৯:২৬ অপরাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ৬, ২০২১ ১:১০ অপরাহ্ন
প্রাইভেট কারে তুলে গরু চুরির চেষ্টা!
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানিতে চারদিকে গরু-ছাগলের জমাট। এরই মাঝে বিভিন্নভাবে চুরি হচ্ছে গবাদি পশু। এবার অভিনব কায়দায় গাজীপুরে প্রাইভেট কারে তুলে চারটি গরু চুরির চেষ্টা হয়েছে। এছাড়া মৃত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (০৫ জুলাই) ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার দিকে টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার ওয়ান ব্যাংক শাখার পেছন থেকে তাদের আটক করা হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃতরা হলেন- জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানার আউচপাড়া এলাকার আলেক শেখের ছেলে ছেলে দুলাল (৪০) ও একই এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আহমেদ উল্লাহ (৪৫)।

ওসি শাহ আলম বলেন, প্রাইভেট কারে গরু নিয়ে পালানোর সময় একটি গরু মারা যায়। সেটিকে সড়কের পাশ থেকে তুলে নিয়ে যান আটক ওই দুই ব্যক্তি। সকাল ৮টার দিকে এরশাদনগর ওয়ান ব্যাংক শাখার পেছনে নিয়ে মৃত গরুটি জবাই করে বিক্রি করেছিলেন তারা। খবর পেয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় গরুর মাংসগুলো জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

গাজীপুর সিটি পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ জানান, সোমবার ভোরে গাজীপুরা বাঁশপট্টি এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চেকপোস্টে সন্দেহভাজন একটি প্রাইভেট কারকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। কারটি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খায়। এ সময় গাড়ি থেকে দুইজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।

“পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাইভেট কার থেকে ছোট চারটি গরু উদ্ধার করে। তার মধ্যে একটি গরু ঘটনাস্থলে মারা যায়। মৃত গরুটি সড়কের পাশে রাখা হয়েছিল। সেটা তুলে নিয়ে বিক্রির অভিযোগে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ সোমবার দুপুরে দুইজনকে আটক করে।”

এগ্রিভিউ/ এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৬, ২০২১ ১২:২৫ অপরাহ্ন
কোরবানির পশু বহনে চালু হচ্ছে ‘ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন’
প্রাণিসম্পদ

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজধানীর কোরবানির পশুহাটে বিক্রয়ের জন্য আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ জুলাই বিশেষ ট্রেন ‘ক্যাটল স্পেশাল’ ট্রেনের মাধ্যমে পশু ঢাকা স্টেশন পর্যন্ত পরিবহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

আজ মঙ্গলবার (৬ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শওকত জামিল মোহসি।

জানা যায়, মহামারি করোনায় কম খরচ আর নিরাপদে পশু পরিবহনের কথা চিন্তা করে গত বছর থেকে ‘ক্যাটল সার্ভিস’ নামে বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

গত বছর শুধু পশু পরিবহনের সুযোগ ছিল ময়মনসিংহ আর জামালপুর অঞ্চলের। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দেশের উত্তরাঞ্চলও। গত বছর দুটি ট্রেন চললেও এবার চলবে ছয়টি ট্রেন।

রাজধানীর তেজগাঁও রেলস্টেশনে নামানো হবে সেসব গরু। ঢাকায় হাট শুরু হলেই প্রতিদিন চলবে ৬টি করে ট্রেন। গরুপ্রতি খরচ পড়বে ৫০০ টাকা করে। ​একটি ট্রেনে ৪০০টি পর্যন্ত পশু পরিবহন করা যাবে।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৬, ২০২১ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রামে অনলাইনে চলছে গরু বিক্রির হিড়িক
প্রাণিসম্পদ

সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন। তবে আসন্ন কোরবানিকে কেন্দ্র করে খামারিদের মাঝে গরু বেচা-কেনার হিড়িক থাকলেও লকডাউন আর করোনায় যখন ভেঙে পড়া অবস্থা ঠিক তখনই জমে উঠেছে অনলাইনি বিক্রির হিড়িক।অনলাইনে পছন্দের কোরবানির পশু কিনে নিচ্ছেন। সরকারি ভাবেও এবার অনলাইনে কোরবানির পশু ক্রয়ে ক্রেতাদের উত্সাহিত করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে অনলাইনে ৩৫ হাজার কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। লকডাউনের কারণে ক্রেতারা বেশি সাড়া দিচ্ছে। আবার খামারিরাও বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে গত বছর অনলাইনে বেচাকেনায় বেশ কিছু প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। বিকাশে গরু বিক্রির টাকা নিয়ে পরে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এতে ক্রেতারা অনলাইনে পশু কেনা নিয়ে সর্তক রয়েছে।

খামারিরা জানান, ক্রেতারা অনলাইনে গরুর খবরাখবর নিচ্ছে। তারাও ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ইতিমধ্যে প্রচুর গরু বিক্রি হয়ে গেছে। খামারি নাজমুল হাসান বলেন, ‘এবার অনলাইনে বেশি সাড়া পাচ্ছি। আমার ২৮টি কোরবানির পশুর মধ্যে ১৬টি বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিটি গরু প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের।’ খামারি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘অনলাইনে ইতিমধ্যে ১২টি বিক্রি করেছি। ক্রেতারা যোগাযোগ করছে। আশা করি, বাকিগুলো বিক্রি হয়ে যাবে। কোরবানির হাটে নিতে হবে না।’

চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবার স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে ছয়টি কোরবানির পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসন। করোনার কারণে এসব হাটে পশু বিক্রি নিয়ে নানা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কোরবানির বাজার নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা সংশয় রয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত গরু পাওয়া যাবে কি না, নাকি গত বছরের মতো শেষ বাজারে গরুর সংকট দেখা দেবে- তা নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। গত বছর কোনো কোনো বিক্রেতা অনলাইনে দেখিয়েছেন বড় গরু, সরবরাহ করেছেন ছোট গরু।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রিয়াজুল হক জানান, অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনায় বেশ সাড়া পড়েছে। সামনে বিক্রি আরো বাড়বে। এবার বাজারে কোরবানির গরুর সংকট হবে না।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৬, ২০২১ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
অধিক ডিম ও মাংস উৎপাদনে দেশী মুরগি পালন করবেন যেভাবে
পোলট্রি

বাংলাদেশের গ্রাম এলাকায় প্রায় প্রতিটি পরিবার দেশী মুরগি পালন করে থাকে। এদের উৎপাদন ক্ষমতা বিদেশী মুরগির চেয়ে কম। উৎপাদন ব্যয়ও অতি নগণ্য। এটি অধিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। এদের মাংস ও ডিমের মূল্য বিদেশী মুরগীর তুলনায় দ্বিগুণ, এর চাহিদাও খুবই বেশী। দেশী মুরগির মৃত্যুহার বাচ্চা বয়সে অধিক এবং অপুষ্টিজনিত কারনে উৎপাদন আশানুরূপ নয়। বাচ্চা বয়সে দেশী মোরগ-মুরগির মৃত্যুহার কমিয়ে এনে সম্পূরক খাদ্যের ব্যবস্থা করলে দেশী মুরগি থেকে অধিক ডিম ও মাংস উৎপাদন করা সম্ভব।

উল্লেখিত অবস্থার আলোকে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশী মুরগি উৎপাদনে উন্নত কৌশল শীর্ষক প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে। এ কৌশল ব্যবহার করে খামারিরা দেশী মুরগি থেকে অধিক ডিম ও মাংস উৎপাদন করে পারিবারিক পুষ্টি ও আয় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।

উদ্দেশ্য:
সম্পুরক খাদ্য, রানীক্ষেত ও বসন্তের প্রতিষেধক প্রদান করে এবং বন্য জন্তুর কবল থেকে মুক্ত রেখে দেশী মুরগি, বিশেষ করে ছোট বাচ্চার মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা যায়।
দেশী মুরগির দৈহিক ওজন ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করা।

প্রযুক্তি ব্যবহারের পদ্ধতি:
প্রযুক্তিটি গ্রামীণ পর্যায়ে সকল গৃহস্থ পরিবারই ব্যবহার করতে পারবেন। খামারের আকার অনুযায়ী প্রত্যেক খামারীর জন্য মোরগ-মুরগির সংখ্যা

নিম্নে দেওয়া হলো-
খামারের আকার আবাদী জমির পরিমাণ (শতাংশ) মোরগ/মুরগি
ছোট ৫০ শতাংশ ১টি মোরগ ও ৩টি মুরগি
মাঝারী ও বড় ৫০ ও তার অধিক ১টি মোরগ ও ৬টি মুরগি

দেশীয় পদ্ধতিতে দেশি মোরগ পালন:
অনেকেই জানতে চেয়ে ছিলেন যে সল্প মূলধন দিয়ে কি ব্যবসা করা যায়। তাদের জন্য দেশি মোরগ হতে পারে একটি সময়পযোগি ব্যবসা। সল্প জায়গায় অল্প টাকা বিনিয়োগ করে সল্প সময়ে অধিক আয় করা যায়। বসত বাড়িতে মুরগি চাষ হচ্ছে একটি সহজ এবং লাভজনক কাজ। বাড়ির গৃহিণীরা খামার স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারে। একটি মোরগ একটি মুরগির তুলনায় দ্রুত বাড়ে আর বাজারে দেশি মোরগের প্রচুর চাহিদা থাকায় মোরগ বিক্রি করতে তেমন বেগ পেতে হয়না এবং বাজারে ভাল দাম ও পাওয়া যায়।

দেশি মোরগ আবদ্ধ ও ছেড়ে পালন করা যায়। তবে ছেড়ে পালন করলে বেশি লাভবান হওয়া যায় কারন মোরগ নিজের খাদ্য নিজে কুড়িয়ে খায়।এরা মুক্ত আলো বাতাস বিশেষ করে প্রচুর সূর্য কিরণে বেড়ে উঠে যা তাদের শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি করতে সাহায্য করে। এদের খাবারের জন্য তেমন কোন খরচ করতে হয় না।

মোরগ নির্বাচনঃ- দেশি মোরগ বা মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের জন্য তেমন কোন হ্যাচারি গড়ে ওঠেনি তাই নিজেকে ই দেখে শুনে সুস্থ সবল ও নিরোগ মোরগ সংগ্রহ করতে হবে। মূলত ৪০০-৬০০ গ্রামের মোরগ দিয়ে শুরু করলে ভাল ফলাফল আশা করা যায়। কারন ঐ সময়ের পর মোরগ গুলো দ্রুত বাড়ে এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যা পেলে ২ মাস পর মোরগ গুলোর গড় ওজন ২ কেজির উপর হবে। প্রতি কিলো দেশি মোরগের মূল্য কেমন আছে সেটা নাই বা বললাম। আপনারা নিজেরা লাভ-ক্ষতি বের করে নিন।

মুরগির ঘর তৈরির নিয়মঃ- মোরগের জন্য খোলামেলা ঘর হতে হবে। ১.৫ মিটার (৫ ফুট) লম্বা X১.২ মিটার (৪ ফুট) চওড়া এবং ১ মিটার (৩.৫ ফুট) উঁচু ঘর তৈরি করতে হবে। ঘরের বেড়া বাঁশের তরজা বা কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি করতে হবে। এছাড়া মাটির দেয়ালও তৈরি করা যাবে। বেড়া বা দেওয়ালে আলো বাতাস চলাচলের জন্য ছিদ্র থাকতে হবে। ঘরের চাল খড়, টিন বা বাঁশের তরজার সাথে পলিথিন ব্যবহার করে তৈরি করা যাবে। এরকম ঘরে ১০-১৫টি মোরগ পালন করা যায়।

খাবারঃ- বাড়ির প্রতিদিনের বাড়তি বা বাসী খাদ্য যেমন ফেলে দেওয়া এঁটোভাত, তরকারি,
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গম, ধান, পোকামাকড়, শাক সবজির ফেলে দেওয়া অংশ, ঘাস, লাতা পাতা, কাঁকর, পাথর কুচি ইত্যাদি মুরগি কুড়িয়ে খায়।

পরিচর্যাঃ- ছেড়ে পালন পদ্ধতিতে মুরগি পরিচর্যার জন্য সময় বা লোকজনের তেমন দরকার পড়ে না। তারপরও কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়। সকালে মুরগির ঘর খুলে কিছু খাবার দিতে হবে। সন্ধ্যায় মুরগি ঘরে ওঠার আগে আবার কিছু খাবার দিতে হবে। ঘরে উঠলে দরজা বন্ধ করে দিতে হবে।মুরগির পায়খানা ঘরের মেঝেতে যেন লেপ্টে না যায় সেজন্য ঘরের মেঝেতে ধানের তুষ, করাতের গুঁড়া ২.৫ সে.মি. (১ ইঞ্চি) পুরু করে বিছাতে হবে। পায়খানা জমতে জমতে শক্ত জমাট বেঁধে গেলে বারবার তা উলট-পালট করে দিতে হবে এবং কিছুদিন পর পর পরিষ্কার করতে হবে। এ পদ্ধতিতে দেশি মোরগ পালন করা গেলে প্রায় তেমন কোন খরচ ছাড়াই ভাল একটা মুনাফা পাওয়া যাবে।

দেশি মুরগি পালনে যত্ন নিতে হবে:
সাকুল্যে ৫-১০টি মুরগি। বাড়ির আশপাশে চরে বেড়িয়ে বাড়ির উচ্ছিষ্ট খাবার, পোকামাকড়, কেঁচো, কচি ঘাসপাতা খায় তারা। সে অর্থে প্রতিপালনের কোনও খরচ নেই বললে চলে। আপাতদৃষ্টিতে লাভজনক মনে হলেও আসলে অতটা লাভ হয় না। ছাড়া মুরগি অন্যত্র ডিম পেড়ে আসে, কখনও রোগে মারা যায়। তাই দেশি মুরগির পালন লাভজনক করতে হলে কিছু নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার, সে জাত নির্বাচনেই হোক বা রোগ পরিচর্যায়।

প্রথমে আসি মুরগির জাতে। ব্রয়লার খামারের হাইব্রিড মুরগি উঠোনে ছেড়ে পালন করা যায় না। তাই খাঁটি জাতগুলোকে বাছতে হবে। যেমন, রোড আইল্যান্ড রেড (আরআইআর) বা ব্ল্যাক অস্ট্রালর্প। রঘুনাথপুর, বালুরঘাটের রাজ্য মুরগি খামারে লাল বা আরআইআর এবং কালো বা ব্ল্যাক অস্ট্রালর্প মুরগির বাচ্চা পাওয়া যায়। ইদানীং কালে বনরাজা, গিরিরাজা, গ্রামরপ্রিয়া ইত্যাদি জাত কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হয়েছে।

মুরগি রাতে রাখার জন্য ঘর বানাতে হবে। মাটি থেকে সামান্য উপরে বাঁশ বা কাঠ দিয়ে কম খরচে খড় বা টালি ঢেকে তৈরি ঘরগুলো যেন শুকনো, পরিষ্কার হয়। আর আলো-বাতাস খেলে। প্রতিটি পাখির জন্য গড়ে তিন বর্গফুট জায়গা ধরতে হবে।

দেশি মুরগি চরে বেড়িয়ে তার খাবার সংগ্রহ করে নিলেও এ ধরনের উন্নত জাতের মুরগির পুরো উৎপাদন ক্ষমতা কাজে লাগাতে অল্প পরিমাণে সুষম খাবার দেওয়া প্রয়োজন। চালের গুঁড়ো (৩০০ গ্রাম), খুদ বা গম ভাঙা (২৮০ গ্রাম), সর্ষে/ তিল খোল ( ২০০ গ্রাম), মাছ বা সোয়াবিন গুঁড়ো (২০০ গ্রাম), ভিটামিন ও খনিজ লবণ মিশ্রণ যেমন সাপ্লিভিট এম (২০ গ্রাম) মিশিয়ে মুরগির সংখ্যা অনুযায়ী মাথা পিছু ৫০-৭০ গ্রাম হিসাবে অর্ধেক সকালে ও অর্ধেক বিকালে খেতে দিতে হবে। রাতে মুরগি রাখার যে ঘর আছে, সেখানে নির্দিষ্ট পাত্রে জল ও খাবার দিতে হবে। যাতে সকালে ঘর থেকে বেরনো বা পরে ঘরে ঢোকার সময় ওই খাবার ও জল খাওয়া অভ্যাস তৈরি হয়। এই অভ্যাস থাকলে ওষুধ গুলে খাওয়াতে সুবিধা হয়। মুরগির খাবার সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখতে হবে। বেশি দিন জমা রাখলে ছত্রাক সংক্রমণ ঘটে।

সংকরায়ণ পদ্ধতিতে দেশি মুরগির সঙ্গে উন্নত মোরগ রেখে প্রাকৃতিক প্রজনন ঘটিয়ে দেশি মুরগির জিনগত উৎকর্ষতা বাড়ানো যায়। প্রতি ১০টি দেশি মুরগি পিছু ১টি উন্নত জাতের মোরগ রাখতে হবে। যে সংকর মুরগি জন্মাবে, তা দেশি মুরগির চেয়ে দ্রুত (৪-৫ মাস বয়সে) এবং প্রায় দ্বিগুণ (বছরে ১২০-১৪০টি) ডিম দেবে।

রোগব্যাধি মুরগি পালনের অন্যতম সমস্যা। তাই নিয়মিত মুরগির ঘর চুন বা জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। প্রতি মাসে একবার করে কৃমিনাশক ওষুধ (পাইপেরাজিন তরল বয়স অনুযায়ী ০.৫-১ মিলি) জলে গুলে খাওয়াতে হবে। রানিক্ষেত বা বসন্তের মতো কয়েকটি সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাকরণ জরুরি। টিকা দেওয়ার দশ দিন আগে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। টিকাকরণ বিশেষত রানিক্ষেত টিকা ৭-১০ দিন বয়সে নাকে বা চোখে এক ফোঁটা, ৩০ দিন বয়সে আর এক বার, ২ মাস বয়সে প্রথম কৃমির ওষুধ এবং আড়াই মাস বয়সে ডানার তলায় ০.৫ মিলি ইঞ্জেকশন অবশ্যই নিতে হবে। ঝিমুনি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট, পাতলা বা রক্ত পায়খানা নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকট্রিম ডিএস বা সেপম্যাক্স (১টি বড়ি ১০টি বড় বা ২০টি বাচ্চা মুরগির জন্য) খাবারে বা জলে গুলে ড্রপারে করে খাইয়ে দিতে হবে (৩/৫/৭ দিন)।

দেশী মুরগি বাণিজ্যিকভাবে পালন:
দেশী মুরগি বানিজ্যিকভাবে পালন কৌশল আয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধানে দেশী মুরগী প্রতিপালন বিশেষ অবদান রাখতে পারে । আমরা সবাই বলে থাকি দেশী মুরগির উৎপাদন কম । কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ লক্ষ্য এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশী মুরগীর উৎপাদন দ্বিগুনের ও বেশী পাওয়া সম্ভব। দেশী মুরগি থেকে লাভ জনক উৎপাদন পওয়ায় বিভিন্ন কৌশল এখানে বর্ননা করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে দেশী মুরগির ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করে বাজারে বিক্রি করার চেয়ে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরী করে ৮-১২ সপ্তাহ বয়সে বিক্রি করলে লাভ বেশী হয়। এক সংঙ্গে ১০-১২ টি মুরগি নিয়ে পালন শূরু করতে হবে। তবে কখনও ১৫-১৬ টির বেশী নেওয়া ঠিক না । তাতে অনেক অসুবিধাই হয় । শুরুতে মুরগি গুলোকে কৃমি নাষক ঔষধ খাওয়ানোর পরে রানীক্ষেত রোগের টীকা দিতে হবে। মুরগির গায়ে উকুন থাকলে তাও মেরে নিতে হবে। প্রতিটি মুরগিকে দিনে ৫০-৬০ গ্রাম হারে সুষম খাদ্য দিতে হবে। আজকাল বাজারে লেয়ার মুরগির সুষম খাদ্য পাওয়া যায় । তা ছাড়া আধা আবদ্ধ এ পদ্ধতিতে পালন করলে লাভ বেশী হয়।

মুরগির সাথে অবশ্যই একটি বড় আকারের মোরগ থাকতে হবে। তা না হলে ডিম ফুটানো যাবে না । ডিম পাড়া শেষ হলে মুরগি উমে আসবে । তখন ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে হয়।এক সঙ্গে একটি মুরগির নীচে ১২-১৪ টি ডিম বসানো যাবে। খামারের আদলে বাঁশ, কাঠ খড়, বিচলী তাল নারকেল সুপারির পাতা দিয়ে যত কম খরচে স্থানান্তর যোগ্য ঘর তৈরী করা সম্ভব তা করা যায়। ঘর তৈরীর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সঠিক মাপের হয় এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে পারে । বানানোর পর ঘরটিকে বাড়ীর সব চেয়ে নিরিবিলি স্থানে রাখতে হবে । মাটির উপর ইট দিয়ে তার উপর বসাতে হবে। তাহলে ঘর বেশী দিন টিকবে ।

ফুটানোর ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষনঃ- আরেকটি প্রয়োজনীয় ̧গুরুত্বপূর্ন কাজ। ডিম পাড়ার পর ডিম সসংগ্রহের সময় পেন্সিল দিয়ে ডিমের গায়ে তারিখ লিখে ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষন করতে হবে। ডিম পাড়া শেষ হলেই মুরগি কুঁচো হবে। গরম কালে ৫-৬ দিন বয়সের ডিম এবং শীত কালে ১০-১২ দিন বয়সের ডিম ফুটানোর জন্য নির্বাচন করতে হবে।

দেশী মুরগি পালন কৌশলের বিশেষ নজর দেয়ার ধাপ সমূহ:
উমে বসানো মুরগির পরিচর্যা করতে হবে। মুরগির সামনে পাত্রে সবসময় খাবার ও পানি দিয়ে রাখতে হবে যাতে সে ইচ্ছে করলেই খেতে পারে । তাহলে মুরগির ওজন হ্রাস পাবেনা এতে বাচ্চা তোলার পর আবার তাড়াতাড়ি ডিম পাড়া আরম্ভ করবে।

ডিম বসানোর ৭-৮ দিন পর আলোতে রাতের বেলা ডিম পরীক্ষা করলে বাচ্চা হয় নাই এমন ডিম ̧লো চেনা যাবে এবং বের করে অনতে হবে। বাচ্চা হওয়া ডিম ̧লো সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন মুরগি বিরক্ত না হয়।
প্রতিটি ডিমের গায়ে সমভাভে তাপ লাগার জন ̈ দিনে কমপেক্ষ ৫-৬ বার ওলট পালট করে দিতে হবে।
বাতাসের আর্দ্রতা কম হলে বিশেষ করে খুব গরম ও শীতের সময় ডিম উমে বসানোর ১৮- ২০দিন পর্যন্ত কুসুম গরম পানিতে হাতের আঙ্গুল ভিজিয়ে পানি স্প্রে করে দিতে হবে।
*ফোটার পর ৫-৬ ঘন্টা পর্যন্ত মাকে দিয়ে বাচ্চাকে উম দিতে হবে। তাতে বাচ্চা শুকিয়ে ঝরঝরে হবে।

বাচ্চা ফুটার পর বাচ্চার পরিচর্যা ও ডিম পাড়া মুরগির পরিচর্যা :- গরম কালে বাচ্চার বয়স ৩-৪ দিন এবং শীত কালে ১০-১২ দিন পর্যন্ত বাচ্চার সাথে মাকে থাকতে দিতে হবে। তখন মুরগি নিজেই বাচ্চাকে উম দিবে। এতে কৃত্রিম উমের (ব্রুডিং ) প্রয়োজন হবে না। এ সময় মা মুরগিকে খাবার দিতে হবে। মা মুরগির খাবারের সাথে বাচ্চার খাবার ও কিছূ আলাদা করে দিতে হবে।

বাচ্চা গুলো মায়ের সাথে খাবার খাওয়া শিখবে। উপরোক্ত বর্ণিত সময়ের পর মুরগিকে বাচ্চা থেকে আলাদা করতে হবে। এ অবস্থায় বাচ্চাকে কৃত্রিম ভাবে ব্রুডিং ও খাবার দিতে হবে। তখন থেকেই বাচ্চা পালনের মত বাচ্চা পালন পদ্ধতির সব কিছুই পালন করতে হবে। মা মুরগিকে আলাদা করে লেয়ার খাদ্য দিতে হবে। এ সময় মা মুরগিকে তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়ার জন্য পানিতে দ্রবনীয় ভিটামিন দিতে হবে।

মা মুরগি ও বাচ্চা এমনভাবে আলাদা করতে হবে যেন তারা দৃষ্টির বাহিরে থাকে। এমন কি বাচ্চার চিচি শব্দ যেন মা মুরগি শুনতে না পায় । তা না হলে মা ও বাচ্চার ডাকা ডাকিতে কেউ কোন খাবার বা পানি কিছুই খাবে না । আলাদা করার পর অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে গেলে আর কোন সমস্য থাকে না ।প্রতিটি মুরগিকে এ সময় ৮০-৯০ গ্রাম লেয়ার খাবার দিতে হবে। সাথে সাথে ৫-৭ ঘন্টা চড়ে বেড়াতে দিতে হবে। প্রতি ৩-৪ মাস পর পর কৃমির ঔষধ এবং ৪-৫ মাস পর পর আর. ডি. ভি . টীকা দিতে হবে।

দেশে একটি মুরগি ডিম পাড়ার জন্য ২০ -২৪দিন সময় নেয় । ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর জন্য ২১ দিন সময় নেয় । বাচ্চা লালন পালন করে বড় করে তোলার জন্য ৯০-১১০ দিন সময় নেয় । ডিম থেকে এ ভাবে (৯০-১১০ দিন ) বাচ্চা বড় করা পর্যন্ত একটি দেশী মুরগির উৎপাদন চক্র শেষ করতে স্বাভাবিক অবস্থায় ১২০- ১৩০ দিন সময় লাগে।

কিন্তু মাকে বাচ্চা থেকে আলাদা করার ফলে এই উৎপাদন চক্র ৬০ -৬২ দিনের মধ্যে সমাপ্ত হয়। বাকি সময় মুরগিকে ডিম পাড়ার কাজে ব্যবহার করা যায় । এই পালন পদ্ধতিকে ক্রিপ ফিডিং বলে । * ক্রিপ ফিডিং পদ্ধতিতে বাচ্চা পালন করলে মুরগিকে বাচ্চা পালনে বেশী সময় ব্যায় করতে হয় না । ফলে ডিম পাড়ার জন্য মুরগি বেশী সময় দিতে পারে । এই পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটার সংখ্যা বেশী হয় । দেখা গেছে বাচ্চার মৃত্যুহারও অনেক কম থাকে। মোট কথা অনেক দিক দিয়েই লাভবান হওয়া যায় । এই পদ্ধতি বর্তমানে অনেকে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৫, ২০২১ ১০:৪৬ অপরাহ্ন
অবৈধ পথে আসা ২৭টি ভারতীয় গরু উদ্ধার
প্রাণিসম্পদ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা ২৭টি গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোবার (৪ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ভূতিপুকুর এলাকায় তসলিম উদ্দিন নামে এক চোরাকারবারির বাড়ি থেকে ওই ২৭টি গরু উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়,রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তসলিম উদ্দিন নামে ওই চোরাকারবারির বাড়িতে অভিযান চলালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তসলিম উদ্দিন তার বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়৷ পরে পুলিশ তার বাড়ি থেকে ভারত থেকে নিয়ে আসা ২৭টি গরু উদ্ধার করে।

বর্তমানে গরুগুলো তেঁতুলিয়া মডেল থানার হেফাজতে রয়েছে। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর বাজার মূল্য প্রায় ৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা বলে জানায় পুলিশ।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ছায়েম মিয়া ভারতীয় গরু উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। পরে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় গরুগুলো কাস্টমসের মাধ্যেমে নিলামে বিক্রি করা হবে বলে জানান তিনি।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৫, ২০২১ ৭:৩৪ অপরাহ্ন
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু বাংলাদেশে
প্রাণিসম্পদ

সাভারের আশুলিয়া উপজেলার চারি গ্রামে দেখা মিলল বিশ্বের সবচেয়ে খর্বাকার গরুর। বক্সার জাতের এই গরুর ওজন মাত্র ২৬ কেজি। আর উচ্চতা ২০ ইঞ্চি। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরুর তকমা পেতে ইতোমধ্যেই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে এটির মালিকপক্ষ।

জানা গেছে, শিকর এগ্রো লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই খর্বাকার জাতের গরুটির মালিক। প্রতিষ্ঠানটি বছর দুয়েক আগে নওগাঁর এক খামারির থেকে এই গরুটি ক্রয় করেন। গরুটির নাম রাণী। তাকে দিনে দুই বেলা খাবার দিতে হয়। সাধারণ গরুর তুলনায় এটির খাবার লাগে অনেকটা কম।

প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানান, তারা গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছন গত ২ জুলাই। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই তাদের আবেদনের প্রাথমিক ফিডব্যাক জানিয়েছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই গরু বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরুর অফিসিয়াল তকমা পাবেন।
এদিকে স্থানীয় এক পশু চিকিৎসক বলেছেন, ছোট্ট এই গরুটি পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে। এর উচ্চতা এবং ওজন আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

উল্লেখ্য, এখন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু রয়েছে ভারতের কেরালা রাজ্যে। এর নাম মানিকিয়াম। উচ্চতা মোটে দুই ফুট, একটা ল্যাব্রাডার কুকুরের চেয়েও ছোট। দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরালার আথোলিতে বাস মানিকিয়ামের। এর মালিক অক্ষয় এনভি নামের এক লোক।

সূত্র: বিডি প্রতিদিন

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৫, ২০২১ ৩:৪২ অপরাহ্ন
ডিজিটাল হাট উদ্বোধন করে গরু কিনলেন মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

কোরবানির পশুর ডিজিটাল হাট থেকে প্রথম ক্রেতা হিসেবে গরু কিনেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। দ্বিতীয়বারের মতো এই হাট থেকে তিনি গরু কিনলেন।

রবিবার (৪ জুলাই) ভার্চুয়াল এক সভার মাধ্যমে কোরবানির পশুর ডিজিটাল হাটের উদ্বোধন করার পরই তিনি এ হাট থেকে গরু কেনেন।

কোরবানির পশুর ডিজিটাল হাটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সভাপতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম এ সময় অনলাইন থেকে মন্ত্রীকে গরু কিনতে টেকনিক্যাল বিষয়ে সহযোগিতা করেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘আজ ডিএনসিসির এই ডিজিটাল হাটের উদ্বোধন ঘোষণার পর সবাইকে ডিজিটাল হাট থেকে গরু কিনতে উদ্বুদ্ধ করতে আমি এই গরু কিনলাম।’

নারায়ণগঞ্জ থেকে বিক্রি হওয়া এই গরুটি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম কিনেছেন তার দাম এক লাখ ৪৮ হাজার ৭৫০ টাকা। ওজন ৩৫০ কেজি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৫, ২০২১ ৩:১১ অপরাহ্ন
অনলাইনে কোরবানির পশু ক্রয় বিক্রয় রাষ্ট্রের জন্য সহায়ক – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় রাষ্ট্রের জন্য সহায়ক বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

সোমবার ( জুলাই) ই-কমার্স প্লাটফর্ম ভালোকিনি ডট কম ও বেসরকারি সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘চরাঞ্চলের গরুর অনলাইন হাট’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা জানান

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জনসমাগম থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে অনলাইনে কোরবানির গরু ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ রাষ্ট্রের জন্য, সরকারের জন্য বড় সহায়ক। চরাঞ্চলের গরুর অনলাইন হাট শুধু ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধার জন্যই নয়, এটি রাষ্ট্রের সুবিধার জন্য। এজন্য সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারণে আজ চরাঞ্চলের খামারিরা অনলাইন প্লাটফর্মে সংযুক্ত হতে পারছেন। চরাঞ্চলের মানুষদের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ প্রকল্প থেকে প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে সকল সহযোগিতা করা হচ্ছে। চরাঞ্চলের মানুষদের প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানারকম সমস্যার মধ্যে থেকে জীবন ও জীবিকা নিয়ে লড়াই করতে হয়। তাদের উৎপাদিত প্রাণিসম্পদ যাতে যথাযথ মূল্যে বিক্রয় করা হয় এবং তারা যাতে কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সকল সহযোগিতা রয়েছে।”

চরাঞ্চলের খামারিরা উৎপাদিত প্রাণী নিয়ে যেন কোনরকম অসহায় অবস্থায় না পড়ে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের এসময় তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, “খামারিদের সুবিধার্থে আমরা বৈধ বা অবৈধ কোন উপায়েই মিয়ানমার বা ভারত থেকে গবাদিপশু দেশের ভেতরে আসতে দিচ্ছি না। কারণ গবাদিপশু উৎপাদনকারীদের অনেক অর্থ ব্যয় হয়। তারা যদি ন্যায্যমূল্য না পান তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, বেকার হয়ে যাবেন, তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে যাবে, গ্রামীণ অর্থনীতির সচল চাকা অচল হয়ে যাবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আমি সকল খামারি ও উৎপাদকদের নিশ্চিত করছি আপনারা ন্যায্যমূল্যে গবাদিপশু বিক্রি করতে পারবেন। আমরা চাই দেশের প্রাণিসম্পদ বেড়ে উঠুক। সরকার সকল প্রকার সহযোগিতা দেবে। বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে এবং এ পরিবর্তনের ধারা আমরা অব্যাহত রাখবো।”

ভালোকিনি ডট কমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেরামত উল্লাহ বিপ্লবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে গাইবান্ধা ও রংপুর অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাগণ, গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এম আব্দুস সালাম বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট চরাঞ্চলের গবাদিপশুর খামারিরা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৫, ২০২১ ৩:০১ অপরাহ্ন
করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে হলে প্রোটিন গ্রহণের পরিমান বাড়াতে হবে
প্রাণিসম্পদ

শিশু ও প্রবীণদের জন্য প্রোটিন খুবই দরকারি

লেখকঃ ড. খালেদা ইসলাম, অধ্যাপক, পুষ্টিও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাণঘাতি কোভিড-১৯ মহামারি অসংখ্য মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। যারা বেঁচে গেছেন তাঁদের শরীরেও রেখে যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব। এ জীবানু ক্রমাগতভাবে মিউটেট হওয়ার ফলে পরিস্থিতি দিন কে দিন অবনতি হচ্ছে। বর্তমানে ডেল্টা ভেরিয়ান্ট এবং ডেল্টা প্লাস ভেরিয়ান্ট নতুনভাবে আতংক ছড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভাইরোলজিস্টরা একদিকে যেমন নির্ভরযোগ্য ভ্যাকসিন গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন অন্যদিকে তেমনি ইমিউনিটি বা এন্টিবডি বাড়াতে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা।

ভাইরোলজিস্ট ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভাইরাসজনিত যে কোন রোগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে দরকার এন্টিবডি। জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে যার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা যত বেশি, সুরক্ষিত থাকার কিংবা জীবানুর বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকার সম্ভাবনাও তার ততই বেশি।

প্রাণঘাতি নভেল করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সারা পৃথিবীর মানুষ। আগামীকাল কী হবে সে কথা না ভেবে এখন তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা- করোনার সংক্রমণ থেকে সুস্থ থাকতে ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, ফল, টাটকা শাকসব্জি, ইত্যাদি পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এ খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ও মিনারেল আছে- যা প্রাকৃতিকভাবেই দেহে ইমিউনিটি তৈরি করে। এছাড়াও তৈরি করে ‘এন্টিজেন’ – যা করোনার মত ক্ষতিকারক ভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবডি গঠনে সহায়ক।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রোটিনের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষায় প্রোটিন কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। দেহে প্রোটিন বা আমিষের অভাব থাকলে জীবানু খুব সহজেই আক্রমণ করতে পারে। গুনগত ও মানগত বৈশিষ্টের দিক থেকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের তুলনায় প্রাণিজ প্রোটিন রোগ প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।

ভারতের প্রখ্যাত ভাইরাস বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সিদ্ধার্থ জোয়ারদার অধিক পরিমাণে প্রোটিন খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অধ্যাপক জোয়ারদারের বক্তব্য হচ্ছে, “শরীরের দরকার প্রাণিজ প্রোটিন। সস্তায় প্রোটিন পাওয়া যায়- মুরগির মাংস ও ডিম থেকে। মাংস না খেলে প্রোটিনের ঘাটতি হবে। তাতে করোনা ভাইরাস শুধু নয়, মানবদেহে অন্য যে কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটার আশঙ্কা থাকে। তাই পর্যাপ্ত প্রোটিন খেতে হবে।”

বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলেছেন- “উচ্চ মানের আমিষজাতীয় খাবার যেমন: ডিম, মুরগির মাংস ইত্যাদি বেশি করে খেতে হবে।”

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন দৈনিক সমকালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন- প্রাণিজ আমিষ যেমন গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির মাংসে প্রচুর পরিমাণে লাইসিন, মিথিয়োনিনসহ বিভিন্ন বায়োঅ্যাকটিভ কম্পোনেন্ট পাওয়া যায়। সিসটেইন ও মিথিয়োনিন রূপান্তরিত হয় গ্লুটাথিয়নে- যা দেহে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

অধ্যাপক আল-মামুন আরও বলেন- ডিমে প্রাপ্ত কলিন এবং ট্রিপ্টোফেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অবস্থাতেও মানবদেহের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাবৃদ্ধিতে সহায়ক। গবেষণায় দেখা গেছে, গরুর দুধে প্রাপ্ত প্রোবায়োটিক, ভিটামিন ‘ডি’ এবং ইমুনোগ্লোবিন মানবদেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। তাঁর মতে, করোনায় যেহেতু কোনো কার্যকর চিকিৎসা আপাতত নেই, তাই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থাই উত্তম।

অধ্যাপক আল-মামুন জানান, ব্রয়লার মুরগির মাংসে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি১, বি৬, বি১২সহ ভিটামিন এ, ডি, ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে দেখা যাচ্ছে- এখন পর্যন্ত করোনায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশ রোগীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ছিল দুর্বল এবং তাঁরা বিভিন্ন রোগ যেমন ঠান্ডা, ফুসফুসজনিত সমস্যা, হার্টের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। সুতরাং করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে হলে আমাদের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। আর এটি সম্ভব বেশি বেশি প্রাণিজ আমিষ গ্রহণের মাধ্যমে। সুতরাং বেশি করে ডিম, দুধ ও ব্রয়লার মাংস খাই, করোনার ঝুঁকি কমাই (দৈনিক সমকাল, অন্যদৃষ্টি, ১৮ এপ্রিল ২০২০)।

 

বয়সকালে শর্করা ও চর্বিজাতীয় খাদ্য কমিয়ে প্রোটিন গ্রহণ বাড়াতে হবে

প্রোটিন সবসময় সঠিক অনুপাতে গ্রহণ করলে বার্ধক্য জীবনে শারীরিকভাবে অনেক ভালো থাকা সম্ভব। দেহের রোগপ্রতিরোধের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও অনন্য সাধারণ ভূমিকার কাজটি করে থাকে প্রোটিন। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে একজন মানুষের হাড়ক্ষয়, বিপাকক্রিয়ার ধীরগতি, দাঁতে সমস্যা, শারীরিক দুর্বলতা, খুধামন্দা ও কোষ্ঠকাঠিন্য নানারকম জটিলতা দেখা যায়। যদিও প্রোটিন-চাহিদা নির্ভর করে মানুষের কাজের ধরণ, ওজন এবং শারীরিক অসুস্থতার উপর, তবুও বৃদ্ধ বয়সে প্রোটিন গ্রহণের মাত্রা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মতো হতে হবে। যেহেতু এই বয়সে কর্মচাঞ্চল্য কম থাকেনা, কাজেই এই সময় শর্করা ও চর্বিজাতীয় খাবারের পরিমান কমিয়ে অধিক পরিমানে আমিষ খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। পেশীর ক্ষয়রোধ ও হাড় মজবুত রাখার জন্য সঠিক পরিমানে প্রোটিন পথ্য হিসেবে কাজে লাগে। এই বয়সে আমিষের অভাব হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নানান ধরনের জটিলতা দেখা দেয়।

 

শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে দরকার ডিম, দুধ, মাছ ও মাংস

প্রোটিন- কোষ বৃদ্ধিতে এবং দেহ কাঠামো গড়তে সাহায্য করে। শিশুর জন্য প্রোটিনের গুরুত্ব যে অপরিসীম তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। শিশুর দৈহিক ও মানসিক বিকাশে আমিষ অসাধারণ ভূমিকা রাখে। পুষ্টিবিদদের মতে, শিশুদের প্রোটিনের পরিমাণ প্রতিদিন ১৬ গ্রাম থেকে ৬০ গ্রাম হতে পারে। একজন শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রতিদিন একটি ডিম, এক গ্লাস দুধ এবং একদিন পর পর মাছ ও মুরগি মাংস খাবার তালিকায় রাখতে হবে। আমাদের দেহে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য আমিষের অনেক তাৎপর্য রয়েছে। শিশুদের কোনভাবে আমিষের অভাব হলে নানাবিধ রোগ হতে পারে; যেমন- কোয়াশিয়রকর (শরীর ফুলে যাওয়া, ত্বক শুকনো ও খসখসে হয়ে যাওয়া), ম্যারাসমাস (হাত-পা সরু হয়ে যাওয়া, বৃদ্ধের মতো দেখানো), ইত্যাদি।

তাই সুস্থ যদি থাকতে চান চাহিদা মতো প্রোটিন খান।

 

প্রোটিন সচেতনতায় : বিপিআইসিসি ও ইউ.এস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল
শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৫, ২০২১ ১২:৪৯ অপরাহ্ন
প্রস্তুত ১১‘শ কেজির “কিশোর বাদশা”, দাম ১৩ লাখ টাকা
প্রাণিসম্পদ

সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে গরুর খামার দিয়ে সফল হয়েছেন শরীফুল। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় গরু দাবি করে নাম রাখা হয়েছে ‘কিশোর বাদশা’। সবার দৃষ্টি কাড়া ‘কিশোর বাদশার’ দৈর্ঘ্য ৯ ফুট, উচ্চতা পাঁচ ফুট এবং ওজন ১১০০ কেজি যার দাম ১৩ লাখ টাকা চান শরীফুল।

এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকেই যোগাযোগ করছেন গরুটি কেনার জন্য। দরদাম হলেও আশানুরূপ দাম এখনও ওঠেনি। ‘কিশোর বাদশার’ মালিক জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন দাম করেছেন। সাত লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছে দাম।

শরীফুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন দেখে আমার আগ্রহ জাগে গরু মোটাতাজা করার। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সহযোগিতায় গরুটি মোটাতাজা করেছি। বিশাল আকৃতির গরুটি ১৩ লাখ টাকা বিক্রি করতে চাই। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে কিছুটা কম হলেও বিক্রি করে দেবো। দেশের যেকোনও জায়গা থেকে যে কেউ কিনতে চাইলে পৌঁছে দেবো নিজ দায়িত্বে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন থাকায় গরুটি বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় আছি।

জানা যায়, শরীফুল ইসলাম ১৪ বছর সৌদি আরবে থেকে ২০১৭ সালে দেশে ফেরেন।গত তিন বছরে বাড়ির আঙিনায় গরুর খামার গড়েন। বর্তমানে খামারে আরও আটটি গরু রয়েছে। একেকটার দাম ৮০ থেকে এক লাখ টাকার মতো। উপজেলার অনেকেই তার খামার দেখতে আসেন। পাশাপাশি পরামর্শও নেন। কেউ নতুন খামার করতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে শরীফুলের খামার দেখতে পাঠানো হয়। তার খামারে সবমিলে প্রায় ২০ লাখ টাকার গরু আছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান জানান, শরীফুল ইসলামের গরুটি সবদিক বিবেচনায় উপজেলার মধ্যে সেরা। আশা করছি, ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হবে। ভালো দাম পেলে গরু পালনে আগ্রহ বাড়বে অন্য খামারিদের।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, এবার কোরবানির ঈদে কিশোরগঞ্জ জেলায় বিক্রির জন্য ৮২ হাজার গরু-ছাগল প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি গরু-ছাগল রয়েছে। তবে লকডাউনের কারণে পশু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় আছেন অনেক খামারি।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop