোমাসি ভিয়েতনামি কমলার জাত রয়েছে। শিগগিরই এসব মাতৃগাছ থেকে কলম উৎপাদন করা হবে। রংপুর অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় এসব কমলার চারা পৌঁছে গেলে দ্রুত এর সুফলও পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৮, ২০২১ ৪:১৭ অপরাহ্ন
আম নিতে চায় রাশিয়া, সার চায় বাংলাদেশ
কৃষি বিভাগ

রাশিয়া থেকে জিটুজি ভিত্তিতে ডিএপি ও পটাশিয়াম সার আনতে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) স্বাক্ষরের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে আম নেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভি মান্টিটস্কি।

বুধবার কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাক্ষাৎকালে দুপক্ষ এ আগ্রহের কথা জানায়।

এ সময় বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, সদস্য পরিচালক (সার ব্যবস্থাপনা) ড. একেএম মুনিরুল হক, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শরীফা আহমেদ, ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাসের অ্যাটাচে খানুভা আমাতুলা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে কৃষকদের ডিএপি সার ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার চার দফা সারের দাম কমিয়েছে। ডিএপির দাম ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে কেজিপ্রতি ১৬ টাকা করা হয়েছে। ফলে ডিএপি সারের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। আমরা রাশিয়া থেকে ডিএপি ও পটাশিয়াম আমদানি করতে চাই এবং এ ব্যাপারে একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) স্বাক্ষর করতে চাই।

এ ছাড়া বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে রাশিয়াকে আলু আমদানির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, আলুকে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত ও নিরাপদ করতে বাংলাদেশ সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশে এখন অনেক উন্নতমানের আলু উৎপাদিত হচ্ছে। রাশিয়া আলু আমদানি পুনরায় শুরু করতে পারে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র। স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি— আমাদের এ সম্পর্ক অটুট থাকবে। ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভি মান্টিটস্কি বলেন, বাংলাদেশের আম অত্যন্ত সুস্বাদু ও উন্নত মানের। রাশিয়াতে এ আম রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আম নিতে রাশিয়ার আগ্রহ রয়েছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানেও রাশিয়া প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে বলে জানান রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভি মান্টিটস্কি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৭, ২০২১ ৯:২৩ পূর্বাহ্ন
বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পে আমন আবাদের সুবিধা পাচ্ছে কৃষক
কৃষি বিভাগ

নীলফামারী জেলায় র অনাবৃষ্টির দুর্যোগে আমন আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। সেই ধকল কাটিয়ে ১৫ হাজার কৃষকের আমন আবাদের সুযোগ করে দিয়েছে বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প। দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ থাকা প্রকল্পটি থেকে এবার সেচ সুবিধা পেয়ে আমন চারা রোপণ এবং পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এসব কৃষক।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ ছিল প্রকল্পটির কার্যক্রম। সে মামলার সমাপ্তি ঘটলে অনাবৃষ্টির এ দুূর্যোগে বিশেষ ব্যবস্থায় এবার চালু করা হয় সেচ কাজ। বর্ষার এ সময়ে যে পরিমান বৃষ্টির প্রয়োজন জেলায় এবার তার অর্ধেকও পাওয়া যায়নি। ফলে চলতি আমন আবাদে অনাবৃষ্টির ধকল থেকে রক্ষা পেয়েছে ১৫ হাজার কৃষক।
গতকাল ওই প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে কৃষকের ব্যস্ততা। সেচের পানিতে অনেকেই ব্যস্ত আমন চারা লাগানোর কাজে। কেউবা ব্যস্ত পরিচর্যায়।

বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এস আর শফিক সাদিক জানান,‘দীর্ঘ ১০ বছর পর এ প্রকল্পে প্রায় আট হাজার একর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে জলঢাকা ও ডিমলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার কৃষক এ সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। এর আগে প্রয়োজনীয় পানির অভাবে এলাকার অনেক জমি পতিত থাকতো। ওইসব জমিতে তামাক, ভুট্টা ছাড়া অন্য কিছু আবাদ হতো না। এবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড সেচ সুবিধার জন্য কৃষকদের কাছ থেকে কোনো সার্ভিসচার্জ নিবেন না বলে জানিয়েছেন। এলাকাবাসী এ সুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।’

তিনি জানান, এর আগে এ প্রকল্পের জলাধার ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতে মামলা হয়। এ কারণে দীর্ঘ ১০ বছর প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ক্যানেলের বিভিন্ন অংশে কিছু ত্রুটি দেখা দিলে স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছায় তা সংস্কার করে তাদের জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিৎ করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১১ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রায় দেশের প্রথম বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ১৯৬০ সালে। এজন্য জলঢাকা উপজেলার কালিগঞ্জ নামক স্থানে ১৯৬৭ সালে ব্যারেজ নির্মাণ কাজ শেষ করে অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ করা হয় ১৯৮৩ সালে। এতে ব্যয় হয় ৫৪ লাখ ১১ হাজার টাকা ।

সেচ সুবিধা প্রদানে ২১৭ একর জলধার, ১০ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার প্রধান সেচ খাল ও ২৯ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার শাখা সেচ খাল নির্মাণ করে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১০ সালে প্রকল্পের জলাধারটি মাছ চাষের জন্য তুসকা রিসোর্সেস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান মাছ চাষের জন্য লীজ গ্রহণ করলে বন্ধ হয় ওই সেচ কাজ। পরবর্তীতে ওই লীজ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের হলে সেটি নিস্পত্তি হয় ২০২০ সালের ১৫ মে। এ সময়ে বন্ধ থাকা প্রকল্পটি পুণরায় চালু করা হয় চলতি বছরের ২৮ জুলাই।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৗশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা জানি আমন মৌসুমে উত্তরাঞ্চলে যে পরিমান বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল তার অর্ধেক পরিমানও হয়নি। সে কারণে কৃষকেরা আমন চারা রোপণ করতে পারছিলেন না। আমরা কৃষকদের চাহিদার কথা চিন্তা করে সামান্য কিছু সংস্কার কাজ সেরে সেচ সুবিধা প্রদান করছি। কৃষকরা এখন সেচের পানি ব্যবহার করে আমন চারা রোপণ করছেন।’

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop