মাশরুমের চাষ সম্প্রসারণ করতে প্রকল্প গ্রহণের কাজ চলছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ
৮:৪৩ অপরাহ্ন
করোনা সংক্রমণে বিপাকে পড়ছেন নরসিংদীর সবজি চাষিরা। এই সময়টাতে বাজাদের সবজির দাম কমে যাওয়ায় তাদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা।
জানা যায়, লকডাউনের কারণে এবং যানবাহন চলাচল সীমিত হওয়ায় নরসিংদী থেকে সবজি এখন বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা কমে যাওয়ায় এখন বেচা-কেনা হচ্ছে অনেক কম দামে। আর তাতে কৃষকরা তাদের চাহিদা মোতাবেক সবজি বিক্রি করতে না পেলে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন।
একজন কৃষক জানান, আগে প্রতিদিন নরসিংদী জেলার বিভিন্ন হাটবাজার থেকে শত শত ট্রাকযোগে সবজি সরবরাহ হত। কিন্তু লকডাউনের কারণে এখন ক্রেতা সাধারণরা সবজি নিতে আসছে না। ফলে পাইকারি সবজি বাজার এখন ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়েই কৃষকরা কম দামে স্থানীয় বাজারে সবজি বিক্রি করছে।
কৃষকদের প্রনোদনা না দিলে আগামীতে কেউ সবজি চাষ করতে পারবে না। এ বছর যারা সবজি চাষ করেছে প্রত্যেক কৃষকই লোকসান করেছেন বলে জানান কৃষকরা।
মনপুরা জেলার মনপুরা উপজেলায় কৃষক-কৃষাণীদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
শনিবার(৫ মে) সকাল ১০টায় উদ্বোধন করা হয়।
অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গীণায় পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় মনপুরা ডাক বাংলোর হলরুমে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মো: এনায়েতউল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপজেলার ৩০ জন কৃষক-কৃষাণী অংশ্রহণ করেন।
এখানে প্রধান অতিথি বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ১০০ জন করে মোট ৪০০ কৃষককে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। প্রত্যেক কৃষককে ৩ বছরের জন্য বাড়ির পাশের দেড় শতাংশ জমিতে সবজি বাগান প্রদর্শনীর জন্য বীজ, সারসহ সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। মনপুরার মাটি অত্যন্ত উর্বর। তাই বাড়ির পাশের সকল অনাবাদি পতিত জমি কাজে লাগানোই তাদের মূূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিসার আকাশ বৈরাগীর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন , উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো: আসাদুজ্জামান, জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী উদ্বিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রমূখ।
পরে উপজেলা কৃষি অফিসের হলরুমে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠী, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-১, ২০২০-২১ ৩০ জন কৃষক-কৃষাণীর প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আবু মো: এনায়েতউল্লাহ।
কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু।। ব্যাক্টেরিয়ার নাম শুনলেই মানুষ আগে ভয় পেতো, এখন আর ভয় নয়, বন্ধু হিসেবে বেসিলাস ব্যাক্টেরিয়াকে গ্রহণ করা যাবে, আর মানুষের সাথে যার মিল সবচেয়ে বেশি। মিলের সাদৃশ্যকে বিবেচনায় এনে প্রকৃতি হতে শতকরা ৭৬ ভাগ উপকারি ব্যাক্টেরিয়া সংগ্রহ করা যাবে উদ্ভাবনীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে।
কৃষিতে উপকারী নভেল বেসিলাস ব্যাক্টেরিয়ার ব্যবহার ও প্রয়োগোত্তর ফলাফল নিয়ে শুক্রবার (৪ জুন)চট্রগ্রামের হাটহাজারিতে এক ব্যতিক্রম ধরণের জাতীয় সেমিনারে এমনটিই জানালেন প্রধান গবেষক ড. মুহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. খলিলুর রহমান ভূইয়া, এর সভাপতিত্বে সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর পরিচালক (প্রশশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. মুহাম্মদ সামসুল আলম।
পরে মেমিনারের কারিগরি সেশনে প্রধান আলোচক হিসাবে র্ভাচুয়ালী যোগ দেন দিয়ে গুরুত্বর্পূন বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলাম।
মহাপরিচালক ড.মো.নাজিরুল ইসলাম বলেন, নভেল বেসিলাস এর প্রয়োগ একটি নতুন বিষয় যার উপর ইতোমধ্যেই কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অনেকটা পথ এগিয়েছে।
আরো জোড়ালো গবেষণার মাধ্যমে নয়া এই পরিবেশ বান্ধব উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার উপর জোর দিতে হবে। সারা দেশ ব্যাপী এই প্রযুক্তি কৃষকের কাছে সহজ ভাবে পৌছে দিতে হবে। উপসচিব নাসিমা খনম গবেষণাটি খরা, বন্যা এলাকাতেও ছড়িয়ে দেবার আহবান জানান।
আরও আলোচনা করেন কৃষি সম্প্রসারণের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মঞ্জরুল হুদা, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. খলিলুর রহমান ভূইয়া, ড. মো. আবু হেনা ছরোয়ার জাহান ,প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইকবাল ফারুক, উপসচিব নাসিমা খানম প্রমুখ।
প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও উর্ধবতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং কর্মসুচি পরিচালক ড.মু. তোফাজ্জল হোসেন রনি মুল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। সেমিনারের সেশন চেয়ারম্যান ড. সামসুল আলম বলেন, কৃষিতে উপকারী বেসিলাস এর ব্যবহার কৃষি বন্ধব যা একটি ভাল উদ্যোগ। উন্নত দেশের ন্যায় আমরা এখন তা শুরু করেছি। মুলত ব্যাক্টেরিয়াগুলো শক্তিশালি পেপ্টাইডোগ্লাইকোন এর মাধ্যমে প্রতিকুল অবস্থায় গাছকে খাদ্যরস গ্রহণে সহয়তা করে শক্তিশালি করে এবং এন্টাগনাস্টিক হিসেবে কাজ করে যার ফলে জীবাণুরা অবস্থান করতে পারেনা।
ফলে,গাছ আর ঢলে পড়ে না। প্রধান গবেষক ড. হোসেন বলেন, ব্যাক্টেরিয়ার সাথে প্রাণীকুলের মধ্যে মানুষের সাথে সবচেয়ে বেশি মিল যা শতকরা ৩৭ ভাগ যেখানে বানরের সাথে মাত্র ৬ ভাগ। সুতরাং বন্ধুপ্রিয় মিলের সাদৃশ্যকে কেন্দ্র করে অঞ্চল ভিত্তিক এই গবেষণার কার্যক্রম আরো বাড়াতে হবে। উপকারি ব্যাক্টেরিয়া ব্যাহার করে বেগুনের ঢ্লে পড়া রোগ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশে বড় আকারে বায়ো-সেন্টার করে এ ধরনের কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এর ফলেই ব্যাক্টেরিয়ার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। ব্যাক্টেরিয়ার জীবন ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, কালচার, নামকরণ এবং কৃষিতে উপকারী বেসিলাস এর ব্যবহার প্রয়োগ এবং ঢলে পড়া রোগ দমন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেমিনারে আলোচনা করা হয়।
পরে কারিগরি সেশন চেয়ারম্যান আগুন্তক গবেষক, সসম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাক্টেরিয়াল পণ্য হস্তান্তর করেন। সেমিনারে বিজ্ঞানী,কৃষক,সরকারি-বেসরকারী প্রতিনিধি,গণমাধ্যম কর্মি ও আমন্ত্রিত অতিথিগণ অংশ নেন।
নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): মাসিক কৃষিকথা পত্রিকার সর্বোচ্চ গ্রাহক দেওয়ার জন্য বরিশাল অঞ্চলের ৪ জন উপজেলা কৃষি অফিসারকে ধন্যবাদপত্র প্রদান করা হয়।
ধন্যবাদ পাওয়া অফিসাররা হলেন, ঝালকাঠি সদরের মো. রিফাত সিকদার, নলছিটির ইসরাত জাহান মিলি, ভোলা সদরের মুহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন এবং লালমোহনের এ এফ এম শাহাবুদ্দিন।
কৃষি তথ্য সার্ভিসের উদ্যোগে ৩১ মে বরিশালের খামারবাড়িতে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক ড. মো. আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রফি উদ্দিন, ডিএই পিরোজপুরের উপপরিচালক চিন্ময় রায়, বরিশালের উপপরিচালক হৃদয়েশ^র দত্ত, ঝালকাঠির উপপরিচালক মো. ফজলুল হক, বরগুনার উপপরিচালক আব্দুর রশিদ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের যুগ্ম পরিচালক ড. একেএম মিজানুর রহমান, ঝালকাঠির জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম, পটুয়াখালীর জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক, ভোলার জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. রাশেদ হাসনাত, আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, কৃষিকথা কৃষি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা। ৮০ বছর ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। দেশের সেরা কৃষিবিদদের লেখা এ পত্রিকায় স্থান পায়। বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। যেহেতু সরকারি পত্রিকা, তাই ভর্তূকি দিয়ে কৃষকদের সরবরাহ করা হয়। ডাকমাশুলসহ বছরে খরচ ৫০ টাকা। এজেন্ট হলে আরো কম। মাত্র ৪২ টাকা। ২০টি পত্রিকা হলেই এজেন্ট হওয়া যায়।
চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ীতে পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় পাট চাষিদের মূখে ফুটেছে আনন্দের হাসি।
জানা যায়, পাটের বাজার মূল্য ভাল পাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক হারে এ বছর পাট চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের চেয়ে পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছেন এবং এবারও ভালো দামের স্বপ্ন দেখছেন প্রান্তিক চাষিরা।
বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার পাট চাষি মিজানুর রহমান জানান, ‘এবছর প্রায় ৬ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ বছর পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি এবছরও পাটের ভালো দাম পাবো।’
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক মন্ডল মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবছর আড়াই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাট চাষে খরচ একটু বেশি হলেও সে তুলনায় লাভ অনেক বেশি।এবার পাটের ফলন ভালই দেখা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, এ বছর উপজেলা কৃষি বিভাগ ৭৪৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হলেও মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে এ বছর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেছেন প্রান্তিক চাষিরা।
পরিবেশবান্ধব পাটের মোড়কসহ বিভিন্ন কাছে ব্যবহার বেড়ে যাওয়া ও বাজার মূল্য ভালো পাওয়ায় পাট চাষের ঝুঁকছেন কৃষক। আবহাওয়া অনুক’ল থাকায় এবছরও পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আশা করি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত স্বপ্নের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারবে বলেও জানান তিনি।
কুষ্টিয়ার পান চাষিরা জৈব বালাই নাশক ব্যবহার করে ব্যাপক সাফল্য লাভ করছেন। আর এই পদ্ধতিতে পান চাষ করে অধিক পান উৎপাদন করাও সম্ভব। আর এতে করে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করা যাচ্ছে এই পান।
জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা বরাবরই পান চাষের জন্য প্রসিদ্ধ। বিশেষ করে জেলার সদর, দৌলতপুর ও ভেড়ামারা উপজেলায় ব্যাপক জমিতে এ অর্থকরী ফসলের আবাদ হয় বহু বছর ধরে। এ ফসলের রোগ বালাইও কম নয়। এতদিন চাষিরা প্রচলিত কীটনাশক ব্যবহার করে বালাই দমন করে আসছিল। এ পান অনেক সময় মানবদেহের জন্য ক্ষতির কারণ হযে দাঁড়াত। এর থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) কুষ্টিয়া অফিস সরেজমিন গবেষণা বিভাগ জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি উদ্ভাবন করে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফলন পাচ্ছেন পান চাষিরা। দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও বিষমুক্ত এ পানের চাহিদা বেড়েছে।
বারি কুষ্টিয়া অফিসের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জাহান আল মাহমুদ জানান, পান বৃহত্তর কুষ্টিয়া তথা মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার অন্যতম একটি অর্থকারি ফসল। পান চাষের প্রধান সমস্যা কয়েকটি রোগ যেমন, কান্ড পচা, পাতায় কালো দাগ, লিফ ব্লাইট ইত্যাদি।
এছাড়া কিছু পোকা মাকড়েরও আক্রমণ হয়ে থাকে। কৃষক এসব দমনের জন্য বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যাবহার করে থাকে। পান যেহেতু মানুষ সরাসরি খায় সেহেতু এ অবস্থায় খাওয়া শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তারা ৩ বছর আগে নিরাপদ উপায়ে পান চাষের উপর গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেন বলে জানান তিনি।
প্রকল্প পরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার জানান, দেশের চাহিদা মিটিয়ে এ অঞ্চলের পান দেশের বাইরেও যায়। তবে বালাই দমনে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে অনেক সময় বিদেশিরা এখানকার পান নিতে অনীহা দেখাত। তবে বর্তমানে কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব বালাই নাশক ব্যবহারের ফলে সেই জটিলতা কেটে গেছে। এখন বিদেশে এখানকার পানের চাহিদা বেড়েছে।
নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে কৃষি তথ্য সার্ভিস আয়োজিত ফসল উৎপাদনে টেকসই কৃষি তথ্যের ভূমিকা শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার(৩০ মে) বরিশালের খামারবাড়িতে অনুষ্ঠিত হওয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক ড. মো. আলমগীর হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রফি উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মামুন-উর-রশিদ।
কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পিরোজপুরের উপপরিচালক চিন্ময় রায়, বরিশালের উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত, ঝালকাঠির উপপরিচালক মো. ফজলুল হক, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের যুগ্ম পরিচালক ড. একেএম মিজানুর রহমান, ঝালকাঠির জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম, পটুয়াখালীর জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক, ভোলার জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. রাশেদ হাসনাত, আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন বরগুনার অতিরিক্ত উপপরিচালক এস এম বদরুল আলম, বরিশালের অতিরিক্ত উপপরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন, ভোলা সদরের উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন, লালমোহনের উপজেলা কৃষি অফিসার এএফএম শাহাবুদ্দিন প্রমুখ।
সভাপতি বলেন, মাঠের প্রত্যেকটি ফসলের জাত সম্পর্কে তথ্য থাকা চাই। কৃষকের কাছ থেকে সঠিক সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপখাইয়ে ফসলের উন্নত জাত উদ্ভাবন করা দরকার। আর তা চাষিদের দোরগোড়ায় পৌঁছানো জরুরি। এসবের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন টেকসই হবে। অনুষ্ঠানে কৃষি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
করোনা সংকট ও বৃষ্টির কারণে পণ্যের ক্রেতার চাহিদা না থাকায় এবং বিভিন্ন জাতের সবজিতে পোকার আক্রমণের পাশাপাশি পচন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় পরিবহণ সংকট এবং দুই দিনের বৃষ্টির ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সবজি চাষিরা।
কৃষকরা জানিয়েছেন, দুই দিনের বৃষ্টিতে বর্ষাকালীন খরিপ-০১ ত্রিপল-০১ জাতের ফুলকপি-বাঁধাকপিতে পচন ধরেছে।
সবজি চাষি উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রাণনগর গ্রামের ইব্রাহিম জানান, এ বছর ২০ শতক জমিতে ফুলকপি আবাদ করেছি। যেহেতু এটি শীতকালীন সবজি। বৃষ্টি সহ্য করতে পারে না। তাই দুই দিনের বৃষ্টিপাতে ফলনে পচন ধরেছে।
একই কথা জানিয়ে সবজি চাষি আহম্মদ আলী জুয়েল জানান, করোনার কারণে পরিবহণ সংকট এবং দুই দিনের বৃষ্টিতে সবজি নিয়ে কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। বিশেষ করে উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে না পেরে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের দৌরাত্ম্যে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুরেজা মো. আসাদুজ্জামান জানান, সবজি দ্রুত পচন একটি পণ্য। তারপর বৈশ্বিক মহামারি এবং আবহাওয়ার বৈরিতা লেগে আাছে। এরপরও কৃষি দপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় সবজি চাষ এখন লাভজনক হয়েছে বলে জানান তিন।
চলতি মৌসুমে মোট ৬ হাজার ৮শ ৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে নওগাঁ জেলায়।দেশী জাতের ৫শ’ হেক্টর, তোষা জাতের ৫ হাজার ৯শ ৫০ হেক্টর এবং মেস্তা জাতের ৪শ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। আবাদকৃত জমি থেকে সর্বমোট ৭৭ হাজার ৩শ ৬৫ বেল পাট উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগ প্রত্যাশা করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, জেলায় এ বছর দেশী, তোষা এবং মেস্তা জাতের পাট চাষ করেছেন কৃষকরা
জানা যায়, উপজেলা ভিত্তিক বিভিন্ন জাতের পাট চাষের পরিমাণ হচ্ছে সদর উপজেলায় দেশী ৬০ হেক্টর, তোষা ৭৪০ হেক্টর ও মেস্তা জাতের ১১০ হেক্টরসহ মোট ৯১০ হেক্টর। রানীনগর উপজেলায় দেশী জাতের ৫ হেক্টর, তোষা জাতের ২০ হেক্টর ও মেস্তা জাতের ১০ হেক্টরসহ মোট ৩৫ হেক্টর। আত্রাই উপজেলায় দেশী ১০ হেক্টর, তোষা ২০৫ হেক্টর ও মেস্তা জাতের ২০ হেক্টরসহ মোট ২৩৫ হেক্টর। বদলগাছি উপজেলায় দেশী ৩০ হেক্টর, তোষা জাতের ১ হাজার ৭শ ৮৫ হেক্টরসহ মোট ১ হাজার ৮শ ১৫ হেক্টর। মহাদেবপুর উপজেলায় দেশী ৪০ হেক্টর, তোষা জাতের ৭০ হেক্টর ও মেস্তা জাতের ৫ হেক্টরসহ মোট ১১৫ হেক্টর।
পত্নীতলা উপজেলায় দেশী ১০ হেক্টর, তোষা জাতের ১৬৫ হেক্টর ও মেস্তা জাতের ৫৫ হেক্টরসহ মোট ২৩ হেক্টর। ধামইরহাট উপজেলায় দেশী ৩০০ হেক্টর, তোষা জাতের ১ হাজার ২শ ২০ হেক্টরসহ মোট ১ হাজার ৫শ ২০ হেক্টর। মান্দা ্উপজেলায় দেশী ৪৫ হেক্টর। তোষা জাতের ১ হাজার ৭শ ৪৫ হেক্টর ও মেস্তা জাতের ২০০ হেক্টরসহ মোট ১ হাজার ৯শ ৯০ হেক্টর। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় কোন পাট চাষ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় পাটের ভালো আবাদ হয়েছে। উৎপাদনও ভালো হবে বলে তাদের প্রত্যাশা কৃষি বিভাগের।