৯:০১ পূর্বাহ্ন

শনিবার, ২৫ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ২৪, ২০২৩ ৯:৫৮ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জে ফার্মা এন্ড ফার্ম এর সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত 
প্রাণিসম্পদ

শিনিল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং দেশের ভেটেরিনারি মেডিসিন জগতের অন্যতম স্বনামধন্য ও শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ফার্মা এন্ড ফার্ম কর্তৃক হবিগঞ্জে একটি সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে । সোমবার (২৩ জানুয়ারী) জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা সমন্বয় মিটিং এর মাঝে উক্ত সেমিনার সম্পন্ন হয় । এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলার ভেটেরিনারি ট্রেনিং অফিসার, হবিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাবৃন্দ, ভেটেরিনারি সার্জনবৃন্দ এবং অন্যন্য কর্মকর্তাবৃন্দ । ফার্মা এন্ড ফার্মের সুযোগ্য সেলস ম্যানেজার ডাঃ মাহমুদ নেওয়াজ, সিলেট বিভাগের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মীর মোহাম্মদ খালিকীন-নূর, সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার মোঃ হাফিজুর রহমান, সেলস প্রমোশন অফিসার মনির হোসেন উক্ত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মূল বক্তব্য পেশ করেন সেলস ম্যানেজার ডাঃ মাহমুদ নেওয়াজ।

প্রাণিসম্পদ সেক্টরের দ্রুত বর্ধনশীল কোম্পানি ফার্মা এন্ড ফার্ম ধারাবাহিকভাবে প্রতিমাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে এরূপ সেমিনারের আয়োজন করে । কোম্পানি পরিচিতি তোলে ধরা, প্রাণিসম্পদ সেক্টরের বিকাশে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে নিজেদের চিন্তাভাবনা শেয়ার করা এবং বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর বিস্তারিত আলোচনা হয় এই সেমিনারগুলিতে । যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে যুগোপযোগী আরোও নতুন প্রোডাক্ট আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয় এবারের সেমিনারগুলিতে ।

আলোচনা শেষে মাধবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ মিলন মিয়া বলেন, আমি ব্যক্তিগত ফার্মা এন্ড ফার্মের ঔষধের ভক্ত। প্রতিষ্ঠানটি যেসব ঔষধ মার্কেটিং করে তা অত্যন্ত মানসম্পন্ন। আমি তাদের বেশ কিছু ঔষধ লিখি যার মধ্যে সিনোরা, সুপার সিএমপি এবং মোটাতাজা করার জন্য টপোসাল অন্যতম। হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জনাব ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ফার্মা এন্ড ফার্মের ঔষধ অত্যন্ত মানসম্পন্ন এবং কোম্পানির প্রতিনিধিগণ খুব হেল্পফুল। উনাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে কাছে পাওয়া যায়। আমি নিজে ফার্মা এন্ড ফার্মের ঔষধ লিখি এবং আপনারা আস্থার সাথে এই কোম্পানির ঔষধ লিখতে পারেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জনাব ডাঃ প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যের শুরুতে ফার্মা এন্ড ফার্ম কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তাঁর প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের প্রোগ্রাম আয়োজনের জন্য। তিনি আরোও বলেন, ফার্মা এন্ড ফার্ম দীর্ঘদিন যাবৎ সুনামের সাথে এই সেক্টরে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এখন ব্যস্ততার কারণে প্রাকটিস করার সুযোগ কম হয়। তবে আগে যখন করতাম তখন এই কোম্পানির ঔষধ ব্যবহার করতাম। এখনও বেশ কিছু ঔষধ আমাদের হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য সাপ্লাই হয়েছে। আপনারা যেখানে সুযোগ হয় সেখানে তাঁদের ঔষধ ব্যবহার করবেন।

হবিগঞ্জে রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মীর মোহাম্মদ খালিকীন-নূর জেলার সমন্বয় সভায় ফার্মা এন্ড ফার্ম কে সেমিনার করার সুযোগ দেওয়ায় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পাশাপাশি খামারিদের স্বার্থে ফার্মা এন্ড ফার্ম এর প্রোডাক্ট প্রেসক্রাইব করার জন্য অনুরোধ জানান ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৪, ২০২৩ ৯:২৪ অপরাহ্ন
শরীয়তপুর, নড়াইল ও হবিগঞ্জে ফার্মা এন্ড ফার্ম এর সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত 
প্রাণিসম্পদ

শিনিল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং দেশের ভেটেরিনারি মেডিসিন জগতের অন্যতম স্বনামধন্য ও শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ফার্মা এন্ড ফার্ম কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে । সোমবার (২৩ জানুয়ারী) শরীয়তপুর, নড়াইল ও হবিগঞ্জে এইসব সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় । শরীয়তপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সুবোধ কুমার দাস। অন্যান্য অতিথিবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান, উপ পরিচালক, কৃত্রিম প্রজনন, শরীয়তপুর ও ডাঃ আবদুল মতিন, ভেটেরিনারি অফিসার ।  ফার্মা এন্ড ফার্ম এর জেনারেল ম্যানেজার ডাঃ তাপস কুমার ঘোষ ও রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মোঃ নিজাম উদ্দিন উক্ত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ।

এদিকে নড়াইলের সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মারুফ হাসান । অন্যান্য অতিথিবৃন্দের মাঝে উপস্থিত সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জিল্লুর রহমান, লোহাগড়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ  জিল্লু রাইন। উক্ত সেমিনারে ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার ডাঃ তাপস কুমার ঘোষের সাথে এসিস্টেন্ট সেলস ম্যানেজার মোঃ ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন ।

হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত অপর সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জনাব ডাঃ প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস। জেলার প্রাণিসম্পদের সমন্বয় মিটিং এর মাঝে উক্ত সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা ভেটেরিনারি ট্রেনিং অফিসার সহ হবিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাবৃন্দ, ভেটেরিনারি সার্জনবৃন্দ এবং অন্যন্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ফার্মা এন্ড ফার্মের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের সুযোগ্য সেলস ম্যানেজার ডাঃ মাহমুদ নেওয়াজ, সিলেট বিভাগের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মীর মোহাম্মদ খালিকীন-নূর, সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার মোঃ হাফিজুর রহমান, সেলস প্রমোশন অফিসার মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মূল বক্তব্য পেশ করেন সেলস ম্যানেজার ডাঃ মাহমুদ নেওয়াজ।
প্রাণিসম্পদ সেক্টরের দ্রুত বর্ধনশীল কোম্পানি ফার্মা এন্ড ফার্ম ধারাবাহিকভাবে প্রতিমাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সেমিনারের আয়োজন করে । কোম্পানি পরিচিতি তোলে ধরা, প্রাণিসম্পদ সেক্টরের বিকাশে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে নিজেদের চিন্তাভাবনা শেয়ার করা এবং বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর বিস্তারিত আলোচনা হয় এই সেমিনারগুলিতে । যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে যুগোপযোগী আরোও নতুন প্রোডাক্ট আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয় এবারের সেমিনারগুলিতে ।
আলোচনা শেষে মাধবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ মিলন মিয়া বলেন, আমি ব্যক্তিগত ফার্মা এন্ড ফার্মের ঔষধের ভক্ত। উনারা যে ঔষধ মার্কেটিং করে তা অত্যন্ত মানসম্পন্ন। আমি উনাদের বেশকিছু ঔষধ লিখি তার মধ্যে সিনোরা, সুপার সিএমপি এবং মোটাতাজা করার জন্য টপোসাল অন্যতম।হবিগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জনাব ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ফার্মা এন্ড ফার্মের ঔষধ অত্যন্ত মানসম্পন্ন এবং কোম্পানির প্রতিনিধিগণ খুব হেল্পফুল। উনাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে কাছে পাওয়া যায়। আমি নিজে ফার্মা এন্ড ফার্মের ঔষধ লিখি এবং আপনারা আস্থার সাথে এই কোম্পানির ঔষধ লিখতে পারেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জনাব ডাঃ প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যের শুরুতে ফার্মা এন্ড ফার্ম কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উনার প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের প্রোগ্রাম আয়োজনের জন্য। তিনি আরোও বলেন ফার্মা এন্ড ফার্ম দীর্ঘদিন যাবৎ সুনামের সাথে এই সেক্টরে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এখন ব্যস্ততার কারণে প্রাকটিস করার সুযোগ কম হয়। তবে আগে যখন করতাম তখন উনাদের ঔষধ ব্যবহার করতাম। এখনও বেশ কিছু ঔষধ আমাদের হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য সাপ্লাই হয়েছে। আপনারা যেখানে সুযোগ হয় সেখানে উনাদের ঔষধ ব্যবহার করবেন।

হবিগঞ্জে রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মীর মোহাম্মদ খালিকীন-নূর জেলার সমন্বয় সভায় ফার্মা এন্ড ফার্ম কে সেমিনার করার সুযোগ দেওয়ায় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পাশাপাশি খামারিদের স্বার্থে ফার্মা এন্ ফার্ম এর প্রোডাক্ট প্রেসক্রাইব করার জন্য অনুরোধ জানান ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৪, ২০২৩ ২:৫০ অপরাহ্ন
মুরগি পালনে চমক দেখালেন মনিরুজ্জামান
পোলট্রি

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল গ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান। উন্নত জীবনযাপনের জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন বিদেশে। কিন্তু সেখানেও খুব একটা সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে এসে মুরগি পালন শুরু করেন। নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তি দিয়ে আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। বর্তমানে নিজে মুরগি পালনের পাশপাশি অন্যকেও মুরগি পালন বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।

জানা যায়, দেশে চলে আসার পর আর্থিক সংকটে পড়েন। হতাশ না হয়ে ইউটিউবে দেশের বিভিন্ন স্থানে লেয়ার মুরগির খামার দেখে নিজেও খামার করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। স্বল্প পুজি নিয়ে শুরু করলেও এখন তিনি সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় করছেন। বর্তমানে তার খামারে স্থানীয়ভাবে ১৬ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে ।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল গ্রামের মনিরুজ্জামান জানান, অর্থ উপার্জনের জন্য ২০০৫ সালে আবুধাবি পাড়ি জমাই। কিন্তু দীর্ঘদিন কাজ করেও নিজের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন করতে পারছিলামনা তাই ২০০৯ সালে দেশে ফিরে আসি এবং চরম অর্থ সংকটে পড়ি। এরপর ইউটিউব ভিডিওতে দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নত জাতের মুরগির খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হই।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে ২০০ মুরগি কিনে খামার শুরু করি। সেই যে পথচলা শুরু আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে আমার ফার্মে প্রায় ১৬ হাজার মুরগি রয়েছে। এর মধ্য থেকে প্রতিদিন ২ হাজার ডিম পাচ্ছি। এছাড়াও ডিম থেকে প্রতিমাসে ২৮-৩০ হাজার বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। যা ২৬-৩৫ টাকা দরে স্থানীয় বাজারসহ জেলার আশেপাশের জেলাশহরগুলোতে বিক্রয় করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার অনেকেই মুরগি পালন শুরু করেছেন। স্বল্প থেকে শুরু করে বাণিজ্যিকভাবে খামারিরা মুরগি পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি সফলতাও পাচ্ছেন। স্থানীয় খামারিদের মুরগি পালন বিষয়ক বিভিন্ন সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৩, ২০২৩ ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন
খামার করে বছরে ১০ লাখ টাকার বেশি আয় করেন মজিদ!
পোলট্রি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পৌরসভাধীন ৩নং ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুর গ্রামের সাবেক পৌর কাউন্সিলর মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে আব্দুল মজিদ মণ্ডল। বয়স ৩৪ বছর। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আব্দুল মজিদ মণ্ডল পড়াশোনা শেষ করে উদ্যোক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে একইসঙ্গে মাছ, মুরগি ও গাভী পালনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেন। এতে নিজে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার বেকার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থার সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার স্বপ্ন দেখেন আব্দুল মজিদ মণ্ডল।

জানা যায়, আব্দুল মজিদ মণ্ডল তার পিতা মৃত গোলাম মোস্তফার রেখে যাওয়া কৃষি জমির সঙ্গে রাস্তার দু’পাশের অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে একইসঙ্গে মাছের খামার, মুরগি খামার ও গাভীর খামারসহ বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলেছেন। কৃষি কাজে সেচ সুবিধার জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে একটি সেচ পাম্প স্থাপন করেছেন। তার প্রকল্প দেখে মনে হয়েছে এ যেন একের ভেতর অনেক কিছু বিদ্যমান। শুরুতে ৭০ হাজার টাকার পুঁজি বিনিয়োগ করে প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করলেও এখন সেই প্রকল্প থেকে বছরে আয় ১০ লাখ টাকারও বেশি। আব্দুল মজিদের সাফল্য দেখে একই পদ্ধতিতে একই জমিতে মাছ, মুরগি খামার করেছেন এলাকার মকলেছুর রহমান নবাব।

কৃষ্ণপুর গ্রামের পাশে পাঁচ একর জমিতে আব্দুল মজিদ মণ্ডল গড়ে তুলেছেন মাইশা ডেইরি ফার্ম ও সিজান পোল্ট্রি ফার্ম নামের আলাদা দুইটি খামার। একই খামারে রয়েছে দুইটি পুকুর, সেচ ব্যবস্থার জন্য একটি গভীর নলকূপ। খামারের কর্মচারি ও শ্রমিকদের খাবার রান্নার জন্য গরুর গোবর দিয়ে নির্মাণ করেছেন একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট। খামারের চার পাশ দিয়ে চাষাবাদ করা হয়েছে নানা ধরনের শীতকালীন শাক-সবজি। আবার কিছু জমিতে ধান আর কিছু জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। গরুর খামারে রয়েছে ৫০ টি উন্নত জাতের গরু এবং মুরগির খামারে রয়েছে ১০ হাজার লেয়ার জাতের মুরগি।

সফল উদ্যোক্তা আব্দুল মজিদ মণ্ডল জানান, লেখাপড়া শেষ করে নারায়ণগঞ্জে শক্তি ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিও’তে চাকরি নেন। সেখানে দেখতে পান নানাভাবে উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া যায়। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থেকে এনজিও’র চাকরি ছেড়ে যুব উন্নয়ন থেকে পশু পালনের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর ঋণের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন নিবেদন করেও ঋণ না পেয়ে চাকরিকালীন জমাকৃত ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ছোট্ট কলেবরে শুরু করেন মুরগি খামার। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর পর্যায়ক্রমে গরু খামার, মৎস্য খামার ও মুরগির খাদ্য ব্যবসাসহ আব্দুল মজিদ মণ্ডল পুরোপুরি হয়ে ওঠেছেন একজন সফল উদ্যোক্তা খামারি, ব্যবসায়ি ও আদর্শ কৃষক। প্রতি বছর তার খামার, ব্যবসা ও কৃষি থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে আয় হচ্ছে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে তার সব প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ২০ জন কর্মচারি কর্মরত থেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. রবিউল ইসলাম জানান, খামার একটি লাভজনক ব্যবসা। আব্দুল মজিদের মতো অনেকেই খামার করে স্বাবলম্বী হয়ে হয়েছেন। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থার সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ পালন করে উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হয়ে থাকছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২১, ২০২৩ ৭:৫১ অপরাহ্ন
ছাগলের বাচ্চার নিউমোনিয়া রোগ প্রতিরোধে করণীয়
প্রাণিসম্পদ

ছাগল পালনে বাচ্চার নিউমোনিয়া রোগ প্রতিরোধে যা করতে হবে তা আমাদের মধ্যে অনেকেরই জানা নেই। ছাগলের বাচ্চা যেসব রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে সেগুলোর মধ্যে নিউমোনিয়া অন্যতম। আজকে তাহলে জেনে নিব ছাগল পালনে বাচ্চার নিউমোনিয়া রোগ প্রতিরোধে যা করতে হবে সেই সম্পর্কে-

ছাগল পালনে ছাগলের বাচ্চার নিউমোনিয়া রোগ প্রতিরোধে যা করতে হবেঃ
এই রোগের কারণঃ

১। ছাগলের বাচ্চা অপুষ্টিতে ভুগলেও এই রোগের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।

২। এছাড়াও আক্রান্ত ছাগলের সরাসরি সংস্পর্শেও এই রোগ ছাগলের বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করে থাকে।

৩। ছাগলের বাচ্চা যে ঘরে থাকে সেখানে প্রয়োজনীয় আলো ও বাতাস ঠিকভাবে না পৌঁছালে।

৪। ছাগলের বাচ্চাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে গেলেও এই রোগ হতে পারে।

৫। খাদ্য, পানি কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই রোগটি ছড়াতে পারে।

এ রোগের প্রতিরোধঃ

১। ছাগলকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্য খাওয়াতে হবে। খাদ্য প্রদানের পর প্রতিবার খাবার পাত্র পরিষ্কার করে রেখে দিতে হবে।

২। ছাগলের বাচ্চা যাতে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত না হয় সেজন্য নিয়মিত ছাগলের ঘর পরিষ্কার করতে হবে। ঘরে যাতে কোন পানি না থাকে কিংবা ঘর যাতে ভেজা না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৩। কোন ছাগল আক্রান্ত হলে সেটিকে আলাদা করে পরিচর্যা ও চিকিৎসা করাতে হবে।

৪। ছাগলের ঘরে যাতে প্রয়োজনীয় আলো ও বাতাস চলাচল করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ছাগলের ঘর তৈরি আগেই সেই পরিকল্পনা করতে হবে।

৫। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২১, ২০২৩ ৫:৪৩ অপরাহ্ন
গরু পালনে স্বাবলম্বী বদরগঞ্জের খিয়ারপাড়া গ্রামের প্রন্তিক চাষিরা
প্রাণিসম্পদ

গরু পালনে স্বাবলম্বী বদরগঞ্জের খিয়ারপাড়া গ্রামের প্রন্তিক চাষিরা। গ্রামটি আদর্শ গ্রাম নামে পরিচিত। দেশি খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি গরুর বেশি যত্ন নেওয়ার কারণে স্বাবলম্বী হতে পেরেছেন। গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা দেশি খাবার খাইয়ে গরু পালন করছেন।

জানা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে ৩ কিলোমিটার দূরের খিয়ারপাড়া গ্রামটি হয়ে উঠেছে এক আদর্শ গ্রাম। এখানকার প্রায় প্রতিটি পরিবারেই গরু পালন করা হয়। এই গ্রামের অধিকাংশ কৃষকরাই গরু পালনে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কোরবানি ঈদে গরু বিক্রির পাশাপাশি সারাবছর গাভী গরু পালন করে সংসার চালান তারা। আগের থেকে অনেকটাই অভাব দূর হয়েছে।

খিয়ারপাড়া গ্রামের গরু খামারি ইসমাইল হোসেনের বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় সবাই গরু পালন করে। অনেকের খামারে সর্বনিম্ন ৪টি আর সর্বোচ্চ ৩৫টি গরুও রয়েছে। আমারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট বাছুর ও কম দামে গরু কিনে নিয়ে আসি। তারপর পালন করে মোটাতাজা করে ঈদে বিক্রি করি। আর গাভী গরু গুলোকে পালন করে তা থেকে দুধ ও বাছুর পাই।

একই গ্রামের রাজ্জাক, মিতলুব, সিদ্দিক, মোতাহার জানায়, তারা গরু মোটাতাো করনে কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া বা ইনজেকশন ব্যবহার করেন না। প্রাকৃতিক ভাবে নেপিয়ার ঘাস, চালের ভাত, গুড়া, ভুঁষি, ভুট্টা ইত্যাদি খাইয়ে গরু মোটাতাজা করেন। এতে গরুর মাংসে কোনো প্রকার ক্ষতিকারক কিছু থাকে না। আর বাজারে এর চাহিদাও বেশি। তারা গরু ও মাংস বিক্রি করে লাভবান হতে পারেন।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, খিয়ারপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা প্রাকৃতিক ভাবে গরু মোটাতাজাকরণ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এই গ্রামটি একটি আদর্শ গ্রাম। এখানকার খামরিদের গরুর মাংস খেলে মানব শরীরে কোনো ক্ষতি হবে না।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, খিয়ারপাড়া গ্রামের মানুষ গরু পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এর ফলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আমরা খামারিদের সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২১, ২০২৩ ২:৪১ অপরাহ্ন
গরু মোটাতাজা করতে খামারিরা যা করবেন
প্রাণিসম্পদ

গরু পালন লাভজনক হওয়াতে এখন আমাদের দেশের অনেকেই গরুর খামার করার প্রতি ঝুঁকছেন। তবে, এই গরু যদি হয় আরেকটু মোটাতাজা তাহলে আর কথা ই নাই। আর এর জন্য দরকার গরুর সুষম খাদ্য। আর সুষম খাদ্য প্রয়োগে আপনি আরো লাভবান হতে পারেন গরু পালনে।

খামারে গরু মোটাতাজাকরণে যেসকল আমিষ খাবার আপনার গরুকে খাওয়াবেন:

শুকনা খড়: ২ বছর বয়সের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনা খড় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়-চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে সরবরাহ করতে হবে।

কাঁচা ঘাস: গরুকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি কাঁচা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কলাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি খাওয়াতে হবে।

দানাদার খাদ্য: গরুকে প্রত্যেক দিন কমপক্ষে ১ থেকে ২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকা দেয়া হলো- গম ভাঙা-গমের ভুসি ৪০ কেজি চালের কুঁড়া ২৩.৫ কেজি খেসারি বা যে কোনো ডালের ভুসি ১৫ কেজি তিলের খৈল-সরিষার খৈল ২০ কেজি লবণ ১.৫ কেজি। উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ ১% হারে খাওয়াতে হবে।

১৫০ কেজি ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা: খড় = ৩ কেজি কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুয়ায়ী) লবন = ৩৫ গ্রাম।

১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা: ধানের খড় = ২ কেজি সবুজ ঘাস = ২ কেজি (ঘাস না থাকলে খড় ব্যবহার করতে হবে দানদার খাদ্যে মিশ্রন = ১.২-২.৫ কেজি ইউরিয়া = ৩৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী) চিটাগুড়া = ২০০-৪০০ গ্রাম লবণ = ২৫ গ্রাম দানাদার খাদ্যের সাথে লবন, ইউরিয়া, চিটাগুড় এক সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার দিতে হবে। ধানের খড় এবং কাঁচা ঘাস ছোট ছোট করে কেটে এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কৃমিমুক্তকরণ ও টিকা প্রদান: গরুকে ডাক্তারের নির্দেশনা মত কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। নতুন গরু সংগ্রহের পর পরই পালের সব গরুকে একসঙ্গে কৃমিমুক্ত করা উচিত। এক্ষেত্রে প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি করে এনডেক্স বা এন্টিওয়ার্ম ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে।

পূর্ব থেকে টিকা না দেয়া থাকলে খামারে আনার পর পরই সব গরুকে তড়কা, বাদলা ও ক্ষুরা রোগের টিকা দিতে হবে। এ ব্যাপারে নিকটস্থ পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

ঘর তৈরি ও আবাসন ব্যবস্থাপনা: আমদের দেশের অধিকাংশ খামারী ২/৩ টি পশু মোটাতাজা করে থাকে, যার জন্য সাধারণত আধুনিক শেড করার প্রয়োজন পড়ে না। তবে যে ধরনের ঘরেই গরু রাখা হোক, ঘরের মধ্যে পর্যন্ত আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঘরের মল- মূত্র ও অন্যান্য আবর্জনা যাতে সহজেই পরিষ্কার করা যায়, সে দিকে খেয়াল রেখে ঘরে তৈরি করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২৩ ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
বগুড়ায় অজ্ঞাত রোগে মারা গেছে অর্ধশতাধিক গরু
প্রাণিসম্পদ

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় সপ্তাহের ব্যবধানে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে অর্ধশতাধিক গরু। আতঙ্কে নামমাত্র দামে আয়ের একমাত্র উৎস গবাদি পশু বিক্রি করে দিশেহারা ক্ষুদ্র খামারি ও নিম্নবিত্ত কৃষিজীবী পরিবার।

তবে এ নিয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছে নেই সুস্পষ্ট কোনো তথ্য। আক্রান্ত গরুর রক্ত পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

উপার্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে দিশেহারা নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো। সংসারের খরচ আর সমিতির কিস্তির টাকা শোধ কীভাবে হবে জানে না নিম্ন আয়ের এ পরিবারগুলো। আলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহিনী দাস দুটি গাভি হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘গরুর দুধ বেচেই ছেলের লেখাপড়ার খরচ দিতাম। মানুষের বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা আসে। কিন্তু আমার তো একমাত্র সম্বল ছিল এইটা। গরু দুইটা মারা যাওয়ার পর থেকে কী করব, কিছুই বুঝতেছি না।’

গ্রামের আরেক ক্ষুদ্র খামারি সন্তোষ চন্দ্র জানান, এ গ্রামেই প্রায় ১০-১২টি গরু মারা গেছে। এ ছাড়াও আশপাশের গ্রামেও গরু মারা গেছে। কম করে হলেও ৫০-৬০টি গরু মারা গেছে এলাকায়।

স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত লালা ঝরা, এরপর খাওয়া বন্ধ। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে প্রাণ হারানো। পশু চিকিৎসক ডেকে কেবল খরচই বেড়েছে। বাঁচানো যায়নি সন্তানের মতোই প্রিয় গবাদি পশুকে। আতঙ্কিত হয়ে লোকসান সত্ত্বেও পানির দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন অনেক ক্ষুদ্র খামারি। গরু মারা না গেলেও কান্নায় ভেঙে পড়েন হাটুয়া গ্রামের এক খামারি। ভাগ্যবদলের আশায় ঋণ করে চারটি গরু কিনেছিলেন। তবে রোগের আতঙ্কে বিক্রি করেছেন লোকসান গুনে। তিনি বলেন, ‘২ লাখ টাকার গরু ৭০ হাজার টাকায় বেচে দিছি। এখন লোনের টাকা কেমনে শোধ হবি বুঝতিছি না।’

দরিদ্র এসব পরিবারকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস স্থানীয় জনপ্রতিনিধির। নন্দীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হরিসচন্দ্র মন্ডল বলেন, ‘এ ব্যাপারে ইউএনওর সঙ্গে আমরা আলাপ করব। তাদের কিছু আর্থিক সহায়তা দেয়া হলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রোগ নির্ণয়ের জন্য আক্রান্ত গরুর রক্ত ও মাংস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে সেখান থেকে এখনও রিপোর্ট আসেনি। তবে কিছু ওষুধ ও টিকা দেয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে উপজেলায় গরুর ‘ল্যাম্পি স্কিন’ রোগের প্রাদুর্ভাবে আর্থিকভাবে অনেক খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২৩ ৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
শান্তিগঞ্জে ১১ চোরাই গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
প্রাণিসম্পদ

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ৩৮ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার ডুংরিয়া ও নোয়াগাঁও এলাকা থেকে চুরি যাওয়া ১১টি গরু উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এ সময় গরুচোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলি ইউনিয়নের লাউতাল, নুরবালা এলাকা থেকে চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জগন্নাথপুর উপজেলার লাউতাল এলাকার ছলিম উল্লার ছেলে মো. চন্দন মিয়া (৪২), চন্দন মিয়ার ছেলে সিহাব উদ্দিন (২০) ও নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার ইসাইল গ্রামের রবি মিয়ার ছেলে জীবন মিয়া (২৮)।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের ডুংরিয়া গ্রামের কবির মিয়ার গোয়াল ঘর থেকে ৭টি গরু ও নোয়াগাঁও এলাকার সুরুজ আলীর গোয়াল ঘর থেকে ৪টি গরু চুরি হয়। এরপর গরুর মালিকরা থানায় মামলা করলে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় ৩৮ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার ও চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। উদ্ধারকৃত গরু মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ব্যাপার শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ চৌধুরী বলেন, চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গরু মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গরু চুরি রোধে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৪, ২০২৩ ৮:১৬ অপরাহ্ন
যে পদ্ধতিতে হাঁস পালন করবেন
প্রাণিসম্পদ

যেসব পদ্ধতিতে হাঁস পালন করা যায় তা আমাদের দেশের অনেক খামারিরাই জানেন না। হাঁস পালনে মাংসের পাশাপাশি ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লাভের আশায় অনেকেই হাঁসের খামার করে থাকেন। চলুন আজকে আমরা জানবো যেসব পদ্ধতিতে হাঁস পালন করা যায় সেই সম্পর্কে-

যেসব পদ্ধতিতে হাঁস পালন করা যায়”
আবদ্ধ পদ্ধতি:
এই পদ্ধতিতে পুরোপুরি হাঁসগুলোকে ঘরের মধ্যে রেখে লালন পালন করা হয়। হাঁসের বাচ্চা ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত লালন পালন করা সুবিধাজনক। এই পদ্ধতি ৩ প্রকার যথা মেঝেতে লালন পালন, খাঁচায় লালন পালন এবং তারের জালের ফ্লোর।

ক) ফ্লোরে লালন পালন:
এই পদ্ধতিতে মেঝেতে লিটার দ্রব্য দিয়ে হাঁস রাখা হয়। সমস্ত মেঝের ৪ ভাগের এক ভাগ খাবার দেবার জন্য অর্থাৎ খাবারের এবং পানির পাত্র রাখা হয়। পানি বের করে দেবার জন্য ছোট আকারের নিস্কাশন থাকে

খ) খাঁচায় লালন পালন:
এই পদ্ধতিতে খাঁচাগুলো একটির পর একটি স্তরে স্তরে সাজানো থাকে। ২-৩ সপ্তাহের বাচ্চার জন্য উপযুক্ত। প্রতিটি খাঁচায় ২০-২৫ টি বাচ্চা রাখা যায়। প্রতিটি বাচ্চার জন্য ১x১১.৫ বর্গফুট জায়গায় প্রয়োজন।

গ) তারের জালের ফ্লোর:
এ পদ্ধতিতে ঘরের ফ্লোর হতে উচু করে তারের জাল দেয়া হয় এবং খাঁচাগুলি ১/২ বর্গ ইঞ্চি, ছিদ্রের হলে ভাল। মাচার চারপাশে ১-২ফুট বেড়া দিতে হবে যেন বাচ্চা পড়ে না যায়। ফ্লোরের তুলনায় ১/৩-১/২ পরিমান কম জায়গা লাগে।

অর্ধ আবদ্ধ পদ্ধতি:
এই পদ্ধতিতে হাঁসগুলো রাতে ঘরে আবদ্ধ থাকে এবং দিনের বেলায় ঘরের সামনে চারণ (১০-১২ বর্গফুট) এ ঘুরে বেড়ায়। খাদ্য ঘরের ভিতরে অথবা চারণে দেয়া যেতে পারে। তবে সুবিধাজনক হবে চারণে দেয়া। ঘরের সাথে একটি পানির চৌবাচ্চা দেয়া যেতে পারে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop