৭:১১ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মে ১৬, ২০২১ ১২:০৪ অপরাহ্ন
কুমিল্লায় বোরো’র বাম্পার ফলনে খুশি চাষিরা
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে চলতি বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরো’র বাম্পার ফলনে কৃষকরা খুশি হলেও লকডাউনের কারণে শ্রমিক সঙ্কটের আশঙ্কা করেছেন সেখানকার চাষিরা।

উপজেলার দিশাবন্দ গ্রামে কৃষক মো. আবদুল মান্নান জানান, আমি গত কয়েক বছরের চেয়ে এবছর বেশি জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছি। তিন একর জমিতে প্রায় ৩শ’ মণ ধান হবে বলে আশা করি। ঝড় বৃষ্টি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব হওয়ায় কৃষকরা অতীতের তুলনায় ধান চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার ভৌমিক জানান, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে উপজেলার কৃষি প্রণোদনা ও পুর্নবাসন কর্মসূচির আওতায় সাড়ে ৩ হাজার কৃষকের প্রত্যেককে ২ কেজি করে হাইব্রিড বোরো ধানের বীজ দেওয়া হয়। এক হাজার ১শ’ ৯৫ জন কৃষকের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণ করেছি। উপজেলায় চলতি বছর বোরো ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে তিনি আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৫, ২০২১ ৩:৪৫ অপরাহ্ন
আজ থেকে শুরু রাজশাহীতে মৌসুমের আম পাড়া
কৃষি বিভাগ

প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় শেষ। মওসুমের প্রত্যাশিত রাজশাহীর আম আজ (১৫ মে) গাছ থেকে পাড়া হচ্ছে। প্রথম দিন সব ধরনের গুটি আম পাড়ছেন সেখানকার আম চাষিরা। চাষিরা বলেছেন, এবছর ফলন ভালো।

আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় নামবে গোপালভোগ আম। এর আগে অসময়ে কাঁচা আম পেড়ে কেমিকেল ব্যবহার করে পাকানো রোধ করতে আম পাড়ার ন্যূনতম সময় বেঁধে দেয় প্রশাসন। এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মৌসুম জুড়েই মনিটরিং করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন, রাজশাহীতে এ বছর ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমি থেকে আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন। ঝড়-ঝঞ্ঝার কবলে না পড়লে এ আম দিয়েই দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৫, ২০২১ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
পূর্বশত্রুতার জেরে ঈদের দিনে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল কৃষকের!
কৃষি বিভাগ

নেত্রকোনার মদনে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মো. দিলোয়ার হোসেন দিলু (৪০) নামে এক কৃষকের প্রাণ গেল। নিহত দিলোয়ার ওই গ্রামের আব্দুর রেজ্জাক মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আল আমীনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার(১৪ মে) দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছর জমিতে ধান কাটা নিয়ে নিহত দিলোয়ার ও একই গ্রামের আন্তু মিয়ার ছেলে আল আমীনের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী বিষয়টি মিটমাটও করে।

শুক্রবার দুপুরে দিলোয়ার বাড়ির সামনের মাঠে গরু চড়াতে গেলে অভিযুক্ত আল আমীন তার পেটে ছুরিকাঘাত করে। আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে মদন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই মারা যান তিনি।

ওসি ফেরদৌস আলম জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে আল আমীন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অভিযুক্ত আল আমীনকে নিজ গ্রাম থেকে বিকালে আটক করে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৫, ২০২১ ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লায় তিন সাথী ফসল চাষে তাক লাগিয়েছেন চাষিরা
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি উপজেলায় তিন সাথী ফসলের (ভুট্টা, ধনেপাতা, আলু) আগাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন সেখানকার চাষিরা। তারা ভুট্টা চাষের পাশাপাশি প্রতিটি জমিতে ধনেপাতা ও আলুর চাষ করে রীতিমতো কৃষি অঙ্গনে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি জমিতে আলু ও ধনেপাতার চাষও বেশ ভালো হয়েছে। তিন সাথী ফসলে লাভবান হওয়ায় কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে।

জানা যায়, ওই উপজেলার পাঁচগাছিয়া, দৌলতপুর, জিংলাতলী, মারুকা, মালিগাঁও, বারপাড়া, সুন্দলপুর, হরিপুর, ঢাকারগাঁও, গোয়ালমারী, রাঙ্গাশিমুলিয়া, ডাকখোলাসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠ জুড়ে ভুট্টা আর ভুট্টা। এখন ভুট্টা সংগ্রহের উৎসব চলছে। প্রতিটি বাড়ির উঠানে, ঘরের চালায়, ভবনের ছাদে, স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসা ও মক্তবের মাঠে কৃষাণ-কৃষাণিরা ভুট্টা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউবা ফসলের মাঠে গিয়ে ভুট্টা সংগ্রহ করছেন। কেউ জ্বালানির জন্য ভুট্টার মোচা, ভুট্টার ছোবড়া ও ভুট্টাগাছ সংগ্রহ করছেন।

সেখানকার কৃষকরা জানান, বীজ, চাষ, সার, কৃষিশ্রমিক ও পরিচর্যাসহ একই খরচে জমিতে ভুট্টার পাশাপাশি ধনেপাতা ও আলুর চাষ করা যায়। এতে ভুট্টা চাষের খরচ ধনেপাতা ও আলু বিক্রি থেকে উঠে আসে। এভাবে ভুট্টার আয়ের পুরোটাই তাদের লাভ হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তিন সাথী ফসল (ভুট্টা, ধনেপাতা, আলু) আবাদে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় সব কৃষকই শতভাগ লাভবান হয়েছেন। ভুট্টা আগাম চাষ করা গেলে এবং ব্যবস্থাপনা ভালো হলে উচ্চ ফলন পাওয়া সম্ভব। এ ব্যাপারে আমরা কৃষকদের পরামর্শসহ নানাভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৫, ২০২১ ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
স্বল্প মূলধনে কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী মাকসুদা
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মাকসুদা আক্তার (২৮) কেঁচো সার (ভার্মিকম্পোস্ট) উৎপাদন করে এখন স্বাবলম্বী। এ সারকে ভার্মিকম্পোস্ট বলা হয়। ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন করে ক্রমেই চাষিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন তিনি। স্বল্প মূলধনের এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে চান মানুষের মাঝে। প্রতি মাসে এ সার বিক্রি তিনি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা উপার্জন করছেন।

সম্প্রতি পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামে মাকসুদার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে একচালা টিনের ঘর। ওই ঘরেতে তিনি কেঁচো সার উৎপাদন করে থাকেন। ঘরের মেঝেতে নিজের হাতে বানানো ৫টি মাটির চারি (পাত্র) ও ৬ টি রিং স্লাব রয়েছে।

মাকসুদা আক্তার বলেন, ২০১৫ সালে তিনি কুয়াকাটায় এক উদ্যেক্তার ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন দেখে অনুপ্রাণিত হন। তারপর কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে কিছু কেঁচো সংগ্রহ করে দিতে বলি। ওই সময় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম কিছু কেঁচো সংগ্রহ করে দিলে অল্প পরিসরে ছোট একটা পাত্রে কেঁচো সার তৈরি করি।

তিনি কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছেন। প্রথমদিকে একটু কষ্ট হলেও এখন ভালোই বিক্রি হচ্ছে। কোঁচো সার উৎপাদনে উপকরণ হিসেবে থাকছে কচুরি পাতা, পচা গোবর, খৈর, ডিমের খোসা, মাছের আইস ও শাকসবজির উচ্ছিষ্ট। আমার চারি (পাত্র) বেশ বড় আকারের। প্রতি চারিতে প্রায় ৬ মণ সার রাখা যায়। আমার এখানে কেঁচোর বংশবিস্তার হচ্ছে। তাই বাহির থেকে আমার আর কেঁচো সংগ্রহ করতে হয় না।

তিনি জানান, প্রথমে গোবর সংগ্রহ করে ১০ দিন যাবত পচাতে হবে। গোবরে যদি পানি থাকে তাহলে রোদে শুকাতে হবে। তারপর ওই গোবর ঠান্ডা করে চারিতে (পাত্র) রাখতে হবে। তারপরে কেঁচো দিতে হবে। তারপর কচুরি পাতা, পচা গোবর, খৈল, ডিমের খোসা, মাছের আইস ও শাক-সবজির উচ্ছিষ্ট মিশিয়ে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়।

কেঁচো আবার ছায়া বা অন্ধকার জায়গা পছন্দ করে। এভাবে ১ মাসের মধ্যে তৈরি হয় ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার। আমার এখানে এখন ৩ লাখ টাকার কেঁচো সার রয়েছে। প্রতি কেজি সার ১৫ টাকা করে বিক্রি করি। ১ কেজি কেঁচো ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। এ ছাড়াও কেঁচো ২ টাকা পিচ হিসেবে বিক্রি করি। আমার সংসার ভালোই চলতেছে। ভবিষ্যতে আমার খামারে আরো বেশি পরিমাণ কোঁচো সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আমি ব্লু গোল্ড প্রেজেক্টের আওতার আমি বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।

কিভাবে কেঁচো সার করি তা দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে আমার এ খামার মানুষ আসতেছে। এটা আমার কাছে ভালোই লাগে। আমি চাই নারীরা এগিয়ে আসুক। এ সার উৎপাদন করে আমার মত তারা স্বাবলম্বী হোক। সহজেই কম পুঁজিতে ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হতে পারে। এখন বাজারে রাসায়নিক সারের মান খুবই খারাপ। আবার দামও বেশি। সেখানে ভার্মিকম্পোষ্ট পুরোপুরি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি একটি সার। এ সারের দামও কম। তাই স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সারটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বহালগাছিয়া এলাকার কবির হোসেন জানান, আমাদের এলাকার মাকসুদা ঘরে বসে সার বিক্রি করে টাকা উপার্জন করছে। এটা আমাদের কাছে প্রশংসার। আমরা চাই তিনি আরও বড় উদ্যোক্তা হোক।

কৃষক বাতেন জানান, আমার একটি সবজি বাগান রয়েছে। আমি শুনতে পাই কেঁচো দিয়ে মাকসুদা নামের এক নারী প্রাকৃতিক উপায়ে সার তৈরি করছেন। আমি সেখান থেকে সার নিয়ে এসে সবজি বাগানে দেই। এবার সবজি বাগানে ফলন ভালোই এসেছে। এই সারটি প্রকৃতিক একটা সার কোনো ভেজাল নেই দামও কম।

স্বামী নুরুজ্জামান খান জানান, নারীরা যদি ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করতে পারে তা তো ভালোই। এ সারটি যে কোন নারী তার ঘরে বসে উৎপাদন করতে পারবে। আমি আমার স্ত্রীকে সার তৈরিতে যথেষ্ট সাহায্য করি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ কে এম মহিউদ্দিন বলেন, জৈব পদার্থ হলো মাটির প্রাণ। ক্রমেই মাটির প্রাণ হ্রাস পাচ্ছে তাই আমরা জৈব সার প্রয়োগের উপরে জোর দিচ্ছি। কেঁচো সারে ফলন ভালো হয় এটা প্রমাণিত। তাই আমরা চাষিদের সবজি খেতে ও ফলের বাগানে ভার্মিকম্পোস্ট সার প্রয়োগ করতে বলি।

স্বল্প পরিসরে হলেও এখানে ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হচ্ছে। ভার্মিকম্পোস্টকে কেন্দ্র করে উদ্যোক্তা তৈরির প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের। পাশাপাশি এ জেলাকে ভার্মিকম্পেস্ট সম্পন্ন জেলা হিসেবে পরিণত করা। এ সারের যতই ব্যাবহার বাড়বে ততই ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে আসবে বলে জানান তিনি। সূত্র: জাগো নিউজ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৩, ২০২১ ১:৪৬ অপরাহ্ন
চলনবিলে শুরু পুরোদমে ধান কাটা, স্থাপন কৃষকের অস্থায়ী বসতি
কৃষি বিভাগ

শুরু হয়েছে শস্য ভাণ্ডার খ্যাত চলনবিলে পুরোদমে ধান কাটা। এখানে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে দূরত্ব প্রাং ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার। এই দূরত্বের মাঝেই চাষ হয় ধান। সোনার ফসল ঘরে তুলতে কৃষক “ভাওরে” (স্থানীয় নাম) বসতি শুরু করেছেন। ধান কাটা শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় দুই মাস কৃষক ভাওরে বসবাস করবে।

জানা যায়, এই কিলোমিটারের পর কিলোমিটার দূরে থেকে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে অসম্ভব হয়ে পড়ে। শত কষ্টে ফলানো সোনার ফসল ঘরে তুলতে বাধ্য হয়ে কৃষক মাঠের মধ্যেই স্থাপন করেছে অস্থায়ী বসতি। সবাই এখন ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুধু তাড়াশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২২ হাজার ৩ শ’ ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে।

চলনবিলে বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়, ধান ঘরে তোলার জন্য চলনবিলে ছোট ছোট অস্থায়ী ঘর (ভাওর) তৈরি করা হয়েছে। চলনবিলের বিশাল মাঠের এক কোনায় অস্থায়ী ভাওর (রাত্রিযাপন) তৈরি করা হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাতের মধ্যেই সারারাত এই অস্থায়ী ঘরেই (ভাওর) রাতযাপন করেন কৃষকরা।

এ ছাড়া দিনের বেলাও প্রচণ্ড রোদ, ঝড়-বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সময়ে এই অস্থায়ী ঘরেই আশ্রয় নিয়ে থাকেন ক্লান্ত কৃষক-কৃষাণীরা।

সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া গ্রামের কৃষক আলতাব আলী জানান, ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। বাড়ি থেকে ধানের জমি দূরে হওয়ায় ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য জমির পাশে বিলের মধ্যে অস্থায়ী ভাবে ভাওর তৈরি করে বসতি স্থাপন করেছেন। এখানেই তারা রান্না-খাওয়া ও রাতযাপন করছেন।

চাষিরা আরো জানান, বাড়ি থেকে জমির দূরত্ব হওয়ায় ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বিলের মধ্যে জমির পাশে ভাওর করে অস্থায়ী বসতি করা হয়। অবশ্য এতে কৃষকের শ্রমিক মূল্য অনেকটা সাশ্রয়ী হয় বলে জানান তারা। চলনবিলের কৃষকের রান্না-খাওয়া সব কিছুই এখন বিলেই।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা জানান, চলনবিল এলাকার মাঠগুলো অনেক বড়। বাড়ি থেকে জমির দূরত্ব অনেক। তাই কৃষকরা তাদের সুবিধার্থে ধান কেটে মাড়াই করেন। ধান কাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা বিলেই অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৩, ২০২১ ১০:২৮ পূর্বাহ্ন
ঝালকাঠি সদরে বোরো ধানের শস্য কর্তন উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): সমলয়ে চাষাবাদের আওতায় ঝালকাঠি সদর উপজেলার বংকুরায় ৫০ একরের হাইব্রিড বোরো ধানের শস্য কর্তন উদ্বোধন করা হয়।

মঙ্গলবার উপজেলা কৃষি অফিস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী।

তিনি বলেন, কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে বীজ-সারের পাশাপাশি কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে সহযোগিতা করায় কৃষকরা পতিত জমিতে বোরো ধান চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এর ফলে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কৃষকের উৎপাদন খরচও পাবে হ্রাস। আগামীতে আরও বেশি জায়গায় চাষাবাদের আওতায় এনে কৃষিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি আশা প্রকাশ করেন। মুজিবশতবর্ষে চলতি রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনার আওতায় এমন একটি কর্মসূচি সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের জন্য তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তিনি কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ধান কর্তন প্রত্যক্ষ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবেকুন নাহার।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রিফাত সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শেখেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল অমিন খান সুরুজ, স্থানীয় ইউনিয়নের কৃষকলীগের সভাপতি মো. দিলদার হোসেন নবীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিসহ শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৩, ২০২১ ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
জয়পুরহাটে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
কৃষি বিভাগ

জেলায় চলতি ২০২১-২২ ফসল উৎপাদন মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৯‘শ ৮৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৩ শ ৫০ হেক্টর। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার বেল পাট।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরকারের পাট জাত দ্রব্য ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় পাটের মূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি হিসেবে পাট কাটিকে ব্যবহার ও পাট চাষে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়া এসব কারণে জেলার কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। পাট চাষ সফল করতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে হাতে- কলমে চাষিদের প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের পাট বীজ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সারের মজুদ সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখা সহ অন্যান্য কার্যক্রম।

সূত্রটি আরো জানায়, বিগত এগারো বছরে জেলায় পাট চাষের হিসেবে দেখা যায়, ২০০৯-১০ মৌসুমে জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৯“শ ৬৯ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৯৫ হেক্টর। এতে পাট উৎপাদন হয়েছিল ২৩ হাজার ৭শ ৮০ বেল। এ বছর পাটের মূল্য ছিল ৮শ থেকে ৯শ টাকা মণ। ২০১০-১১ মৌসুমে জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল একই ১ হাজার ৯শ ৬৯ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৬শ ৯২ হেক্টর। এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৪৫ হাজার ৯শ ৫ বেল। এ বছর পাটের মূল্য ছিল বাম্পার ১ হাজার ৫শ টাকা থেকে ২ হাজার ২শ টাকা মণ।

২০১১-১২ মৌসুমে ৩ হাজার ৫শ ৪৫ হেক্টর জমির বিপরীতে চাষ হয় ৪ হাজার ২শ ৯৪ হেক্টর এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৫৩ হাজার ৩শ ৮ বেল। এ বছর পাটের মূল্য ছিল ৮শ থেকে ১ হাজার ২শ টাকা মণ। ২০১২-১৩ মৌসুমে ৩ হাজার ২শ ৪২ হেক্টর জমির বিপরীতে চাষ হয় ৩ হাজার ৩শ ৯৫ হেক্টর এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৪৫ হাজার ১শ ১০ বেল। এ বছর পাটের মূল্য ছিল ১২শ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা মণ। ২০১৩-১৪ মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় ৩ হাজার ৪শ ১৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অর্জিত হয় ২ হাজার ৮শ হেক্টর । এতে পাট উৎপাদন হয়েছিল ২০ হাজার ৮শ বেল।

এ বছর পাটের মূল্য ছিল ১ হাজার ৫শ থেকে ২ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ৩ হাজার হেক্টর জমির বিপরীতে পাট চাষ হয়েছিল ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর। এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ২৬ হাজার ৪ শ বেল। এ বছর পাট বিক্রি হয় প্রতিমণ ১২ শ থেকে ১৮ শ পর্যন্ত। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ২ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমির বিপরীতে পাট চাষ হয়েছিল ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর। এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৩৮ হাজার ৯ শ ২৭ বেল।

এ বছর পাট বিক্রি হয় প্রতিমণ ১৫‘শ থেকে ১৮‘শ পর্যন্ত , ২০১৬-১৭ মৌসুমে ২ হাজার ৯২৯ হেক্টর জমির বিপরীতে পাট চাষ হয়েছিল ২ হাজার ৯১০ হেক্টর। এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৩৯ হাজার ২‘শ ৯১ বেল। এ বছর পাট বিক্রি হয় প্রতিমণ ১৩‘শ থেকে ২ হাজার পর্যন্ত , ২০১৭-১৮ মৌসুমে ২ হাজার ৯১০ হেক্টর জমির বিপরীতে পাট চাষ হয়েছিল ৩ হাজার ১২০ হেক্টর। এতে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৪২ হাজার ৪‘শ ৩২ বেল। এ বছর পাট বিক্রি হয় প্রতিমণ ১২‘শ থেকে ১৮‘শ পর্যন্ত , ২০১৯-২০ মৌসুমে ৩ হাজার ৯৫ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়। সেখানে উৎপাদন হয়েছে ৩৯ হাজার বেল পাট।

এ বছর প্রতিমন পাট বিক্রি হয় ১২‘শ থেকে ২ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত এবং ২০২০-২১ মৌসুমে ৩ হাজার ৯৫ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়। সেখানে উৎপাদন হয়েছে ৩৯ হাজার ৫‘শ বেল পাট। এ বছর প্রতিমণ পাট বিক্রি হয় ১৫‘শ থেকে ২ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ স ম মেফতাহুল বারি বাসস’কে জানান, চলতি ২০২১-২২ ফসল উৎপাদন মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৯‘শ ৮৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৩‘শ ৫০ হেক্টর। এবার বৃষ্টিপাত একটু দেরিতে হওয়ায় পাট চাষ এখনও অব্যাহত আছে। চলতি মৌসুমে ৩৭ হাজার বেল পাট উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১২, ২০২১ ১০:০৭ পূর্বাহ্ন
বগুড়ায় ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা
কৃষি বিভাগ

বগুড়ার কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটায়। কৃষি বিভাগ আশা করছেন এবার সেখানে লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হবে। সবমিলিয়ে এবার বগুড়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনে হাসি কৃষকের মুখে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় বুধবার পর্যন্ত ৭২ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ধানকাটতে বাগড়া দিচ্ছে বৃষ্টি। তবে বৃষ্টি থেমে যাবে। আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে কৃষকরা তাদের বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারবে বলে জানান ,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দুলাল হোসেন।

জেলায় এবার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্র নির্ধারণ করা হয়। যা থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল (চাল আকারে) ৭ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুক’ল থাকায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্র পূর্ণ হওয়ায় বোরোর বাম্পার ফলন হওয়ায় হয়েছে । এবার উৎপাদন(চাল আকারে ) ৮ লাখ মেট্রিকটন অতিক্রম হওয়ার আশাবাদ করছেন জেলা কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক।

কৃষি কর্মকর্তা জানান, বুধবার পর্যন্ত বগুড়ায় ৬৬ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে শতভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হবে।

তিনি আরো বলেন জেলার শিবগঞ্জ , দুপচাঁচিয়া, কাহালু উপজেলায় আলু চাষ বেশি হয়ে থাকে । তাই এ তিন উপজেলায় বিলম্বে বোরো চাষ হয়েছে । এ তিন উপজেলয় ধান কাটতেও দেরী হবে। ৩ উপজেলা বাদ দিয়ে ৯ টি উপজেলায় ৯০ শতাংশ ধানকাটা শেষ হয়েছে। এবার শ্রমিক সমস্যা ছিল না। ধান কাটতে মাঠে ছিল সরকারের ভর্তুতি মূল্যে কম্পাইন্ড হারভেষ্টার মেশিন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ।

এ ছাড়া করোনা কালে অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। তারা ঘরে বসে না থেকে ধান ক্ষেতে ধান কেটেছে। ফলে ধান কাটা ্রনিয়ে কৃষকদের ভাবতে হয়নি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১১, ২০২১ ৭:২৩ অপরাহ্ন
হাওরে শতভাগ, সারা দেশের ৬৪ ভাগ বোরো ধান কর্তন সম্পন্ন
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, ইতোমধ্যে হাওরের শতভাগ ও সারা দেশের শতকরা ৬৪ ভাগ বোরো ধান কর্তন শেষ হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই অবশিষ্ট ধান কর্তন সম্পন্ন হবে। সারা দেশে এবছর ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বোরো ধানের উৎপাদন পরিস্থিতি ও কৃষির সমসাময়িক বিষয়’ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন।
এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ, অতিরিক্ত সচিব মো: হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার, মহাপরিচালক(বীজ) বলাই কৃষ্ণ হাজরা, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
হাওরের শতভাগ ধান ঘরে তুলতে পারা অত্যন্ত আনন্দের ও স্বস্তির উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, হাওড়ভুক্ত ৭টি জেলায় এ বছর বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ হেক্টর জমিতে; যা দেশের মোট আবাদের প্রায় ২০ শতাংশ। আর শুধু হাওরে আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে।
ধানকাটা মেশিন দ্রুত মাঠে দেয়া এবং সরকারি তত্ত্বাবধানে শ্রমিকের সময়মত যাতায়াত সুগম করার ফলেই এ বছর দ্রুততার সাথে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গত বছর একই তারিখে সারা দেশের মাত্র ৩৩ ভাগ ধান কর্তন সম্ভব হয়েছিল। ধান কাটার মেশিন ও শ্রমিকের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, এবছর শুধু হাওড়ভুক্ত ৭ জেলাতেই বহিরাগত শ্রমিক আনা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার জন (৪৯১০৮ জন)। এছাড়া, এবছর ধান কাটতে ২৬২০টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ৭৮৯টি রিপার মাঠে চলমান আছে। ‘প্রতিবছর কৃষকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের ক্ষেত্রে এটি নতুন মাত্রাযোগ করেছে। এতে একদিকে শ্রমিক সংকট থাকলেও দ্রুত ধান কাটা যাচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ কমার ফলে কৃষক লাভবান হচ্ছে’ বলেও উল্লেখ করেন ড. রাজ্জাক। তিনি আরও বলেন, ‘অঞ্চলভেদে ৫০-৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে ধান কাটাসহ অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদেরকে দেয়া হচ্ছে। এটি সারা বিশ্বে একটি বিরল ঘটনা’।
মন্ত্রী বলেন, এ বছর বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা । গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ টন। এখন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত না আসলে বোরো ধান উৎপাদনে আর কোন প্রভাব পড়বে না বলে আশা করা যায়। গত বছরের তুলনায় কমপক্ষে ১০ লাখ টন উৎপাদন বেশি হবে।
মন্ত্রী জানান, বোরো ধান দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বছরে মোট উৎপাদিত চালের ৫৫ ভাগের বেশি আসে এ বোরো থেকে। বছরে যে পরিমাণ (২ কোটি টনের মত) বোরো উৎপাদন হয়, তার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৭৫ হাজার কোটি টাকা।
মন্ত্রী বলেন, গত আউশ-আমনের ক্ষতি পোষাতে এবছর বোরোর উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। বীজ, সারসহ নানা প্রণোদনা কৃষকদেরকে প্রদান করা হয়েছে। ফলে, গত বছরের তুলনায় এবছর ১ লাখ ২৯ হাজার ৩১৩ হেক্টর বেশি (২.৭২% বেশি) জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, এছাড়া, গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিডের আবাদ বেড়েছে। হাইব্রিড ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭০ জন কৃষককে ২ লাখ হেক্টর জমি আবাদের জন্য ৭৬ কোটি টাকার হাইব্রিড ধানের বীজ বিনামূল্যে দেয়া হয়।
এবছর গড় ফলনের পরিমাণও বেশী হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গত বছর দেশে বোরো ধানের গড় ফলন ছিল প্রতি হেক্টরে ৩.৯৭ মেট্রিক টন; এবছর গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে প্রতি হেক্টরে ৪.১৭ মে.টন। অর্থাৎ প্রতি হেক্টরে উৎপাদন বেড়েছে এবছর ০.২০ মে.টন (৫.০৪%)। তবে সারা দেশের শতভাগ ধান কাটা হয়ে গেলে গড় ফলনের পরিপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবেও বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এই ফলন বেশি হওয়ার কারণ এ বছর হাইব্রিড ধানের উৎপাদন যেমন বেশি হয়েছে, উচ্চফলনশীল ধানের প্রচলন ও সম্প্রসারণও বেশি হয়েছে। এসময় তিনি ব্রি-৮১, ব্রি-৮৯, ব্রি-৯২ জাতের ধান-যেগুলোর ফলন প্রতি বিঘায় ২৫-৩০ মণ, চাষে কৃষকদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
হিটশকে ক্ষতিগ্রস্ত বোরো চাষিদেরকে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে নগদ ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ১০৫জন কৃষককে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে নগদ সহায়তা প্রদান শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
চলতি আউশ মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধিতেও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবছর ১৩ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে; উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ লক্ষ ৮৫ হাজার মেট্টিক টন চাল। এ লক্ষ্য অর্জনে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কৃষককে (কৃষক প্রতি ১ বিঘা) চাষের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া, মৌলভীবাজার জেলার পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে ৩ হাজার কৃষকের মাঝে ১৫ মেট্রিক আউশ বীজ বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রী জানান, আগামী ৩ বছরের মধ্যে পেঁয়াজ ও পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ অব্যাহত আছে।
শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop