৭:১২ অপরাহ্ন

শনিবার, ২ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অগাস্ট ১০, ২০২১ ৬:১৫ অপরাহ্ন
বীজ বপনের ২ মাসেই ফলছে ক্রাউন তরমুজ
এগ্রিবিজনেস

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বাপার্ড) প্রদর্শনী প্লটে ধরেছে গোল্ডেন ক্রাউন জাতের মারোমাসি তরমুজ। বাপার্ডে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ বিভাগের আওতার সমন্বিত কৃষি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১০ শতাংশ আয়তনের প্রদর্শনী প্লটে পরীক্ষামূলকভাবে গোল্ডেন ক্রাউন জাতের এ বারোমাসি তরমুজ চাষ করা হয়।

২ মাস আগে জমি প্রস্তুত করে এই গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজের বীজ বপন করা হয়। বীজ বপনের ২ মাসেই গাছে ফল আসা শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক বাপার্ডের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব শেখ মো. মনিরুজ্জামান এ প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করেন। তিনি বাপার্ডের মাধ্যমে এই গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষিদের মাঝে সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাপার্ডের কৃষি বিভাগকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

শেখ মো. মনিরুজ্জামান জানান, বাড়ির আঙ্গিনা, মাছের ঘেরপাড়সহ স্বল্প জায়গায় এই গোল্ডেন ক্রাউন জাতের বারোমাসি তরমুজ চাষ করা সম্ভব। তাই এই জাতের তরমুজ চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে আমরা আগামীতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

বাপার্ডের কৃষি বিভাগের পরিচালক কৃষিবিদ মো. মাহমুদুন্নবী জানান, গোল্ডেন ক্রাউন জাতের এ তরমুজ সারা বছর চাষ করা যায়। ভিটামিনস, মিনারেলস ও এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সুমিষ্ট এবং সুস্বাদু এ তরমুজ চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১০, ২০২১ ১১:১২ পূর্বাহ্ন
পীরগঞ্জে গ্রীণলেডী পেঁপে চাষে চমক দেখিয়েছেন আলতাফ 
কৃষি বিভাগ

গ্রীনলেডী’ পেঁপে চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্যে লাভের আশায় দিন গুনছে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় রাজারামপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন প্রধান। সে ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মরহুম তালিম উদ্দিন প্রধানের পুত্র। প্রথম বছরই চলতি মৌসুমে ১লাখ টাকা খরচ মিটিয়ে ৫০ হাজার টাকা লাভের মুখ দেখেন।

পেঁপে চাষ করার ব্যাপারে তিনি জানান, পীরগঞ্জ শাহ্ আব্দুর রউফ কলেজের প্রভাষক সোহেল রানা গত বছর পেঁপে কেনার জন্য বাজারে গিয়ে ৪০ টাকা কেজি দরে কিনে মানসিকভাবে পেঁপে চাষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ইউটিউবে ভিডিও দেখে ভালো জাতের চারার সন্ধানে নামলে মিঠাপুকুর উপজেলার নাসিফ নার্সারী থেকে ৩৩০টি চারা কিনে কৃষি বিভাগের সহায়তা ছাড়াই নার্সারী মালিকের পরামর্শে ৩০ শতক জমিতে জৈব সার ছয় মণ, প্রয়োজনীয় টিএসপি, পটাশ, ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে ওই বছরেই নভেম্বর মাসে আলু রোপণ করে ৫ফিট দূরত্ব বজায় রেখে এবং এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব ৭ ফিট বজায় রেখে ৩৩০ টি পেপে চারা রোপণ করা হয়।

এছাড়াও জমির চারপাশে মিশ্র ফসল হিসেবে মরিচ ঢেঁরস, চিচিঙ্গা, ওল রোপণ করে পরিচর্যা শুরু করে। এরই মধ্যে পেঁপে গাছে আশাতীত ফুল দেখা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের খেজমতপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামছুজ্জামানের পরামর্শক্রমে মাসে দুইদিন করে ছত্রাক নাশক ওষুধ স্প্রে করেন। বর্তমানে পেঁপের ওজনে গাছ ভেঙ্গে পড়ার আশংকা করছেন কৃষক। তিন বছরের ফসলে প্রথম বছরই সব খরচ মিটিয়ে ৫০ হাজার টাকা লাভের মুখ দেখেছেন পেঁপে চাষি আলতাফ।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামান জানান, পেঁপে চাষি আলতাফ হোসেনকে উপসহকরী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে পরামর্শ দিয়ে আসছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৭, ২০২১ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
কলাপাড়ায় তরমুজের ফলন ভালো হলেও শঙ্কায় চাষিরা
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় মালচিং পদ্ধতিতে মৌসুম ছাড়া বারি-১ ও বারি-২ জাতের উদ্ভাবিত তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন করেছে কুমিরমারা গ্রামের তিন তরমুজ চাষি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিন্সটিটিউটের প্রাথমিক প্রদর্শনী উৎপাদন হিসেবে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামে এই প্রথম জাকির গাজী, ওমর ফারুক ও হান্নান গাজী নামে তিন কৃষক মালচিং পদ্ধতিতে মৌসুমী তরমুজ চাষ শুরু করেন।

কুমিরমারা গ্রামের তরমুজ চাষি ওমর ফারুক জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিটিউটের সহযোগিতায় এই প্রথম আমি ৬৬ শতাংশ জমিতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করি। শুরু থেকে গাছের বেড়ে ওঠা, ফল ধারণ ও ফলের বেড়ে উঠা সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। অল্পকিছু স্থানের তরমুজের অপরিপক্কতা আসলেও ৯০ শতাংশ তরমুজের বয়স মাত্র ২১ দিন তার মধ্যেই গাছের গোড়ায় পানি জমে গাছগুলো মরতে শুরু করেছে।

তরমুজ চাষি জাকির গাজী জানান, আমরা নীলগঞ্জের চাষিরা এই প্রথম প্রায় একশ শতাংশ জমিতে মৌসুম ছাড়া তরমুজ চাষ করি। আমাদের এই ইউনিয়নে সর্বমোট ১২টি স্লুইস গেট রয়েছে কিন্তু তার মধ্যে ৮ টি স্লুইসের গেট নষ্ট তাই পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এই নিয়ে আমরা কৃষকরা একাধিকবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি গেটগুলো সংস্কার করার জন্য কিন্তু কেউ দৃষ্টিপাত করে না। এইবার আমরা কমপক্ষে আট-দশ লাখ টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি করতে পারতাম কিন্তু এখন খরচও উঠবে না।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার এ আর এম সাইফুল্লাহ জানান, আমরা প্রতিনিয়তই তাদেরকে তদারকি করে আসছি, তরমুজ গাছগুলো ছোট থাকলে এই জলাবদ্ধতায় কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু এখন তরমুজের বয়স ২১-২২ দিন, এই মুহূর্তে তরমুজগুলো অপরিপক্ক তাই ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিটিউটের পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, বাংলাদেশ সরকারকে প্রতি বছর প্রায় ২০০ কোটি টাকার উপরে চীন, জাপান, থ্যাইল্যান্ড ও ভারত থেকে তরমুজের বীজ আনতে হয়।

আমরা এই বীজগুলো দেশে উৎপাদন করার জন্য ২০১৪ সাল থেকে গবেষণা শুরু করি। ২০২০ সালের জুলাই মাসে এগুলো অবমুক্ত করতে সক্ষম হই, এই বছরও জেলার বেশ কিছু স্থানে আমরা নিজেরা মৌসুম ছাড়া তরমুজের বীজ থেকে চারা করি। পরে চারাগুলোকে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেই বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৬, ২০২১ ৩:২২ অপরাহ্ন
নার্সারি করে ঘুরে দাঁড়াল গাইবান্ধার ২‘শ উদ্যোক্তা
কৃষি বিভাগ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায়  খোর্দ্দকোমরপুর ও ভাতগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর, বুজরুক পাকুরিয়া, কিশামত দুর্গাপুর ও তরফ জাহান গ্রামে শত শত নার্সারিতে সবুজের সমাহার। চারা বিক্রি ও পরিচর্যায় ব্যস্ত মালিক-শ্রমিকরা। এমনিভাবে নার্সারি করে নিভৃত গ্রামের ২০০ জন উদ্যোক্তার ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। এসব নার্সারিতে ফলজ বৃক্ষের মধ্যে রয়েছে তিনফল, ড্রাগন, রামবুটান, এভোকাডো, পিচ, আপেল, আঙুর ইত্যাদি।

জানা যায়, ১৯৮৫ সালে ভাতগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মফসেল মেম্বর নামের এক কৃষক প্রথমে ৫০ শতক জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নিয়ে নার্সারি ব্যবসা শুরু করেন। এখান থেকে লাভের মুখ দেখেন তিনি। ধীরে ধীরে তার নার্সারির পরিধি বাড়তে থাকে। তার সাফল্য দেখে গ্রামের আরও প্রায় অর্ধশত উদ্যোক্তা নার্সারি গড়ে তোলেন। নার্সারি ব্যবসায় লাভবান হয়েছেন তারাও।

ওইসব উদ্যোক্তাকে অনুসরণ করে পার্শ্ববতী খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের বুজরুক পাকুরিয়া, কিশামত দুর্গাপুর ও তরফ জাহান গ্রামে গড়ে উঠেছে আরও প্রায় ১৫০টি নার্সারি। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নার্সারির চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে এখানকার উদ্যোক্তারা স্বাবলম্বী হয়েছেন।

এসব নার্সারিতে ফলজ বৃক্ষের মধ্যে রয়েছে তিনফল, ড্রাগন, রামবুটান, এভোকাডো, পিচ, আপেল, আঙুর ইত্যাদি।ফুলের মধ্যে রয়েছে ক্রিসমাস্টি, এটোলিয়াম, নাইটকুইন, এ্যারোমেটিক জুঁই, করবীসহ আরও হরেক রকম চারা। ঔষধির মধ্যে অর্জুন, আমলকি, হরিতকি, বহেরা, নিম, জয়তুন ও পাথরকুচিসহ নানা প্রজাতির চারা দেখা যায় নার্সারিতে।

কাঠবৃক্ষের মধ্যে আছে বেলজিয়াম, মেহগনি, সেগুন ও রেইন্ট্রি চারা। মসলা জাতের মধ্যে তেজপাতা, দারুচিনি, গোলমরিচ, লবঙ্গ। একইসঙ্গে শোভাবর্ধনজাতীয় চারার মধ্যে রয়েছে ক্যাকটাস, ছাকুল্যান্টম, পাতাবাহার, এ্যারোলিয়া প্রভৃতি। এছাড়া আরও বেশকিছু জাতের চারা দুলছে নার্সারিগুলোতে।

সাদুল্লাপুর-ঠুটিয়াপুকুর সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অধিকাংশ নার্সারি। পথের ধারে নার্সারির চারা যেন শোভাবর্ধন হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এতে করে দৃষ্টি কাড়ছে পথচারীদের। খানিকটা প্রাণ জুড়াতে কেউ কেউ ঘুরে দেখেন, আবার কেউবা কিনে নিচ্ছেন নানান জাতের চারা।।

সাদুল্লাপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইউনুছ আলীর দাবি, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করছেন তারা। তিনি মনে করেন, নার্সারি ব্যবসা বেশ লাভজনক। কেউ পরিকল্পনামাফিক নার্সারি করলে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৫, ২০২১ ১০:০৩ অপরাহ্ন
পরিত্যক্ত স্থানে সবজি চাষে বাড়তি আয় করছেন আমিনা বেগম
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাট পাঁচবিবি উপজেলার কড়িয়া গ্রামের আমিনা বেগম বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত স্থানে সবজি চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা এক ইঞ্চি জায়গাও যেন পতিত না থাকে, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও এ ঘোষণা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ’জাকস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সার, বীজসহ আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পাঁচবিবি উপজেলার কড়িয়া গ্রামের আমিনা বেগম বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত ৩ শতাংশ জমিতে নানা জাতের সবজি চাষ করেন। এরমধ্যে রয়েছে লালশাক, কলমি, পুঁই, ঢেঁড়স, শসা ইত্যাদি। বাজারেও যেতে হয়না, অনেক সময় জমি থেকেই বিক্রি হয় সবজি। এতে সংসারের জন্য সবজির চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন বলে জানান, আমিনা বেগম। এবার শুধু কলমি শাক বিক্রি করে ২ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়তি আয় হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিবেশী মাহমুদা বেগম জানান, সবজি চাষে আমিনা বেগমর সফলতা দেখে আমরাও সবজি চাষ করছি।

জাকস ফাউন্ডশনের নির্বাহী পরিচালক মো: নূরুল আমিন জানান, এক ইঞ্চি জায়গাও যেন পতিত না থাকে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা বাস্তবায়নে বসত বাড়িতে সবজি প্রদশর্নীর আওতায় এবং পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের দিক নির্দেশনায় বাড়ির পাশে পতিত জমিতে সবজি চাষে গ্রামীণ পর্যায়ে নারীদের সার, বীজসহ আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৫, ২০২১ ৩:০০ অপরাহ্ন
কাসাভা চাষে লালমাই পাহাড়ের অর্থনীতি
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লার জেলার লালমাই পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষ হচ্ছে ‘কাসাভা’। প্রথম দিকে সীমিত আকারে চাষ হলেও দিন দিন ব্যাপকহারে এ পাহাড়ে সম্প্রসারণ হচ্ছে কাসাভার চাষ।

পাহাড় এলাকায় এটি ‘কাঠ আলু’ বা ‘ঠেংগা আলু’ নামে বেশ পরিচিত। দীর্ঘ বছর ধরে পাহাড়ে চাষ হয় আলু জাতীয় এ উদ্ভিদটি। এটি বেকারি সামগ্রী এবং ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে কাসাভা চাষে লালমাই পাহাড়ের অর্থনীতি ও চাষিদের জীবনমান বদলে যেতে পারে বলে জানান কৃষিবিদরা।

জানা যায়, লালমাই পাহাড়ের সালমানপুর, কোটবাড়ি, হাজীর খামার, জামমুড়া, লালমাইসহ বিভিন্ন এলাকায় কাসাভা ফসল তোলায় ব্যস্ত কৃষক। কৃষকের হাতের টানে লালমাটি থেকে উঠে আসছে খয়েরি রঙের কাসাভা। তা পরিষ্কার করে তুলে দেয়া হচ্ছে ট্রাকে। মূলত গাছের শিকড়টা কাসাভায় রূপান্তরিত হচ্ছে।

লালমাই পাহাড়ের সদর দক্ষিণ উপজেলার জামমুড়া গ্রামের কৃষক মো. মোকসেদ আলী জানান, তার বংশধররা কয়েক যুগ ধরে এখানে কাসাভা চাষ করে আসছেন। তিনি এ পাহাড়ে ১৩ বছর ধরে কাসাভা চাষ করছেন। এ বছর ৫১ একর জমিতে কাসাভা চাষ করেছেন। প্রতি একরে ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। ভালো ফলন হলে প্রতি একরের ফসল ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারেন।

তিনি আরো জানান, লালমাই পাহাড়ে কাসাভার ভালো ফলন হয়। তবে এর ক্রেতা কম। এক-দুটি কোম্পানি এটি সংগ্রহ করে। কোম্পানি যে দাম দেয় তা নিয়েই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়। কৃষি বিভাগ এগিয়ে এসে বাজারজাত করার বিষয়টি সম্প্রসারণ করলে কৃষকরা ভালো লাভ পেত এবং কাসাভায় বদলে যেত চাষিদের জীবনমান ও পাহাড়ের অর্থনীতি।

কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা যায়, প্রতি একর জমি থেকে ৬-৭ টন কাসাভা পাওয়া যায়। কাসাভা দিয়ে গ্লুকোজ, বার্লি, সুজি, রুটি, নুডলস, ক্র্যাকার্স, কেক, পাউরুটি, বিস্কুট, পাপড়, চিপসসহ নানা খাদ্য তৈরি করা যায়। এছাড়াও কাসাভা থেকে উৎপাদিত স্টাচের (মাড়) ব্যবহার হয় বস্ত্র ও ওষুধ শিল্পে। এর পাতা ও অবশিষ্ট অংশ দিয়ে জৈবসার তৈরি হয়। পোশাক শিল্প, ওষুধ শিল্প এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে প্রতি বছর সাড়ে ৩ লাখ টন স্টার্চ প্রয়োজন। কিন্তু দেশে বছরে উৎপাদন হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টন। বাকিটুকু ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন মজুমদার জানান, লালমাই পাহাড়ে কাসাভার ভালো ফলন হয়। কাসাভা গাছের কান্ড ছোটো ছোটো টুকরো করে রোপণ করা হয়। এর আট-নয় মাস পর মাটি খুঁড়ে তোলা হয় আলু। কাসাভার গাছের মূলই আলু হিসেবে ব্যবহার হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৫, ২০২১ ২:২৬ অপরাহ্ন
অপসংস্কৃতিরোধে শহীদ শেখ কামালের আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, দেশে যুবসমাজের অবক্ষয় ও অপসংস্কৃতিরোধে শহীদ শেখ কামালের আদর্শ ও চেতনাকে তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। শেখ কামাল ছিলেন অনন্য ক্রীড়া সংগঠক, যিনি খেলাধুলায় নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বিভিন্ন খেলাধুলায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারত।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ধানমণ্ডিতে আবাহনী ক্লাব মাঠে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র, ক্রীড়া সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শেখ কামাল ছিলেন অত্যন্ত সৃজনশীল ও সংস্কৃতি অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘স্পন্দন’ গঠন করেছিলেন। একাধারে তিনি ছিলেন রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও দেশপ্রেমিক। তিনি ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর আদর্শ ও চেতনা ধারণের জন্য দেশের তরুণ যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। তাঁর আদর্শে তরুণদেরকে খেলাধুলায়, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করতে হবে। এটি করতে পারলে অবক্ষয় ও অপসংস্কৃতি রোধ করে দেশের তরুণসমাজকে আদর্শবান করে গড়ে তোলা যাবে।
আবাহনী সমর্থকগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসময় আবাহনী সমর্থকগোষ্ঠীর সভাপতি মো: জিল্লুর রহমান, উপদেষ্ঠা কাজী আব্দুল হাকিম, বরকত-ই-খুদা, মির্জা ফজলুল হক, সৈয়দ বেলায়েত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের কিছু তথাকথিত সেলিব্রেটিরা সমাজে অপসংস্কৃতি ছড়াচ্ছে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ড দিয়ে তরুণ সমাজ ও জাতিকে তারা বিভ্রান্ত করছে। তাদের মুখোশ উন্মোচনে কঠোর অভিযান চলছে। অপসংস্কৃতিরোধে এ অভিযান চলমান থাকবে।
‘ভুঁইফোড় সংগঠনের কোন জায়গা আওয়ামী লীগে নেই’ উল্লেখ করে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. রাজ্জাক আরও বলেন, ‘ন্যায় ও সততার পথে থেকে দল করতে হবে। এটিই আওয়ামী লীগের ভিত্তি। যে দল একটি দেশ গঠন করেছে, সারা পৃথিবীর বুকে একটি নতুন জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে; যে দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে সকল আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে- সেই দলে ভুঁইফোড় সংগঠনের কোন জায়গা নেই’।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৪, ২০২১ ২:৪৩ অপরাহ্ন
কৃষিপণ্য কেনাবেচার মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধন
কৃষি বিভাগ

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষিপণ্য কেনাবেচার মোবাইল অ্যাপ ‘সদাই’ এর উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী এ কথা বলেন। অ্যাপ ‘সদাই’ বাস্তবায়ন করছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য কেনাবেচায় ‘সদাই’ অ্যাপটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ অ্যাপটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস, কৃষিপণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতে কাজ করবে। একইসাথে, ভোক্তাররা যাতে না ঠকে, প্রতারণার শিকার না হয় এবং নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত পণ্য পায়-তাতে অ্যাপটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ধান,গম,ভুট্টা, শাকসবজি, ফলমূলসহ সকল কৃষিপণ্যের উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, উৎপাদনে বিস্ময়কর সাফল্য এসেছে। এসব উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বিপণনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকেরা যে পণ্য উৎপাদন করে তা অনেক সময় বাজারজাত করতে পারে না, সঠিক মূল্য পায় না। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের পাশাপাশি ভোক্তার সঠিক মূল্যে, নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত পণ্য কেনার নিশ্চয়তাও দিতে হবে। এ লক্ষ্যে ‘সদাই’ অ্যাপটি কাজ করবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল বক্তব্য রাখেন। এসময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পিপিসি) মো: রুহুল আমিন তালুকদার, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ উপস্থিত ছিলেন। সদাই অ্যাপের পরিচিতি তুলে ধরেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বায়েজীদ বোস্তামী।
‘সদাই’ সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রথম কৃষি বিপণন অ্যাপ। এর ভাষা বাংলা। এটির মাধ্যমে কৃষক ও ভোক্তার সরাসরি যোগাযোগ হবে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ‘সদাই’ প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হওয়া কৃষিপণ্যের গুণগত মান ও ক্রয়বিক্রয় মনিটরিং করবে। পণ্যসমূহের উপযুক্ত দাম নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তার নিবন্ধন বাতিল করবে। অভিযোগ প্রতিকারের ব্যবস্থা ও অধিদপ্তর পরিচালিত কল সেন্টার থাকবে।
কৃষক ও উদ্যোক্তাগণ ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করে কমিশনবিহীন বিক্রির সুযোগ পাবে। মোবাইল ব্যাংকিং পেমেন্ট এবং ক্যাশ অন ডেলিভারি পেমেন্টের সুযোগ পাওয়া যাবে। মূল্য যাচাইয়ের সুযোগ ও অর্ডারকৃত পণ্যের ট্র্যাকিং সুবিধা রয়েছে। অধিদপ্তর কৃষক ও উদ্যোক্তাগণকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। ক্ষেত্র বিশেষে কৃষিপণ্য পরিবহণ সুবিধা পাওয়া যাবে।
ভোক্তা ও উদ্যোক্তাদার জন্য ‘সদাই’ অ্যাপ আলাদা। প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাবে। লিংক: ১) সদাই (ভোক্তা): https://play.google.com/store/apps/details?id=com.dam.sodai

; ২) সদাই (উদ্যোক্তা)-https://play.google.com/store/apps/details?id=com.dam.ku

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৪, ২০২১ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে তাক লাগিয়েছেন জাকির
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সবজিখ্যাত কুমিরমারা গ্রামে গ্রিনহাউস এবং মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে  সাড়া জাগিয়েছেন কৃষক জাকির হোসেন। জাকির সবজি চাষ করে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন এনেছে।

জানা যায়, সবজি চাষ করে সফল হতে জাকিরের দেখানো গ্রিন হাউস ও মালচিং পদ্ধতির সফলতা দেখে আশপাশের চাষিরা আগ্রহী হচ্ছে। কিভাবে আরও উন্নত পদ্ধতিতে সবজির চাষ করা যায় এনিয়ে যেন তার ভাবনার শেষ নেই। শুধু জাকিরই নয় গ্রিন হাউস ও মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে এখানকার কৃষকরা। দেশ বিদেশি বিভিন্ন উন্নতশীল বীজ সংগ্রহ করে এলাকায় মালচিং পদ্ধতিতে রোপণ করে সফলতার ছোয়া পেয়েছেন কৃষকরা।

জাকিরের সফলতা দেখে কুমিরমারা গ্রামের বেশ কিছু কৃষক মালচিং পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করেন। চলতি মৌসুমে এ পদ্ধতিতে লাউ, শসা, করোলা, বোম্বে মরিচ, পেপে, কাঁচা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, টমেটোসহ নানা প্রজাতীর সবজি চাষ করেছেন জাকির হোসেনসহ অনেক কৃষক।

বর্ষা মৌসুমে বাহারি রঙের তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন জাকির। জাকিরের তরমুজ চাষে সফলতা দেখে স্থানীয় কৃষকরা এই বর্ষা মৌসুমে বাহারি রঙের তরমুজ মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সবজিচাষি জাকির জানান, আমি এক সময় রাজমিস্ত্রি ছিলাম। সেখান থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কৃষি কাজ করি। এ বছর আমি ৬ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষে পাঁচ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করি। এই এলাকায় আধুনিক কৃষি আমি সৃষ্টি করি।

এছাড়া স্থানীয় কৃষকদের আধুনিকভাবে কৃষিকাজ করার জন্য উৎসাহ দেই। কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে অনেক ভালো ফসল হবে মনে করেন তিনি। স্থানীয় সবজিচাষি মো. ওমর ফারুক জানান, আমাদের কৃষি পণ্য কলাপাড়া উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হয়। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারণে সবজির ন্যায্য মূল্য পাই না। সরকারিভাবে আমরা আর্থিক সহযোগিতা পেলে আরও ব্যাপক হারে সবজি চাষ করতে পারবো।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ্ জানান, শুধু কুমিরমারা নয়, কলাপাড়া উপজেলার সকল ইউনিয়নে আমরা কৃকদের আধুনিক ট্রেনিং দিয়ে সবজি চাষে উদ্ভুদ্ধ করবো।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৪, ২০২১ ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
রামুতে দরিদ্র কৃষকের ৫ হাজার লেবু গাছ কর্তন
কৃষি বিভাগ

রামুর জোয়ারিয়ানালায় রেঞ্জ কর্মকর্তার দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় কৃষক নজির আহমদের ৫ হাজার লেবু গাছ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে দরিদ্র সেই কৃষকের ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জের আওতাধিন বনাঞ্চলে সোনাইছড়ি খালের তীরে ৫ একর জমিতে ২০ বছর ধরে তিনি চাষাবাদ করে আসছেন।

জানা যায়, ওই এলাকায় একসময় তিনি তরমজু, মরিচ সহ বিভিন্ন সবজি চাষ করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে অপহরণকারি ও ডাকাতদলের উৎপাত বাড়লে তিনি ৮ বছর পূর্বে সেখানে লেবু চাষ শুরু করেন। বর্তমানে সবকটি গাছে লেবুর ফলন আসতে শুরু করেছে। প্রতিটি গাছে ১০০ থেকে ৫০০টি পর্যন্ত লেবু ধরেছে। তার এ সফলতা দেখে বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-হেডম্যান তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতে থাকে।

চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত বৃহষ্পতিবার (২৯ জুলাই) সকালে জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সহ একদল ভাড়াটে লোকজন তার লেবু বাগানে গিয়ে ফলবান এসব গাছ কাটা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা পুরো বাগানের ৫ হাজার লেবু গাছ কেটে দেয়।

নজির আহমদ আরো জানান- জীবনের সব সঞ্চয় ও ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে তিনি তিলে তিলে এ বাগান সৃজন করেছেন। এখন সবকটি গাছ কেটে দেয়ায় তিনি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

এলাকাবাসী জানান-ওই জমিটি খালের তীরে হওয়ায় এলাকার অন্যান্যদের মতো নজির আহমদও চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো। এমনকি সে প্রচুর ব্যাংক ঋন নিয়ে এ বাগান সৃজন করেছেন। কিন্তু বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার অমানবিক আচরণে নজির আহমদ এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এলাকাবাসী এ নির্মমতার বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে লেবু বাগান কেটে সাবাড় করার ঘটনায় অভিযুক্ত জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটু জানিয়েছেন-বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে বাগানটি সৃজন করায় সেটি কেটে দেয়া হয়েছে। আরো যারা এভাবে বন দখল করে বাগান করেছেন তাদের বাগানও উচ্ছেদ করা হবে।

জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স জানিয়েছেন-নজির আহমদের সৃজিত বাগানের বিপুল পরিমান লেবু গাছ কেটে দেয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ ব্যাপারে তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop